প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যসেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে দেশের উদীয়মান ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা প্ল্যাটফর্ম ‘অল সমাধান’। একটি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে অ্যাম্বুলেন্স বুকিং, ওষুধ সরবরাহ, ফার্মেসি নেটওয়ার্ক এবং সম্পূর্ণ বিনামূল্যের রক্তদাতা সংযোগ সেবা একত্রে প্রদান করে প্রতিষ্ঠানটি স্বাস্থ্যসেবায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।
স্বল্প সময়ের মধ্যেই অল সমাধান সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। বর্তমানে প্ল্যাটফর্মটিতে ১৫ হাজারেরও বেশি নিবন্ধিত ব্যবহারকারী রয়েছেন। একই সঙ্গে ৭৫০টির বেশি পার্টনার ফার্মেসি, ৩৫০টি অ্যাম্বুলেন্স এবং প্রায় ১,০০০ জন স্বেচ্ছাসেবী রক্তদাতা অল সমাধানের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সেবা প্রদান করছেন। প্রতিদিনই এই নেটওয়ার্ক আরও সম্প্রসারিত হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ জন নতুন ব্যবহারকারী অল সমাধান অ্যাপে নিবন্ধিত হচ্ছেন। পাশাপাশি প্রতিদিন ৩০ থেকে ৩৫ টি নতুন ফার্মেসি পার্টনার হিসেবে যুক্ত হচ্ছে। দ্রুত এই প্রবৃদ্ধি ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবার প্রতি মানুষের বাড়তে থাকা আস্থা এবং প্রয়োজনীয়তারই প্রতিফলন।
বাংলাদেশে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে এখনো অনেক মানুষ নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হন। প্রয়োজনের মুহূর্তে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া, রাতের বেলায় প্রয়োজনীয় ওষুধ সংগ্রহ করা কিংবা জরুরি রক্তের ব্যবস্থা করা অনেক সময়ই রোগী ও তার পরিবারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। অল সমাধান এই বাস্তব সমস্যাগুলোর কার্যকর সমাধান দিতে প্রযুক্তিনির্ভর একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে।
অল সমাধান অ্যাপের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা খুব সহজেই নিকটস্থ পার্টনার ফার্মেসিতে প্রেসক্রিপশন পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ওষুধ অর্ডার করতে পারেন। একই সঙ্গে নিকটবর্তী অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করে বুকিং নিশ্চিত করা যায়। এছাড়া জরুরি রক্তের প্রয়োজন হলে রক্তের গ্রুপ অনুযায়ী স্বেচ্ছাসেবী রক্তদাতার সঙ্গে তাৎক্ষণিক যোগাযোগের সুযোগও রয়েছে।
অল সমাধানের অন্যতম মানবিক উদ্যোগ হলো সম্পূর্ণ বিনামূল্যের রক্তদাতা সংযোগ সেবা। বর্তমানে প্ল্যাটফর্মটিতে প্রায় ১ হাজার স্বেচ্ছাসেবী রক্তদাতা নিবন্ধিত রয়েছেন। এই সেবার জন্য রোগী, স্বজন কিংবা রক্তদাতার কাছ থেকে কোনো ধরনের নিবন্ধন ফি বা সেবা চার্জ নেওয়া হয় না। মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে পরিচালিত এই উদ্যোগের মাধ্যমে জরুরি সময়ে দ্রুত রক্তদাতা খুঁজে পেতে মানুষকে সহায়তা করা হচ্ছে।
ওষুধ সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও সহজ ও নির্ভরযোগ্য করতে অল সমাধান সারাদেশে একটি শক্তিশালী ফার্মেসি পার্টনার নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে। বর্তমানে ৭৫০টিরও বেশি ফার্মেসি এই প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে এবং প্রতিদিন নতুন নতুন ফার্মেসি অংশীদার হিসেবে যুক্ত হচ্ছে। এর ফলে ব্যবহারকারীরা নিজ এলাকার বিশ্বস্ত ফার্মেসি থেকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ওষুধ সংগ্রহ বা ডেলিভারির সুবিধা পাচ্ছেন। দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ফার্মেসিগুলোকে ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে যুক্ত করতে অল সমাধান একটি বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
