স্বাস্থ্য

সংগৃহীত ছবি
যে কারণে নিয়মিত পান করবেন আদা চা

ক্লান্তি দূর কিংবা অতিথি আপ্যায়নে চায়ের জুড়ি নেই। তবে চায়ের সাথে আদা ব্যবহার করতে পারেন। এতে রয়েছে দারুণ উপকারিতা।   হার্ট ভালো রাখে ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে নিয়মিত আদা চা পান করলে হার্ট ভালো থাকে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। রক্ত জমাট বাঁধা নিয়ন্ত্রণ করে, কোলেস্টরল কমিয়ে এবং রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে।   রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে আদায় অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট আছে। এটি রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে ও স্ট্রেস কমায়। আদা পানির বাষ্প নিলে বন্ধ নাক খুলে যায়।    মাথা ঘোরা কমে প্লেনে উঠলে বা পাহাড়ি রাস্তায় যদি মাথা ঘোরার সমস্যা থাকে, তা হলে আদা চা পান করলে সেটা কমে যায়।   ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখে যাদের টাইপ ২ ডায়াবেটিস আছে, তাদের জন্য প্রতিদিন আদা চা পান করার সুফল অনেক। কারণ এই চা এইচবিএ১সি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। মস্তিষ্ক সচল রাখে এবং অ্যালঝাইমারের মতো রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করে। ক্রনিক ইনফ্লেমেশন এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস মানুষকে আরও বুড়ো করে তোলে। আর এটাই পরবর্তীকালে অ্যালঝাইমার নামক অসুখে রূপান্তরিত হয়। আদার মধ্যে উপস্থিত বায়ো-অ্যাকটিভ উপাদান এবং অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট মস্তিষ্কের এই ইনফ্লেমেশন রোধ করে মস্তিষ্ক সচল ও সক্রিয় রাখে।   বদহজমের সমস্যা দূর করে পেটের উপরিভাগে ব্যথা বা অস্বস্তির কারণ হলো বদহজম। আদা চা এই সমস্যা দূর করে এবং তার সঙ্গে কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে সেটাও কম করতে সাহায্য করে। ঋতুস্রাবের সময় পেট ব্যথা কম করে। অনেক মহিলাই ঋতুস্রাবের সময় তলপেটের ব্যথায় ভোগেন। আদা চা হলো এর কার্যকরী সমাধান। আদা চায়ের সঙ্গে মধু মিশিয়ে পান করলে আরাম পাওয়া যায়। তা ছাড়া গরম পানিতে আদা দিয়ে সেই পানি তোয়ালে ভিজিয়ে তলপেটে ধরলেও উপকার পাওয়া যায়।   স্ট্রেস কমায় আধুনিক যুগে আমরা কম-বেশি সকলেই স্ট্রেসের শিকার। আদার কড়া গন্ধ ও স্বাদ স্ট্রেস, টেনশন দুটোই দূর করে। ক্যানসার প্রতিরোধ করে। প্যানক্রিয়াস ও কোলোন ক্যানসারে দারুণ কাজ দেয় আদা চা। নিয়মিত আদা চা পানে এই জাতীয় ক্যানসারের কোষ সহজে ছড়িয়ে পড়ে না।    রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে আদা চায়ে আছে অ্যামাইনো অ্যাসিড, ভিটামিন ও মিনারেল। এগুলো রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে এবং কার্ডিও ভাস্কুলার সমস্যা থাকলে সেটা দূর করে। ধমনীর চারপাশে মেদ জমতেও বাধা দেয় আদা চা। এটি একটি প্রাকৃতিক পেন কিলার। পেন কিলার না খেয়ে আদা চায়ের উপরে ব্যথা উপশমের জন্য ভরসা রাখা যেতে পারে। অস্টিয়ো আরথ্রাইট্রিস, মাথা ব্যথা, ঋতুস্রাবের ব্যথা, গলা ব্যথা এবং পেশীর ব্যথার মতো নানা ব্যথার দূর করে এই চা।    ওজন কমায় আদা চা পান করলে পেট অনেকক্ষণ ভর্তি থাকে, ফলে বাড়তি খাওয়া অনেক কম হয়। এতে ওজন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকে।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৭২৩

দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৩ জনে।   বুধবার (১২ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৭২৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।   এ নিয়ে ২০২৬ সালে ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ৫৫০ জনে। একই সময়ে ৭১২ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। চলতি বছরে মোট ১৯ হাজার ৮৯৪ জন রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন।   বিভাগভিত্তিক হিসাবে গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩২০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ ছাড়া বরিশালে ১০১ জন, চট্টগ্রামে ৮৩ জন, খুলনায় ৯৮ জন, ময়মনসিংহে ৪৫ জন এবং রাজশাহীতে ৬৩ জন ভর্তি হয়েছেন।   মাসভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ২ জন করে, মে মাসে ১ জন, জুনে ১৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন এবং আগস্টে এ পর্যন্ত ৯ জন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
কোলেস্টেরল কমানোর ওষুধ স্ট্যাটিন নিয়ে গবেষকদের সতর্কবার্তা

যাদের বয়স ৭৫ বছরের বেশি, আগে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক হয়নি, তারা স্ট্যাটিন বন্ধ করলেও তিন বছরে মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ে না- এমন তথ্য উঠে এসেছে নতুন এক গবেষণায়। তবে গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ফলাফল দেখে নিজের সিদ্ধান্তে স্ট্যাটিন বন্ধ করা উচিত নয়।   গত ১১ আগস্ট গবেষণাটি দ্য ল্যানসেট হেলদি লংজেভিটি জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।   তথ্য অনুসারে, ফ্রান্সের বোর্দো বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের গবেষকরা গড়ে ৮০ বছর বয়সী ১ হাজার ১৬০ জনকে নিয়ে গবেষণাটি করেন। অংশগ্রহণকারীদের কারও আগে হৃদ্‌রোগ বা স্ট্রোকের ইতিহাস ছিল না। তাদের একদল স্ট্যাটিন চালিয়ে যান, অন্যদল ওষুধটি বন্ধ করেন।   তিন বছর পর দেখা যায়, স্ট্যাটিন বন্ধ করা দলের ৭ দশমিক ২ শতাংশ মারা গেছেন। স্ট্যাটিন চালিয়ে যাওয়া দলের মৃত্যুর হার ছিল ৭ দশমিক ৯ শতাংশ। অর্থাৎ দুই দলের মধ্যে মৃত্যুর হারে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য পাওয়া যায়নি।   তবে স্ট্যাটিন বন্ধ করা ব্যক্তিদের মধ্যে বড় ধরনের হৃদ্‌রোগজনিত সমস্যা কিছুটা বেশি দেখা গেছে। এ দলের ৫ শতাংশের এমন সমস্যা হয়। ওষুধ চালিয়ে যাওয়া দলের ক্ষেত্রে এ হার ছিল ৪ দশমিক ৪ শতাংশ।   হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রেও কিছুটা পার্থক্য দেখা যায়। স্ট্যাটিন বন্ধ করা দলের ২ দশমিক ১ শতাংশের হার্ট অ্যাটাক হয়। অন্যদিকে, ওষুধ চালিয়ে যাওয়া দলের ক্ষেত্রে এ হার ছিল ১ দশমিক ৪ শতাংশ। স্ট্যাটিন বন্ধ করা দলের ১৪ জনের নন-ফ্যাটাল স্ট্রোক হয়, যেখানে ওষুধ চালিয়ে যাওয়া দলের ১২ জনের এমন স্ট্রোক হয়।   তবে গবেষকরা জানান, এসব পার্থক্য পরিসংখ্যানগতভাবে উল্লেখযোগ্য নয়। অর্থাৎ এই গবেষণার ফল থেকে নিশ্চিতভাবে বলা যায় না যে স্ট্যাটিন বন্ধ করলে হৃদ্‌রোগ বা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে।   গবেষণায় আরও দেখা গেছে, স্ট্যাটিন বন্ধ করার পর রক্তে এলডিএল বা ‘খারাপ’ কোলেস্টেরলের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। তিন মাসের মধ্যে স্ট্যাটিন বন্ধ করা ব্যক্তিদের গড় এলডিএল ১১৫ থেকে বেড়ে ১৭১ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটারে পৌঁছায়। যারা ওষুধ চালিয়ে গেছেন, তাদের ক্ষেত্রে এই মাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত ছিল।   স্ট্যাটিন মূলত রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমিয়ে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে ব্যবহার করা হয়। যুক্তরাজ্যে প্রায় ৮০ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক এই ওষুধ গ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে প্রায় ১৫ লাখের বয়স ৭৫ বছরের বেশি।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গবেষণাটি ছোট পরিসরে হওয়ায় এর ফল সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নাও হতে পারে। বিশেষ করে যাদের আগে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক বা অন্য কোনো হৃদ্‌রোগ হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এই গবেষণার ফল প্রযোজ্য নয়।   শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্ডিওলজির অধ্যাপক রবার্ট স্টোরি বলেন, গবেষণার ফল দেখে ৭৫ বছরের বেশি বয়সী অধিকাংশ স্ট্যাটিন ব্যবহারকারীর ওষুধ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।   ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশনের প্রধান বৈজ্ঞানিক ও চিকিৎসা কর্মকর্তা ব্রায়ান উইলিয়ামসও সতর্ক করে বলেছেন, এই গবেষণা স্ট্যাটিনের উপকারিতা শেষ হয়ে গেছে- এটি প্রমাণ করে না। বরং কারও স্ট্যাটিন বন্ধ বা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করেই নেওয়া উচিত।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের লাইসেন্স নবায়নের মেয়াদ দ্বিগুণ করল সরকার

দেশের বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ডেন্টাল ক্লিনিক এবং মেডিকেল চেকআপ সেন্টারগুলোর লাইসেন্স প্রদান ও নবায়নের মেয়াদ ১ বছরের পরিবর্তে বাড়িয়ে ২ বছর করা হয়েছে।   সোমবার (১০ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর পরিচালক ডা. মো. নুরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের কথা জানানো হয়।   স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের বেসরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা-১ শাখার নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। নতুন এই নিয়ম ২০২৬-২০২৭ অর্থবছর থেকে কার্যকর হবে।   নির্দেশনা ও শর্তগুলো- স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জারি করা প্রজ্ঞাপনে লাইসেন্স প্রাপ্তি ও নবায়নের ক্ষেত্রে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট শর্ত মেনে চলার কথা বলা হয়েছে-   ফি জমাদান: ২ বছরের লাইসেন্স ফি এবং ভ্যাট একসাথে সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে HSM ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।   পরিবেশ ছাড়পত্র: নতুন লাইসেন্স গ্রহণের ক্ষেত্রে পরিবেশ অধিদপ্তরের অবস্থানগত ছাড়পত্র বা পরিবেশ ছাড়পত্র আবশ্যিকভাবে নিতে হবে।   নারকোটিক লাইসেন্স: যে সমস্ত প্রতিষ্ঠান নারকোটিক বা মাদকদ্রব্য ব্যবহার করে, নতুন লাইসেন্স পাওয়ার পর তাদের অবশ্যই নারকোটিক লাইসেন্স সংগ্রহ করতে হবে।   নিয়মিত তদারকি: পরিবেশ অধিদপ্তর ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নিজ নিজ দপ্তরের হালনাগাদ লাইসেন্স তদারকি করবে।   এছাড়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য), সিভিল সার্জন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তারা নিয়মিত স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানগুলো পরিদর্শন করবেন। পরিদর্শনে কোনো অনিয়ম বা ব্যত্যয় পাওয়া গেলে লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিল করা হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
মন্ত্রীর নির্দেশে আসা ১২ চিকিৎসকের ৫ জন চলে গেলেন এক মাসের মধ্যেই

রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসলেই দেখা যায় ‘ডাক্তার নেই, কখন আসবে কউ জানে না’, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে। রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ রোগীদের কাছে এ যেন নিত্যদিনের বাস্তবতা।    গত ৭ জুন স্বাস্থ্য অধিদফতরের জারি করা দুটি পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ১২ জন চিকিৎসককে রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতালে পদায়ন করা হয়েছিলো। দীর্ঘদিনের চিকিৎসক সংকট কাটাতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুলের নির্দেশে মন্ত্রণালয়ের এ উদ্যোগে জেলার মানুষের মনে আশা জেগেছিলো—এবার হয়তো হাসপাতালের চিকিৎসাসেবায় কিছুটা হলেও গতি ফিরবে।   তবে সেই আশা টিকে ছিলো মাত্র এক মাস। যোগদানের অল্প সময়ের মধ্যেই সুপারিশের মাধ্যমে বদলি হয়ে অন্যত্র চলে গেছেন পাঁচজন চিকিৎসক। ফলে আবারও চিকিৎসক সংকটে পড়েছে ২৫০ শয্যার রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতাল। গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলোতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় প্রতিদিনই ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা, যার সরাসরি ভুক্তভোগী সাধারণ রোগীরা।   অধিদফতরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে যে ১২ জন চিকিৎসককে পদায়ন করা হয়েছিলো, তাদের মধ্যে ছিলেন মেডিকেল অফিসার, সহকারী সার্জন ও বিভিন্ন বিশেষায়িত বিভাগের চিকিৎসক।   তবে যোগদানের এক মাসের মধ্যেই বদলি হয়ে চলে গেছেন—ডা. মোহাম্মদ ফরহাদ হোসেন, ডা. জাহাঙ্গীর হোসেন, ডা. মো. মেহেদী হাসান, ডা. মো. এনামুল হক এবং ডা. অতীশ দীপংকর। অর্থাৎ নতুন পদায়ন পাওয়া চিকিৎসকদের প্রায় ৪২ শতাংশই অল্প সময়ের মধ্যে হাসপাতাল ছেড়ে চলে গেছেন।   চিকিৎসক মহলের একাধিক সূত্রের দাবি, অল্প সময়ের মধ্যে যারা রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল ছেড়ে গেছেন, তাদের অনেকেই নানাভাবে ওপরের মহলে তদবির ও সুপারিশের মাধ্যমে নিজেদের সুবিধাজনক কর্মস্থলে বদলি বাগিয়ে নিয়েছেন।   চিকিৎসকের সংকট থাকায় সেবা পেতে রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।    হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে পরবর্তীতে আরও একজন মেডিসিন ও একজন কার্ডিওলজির জুনিয়র কনসালটেন্ট পদায়ন করা হয়। তবে কার্ডিওলজি বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. সফিকুল ইসলাম এখনও রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে যোগদান করেননি। ফলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই বিভাগটি কার্যত শূন্যই থেকে গেছে।   হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, সার্জারি, মেডিসিন, শিশু, কার্ডিওলজি, গাইনি, চর্ম ও যৌনরোগ, ফরেনসিক মেডিসিন, অর্থোপেডিক সার্জারি, ইএনটি (নাক-কান-গলা) এবং অ্যানেস্থেসিয়া বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। এ ছাড়া চক্ষু, কার্ডিওলজি ও প্যাথলজি বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্টের পদগুলো খালি থাকায় চিকিৎসাসেবা ভেঙে পড়েছে।   সরেজমিনে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই বহির্বিভাগে রোগীদের দীর্ঘ সারি। চক্ষু বিভাগের চিকিৎসক ডা. অপূর্ব রায়ের কক্ষের সামনে অপেক্ষমাণ রোগীর ভিড় ক্রমেই বাড়ছিলো। তবে তিনি ইনডোরে ভর্তি রোগীদের রাউন্ডে থাকায় বহির্বিভাগে সময়মতো রোগী দেখা শুরু করতে পারেননি। ফলে সকাল থেকে অপেক্ষা করেও সেবা না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়েন অনেকে।   সত্তরোর্ধ্ব মজিবর প্রামাণিক চোখের চিকিৎসার জন্য দূর থেকে হাসপাতালে এলেও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক না থাকায় চিকিৎসা না নিয়েই ক্ষোভ ও হতাশা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। শুধু মজিবর প্রামাণিক নন, জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রতিদিন অসংখ্য রোগী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের আশায় এসে ফিরে যাচ্ছেন। বাধ্য হয়ে অনেকেই দরিদ্রতা সত্ত্বেও বেশি খরচে ফরিদপুর বা ঢাকায় চিকিৎসা নিতে ছুটছেন।   একাধিক চিকিৎসক বলেন, রোগীর তুলনায় আমাদের চিকিৎসকদের সংখ্যা খুবই কম। প্রচণ্ড চাপের মুখে একেকজন চিকিৎসককে একাধারে বহির্বিভাগ, ভর্তি রোগী ও জরুরি বিভাগের দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে। অতিরিক্ত ডিউটি করেও একজন রোগীকে দুই-তিন মিনিটের বেশি সময় দেওয়া সম্ভব হয় না।   সার্বিক বিষয়ে রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শেখ মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান বলেন, মন্ত্রীর নির্দেশে আমরা ১২ জন চিকিৎসক পেয়েছিলাম। কিন্তু যোগদানের কিছুদিনের মধ্যেই পাঁচজন বদলি হয়ে চলে যান। পরে অধিদফতর থেকে আরও দুজন চিকিৎসক পদায়ন করা হলেও এখন পর্যন্ত একজন যোগদান করেননি। বিষয়টি লিখিতভাবে স্বাস্থ্য অধিদফতরকে জানানো হয়েছে।   কর্মকর্তাদের বদলির কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কোন কারণে তারা হঠাৎ বদলি নিয়ে চলে গেছেন, তা আমার জানা নেই। নিশ্চয়ই তারা বদলির আবেদনে নিজ নিজ কারণ উল্লেখ করেছেন।’   স্বাস্থ্যাকর্মীদের মতে, শুধু কাগজে-কলমে চিকিৎসক পদায়ন করলেই রাজবাড়ীর মতো জেলাগুলোর সংকট মিটবে না। স্থায়ীভাবে চিকিৎসক ধরে রাখার কঠোর ও কার্যকর নীতিমালা না থাকলে এ চক্র থেকে মুক্তি মিলবে না, আর দিন শেষে সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থাও হারিয়ে যাবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ধূমপান ও বায়ুদূষণের কারণে রক্তে মাইক্রোপ্লাস্টিকের মাত্রা বাড়তে পারে : গবেষণা

ধূমপান ও বায়ুদূষণের কারণে মানুষের রক্তে মাইক্রোপ্লাস্টিকের মাত্রা বাড়তে পারে। গবেষকরা বলছেন, ধূমপান ও দূষিত বাতাসের সংস্পর্শে থাকা মানুষের শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ন্যানোপ্লাস্টিক প্রবেশের সম্ভাবনা বেশি হতে পারে। গবেষণায় রক্তে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতির সঙ্গে হার্ট অ্যাটাকেরও একটি শক্তিশালী সম্পর্ক পাওয়া গেছে।   ইতালির রোমের সাপিয়েঞ্জা ইউনিভার্সিটির সান্ত'আন্দ্রেয়া হাসপাতালের গবেষক পাসকুয়ালে পাওলিসোর নেতৃত্বে গবেষণাটি পরিচালিত হয়। গবেষকরা হৃদ্‌যন্ত্রে রক্ত সরবরাহকারী রক্তনালি থেকে ৬১ জন রোগীর রক্তের নমুনা সংগ্রহ করেন। তাদের মধ্যে কেউ হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত ছিলেন, কেউ হার্ট অ্যাটাক ছাড়াই হৃদ্‌রোগে ভুগছিলেন এবং কিছু রোগীর রক্তনালি ছিল সুস্থ।   গবেষণায় দেখা যায়, হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত রোগীদের ৮৪ শতাংশের রক্তে মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ন্যানোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। হৃদ্‌রোগ থাকলেও হার্ট অ্যাটাক হয়নি, এমন রোগীদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ৪০ শতাংশ। আর সুস্থ রক্তনালির রোগীদের ৩২ শতাংশের রক্তে এসব কণা পাওয়া যায়।   তবে গবেষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর একটি ছিল ধূমপান ও বায়ুদূষণের সঙ্গে মাইক্রোপ্লাস্টিকের সম্পর্ক। গবেষকদের হিসাবে, ধূমপায়ীদের রক্তে উচ্চ মাত্রায় মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকার সম্ভাবনা অধূমপায়ীদের তুলনায় প্রায় ছয় গুণ বেশি। নিয়মিত বেশি মাত্রার বায়ুদূষণের সংস্পর্শে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে।   ধূমপান ও বায়ুদূষণ দুই ধরনের ঝুঁকির মধ্যে থাকা প্রত্যেক ব্যক্তির রক্তে উচ্চ মাত্রার মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। বিপরীতে, এসব ঝুঁকির কোনোটির সংস্পর্শে না থাকা ব্যক্তিদের মাত্র ১২ দশমিক ৫ শতাংশের রক্তে উচ্চ মাত্রার মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। গবেষকদের ধারণা, ধূমপান ও বায়ুদূষণের কারণে ফুসফুসের মাধ্যমে মাইক্রোপ্লাস্টিক ও আরও ক্ষুদ্র ন্যানোপ্লাস্টিক রক্তপ্রবাহে প্রবেশের সুযোগ বাড়তে পারে। গবেষণার প্রধান লেখক পাসকুয়ালে পাওলিসো বলেন, ধূমপান ও বায়ুদূষণ দুটিই ফুসফুসের মাধ্যমে এসব কণা শরীরে প্রবেশের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে।   গবেষণার জ্যেষ্ঠ লেখক এমানুয়েলে বারবাতো অবশ্য সতর্ক করে বলেছেন, এই গবেষণা মাইক্রোপ্লাস্টিক সরাসরি হার্ট অ্যাটাক ঘটায় এমন প্রমাণ দেয় না। তবে পরিবেশগত দূষণ, রক্তে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি এবং হৃদ্‌রোগের মধ্যে শক্তিশালী সম্পর্কের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।   ১৫ জুলাই ইউরোপিয়ান হার্ট জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাটিতে মাত্র ৬১ জনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাই মাইক্রোপ্লাস্টিক কীভাবে শরীরে প্রবেশ করে এবং হৃদ্‌রোগের ঝুঁকিতে এর প্রকৃত ভূমিকা কী, তা নিশ্চিত করতে আরও বড় পরিসরে গবেষণা প্রয়োজন। সূত্র: ইউএস নিউজ

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ০৯, ২০২৬
হামে আক্রান্ত শিশু ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লোগো।
হাম-উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ৪ শিশুর

সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হাম উপসর্গে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে দুজন এবং উপসর্গে দুজন মারা গেছেন। একই সময়ে ৬৭৭ জনের শরীরে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে।   শনিবার (৮ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।   এতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৯৯ জন। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত দেশে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৪০ জন। একই সময়ে হাম উপসর্গে শনাক্ত হয়েছেন মোট ১ লাখ ৩৫ হাজার ৩৩২ জন।   গত ২৪ ঘণ্টায় উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬৭৭ জন। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৪৪৪ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ১৩ হাজার ২০০ জন।   স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে দুজনের মৃত্যুসহ ১৫ মার্চ থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত উপসর্গে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৬৯ জন।   অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে দুজনের মৃত্যুসহ মোট ৯৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
‘স্বাস্থ্য ভালো’ দেখাতে ঋণ পুনঃতফসিলে ঝুঁকছে ব্যাংক

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশেষ সুবিধার সুযোগ নিয়ে ঋণ পুনঃতফসিলের পরিমাণ বাড়ছে ব্যাংকগুলোতে। বছর কয়েক ধরে এ প্রবণতা চলতে থাকার মধ্যে ২০২৫ সালে এক বছরের ব্যবধানে পুনঃতফসিল বেড়েছে ৮৪ হাজার ৮২৪ কোটি টাকার বেশি বা ৯৯ শতাংশ।   খেলাপি ঋণের বোঝা বাড়তে থাকার মধ্যে আর্থিক প্রতিবেদনের স্বাস্থ্য ভালো দেখাতে গ্রাহকের সঙ্গে সম্পর্কের ভিত্তিতে ব্যাংকগুলোর এমন কৌশল নেওয়ার কথা বলছেন ব্যাংকার ও বিশ্লেষকরা।   ব্যাংক খাতে পুনঃতফসিল করা ঋণের তথ্য বলছে, গত ৫ বছরে পুনঃতফসিল করা ঋণের হার বেড়েছে প্রায় সাড়ে ৫ গুণ। ২০২৫ সালে খেলাপি হওয়ার আগে পুনঃতফসিল করা হয়েছে ৬০ দশমিক ১৩ শতাংশ এবং খেলাপির পরে পুনঃতফসিল করা হয়েছে ৩৯ দশমিক ৮৭ শতাংশ ঋণ।   বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ ‘ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ১ লাখ ৭০ হাজার ৫০৩ কোটি টাকার ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে যা বেড়েছে ৮৪ হাজার ৮২৪ কোটি টাকার বেশি বা ৯৯ শতাংশ। ২০২৪ সালে পুনঃতফসিল করা ঋণের পরিমাণ ছিল ৮৫ হাজার ৬৭৯ কোটি টাকা।   বাংলাদেশ ব্যাংক সময়ে সময়ে বিশেষ বিশেষ পরিস্থিতি ও কারণে খেলাপি ঋণকে নিয়মিত করার সুবিধা দিতে বিশেষ পুনঃতফসিলের সুযোগ দেয়। এর বাইরে সাধারণ নীতিমালা মেনেও ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ রয়েছে।   বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক মোস্তফা কে মুজেরি বলেন, এখন সেই সুযোগের ‘অপব্যবহার’ করা হচ্ছে। বারবার পুনঃতফসিল করা মানেই বিশেষ সুযোগটি জায়েজ হয়ে যায় না।   খেলাপি ঋণের পরিমাণ যখন বেড়ে যায় তখনই মূলত পুনঃতফসিলে যায় ব্যাংক।”   এক বছরে বিশাল অঙ্কের ঋণ পুনঃতফসিলের পরও ২০২৫ সালে ব্যাংক খাতে নতুন ঋণ খেলাপি হয়েছে ২ লাখ ১১ হাজার ৪৫২ কোটি টাকার বেশি।   খেলাপি ঋণ বেশি হলে ব্যাংকের মুনাফা থেকে সেই অনুপাতে বেশি অর্থ নিরাপত্তা সঞ্চিতি (প্রভিশন) হিসেবে সংরক্ষণ করতে হয়। এতে ব্যাংকের মুনাফা কমে যায়। এজন্য পুনঃতফশিলের মাধ্যমে ব্যাংকগুলো খেলাপির পরিমাণ কম দেখানোর চেষ্টা করে বলে ব্যাংকাররা তুলে ধরেন।   নিয়মিত ঋণের বিপরীতে শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশি এবং খেলাপি ঋণের বিপরীতে মানভেদে শতভাগ পর্যন্ত নিরাপত্তা সঞ্চিতি রাখতে হয়।   বাংলাদেশ ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদন অনুযায়ী, সার্বিকভাবে ১০০ টাকা ঋণের মধ্যে ৩০ শতাংশের বেশি খেলাপি হয়ে যাচ্ছে। এরমধ্যে বড় ঋণ গ্রহীতার ঋণ ৪০ শতাংশ।   ব্যাংক খাতের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে বারবার পুনঃতফসিল সুবিধা দেওয়া বন্ধ করার পরামর্শ দিয়েছেন মোস্তফা কে মুজেরি, যিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদের দায়িত্বও পালন করেছেন।   তিনি বলেন, ব্যাংকগুলো এ নীতিমালার যথেচ্ছ ব্যবহার করছে কি না, তা মূল্যায়ন করতে হবে বাংলাদেশ ব্যাংকে। বারবার পুনঃতফসিল করা মানেই হচ্ছে ব্যাংকের আর্থিক স্বাস্থ্য এক সময়ে আরো দুর্বল হয়ে পড়বে।   গত ডিসেম্বরে ব্যাংক খাতে ঋণ স্থিতি ছিল ১৭ লাখ ৭৪ হাজার ৮৬২ কোটি টাকা। এর মধ্যে পুনঃতফসিল করা ঋণের স্থিতি ছিল ৪ লাখ ৪৬ হাজার ৮৯৪ কোটি টাকা বা ২৫ দশমিক ১৪ শতাংশ।   পুনঃতফসিল করা ঋণের এ অঙ্ক গত ডিসেম্বরের মোট খেলাপি হওয়া ঋণের ৮০ শতাংশ। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে মোট খেলাপির পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকা।   ব্যাংকাররা বলছেন, পুনঃতফসিল করার সুযোগ না দিলে ডিসেম্বর শেষেই মোট খেলাপির অঙ্ক বেড়ে ১০ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেত।   ব্যাংকের নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক চেয়ারম্যান সেলিম আর এফ হোসেন বলেন, প্রভিশন রাখার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শক্ত পদক্ষেপের কারণে ‘প্রভিশন শর্টফল’ থেকে বাঁচতে ব্যাংকগুলো পুনঃতফসিলে বেশি আগ্রহী উঠেছে।   বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, ‘‘খেলাপি ঋণের পুরো তথ্য এখনো উঠে আসছে না। নানা কারণেই সেটি করা হচ্ছে না। ব্যাংক চায় তার ব্যালেন্স শিট (আর্থিক প্রতিবেদন) ভালো দেখাতে। তাই পুনঃতফসিলের প্রস্তাব পেলেই আগ্রহী হয়ে ওঠে। এখন দেখা দরকার কতটা যৌক্তিকভাবে এটা বিচার করা হল।’’   এভাবে পুনঃতফসিলের হার বাড়তে থাকলে ভবিষ্যতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা তার। বলেন, “এগুলো এক সময়ে খেলাপি হয়েই যাবে। কেন আমরা আগেই দেখাব না। ব্যাংকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ বিষয়ে আরো শক্ত হতে হবে। কেন পুনঃতফসিল করা হচ্ছে তার প্রকৃত ব্যাখ্যা থাকা উচিত।’’   ৫ বছরে পুনঃতফসিল বেড়েছে সাড়ে ৫ গুণ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে পুনঃতফসিল করা হয় ২৬ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। কোভিডের মধ্যে বিশেষ সুযোগ থাকার কারণে তা ২০২২ সালে এক লাফে বেড়ে হয় ৬৩ হাজার ৭১৯ কোটি টাকা এবং ২০২৩ সালে ৯১ হাজার ২২১ কোটি টাকা।   পরের দুই বছরও এ ধারা বজায় থাকে; ২০২৪ সালে কিছু কমে ৮৫ হাজার ৬৭৯ কোটি টাকা হলেও ২০২৫ সালে পুনঃতফসিল করা হয় ১ লাখ ৭০ হাজার ৫০৩ কোটি টাকার ঋণ।   ২০২১ সাল শেষে ব্যাংকিং খাতে পুনঃতফসিল করা ঋণের স্থিতি ছিল ১ লাখ ৬৮ হাজার ৪০১ কোটি টাকা। ২০২৪ সালে তা বেড়ে হয়েছে ৩ লাখ ৪৮ হাজার ৪৬১ কোটি টাকা। এ বছরে পুনঃতফসিল করা ঋণের স্থিতি বাড়ে ৫৯ হাজার ৯২০ কোটি টাকা বা ২০ দশমিক ৭৬ শতাংশ।   সবশেষ ২০২৫ সাল শেষে পুনঃতফসিল করা ঋণের স্থিতি ৪ লাখ ৪৬ হাজার ৮৯৪ কোটি টাকায় উন্নীত হয়।   বড় ঋণে পুনঃতফসিল বেশি পুনঃতফসিল করা ঋণের মধ্যে প্রায় শিল্প ঋণের অংশই বেশি; ২৯ দশমিক ৫৬ শতাংশ। সাধারণ বড় ঋণ গ্রহীতারা এমন ঋণ নিয়ে থাকেন।   টাকার অঙ্কে শিল্প ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৩২ হাজার ১০২ কোটি টাকা। এর মধ্যে বড় বা করপোরেট ঋণ ৭২ দশমিক ৩৮ শতাংশ বা ৯৫ হাজার ৬১৫ কোটি টাকা। মধ্যম মানের শিল্প খাতে ৮ দশমিক ৭৮ শতাংশ, ছোট আকারের ৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ, ক্ষুদ্র ও কুটির খাতের ১ দশমিক ৬ শতাংশ ও অন্যান্য খাতের ১০ দশমিক ৪৯ শতাংশ।   এছাড়া তৈরি পোশাক খাতের ১৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ, চলতি মূলধনের ১৩ শতাংশ, আমদানি ঋণের ১০ দশমিক ১৯ শতাংশ, বাণিজ্যিক ঋণের ৯ দশমিক ৯৬ শতাংশ, নির্মাণ খাতের ৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ এবং কৃষি ঋণের ৩ শতাংশ পুনঃতফসিল করা হয়েছে।   অন্য খাতগুলোর মধ্যে জাহাজ ভাঙা খাতের ২ দশমিক ৩৯ শতাংশ, পরিবহন ও যোগাযোগ খাতের শূন্য দশমিক ৬৯ শতাংশ, রপ্তানি খাতের শূন্য দশমিক ৬৮ শতাংশ, ভোক্তা ঋণের শূন্য দশমিক ২৬ শতাংশ এবং অন্যান্য ঋণের মধ্যে পুনঃতফসিল করার হার ৬ দশমিক ১৭ শতাংশ।   পুনঃতফসিলে আগ্রহ কেন শুধু যে খেলাপি হলেই ঋণ পুনঃতফসিল করা যাবে, এরকম কোনো বিধিনিষেধ নেই। নিয়মিত ঋণও পুনঃতফসিল করার সুযোগ রাখা হয়েছে ২০২২ সালের জুলাই মাসে জারি করা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক সার্কুলারে।   পুনঃতফসিল করার ক্ষেত্রে মেয়াদী, চলমান ও তলবী ঋণের বেলায় মোট বকেয়া ঋণের আড়াই থেকে সাড়ে ৪ শতাংশ নগদ টাকায় ডাউন পেমেন্ট দিতে হয়।   অন্যদিকে নিয়মিত ঋণের বেলায় কোনো ডাউনপেমেন্ট দিতে হয় না। আবেদনের পরই ব্যাংক চাইলে তা মঞ্চুর করতে পারে। মেয়াদ বাড়িয়ে দিয়ে ঋণের অঙ্ক বা সীমা বাড়ানোরও সুযোগ থাকে সেখানে।   এ কারণে খেলাপি হওয়ার ঝুঁকি দেখা দিলেই ব্যাংক ও গ্রাহক নিজ নিজ স্বার্থে ঋণ পুনঃতফসিল করতে এগিয়ে আসতে পারে।   এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও ইউনিয়ন ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়ুন কবির বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘‘অনেক সময় সময়মত গ্যাস, বিদ্যুৎ না পাওয়ায় নির্দিষ্ট সময়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালু করা সম্ভব হয় না। তাদের রিলিফ দিতেই এমন সুযোগ।”   এ সুযোগের অপব্যবহারের সুযোগ নিয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, “সবসময়ই কিছু গ্রাহক অ্যাডভ্যানটেজ নিতে চাইবে। এখন ব্যাংক কাকে দেবে, কাকে দিলে ভালো হবে, কোন ক্ষেত্রে ব্যাংকের কোনো সমস্যা হবে না, সেটা ব্যাংকের বুঝে নিতে হবে। অনেক সময় প্রভাব বিস্তার করা হয়। সেটাও কতটুকু নেওয়া যায় দেখতে হবে।’’   নীতি সুবিধার যথেচ্ছ ব্যবহার হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “অনেক সময়ে দেখা গেছে, মেয়াদী ঋণ পাঁচ বছরের জন্য নিয়েছে, কিন্তু তিন বছর পরে ব্যবসার আয় হয়ত আসছে না, কিংবা তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী বা সময় মত বিদ্যুৎ, জ্বালানি বা অন্য কোনো কারণে ব্যবসা শুরু করা করা যায়নি।   “এখন ঋণের মেয়াদ যদি না বাড়ায়, তাহলে এত টাকা দিতে পারবে না আগেই বুঝতে পারেন অনেকে। খেলাপি হওয়ার দায় থেকে মুক্তি পেতে তখন মেয়াদী ঋণ পুনঃতফসিল বা পনর্গঠনের সুযোগটি নিতে চান।”   ঝুঁকিতে থাকা এসব ঋণ পুনঃতফসিল করা হলেও ভবিষ্যতে অর্থপরিশোধে ব্যর্থ হলে খেলাপির পরিমাণ আরো বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে।   ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু আহমেদ মনে করেন, এ সমস্যার সমাধানের উপায় হতে পারে উদ্যোক্তাদের বন্ড মার্কেট বা পুঁজিবাজার থেকে অর্থ তুলতে উৎসাহিত করা।   বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “ব্যাংক সর্বোচ্চ ৫ বছরের জন্য স্বল্প সুদে ঋণ দেবে। এর বেশি সময়ের জন্য কোনোভাবেই না। তাদেরকে (ব্যবসায়ীদের) পুঁজিবাজারে পাঠাতে হবে। এটাই নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কাজ। যে যে সুবিধা দিলে ব্যবসায়ীরা পুঁজিবাজারে যাবে, তা দিতে হবে।   ‘‘যতই মিষ্টি কথা বলি, এমনি এমনি বললে কেউ আসবে না। তাদের আনতে হবে, বাধ্য করতে হবে। বিনিয়োগকারীরা তো বসে আছে টাকা দিতে। এটা না করলে খেলাপী ঋণ কোনোভাবে কমবে না।”

