স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত লাখো নারীকে ভবিষ্যতে কেমোথেরাপি ছাড়াই চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হতে পারে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। নতুন এক জিনগত (জেনোমিক) পরীক্ষার মাধ্যমে কোন রোগীর কেমোথেরাপি প্রয়োজন এবং কার প্রয়োজন নেই, তা নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হচ্ছে। শনিবার (৩০ মে) বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
ইংল্যান্ডের ইউনিভার্টি কলেজ অব লন্ডনের (ইউসিএল) নেতৃত্বে এ গবেষণা হয়।
যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের (ইউসিএল) নেতৃত্বে পরিচালিত ‘অপটিমা’ নামে আন্তর্জাতিক এক গবেষণায় চার হাজার চারশোর বেশি রোগী অংশ নেন। এ তালিকায় যুক্তরাজ্য, নরওয়ে, সুইডেন, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও থাইল্যান্ডের রোগীরা ছিলেন, যাদের বয়স ৪০ বছরের বেশি। এই গবেষণায় দেখা গেছে, হরমোন-সংবেদনশীল স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত যেসব রোগীর জিনগত পরীক্ষার স্কোর কম, তারা শুধুমাত্র হরমোন থেরাপি নিয়েই নিরাপদে চিকিৎসা নিতে পারেন।
গবেষণায় ব্যবহৃত ‘প্রোসাইনা’ নামের পরীক্ষাটি টিউমারের ৫০টি জিনের কার্যক্রম বিশ্লেষণ করে ক্যান্সার পুনরায় ফিরে আসার ঝুঁকি নির্ধারণ করে। পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে চিকিৎসকরা সিদ্ধান্ত নিতে পারেন কেমোথেরাপি প্রয়োজন হবে কি না।
অংশগ্রহণকারীদের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি মানুষকে কেমোথেরাপি এড়িয়ে শুধু হরমোন থেরাপির মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব বলে আন্তর্জাতিক এই গবেষণায় দেখা গেছে।
কেমোথেরাপি দেওয়ার ফলে সাধারণত একজন রোগীর মধ্যে ক্লান্তি, বমিভাব, চুল পড়া, প্রজননসংক্রান্ত সমস্যা কিংবা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো নানা স্বাস্থ্য জটিলতা দেখা দিতে পারে।
গবেষকরা এ পরীক্ষার নাম দিয়েছেন ‘প্রোসিগনা’। এই পরীক্ষায় ৫০টি জিনের গতিবিধি বিশ্লেষণ করা হয়, যেগুলো মূলত ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে। বিশ্লেষণে মূলত এটাই হিসাব করা হয়, রোগটি ফিরে আসার সম্ভাবনা কতটা।
স্কোর যাদের কম, তাদের কেমোথেরাপি নেওয়া ছিল না। এই হার চার হাজারের দুই-তৃতীয়াংশ। এই দলে পাঁচ বছর পর্ন্ত বেঁচে থাকার হার ছিল ৯৩ দশমিক ৭ শতাংশ। আর কেমোথেরাপি নেওয়া রোগীদের মধ্যে এই হার ৯৪ দশমিক ৯ শতাংশ।
স্তন ক্যান্সারের প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে সাধারণত অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে টিউমারটি সরিয়ে ফেলা হয়। এরপর ক্যান্সার কোষ ফিরে আসার ঝুঁকি কমাতে কেমোথেরাপি দেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।
ক্যান্সার কোষ শুধু লিম্ফ নোডের আশপাশে ছড়িয়েছে, প্রাথমিক পর্যায়ে থাকা এমন রোগীদেরও কেমোথেরাপি দেওয়া হয়। ইউসিএল বলেছে, চিকিৎসকরা একটা বিষয় নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। সেটা হলো- স্তন ক্যান্সারের অনেক রোগীর ক্ষেত্রে কেমোথেরাপি সামান্যই কাজে আসে।
