স্বাস্থ্য

বালিশ ছাড়াই ঘুমালে শরীরে কী পরিবর্তন আসে? জানুন

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

সারাদিনের কর্মব্যস্ততা শেষে এক চিলতে প্রশান্তির ঘুমের বিকল্প নেই। আর সেই ঘুমের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে আমরা অনেকেই বেছে নিই নরম তুলতুলে আরামদায়ক বালিশ। তবে অনেক সময় দেখা যায়, এই বালিশই হয়ে ওঠে সকালের ঘাড় বা পিঠ ব্যথার কারণ। মূলত ঘুমের সময় মেরুদণ্ডকে সঠিক অবস্থানে রাখা এবং শরীরের সাথে ঘাড়ের সামঞ্জস্য বজায় রাখাই বালিশের প্রধান কাজ।

 

তবে বর্তমান সময়ে স্বাস্থ্যসচেতনদের মধ্যে একটি প্রশ্ন বেশ জোরালো হয়ে উঠেছে, সুস্থ থাকতে বালিশ কি আসলেই প্রয়োজন, নাকি বালিশ ছাড়াই ঘুমানো বেশি উপকারী? চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে, বালিশ ছাড়া ঘুমানোর সুফল সবার জন্য এক নয়, বরং এটি অনেকাংশে নির্ভর করে আপনার ঘুমানোর ভঙ্গির ওপর

 

ঘুমানোর ভঙ্গি ও এর প্রভাব

যারা মূলত উপুড় হয়ে বা পেটে ভর দিয়ে ঘুমান, তাদের জন্য বালিশ ছাড়া ঘুমানো কিছুটা উপকারী হতে পারে। পেটে ভর দিয়ে ঘুমালে শরীরের অধিকাংশ ওজন মাঝের অংশে থাকে, যা মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক বক্রতাকে বজায় রাখতে বাধা দেয় এবং ঘাড় ও পিঠে চাপ সৃষ্টি করে। এক্ষেত্রে বালিশ ছাড়া ঘুমালে মাথা বিছানার সমতলে থাকে, যা ঘাড়ের ওপর চাপ কমায় এবং শরীরের সঠিক সারিবদ্ধতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

তবে আপনি যদি পিঠে ভর দিয়ে বা কাত হয়ে ঘুমান, তবে বালিশ ছাড়া ঘুমানো উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি করতে পারে। বালিশ ছাড়া ঘুমালে ঘাড়ের পেশি ও জয়েন্টে অসমভাবে চাপ পড়তে পারে, যার ফলে ঘাড় ব্যথা, পেশি শক্ত হয়ে যাওয়া এবং মাথাব্যথাও হতে পারে।

 

চুলের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব

অনেকে মনে করেন বালিশ ছাড়া ঘুমালে চুলের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। তবে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় বালিশ ব্যবহার করা বা না করার সাথে চুলের স্বাস্থ্যের কোনো সরাসরি সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। কেউ কেউ রেশমি বালিশের কভার ব্যবহারের পরামর্শ দিলেও এর স্বপক্ষেও পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক তথ্য নেই।

 

বালিশ ছাড়া ঘুমানোর অভ্যাস করতে চাইলে

যদি আপনি আপনার বালিশটি সরিয়ে ফেলার কথা ভাবেন, তবে কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি:

  • ধীরে ধীরে অভ্যাস করুন: হঠাৎ করে বালিশ সরিয়ে না ফেলে প্রথমে পাতলা ভাঁজ করা তোয়ালে বা কম্বল ব্যবহার করুন এবং ধীরে ধীরে সেটির উচ্চতা কমিয়ে আনুন।
  • শরীরের অন্যান্য অংশে সাপোর্ট: পেটে ভর দিয়ে ঘুমানোর সময় মেরুদণ্ডের অবস্থান উন্নত করতে তলপেট ও পেলভিসের নিচে একটি বালিশ রাখুন। আবার পিঠে ভর দিয়ে ঘুমালে হাঁটুর নিচে এবং কাত হয়ে ঘুমালে দুই হাঁটুর মাঝে বালিশ রাখা উপকারী।
  • সঠিক গদি নির্বাচন: বালিশ ছাড়া ঘুমানোর সময় গদিটি খুব নরম হলে মেরুদণ্ড ঝুলে যেতে পারে এবং পিঠে ব্যথা হতে পারে। তাই সঠিক সাপোর্ট দেয় এমন গদি বেছে নিন।