প্রতিষ্ঠানটি পার্টনার ফার্মেসিগুলোকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অল সমাধানের অ্যাপ ব্যবহারের সুযোগ দিচ্ছে। পাশাপাশি ফার্মেসিগুলোর পরিচিতি বৃদ্ধি, নতুন গ্রাহক তৈরি এবং বিক্রি বাড়াতে বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল ও অফলাইন মার্কেটিং সহায়তাও প্রদান করছে। এর মধ্যে রয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা, প্রচারণামূলক ক্যাম্পেইন এবং স্থানীয় পর্যায়ে ব্র্যান্ডিং কার্যক্রম।
অল সমাধান কর্তৃপক্ষের মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে একদিকে ফার্মেসিগুলোর ব্যবসায়িক সক্ষমতা ও আয় উভয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষও তাদের নিকটস্থ বিশ্বস্ত ফার্মেসি থেকে দ্রুত ও সহজে প্রয়োজনীয় ওষুধ সংগ্রহের সুযোগ পাচ্ছেন।
অ্যাম্বুলেন্স সেবার ক্ষেত্রেও অল সমাধান দ্রুত নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করছে। বর্তমানে ৩৫০টি অ্যাম্বুলেন্স প্ল্যাটফর্মটির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। জরুরি মুহূর্তে রোগী ও অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে দ্রুত সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে মূল্যবান সময় বাঁচাতে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। রাজধানীর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও এই নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। অ্যাম্বুলেন্স সেবাকে আরও দ্রুত, সুশৃঙ্খল ও সহজলভ্য করতে ঢাকা মেডিকেল বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রাঙ্গণে অল সমাধানের দুটি অ্যাম্বুলেন্স সেবা বুথ চালু হয়েছে। এই বুথের মাধ্যমে রোগী ও স্বজনরা জরুরি মুহূর্তে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সের তথ্য, বুকিং ও সমন্বয় সেবা পাচ্ছেন।
এই উদ্যোগের ফলে রোগী পরিবহনে সময় কমবে, সেবার স্বচ্ছতা বাড়বে এবং প্রয়োজনের মুহূর্তে নির্ভরযোগ্য অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া আরও সহজ হবে।
শুধু স্বাস্থ্যসেবা নয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে অল সমাধান। প্ল্যাটফর্মটির ডেলিভারি ম্যান (ডেলিভারি পার্টনার) হিসেবে যুক্ত হয়ে দেশের অনেক তরুণ নিয়মিত আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, বেকার যুবক এবং খণ্ডকালীন কাজ করতে আগ্রহীদের জন্য এটি একটি সম্ভাবনাময় আয়ের মাধ্যম হিসেবে গড়ে উঠছে। নিজস্ব মোটরসাইকেল বা সাইকেল ব্যবহার করে ওষুধসহ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসামগ্রী পৌঁছে দিয়ে তারা আয় করতে পারছেন।
ফলে একদিকে যেমন গ্রাহকরা দ্রুত সেবা পাচ্ছেন, অন্যদিকে তরুণদের জন্য স্বনির্ভর হওয়ার নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে। অল সমাধান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় আরও বেশি ডেলিভারি পার্টনার যুক্ত করে এই কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ করা হবে।
অল সমাধান শুধুমাত্র অ্যাম্বুলেন্স, ওষুধ ও রক্তদাতা সংযোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। মাই হেল্থ (My Health)-এর সহযোগিতায় প্ল্যাটফর্মটির মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নার্সিং কেয়ার, ফিজিওথেরাপি, কেয়ারগিভার সেবা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ (ডাক্তার কনসালটেশন)-সহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা সহজেই গ্রহণ করতে পারছেন। এর ফলে একটি মাত্র প্ল্যাটফর্ম থেকেই প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন সমাধান পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি, দীর্ঘমেয়াদি রোগী, অস্ত্রোপচার-পরবর্তী সেবাপ্রার্থী এবং বাসায় স্বাস্থ্যসেবা প্রয়োজন এমন রোগীদের জন্য এই সেবাগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
অল সমাধান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে আরও নতুন স্বাস্থ্যসেবা যুক্ত করে একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে দেশের মানুষ এক প্ল্যাটফর্ম থেকেই প্রয়োজনীয় অধিকাংশ স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করতে পারেন।
