আমাদের শরীরে কোথাও হঠাৎ ফোলা দেখা দিলে অনেকেই সেটিকে সাধারণ সমস্যা ভেবে গুরুত্ব দিই না। বিশেষ করে গলায় ছোট একটি ফোলা হলে অনেকেই মনে করেন— এটি সর্দি-কাশি কিংবা সংক্রমণের কারণে হয়েছে। আর দীর্ঘস্থায়ী গলাব্যথা, গলার স্বর পরিবর্তন, খাবার গিলতে সমস্যা এবং ঘাড়ে চাকা অনুভব করা গলার ক্যানসারের প্রধান লক্ষণ। দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে এ জাতীয় সমস্যা থাকলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে চিকিৎসকরা বলছেন, গলার ফোলা সবসময় সাধারণ সমস্যা নাও হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এটি থাইরয়েড ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণও হতে পারে। তবে এ ক্যানসার যদি শুরুতেই ধরা পড়ে, তাহলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সফলভাবে চিকিৎসা করা সম্ভব হয়।
থাইরয়েড ক্যানসার এমন একটি রোগ, যা প্রথম দিকে শনাক্ত করা গেলে রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা বেশি থাকে। কারণ বেশিরভাগ থাইরয়েড ক্যানসার ধীরে ধীরে বাড়ে। তাই সময়মতো পরীক্ষা করালে এবং চিকিৎসা শুরু করলে রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়।
বিশেষ করে গলায় ফোলা থাকলে তা কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। কারণ যদি ফোলাটি ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। এ ছাড়া আরও কয়েকটি লক্ষণের দিকে নজর রাখা দরকার। যেমন— হঠাৎ কণ্ঠস্বর বদলে যাওয়া কিংবা দীর্ঘদিন কর্কশ হয়ে থাকা। খাবার গিলতে অসুবিধা হওয়া কিংবা শ্বাস নিতে সমস্যা হওয়া বা গলায় চাপ অনুভব করা। এ ধরনের সমস্যা কয়েক সপ্তাহ ধরে থাকলে অবশ্যই পরীক্ষা করানো উচিত।
আর লক্ষণগুলোর মানেই যে ক্যানসার, এমন নয়। অনেক সময় থাইরয়েডের সাধারণ সমস্যা, সংক্রমণ বা অন্য কোনো কারণেও এমনটি হতে পারে। তাই ভয় না পেয়ে চিকিৎসকের কাছে গিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানোই সবচেয়ে শ্রেয়।
থাইরয়েড ক্যানসার নির্ণয়ের জন্য সাধারণত শারীরিক পরীক্ষা, আল্ট্রাসাউন্ড, রক্ত পরীক্ষা এবং প্রয়োজনে বায়োপসি করা হয়। রিপোর্ট দেখে চিকিৎসক ঠিক করেন কী ধরনের চিকিৎসা প্রয়োজন।
আবার রোগের ধরন ও পর্যায় অনুযায়ী চিকিৎসা ভিন্ন হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার করে থাইরয়েড গ্রন্থির আক্রান্ত অংশ বা পুরো গ্রন্থি বাদ দেওয়া হয়। প্রয়োজনে রেডিওঅ্যাকটিভ আয়োডিন থেরাপি, ওষুধ বা অন্যান্য চিকিৎসাও দেওয়া হয়। আধুনিক চিকিৎসার ফলে এখন থাইরয়েড ক্যানসারে আক্রান্ত অধিকাংশ রোগীই স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
