স্বাস্থ্য

প্রতীকী ছবি
পরোক্ষ ধূমপানে বিশ্বজুড়ে ১৬ লাখেরও বেশি মানুষের অকাল মৃত্যু

বিশ্বজুড়ে ২০২৩ সালে ২৭০ কোটিরও বেশি মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হয়েছেন। যা প্রায় ১৬ লাখ ৬০ হাজার (১.৭ মিলিয়ন) মানুষের অকাল মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।   সম্প্রতি দ্য ল্যানসেট পাবলিক হেলথে প্রকাশিত এক গবেষণায় জানানো হয়েছে এ তথ্য। আন্তর্জাতিক অনলাইন চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যবিষয়ক সংবাদমাধ্যম মেডিক্যাল এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে গবেষণার বরাতে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে রোগের অন্যতম কারণ তামাক। ২০২৩ সালে ধূমপানজনিত রোগে আনুমানিক মোট ৮০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। কিন্তু এর বড় একটি অংশ নিজে ধূমপান না করে, অর্থাৎ পরোক্ষ ধূমপানের শিকার অধূমপায়ী।       প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিজে ধূমপান না করেও ধূমপানের সংস্পর্শে আসা বিশ্বজুড়ে একটি স্বীকৃত স্বাস্থ্য ঝুঁকি। আর এটি গ্রহণ করার ক্ষেত্রে নিরাপদ কোনো মাত্রা নেই।     ইউএস ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ ডেটাবেস ‘পাবমেড’-এ প্রকাশিত গবেষণা এবং জনসংখ্যা জরিপ পর্যালোচনা করে ১৯৯০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ২০৪টি দেশ ও অঞ্চলে পরোক্ষ ধূমপানের ব্যাপ্তি এবং এর থেকে হওয়া রোগের ঝুঁকি পরিমাপের চেষ্টা করা হয়েছে।     গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৩ সালে পরোক্ষ ধূমপানের কারণে প্রায় ২৭০ কোটি মানুষের মধ্যে শূন্য থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যা ছিল ৭৬ কোটি ৭ লাখ।     অনুমান করা হচ্ছে, এই পরোক্ষ ধূমপানের জন্য ১৬ লাখ ৬০ হাজার মানুষের অকাল মৃত্যু ঘটেছে। পাশাপাশি অকাল পঙ্গুত্ব ও বিভিন্ন রোগে আক্রান্তও হয়েছেন মানুষ। এর মধ্যে বেশি দেখা গেছে, ইস্কেমিক হার্ট ডিজিজ।     এছাড়াও বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে শিশুদের মধ্যে পরোক্ষ ধূমপানের জন্য আনুমানিক ৫২ লাখ শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ হয়েছে।     এদিকে গবেষণায় ব্যাখ্যা করা হয়েছে, ধূমপান করা মানুষদের কাছাকাছি থাকা ব্যক্তিরা তামাকজাত পণ্য পোড়ানো থেকে নির্গত ‘সাইডস্ট্রিম ধোঁয়া’ এবং ধূমপায়ী ব্যক্তি থেকে নির্গত ধোয়া, উভয়ের সংস্পর্শে এসে থাকেন।     আরো বলা হয়, সাইডস্ট্রিম উপাদানটি অধূমপায়ীদের শ্বাসের বাতাসে মিশে থাকে, যা কোনো ধরনের ফিল্টার ছাড়াই ছড়িয়ে থাকে। এটি সক্রিয় ধূমপায়ীর গ্রহণ করা ধোঁয়ার থেকে প্রতি এককে বিষাক্ত ও ক্যানসার সৃষ্টিকারী উপাদানের উচ্চ মাত্রা বহন করে থাকে।     ১৯৯০ সালের পর থেকে বিশ্বজুড়ে ধূমপানের হার ব্যাপকভাবে কমলেও, জনসংখ্যা বাড়া এবং আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে পরোক্ষ ধূমপানের হার বৃদ্ধির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা অপরিবর্তিত রয়েছে।     গবেষণা অনুযায়ী, নারীরা ধূমপান না করেও পরোক্ষতার কারণে অসমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বিশেষ করে যেসব অঞ্চলে নারীদের মধ্যে ধূমপানের হার বেশ কম। এই বিশাল ক্ষতিকর প্রভাব থাকার পরও নারীদের স্বাস্থ্যের জন্য পরোক্ষ ধূমপানকে ঝুঁকিপূর্ণ উপাদান হিসেবে খুব কমই স্বীকার করা হয়।       এ ক্ষেত্রে নারী ও শিশুদের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে পরোক্ষ ধূমপান থেকে রক্ষায় সর্বজনীন স্থান ও গৃহস্থালি পরিবেশে সরকারকে তামাক নিয়ন্ত্রণ নীতি বাস্তবায়নে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে গবেষণায়।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
সেপ্টেম্বরের ১২ দিনে ডেঙ্গুতে ৫২ জনের মৃত্যু

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৫৬১ জন।   রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।   স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট ১৪৯ জনের মৃত্যু হলো। এর মধ্যে শুধু আগস্ট মাসেই মারা গেছেন ৪৩ জন। এছাড়া সেপ্টেম্বরে গত ১২ দিনে ৫২ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।   বুলেটিনে জানানো হয়, শনিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৫৬১ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫১ হাজার ৮৩৭ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড় পেয়েছেন ১ হাজার ৩৯৪ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪৮ হাজার ৯৩ জন।   গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে ৬২৭ জন, খুলনা বিভাগে ২৭৫ জন, বরিশালে ২০২, চট্টগ্রামে ১৮১, রাজশাহী ১০৪, ময়মনসিংহে ৯৩, সিলেট ৬ এবং রংপুরে ৭৩ জন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ডিটক্স পানি খেলেই কী শরীরের বিষ দূর হয়