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
হামের উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ৩ জনের

সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ২১৮ জন শিশু।   শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ৩ শিশুর মৃত্যু হলেও নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি।   গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও উপসর্গে মোট ৮৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গে ৭৬৪ জন ও হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।   এদিকে সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৮৫ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি একই সময়ে আরও ৭৩৩ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৩৩ হাজার ৬৩৮ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে এই সময়ে মোট ১৬ হাজার ৭৪০ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
হামের উপসর্গে আরও ৬ শিশুর প্রাণহানি, নতুন শনাক্ত ৮৫

দেশে হামের প্রকোপে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। দেশে গত এক দিনে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নির্ধারিত এই সময়ের মধ্যে আরও ৮৫ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো বিবৃতিতে জানানো হয়, তাদের মধ্যে চারজন ঢাকা বিভাগে মারা গেছে। বাকি দুজন সিলেট বিভাগের। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারাদেশে হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ গেছে ৭৬৪ জনের। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত ৮৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩৩৪ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এর পরেই আছে সিলেট বিভাগ, সেখানে মারা গেছে ১১৭ জন। এছাড়া রাজশাহীতে ৯১, চট্টগ্রামে ৬১, বরিশালে ৪৫, ময়মনসিংহে ৭১, খুলনায় ৩২ ও রংপুর বিভাগে ১৩ জন মারা গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ৮টা থেকে ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৭৩৩ জন দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে গেছে। তাদের মধ্যে ভর্তি হয়েছে ৬৪৫ জন। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ২২৭ জন, রাজশাহীতে ১৬, সিলেটে ৭৪, চট্টগ্রামে ২১১, বরিশালে ৫৬, ময়মনসিংহে ৩৩, খুলনায় ১৮, রংপুরে ১০ জন ভর্তি হয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে গেছে এক লাখ ৩৩ হাজার ৬৩৮ জন। তাদের মধ্যে এক লাখ ১৫ হাজার ৮৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিয়েছে। সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে এক লাখ ১১ হাজার ৫৮৭ জন। গত এক দিনে নমুনা পরীক্ষার যেসব ফল এসেছে, তাতে আরও ৮৫ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। আর ১৫ মার্চের পর থেকে ১৬ হাজার ৭৪০ জনের নমুনা পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হয়েছে। যদিও হামের উপসর্গ নিয়ে যারা হাসপাতালে যাচ্ছে বা যাদের মৃত্যু হচ্ছে, তাদের সবার নমুনা পরীক্ষা করা হয় না। ফলে নমুনা পরীক্ষায় শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দিয়ে হামের বিস্তারের প্রকৃত চিত্র পাওয়া সম্ভব নয়।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ০৬, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
প্রতিদিনের ত্বকের যত্নে মধুর ফেস প্যাক

দুধ-মধুর ফেসপ্যাক যা ত্বকের ময়েশ্চারাইজার থেকে শুরু করে পিএইচ ব্যালেন্স বজায় রাখার জন্য দারুণ কার্যকর। দুধ ও মধুর এন্টিএজিং  ফর্মুলা বয়সের ছাপ কমায়। কথিত আছে, মিসরের রানি ক্লিওপেট্রা নিজের ত্বককে তরুণ, উজ্জ্বল এবং পরিষ্কার রাখতে নিয়মিত দুধ দিয়ে গোসল করতেন। রইল দুধ ও মধুর তৈরি ফেসপ্যাকের কয়েকটি উপকারিতা।   ত্বকের প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার টক দুধে রয়েছে ল্যাকটিক অ্যাসিড, যা আলফা-হাইড্রক্সি অ্যাসিড হিসেবে পরিচিত। এটি চমৎকার প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার হিসেবে কাজ করে। আর মধুতে থাকা ইমোলিয়েন্ট এবং হিউমেক্ট্যান্ট ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে ভীষণ কার্যকরী। যা আপনার ত্বককে রাখবে নরম-কোমল। এ কারণেই ত্বকের যত্নে প্রস্তুতকৃত পণ্যে দুধ ও মধুর ব্যবহার করা হয়।   দুধ ত্বককে রাখে দৃঢ় এবং মসৃণ এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ১২ শতাংশ ট্রপিক্যাল ল্যাকটিক অ্যাসিড ত্বকের সূক্ষ্ম রেখা এবং বলিরেখা কমিয়ে দেয়। ফলে ত্বক দেখায় তরুণ। এটি ত্বককে দৃঢ় এবং মসৃণ রাখতে সাহায্য করে। এ ছাড়াও দুধে হালকা এক্সফোলিয়েটিংয়ের প্রভাব বিদ্যমান। যা মুখে প্রয়োগে একই ফল দেয়।   মধু ত্বকের পিএইচ বজায় রাখে ত্বকের ব্রেকআউট এবং ফুসকুড়ি প্রতিরোধের পাশাপাশি ত্বকের পিএইচ ব্যালেন্স বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ত্বকের পিএইচ ভারসাম্যহীনতা ত্বকের প্রাকৃতিক গ্রোথে বাধা সৃষ্টি করে। ফলে ত্বকে জ্বালাপোড়া হতে পারে। মধু ত্বকের পিএইচ মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।   জেনে নিন উপকারিতা মধুতে রয়েছে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল এবং মিথাইলগ্লাইক্সাল উপাদান, যা ত্বকের ক্ষতগুলোকে কার্যকরভাবে নিরাময়ে সাহায্য করে। এটি ত্বকের পোড়া দাগ, ক্ষত এবং অন্যান্য সমস্যা যেমন- সোরিয়াসিস, খুশকি, ফুসকুড়ি, সেবোরিয়া এবং টিনিয়া নিরাময়ের জন্যও উপযুক্ত। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ব্রণের ক্ষতগুলোতে মধু প্রয়োগ করলে দ্রুত নিরাময় হতে পারে। মধু ত্বকের পোড়, জেদি ব্রণের দাগ এবং অরিয়াস ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধে দারুণ কাজ করে।   দুধ ও মধুর কয়েকটি ফেসপ্যাক ১। কাঁচা দুধ, লেবুর রস এবং মধুর প্যাক। এই প্যাকটি অন্তত ১৫ মিনিট মুখে ও ঘাড়ে লাগাতে হবে। এরপর কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ও ঘাড় ধুয়ে নিতে হবে। সপ্তাহে এক দিন ব্যবহারই যথেষ্ট।   ২। মধু, হলুদ বাটা এবং দুধ নিয়ে ভালো করে মেশান। মিশ্রণটি ২০ মিনিট রেখে, ঘষে ধুয়ে নিন। সপ্তাহে তিন দিন ব্যবহারে ত্বক নরম হবে, সঙ্গে মধু ও হলুদের গুণে ত্বক উজ্জ্বল হবে।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ০৫, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
ক্যানোলা তেল কি ত্বকের জন্য উপকারী? জানুন বিশেষজ্ঞের মত