প্রযুক্তিগত দিক থেকেও অল সমাধান নিয়মিত উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা উন্নয়ন, দ্রুত সেবা নিশ্চিতকরণ, নিরাপদ তথ্য ব্যবস্থাপনা, পার্টনার ম্যানেজমেন্ট এবং আরও কার্যকর অর্ডার প্রসেসিং সিস্টেম গড়ে তুলতে অ্যাপটিতে ধারাবাহিকভাবে নতুন ফিচার সংযোজন করা হচ্ছে।
ব্র্যান্ড পরিচিতি বৃদ্ধি এবং সেবার পরিধি সম্প্রসারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, হাসপাতাল ও ফার্মেসিভিত্তিক প্রচারণা, অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের সঙ্গে সমন্বয় এবং বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে অল সমাধান। পাশাপাশি নতুন পার্টনার, ডেলিভারি সহযোগী এবং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করার কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।
আগামী দিনে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় তাদের সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি আরও বেশি অ্যাম্বুলেন্স, ফার্মেসি, স্বেচ্ছাসেবী রক্তদাতা এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে একই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আওতায় এনে একটি পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা ইকোসিস্টেম গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে অ্যাম্বুলেন্স, ওষুধ, ফার্মেসি এবং বিনামূল্যের রক্তদাতা সংযোগ এই চারটি গুরুত্বপূর্ণ সেবাকে একটি অ্যাপের মাধ্যমে একত্রে প্রদান করার উদ্যোগ দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে আরও সহজ, দ্রুত এবং কার্যকর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বর্তমান অগ্রগতির সংক্ষিপ্ত চিত্র:
স্বাস্থ্যসেবায় সময়ই সবচেয়ে মূল্যবান। সেই উপলব্ধি থেকেই অল সমাধান প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে একটি নির্ভরযোগ্য, সহজলভ্য এবং মানবিক স্বাস্থ্যসেবা প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির বিশ্বাস, সময়মতো সঠিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা গেলে অসংখ্য মানুষের জীবন রক্ষা করা সম্ভব, আর সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নেই তাদের এই ধারাবাহিক উদ্যোগ
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বিগত সরকারের সময় ‘পরিকল্পনা ছাড়াই’ আমদানি করা চিকিৎসা যন্ত্রপাতি প্যাকেটবন্দি অবস্থায় ভাঙারির দোকানে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, রেডিওথেরাপি মেশিন বসানোর জন্য প্রয়োজনীয় ‘সুরক্ষা বাংকার’ (রেডিয়েশন বাংকার) তৈরি না করেই খুলনা ও ফরিদপুরের জন্য ১৮ কোটি টাকা করে দুটি যন্ত্র কেনা হয়েছিল। সেগুলো এখন পড়ে আছে। সোমবার জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের জামায়াতে ইসলামীর সদস্য সাবিকুন্নাহারের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হলে প্রথমে প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়। ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সাবিকুন্নাহার বলেন, প্রায় ছয় লাখ মানুষের জন্য হাসপাতালটিতে মাত্র ১০ জন চিকিৎসক কাজ করছেন। সেখানে ৬৮টি পদ শূন্য থাকার পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ ও নারী চিকিৎসক এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট রয়েছে। জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছরের শাসনামলে নিয়োগ না হওয়া, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও জনস্বার্থ উপেক্ষার কারণে স্বাস্থ্য খাতের বর্তমান পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতের সমস্যার কথা বলতে এক ঘণ্টা সময় পেলেও শেষ করা যাবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। অপরিকল্পিতভাবে চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনার অভিযোগ তুলে মন্ত্রী বলেন, অনেক হাসপাতালে এক্সরে মেশিন পাঠানো হলেও সেগুলো চালানোর মানুষ নেই। একইভাবে ল্যাবরেটরির যন্ত্রপাতি থাকলেও ল্যাব টেকনিশিয়ান নেই বলে জানান