শসা, লেবু, আদা কিংবা পুদিনা পানিতে ভিজিয়ে তৈরি করা পানীয় এখন বেশ জনপ্রিয়। অনেকেই মনে করেন, এ ধরনের পানি শরীরের জমে থাকা বিষাক্ত পদার্থ দূর করে, ওজন কমায়, ত্বক ভালো রাখে এবং শরীরকে ভেতর থেকে পরিষ্কার করে। কিন্তু এসব দাবির কতটা সত্যি?   বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, ফল, সবজি বা ভেষজ উপাদান মিশিয়ে পানি পান করা স্বাস্থ্যকর অভ্যাস হতে পারে। তবে শুধু এ ধরনের পানি পান করলেই শরীরের স্বাভাবিক বিষমুক্ত করার প্রক্রিয়া দ্রুত বা আরও কার্যকর হয়ে যায়—এমন প্রমাণ নেই।   ডিটক্স পানি আসলে কী? ডিটক্স পানি হলো পানিতে বিভিন্ন ফল, সবজি বা ভেষজ উপাদান ভিজিয়ে তৈরি পানীয়। যেমন—লেবু ও আদা, শসা ও পুদিনা, তরমুজ ও পুদিনা, কমলা ও লেবু, স্ট্রবেরি ও তুলসী, আপেল ও দারুচিনি ইত্যাদি।   এতে ফলের রস বা পুরো ফল মিশিয়ে দেওয়া হয় না। ফলে সাধারণত এতে ক্যালরির পরিমাণও খুব কম থাকে। এ কারণে বেশি চিনি থাকা কোমল পানীয় বা ফলের রসের পরিবর্তে অনেকে ডিটক্স পানি পান করেন।   কীভাবে তৈরি করবেন? ডিটক্স পানি তৈরি করা খুব সহজ। পছন্দের ফল, সবজি বা ভেষজ উপাদান ছোট করে কেটে ঠান্ডা বা গরম পানিতে দিতে হবে।   উপাদানগুলো একটু চটকে দিলে পানিতে স্বাদ ও গন্ধ আরও ভালোভাবে মিশতে পারে। ঠান্ডা পানীয় তৈরি করলে এক থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত ফ্রিজে রেখে দেওয়া যায়। তবে এর বেশি সময় রেখে দেওয়া ঠিক নয়। নির্দিষ্ট সময় পর পানিতে থাকা উপাদানগুলো তুলে ফেলতে হবে।   ওজন কমাতে কি সাহায্য করে? পানি পান করা ওজন নিয়ন্ত্রণে কিছুটা সহায়ক হতে পারে। ডিটক্স পানির ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। পর্যাপ্ত পানি পান করলে কিছু সময়ের জন্য শরীরের বিপাকক্রিয়ার গতি বাড়তে পারে এবং ক্ষুধাও কিছুটা কমতে পারে।   খাওয়ার আগে পানি পান করলে কেউ কেউ তুলনামূলক কম খাবার খান। আবার বেশি ক্যালরিযুক্ত বা চিনি দেওয়া পানীয়ের বদলে ডিটক্স পানি পান করলে মোট ক্যালরি গ্রহণও কমতে পারে।   শরীরে পানি পর্যাপ্ত থাকলে শরীরের বর্জ্য বের হতে এবং মল নরম রাখতে সাহায্য করে। ব্যায়ামের সময়ও পর্যাপ্ত পানি শরীরের প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান সঠিকভাবে কাজে লাগাতে সহায়তা করে।   তবে এসব উপকার শুধু ডিটক্স পানির জন্য নয়—সাধারণ পানিও একই ধরনের উপকার দিতে পারে।   হজমের জন্য কেমন? শরীরের স্বাভাবিক হজম প্রক্রিয়ার জন্য পর্যাপ্ত পানি গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন শরীরে পানির ঘাটতি থাকলে কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। এর ফলে পেট ফাঁপা ও অলস লাগার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।   পর্যাপ্ত পানি পান করলে খাবার অন্ত্রের ভেতর দিয়ে সহজে চলাচল করতে পারে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে সহায়তা করতে পারে।   মন-মেজাজ ও শক্তিতেও প্রভাব আছে শরীরে সামান্য পানির ঘাটতিও মন-মেজাজ, মনোযোগ ও কর্মশক্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে। পানিশূন্যতার কারণে মাথাব্যথা, মনোযোগ কমে যাওয়া বা ক্লান্তি দেখা দিতে পারে।   যারা প্রয়োজনের তুলনায় কম পানি পান করেন, তারা পানির পরিমাণ বাড়ালে শরীর তুলনামূলক সতেজ অনুভব করতে পারেন। মনও ভালো থাকতে পারে এবং কর্মশক্তি বাড়তে পারে।   রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়? ফল ও সবজিতে থাকা বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য উপকারী। বিশেষ করে ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সহায়তা করে।   তবে ডিটক্স পানিতে ফল বা সবজি ভিজিয়ে রাখার ফলে যে পরিমাণ পুষ্টি পানিতে আসে, তা খুবই কম এবং উপাদানভেদে এর পরিমাণও আলাদা হতে পারে। তাই ডিটক্স পানি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনে—এমন দাবি করার যথেষ্ট প্রমাণ নেই।   শরীরের বিষ দূর করে—এ ধারণা কতটা সত্য? ডিটক্স পানিকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি প্রচলিত দাবি হলো, এটি শরীরের বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয়। কিন্তু ‘বিষ’ বলতে ঠিক কোন পদার্থকে বোঝানো হচ্ছে বা কীভাবে তা শরীর থেকে বের হয়—এ বিষয়ে এসব দাবিতে স্পষ্ট ব্যাখ্যা থাকে না।   আসলে মানুষের শরীরের নিজস্ব বিষমুক্ত করার ব্যবস্থা রয়েছে, যা শরীর থেকে বিভিন্ন বর্জ্য ও ক্ষতিকর পদার্থ অপসারণে কাজ করে। ডিটক্স পানি পান করে এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে দ্রুত বা আরও কার্যকর করা যায়—এমন নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই।   শরীরের অম্ল-ক্ষার ভারসাম্য বদলায়? আরেকটি প্রচলিত ধারণা হলো, ডিটক্স পানি শরীরকে বেশি ক্ষারীয় করে। কিন্তু খাবার বা পানীয় গ্রহণ করে রক্ত কিংবা শরীরের কোষের অম্ল-ক্ষার মাত্রা ইচ্ছেমতো পরিবর্তন করা যায়—এমন দাবির বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।   ত্বক কি আরও সুন্দর হবে? অনেকে মনে করেন, ডিটক্স পানি শরীরের বিষ দূর করে ত্বক পরিষ্কার ও উজ্জ্বল করে। কিন্তু এ দাবির পক্ষেও যথেষ্ট প্রমাণ নেই।   শরীরে পানির ঘাটতি থাকলে পর্যাপ্ত পানি পান করলে ত্বকের পানিশূন্যতা কমতে পারে। তবে সাধারণ পানির তুলনায় ডিটক্স পানি ত্বকের সৌন্দর্য বাড়াতে বেশি কার্যকর—এমন প্রমাণ নেই।   তাহলে ডিটক্স পানি কি খাবেন? ডিটক্স পানি শরীরের বিষ দূর করার কোনো জাদুকরি পানীয় নয়। তবে এটি সতেজ ও কম ক্যালরিযুক্ত পানীয় হিসেবে ভালো বিকল্প হতে পারে।   অনেকের কাছে সাধারণ পানি একঘেয়ে মনে হয়। পানিতে লেবু, শসা, পুদিনা, আদা বা অন্য উপাদান মেশালে স্বাদ বাড়ে। এর ফলে কেউ যদি প্রতিদিন প্রয়োজনীয় পরিমাণ পানি পান করতে পারেন এবং চিনি দেওয়া পানীয় কমিয়ে দেন, তাহলে সেটি অবশ্যই ভালো অভ্যাস।   অর্থাৎ, ডিটক্স পানির আসল উপকার শরীর পরিষ্কার করার অলৌকিক ক্ষমতায় নয়; বরং পর্যাপ্ত পানি পান করার অভ্যাস তৈরি করাতেই এর বড় সুবিধা।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
সংগৃহীত
চিনির পিঁপড়া দূর করার ঘরোয়া ৪ কার্যকর উপায়