ইংল্যান্ডের এ বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা সংস্থার (এনএইচএস) অধীনে থাকা ৫ হাজারের বেশি রোগীর সামনে কেমোথেরাপি এড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে কার্ডিফের বাসিন্দা কারেন বনহ্যাম জানান, গবেষণার ফল তার জন্য ‘খুবই স্বস্তির’ একটা খবর; অনেকটা ‘বড়দিনের উপহার’ পাওয়ার মতো।
জানা যায়, ‘প্রোসিগনা’ পরীক্ষার কারণে ৬৪ বছরের এই রোগী কেমোথেরাপি এড়াতে পেরেছেন। তিনি গত আট বছর রেডিওথেরাপি ও হরমোন থেরাপি নিয়েছেন।
নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ক্যান্সার শনাক্ত হওয়া এবং এর চিকিৎসা শুরু হওয়া- দুটোই জীবনে ধাক্কা দেওয়ার মতো ঘটনা। এটি আপনাকে অনিশ্চয়তার এক জগতে ঠেলে দেয়। জীবনের অগ্রাধিকারের তালিকা বদলে যায়; একটাই ইচ্ছা বেঁচে থাকে, সেটা বেঁচে থাকা।’
পরীক্ষা কার্ক্রমের প্রধান ইউসিএল ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের স্তন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক রোব স্টেইন বলেন, এই ফল ক্যান্সার চিকিৎসাকে ব্যক্তিভেদে আলাদা করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা যেতে পারে। এই গবেষণায় শুধু প্রচলিত ক্লিনিক্যাল বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভর করা হয়নি। পাশাপাশি টিউমারের জৈবিক বৈশিষ্ট্যকে ব্যবহার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, রোগীদের জন্য এর অর্থ হলো, অনেকেই কেমোথেরাপির শারীরিক ও মানসিক ধকল এবং এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকে মুক্তি পেতে পারেন। স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য এটি সম্পদের আরও যথাযথ ও প্রমাণভিত্তিক ব্যবহার নিশ্চিত করবে।
তবে ৪০ বছরের কম বয়সী রোগীদের ক্ষেত্রে একই ফল প্রযোজ্য কি না, তা এখনও পরীক্ষা করে দেখা হয়নি বলে জানিয়েছে ইউসিএল। এ বিষয়ে চূড়ান্ত ফল পেতে আরও কয়েক বছর লাগতে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
সিট ফাঁকা না থাকায় রাজধানীর মহাখালী বিশেষায়িত হাসপাতালে হামের রোগী ভর্তি নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছন স্বজনরা। তারা জানান, হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা রোগীদের সাধারণ চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। অনেকে রোগীর অবস্থা গুরুতর দাবি করলেও হাসপাতালে ভর্তি করাতে পারছেন না। এদিকে, যারা রোগী ভর্তি করাতে পেরেছেন তাদের অভিযোগ, হাসপাতালের বেশিরভাগ ডাক্তার-কর্মচারী ঈদের ছুটিতে থাকায় পর্যাপ্ত চিকিৎসা পাচ্ছেন না তারা। একই অভিযোগ মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধী হাসপাতাল নিয়েও। ফলে রোগীর প্রয়োজনীয় টেস্ট করানো যাচ্ছে না বলে অভিযোগ স্বজনদের। স্বাস্থ্য অধিদফতরের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৫৮৩ শিশু মারা গেছে। এর মধ্যে হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯০ জনে। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৪৯৩ জন। এ পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়েছে ৮ হাজার ৯৯৬ শিশু আর সন্দেহজনক হামে আক্রান্তের সংখ্যা ৬৯ হাজার ৬১২।