বাংলাদেশের মাছের ঝোল, ভারতীয় চিকেন কারি, সুদানের উটের বিরিয়ানি, কিংবা মালয়েশিয়ার লাকসা - এই রান্নাগুলোয় একটা উপাদান থাকেই, আর সেটা হলো হলুদ। খাবারকে সুস্বাদু করার পাশাপাশি বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন ও জনপ্রিয় এই মসলা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্যও কি অলৌকিক কিছু করতে পারে? "আমার পরিবারের শিকড় পাঞ্জাবে, আর হলুদ ছাড়া কোনো খাবারের কথা আমি ভাবতেই পারি না," বিবিসির ফুড চেইন অনুষ্ঠানে বলছিলেন দক্ষিণ এশীয় প্রবাসী জনগোষ্ঠী নিয়ে কাজ করা খাদ্যবিষয়ক গবেষক ও পডকাস্টার রাগিনি কাশ্যপ। হলুদের প্রায় ৩০টি জাত রয়েছে, যা এশিয়া, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার রান্নায় ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। তবে দক্ষিণ এশীয় প্রবাসীদের সঙ্গে করে এর ব্যবহার পূর্বে প্রশান্ত মহাসাগরের বালি ও ফিজি দ্বীপপুঞ্জ থেকে পশ্চিমে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে। 'জোরালো বার্তা' কাশ্যপ জানান, আড়াই হাজার বছর আগের বিভিন্ন লেখাতেও হলুদের উল্লেখ পাওয়া গেছে। দক্ষিণ এশিয়ায় ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত এই মসলার জীবাণুনাশক ও প্রদাহনাশক গুণ রয়েছে বলে বদ্ধমূল বিশ্বাস অঞ্চলগুলোর বাসিন্দাদের। "আমি অসুস্থ হলে প্রথমেই মনে হওয়া জিনিসগুলোর একটি এই হলুদ। এটা আমাকে খুব স্বস্তি দেয়। এর সাথে মিশে আছে কিছুটা আরাম, কিছুটা ওষুধ, আর কিছুটা নস্টালজিয়া," বলছিলেন বর্তমানে দুবাইয়ে বসবাস করা কাশ্যপ। ভারতে এটি বিয়ের একটি অনুষ্ঠানেরও অংশ, যেখানে বিয়ের আগে সৌন্দর্য বাড়ানো জন্য বর ও কনের মুখে হলুদের প্রলেপ লাগানোর রীতি রয়েছে। পশ্চিমা বিশ্বের ভোক্তারা হলুদের নানা উপকারিতার বিষয়ে শোনার পর থেকে বিক্রি রকেটের গতিতে বাড়ছে। হলুদের সাপ্লিমেন্টও বাজারজাত করা হচ্ছে। সাধারণত হলুদে কারকিউমিন নামের একটি যৌগ থাকে এবং স্বাস্থ্যের জন্য এটি উপকারী বলেই মনে করা হয়। হাড় ও জয়েন্ট ভালো রাখা থেকে শুরু করে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো পর্যন্ত নানা উপকারের কথা বলে হলুদের সাপ্লিমেন্ট বিক্রির চেষ্টা করা হয়। মানুষের হলুদ সেবনের ইতিবাচক অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাগ করে নেওয়ার কারণেও আংশিকভাবে এর জনপ্রিয়তা বেড়েছে বলে মনে করেন কাশ্যপ। "এক বিলিয়ন মানুষের বড় একটি অংশই যদি খুব দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে হলুদ অনেক ধরনের সমস্যা ঠিক করতে পারে, তাহলে সারা বিশ্বেই তা এক জোরালো বার্তা," বলেন তিনি। "এর সঙ্গে যদি লবিং, সাপ্লিমেন্ট কোম্পানির মতো বিষয়গুলো যুক্ত করেন, তাহলে সেই বার্তা খুবই শক্তিশালী হয়ে ওঠে।" 'সবচেয়ে খারাপ রাসায়নিক গঠন' তবে এর উপকারিতা নিয়ে সন্দেহও জানিয়েছেন কেউ কেউ। কারকিউমিন নিয়ে ১০০টিরও বেশি গবেষণাপত্র পর্যালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটায় কর্মরত রসায়নবিদ ড. ক্যাথরিন নেলসন। "আমরা দেখেছি, দাবিগুলো এমন যে, এটি সবকিছুই করতে পারে। কিন্তু বাস্তবে, সম্ভবত তেমন কিছুই করে না," বলেন তিনি। ড. নেলসন ব্যাখ্যা করেন, হলুদের সমস্যা এর রাসায়নিক গঠনের মধ্যেই থাকতে পারে, যার কারণে এটি নিয়ে গবেষণা করা সহজ নয়। এটি অত্যন্ত প্রতিক্রিয়াশীল এবং পরীক্ষায় হস্তক্ষেপকারী যৌগ হিসেবেও কাজ করতে পারে; যার অর্থ হলো, আদতে কাজ না করলেও পরীক্ষার ফলাফলে এমন মনে হতে পারে যে এটি কাজ করছে। তিনি জানান, এটি শরীরে খুব ভালোভাবে শোষিত হয় না, আর মুখে খাওয়ার পরও এর খুব সামান্য অংশই রক্তসঞ্চালনে প্রবেশ করে। একে আরও ভালো করার চেষ্টায় অনেকেই কালো মরিচের সঙ্গে হলুদ খান। "কোনো কিছুকে কার্যকর ওষুধে পরিণত করার ভিত্তি হিসেবে ব্যবহারের জন্য এটি সত্যিই অন্যতম বাজে রাসায়নিক কাঠামোগুলোর একটি", বলেন ড. নেলসন। 'আমরা হতাশ হয়েছিলাম' কয়েক দশক ধরে হলুদ নিয়ে ব্যাপক গবেষণা হয়েছে, কিন্তু সেগুলোর ফলাফল প্রায়ই পরস্পরবিরোধী এবং গবেষণাগুলোর মানও একরকম নয়। যেসব গবেষণায় হলুদের উপকারিতার প্রমাণ পাওয়ার দাবি করা হয়েছে তার অনেকগুলোই মানুষের ওপর পরিচালিত হয়নি বলে জানান অধ্যাপক অমিত গার্গ, তিনি কানাডার অন্টারিওতে অবস্থিত লন্ডন হেলথ সায়েন্সেস সেন্টারের কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞ। এই চিকিৎসক ও তার সহকর্মীরা হলুদ নিয়ে এখন পর্যন্ত করা সবচেয়ে বড় দুটি গবেষণা পরিচালনা করেছেন। প্রথম গবেষণার উদ্দেশ্য ছিল, অ্যাওর্টিক অ্যানিউরিজমের অস্ত্রোপচার করা রোগীদের ক্ষেত্রে কারকিউমিন কিডনির ক্ষতি ও প্রদাহ প্রতিরোধ করতে পারে কি না, তা নির্ধারণ করা। অ্যাওর্টা হলো শরীরের বৃহত্তম রক্তনালী, যা হৃৎপিণ্ড থেকে শরীরের বাকি অংশে রক্ত বহন করে। অ্যাওর্টিক অ্যানিউরিজম হলো অ্যাওর্টার প্রাচীরে একটি অস্বাভাবিক স্ফীতি বা বেলুনের মতো ফুলে ওঠা। কিন্তু ৬০০ রোগীকে নিয়ে করা ওই পরীক্ষায় তারা উপকারী প্রভাবের কোনো প্রমাণ পাননি। এরপর তারা আরেকটি পরীক্ষা করেন। এটি কিডনির স্বাস্থ্যের উন্নতি করে কি না বা কিডনি রোগের অগ্রগতি ঠেকাতে পারে কি না তা দেখার জন্য কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের কারকিউমিনের আরও ছোট একটি মাইক্রোপার্টিকল দিয়ে পরীক্ষা করেন। কিন্তু সেটারও কোনো প্রমাণ তারা দেখাতে পারেননি। "আমরা হতাশ হয়েছিলাম," বলছিলেন অধ্যাপক অমিত গার্গ। "কারণ খোলা মন নিয়েই আমরা এই গবেষণা শুরু করেছিলাম; এটা যে কাজ করে না তা প্রমাণ করা আমাদের উদ্দেশ্য ছিল না।" কিন্তু হাজার হাজার বছর ধরে, বিশেষ করে ভারতে, ঔষধি উপাদান হিসেবে এটিকে ব্যবহারের ইতিহাসকে তাহলে কীভাবে ব্যাখ্যা করা যায়? ড. গার্গ বলেন, কোনো জৈব উপাদান থেকে প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া একটি যৌগ আলাদা করে সেটিকে ওষুধে পরিণত করার চেষ্টা এবং পুরো জৈব উপাদানটি দিয়ে রান্না করা কিংবা তা ত্বকে ব্যবহার করার মধ্যে অবশ্যই পার্থক্য রয়েছে। তাহলে কি বিশেষজ্ঞরা দামি সাপ্লিমেন্টগুলো কেনা সার্থক মনে করেন? খরচের বিষয়টি ছাড়াও এগুলো কার্যকারিতার যথেষ্ট প্রমাণ নেই, বলেন অধ্যাপক গার্গ। তার ব্যাখ্যায়, অন্যান্য ওষুধজাত পণ্যের মতো প্রাকৃতিক স্বাস্থ্যপণ্য একই ধরনের নিয়ন্ত্রণের আওতায় পড়ে না। "আমি মনে করি, আমরা অবশ্যই খোলা মন রাখতে পারি। কিন্তু কোনো কিছুর নির্দিষ্ট প্রভাব রয়েছে বলে দাবি করলে সেটি উচ্চমানের প্রমাণের ভিত্তিতে হওয়া উচিত - এটুকু মানদণ্ড আমাদের থাকা উচিত," বলেন তিনি। তবে খাবারের অংশ হিসেবে মানুষ হলুদ খেলে তিনি কোনো সমস্যা দেখেন না। "মানুষ যদি হলুদ দিয়ে তৈরি খাবার উপভোগ করেন, তাহলে আমি তা চালিয়ে যেতেই উৎসাহিত করব।"