সতর্কতা

আপনার যদি ঘাড় বা পিঠের দীর্ঘমেয়াদী ব্যথা থাকে কিংবা মেরুদণ্ডের কোনো সমস্যা (যেমন: স্কোলিওসিস) থাকে, তবে বালিশ ছাড়া ঘুমানোর আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

 

সারকথা

বালিশ ছাড়া ঘুমানোর উপকারিতা মূলত নির্ভর করে আপনার ঘুমানোর অভ্যাসের ওপর। পেটে ভর দিয়ে ঘুমানোর ক্ষেত্রে এটি সহায়ক হলেও পিঠ বা কাত হয়ে ঘুমানোর জন্য বালিশ থাকাই শ্রেয়। দিনশেষে, আপনি বিছানায় কতটা আরামদায়ক এবং ব্যথামুক্ত বোধ করছেন, সেটিই সুস্থ ঘুমের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

 

তথ্যসূত্রহেলথ লাইন

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

স্বাস্থ্য

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
বালিশ ছাড়াই ঘুমালে শরীরে কী পরিবর্তন আসে? জানুন

সারাদিনের কর্মব্যস্ততা শেষে এক চিলতে প্রশান্তির ঘুমের বিকল্প নেই। আর সেই ঘুমের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে আমরা অনেকেই বেছে নিই নরম তুলতুলে আরামদায়ক বালিশ। তবে অনেক সময় দেখা যায়, এই বালিশই হয়ে ওঠে সকালের ঘাড় বা পিঠ ব্যথার কারণ। মূলত ঘুমের সময় মেরুদণ্ডকে সঠিক অবস্থানে রাখা এবং শরীরের সাথে ঘাড়ের সামঞ্জস্য বজায় রাখাই বালিশের প্রধান কাজ।   তবে বর্তমান সময়ে স্বাস্থ্যসচেতনদের মধ্যে একটি প্রশ্ন বেশ জোরালো হয়ে উঠেছে, সুস্থ থাকতে বালিশ কি আসলেই প্রয়োজন, নাকি বালিশ ছাড়াই ঘুমানো বেশি উপকারী? চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে, বালিশ ছাড়া ঘুমানোর সুফল সবার জন্য এক নয়, বরং এটি অনেকাংশে নির্ভর করে আপনার ঘুমানোর ভঙ্গির ওপর   ঘুমানোর ভঙ্গি ও এর প্রভাব যারা মূলত উপুড় হয়ে বা পেটে ভর দিয়ে ঘুমান, তাদের জন্য বালিশ ছাড়া ঘুমানো কিছুটা উপকারী হতে পারে। পেটে ভর দিয়ে ঘুমালে শরীরের অধিকাংশ ওজন মাঝের অংশে থাকে, যা মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক বক্রতাকে বজায় রাখতে বাধা দেয় এবং ঘাড় ও পিঠে চাপ সৃষ্টি করে। এক্ষেত্রে বালিশ ছাড়া ঘুমালে মাথা বিছানার সমতলে থাকে, যা ঘাড়ের ওপর চাপ কমায় এবং শরীরের সঠিক সারিবদ্ধতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। তবে আপনি যদি পিঠে ভর দিয়ে বা কাত হয়ে ঘুমান, তবে বালিশ ছাড়া ঘুমানো উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি করতে পারে। বালিশ ছাড়া ঘুমালে ঘাড়ের পেশি ও জয়েন্টে অসমভাবে চাপ পড়তে পারে, যার ফলে ঘাড় ব্যথা, পেশি শক্ত হয়ে যাওয়া এবং মাথাব্যথাও হতে পারে।   