স্বাস্থ্য

৫০ বছরে পুরুষের টেস্টোস্টেরন কমেছে অর্ধেক

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ১৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে পুরুষদের শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোনের গড় মাত্রা আশঙ্কাজনক হারে কমছে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, গত ৫০ বছরে টেস্টোস্টেরনের গড় মাত্রা কমেছে অর্ধেকের বেশি। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলছেন, মানবসমাজ এখন পুরুষদের প্রজননক্ষমতার ব্যাপক সংকটের মুখে।

 

গত মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যের লন্ডনে বার্ষিক সভায় বসেছিলেন ইউরোপিয়ান সোসাইটি অব হিউম্যান রিপ্রোডাকশন অ্যান্ড এমব্রায়োলজির সদস্যরা। সেখানেই গবেষণার ফলাফল তুলে ধরা হয়। এতে দেখা গেছে, ১৯৭২ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে পুরুষদের গড় টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমেছে ৫৪ শতাংশ।

 

টেস্টোস্টেরন হরমোন পুরুষের বয়ঃসন্ধি, পেশি গঠন, শুক্রাণু উৎপাদন ও যৌন আকাঙ্ক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ওজন ও ডায়াবেটিস প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন গবেষকেরা। এর সঙ্গে পরিবেশগত কিছু বিষয়ের প্রভাব রয়েছে বলে তাঁদের ধারণা। বিভিন্ন গৃহস্থালি পণ্যে থাকা এন্ডোক্রাইনের জন্য ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান এবং বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিও টেস্টোস্টেরন হরমোন কমার বড় কারণ হতে পারে।

 

বিশ্বজুড়ে পুরুষদের প্রজননস্বাস্থ্য বড় সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করেন ইসরায়েলের হিব্রু ইউনিভার্সিটি-হাডাসা ব্রাউন স্কুল অব পাবলিক হেলথ অ্যান্ড কমিউনিটি মেডিসিনের অধ্যাপক হাগাই লেভিন। তাঁর মতে, পুরুষদের প্রজননস্বাস্থ্যের জন্য বিষয়টি যতটা আশঙ্কার, ততটা গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না।

 

হাগাই লেভিন বলেন, ‘৫০ বছরে পুরুষদের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা ৫০ শতাংশের বেশি কমে যেতে আমরা দেখেছি। এর অর্থ প্রতিবছর গড়ে ১ শতাংশের বেশি হারে টেস্টোস্টেরন কমেছে। এটি আকস্মিক ঘটনা নয়, কোনো পরিসংখ্যানগত ভুলও নয়।’

 

পুরুষের প্রজননক্ষমতা আসলেই কমছে কি না এবং কমলেও কেন কমছে, তা নিয়ে বিতর্ক চলছে। এ পটভূমিতে পুরুষের টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্রা কমে যাওয়ার বিষয়টিকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।

 

একই গবেষক দল এর আগে পুরুষদের শুক্রাণু নিয়ে গবেষণা করেছিল। তাতে দেখা গিয়েছিল, গত ৪০ বছরে পুরুষদের শুক্রাণুর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমেছে। সে তথ্যও বেশ আলোড়ন তৈরি করেছিল।

 

তবে এসব দাবি বিজ্ঞানী মহলে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক ও রিপ্রোডাক্টিভ এন্ডোক্রাইনোলজি বিষয়ে বিশেষজ্ঞ চান্না জয়সেনা গার্ডিয়ানকে বলেন, পুরুষের টেস্টোস্টেরন নিয়ে সর্বশেষ এসব পর্যবেক্ষণকে ‘বাস্তবতার নিরিখে একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা’ হিসেবেই দেখা উচিত।

 