পিরিয়ডের নির্দিষ্ট তারিখ এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে অনেক নারীরই ত্বকে ব্রণের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। এটি কেবল কিশোরীদের নয়, বরং ৩০ বা ৪০ বছর বয়সী নারীদের ক্ষেত্রেও একটি সাধারণ সমস্যা। অনেক সময় দামি রূপচর্চা করেও এই সমস্যার সমাধান হয় না, যা অনেকের জন্য হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কেন এমন হয় এবং এর প্রতিকারই বা কী, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন মুম্বইয়ের স্যার এইচ.এন. রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন হাসপাতালের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সোনালী কোহলি। কেন বাড়ে ব্রণের দাপট? চিকিৎসকের মতে, পিরিয়ডসের ঠিক আগে শরীরে ইস্ট্রোজেন (Oestrogen) হরমোনের মাত্রা হঠাৎ কমে যায় এবং অ্যান্ড্রোজেন হরমোনের সক্রিয়তা বেড়ে যায়। এই অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনের ফলে ত্বকের নিচে থাকা সেবেসিয়াস গ্রন্থি বা তেল উৎপাদনকারী গ্রন্থিগুলো উদ্দীপিত হয় এবং অতিরিক্ত ‘সিবাম’ তৈরি করতে শুরু করে। এই অতিরিক্ত তেল যখন ত্বকের মরা কোশ এবং ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে মিশে যায়, তখনই লোমকূপ বা পোরস বন্ধ হয়ে ব্রণ, হোয়াইটহেডস কিংবা যন্ত্রণাদায়ক সিস্টিক অ্যাকনে তৈরি হয়। থুতনি বা চোয়ালেই কেন বেশি হয়? হরমোনের তারতম্যের কারণে হওয়া এই ব্রণের একটি নির্দিষ্ট ধরণ বা প্যাটার্ন আছে। এটি সাধারণত মুখের নিচের অংশে, বিশেষ করে থুতনি, চোয়ালের রেখা এবং গালের চারপাশে বেশি দেখা যায়। কারও ক্ষেত্রে এটি সামান্য হলেও, অনেকের ক্ষেত্রে তা মারাত্মক লালচে ও যন্ত্রণাদায়ক হতে পারে। যেসব অভ্যাস সমস্যা বাড়িয়ে দেয় শুধুমাত্র হরমোন নয়, আমাদের প্রতিদিনের কিছু জীবনযাত্রার অভ্যাসও এই সমস্যাকে ত্বরান্বিত করে: মানসিক চাপ: স্ট্রেস বাড়লে শরীরে কর্টিসল হরমোনের ক্ষরণ বাড়ে, যা ত্বকে তেলের উৎপাদন ও প্রদাহ বাড়িয়ে দেয়। ঘুম ও জলের অভাব: পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া এবং শরীর জলশূন্য বা ডিহাইড্রেটেড হয়ে পড়লে ত্বকের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয়। ভুল ডায়েট: অতিরিক্ত মিষ্টি, ফাস্টফুড বা প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ার অভ্যাস এই সময়ে ব্রণের সমস্যা বাড়িয়ে তোলে। ভুল রূপচর্চা: পিরিয়ডসের আগে সংবেদনশীল ত্বকে অতিরিক্ত স্ক্রাবিং বা কড়া রাসায়নিক ব্যবহার করলে ত্বকের সুরক্ষা স্তর বা ‘স্কিন ব্যারিয়ার’ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘরোয়া উপায়ে প্রতিকার ডা. কোহলি পরামর্শ দিচ্ছেন যে, পিরিয়ডসের আগে অনেক বেশি অ্যান্টি-অ্যাকনে প্রোডাক্ট ব্যবহার না করে লাইফস্টাইলে ছোট কিছু বদল আনা জরুরি: ১. মাইল্ড স্কিনকেয়ার: মৃদু ফেসওয়াশ ব্যবহার করুন এবং সবসময় নন-কমেডোজেনিক স্কিনকেয়ার প্রোডাক্ট বেছে নিন। ২. খাবারে নিয়ন্ত্রণ: ডায়েটে চিনি, তেল-মসলা এবং প্রসেসড ফুড কমিয়ে পুষ্টিকর খাবার যোগ করুন। ৩. পর্যাপ্ত জল ও ঘুম: দিনে অন্তত ৮-১০ গ্লাস জল পান করুন এবং ৭-৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম নিশ্চিত করুন। ৪. স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট: নিজেকে শান্ত রাখতে যোগব্যায়াম বা প্রাণায়াম করতে পারেন। কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন? পিরিয়ডসের আগে সামান্য ব্রণ হওয়া স্বাভাবিক হলেও, কিছু ক্ষেত্রে এটি বড় সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। যদি ব্রণের সঙ্গে নিচের লক্ষণগুলো