চিনিতে পিঁপড়া একটি বিরক্তিকর সমস্যা। তবে কিছু সহজ ও প্রাকৃতিক উপায়ের মাধ্যমে খুব সহজেই এর সমাধান করা সম্ভব। রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার না করে রান্নাঘরের সাধারণ কিছু উপাদান ব্যবহার করেই চিনি থেকে পিঁপড়া দূর করা সম্ভব—   লবঙ্গের তীব্র গন্ধ পিঁপড়ারা লবঙ্গের তীব্র গন্ধ একদম সহ্য করতে পারে না। চিনির পাত্রে ৪-৫টি লবঙ্গ রেখে দিলে এর কড়া গন্ধের কারণে পিঁপড়া নিমেষেই পালিয়ে যায় এবং নতুন করে আর আসে না।   তেজপাতার ঝাঁজ তেজপাতার একটি নিজস্ব ঝাঁজালো সুবাস রয়েছে যা পিঁপড়াকে দূরে রাখে। চিনির কৌটার ভেতর একটি শুকনো তেজপাতা দুই টুকরো করে রেখে দিলে পিঁপড়ার উপদ্রব বন্ধ হয়।   দারচিনির টুকরো দারচিনির সুগন্ধ আমাদের কাছে প্রিয় হলেও পিঁপড়াদের জন্য এটি বেশ অস্বস্তিকর। চিনির পাত্রে ছোট এক টুকরো দারচিনি রেখে দিলে পিঁপড়া চিনির ধারে-কাছেও ঘেঁষবে না।   লেবুর খোসার টুকরো লেবুর খোসায় থাকা সাইট্রিক উপাদান পিঁপড়া তাড়াতে দারুণ কাজ করে। চিনির পাত্রে ছোট এক টুকরো লেবুর খোসা রেখে দিতে পারেন, তবে খোসা শুকিয়ে গেলে সেটি বদলে নতুন খোসা দিতে হবে।   সঠিক উপায়ে চিনি সংরক্ষণ বায়ুরোধী পাত্র: চিনি সবসময় এমন পাত্রে রাখা উচিত যেটির ঢাকনা খুব শক্ত এবং বাতাস ঢুকতে পারে না। কাচ বা ভালো মানের প্লাস্টিকের এয়ারটাইট জার ব্যবহার করলে পিঁপড়া ভেতরে ঢোকার কোনো সুযোগ পায় না।   পাত্রের চারপাশ পরিষ্কার রাখা: অনেক সময় চিনি নেওয়ার সময় পাত্রের গায়ে বা চারপাশে কিছু চিনি পড়ে থাকে, যা পিঁপড়াকে আকর্ষণ করে। তাই প্রতিবার চিনি ব্যবহারের পর পাত্রের গা এবং চারপাশ ভেজা কাপড় দিয়ে ভালোভাবে মুছে পরিষ্কার রাখতে হবে।   চিনিকে পিঁপড়ামুক্ত রাখতে বাজারের ক্ষতিকর রাসায়নিক স্প্রে ব্যবহার না করে এই প্রাকৃতিক ও নিরাপদ পদ্ধতিগুলো বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। সামান্য একটু সতর্কতা এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলেই চিনিকে দীর্ঘদিন পিঁপড়া ও অন্যান্য পোকামাকড় থেকে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
হামের উপসর্গে আরও ৭ জনের প্রাণহানি

দেশে ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাত জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে নিশ্চিত হামে ১০০ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ৯১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে হামে ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৯ জনে।   শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকাতেই ৫ জন মারা গেছেন। এ সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ৮৫৫ জন রোগী এসেছে।   বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে ৩৭৭ জন, রাজশাহীতে ৫৫, সিলেটে ১২১, চট্টগ্রামে ২০০, বরিশালে ৬০, ময়মনসিংহে ৩৭, খুলনায় ৩১ এবং রংপুরে ৪ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।   স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৫০ হাজার ২০২ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৪৬৫ জন চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে।   গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে সন্দেহজনক হামের রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭০ হাজার ৬৩৮ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছেন ২০ হাজার ৬ জন।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
বাতরোগে বাড়ছে কর্মক্ষমতা হ্রাস, চিকিৎসা ব্যয়ে বিপাকে পরিবার

দেশে বাতরোগের প্রকোপ বাড়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ব্যয় ও কর্মক্ষমতা হারানোর কারণে আক্রান্তদের পরিবারে তৈরি হচ্ছে বাড়তি আর্থিক চাপ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিকিৎসার খরচ বহনের পাশাপাশি রোগীর আয় কমে বা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক পরিবার ধীরে ধীরে অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে পড়ছে।   শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে প্রফেসর নজরুল রিউমাটোলজি ফাউন্ডেশন অ্যান্ড রিসার্চ ট্রাস্টের আয়োজনে ‘১০ম রোগী শিক্ষা কার্যক্রম ও ১ম বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে’ বিশেষজ্ঞরা এসব তথ্য তুলে ধরেন।   জাতীয় গবেষণায় উদ্বেগজনক চিত্র: সম্মেলনে উপস্থাপিত গবেষণা অনুযায়ী, ২০১৫ সালের জাতীয় পর্যায়ের এক গবেষণায় দেখা যায়, দেশে ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের ৩০ দশমিক ৪ শতাংশ কোনো না কোনো ধরনের বাতরোগে আক্রান্ত। আক্রান্তদের মধ্যে ২৪ দশমিক ৮ শতাংশ শারীরিক প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হন। একই সময়ে ২৪ দশমিক ৪ শতাংশ রোগী বছরের কোনো একটি পর্যায়ে কর্মক্ষমতা হারানোর অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যান। বিশেষজ্ঞদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশে অস্টিওপোরোসিসের প্রাদুর্ভাব ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ। এই হার প্রায় ২ কোটি ১৫ লাখ মানুষের সমান। তারা বলেন, অসংক্রামক রোগ দেশের মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশের জন্য দায়ী হলেও দীর্ঘমেয়াদি অক্ষমতা তৈরি করতে পারে এমন বাতরোগ এখনো স্বাস্থ্যনীতিতে পর্যাপ্ত গুরুত্ব পাচ্ছে না।   বছরে চিকিৎসায় লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয়: সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পিএনআরএফআর ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান এবং শমরিতা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. নীরা ফেরদৌস। তিনি বলেন, বাতরোগের ক্ষেত্রে শুধু চিকিৎসার ব্যয়ই নয়, রোগীর কর্মক্ষমতা কমে যাওয়া বা আয় বন্ধ হয়ে যাওয়াও পরিবারের ওপর বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের চিকিৎসায় একজন রোগীর বছরে প্রায় ৪০ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। অন্যদিকে স্পন্ডাইলোআর্থ্রাইটিসের চিকিৎসা ব্যয় বছরে ৪০ হাজার থেকে ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।   দেরিতে চিকিৎসায় স্থায়ী ক্ষতির আশঙ্কা: পিএনআরএফআর ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ও বাতব্যথা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, সময়মতো রোগ শনাক্ত না হওয়া এবং যথাযথ চিকিৎসার অভাবে অনেক রোগী স্থায়ী পঙ্গুত্বের দিকে চলে যাচ্ছেন। এর ফলে শুধু রোগীর জীবনযাত্রাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না, পরিবারের ওপরও তৈরি হচ্ছে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক চাপ। তিনি বলেন, রোগীদের অসচেতনতা, চিকিৎসার ব্যয় বহনে অক্ষমতা এবং পর্যাপ্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও সংগঠিত স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের ঘাটতি বাতরোগের চিকিৎসার বড় বাধা। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যথানাশক ওষুধ সেবন না করার পরামর্শ দিয়ে তিনি সুষম খাবার গ্রহণ, নিয়মিত শরীরচর্চা, প্রয়োজনীয় সময়ে টিকা নেওয়া এবং চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী ওষুধ ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।   দুস্থ রোগীদের সহায়তার উদ্যোগ: অধ্যাপক নজরুল ইসলাম জানান, পিএনআরএফআর ট্রাস্টের উদ্যোগে এ পর্যন্ত অসচ্ছল রোগীদের ওষুধ, বিভিন্ন পরীক্ষা ও স্কলারশিপের জন্য ১ কোটি টাকার বেশি মানবিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। রোগীদের সহায়তায় ‘সাপোর্ট সেন্টার বুথ’ ও বিশেষ ‘সার্ভিস কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে দেশে একটি পূর্ণাঙ্গ রিউমাটোলজি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। সম্মেলনে অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, অধ্যাপক ডা. মো. মাহমুদ হোসেন, অধ্যাপক ডা. সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম, মেজর জেনারেল কাজী ইফতেখার-উল-আলম, ড. পিযুষ কান্তি বিশ্বাস, অতিরিক্ত সচিব মো. আমিনুর ইসলাম, মো. জহিরুল ইসলাম ও ড. আমিনুল ইসলামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের চিকিৎসক, বিশেষজ্ঞ ও কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ডেঙ্গু প্রতিরোধে ডিএনসিসির বিশেষ অভিযান, মাঠে নামছেন ১ হাজার ৫০০ কর্মী

জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে ডেঙ্গুর প্রকোপ ঠেকাতে বিশেষ অভিযান শুরু করছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।   শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) থেকে ২৪টি দলে ভাগ হয়ে ডিএনসিসির ১ হাজার ৫০০ কর্মী নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি বাড়ি পরিদর্শন, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, উৎসস্থল নির্মূল এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।   শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে ডিএনসিসি। ডিএনসিসি জানিয়েছে, শনিবার সকাল ৯টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরপরই ডিএনসিসির বিশেষ অভিযান শুরু হবে।   ডিএনসিসি জানায়, দিবসটি উপলক্ষে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ডিএনসিসির স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে একটি বিশেষ স্টল স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে নগরবাসীর জন্য ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও করণীয় সম্পর্কিত নানা উপকরণ প্রদর্শন করা হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে ডিএনসিসির অঞ্চল-৫, বিশেষ করে সংসদ ভবন ও এর পার্শ্ববর্তী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাসমূহে বিশেষ সোর্স রিডাকশন, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও লার্ভা নিধন কার্যক্রম চালানো হবে।   কার্যক্রম সফল করতে ডিএনসিসির স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে দেওয়া বিশেষ নির্দেশনায় জানানো হয়, অঞ্চল-২, ৩ ও ৪ থেকে নির্ধারিত সংখ্যক সুপারভাইজার ও মশক কর্মী সকালে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও অঞ্চল-৫-এর আশপাশের কেন্দ্রীয় কার্যক্রমে অংশ নেবেন।   তিন অঞ্চলের অবশিষ্ট কর্মী এবং অঞ্চল-১, ৬, ৭, ৮ ও ৯-সহ অন্যান্য সব অঞ্চলের কর্মীরা নিজ নিজ এলাকায় বিশেষ অভিযান চালাবেন। এতে চিহ্নিত হটস্পট ও এডিসের প্রজননস্থলগুলোকে দেওয়া হবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। সংশ্লিষ্ট সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে জনবল মোতায়েন ও অগ্রগতি সরাসরি তদারকি (মনিটর) করবেন।   ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ জানায়, আগামীকাল শুধু মশক নিধনই নয়-উৎস ধ্বংস, জমে থাকা পানি অপসারণ ও যথাযথ লার্ভিসাইড প্রয়োগের মাধ্যমে ‘সোর্স রিডাকশন’ কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
এক বছরের আগে শিশুকে মধু কেন নয়? জানুন ঝুঁকির কারণ

মধুকে সাধারণত প্রাকৃতিক ও স্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু শিশুদের ক্ষেত্রে এই ধারণা প্রযোজ্য নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এক বছরের কম বয়সি শিশুকে কোনোভাবেই মধু খাওয়ানো উচিত নয়। কারণ মধু থেকে এ বয়সি শিশুর বিরল হলেও গুরুতর একটি রোগ—ইনফ্যান্ট বোটুলিজম—হওয়ার ঝুঁকি থাকে।   মধুতে কী এমন আছে, যা শিশুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ? মধুর মধ্যে কখনো কখনো ক্লোস্ট্রিডিয়াম বোটুলিনাম নামের ব্যাকটেরিয়ার স্পোর থাকতে পারে। বড় শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের পরিপাকতন্ত্র সাধারণত এসব স্পোরের বিরুদ্ধে কার্যকরভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে। কিন্তু এক বছরের কম বয়সি শিশুর পাচনতন্ত্র এখনও পুরোপুরি পরিণত হয় না।   ফলে শিশু মধুর মাধ্যমে এসব স্পোর গ্রহণ করলে তা অন্ত্রে বৃদ্ধি পেতে পারে এবং ক্ষতিকর নিউরোটক্সিন তৈরি করতে পারে। এই বিষ শরীরের পেশি নিয়ন্ত্রণকারী স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করে। এর ফলেই দেখা দিতে পারে ইনফ্যান্ট বোটুলিজম।   তবে এর অর্থ এই নয় যে প্রতিটি মধুর বোতলেই এই ব্যাকটেরিয়ার স্পোর থাকে বা মধু খেলে প্রতিটি শিশুই অসুস্থ হয়ে পড়বে। ইনফ্যান্ট বোটুলিজম একটি বিরল রোগ। তারপরও এক বছরের কম বয়সি শিশুর জন্য মধু কোনো প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে না। তাই সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে এ বয়সে মধু সম্পূর্ণ বাদ দেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।   মধুকে অনেক সময় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো কিংবা সামগ্রিক সুস্বাস্থ্যের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। কিন্তু শিশুর ক্ষেত্রে মূল উদ্বেগ মধুর চিনি বা মিষ্টতা নয়; বরং এতে থাকা সম্ভাব্য ব্যাকটেরিয়ার স্পোর।   বিশ্বজুড়েও দেখা যাচ্ছে রোগটির উপস্থিতি শিশুদের বোটুলিজমের ঝুঁকিকে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ যে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে, তার প্রমাণ পাওয়া যায় সাম্প্রতিক বৈশ্বিক তথ্যেও। Pediatrics জার্নালে প্রকাশিত একটি পর্যালোচনায় যুক্তরাষ্ট্রসহ ১৮টি দেশে ২০০৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ইনফ্যান্ট বোটুলিজমের ২ হাজার ৯৪৩টি নিশ্চিত ঘটনা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।   গবেষণায় দেখা যায়, বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়াল স্ট্রেন এই রোগের জন্য দায়ী হতে পারে। এর মধ্যে টাইপ এ ও টাইপ বি বোটুলিনাম টক্সিনের ঘটনাই ছিল বেশি।   গবেষকদের মতে, ইনফ্যান্ট বোটুলিজম সম্পর্কে বিশ্বজুড়ে এখনও সচেতনতা তুলনামূলক কম। অনেক জায়গায় রোগটি শনাক্ত করার সীমিত সক্ষমতার কারণে প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া ঘটনাগুলোর চেয়েও বেশি হতে পারে।   শিশুর শরীরে কী ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে? ইনফ্যান্ট বোটুলিজমের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক লক্ষণ হলো কোষ্ঠকাঠিন্য। অনেক সময় শিশুর স্পষ্ট দুর্বলতা দেখা দেওয়ার আগেই এই সমস্যা শুরু হয়। এরপর ধীরে ধীরে অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে— কোষ্ঠকাঠিন্য খেতে বা দুধ পান করতে সমস্যা দুর্বলভাবে কান্না করা মুখের নড়াচড়া কমে যাওয়া চোখের পাতা ঝুলে পড়া মাথা ঠিকভাবে ধরে রাখতে না পারা গিলতে সমস্যা হওয়া বিষক্রিয়ার কারণে গিলতে ও শ্বাস নিতে ব্যবহৃত পেশিগুলোও দুর্বল হয়ে যেতে পারে। পরিস্থিতি গুরুতর হলে শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করার পাশাপাশি শ্বাস-প্রশ্বাসে সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে।   তাই এক বছরের কম বয়সি কোনো শিশুর মধ্যে অস্বাভাবিক দুর্বলতা, খাওয়ানোর সমস্যা, দুর্বল কান্না, কোষ্ঠকাঠিন্যের সঙ্গে দুর্বলতা কিংবা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতীকী ছবি
ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৭৯০