তিনি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের সময় প্রয়োজন অনুযায়ী জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি। কিছু পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হলেও নির্দিষ্ট ব্যক্তির সুযোগ দিতে বিভিন্ন শর্ত যুক্ত করায় সেগুলো নিয়ে আদালতে মামলা হয়েছে। কুমিল্লা-৯ আসনের বিএনপির সদস্য মো. আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য জরিপ ২০১৮-১৯ অনুযায়ী দেশে প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ এবং শিশু-কিশোরদের ১২ দশমিক ৬ শতাংশ কোনো না কোনো মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত। তবে আক্রান্তদের ৯২ শতাংশের বেশি কোনো ধরনের চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন না। দেশে প্রতি এক লাখ মানুষের বিপরীতে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার জনবল রয়েছে মাত্র ১ দশমিক ১৭ জন। সরকারি খাতে নিবন্ধিত মনোরোগ বিশেষজ্ঞ রয়েছেন প্রায় ৩৫০ জন।
গ্রীষ্মকালীন ফল হিসেবে কাঁঠালের জনপ্রিয়তা সবখানেই। তবে সাধারণত আমরা কাঁঠালের কোষ খাওয়ার পর এর বিচিগুলো ফেলে দিই। অথচ জানলে অবাক হবেন, একটি কাঁঠালে ১০০ থেকে ৪০০টি পর্যন্ত ভোজ্য এবং পুষ্টিকর বিচি থাকতে পারে। আধুনিক গবেষণায় দেখা গেছে, এই বিচিগুলো কেবল সুস্বাদুই নয়; বরং স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। তবে এর কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও রয়েছে, যা আমাদের জেনে রাখা জরুরি। পুষ্টির পাওয়ার হাউস কাঁঠালের বিচি প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট এবং ফাইবারের চমৎকার উৎস। ১০০ গ্রাম কাঁঠালের বিচিতে রয়েছে প্রায় ২৫.৮ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট এবং ১.৫ মিলিগ্রাম আয়রন। এ ছাড়া এতে উচ্চমাত্রায় পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়। বিশেষ করে ভিটামিন বি-কমপ্লেক্সের অন্তর্গত থায়ামিন এবং রিবোফ্লাভিন এতে প্রচুর পরিমাণে থাকে, যা শরীরের শক্তি উৎপাদনে এবং পুষ্টি শোষণে সাহায্য করে। কেন খাবেন কাঁঠালের বিচি? হজমশক্তি বৃদ্ধি ও কোষ্ঠকাঠিন্য রোধ: এতে থাকা উচ্চমাত্রার ফাইবার হজম প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ: গবেষণায় দেখা গেছে, কাঁঠালের বিচি শরীরের খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) কমাতে এবং ভালো কোলেস্টেরল বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়ক: কাঁঠালের বিচিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যেমন—ফ্ল্যাভোনয়েড ও স্যাপোনিন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং কোষের ডিএনএ ক্ষতি মেরামত করতে সাহায্য করে। এতে থাকা ‘জ্যাকালিন’ নামক উপাদানটি ক্যানসার বিরোধী হিসেবে পরিচিত। জীবাণুনাশক গুণ: কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এটি ই-কোলাই এবং সালমোনেলার মতো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করতে পারে। কখন এটি ক্ষতিকর হতে পারে? উপকারী হলেও সবার জন্য বা সব অবস্থায় কাঁঠালের বিচি নিরাপদ নাও হতে পারে। বিশেষ করে যারা রক্ত পাতলা করার ওষুধ (যেমন: অ্যাসপিরিন, অ্যান্টিপ্লেটলেট বা অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ড্রাগ) গ্রহণ করছেন, তাদের জন্য কাঁঠালের বিচি রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। কারণ এটি রক্ত জমাট বাঁধার গতি কমিয়ে দেয়। এ ছাড়া কাঁচা কাঁঠালের বিচিতে ট্যানিন এবং ট্রিপসিন ইনহিবিটর থাকে, যা শরীরকে সঠিক পুষ্টি শোষণে বাধা দেয়। সঠিক প্রস্তুতিই সুস্থতার চাবিকাঠি কাঁঠালের বিচি থেকে সর্বোচ্চ উপকার পেতে এবং ক্ষতিকর প্রভাব এড়াতে এটি কখনোই কাঁচা খাওয়া উচিত নয়। তাপ প্রয়োগ করলে এর মধ্যকার ক্ষতিকর উপাদানগুলো নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। কীভাবে প্রস্তুত করবেন? সিদ্ধ করা: ২০-৩০ মিনিট পানিতে সিদ্ধ করে নিয়ে সালাদ বা তরকারিতে ব্যবহার করতে পারেন। রোস্ট করা: ওভেনে ২০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ২০ মিনিট বেক করে বা খোলায় ভেজে মচমচে স্ন্যাকস হিসেবে খাওয়া যায়। অন্যান্য ব্যবহার: এটি শুকিয়ে গুঁড়ো করে আটা হিসেবে বেকিংয়ে ব্যবহার করা যায়, এমনকি স্মুদি বা হুমাসেও যোগ করা সম্ভব। সুতরাং, প্রয়োজনীয় সতর্কতা মেনে চললে কাঁঠালের বিচি আপনার দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় একটি চমৎকার পুষ্টিকর যোগ হতে পারে। তথ্যসূত্র: হেলথ লাইন