চান্না জয়সেনা বলেন, ‘ইতিহাসের ভিন্ন ভিন্ন সময়কাল ধরে এসব গবেষণা চালানো হয়েছে। এ বিষয়টিই আমাকে গবেষণায় পাওয়া ফলাফলের ব্যাপারে সত্যিই আশ্বস্ত করেছে। দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি,পুরুষদের প্রজননস্বাস্থ্যের অবনতি ঘটেছে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই প্রবণতা আরও বেড়েই চলেছে।’

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

স্বাস্থ্য

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
দিনে তিন বেলা ভাত খেলে শরীরে যেসব প্রভাব পড়ে

বাংলাদেশের মানুষের খাদ্যতালিকায় ভাতের উপস্থিতি প্রায় প্রতিদিনই। সকাল, দুপুর কিংবা রাত—অনেকেই তিন বেলাই ভাত খেতে অভ্যস্ত। তবে নিয়মিত তিন বেলা ভাত খাওয়ার অভ্যাস শরীরের জন্য কতটা ভালো, তা নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন রয়েছে।   পুষ্টিবিদদের পরামর্শ অনুযায়ী, দিনে তিনবার ভাত খেলেই শরীরের ক্ষতি হবে, এমন ধারণা ঠিক নয়। বরং ভাতের পরিমাণ, খাদ্যাভ্যাস এবং শারীরিক কর্মকাণ্ডের ওপর এর প্রভাব নির্ভর করে।   বেশি ভাত খেলে বাড়তে পারে ওজন ভাত মূলত শর্করাজাতীয় খাবার, যা শরীরকে শক্তি জোগায়। তবে প্রতিবার প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ভাত খেলে এবং সেই অতিরিক্ত ক্যালরি খরচ না হলে ধীরে ধীরে ওজন বাড়তে পারে। বিশেষ করে শারীরিক পরিশ্রম কম হলে এবং খাবারে শাকসবজি ও প্রোটিনের তুলনায় ভাতের পরিমাণ বেশি থাকলে এ ঝুঁকি বাড়তে পারে।   রক্তে শর্করার মাত্রায় প্রভাব সাদা চালের ভাতে আঁশ তুলনামূলক কম থাকে। শরীর এটি দ্রুত হজম করে গ্লুকোজে রূপান্তরিত করতে পারে, ফলে খাওয়ার পর রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়। একবারে অনেকটা ভাত খেলে এই প্রভাব আরও বেশি হতে পারে। নিয়মিত অতিরিক্ত পরিমাণে সাদা ভাত খাওয়ার সঙ্গে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকির সম্পর্কও কিছু গবেষণায় দেখা গেছে। তবে শুধু ভাত খাওয়ার অভ্যাস দিয়ে কারও ডায়াবেটিস হবে কি না, তা নির্ধারণ করা যায় না।   খাবারে পুষ্টির ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে তিন বেলার খাবারেই যদি ভাতের পরিমাণ বেশি থাকে, তাহলে মাছ, ডিম, ডাল, শাকসবজি ও ফলের মতো পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার জায়গা কমে যেতে পারে। এতে খাদ্যতালিকায় প্রয়োজনীয় আঁশ, ভিটামিন, খনিজ ও প্রোটিনের ঘাটতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই শুধু ভাতের পরিমাণ নয়, পুরো খাবারের পুষ্টিগুণের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।   তাহলে কি তিন বেলা ভাত খাওয়া বন্ধ করতে হবে? সুস্থ মানুষের জন্য দিনে তিন বেলা ভাত খাওয়া নিজে থেকেই ক্ষতিকর নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো পরিমিত পরিমাণে খাওয়া এবং প্রতিবারের খাবারে পুষ্টির ভারসাম্য বজায় রাখা। সম্ভব হলে সাদা চালের পাশাপাশি লাল চাল বা বাদামি চালের মতো অপেক্ষাকৃত আঁশসমৃদ্ধ শস্য বেছে নেওয়া যেতে পারে। তবে চালের ধরন অনুযায়ী পুষ্টিগুণ ও রক্তে শর্করার ওপর প্রভাব ভিন্ন হতে পারে।   সুস্থ থাকতে কী করবেন? খাবারের প্লেটে ভাতের পাশাপাশি পর্যাপ্ত শাকসবজি, ডাল এবং মাছ, ডিম বা অন্য প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখুন। একবারে অতিরিক্ত ভাত খাওয়া এড়িয়ে চলুন এবং নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করুন। ডায়াবেটিস বা রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের সমস্যা থাকলে ব্যক্তিগত প্রয়োজন অনুযায়ী ভাতের পরিমাণ নির্ধারণ করতে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিন।   অর্থাৎ বলা যায়, দিনে তিন বেলা ভাত খাওয়াই শরীর খারাপ হওয়ার মূল কারণ নয়। বরং অতিরিক্ত পরিমাণে ভাত খাওয়া, খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্যের অভাব এবং অনিয়মিত জীবনযাপন স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ভাত পুরোপুরি বাদ না দিয়ে পরিমিত খাওয়া ও সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলাই হতে পারে সুস্থ থাকার কার্যকর উপায়।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মূত্রথলির ক্যানসার, যেসব লক্ষণে হবেন সতর্ক