প্রাচীনকাল থেকে ‘তেল’ ধীরে ধীরে আমাদের রূপকাহনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। দৈনন্দিন ত্বকের যত্ন থেকে শুরু করে গোসল শেষে শরীর ও চুলের যত্নের প্রসাধন; যেমন- ময়েশ্চারাইজার, ক্লিনজার, মাস্ক, কন্ডিশনার, লোশন এবং ক্রিমের উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে এগুলো কি সত্যিই ত্বকের জন্য নিরাপদ?    উত্তর হলো- হ্যাঁ, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ভালো। তবে সব তেল কিন্তু সমানভাবে কার্যকর নয়। তাহলে ক্যানোলা তেলের ক্ষেত্রেও কি একই কথা বলা যায়?   ক্যানোলা তেল কী? এটি একটি উদ্ভিদভিত্তিক লিপিড, যা ক্যানোলা বীজ থেকে তৈরি করা হয়। ডার্মাটোলজিস্ট ডা. কুং বলেন, ‘কিছু দেশে ‘রেপসিড তেল’ শব্দটি শৈল্পিক (রং-তুলি) কাজে ব্যবহৃত তেলের ক্ষেত্রে বলা হয়, তবে ‘ক্যানোলা তেল’ মূলত ভোজ্য তেল। এর পুষ্টি ও শক্তিশালী ফর্মুলা চুল এবং ত্বকের জন্য বেশ ভালো। তাই প্রসাধনীতে এটি ব্যবহৃত হয়। অন্যান্য তেলের তুলনায় ক্যানোলা তেল তুলনামূলক নতুন। ডার্মাটোলজিস্ট ডা. কুং বলেন, ১৯৭৯ সালে কানাডায় রেপসিড গাছের জেনেটিক্যালি মডিফায়েড সংস্করণ, ক্যানোলা তেল নামে পরিচিত। এটি বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম উদ্ভিজ্জ তেলের উৎস। এমনকি ক্যানোলা তেল ভোজ্য তেল হিসেবে দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রোটিনের উৎস। ক্যানোলা তেলের উপকারিতা ডার্মাটোলজিস্ট ডা. কুং বলেন, ‘বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত যে, এটি ট্রান্সএপিডার্মাল ওয়াটার লস হ্রাস করে ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। এ ছাড়াও ক্যানোলা তেলে ওলেইক অ্যাসিড ও লিনোলেইক অ্যাসিডের অনুপাত ২:১, যা প্রায় স্বাস্থ্যকর ত্বকের প্রাকৃতিক অনুপাতে মেলে। এ ছাড়া রেপসিড তেল প্রোটিন, ফিনলিক যৌগ, লিপিড এবং ভিটামিন ই সমৃদ্ধ, যা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি এবং অ্যান্টি-রিঙ্কলে কার্যকরী। ডার্মাটোলজিস্ট ডা. লো জারফো বলেন, ‘এই তেল প্রয়োজনীয় ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন কে, সি, ই এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ হওয়ায় ত্বকের জন্য অনেক উপকারী। ১। ক্যানোলা তেল ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করে এবং এর শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। ২। ভিটামিন ‘ই’ এবং ‘কে’ ব্রণ ও বার্ধক্যজনিত সমস্যা (যেমন- লাইন এবং রিঙ্কল) কমাতে সাহায্য করে। ৩। ক্যানোলা তেলে থাকা ভিটামিন ‘সি’ ত্বকের হাইপারপিগমেন্টেশন ও দাগ কমাতে সাহায্য করে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়। এছাড়াও ভিটামিন ‘ই’ ত্বককে ফ্রি র‌্যাডিক্যাল ক্ষতি থেকে সুরক্ষা দিতে পারে, যা ত্বককে সুস্থ, উজ্জ্বল এবং তারুণ্যদীপ্ত রাখতে সাহায্য করে। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দুই ডার্মাটোলজিস্টই একমত পোষণ করে বলেন, ব্রণপ্রবণ ত্বকে ক্যানোলা তেলযুক্ত পণ্য ব্যবহারে সতর্ক হওয়া উচিত। ডা. লো জারফো বলেন, ‘ক্যানোলা তেলের কোমেডোজেনিক রেটিং ৪।’ এই রেটিংয়ের অর্থ- কোনো তেল কতটা ছিদ্র বন্ধ করতে পারে তার পরিমাপ। যদিও ক্যানোলা তেলে ত্বকের জন্য উপকারী উপাদানও রয়েছে। তবে এটি ছিদ্র বন্ধ করে দিতে পারে, যা ব্রণ আরও খারাপ করতে পারে। তাই ব্রণপ্রবণ ব্যক্তিদের এটি এড়িয়ে চলা ভালো। ক্যানোলা তেলের ব্যবহার যেহেতু ক্যানোলা তেল ত্বক ও চুলের জন্য উপকারী, তাই এটি রূপ রুটিনে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন। যদিও এটি রোমকূপের ছিদ্র বন্ধ করতে পারে! তাই ক্যানোলা তেল সরাসরি ত্বকে লাগানোর পরিবর্তে প্রসাধনী হিসেবে ব্যবহার করুন। যেসব প্রসাধনীর ফর্মুলায় ‘ক্যানোলা তেল’ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
মাথা-ঘাড়ে ক্যানসারের ইঙ্গিত হতে পারে যে ৩ লক্ষণ

ক্যানসার নামটির সাথেই মিশে আছে এক অজানা আতঙ্ক। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নতি আমাদের জানাচ্ছে যে, অধিকাংশ ক্যানসারই প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে তা নিরাময় সম্ভব। বিশেষ করে মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসারের ক্ষেত্রে শুরুতেই কিছু দৃশ্যমান লক্ষণ দেখা দেয়, যা আমরা অনেক সময় অবহেলা করি। সম্প্রতি হিন্দুস্তান টাইমস-এর সাথে এক সাক্ষাৎকারে প্রখ্যাত সার্জিক্যাল অনকোলজিস্ট ডা. মনদীপ সিং মালহোত্রা মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসারের এমন কিছু প্রাথমিক সতর্কবার্তা নিয়ে আলোচনা করেছেন যা আমাদের জীবন বাঁচাতে পারে। তিনি জানান, অনেক ক্ষেত্রে এই ক্যানসারের লক্ষণগুলো এতই মৃদু হয় যে সাধারণ মানুষ সেগুলোকে গুরুত্বহীন মনে করে চিকিৎসকের কাছে যেতে দেরি করেন। অথচ শুরুতেই রোগ নির্ণয় করা গেলে এই ধরনের ক্যানসার সম্পূর্ণ নিরাময় করা সম্ভব। নিচে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী সেই ৩টি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণের বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:   ১. দীর্ঘস্থায়ী মুখের ঘা মুখের ঘা বা আলসার খুব সাধারণ একটি সমস্যা। পুষ্টির অভাব, অ্যাসিডিটি বা দাঁতের সমস্যার কারণে এটি হতে পারে এবং সাধারণত সঠিক চিকিৎসায় সেরে যায়। তবে ডা. মালহোত্রার মতে, যদি কোনো ঘা উপযুক্ত চিকিৎসার পরও ২ থেকে ৩ সপ্তাহের মধ্যে না সারে, তবে তা চিন্তার বিষয়। এই ধরনের স্থায়ী আলসার ক্যানসার-পূর্ব অবস্থা বা প্রাথমিক পর্যায়ের ওরাল ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে, তাই দ্রুত টিস্যু বায়োপসি করানো প্রয়োজন।   ২. গলার স্বরের পরিবর্তন বা খসখসে ভাব   ঠাণ্ডা লাগলে বা সংক্রমণের কারণে সাময়িকভাবে গলার স্বর বদলে যেতে পারে। কিন্তু যদি গলার স্বরের এই কর্কশ বা খসখসে ভাব দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে সতর্ক হতে হবে। বিশেষ করে যারা ধূমপান বা তামাক সেবন করেন, তাদের ক্ষেত্রে এই লক্ষণটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা উচিত। ল্যারিঙ্গোস্কোপিক পরীক্ষার মাধ্যমে কণ্ঠনালি বা গলার ক্যানসার প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে চিকিৎসার ফলাফল খুব ভালো হয়।   ৩. ঘাড়ের কাছে ফোলা ভাব বা চাকা   ঘাড়ে কোনো পিণ্ড বা চাকা অনুভব করা এই ক্যানসারের অন্যতম বড় লক্ষণ। তবে ডা. মালহোত্রা সতর্ক করেছেন যে, ঘাড়ে চাকা হওয়া সাধারণত ক্যানসারের প্রাথমিক নয়, বরং কিছুটা পরের দিকের লক্ষণ। অনেক ক্ষেত্রে এটি নির্দেশ করে যে ক্যানসার ইতোমধ্যে লিম্ফ নোড বা লসিকা গ্রন্থিতে ছড়িয়ে পড়েছে, যা সাধারণত রোগের তৃতীয় পর্যায় (Stage 3) বা তার পরবর্তী অবস্থা। তাই কেবল ঘাড়ে ফোলা ভাব হওয়ার অপেক্ষায় না থেকে ওপরের অন্য লক্ষণগুলো দেখা দিলেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।   আধুনিক চিকিৎসা ও আশার আলো বর্তমানে চিকিৎসা বিজ্ঞানের প্রভূত উন্নতির ফলে মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসারের চিকিৎসায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। ডা. মালহোত্রা জানান, রোবোটিক এবং লেজার-অ্যাসিস্টড সার্জারির মতো উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে এখন অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে টিউমার অপসারণ করা সম্ভব। এতে রোগীর কথা বলা বা খাবার গিলে ফেলার মতো জরুরি শারীরিক কাজগুলো ব্যাহত হয় না এবং সুস্থ হওয়ার হারও অনেক বেশি।   বিশেষজ্ঞের শেষ কথা: ঘাড়ের পিণ্ড বা চাকা হওয়ার জন্য অপেক্ষা করবেন না। মুখের দীর্ঘস্থায়ী ঘা বা কণ্ঠস্বরের পরিবর্তনই হতে পারে আপনার জন্য প্রথম সতর্কবার্তা। সঠিক সময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে জীবন বাঁচানো অনেক সহজ হয়ে যায়। তথ্যসূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
সকালে উঠে এই ৫ ভুল করলে বাড়তে পারে স্বাস্থ্যঝুঁকি