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আরও ২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং নতুন করে আরও ৭৯০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।   শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।   বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রাম বিভাগ (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে) এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় ১ জন করে মোট ২ জন মারা গেছেন। মৃতদের মধ্যে ১ জন পুরুষ এবং ১ জন নারী রয়েছেন।    একই সময়ে সারা দেশে নতুন ৭৯০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বিভাগভিত্তিক হিসাবে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ২৪৯ জন ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে (সিটি কর্পোরেশন বহির্ভূত)।    এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ১৯৬ জন, ময়মনসিংহে ৭৩ জন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে ৬২ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ৬১ জন, খুলনা বিভাগে ৬০ জন, রংপুরে ৩৮ জন, রাজশাহীতে ৩৩ জন এবং বরিশাল বিভাগে ১৮ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হওয়া আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষের হার ৬৫ দশমিক ৭ শতাংশ এবং নারী ৩৪ দশমিক ৩ শতাংশ।    অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৯,২২০ জনে। এর মধ্যে মোট মৃত্যু হয়েছে ১৪১ জনের এবং ছাড়পত্র পেয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪৫,৬৪৫ জন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ৩,৪৩৪ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।   মোট শনাক্ত আক্রান্তদের মধ্যে ৬২ দশমিক ৪ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭ দশমিক ৬ শতাংশ নারী হলেও মোট মৃত্যুর ক্ষেত্রে নারীদের হার বেশি, যা ৫২ দশমিক ১ শতাংশ।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ফাইল ছবি
হাম উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ জনের মৃত্যু

দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এতে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও উপসর্গে মোট মৃত্যু ১ হাজার ১২ জনে দাঁড়াল। এ ছাড়া গত একদিনে নতুন করে ১ হাজার ১১১ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ দেখা গেছে।   শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন মৃত্যু শিশুদের মধ্যে ২ জনই চট্রগ্রাম বিভাগের। এরমধ্যে একজন চট্রগ্রাম ও অন্যজন নোয়াখালীর। আর একজন শিশুর ঢাকায় মৃত্যু হয়েছে।    হালনাগাদ প্রতিবেদন আরও বলছে, নতুন আক্রান্ত নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত হাম উপসর্গে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৯ হাজার ৮২২ জনে। আর নিশ্চিত হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৯৬৭ জনে।   এছাড়া এই সময়ে হাম ও উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭১ জন। তবে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৮৬৪ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ডেঙ্গু ঠেকাতে নগরবাসীকে সচেতন হওয়ার আহ্বান মেয়র শাহাদাতের

ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সিটি করপোরেশনের মশক নিধন কার্যক্রমের ওপর নির্ভর না করে নগরবাসীকেও নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।   শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গার কমিশনার ঘাটা, দক্ষিণ পাড়া ও বাটারফ্লাই রোড এলাকায় পরিচ্ছন্নতা, মশক নিধন ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিদর্শনকালে তিনি এ আহ্বান জানান।   মেয়র বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ি ও আশপাশে কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না। বিশেষ করে প্রতি তিন দিন পরপর জমে থাকা পানি ফেলে দিতে হবে। বাসাবাড়ির আঙিনা, ছাদ, ফুলের টব, বালতি, ড্রাম, এসির নিচের অংশ এবং নির্মাণাধীন ভবন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে।   তিনি বলেন, বর্তমানে চট্টগ্রামে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। ফলে বিভিন্ন স্থানে পানি জমে এডিস মশার প্রজননের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। অল্প সময়ের মধ্যেই জমে থাকা পানিতে এডিস মশার লার্ভা জন্মাতে পারে। তাই পানি জমতে না দেওয়া এবং জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ করাই ডেঙ্গু প্রতিরোধের অন্যতম কার্যকর উপায়।   চসিকের মশক নিধন কার্যক্রম নিয়ে কোনো অভিযোগ থাকলে তা জানানোর আহ্বান জানিয়ে মেয়র বলেন, কোথাও ওষুধ ছিটানোর ক্ষেত্রে গাফিলতি বা অনিয়ম দেখা গেলে নাগরিকরা বিষয়টি সিটি করপোরেশনকে জানাতে পারবেন। ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ অ্যাপের মাধ্যমে সরাসরি অভিযোগ জানানোর সুযোগ রয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট এলাকায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   মেয়র আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে যত্রতত্র প্লাস্টিক, পলিথিন, ডাবের খোসা বা পরিত্যক্ত পাত্র ফেলে রাখা উচিত নয়। এসব বস্তুতে বৃষ্টির পানি জমে এডিস মশার বংশবিস্তারের উপযোগী পরিবেশ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি বাড়ির ছাদ, আঙিনা ও আশপাশের ঝোপঝাড় পরিষ্কার রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।   ডেঙ্গুতে প্রাণহানির ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে মেয়র বলেন, কোনো মানুষের মৃত্যু কাম্য নয়। ডেঙ্গুতে যাতে আর কোনো প্রাণহানি না ঘটে, সে লক্ষ্যে সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি নগরবাসীকেও সচেতন হতে হবে।   তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নগরবাসীর পাশে রয়েছে এবং ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তবে শুধু সরকারি উদ্যোগে এ রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। প্রত্যেক নাগরিক নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখলে এবং পানি জমতে না দিলে ডেঙ্গুর প্রকোপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব।   এ সময় চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. ইমাম হোসেন রানা, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
রোগীদের সঙ্গে কথা বলছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মো. সাখাওয়াত হোসেন। আজ শুক্রবার সকালে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
মুগদা হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, বাইরে পরীক্ষা করানোর অভিযোগ

অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শনে গেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। আজ শুক্রবার সকালে তিনি হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন এবং চিকিৎসক ও রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি ডেঙ্গু ওয়ার্ডও পরিদর্শন করেন। হাসপাতালে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও রোগীদের বাইরে থেকে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে- এমন অভিযোগ পান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, এতে রোগীদের নিজেদের পকেট থেকে টাকা খরচ হচ্ছে। অথচ রোগীদের চিকিৎসার জন্য সরকার অর্থ দিচ্ছে এবং হাসপাতালেই প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করার সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। সাখাওয়াত হোসেন বলেন, মুগদা হাসপাতালে ডেঙ্গু শনাক্তকরণের প্রয়োজনীয় সব পরীক্ষা রয়েছে। পরিদর্শনের সময় রোগীদের কাগজপত্র দেখে এবং তাদের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পেরেছেন, অনেক রোগীকে বাইরে থেকে পরীক্ষা করানো হচ্ছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালটিকে প্রয়োজনীয় সহায়তাও দেওয়া হয়েছে। এরপরও রোগীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সম্প্রতি হাসপাতালের সেবার মান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেবাপ্রত্যাশীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। বিষয়টি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নজরে এলে তিনি নিজেই সরেজমিনে হাসপাতাল পরিদর্শনে যান। পরিদর্শনের সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে রোগীরা তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তারা হাসপাতালের সেবার মান উন্নত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
জ্বর হলে কি গোসল করা উচিত? জানুন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