চুলের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব অনেকে মনে করেন বালিশ ছাড়া ঘুমালে চুলের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। তবে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় বালিশ ব্যবহার করা বা না করার সাথে চুলের স্বাস্থ্যের কোনো সরাসরি সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। কেউ কেউ রেশমি বালিশের কভার ব্যবহারের পরামর্শ দিলেও এর স্বপক্ষেও পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক তথ্য নেই।   বালিশ ছাড়া ঘুমানোর অভ্যাস করতে চাইলে যদি আপনি আপনার বালিশটি সরিয়ে ফেলার কথা ভাবেন, তবে কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি: ধীরে ধীরে অভ্যাস করুন: হঠাৎ করে বালিশ সরিয়ে না ফেলে প্রথমে পাতলা ভাঁজ করা তোয়ালে বা কম্বল ব্যবহার করুন এবং ধীরে ধীরে সেটির উচ্চতা কমিয়ে আনুন। শরীরের অন্যান্য অংশে সাপোর্ট: পেটে ভর দিয়ে ঘুমানোর সময় মেরুদণ্ডের অবস্থান উন্নত করতে তলপেট ও পেলভিসের নিচে একটি বালিশ রাখুন। আবার পিঠে ভর দিয়ে ঘুমালে হাঁটুর নিচে এবং কাত হয়ে ঘুমালে দুই হাঁটুর মাঝে বালিশ রাখা উপকারী। সঠিক গদি নির্বাচন: বালিশ ছাড়া ঘুমানোর সময় গদিটি খুব নরম হলে মেরুদণ্ড ঝুলে যেতে পারে এবং পিঠে ব্যথা হতে পারে। তাই সঠিক সাপোর্ট দেয় এমন গদি বেছে নিন। সতর্কতা আপনার যদি ঘাড় বা পিঠের দীর্ঘমেয়াদী ব্যথা থাকে কিংবা মেরুদণ্ডের কোনো সমস্যা (যেমন: স্কোলিওসিস) থাকে, তবে বালিশ ছাড়া ঘুমানোর আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।   সারকথা বালিশ ছাড়া ঘুমানোর উপকারিতা মূলত নির্ভর করে আপনার ঘুমানোর অভ্যাসের ওপর। পেটে ভর দিয়ে ঘুমানোর ক্ষেত্রে এটি সহায়ক হলেও পিঠ বা কাত হয়ে ঘুমানোর জন্য বালিশ থাকাই শ্রেয়। দিনশেষে, আপনি বিছানায় কতটা আরামদায়ক এবং ব্যথামুক্ত বোধ করছেন, সেটিই সুস্থ ঘুমের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।   তথ্যসূত্র: হেলথ লাইন