সকালে ঘুম থেকে উঠেই আমরা দিনের শুরুটা যেভাবে করি, তার ওপর নির্ভর করে আমাদের সারাদিনের শক্তি, কর্মদক্ষতা এবং মানসিক প্রশান্তি। একটি সুন্দর সকালের রুটিন হলো নিজের যত্নে নেওয়া সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপগুলোর একটি। তবে অনেক সময় অনিচ্ছাসত্ত্বেও আমরা এমন কিছু অভ্যাসে অভ্যস্ত হয়ে পড়ি, যা আমাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির কারণ হতে পারে। বিশেষ করে ব্যস্ততার মাঝে আমরা অধিকাংশ সময়ই সঠিক রুটিন ভুলে ভুল কিছু অভ্যাসের ওপর নির্ভর করতে শুরু করি।   মার্কিন গণমাধ্যম হাফিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সকালে এমন কিছু কাজ আমরা করি যা আমাদের সারাদিনকে আনন্দহীন এবং ক্লান্তিকর করে তুলতে পারে। জীবনযাপনে ছোট ছোট কিছু পরিবর্তন এনে কীভাবে আমরা আরও সুস্থ ও প্রাণবন্ত সকাল পেতে পারি, তা নিয়ে সাজানো হয়েছে আজকের এই ফিচার। চলুন তাহলে জেনে নিই সকালে ঘুম থেকে উঠেই যে ৫টি অভ্যাস আপনার এড়িয়ে চলা উচিত:   ১. স্নুজ বাটন বারবার চাপা   সকালে অ্যালার্ম বাজার পর ‘আর মাত্র ৫ মিনিট’ ভেবে স্নুজ বাটন টেপার অভ্যাস অনেকেরই আছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্নুজ করার পর যে বাড়তি কয়েক মিনিট আমরা ঘুমাই, তা আসলে শরীরের জন্য মোটেও আরামদায়ক বা পুনরুদ্ধারকারী নয়। বরং এটি সকালের গভীর ঘুমের পর্যায়কে ব্যাহত করে, যা মানসিক অবসাদ এবং দীর্ঘমেয়াদে বিপাকীয় সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। এর পরিবর্তে বিশেষজ্ঞ নিকেত সোনপাল পরামর্শ দেন, অ্যালার্মের সময় অন্তত ১৫ মিনিট পিছিয়ে দিয়ে সেটি বাজার সাথে সাথেই বিছানা ছাড়ার অভ্যাস করতে।   ২. দিন শুরু করা ফোনের স্ক্রিন দেখে   ঘুম থেকে চোখ মেলতেই হাতে ফোন নেওয়া এবং সোশ্যাল মিডিয়া বা ইমেইল চেক করা অত্যন্ত ক্ষতিকর একটি অভ্যাস। চিকিৎসক নাওমি প্যারেলা জানান, দিনের শুরুতেই বাইরের জগতের খবর বা ইমেইল চেক করার অর্থ হলো আপনার নিজের চিন্তা ও অনুভূতির নিয়ন্ত্রণ অন্য কারো হাতে তুলে দেওয়া। এর ফলে দিনের শুরুতেই আপনি অহেতুক দুশ্চিন্তা বা মানসিক চাপের শিকার হতে পারেন। ফোনের বদলে সকালের শুরুটা করুন দীর্ঘ শ্বাস নিয়ে, হালকা স্ট্রেচিং করে অথবা এক গ্লাস পানি খেয়ে।   ৩. সকালের নাস্তায় অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার   সকালের নাস্তায় মিষ্টি জাতীয় খাবার, চিনিযুক্ত কফি বা সিরিয়াল খাওয়ার ফলে শরীরের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। এটি আপনাকে সাময়িকভাবে শক্তি দিলেও দ্রুতই রক্তের শর্করা কমিয়ে দেয়, যার ফলে আপনি মেজাজ খিটখিটে হওয়া বা দ্রুত ক্ষুধার্ত বোধ করার মতো সমস্যার সম্মুখীন হন। বিশেষজ্ঞরা সকালে চিনি যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন। যদি চিনিযুক্ত কিছু খেয়েও ফেলেন, তবে তার পরপরই কিছুটা শারীরিক কসরত বা হাঁটাহাঁটি করার চেষ্টা করুন।   ৪. সঠিক পদ্ধতিতে মুখ পরিষ্কার না করা ও সানস্ক্রিন এড়িয়ে যাওয়া   অনেকেই মনে করেন রাতে মুখ ধুয়ে ঘুমানোর পর সকালে আর মুখ পরিষ্কারের প্রয়োজন নেই। কিন্তু রাতে বালিশের ময়লা বা ধুলোবালি ত্বকে লেগে থাকতে পারে। তাই সকালে কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ পরিষ্কার করা অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া ঘরের বাইরে বের হন বা না হন, ত্বকের সুরক্ষায় পর্যাপ্ত পরিমাণে সানস্ক্রিন (SPF) ব্যবহার করা উচিত। ঘাড় এবং বুকের ত্বকেও এটি লাগানো প্রয়োজন।   ৫. মানসিক সুস্বাস্থ্যের দিকে নজর না দেওয়া   সকালের ব্যস্ততায় আমরা অনেক সময় নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের কথা ভুলে যাই। দিনের শুরুটা যদি ভালো না হয়, তবে সারাদিন একটি বিষণ্ণ ভাব মনের মধ্যে থেকে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, সকালে জানালার পর্দা সরিয়ে ঘরে প্রাকৃতিক আলো ঢুকতে দিন এবং অন্তত কয়েক মিনিট মেডিটেশন বা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার অভ্যাস করুন। সামান্য এই সময়টুকু আপনাকে সারাদিনের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত ও প্রাণবন্ত রাখবে।   সকালের এই ছোট ছোট অভ্যাসগুলো পরিবর্তনের মাধ্যমেই আপনি নিজের জীবনকে আরও সুশৃঙ্খল এবং কর্মক্ষম করে তুলতে পারেন। তথ্যসূত্র: হাফিংটন পোস্ট

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু

গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে মোট ১ হাজার ১৩৭ শিশু।  রোববার (২ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত হামবিষয়ক সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি। তবে হামের উপসর্গ নিয়ে চার শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ফলে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত শিশুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪৮ জনে। একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরও ৯৬ শিশু। সব মিলিয়ে এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গে মোট ৮৪৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।   স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১১৫ শিশু নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছে আরও ১ হাজার ২২ শিশু। এ সময়ে নতুন করে ৯৪৬ জন শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছেড়েছে ৮৮৬ শিশু।   এদিকে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার ৮৩ জন। একই সময়ে নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৬ হাজার ২৯৫ জন। তাদের মধ্যে মোট ১ লাখ ১২ হাজার ৬২০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। চিকিৎসা শেষে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৮ হাজার ২৮৩ জন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছে।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ০২, ২০২৬
ডেঙ্গু রোগের বাহক এডিস মশা। ছবি: সংগৃহীত
জুলাইয়ে ডেঙ্গুতে সাত মাসের সর্বোচ্চ মৃত্যু

চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত জুলাই মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে, সংখ্যার হিসাবে যা ৩৬। শুধু তাই নয়, একই সময়ে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীও শনাক্ত হয়েছে গেল মাসে।   শুক্রবার (৩১ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে বরিশাল বিভাগে একজনের মৃত্যু হয়েছে।   একই সময়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু নিয়ে ভর্তি হন ১১ জন। ১৫ জন ভর্তি হন দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের বাইরে ভর্তি হন আরও ৫০ জন।   বিভাগের মধ্যে বরিশালে ৪ জন, চট্টগ্রামে ৬৯ জন, খুলনায় ৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।   গত ১ জানুয়ারি থেকে শুক্রবার পর্যন্ত দেশে মোট ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৫ হাজার ৩১০ জন, প্রাণ গেছে মোট ৫৪ জনের। এর মধ্যে শুধু জুলাই মাসে শনাক্ত হয়েছে ৯ হাজার ২০৬ জন রোগী ও মারা গেছে ৩৬ জন রোগী।   চলতি সপ্তাহে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ২৬৭০ জন ও প্রাণ গেছে ১৪ জনের। সর্বশেষ গত এক দিনে অর্থাৎ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ১ জনের মৃত্যু ও ১৫৩ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।   অধিদপ্তরের বুলেটিনে বলা হয়, গত জানুয়ারি মাসে দেশে ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয় ১ হাজার ৮১ জন, ফেব্রুয়ারি মাসে ৪০৯, মার্চে ৩৫৩, এপ্রিলে ৬৪০, মে মাসে ৭১৪, জুনে ২ হাজার ৯০৭ জন।   এর মধ্যে জানুয়ারিতে মারা যায় ২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২ জন, মার্চে ১ জন, জুনে ১৩ জন।   এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৫৪ জন ডেঙ্গু রোগী সুস্থ্য হয়ে হাসপাতাল ছেড়ে গেছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১৫ হাজার ৩১০ জন রোগীর মধ্যে সুস্থ্য হয়ে ফিরেছেন ১৪ হাজার ৮৯ জন।   ২০২৫ সালে ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয় চার শতাধিক মানুষের, শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২ হাজারের মত।   স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ডেঙ্গু আক্রান্তদের হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর তথ্য রাখে ২০০০ সাল থেকে। এর মধ্যে ২০২৩ সালে এ রোগ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হন। একই বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যুও হয়।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ০১, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
ত্বকের যত্নে অ্যালোভেরা ব্যবহারের উপকারিতা জেনে নিন