থাকে, তবে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি: অনিয়মিত পিরিয়ডস। মুখে বা শরীরে অতিরিক্ত লোম। আচমকা ওজন বৃদ্ধি। অতিরিক্ত চুল পড়া বা চুল পাতলা হয়ে যাওয়া। এই উপসর্গগুলো থাকলে তা পিসিওএস, থাইরয়েডের সমস্যা বা শরীরে অ্যান্ড্রোজেন হরমোনের মাত্রাতিরিক্ত বৃদ্ধির ইঙ্গিত হতে পারে। পরিশেষে, পিরিয়ডসের আগে ব্রণ হওয়া একটি স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়া, এতে লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই। নিজের শরীরের হরমোনের ধরন বুঝে সঠিক লাইফস্টাইল অনুসরণ করলে এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তথ্যসূত্র: দ্য ওয়াল
ঈদ মানে উৎসব। ঈদ মানে আনন্দ। আর সেই ঈদ যদি হয় কুরবানির, তবে তো কথাই নেই। দরজায় কড়া নাড়ছে কুরবানির ঈদ। আর কয়েক দিন পরেই ঈদ। এ সময় গরু কিংবা খাসির মাংসের বেশ বড় একটা পরিমাণ ফ্রিজে রাখা হয়। ডিপ ফ্রিজে মাংস রাখার আগে কিছু বিষয় মনে রাখা জরুরি। কারণ ঠিকভাবে হিমায়িত না হলে মাংসের স্বাদ ও গুণমান নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, কীভাবে মাংস ডিপ ফ্রিজে রাখবেন— প্রথমেই ফ্রিজ পরিষ্কার করুন এবং জায়গা খালি রাখুন। মাংস রাখার অন্তত দুই থেকে তিন দিন আগে ফ্রিজ ভালোভাবে পরিষ্কার করুন এবং জীবাণুমুক্ত করে নিন। আর ফ্রিজের ড্রয়ারে গাদাগাদি করে প্যাকেট না রেখে কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখুন; যেন ভেতরে ঠান্ডা বাতাস সঠিকভাবে চলাচল করতে পারে। দ্বিতীয়ত মাংস ধুয়ে ফ্রিজে রাখুন। এতে অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে স্বাদ নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে না। মাংসের গা থেকে রক্ত ও অতিরিক্ত পানি ভালোমতো মুছে বা ঝরিয়ে তারপর ফ্রিজে রাখুন। সেই সঙ্গে মাংসের বড় অংশ বা সব মাংস একসঙ্গে এক ব্যাগে ফ্রিজে না রেখে আলাদা করুন। প্রতিবার রান্নার জন্য যতটুকু প্রয়োজন, ঠিক ততটুকু পরিমাণ আলাদা আলাদা করে প্যাকেট রাখুন। এতে বারবার পুরো মাংসের বরফ গলানোর ঝামেলা ও স্বাদ নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে না। সেই মাংস রাখার জন্য বায়ুরোধী ভ্যাকুয়াম-সিলার প্যাকেট বা ভালো মানের জিপলক ব্যাগ ব্যবহার করুন। আর প্লাস্টিক বা পলিথিনের মুখ খুব ভালোভাবে পেঁচিয়ে বন্ধ করুন, যেন বাতাস ঢুকতে না পারে। একটির প্যাকেটের সঙ্গে আরেকটি আটকে না যায়, সে জন্য মাঝে মোটা কাগজের টুকরো দিন। এরপর মাংসের প্রতিটি প্যাকেটের ওপর মার্কার দিয়ে সংরক্ষণের তারিখ পরিষ্কারভাবে লিখে রাখুন। ফ্রিজে সাধারণত চার থেকে ছয় মাস পর্যন্ত গরু বা খাসির মাংসের গুণগত মান একদম ভালো থাকে। তারিখ লেখা থাকলে কোন মাংসটি আগে বের করে রান্না করতে হবে, তা সহজেই বোঝা যায়। সবশেষে ঘরের তাপমাত্রা অনুযায়ী ফ্রিজ চালু রাখুন। মাংস কাটার পরপরই ফ্রিজে বা প্লাস্টিকে রাখবেন না। কারণ এ সময় মাংস কিছুটা গরম থাকে। মাংস পুরোপুরি সাধারণ তাপমাত্রায় আসার পর ফ্রিজে সংরক্ষণ করুন। পশু জবাইয়ের অন্তত তিন থেকে চার ঘণ্টা পর মাংস কিছুটা নরম হলে ফ্রিজে রাখা ভালো। সঠিক তাপমাত্রা নিশ্চিত করে ফ্রিজে মাংস রাখার আগে সেটির তাপমাত্রা শূন্য ডিগ্রি ফারেনহাইট (-১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) বা তার নিচে রয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) ব্যবস্থাপনায় পবিত্র