ড্রাগন ফলকে অনেকেই বলেন ‘সুপার ফ্রুট’। আকর্ষণীয় রং, মিষ্টি স্বাদ আর ভরপুর পুষ্টিগুণের কারণে এ ফলটি এখন বেশ জনপ্রিয়। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসচেতনদের কাছে ফলটি কিছুটা ভিন্ন মর্যাদা পেয়েছে। বাজারে দাম তুলনামূলক বেশি হলেও শরীরের জন্য উপকারী জেনে অনেকেই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এটি রাখছেন। কিন্তু যে কোনো খাবারের মতো ড্রাগন ফলেরও যেমন উপকারিতা রয়েছে, তেমনি রয়েছে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও। কেউ কেউ বেশি খেয়ে ফেলেন, আবার কেউ খাওয়ার পরই হজমজনিত সমস্যায় ভোগেন। তাই কারা খাবেন, কারা খাবেন না এবং কতটুকু পরিমাণে খাওয়া উচিত- এসব জানা জরুরি। এ প্রসঙ্গে সম্প্রতি দেশের একটি প্রভাবশালী টিভি চ্যানেলের সঙ্গে কথা বলেছেন রাজধানীর লাইফ কেয়ার মেডিকেল সেন্টার অ্যান্ড বিডিএন পল্লবী ডায়াবেটিস সেন্টারের পুষ্টিবিদ ইসরাত জাহান। তিনি ড্রাগন ফল নিয়ে বিস্তারিত পরামর্শ দিয়েছেন। কারা খাবেন পুষ্টিবিদ ইসরাত জাহানের ভাষায়, ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফাইবার ও আয়রনসমৃদ্ধ এই ড্রাগন ফল শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। যাদের রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়ার সমস্যা আছে, তাদের জন্য বিশেষভাবে উপকারী এ ফল। এতে থাকা আয়রন দ্রুত কাজ করে। হজমজনিত সমস্যায় ভুগছেন এমন মানুষও ড্রাগন খেতে পারেন। কারণ এতে থাকা ফাইবার হজম প্রক্রিয়া সহজ করে। পাশাপাশি ত্বক ও চুলের সৌন্দর্য বাড়াতে সাহায্য করে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণেও ফলটি সহায়ক। এ ছাড়া শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন বের করতেও ড্রাগন কার্যকর ভূমিকা রাখে। কারা খাবেন না যাদের হজমে সমস্যা আছে, তাদের জন্য খালি পেটে ড্রাগন ফল খাওয়া ঠিক নয়। এতে পেট ফাঁপা, ডায়রিয়া বা অস্বস্তি হতে পারে। এ ছাড়া যাদের কিডনিতে পাথরের প্রবণতা রয়েছে, তাদেরও সাবধানে খেতে হবে। কারণ ড্রাগনে অল্প পরিমাণ অক্সালেট থাকে, যা কখনো কখনো কিডনিতে পাথর তৈরির ঝুঁকি বাড়ায়। পুষ্টিবিদ আরও জানান, অন্তঃসত্ত্বা ও স্তন্যদানকারী নারীদের নিয়মিত ড্রাগন খাওয়া ঠিক নয়। তাদের অবশ্যই চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে খেতে হবে। তা না হলে পেটব্যথা, বমি বমি ভাব কিংবা অ্যালার্জির মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। কতটা খাবেন প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য দিনে ১০০ থেকে ১৫০ গ্রাম পর্যন্ত ড্রাগন ফল যথেষ্ট। শিশুদের ক্ষেত্রে এই পরিমাণ অর্ধেক করা উচিত (৫০ থেকে ৭৫ গ্রাম)। যাদের হজমের সমস্যা আছে, তারা ড্রাগন ফল দই বা অন্যান্য ফলের সঙ্গে মিশিয়ে খেতে পারেন।