দুর্ভাগ্যবশত আমরা কেউ ত্বকের ঝুলে পড়া রোধ করতে পারব না। কারণ এটি বার্ধক্যের একটি অংশ। সঠিক যত্নের অভাবেও ত্বক আগেভাগে বুড়িয়ে যেতে পারে। সমস্যা থেকে উত্তরণে রয়েছে প্রাকৃতিক উপায়। সঠিক যত্ন নিলে ত্বকের ভাঁজ কিংবা ঝুলে যাওয়া চামড়া ইত্যাদি সমস্যা দূর করা সম্ভব।   ত্বক কেন ঝুলে পড়ে? ‘জার্নাল অব কিউটেইনিয়াস প্যাথলজি’তে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে জানানো হয়, ‘ইলাস্টিন’ একটি প্রোটিন, যা ত্বকে স্থিতিস্থাপকতা দান করে। বয়সের সঙ্গে ত্বকের ‘ইলাস্টিন’এর পরিমাণ কমে। ফলে কোমলতা ও নমনীয়তা হ্রাস পায়।  কোলাজেনের হ্রাসের ফলে ত্বকের নিচের চর্বিও কমে আর শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তনের ফলে ত্বক সংকুচিত হয়। যে কারণে ত্বকে দেখা দেয় ভাঁজ ও ঝুলে পড়ার সমস্যা। প্রকৃতিতে এমন উপাদান আছে যা ত্বক টান টান করতে সহায়তা করে।   শসা : ‘ফিটোটেরাপিয়া’ সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণা অনুযায়ী- শসাতে আছে ইলাস্টিন, হায়ালুরনিক অ্যাসিড এবং ত্বক আর্দ্র ও মসৃণ রাখার ক্ষমতা। শসার খোসা ছাড়িয়ে ব্লেন্ড করে এর রস আলাদা করে নিতে হবে। তুলার বলের সাহায্যে রস নিয়ে ত্বকে ব্যবহার করে ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলতে হবে।   অ্যালোভেরা : ত্বকের পরিচর্যায় সবচেয়ে উত্তম হারবাল অ্যালোভেরা। এর নির্যাসে আছে ত্বকের স্থতিস্থাপকতা বাড়িয়ে টানটান করার ক্ষমতা। এ ছাড়া কোলাজেন ও হায়ালুরনিক অ্যাসিড উৎপাদনে সহায়তা করে। অ্যালো-ভেরার পাতা থেকে জেল আলাদা করে নিতে হবে। সেটা ত্বকে ব্যবহারের পর ১০ থেকে ২০ মিনিট অপেক্ষা করে ধুয়ে ফেলতে হবে।   মধু : ত্বক ‘ডিটক্সিফাই’ বা দূষণমুক্ত করে, স্থিতিস্থাপকতা বাড়ায় ও ভাঁজ দূর করতে সহায়তা করে। পর্যাপ্ত পরিমাণ মধুর সঙ্গে সামান্য পানি যোগ করতে হবে। ত্বকের ভাঁজযুক্ত স্থানে মিশ্রণটি মেখে ২০ মিনিট পর কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে।   ক্যাফেইন : কফিতে থাকা ক্যাফেইন ত্বককে বয়সভিত্তিক অক্সিডেটিভ চাপ থেকে সুরক্ষিত রাখে। ‘অক্সিডেটিভ মেডিসিন অ্যান্ড সেলুলার লংজিভিটি জার্নাল’-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়- ক্যাফেইন অতিবেগুনি রশ্মির কারণে হওয়া বয়সের ছাপ কমাতে পারে। কফির বীজ পানি যোগ করে পেস্ট তৈরি করে আলতো করে ত্বকে গোলাকারভাবে ব্যবহার করতে হবে। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ০১, ২০২৬
ডিম | ছবি: সংগৃহীত
প্রতিদিন কতটি ডিম খেলে শরীরের জন্য ভালো?

সকালের নাশতায় একটি গরম সেদ্ধ ডিম কিংবা অমলেট না হলে যেন অনেকের চলেই না। সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য হওয়ায় প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে ডিমের জুড়ি মেলা ভার। তবে এই অতিপরিচিত খাবারটি নিয়েই বিতর্কের শেষ নেই।   কেউ বলেন, ডিমের কুসুম কোলেস্টেরল বাড়ায়, আবার কেউ বলেন প্রতিদিন ডিম খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। দীর্ঘদিনের এই দ্বিধা কাটিয়ে আধুনিক বিজ্ঞান ও পুষ্টিবিদরা কী বলছেন, তা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিমকে প্রকৃতির অন্যতম পুষ্টিকর খাবার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। একটি বড় ডিমে প্রায় ৬-৭ গ্রাম উচ্চমানের প্রোটিন থাকে, যাতে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় নয়টি গুরুত্বপূর্ণ অ্যামিনো অ্যাসিডই বিদ্যমান। এ ছাড়া এতে রয়েছে ভিটামিন এ, ডি, ই, বি১২, সেলেনিয়াম এবং কোলিন। বিশেষ করে কোলিন, লুটেইন এবং জেক্সানথিন মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়াতে এবং চোখের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ ভূমিকা রাখে।   দিনে কয়টি ডিম নিরাপদ? ডিম খাওয়ার সংখ্যাটি নির্ভর করে ব্যক্তির বয়স এবং শারীরিক অবস্থার ওপর। পুষ্টিবিদদের মতে, একজন সুস্থ মানুষ সপ্তাহে ৩ থেকে ৪ বার প্রতিদিন একটি করে আস্ত ডিম খেতে পারেন। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের গবেষণা অনুযায়ী, হৃদরোগের ঝুঁকি নেই এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রতিদিন একটি করে আস্ত ডিম খাওয়া স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে।   শিশু: শিশুদের শারীরিক বৃদ্ধি ও মানসিক বিকাশের জন্য প্রতিদিন একটি করে ডিম খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।   সতর্কতা: যাদের হৃদরোগ বা উচ্চমাত্রার ‘এলডিএল’ (খারাপ কোলেস্টেরল) রয়েছে, তাদের ডিম খাওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।   কুসুম কি বর্জনীয়? অনেকেই কোলেস্টেরলের ভয়ে ডিমের কুসুম ফেলে দিয়ে শুধু সাদা অংশ খান। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, ডিমের কুসুমেই ভিটামিন এ, ডি, ই এবং বি১২ এর মতো প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানগুলো থাকে। তাই আস্ত ডিম খাওয়াই শরীরের জন্য সবচেয়ে বেশি উপকারী।   রান্নার সঠিক পদ্ধতি ও খাবার সমন্বয় ডিমের সর্বোচ্চ পুষ্টি পেতে রান্নার পদ্ধতিও গুরুত্বপূর্ণ: সেদ্ধ বা পোচ: ডিম সেদ্ধ, পোচ বা অল্প তেলে স্ক্র্যাম্বলড করে খাওয়া সবচেয়ে ভালো, কারণ এতে অতিরিক্ত চর্বি যোগ হয় না। কাঁচা ডিম এড়িয়ে চলুন: কাঁচা ডিম খেলে সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে এবং শরীর প্রোটিন পুরোপুরি শোষণ করতে পারে না। সবজি ও ওটস: ডিমের সঙ্গে সবজি বা ওটস খেলে ফাইবার বা আঁশের ঘাটতি পূরণ হয় এবং খাবারের ভারসাম্য বজায় থাকে। তবে প্রক্রিয়াজাত মাংস বা অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবারের সঙ্গে ডিম না খাওয়াই ভালো। অতিরিক্ত ডিম কি ক্ষতিকর? যে কোনো পুষ্টিকর খাবারই অতিরিক্ত গ্রহণ করা ঠিক নয়। শুধু ডিমের ওপর নির্ভর করে আঁশযুক্ত খাবার না খেলে পেট ফাঁপা বা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা হতে পারে। এ ছাড়া কিছু ক্ষেত্রে এটি কোলেস্টেরলের মাত্রায় সামান্য প্রভাব ফেলতে পারে।   শেষ কথা ডিম কেবল একটি খাবার নয়, এটি পুষ্টির একটি সহজ উৎস। তবে মনে রাখতে হবে, আপনি কতটি ডিম খাচ্ছেন তার চেয়েও জরুরি হলো কীভাবে সেটি রান্না করছেন এবং সঙ্গে কী খাচ্ছেন। পরিমিতিবোধ এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাসই সুস্থ থাকার আসল চাবিকাঠি। তথ্যসূত্র: এনডিটিভি

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
যে সময় মধু খেলে মিলতে পারে সর্বোচ্চ উপকার

