অর্থনীতি

নতুন ঋণের আলোচনা শুরু: রাজস্ব ও ব্যাংকিং সংস্কারে জোর আইএমএফের

মারিয়া রহমান জুলাই ১৭, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটি বলেছে, রাজস্ব ঘাটতি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট বৈদেশিক চাপ বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান চ্যালেঞ্জ।


এসব সংকট মোকাবিলায় রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, ভর্তুকি যৌক্তিকীকরণ, কঠোর মুদ্রানীতি এবং ব্যাংকিং খাতের ব্যাপক সংস্কারের ওপর জোর দিয়েছে আইএমএফ। পাশাপাশি নতুন ঋণ কর্মসূচির আকার ও সংস্কার প্রতিশ্রুতি নিয়ে আগামী কয়েক মাসে বিস্তারিত আলোচনা হবে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।


সরকারের অনুরোধে সংস্থাটির একটি প্রতিনিধি দল ১২ থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত ঢাকা সফর করে দেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সরকারের সংস্কার পরিকল্পনা এবং সম্ভাব্য নতুন আইএমএফ-সমর্থিত কর্মসূচির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেছে। আইএমএফ জানিয়েছে, নতুন কর্মসূচির আকার, ঋণের পরিমাণ এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্কার প্রতিশ্রুতির বিষয়গুলো আগামী কয়েক মাসে আলোচনা হবে।


আইএমএফের কর্মকর্তা আইভো ক্রজনারের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি সফরের শেষদিন বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক করেন। এই বৈঠক শেষে এক বিবৃতিতে আইএমএফ জানায়, এই তথ্য-সংগ্রহমূলক সফরে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও আর্থিক খাতের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারের নীতিগত পরিকল্পনা, অর্থনৈতিক সংস্কারের অগ্রাধিকার এবং সক্ষমতা উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা নেওয়া হয়েছে।


বিবৃতিতে বলা হয়, নতুন সম্ভাব্য আইএমএফ কর্মসূচির পরিধি, অর্থায়নের আকার এবং এর সঙ্গে যুক্ত সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে আগামী কয়েক মাসে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।


আইএমএফের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ এখনও উল্লেখযোগ্য রাজস্ব, আর্থিক খাত ও মূল্যস্ফীতিজনিত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ এসব চ্যালেঞ্জকে আরও তীব্র করেছে। বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্নের কারণে দেশে আবারও মূল্যস্ফীতির চাপ বেড়েছে। একই সঙ্গে ভর্তুকি ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারের আগেই সীমিত রাজস্ব সক্ষমতার ওপর আরও চাপ তৈরি হয়েছে।


এতে আরও বলা হয়, আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বৈদেশিক খাতেও চাপ সৃষ্টি হয়েছে। যদিও প্রবাসী আয়ের প্রবৃদ্ধি শক্তিশালী রয়েছে, তারপরও উচ্চ আমদানি ব্যয়ের কারণে বহিঃখাতের ভারসাম্য রক্ষায় চাপ অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি দেশের ব্যাংকিং খাতের চাপও এখনও উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছে সংস্থাটি।


আইএমএফ জানিয়েছে, এবারের আলোচনা ২০২৫ সালের আর্টিকেল-৪ পরামর্শ প্রতিবেদনে চিহ্নিত নীতিগত অগ্রাধিকারকে ভিত্তি করে পরিচালিত হয়েছে। সংস্থাটির মতে, সামাজিক সুরক্ষা ও উন্নয়ন ব্যয় বাড়ানোর জন্য রাজস্ব আহরণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি এবং ভর্তুকি ব্যবস্থা যৌক্তিক করা জরুরি। একই সঙ্গে রাজস্ব সংস্কারের প্রভাব থেকে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দিতে লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক সহায়তা কর্মসূচি আরও জোরদার করা প্রয়োজন।


বিবৃতিতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পুনর্গঠনের জন্য কঠোর মুদ্রানীতি ও সতর্ক রাজস্বনীতি অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ২০২৫ সালে চালু হওয়া ‘ক্রলিং পেগ’ বিনিময় হার ব্যবস্থা ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিনিময় হার আরও নমনীয় করা এবং বৈদেশিক খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছে আইএমএফ।


ব্যাংকিং খাত প্রসঙ্গে সংস্থাটি বলেছে, একটি বিশ্বাসযোগ্য ও সমন্বিত কৌশলের আওতায় ব্যাংকিং খাতের পুনর্গঠন করতে হবে। একই সঙ্গে সুশৃঙ্খলভাবে খাতটির দুর্বলতা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এতে সামষ্টিক অর্থনৈতিক ও আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হবে এবং বিনিয়োগও উৎসাহিত হবে।


বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে আইএমএফের পূর্বাভাসও উদ্বেগের ইঙ্গিত দিয়েছে। সংস্থাটির কর্মীদের প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন না হলে ২০২৭ অর্থবছরে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে ৩ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসতে পারে। আর রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, আর্থিক সক্ষমতা সৃষ্টি এবং ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা দূর করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে মধ্যমেয়াদে প্রবৃদ্ধি আরও কমে ৩ শতাংশের নিচে নেমে যেতে পারে।


আইএমএফের মতে, ব্যাংকিং খাতের চাপ, রাজস্ব চ্যালেঞ্জ এবং বৈদেশিক খাতের ঝুঁকি একে অপরকে আরও তীব্র করতে পারে। ফলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ঝুঁকি নিম্নমুখী হওয়ার আশঙ্কাই বেশি।


সফর শেষে বাংলাদেশের সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর আন্তরিক আতিথেয়তা ও খোলামেলা, গঠনমূলক আলোচনার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে আইএমএফ প্রতিনিধি দল। একই সঙ্গে ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহের কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

অর্থনীতি

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
ব্যাংকের ওয়েবসাইট হ্যাক হয়নি, ডিজিটাল লেনদেনেও ঝুঁকি নেই: বাংলাদেশ ব্যাংক

কোনো ব্যাংকের ওয়েবসাইট হ্যাক হয়নি বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান। তিনি বলেন, ডিজিটাল লেনদেনে এই মুহূর্তে কোনো ঝুঁকি নেই।রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি। মুখপাত্র বলেন, যেসব ব্যাংক ওয়েবসাইট ডাউন রেখেছে তারা নিরাপত্তা নিশ্চিত করে শিগগিরই তা সচল করবে। এদিকে এমন পরিস্থিতি নিয়ে জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির মহাপরিচালক ড. তৈয়বুর রহমান জানান, ওয়েবসাইট তৈরি ও পরিচালনায় বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ পিএইচপি'র নিরাপত্তা ত্রুটি ইস্যুতে আগাম সতর্কতা নেয়ায় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই ব্যাংকসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট পর্যায়ক্রমে সচল করা হচ্ছে। বিপুল তথ্য থাকায় ভূমিসেবার ওয়েবসাইট সচল করার ক্ষেত্রে অধিকতর সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। গত কয়েক দিন ধরেই ব্যাংকসহ আর্থিক খাতে সাইবার হামলার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বন্ধ করে দেয়া হয়। তিন দিন পর আজ রোববার সকাল আটটা থেকে ওয়েবসাইটটি খুলে দেয়া হয়েছে।  মূলত বিশ্বে ইন্টারনেটের বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপিতে গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও অনলাইন সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়। সাইবার নিরাপত্তা গবেষকদের দাবি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে অশনাক্ত থাকা এসব দুর্বলতা খুঁজে পাওয়া গেছে। ক্যালিফ ও উইজের গবেষকেরা ওপেনএআইয়ের ‘প্যাচ দ্য প্ল্যানেট’ কর্মসূচির আওতায় এ দুর্বলতাগুলো শনাক্ত করেন। ওপেনএআইয়ের মতে, সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা সমস্যা এটি। যা এক দশকেরও বেশি সময় ধরে কারো নজরে পড়েনি।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ২৫, ২০২৬

৬ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার

ফাইল ছবি।

একনেক সভা স্থগিত, অনুমোদনের অপেক্ষায় ১৫ উন্নয়ন প্রকল্প

ছবি: সংগৃহীত

ইইউর বাজারে বাংলাদেশি ডেনিমের চাহিদা বাড়ল, আগস্টে রপ্তানি বৃদ্ধি ১২.৭১%

ছবি: সংগৃহীত
ঝুঁকি না কাটলে চালু হচ্ছে না বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট: মুখপাত্র