ঈদুল আজহা-২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ মন্ত্রী পরিষদের সদস্য, বিচারপতি, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ ও বিদেশি কূটনীতিকরা জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের এই প্রধান জামাতে অংশ নেবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। সোমবার (২৫ মে) এক ব্রিফিংয়ে প্রশাসক জানান, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং নারী-পুরুষের জন্য পৃথক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ঈদ জামায়াতকে সুশৃঙ্খল ও আরামদায়ক করতে ব্যাপক আয়োজন করা হয়েছে। জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের মোট ক্ষেত্রফল প্রায় ৩০ হাজার বর্গমিটার। এর মধ্যে ঈদগাহের প্যান্ডেলের ক্ষেত্রফল ২৫ হাজার ৪০০ বর্গমিটার। ১২১টি কাতারে একসঙ্গে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লি এখানে নামাজ আদায় করতে পারবেন বলে তিনি জানান। এর মধ্যে অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ (ভিআইপি) পুরুষ ২৫০ জন এবং নারী ৮০ জনের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া সাধারণ মুসল্লিদের মধ্যে প্রায় ৩১ হাজার পুরুষ এবং প্রায় সাড়ে ৩ হাজার ৫০০ নারী মুসল্লির জন্য পৃথক নামাজের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ঈদগাহ ময়দানে প্রবেশের জন্য মোট ৪টি ফটকের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর মধ্যে ভিআইপিদের জন্য ১টি, সাধারণ পুরুষ মুসল্লিদের জন্য ২টি এবং নারী মুসল্লিদের জন্য ১টি আলাদা প্রবেশ ফটক থাকবে। অন্যদিকে বহির্গমনের জন্য মোট ৭টি ফটক রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ভিআইপিদের জন্য ১টি, সাধারণ পুরুষ মুসল্লিদের জন্য ৫টি এবং নারীদের জন্য ১টি পৃথক বহির্গমন ফটক নির্ধারণ করা হয়েছে। ঈদ জামায়াতে সর্বমোট ১২১টি কাতারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ভিআইপি পুরুষদের জন্য ৫টি ও নারীদের জন্য ১টি কাতার, সাধারণ পুরুষ মুসল্লিদের জন্য ৬৫টি বড় আকারের কাতার এবং নারী মুসল্লিদের জন্য ৫০টি ছোট আকারের কাতার থাকবে। অজুখানায় একসঙ্গে প্রায় ১৪০ জন মুসল্লি অজু করতে পারবেন। এর মধ্যে পুরুষদের জন্য ১১৩ জন এবং নারীদের জন্য ২৭ জনের পৃথক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মুসল্লিদের সুবিধার্থে ঈদগাহ ময়দানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, পর্যাপ্ত ফ্যান ও আলোর ব্যবস্থা, নিরাপদ খাবার পানি, নামাজের জন্য কার্পেট এবং ভিআইপি কাতারে জায়নামাজ সরবরাহ করা হবে। এছাড়া নারীদের জন্য পৃথক প্রবেশ পথ ও নামাজ আদায়ের বিশেষ ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ঈদ জামায়াতকে কেন্দ্র করে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পক্ষ থেকে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা, ভ্রাম্যমাণ টয়লেট, বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং বৃষ্টির পানি নিরোধক সামিয়ানার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া মুসল্লিদের আকর্ষণ করতে ঈদগাহে নির্মাণ করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন ৩টি ফটক। আয়োজকরা জানিয়েছেন, মুসল্লিদের নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।