মধু কেবল একটি সুস্বাদু খাবারই নয়, এটি অসংখ্য ঔষধি গুণে ভরপুর একটি ‘সুপারফুড’। পুষ্টিবিদ এবং ডায়েটিশিয়ানদের মতে, দিনের যে কোনো সময়ে মধু খাওয়া গেলেও নির্দিষ্ট কিছু সময়ে এটি গ্রহণ করলে শরীরের জন্য সবচেয়ে বেশি সুফল পাওয়া যায়।   নিচে মধু খাওয়ার সেরা সময় এবং এর উপকারিতাগুলো তুলে ধরা হলো: ১. সকালে খালি পেটে সকালে এক গ্লাস হালকা গরম পানির সঙ্গে মধু মিশিয়ে খাওয়ার অভ্যাস আপনার সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য বিস্ময়কর কাজ করতে পারে। সকালবেলা মধু খাওয়ার ফলে শরীর দিনভর সতেজ ও প্রাণবন্ত থাকে।   উপকারিতা: এটি দ্রুত ওজন কমাতে সাহায্য করে, হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে এবং শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন বা বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয়। এ ছাড়া এটি ত্বক ভালো রাখতে এবং বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন থেকে শরীরকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।   ২. বিকেলে শক্তির উৎস হিসেবে দিনের অর্ধেক সময় পার হওয়ার পর যখন শরীর ক্লান্ত ও অবসন্ন হয়ে পড়ে, তখন এক চামচ মধু আপনাকে নতুন করে চনমনে করে তুলতে পারে। এই সময়ে ক্যাফেইন বা চিনিযুক্ত নাশতার বদলে মধু খাওয়া অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর।   উপকারিতা: মধু একটি প্রাকৃতিক এনার্জি বুস্টার হিসেবে কাজ করে। এটি শরীরে কার্বোহাইড্রেটের জোগান দেয় এবং দীর্ঘ সময় কর্মক্ষম রাখতে সাহায্য করে।   ৩. রাতে ঘুমানোর আগে বিশেষজ্ঞরা রাতের বেলা ঘুমানোর আগে মধু খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এক গ্লাস গরম দুধের সাথে মধু মিশিয়ে খেলে তা শরীরের পুষ্টি শোষণে সাহায্য করে।   উপকারিতা: এটি গভীর ও প্রশান্তিদায়ক ঘুমে সাহায্য করে এবং লিভারের কার্যকারিতা বাড়ায়। এ ছাড়া রাতের বেলা মধু খেলে তা অ্যাসিডিটি বা বুক জ্বালাপোড়া কমাতে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।   ৪. অসুস্থ অবস্থায় বা সর্দি-কাশিতে সর্দি-কাশি বা গলা ব্যথায় মধু একটি অব্যর্থ ঘরোয়া টোটকা হিসেবে কাজ করে। এটি অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল গুণে সমৃদ্ধ হওয়ায় দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করে।   উপকারিতা: মধু রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং প্রাকৃতিক উপায়ে কফ পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। এ ছাড়া এটি শরীরের মেটাবলিক ফাংশন উন্নত করে।   ৫. ব্যায়ামের আগে বা পরে যারা নিয়মিত ব্যায়াম বা শারীরিক কসরত করেন, তাদের জন্য মধু একটি আদর্শ পানীয়। এটি এনার্জি ড্রিংকের চমৎকার বিকল্প হিসেবে কাজ করে।   উপকারিতা: এটি শরীরকে তাৎক্ষণিক শক্তি দেয় এবং ব্যায়ামের পর পেশির ক্লান্তি দূর করে দ্রুত রিকভারিতে সাহায্য করে। এটি খুব সহজে হজম হয় এবং রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ঠিক রাখতে সাহায্য করে।   শেষকথা মধু যে সময়েই খাওয়া হোক না কেন, এর পরিমিত ব্যবহার শরীরের জন্য অত্যন্ত ফলপ্রসূ। তবে সর্বোচ্চ উপকার পেতে আপনার দৈনন্দিন রুটিনে উপরোক্ত সময়গুলোয় মধু অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ৩০, ২০২৬
মেথি ভেজানো পানি | ছবি : সংগৃহীত
মেথির পানিতে উপকারের পাশাপাশি ঝুঁকি, যাদের জন্য বিপজ্জনক

মেথি বীজের নাম শুনলেই অনেকে ভাবেন, এটি যেন এক জাদুকরী উপাদান! হজম ভালো রাখা, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ, প্রদাহ কমানো থেকে শুরু করে ত্বক ও চুলের যত্ন—সব কিছুতেই মেথির কদর রয়েছে। তাই অনেকেই প্রতিদিন সকালে ভেজানো মেথির পানি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলেছেন। কিন্তু জানেন কী, এই মেথির পানি সবার জন্য মোটেও নিরাপদ নয়? কিছু ক্ষেত্রে এটি উপকারের চেয়ে ক্ষতিই ডেকে আনতে পারে!   রক্তে শর্করা কমে গেলে বিপদ মেথি ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়ায় এবং কার্বোহাইড্রেট শোষণ কমিয়ে রক্তে শর্করা হ্রাস করে। তাই যাদের রক্তে শর্করা স্বাভাবিকের নিচে বা যারা ডায়াবেটিসের ওষুধ সেবন করছেন, তাদের জন্য মেথির জল বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এতে হঠাৎ রক্তে শর্করা অতিরিক্ত কমে গিয়ে মাথা ঘোরা, দুর্বলতা বা অজ্ঞান হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।   গর্ভাবস্থায় নয় একেবারেই গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে মেথির পানি একেবারেই পরিহার করা উচিত। কারণ মেথিতে থাকা কিছু যৌগ জরায়ুতে সংকোচন সৃষ্টি করতে পারে। গর্ভাবস্থার শেষ দিকে এটি প্রসব ত্বরান্বিত করলেও, শুরুর দিকের মাসগুলোতে এটি অকাল প্রসব বা গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়ায়।   থাইরয়েড রোগীদের জন্যও সতর্কতা গবেষণা বলছে, মেথি থাইরয়েড হরমোনের উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে পারে। এতে থাকা কিছু যৌগ আয়োডিন শোষণে বাধা দেয়, যা থাইরয়েডের জন্য অপরিহার্য। তাই থাইরয়েডজনিত সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের এই পানি খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।   পেটের সমস্যা হলে উল্টো ফল যদিও মেথি হজমে সাহায্য করে, তবু অনেকের ক্ষেত্রে এটি গ্যাস, পেট ফাঁপা, ডায়রিয়া বা পেটে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে খালি পেটে ভেজানো মেথির পানি খেলে এই সমস্যাগুলো আরও বেড়ে যায়।   অ্যালার্জি থাকলে সাবধান থাকুন মেথি শিমজাতীয় পরিবারের অন্তর্ভুক্ত—যার মধ্যে রয়েছে ছোলা, মসুর ডাল ও চিনাবাদাম। তাই যাদের এসব খাবারে অ্যালার্জি আছে, তাদের মেথিতেও একই রকম প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।   শেষ কথা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাকৃতিক বলেই সব উপাদান সবার জন্য ভালো হয় না। মেথির জল খাওয়ার আগে নিজের শারীরিক অবস্থা, ওষুধের ইতিহাস ও অ্যালার্জির বিষয়টি ভেবে নেওয়া জরুরি। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন, তবেই উপকার পাবেন নিরাপদে। তথ্যসূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ২৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
প্লাস্টিক বোতলের পানি কি ডেকে আনছে ক্যানসারের ঝুঁকি?

আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে প্লাস্টিকের বোতল। অফিসে হোক বা ভ্রমণে, প্লাস্টিকের বোতলে পানি পান করা আমাদের নিয়মিত অভ্যাস। কিন্তু জনমনে দীর্ঘদিনের একটি প্রশ্ন ও ভীতি রয়েছে, প্লাস্টিকের বোতল থেকে পানি পান করলে কি ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে বিবিসি নিউজ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণ না থাকা সত্ত্বেও বিপুল সংখ্যক মানুষ প্লাস্টিকের বোতল বা মাইক্রোওয়েভ ওভেনে খাবার গরম করাকে ক্যানসারের অন্যতম বড় কারণ হিসেবে ভুলভাবে বিশ্বাস করে বসে আছেন।   ভুল বিশ্বাসের গোলকধাঁধায় জনস্বাস্থ্য ইংল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন এবং ইউনিভার্সিটি অফ লিডস-এর গবেষকরা ১৩৩০ জনের ওপর একটি জরিপ পরিচালনা করেন, যার ফলাফল ‘ইউরোপিয়ান জার্নাল অফ ক্যানসারে’ প্রকাশিত হয়েছে। এই গবেষণায় দেখা গেছে, জরিপে অংশ নেওয়া প্রতি ৫ জনের মধ্যে অন্তত ১ জন (১৯ শতাংশ) বিশ্বাস করেন যে, প্লাস্টিকের বোতল থেকে পানি পান করলে এবং মাইক্রোওয়েভ ওভেনে খাবার গরম করলে ক্যানসার হতে পারে। অথচ বিজ্ঞানীরা বলছেন, এমন আশঙ্কার পেছনে শক্ত কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।   বিভ্রান্তি যখন বড় বাধা   গবেষণায় দেখা গেছে, শুধু প্লাস্টিকের বোতলই নয়, আরও অনেক অপ্রমাণিত বিষয়কে মানুষ ক্যানসারের কারণ হিসেবে ভুলভাবে চিহ্নিত করে। জরিপে অংশ নেওয়া অন্তত ৪০ ভাগ মানুষ মনে করেন মানসিক চাপ বা ‘স্ট্রেস’ ক্যানসারের কারণ। এছাড়া প্রায় ৩৫ শতাংশ মানুষ ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফ্রিকোয়েন্সি এবং ৩৪ শতাংশ মানুষ জেনেটিক্যালি মডিফায়েড (জিএম) খাবারকে ক্যানসারের জন্য দায়ী মনে করেন।   গবেষক ড. স্যামুয়েল স্মিথ এই বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, ইন্টারনেটে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুল তথ্যের কারণে মানুষ এখন বৈজ্ঞানিক ভিত্তিহীন বিষয়গুলোকে অনেক বেশি বিশ্বাস করছে।   প্রকৃত ঝুঁকি ও প্রতিকার যুক্তরাজ্যের ক্যানসার রিসার্চ প্রতিষ্ঠানের মতে, প্রতি দশটি ক্যানসার আক্রান্ত হওয়ার ঘটনার মধ্যে অন্তত চারটি ঘটনাই সঠিক জীবন যাপন বা লাইফস্টাইল পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রতিরোধ করা সম্ভব। ক্যানসারের প্রকৃত এবং প্রতিরোধযোগ্য কারণগুলো হলো: ধূমপান ও পরোক্ষ ধূমপান: যা জরিপে যথাক্রমে ৮৮% ও ৮০% মানুষ সঠিকভাবে শনাক্ত করেছেন। স্থূলতা: অতিরিক্ত ওজন ক্যানসারের অন্যতম কারণ। সূর্যরশ্মি বা সানবার্ন: প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ রোদে পোড়াকে ক্যানসারের কারণ হিসেবে জানেন। খাদ্যাভ্যাস: প্রচুর ফল ও শাকসবজি খাওয়ার অভ্যাস ঝুঁকি কমায়।   বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ক্যানসার রিসার্চ প্রতিষ্ঠানের ক্লেয়া হাইড জানিয়েছেন, ক্যানসারের বিরুদ্ধে গ্যারান্টি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই, তবে প্রকৃত ঝুঁকিগুলো সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানলে এবং সে অনুযায়ী জীবনযাত্রা নিয়ন্ত্রণ করলে এই ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। ভুল তথ্যের পেছনে আতঙ্কিত না হয়ে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত কারণগুলোর দিকে (যেমন—ধূমপান বর্জন করা, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা) আমাদের নজর দেওয়া উচিত। তাই প্লাস্টিকের বোতল নিয়ে অহেতুক ভীতি নয়, বরং প্রমাণিত ক্ষতিকর অভ্যাসগুলো ত্যাগ করে সচেতন জীবন যাপন করাই হবে ক্যানসার প্রতিরোধের প্রধান হাতিয়ার। তথ্যসূত্র: বিবিসি

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ২৮, ২০২৬
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সপ্তাহের সেরা

ছবি: সংগৃহীত
স্বাস্থ্য

মন্ত্রীর নির্দেশে আসা ১২ চিকিৎসকের ৫ জন চলে গেলেন এক মাসের মধ্যেই

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০৯, ২০২৬