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ০৪, ২০২৬
প্রতীকী ছবি

ক্ষুধা পেলেই রাগ বাড়ে—স্বাভাবিক নাকি রোগের ইঙ্গিত?

চা | ছবি: সংগৃহীত

টানা ৯০ দিন চা না খেলে শরীরে কী ঘটে? জানালেন বিশেষজ্ঞরা

জ্বরে আক্রান্ত নারী | ছবি: সংগৃহীত

জ্বর হলে গোসল করা কি নিরাপদ? জানালেন বিশেষজ্ঞরা

ফাইল ছবি।
চর্বি কমাতে যেসব ভুল ধারণা এখনই বাদ দিন

ওজন কমানো অনেকের জন্যই জটিল হয়ে ওঠে, বিশেষ করে যখন সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা ‘মিরাকল ড্রিংক’, কঠোর ডায়েট ও দ্রুত ফলের টিপস ঘুরে বেড়ায়। অনেকেই মনে করেন, একটিমাত্র সহজ সমাধানেই অতিরিক্ত ওজন কমে যাবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, স্থায়ীভাবে চর্বি কমাতে কোনো শর্টকাট নেই—এটি নির্ভর করে নিয়মিত ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের ওপর।   ফিটনেস বিশেষজ্ঞরা বলেন, অনেকেই ভুল কিছু ধারণায় ভরসা রাখেন, যার কারণে কাঙ্ক্ষিত ফল পান না। চর্বি কমানোর ক্ষেত্রে কিছু সাধারণ ভুল ধারণা সম্পর্কে বর্ণনা দেন তারা।   ১) অনেকে দ্রুত ওজন কমাতে চান, কিন্তু দ্রুত ফলের চেষ্টা করতে গিয়ে অতিরিক্ত কঠোর ডায়েট বা ব্যায়ামের পথ বেছে নেন, যা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর হতে পারে।   ২) শুধু কার্ডিও বা হাই-ইনটেনসিটি ট্রেনিং করলেই ফ্যাট লস হয় না। পেশি গঠন ও রিকভারি না থাকলে দীর্ঘমেয়াদে মেটাবলিজম দুর্বল হয়ে যেতে পারে।     ৩) একদিনের কঠিন ব্যায়াম শরীর বদলে দেয় না। পরিকল্পিত ও ধারাবাহিক ট্রেনিংই স্থায়ী ফল দেয়, শুধু ট্রেন্ড অনুসরণ করলে নয়।   ৪) অতিরিক্ত ক্যালরি কমিয়ে দেওয়া দ্রুত ওজন কমালেও শরীর দুর্বল করে, ক্ষুধা বাড়ায় এবং পেশি কমিয়ে দেয়। সঠিক পরিমাণে পুষ্টিকর খাবার খাওয়াই জরুরি। ৫) ওজন প্রতিদিন পানি, হরমোন ও ঘুমের কারণে ওঠানামা করে। তাই এক দিনের স্কেলের সংখ্যা দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া ভুল।   ৬) ঘাম ফ্যাট কমার নির্দেশক নয়, এটি শুধু শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়া। পরিবেশ ও আবহাওয়াও এতে প্রভাব ফেলে।   ৭) মোটিভেশন সবসময় থাকে না। ফল পেতে হলে নিয়মিত রুটিন ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।   ৮) লেবু পানি, জিরা পানি বা অ্যাপল সাইডার ভিনেগার—কোনো ‘ডিটক্স ড্রিংক’ একা চর্বি কমাতে পারে না। এগুলোর কিছু উপকার থাকলেও এগুলো কোনো জাদুকরি সমাধান নয়।   বিশেষজ্ঞরা যা খুব সহজ বা নাটকীয় মনে হয়, সেটির ওপর ভরসা না করে বাস্তব ও কার্যকর অভ্যাসগুলোর ওপর মনোযোগ দিতে পরামর্শ দিয়ে থাকেন।   

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

হামের টিকা ও ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল গ্রহণে ৩৯ লাখ শিশুর ব্যবধান কেন?

ছবি: সংগৃহীত

হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি বেড়ে ৭২৯

ছবি: সংগৃহীত

গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ৪৪

প্রতীকী ছবি
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে মৃত্যু শূন্য, হাসপাতালে ভর্তি ৪৪

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যু হয়নি। তবে একই সময়ে নতুন করে ৪৪ জন ডেঙ্গু রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।   শুক্রবার (৩ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুমের প্রকাশিত ডেঙ্গুবিষয়ক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নতুন ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৪ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১১ জন, বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১০ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৮ জন এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে একজন রয়েছেন।   একই সময়ে ৪৮ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। চলতি বছরে এ পর্যন্ত মোট ৫ হাজার ৯৮৯ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।   স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৩ জুলাই পর্যন্ত দেশে মোট ৬ হাজার ৪৫৮ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে ৬২ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৮ শতাংশ নারী। এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।   অধিদপ্তরের পরিসংখ্যানে আরও দেখা যায়, ২০২৫ সালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন এবং মারা যান ৪১৩ জন। ২০২৪ সালে আক্রান্ত ছিলেন ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন, মৃত্যু হয় ৫৭৫ জনের। আর ২০২৩ সালে দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন এবং প্রাণ হারান ১ হাজার ৭০৫ জন।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

গবেষণায় উদ্বেগজনক চিত্র: স্তন ক্যানসারের চিকিৎসা বিলম্বে বাড়ছে মৃত্যু ও চিকিৎসা ব্যয়

ছবি: সংগৃহীত

গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১,১১৯

ছবি: সংগৃহীত

প্রচণ্ড গরমে শরীর ও ঘর ঠান্ডা রাখার ১৪ সহজ উপায়

0 Comments