আবহাওয়া পরিবর্তনের সময় জ্বর হয় ঘরে ঘরে৷ তবে জানেন কি, জ্বর নিজে কোনও রোগ নয়? বরং শরীরে কোনও সংক্রমণ হলে তার বিরুদ্ধে লড়াই করার সময় এটি শরীরের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া।    বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও পানি খেলে জ্বর ধীরে ধীরে সেরে যায়। কিন্তু জ্বরের সময় প্রতিদিনের কিছু সাধারণ ভুল সুস্থ হওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়৷    জ্বর হলে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায় এবং ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি বেরিয়ে যেতে পারে। ফলে ডিহাইড্রেশন বা শরীরে জলের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তাই জ্বরের সময় নিয়মিত অল্প অল্প করে জল খেতে থাকুন। পাশাপাশি ORS, ডাবের পানি, হালকা স্যুপ কিংবা তাজা ফলের রস খেতে পারেন। এতে মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা ও দুর্বলতার মতো সমস্যা এড়ানো সম্ভব।   সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার সময় শরীরের বেশিরভাগ শক্তি রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় রাখতে ব্যয় হয়। ফলে হজমের প্রক্রিয়াও কিছুটা ধীর হয়ে যেতে পারে। তাই জ্বরের সময় ভাজাভুজি, অতিরিক্ত মশলাদার বা ভারী খাবার এড়িয়ে চলুন। তার পরিবর্তে ভাত, খিচুড়ি, ডাল, পায়েস বা জাউয়ের মতো হালকা ও সহজপাচ্য খাবার খেতে পারেন। টোস্টও খাওয়া যেতে পারে।   জ্বর কমানোর জন্য বরফঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করা উপকারী, এমন ধারণা ঠিক নয়। বরং অতিরিক্ত ঠান্ডা জল শরীরে কাঁপুনি তৈরি করতে পারে এবং এর ফলে শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা আরও বেড়ে যেতে পারে। তাই জ্বরের সময় ঠান্ডা জলের পরিবর্তে হালকা গরম বা কুসুম গরম জলে স্নান করুন। প্রয়োজনে কুসুম গরম জলে কাপড় ভিজিয়ে শরীর মুছেও নিতে পারেন।   জ্বর সারাতে শুধু ওষুধ খাওয়াই যথেষ্ট নয়। শরীরকে সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য পর্যাপ্ত বিশ্রাম, পুষ্টিকর খাবার এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ প্রয়োজন। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার সুযোগ দিতে পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম নিন।    হালকা জ্বর হলেও নিজের ইচ্ছামতো ওষুধ খাওয়ার পরিবর্তে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু করলে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
হাম প্রতিরোধে ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন টিকাদান কর্মসূচির ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

হামের সংক্রমণ মোকাবেলায় আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে দেশে আবারও হামের টিকাদান কার্যক্রম শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।        বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার ধানমণ্ডির ইউনিভার্সিটি উইমেন্স ফেডারেশনে অ্যাসোসিয়েশন ফর ডিজঅ্যাবলড পিপল (এডিপি) ও রোটারি ক্লাব আহসান মঞ্জিল আয়োজিত ‘বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান তিনি।   স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যে অধিকাংশ টিকা ইউনিসেফের মাধ্যমে দেশে এসে পৌঁছেছে। অবশিষ্ট টিকাও আগামী ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশে পৌঁছাবে।       তিনি বলেন, হামের টিকাদান ক্যাম্পেইন শেষ করার পরও যখন সংক্রমণ অব্যাহত থাকার বিষয়টি দেখা যায়, তখন সরকার মপ-আপ কার্যক্রম পরিচালনা করে। এ কার্যক্রমের আওতায় নতুন করে ১৪ লাখ শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হয়েছে।     তিনি বলেন, বিগত সরকার দেশে কোনো টিকা রেখে যায়নি। এমন পরিস্থিতিতে বর্তমান সরকার মাত্র ২১ দিনের মধ্যে ১ কোটি ৮৫ লাখ শিশুর জন্য টিকা সংগ্রহ করে টিকাদান কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
পাথরকুচি পাতা একটি অত্যন্ত পরিচিত ঔষধি উদ্ভিদ।
পাথরকুচি পাতার ১১ অসাধারণ গুণ

পাথরকুচি পাতা একটি অত্যন্ত পরিচিত ঔষধি উদ্ভিদ, যা ঔষধি গুণাগুণের জন্য গ্রামীণ চিকিৎসা ও আয়ুর্বেদে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এটি বিশেষ করে কিডনির পাথর দূর করতে এবং মূত্রনালির নানা সমস্যা নিরাময়ে দারুণ কার্যকর বলে পরিচিত। চলুন জেনে নেওয়া যাক, পাথরকুচি পাতার প্রধান প্রধান উপকারিতা ও এর ব্যবহার—   ১. মূত্রনালি ও কিডনির সমস্যা দূরীকরণে কিডনির পাথর অপসারণ পাথরকুচি পাতার রস কিডনি ও গলব্লাডারের পাথর গলাতে সাহায্য করে থাকে। সাধারণত সকালে খালি পেটে ২-৩টি পাতা চিবিয়ে বা রস করে খাওয়া হয়। মূলত কিডনির পাথর অপসারণে পাথরকুচি পাতা সাহায্য করে থাকে।    ২. মূত্রনালির সংক্রমণ দূর করে এটি ডায়াবেটিস রোগ নিরাময়ে কাজ করে শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন বের করে দেয়। এ ছাড়া  প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া ও ইনফেকশন কমাতে এ পাতার রস অত্যন্ত কার্যকরী।    ৩. পেটের সমস্যা ও হজম প্রক্রিয়া পেট ফাঁপা ও গ্যাস পেট ফুলে যাওয়া বা প্রস্রাব আটকে থাকার মতো সমস্যায় সামান্য চিনির সঙ্গে ১-২ চামচ পাথরকুচির পাতার রস হালকা গরম করে পানির সঙ্গে মিশিয়ে খেলে আরাম পাওয়া যায়।   ৪. ডায়রিয়া ও আমাশয় জন্ডিস বা লিভারের সমস্যাসহ রক্ত আমাশয় ও সাধারণ ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রণে এ পাতার রস হালকা গরম পানির সঙ্গে খাওয়ার চল রয়েছে।    ৫. ঠাণ্ডা ও ত্বকের যত্ন পুরোনো সর্দি-কাশি পুরোনো সর্দি ও কাশির সমস্যায় পাতার রস হালকা গরম করে মধুর সঙ্গে মিশিয়ে দিনে দুবার খেলে উপকার পাওয়া যায়।   ৬. ক্ষত ও ফোঁড়া ত্বকের কোনো স্থানে ফোঁড়া হলে বা মাংসপেশি থেঁতলে গেলে পাথরকুচি পাতা বেটে সরাসরি প্রলেপ দিলে দ্রুত উপশম হয়।    ৭. ত্বকের যত্নে পাথরকুচি পাতায় প্রচুর পরিমাণে পানি থাকে, যা ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। সঙ্গে সঙ্গে এর মধ্যে জ্বালা-পোড়া কমানোর ক্ষমতা থাকে। যারা ত্বক সম্পর্কে অনেক সচেতন, তারা পাথরকুচি পাতা বেটে ত্বকে লাগাতে পারেন। ব্রণ ও ফুস্কুড়ি জাতীয় সমস্যা দূর হয়ে যাবে।   ৮. পাইলস ও অর্শ রোগ পাথরকুচি পাতার রসের সঙ্গে গোলমরিচ মিশিয়ে পান করলে পাইলস ও অর্শ রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।      ৯. জন্ডিস নিরাময়ে পাথরকুচি পাতা জন্ডিসের মহৌষধ। লিভারের যে কোনো সমস্যা থেকে রক্ষা করতে তাজা পাথরকুচি পাতা ও এর জুস অনেক উপকারী।   ১০. উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ আমরা তো জানি, পাথরকুচি পাতার গুণাগুণ। কিন্তু উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে এবং মূত্রথলির সমস্যা থেকে পাথরকুচি পাতা তুলনা হয় না। চিরতরে মুক্তি দিতে পারে এই পাতা মূত্রথলির সমস্যা থেকে।   ১১. শরীর জ্বালাপোড়া দুই চামচ পাথর কুচি পাতার রস আধাকাপ গরম পানিতে মিশিয়ে দু’বেলা সেবনে  শরীরের জ্বালাপোড়া দূর হয়।   কিছু জরুরি সতর্কতা প্রতিদিন ৪-৫টির বেশি পাথরকুচি পাতা খাওয়া উচিত নয়। এ ছাড়া গর্ভবতী নারী, স্তন্যদায়ী মা এবং শিশুদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এটি খাওয়ানো একদম নিষেধ। দীর্ঘমেয়াদি যে কোনো চিকিৎসায় ভেষজ উপাদান ব্যবহারের আগে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক। 