সাইবার হামলার ঝুঁকির প্রেক্ষাপটে বন্ধ রাখা বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট তিন দিন পরও খুলে দেওয়া হয়নি। ঝুঁকি না কাটা পর্যন্ত তা বন্ধ রাখার কথা বলছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।   তবে ওয়েবসাইটটি রোববার সকালে খুলে দেওয়ার সব প্রস্তুতি নিয়ে রাখার তথ্য দিয়েছেন কর্মকর্তারা।   বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান শনিবার রাতে বলেন, ‘‘প্রস্তুতি আছে খুলে দেওয়ার, তবে ঝুঁকি এখনো (রাত সাড়ে ৮টা) আছে। বিশ্বব্যপী ঝুঁকি যতক্ষণ থাকবে ততক্ষণ চালু করা হবে না ওয়েবসাইট। আইটি টিম সার্বক্ষণিক সজাগ রয়েছে।   বৈশ্বিক সাইবার হামলার সম্ভ্যাব্য ঝুঁকি এড়াতে বাড়তি সতর্কতা হিসেবে ওয়েবসাইটটি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে বন্ধ রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।   টানা পাঁচ দিন ছুটির পর সপ্তাহের প্রথম দিন রোববার ব্যাংক খোলার সূচির সঙ্গে মিল রেখে ওয়েবসাইট চালুর করার পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।   বিশ্বজুড়ে বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপিতে দুটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর আক্রান্ত হতে পারে, এমন ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার পরামর্শ আসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাইবার নিরাপত্তা সংস্থার তরফে।   দ্রুত নিরাপত্তা আপডেট করতে না পারলে এ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছে সংস্থাটি। এমন ঘোষণার পরই বাংলাদেশ ব্যাংক সতর্কতামূলক পদক্ষেপে পথে হাঁটে।   বৃহস্পতিবার মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন, বৈশ্বিকভাবে সাইবার হামলার ঝুঁকি দেখা দেওয়ায় নিরাপত্তা ইস্যুতে ওয়াইবসাইট ডাউন করে (বন্ধ) রাখা হয়েছে।   পিএইচপি ডেভেলপমেন্ট টিম গত বুধবার ত্রুটি দুটি সংশোধনে জরুরি নিরাপত্তা আপডেট বা প্যাচ প্রকাশের ঘোষণা দেয়।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদন বলছে, এর আগে ত্রুটি দুটি নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়লে ইউরোপের বিভিন্ন সরকারি সংস্থা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ওয়েবসাইট বন্ধ রেখেছে।   বাংলাদেশ ব্যাংক নিজেদের ওয়েবসাইট বন্ধ রাখলেও আর্থিক খাতের অন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কতৃপক্ষ ওয়েবসাইট সচল রেখেছে।   সাইবার হামলার বিষয়ে সতর্কতা সাধারণত জানিয়ে থাকে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান হচ্ছে বিজিডি ই-গভ সার্ট (সিআইআরটি)।   বৃহস্পতিবার সংস্থাটি বলেছিল, পিএইচপি সিস্টমে দুটি ঝুঁকিপূর্ণ দুর্বলতা দেখা দিয়েছে, যাকে ‘পিএইচপি২শেল’ হিসেবে নামকরণ করা হয়েছে। দুর্বলতার সুযোগে অননুমোদিত ব্যক্তিরা পিএইচপি প্রযুক্তি ব্যবহার করে চালানো ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে প্রবেশ করতে পারে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ২৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হলেন বাংলাদেশি ব্যবসায়ী মিয়া সাত্তার

প্রতীকী ছবি

বাংলাদেশে ৬.৩৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে জাপান

সাইবার হামলার ঝুঁকিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ

সংগৃহীত ছবি
মূল্যস্ফীতি ও তেলের দাম বৃদ্ধিতে সোনার বাজারে মন্দা

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ছে। এর প্রভাবে দীর্ঘমেয়াদে সুদের হার উচ্চপর্যায়ে বজায় থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন বিনিয়োগকারীরা।     এতে করে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম ১ শতাংশের বেশি কমেছে।      বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) স্পট মার্কেটে সোনার দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৯৫ দশমিক ৭৫ ডলারে নেমে আসে। আর ডিসেম্বরে সরবরাহের জন্য মার্কিন গোল্ড ফিউচারসের দাম ০ দশমিক ৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১১২ দশমিক ১০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।     ওএএনডএ-এর সিনিয়র বাজার বিশ্লেষক কেলভিন ওং বলেন, ‘তেলের দাম যদি ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকে, তবে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা আরো জোরালো হবে।     এতে দীর্ঘমেয়াদে সুদের হার বেশি থাকার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে, যা স্বর্ণের বাজারে মন্দার অন্যতম কারণ।’   অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে রুপার দাম ৩ দশমিক ৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৬ দশমিক ০৬ ডলারে নেমেছে। এ ছাড়া প্লাটিনামের দাম ২ দশমিক ১ শতাংশ কমে ১ হাজার ৫৯৪ দশমিক ৯৬ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ২ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ১ হাজার ৬১ ডলারে দাঁড়িয়েছে।     এদিকে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ২৬ হাজার ৩৪০ টাকায়।     ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ১৬ হাজার ১৯২ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৮৫ হাজার ৬৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনা বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৫১ হাজার ৬৯০ টাকায়।     এ ছাড়া ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ২৪ টাকায়। ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৮৪৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৩২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৫০৮ টাকায়।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ২২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

১ নভেম্বর থেকে খাবারের ব্যবসায় নিবন্ধন বাধ্যতামূলক

সংগৃহীত ছবি

বিএসইসির ১০৩৫তম সভা: নতুন ব্রোকার লাইসেন্স অনুমোদন ও ক্ষতিপূরণের সিদ্ধান্ত

ছবি: সংগৃহীত

এফডিআই বাড়লেও নতুন বিদেশি বিনিয়োগে ভাটা, ৭৫ শতাংশই মুনাফার পুনর্বিনিয়োগ

0 Comments