ফাইল ছবি

মোবাইল ফোনে ব্রেন ক্যানসারের ঝুঁকি? ৬৩ গবেষণায় যা মিলল

ছবি: সংগৃহীত

সকালে ভাত খাওয়া কতটা স্বাস্থ্যকর, কী বলছেন পুষ্টিবিদ?

ছবি: সংগৃহীত
কমলার চেয়েও বেশি ভিটামিন সি আছে যে ৫ খাবারে

কমলালেবুর তুলনায় পেয়ারা, আমলকী, লাল ও হলুদ ক্যাপসিকাম, কাঁচামরিচ এবং পেঁপেতে অনেক বেশি পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’ পাওয়া যায়। আমাদের শরীর নিজে থেকে ভিটামিন ‘সি’ তৈরি বা জমা রাখতে পারে না, তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এগুলো রাখা ভীষণ জরুরি। সে কারণে সুষম খাদ্যতালিকায় সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।    ভিটামিন ‘সি’যুক্ত খাবার এই সুষম খাদ্যতালিকারই অংশ। যদিও কমলা ভিটামিন ‘সি’ একটি জনপ্রিয় উৎস। বেশ কিছু দৈনন্দিন খাবারে এই অপরিহার্য পুষ্টি উপাদানটি আরও বেশি পরিমাণে থাকে। কিন্তু ভিটামিন ‘সি’ শরীরকে কোলাজেন উৎপাদনে সাহায্য করে, ক্ষত নিরাময়ে সহায়তা করে, উদ্ভিদভিত্তিক খাবার থেকে আয়রন শোষণ উন্নত করে এবং স্বাভাবিক রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে অবদান রাখে।   যেহেতু শরীর বেশি পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’ তৈরি বা সঞ্চয় করতে পারে না, তাই দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় ফল এবং শাকসবজি অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। এখানে এমন পাঁচটি দৈনন্দিন খাবারের কথা বলা হলো, যা একটি কমলার চেয়ে বেশি ভিটামিন ‘সি’ সরবরাহ করতে পারে।   চলুন জেনে নেওয়া যাক— ১. পেয়ারা পেয়ারা ভিটামিন ‘সি’র অন্যতম সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক উৎস; এটি সহজলভ্য খেতেও সুস্বাদু। পেয়ারা প্রতি ১০০ গ্রামে কমলার চেয়ে যথেষ্ট বেশি ভিটামিন ‘সি’ সরবরাহ করতে পারে। যদিও এর সঠিক পরিমাণ জাত ও পরিপক্বতার ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়। এই গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ফলটিতে ডায়েটারি ফাইবারও রয়েছে, যা হজমে সহায়তা করে। আর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।   প্রতিদিন সকালের নাস্তা হিসেবে পেয়ারা উপভোগ করুন অথবা ফলের বাটিতে এর টুকরো যোগ করুন। অতিরিক্ত স্বাদের জন্য এর ওপর সামান্য ভাজা জিরার গুঁড়া ছিটিয়ে দিতে পারেন। খুব বেশি লবণ দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।   ২. আমলকী আমলকী ভিটামিন ‘সি’র আরেকটি চমৎকার উৎস। এতে অন্যান্য উদ্ভিদ যৌগও রয়েছে, যা এর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যে অবদান রাখে। ভিটামিন ‘সি’ স্বাভাবিক রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাকে সহায়তা করে। কিন্তু আমলকী খেলে ঋতুজনিত সংক্রমণ থেকে সুরক্ষার নিশ্চয়তা দেয় না। এর পুষ্টিগুণ একটি বৈচিত্র্যময় খাদ্যতালিকায় উপকারী সংযোজন।   আর তাজা আমলকী কাঁচায় নয় চাটনি ও সালাদেও খেতে পারেন।   ৩. পেঁপে পেঁপে একটি সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য ফল, যা ভিটামিন ‘সি’র সঙ্গে ডায়েটারি ফাইবার এবং ক্যারোটিনয়েড সরবরাহ করে। জাত ও পরিপক্বতার ওপর নির্ভর করে। এতে প্রতি ১০০ গ্রাম কমলার চেয়েও বেশি ভিটামিন ‘সি’ থাকতে পারে। এর নরম গঠনের কারণে এটি সকালের নাস্তায় কিংবা উৎসবে খাবারের মাঝে হালকা নাস্তা হিসাবে সহজেই অন্তর্ভুক্ত করা যায়।   আর এক বাটি তাজা, পাকা পেঁপে উপভোগ করুন অথবা ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফ্রুট সালাদের জন্য পেয়ারার সঙ্গে মিশিয়ে নিন। এর ফাইবারের উপকারিতা পেতে রসের পরিবর্তে গোটা ফল বেছে নিন।   ৪. কাঁচামরিচ কাঁচামরিচ ভিটামিন ‘সি’র একটি ঘনীভূত উৎস। আর অল্প পরিমাণে খেলেও তা আপনার দৈনিক ভিটামিন ‘সি’র চাহিদা পূরণে সাহায্য করতে পারে। তবে মরিচের জাত, সতেজতা এবং আকারের ওপর এর পরিমাণ নির্ভর করে। এতে ক্যাপসাইসিনও থাকে, যা মরিচের ঝালের জন্য দায়ী যৌগ। তবে আপনার ভিটামিন ‘সি’র চাহিদা মেটাতে বেশি মরিচ খাওয়ার প্রয়োজন নেই। বিশেষ করে যদি ঝাল খাবার অ্যাসিডিটি বা হজমের অস্বস্তি সৃষ্টি করে। আর কাঁচামরিচের চাটনি অসাধারণ। ডাল কিংবা সবজির তরকারিতেও অল্প পরিমাণে কুচানো কাঁচামরিচ যোগ করতে পারেন। যদি আপনার অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা সংবেদনশীল পেট থাকে, তবে কম ঝালযুক্ত মরিচ বেছে নিন।   ৫. লাল ও হলুদ ক্যাপসিকাম রঙিন ক্যাপসিকাম ভিটামিন ‘সি’তে ভরপুর। এতে লাল ও হলুদ জাতের ক্যাপসিকামে কমলার চেয়েও বেশি ভিটামিন ‘সি’ থাকে। এতে ক্যারোটিনয়েডও থাকে, যা এক ধরনের উদ্ভিদ রঞ্জক এবং এগুলোর পুষ্টিগুণ বাড়াতে সাহায্য করে। আর ক্যাপসিকাম বিশেষভাবে উপকারী। কারণ প্রচলিত রান্নার রেসিপিতে বড় কোনো পরিবর্তন না এনেই এটিকে প্রতিদিনের খাবারে যোগ করা যায়। পনির টিক্কা, সবজির স্ট্রি-ফ্রাই, স্যান্ডউইচ বা সালাদে কাটা ক্যাপসিকাম যোগ করুন।    আর আপনি যদি আরও বেশি ভিটামিন ‘সি’ ধরে রাখতে চান, তবে এটি কাঁচা খান বা অল্প সময়ের জন্য রান্না করুন। তবে বেশিক্ষণ তাপ দিলে এর পুষ্টিগুণ কমে যেতে পারে।   এবার জেনে নিন আপনার কী পরিমাণ ভিটামিন ‘সি’ প্রয়োজন বয়স, লিঙ্গ ও জীবনের নানা পর্যায়ে ভিটামিন ‘সি’র প্রয়োজনীয়তা ভিন্ন হয়। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য দৈনিক প্রায় ৬৫-৮০ মিলিগ্রাম ভিটামিন ‘সি’ গ্রহণ করা উচিত। গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানের সময় এই প্রয়োজনীয়তা ভিন্ন হতে পারে। কারণ ভিটামিন ‘সি’ তাপ, বাতাস বো দীর্ঘ সময় ধরে সংরক্ষণের প্রতি সংবেদনশীল। তাজা ফল ও শাকসবজি খাওয়া, অতিরিক্ত রান্না এড়িয়ে চলা এবং বিভিন্ন ধরনের ফল ও সবজি খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা আপনাকে এ পুষ্টি উপাদান আরও বেশি পরিমাণে পেতে সাহায্য করতে পারে।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সিলেটে হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, বিভাগে প্রাণহানি ২০০