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
প্রতীকী ছবি
স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সহায়ক যে ১০ খাবার

প্রতিদিনের ব্যস্ততায় আমরা প্রায়ই লক্ষ করি যে, আমাদের মনোযোগ কমে যাচ্ছে বা প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো মনে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। কিন্তু আপনি কি জানেন, আপনার খাদ্যাভ্যাস সরাসরি আপনার মস্তিষ্কের গঠন এবং কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করে? সঠিক কিছু খাবার আপনার স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি, মনোযোগ রক্ষা এবং মেজাজ ফুরফুরে রাখতে চমৎকার ভূমিকা রাখতে পারে।   দুর্ভাগ্যবশত, আমাদের অনেকেরই দৈনন্দিন খাবারে ওমেগা-৩ বা কোলাইনের মতো মস্তিষ্কের জন্য অপরিহার্য উপাদানের ঘাটতি থেকে যায়, যা স্মৃতিশক্তি ও চিন্তার গতি কমিয়ে দেয়। এমনকি আমাদের অন্ত্র বা ‘দ্বিতীয় মস্তিষ্ক’ সুস্থ না থাকলে তা আমাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ও মেজাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। স্মৃতিশক্তিকে শাণিত করতে এবং দীর্ঘমেয়াদে মস্তিষ্ককে সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখতে সহায়ক এমন ১০টি বিশেষ খাবার নিয়ে সাজানো হয়েছে আমাদের আজকের ফিচার।   ১. তৈলাক্ত মাছ মস্তিষ্কের জন্য অন্যতম সেরা খাবার হলো সামুদ্রিক তৈলাক্ত মাছ। এতে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে, যা মস্তিষ্কের কোষের গঠন এবং স্নায়ুকোষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি বিষণ্নতা এবং উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করে।   ২. ডিম   ডিমকে বলা হয় স্মৃতিশক্তি ও শেখার ক্ষমতার জন্য আদর্শ খাবার। এটি কোলাইন নামক উপাদানের সেরা উৎস, যা অ্যাসিটাইলকোলিন তৈরি করে; এটি স্মৃতিশক্তি এবং দ্রুত চিন্তা করার ক্ষমতা ধরে রাখে। এ ছাড়া ডিমের ট্রিপটোফ্যান নামক অ্যামাইনো অ্যাসিড মন ভালো রাখার হরমোন ‘সেরোটোনিন’ তৈরিতে সাহায্য করে।   ৩. বেরি জাতীয় ফল স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি বা ব্ল্যাকবেরি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পাওয়ার হাউস। এর ফ্লেভোনয়েড উপাদান মস্তিষ্কের কোষকে ক্ষতি থেকে রক্ষা করে এবং নতুন মস্তিষ্কের কোষ তৈরিতে উদ্দীপনা দেয়। এটি বয়সজনিত মানসিক অবক্ষয় রোধেও কার্যকর।   ৪. অ্যাভোকাডো পুষ্টিবিদদের মতে, এটি বিশ্বের অন্যতম নিখুঁত খাবার। এতে থাকা মনো-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট স্মৃতিশক্তি ও শেখার ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে [৯]। এর টাইরোসিন উপাদান আপনাকে কাজে মনোযোগী ও অনুপ্রাণিত রাখতে ভূমিকা রাখে।   ৫. কেল (সবুজ শাক) কেল বা এই জাতীয় সবুজ শাক পুষ্টির বোমা হিসেবে পরিচিত। এতে থাকা ভিটামিন ‘কে’ মৌখিক স্মৃতিশক্তি উন্নত করে এবং ভিটামিন ‘সি’ প্রাকৃতিক অ্যান্টি-ডিপ্রেসেন্ট হিসেবে কাজ করে।   ৬. সামুদ্রিক শৈবাল আয়োডিন ও ভিটামিন বি-১২ এর চমৎকার উৎস হলো সামুদ্রিক শৈবাল। আয়োডিন বুদ্ধিমত্তা বা আইকিউ বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। এতে থাকা টাউরিন নামক অ্যামাইনো অ্যাসিড মানসিক চাপ কমিয়ে মনকে শান্ত ও প্রফুল্ল রাখে।   ৭. ডার্ক চকোলেট চকোলেটে থাকা ‘আনন্দমাইড’ নামক উপাদান মনকে পরম শান্তিতে ভরিয়ে দেয় [১৭]। এর সামান্য ক্যাফেইন স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে, তবে এটি আপনাকে অস্থির করে তোলে না।   ৮. আখরোট মস্তিষ্কের জন্য আখরোট হলো বাদামের মধ্যে সেরা। এতে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাট মস্তিষ্কের প্রদাহ কমায় এবং শেখার ক্ষমতা ও স্মৃতিশক্তিকে পুনরুজ্জীবিত করে।   ৯. হলুদ রান্নার এই অতিপরিচিত মসলাটি বিষণ্নতা রোধে ওষুধের চেয়েও ভালো কাজ করতে পারে। এর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি গুণ মস্তিষ্ককে সুরক্ষা দেয়।   ১০. অলিভ অয়েল অলিভ অয়েল বা জলপাইয়ের তেল স্মৃতিশক্তি এবং অন্যান্য জ্ঞানীয় ফাংশন উন্নত করে। এটি মস্তিষ্কে আলঝেইমার রোগের জন্য দায়ী প্রোটিন পরিষ্কার করতে সাহায্য করে।   সঠিক ডায়েট এবং পুষ্টিকর খাবার আপনার মস্তিষ্ককে কেবল সচলই রাখে না, বরং এটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ থেকে মুক্তি দিয়ে জীবনকে করে তোলে আনন্দময়।   নিউরো হেলথ অবলম্বনে

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ডেঙ্গুতে একদিনে ৯ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৫৭১

দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা চলতি বছরে এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৫৭১ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।   মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।   মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩০: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট ১৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে আগস্টে ৪৩ জন এবং সেপ্টেম্বরের প্রথম সাত দিনে ৩৩ জন মারা গেছেন।   এ ছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।   হাসপাতালে ভর্তি ৪৫ হাজারের বেশি: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ১ হাজার ৫৭১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন।   এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৫ হাজার ৪৭৫ জনে।   একই সময়ে চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন ১ হাজার ৪১৮ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন মোট ৪২ হাজার ১২৭ জন।   ঢাকায় রোগী সবচেয়ে বেশি: গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন করে ৭৩৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।   এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ১৭৭ জন, খুলনায় ২৪২ জন, বরিশালে ১৪২ জন, রাজশাহীতে ১১৬ জন এবং ময়মনসিংহে ৭৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।   চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যু ও হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মশাবাহিত এই রোগ প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
মাতৃমৃত্যু কমানো ও নবজাতকের টিটেনাস নির্মূলে বাংলাদেশের প্রশংসা ডব্লিউএইচওর