গরমে অতীষ্ঠ জীবন। শরীর ঠাণ্ডা ও সতেজ রাখতে চাই প্রচুর পানি। এ ছাড়া উচ্চ পানিসমৃদ্ধ খাবার চাই। এসব শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে এবং প্রাকৃতিকভাবে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। আর শরীর ঠান্ডা রাখতে এবং গরমের অস্বস্তি দূর করতে প্রচুর পানিযুক্ত ফল, শাকসবজি ও পানীয় খাওয়া উচিত। ডাবের পানি, তরমুজ, শসা, টকদই, পুদিনাপাতা এবং লেবুর শরবত আপনার শরীর ভেতর থেকে ঠান্ডা রাখতে দারুণ কাজ করে। এই প্রচণ্ড গরমে ক্লান্তিতে কাজে উৎসাহ পাওয়া যায় না। এই গরমে তৃপ্তি এনে দিতে পারে এমন কিছু পুষ্টিকর খাবার, যা গরমে শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সহায়তা করে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, এমন কিছু সহজলভ্য খাবার সম্পর্কে, যা মাথা ঠান্ডা রাখবে— ১. কলা কলা সবারই পছন্দ। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কলা রাখুন, তা কাঁচা হোক কিংবা পাকা। খেতে সুস্বাদু, সস্তা, সারা বছর মেলে— এমন সবজি বা ফলের মধ্যে কলায় রয়েছে প্রচুর পটাশিয়াম, যা ভিটামিন ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’র গুরুত্বপূর্ণ উৎস। কলায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আঁশ, লৌহসহ অন্যান্য খনিজ উপাদান। কলা পাকা বা কাঁচা— দুই অবস্থায়ই খাওয়া যায়। অতিরিক্ত ঘামের শরীর থেকে যে তরল বের হয়ে যায়, তা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে পটাশিয়াম। গরমের সময় কলা খেতে পারেন। এ ছাড়া পটাশিয়ামসমৃদ্ধ খাবারের মধ্যে আছে সবুজ শাকসবজি, শুষ্ক ফল ও শস্য। ২. শসা শসা একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর ও জনপ্রিয় লতানো সবজি, যাতে প্রায় ৯৫ শতাংশ জলীয় অংশ থাকে। এটি সালাদ হিসেবে কাঁচা খাওয়া হয় এবং চাষাবাদের জন্য এর বিভিন্ন হাইব্রিড জাত সারা বছরই বেশ উপযোগী। শসায় রয়েছে ৯৬ দশমিক ৭ শতাংশ পানি। এই গরমে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ডাইনিংয়ে শসার সালাদ রাখুন। শসার সঙ্গে ধনেপাতা মেশালে আরও স্বাদ বাড়িয়ে তুলবে। পাশাপাশি ননিবিহীন দুধের তৈরি দই, পুদিনাপাতা আর বরফ ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে জুস তৈরি করুন। এ জুস আপনার শরীর সতেজ রাখবে এবং তৃষ্ণাও মেটাবে। ৩. পেঁয়াজ গরমের সময়ে শরীর ঠান্ডা ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ এবং হজম শক্তি বাড়াতে কাঁচা পেঁয়াজ খাওয়া দারুন উপকারী। তবে পকেটে পেঁয়াজ রাখলে হিটস্ট্রোক কমে— এমন ধারণা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত নয়। তবে আসল সুফল পেতে হলে পেঁয়াজ সালাদের সঙ্গে কিংবা খাবারে নিয়মিত খাওয়া উচিত। বিশেষ করে লাল পেঁয়াজ দারুণ উপকারী। কোয়ারসেটিন নামক এক রাসায়নিক উপাদান আছে এতে, যার অ্যান্টিহিস্টামিন প্রভাব রয়েছে। গরমে হিট র্যাশ বা ফুসকুড়ি দেখা দিতে পারে। সুতরাং পেঁয়াজ এ সমস্যা দূর করতে পারে। ফাইটোকেমিক্যালস নামে একটি বিশেষ উপাদান রয়েছে পেঁয়াজে, যা আপনার শরীরে ভিটামিন ‘সি’র