সারাদিনের কর্মব্যস্ততা শেষে এক চিলতে প্রশান্তির ঘুমের বিকল্প নেই। আর সেই ঘুমের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে আমরা অনেকেই বেছে নিই নরম তুলতুলে আরামদায়ক বালিশ। তবে অনেক সময় দেখা যায়, এই বালিশই হয়ে ওঠে সকালের ঘাড় বা পিঠ ব্যথার কারণ। মূলত ঘুমের সময় মেরুদণ্ডকে সঠিক অবস্থানে রাখা এবং শরীরের সাথে ঘাড়ের সামঞ্জস্য বজায় রাখাই বালিশের প্রধান কাজ। তবে বর্তমান সময়ে স্বাস্থ্যসচেতনদের মধ্যে একটি প্রশ্ন বেশ জোরালো হয়ে উঠেছে, সুস্থ থাকতে বালিশ কি আসলেই প্রয়োজন, নাকি বালিশ ছাড়াই ঘুমানো বেশি উপকারী? চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে, বালিশ ছাড়া ঘুমানোর সুফল সবার জন্য এক নয়, বরং এটি অনেকাংশে নির্ভর করে আপনার ঘুমানোর ভঙ্গির ওপর ঘুমানোর ভঙ্গি ও এর প্রভাব যারা মূলত উপুড় হয়ে বা পেটে ভর দিয়ে ঘুমান, তাদের জন্য বালিশ ছাড়া ঘুমানো কিছুটা উপকারী হতে পারে। পেটে ভর দিয়ে ঘুমালে শরীরের অধিকাংশ ওজন মাঝের অংশে থাকে, যা মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক বক্রতাকে বজায় রাখতে বাধা দেয় এবং ঘাড় ও পিঠে চাপ সৃষ্টি করে। এক্ষেত্রে বালিশ ছাড়া ঘুমালে মাথা বিছানার সমতলে থাকে, যা ঘাড়ের ওপর চাপ কমায় এবং শরীরের সঠিক সারিবদ্ধতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। তবে আপনি যদি পিঠে ভর দিয়ে বা কাত হয়ে ঘুমান, তবে বালিশ ছাড়া ঘুমানো উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি করতে পারে। বালিশ ছাড়া ঘুমালে ঘাড়ের পেশি ও জয়েন্টে অসমভাবে চাপ পড়তে পারে, যার ফলে ঘাড় ব্যথা, পেশি শক্ত হয়ে যাওয়া এবং মাথাব্যথাও হতে পারে। চুলের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব অনেকে মনে করেন বালিশ ছাড়া ঘুমালে চুলের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। তবে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় বালিশ ব্যবহার করা বা না করার সাথে চুলের স্বাস্থ্যের কোনো সরাসরি সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। কেউ কেউ রেশমি বালিশের কভার ব্যবহারের পরামর্শ দিলেও এর স্বপক্ষেও পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক তথ্য নেই। বালিশ ছাড়া ঘুমানোর অভ্যাস করতে চাইলে যদি আপনি আপনার বালিশটি সরিয়ে ফেলার কথা ভাবেন, তবে কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি: ধীরে ধীরে অভ্যাস করুন: হঠাৎ করে বালিশ সরিয়ে না ফেলে প্রথমে পাতলা ভাঁজ করা তোয়ালে বা কম্বল ব্যবহার করুন এবং ধীরে ধীরে সেটির উচ্চতা কমিয়ে আনুন। শরীরের অন্যান্য অংশে সাপোর্ট: পেটে ভর দিয়ে ঘুমানোর সময় মেরুদণ্ডের অবস্থান উন্নত করতে তলপেট ও পেলভিসের নিচে একটি বালিশ রাখুন। আবার পিঠে ভর দিয়ে ঘুমালে হাঁটুর নিচে এবং কাত হয়ে ঘুমালে দুই হাঁটুর মাঝে বালিশ রাখা উপকারী। সঠিক গদি নির্বাচন: বালিশ ছাড়া ঘুমানোর সময় গদিটি খুব নরম হলে মেরুদণ্ড ঝুলে যেতে পারে এবং পিঠে ব্যথা হতে পারে। তাই সঠিক সাপোর্ট দেয় এমন গদি বেছে নিন। সতর্কতা আপনার যদি ঘাড় বা পিঠের দীর্ঘমেয়াদী ব্যথা থাকে কিংবা মেরুদণ্ডের কোনো সমস্যা (যেমন: স্কোলিওসিস) থাকে, তবে বালিশ ছাড়া ঘুমানোর আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সারকথা বালিশ ছাড়া ঘুমানোর উপকারিতা মূলত নির্ভর করে আপনার ঘুমানোর অভ্যাসের ওপর। পেটে ভর দিয়ে ঘুমানোর ক্ষেত্রে এটি সহায়ক হলেও পিঠ বা কাত হয়ে ঘুমানোর জন্য বালিশ থাকাই শ্রেয়। দিনশেষে, আপনি বিছানায় কতটা আরামদায়ক এবং ব্যথামুক্ত বোধ করছেন, সেটিই সুস্থ ঘুমের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তথ্যসূত্র: হেলথ লাইন