ফাইল ছবি

ত্বকের কালো দাগ দূর করার সহজ উপায়

ফাইল ছবি

চোখের মেকআপে যেসব ভুল হতে পারে বিপদের কারণ

ছবি: সংগৃহীত
দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত, একদিনে ৭ জনের মৃত্যু ও হাসপাতালে ভর্তি ১,৩৭৩

দেশজুড়ে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ও মৃত্যুর ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্ত হয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৩৭৩ জন ডেঙ্গু রোগী।   বুধবার (২১ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত নিয়মিত ডেঙ্গুবিষয়ক স্বাস্থ্য বুলেটিনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।   চলতি বছরে মৃত্যু ৩৬৪, আক্রান্ত প্রায় ১ লাখ ১৭ হাজার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে প্রাণ হারিয়েছেন মোট ৩৬৪ জন। এর মধ্যে শুধু অক্টোবরের প্রথম ২০ দিনেই ১১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। মাসভিত্তিক মৃত্যুর হিসাবে সেপ্টেম্বরে সর্বোচ্চ ১৪৮ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে মারা গেছেন। এদিকে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৯৯০ জনে।   ঢাকা বিভাগে সর্বাধিক রোগী ভর্তি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৬০২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া বরিশাল বিভাগে ২২৫ জন, চট্টগ্রামে ১৯৭ জন, খুলনায় ১৫৫ জন, রাজশাহীতে ১১১ জন, ময়মনসিংহে ৪৫ জন, রংপুরে ২৮ জন এবং সিলেটে ১০ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। অন্যদিকে একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ হাজার ৩৪০ জন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত মোট ১ লাখ ১০ হাজার ৬৫৬ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। ডেঙ্গুর চলমান পরিস্থিতিতে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং জ্বর দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ২১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে সচেতনতা ও রক্ত পরীক্ষা জরুরি, চিকিৎসার ব্যয়ে বিপাকে রোগীরা

ছবি: সংগৃহীত

জাপানে আধুনিক চিকিৎসার তথ্য ও সুযোগ বাড়াতে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সই

সংগৃহীত ছবি

কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করবে যে ৫ খাবার

0 Comments