কার্যকারিতা বাড়িয়ে। এতে শরীরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাও বেড়ে যায়। পেঁয়াজে ভিটামিন ‘এ’, ‘সি’ ও ‘ই’র মতো অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ভরপুর। এতে ত্বক সুস্থ থাকে। এবং ত্বক ভালো রাখতে বেশি করে খাবারে পেঁয়াজ রাখা উচিত। ৪. অ্যালোভেরা তীব্র গরমে আপনার শরীর ও ত্বক ঠান্ডা রাখতে অ্যালোভেরা অত্যন্ত কার্যকরী একটি প্রাকৃতিক উপাদান। একদিকে যেমন ত্বকের রোদে পোড়া ভাব (সানবার্ন) দূর করে থাকে, অন্যদিকে জুস হিসেবে খেলে আপনার শরীরকে ভেতর থেকে হাইড্রেটেড রাখে। যদিও অ্যালোভেরার নাম শুনে অনেকে ভুরু কোঁচকালেও একে সবাই অ্যালোভেরা নামে ভালোই চেনে। ঔষধি এই ভেষজের নানা গুণের কথা পাঁচ হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে এ অঞ্চলের মানুষের জানা। আপনার শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টির জোগান দিতে আর অসুখ-বিসুখ সারিয়ে তুলতে অ্যালোভেরা অতুলনীয়। ৫. টমেটো গ্রীষ্মকালে টমেটো চাষ ও খাওয়া আপনার শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। তীব্র এই গরমে সঠিক জাত নির্বাচন, নিয়মিত ও পর্যাপ্ত সেচ প্রদান এবং গাছের বিশেষ যত্ন নিশ্চিত করার মাধ্যমে গ্রীষ্মকালেও টমেটোর ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। আর টমেটো আছে ৯৪ দশমিক ৫ ভাগ পানি। এ ছাড়া এতে প্রচুর ভিটামিন ‘সি’, লাইকোপেন, ক্যারোটিন, রিবোফ্লোবিন, ক্যালসিয়াম ও লোহা থাকে। টমেটোর জুস কিংবা সালাদ দুই সুস্বাদু। রান্নার পরও টমেটোর পুষ্টিগুণ কমে না। তাই গরমের সময় টমেটোর স্যুপ কিংবা ঝোল খেতে পারেন। ৬. তরমুজ যখনই গরম, তখনই এক ফালি তরমুজ খেয়ে নিন। বরফ দেওয়া শরবতও খেতে পারেন তরমুজের মাধ্যমে। হাঁপিয়ে যাওয়া প্রাণ জুড়ে যাবে। তরমুজ গরমেরই ফল। হাটবাজার বা ফলের দোকানে এখন থরে থরে সাজানো থাকে সুমিষ্ট পানিতে ভরপুর তরমুজ। তরমুজে রয়েছে শতকরা ৯১ দশমিক ৫ ভাগ পানি। এতে রয়েছে ক্যানসারপ্রতিরোধী উপাদান লাইকোপেন। প্রচুর ভিটামিন ও খনিজ লবণে সমৃদ্ধ এই ফল গরমে স্বস্তি এনে দেয়। ৭. পুদিনাপাতা পুদিনাপাতা হলো একটি সুগন্ধি ও অত্যন্ত ঔষধি গুণসম্পন্ন ভেষজ উদ্ভিদ, যা বিশ্বজুড়ে নানা খাবার, পানীয় এবং চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, মেন্থল ও ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট থাকে, যা আমাদের শরীরের জন্য ভীষণ উপকারী। ক্লান্তি ও অবসাদ দূর করার ক্ষমতা আছে পুদিনাপাতায়। অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও ভিটামিন ‘এ’ দ্বারা পরিপূর্ণ পুদিনাপাতা এমন একটি উপকরণ, যা অতিরিক্ত গরমে ত্বকের ক্ষতি দূর করে থাকে। আর গরমের ঘাম জমে যে ঠান্ডা লেগে যায়, তা প্রতিরোধ করে থাকে। বয়সের ভারে বৃদ্ধ হওয়া থেকে রক্ষা করে পুদিনাপাতা। ত্বক ও চুলকে সতেজ রাখে। অতিরিক্ত গরমে ছোট-বড় প্রায় সবারই বদহজম বা ফুড পয়জনিংয়ের সমস্যা দেখা দিলে পুদিনাপাতা পেটের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা কমিয়ে খাবার হজমে সাহায্য করে।