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অনুযায়ী ২০৩০ সালের নির্ধারিত সময়সীমার আগেই মাতৃমৃত্যুর হার কমানোর লক্ষ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করায় বাংলাদেশের প্রশংসা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।   মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) পূর্ব তিমুরের রাজধানী দিলিতে ডব্লিউএইচওর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া আঞ্চলিক কমিটির ৭৯তম অধিবেশনে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের হাতে সংস্থাটির অভিনন্দনপত্র তুলে দেন মহাপরিচালক ড. টেড্রোস আধানম ঘেব্রেয়েসুস।   অভিনন্দনপত্রে ডব্লিউএইচও উল্লেখ করেছে, মাতৃমৃত্যু কমানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্জন জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। সরকারের দৃঢ় নেতৃত্ব, কার্যকর স্বাস্থ্যনীতি, সংগঠিত প্রজনন ও মাতৃস্বাস্থ্য কর্মসূচি এবং সাধারণ মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার অগ্রগতির ফলে এ সাফল্য এসেছে।   সংস্থাটির মতে, দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীর মাধ্যমে নিরাপদ প্রসব ও ধাত্রীসেবা নিশ্চিত করা, জনগণের সম্পৃক্ততা এবং বিভিন্ন অংশীদারের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করাও মাতৃমৃত্যু কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।   এ ছাড়া গত এক দশক ধরে মা ও নবজাতকের ধনুষ্টংকার (টিটেনাস) নির্মূলের অবস্থান ধরে রাখায় বাংলাদেশকে আলাদাভাবে অভিনন্দন জানিয়েছে ডব্লিউএইচওর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া আঞ্চলিক কার্যালয়।   ডব্লিউএইচও বলেছে, শক্তিশালী জাতীয় অঙ্গীকার, কার্যকর ও মানসম্মত টিকাদান কর্মসূচি এবং দেশব্যাপী নিরাপদ প্রসবের চর্চা মা ও নবজাতকের টিটেনাস নির্মূলে বাংলাদেশের সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি। একই সঙ্গে বাংলাদেশের এ অর্জন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে মা ও নবজাতকের টিটেনাস নির্মূলের অগ্রগতি ধরে রাখার সম্মিলিত প্রচেষ্টাকেও এগিয়ে নিচ্ছে।   বাংলাদেশ সরকারের এই অর্জন এবং বিশেষ করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ভূমিকার স্বীকৃতিকে সম্মানের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ এসব জনস্বাস্থ্য সাফল্যের জন্য বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানিয়েছে সংস্থাটি।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে নিশ্চিত হামে ১০০ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ৮৯৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৯৪ জনে।   রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, শনিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে চট্টগ্রাম, খুলনা ও সিলেট বিভাগে একজন করে মারা গেছেন।   এ সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ৪৩ জন রোগী এসেছে। তাদের মধ্যে ৯৫৪ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।   বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে ৩১৯ জন, রাজশাহীতে ২৩, সিলেটে ১১২, চট্টগ্রামে ২৩৮, বরিশালে ১১৬, ময়মনসিংহে ৪৮, খুলনায় ৮৫ এবং রংপুরে ১৩ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।   স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৪৪ হাজার ১৬৮ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৭৭২ জন চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে।   গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে সন্দেহজনক হামের রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৪ হাজার ১৪৮ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছেন ১৯ হাজার ৬৯৬ জন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
সেপ্টেম্বরের শেষেই বাড়তে পারে ডেঙ্গুর প্রকোপ: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এ এম এ মুহিত বলেছেন, চলতি মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে পারে এবং সতর্ক না হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।   রবিবার বিকেলে জাতীয় সংসদের টানেলে এক ব্রিফিংয়ে এ সতর্কবার্তা দেন তিনি।   স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। তথ্য ও ডাটার ভিত্তিতে দেখা যাচ্ছে, সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে পারে। তাই অক্টোবরের আগেই সবাইকে সতর্ক হতে হবে। তা না হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।   তিনি বলেন, আগের বছরের তুলনায় এ বছর এখনো ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা কম। তবে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগামীকাল থেকে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মাঠপর্যায়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যক্রম জোরদার করা হবে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।   ডেঙ্গু প্রতিরোধে গণমাধ্যমকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে ড. এ এম এ মুহিত বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে হাসপাতালসহ সব জায়গা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকাকে মশার প্রজননস্থলমুক্ত রাখতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।   প্রতিমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়। জনগণকে সম্পৃক্ত করেই মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
স্বাস্থ্য খাতে ৭৩ হাজার শূন্য পদ পূরণে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু

দেশের সরকারি স্বাস্থ্যসেবায় জনবল সংকট কাটাতে শূন্য পদগুলো পূরণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ধাপে ধাপে নিয়োগ কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।   ইতোমধ্যে ১৩ থেকে ১৬তম গ্রেডের বিভিন্ন পদে জরুরি ভিত্তিতে নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের ঘোষিত এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য খাতে জনবল সংকট কমাতে আগামী তিন মাসের মধ্যে ৭ হাজার ৫০০ চিকিৎসক ও ৫ হাজার নার্স নিয়োগের উদ্যোগ রয়েছে। এরই মধ্যে ৪৮তম বিসিএসের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া ১৮৪ চিকিৎসক আগামী ৭ সেপ্টেম্বর কাজে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। তাদের মধ্যে ১৬৫ জন সহকারী সার্জন এবং ১৯ জন সহকারী ডেন্টাল সার্জন। অনুমোদিত পদের প্রায় এক তৃতীয়াংশই খালি স্বাস্থ্য খাতের জনবল পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরে অনুমোদিত পদের সংখ্যা ২ লাখ ৩৪ হাজার ২৪টি। এর মধ্যে খালি রয়েছে ৭৩ হাজার ৪৫টি পদ, যা মোট অনুমোদিত পদের ৩১ দশমিক ২১ শতাংশ। এই বড় ধরনের জনবল ঘাটতি পূরণে গত ৩০ জুন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে কর্মরত জনবল এবং শূন্য পদের হালনাগাদ তথ্য চাওয়া হয়। এরপর গত ২০ আগস্ট স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক প্রশাসন অধ্যাপক জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমীর স্বাক্ষরিত চিঠিতে দেশের বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়। ৩৪ হাজারের বেশি পদ দ্রুত পূরণের উদ্যোগ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন হাসপাতাল ও অন্যান্য স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ৩৪ হাজার ৭১৪টি পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে ১১ থেকে ১৬তম গ্রেডে ২০ হাজার ৮১৬টি এবং ১৭ থেকে ২০তম গ্রেডে ১৩ হাজার ৩৮৯টি পদ খালি রয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এসব পদ দ্রুত পূরণের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চিঠি দিয়েছে। আগে যেসব প্রতিষ্ঠানে শূন্য পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ও আবেদন নেওয়া হলেও নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হয়নি, সেসব ক্ষেত্রেও নতুন করে কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র নিয়ে পুনরায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং আগের আবেদনকারীদের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত প্রক্রিয়া শেষ করার কথা বলা হয়েছে। নিয়োগ নিয়ে কোনো মামলা বা প্রশাসনিক জটিলতা থাকলে সেগুলোও দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। ধাপে ধাপে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানিয়েছেন, তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে শূন্য পদ পূরণের কার্যক্রম ইতোমধ্যে অনেকটা এগিয়েছে। জনবল নিয়োগের অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। অর্থ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়ার পর ধাপে ধাপে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। এদিকে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের ১ হাজার ৮৫৫টি পদে নিয়োগের জন্য আগের ছাড়পত্রের মেয়াদ ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে অধিদপ্তরের সদর দপ্তরে ১৭ ক্যাটাগরিতে ১ হাজার ৬৬৭টি এবং জেলা পর্যায়ে চার ক্যাটাগরিতে ১৮৮টি পদ রয়েছে। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে পর্যায়ক্রমে এক লাখ দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৮০ শতাংশ নারী স্বাস্থ্যকর্মী রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে মানুষের দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে শক্তিশালী প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী বলেছেন, ইশতেহার অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে বিদ্যমান শূন্য পদ পূরণ করে স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা বাড়ানোই এখন এই কার্যক্রমের অন্যতম লক্ষ্য।

মোঃ নাহিদ হোসেন সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৬
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সপ্তাহের সেরা

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
জাতীয়

বাংলাদেশিদের জন্য ওমানের শ্রমবাজার উন্মুক্ত করতে ঢাকায় বৈঠক

মোঃ নাহিদ হোসেন সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