শিশুর কান দিয়ে বারবার পানি, পুঁজ বা দুর্গন্ধযুক্ত তরল বের হওয়াকে আমরা সাধারণভাবে ‘কান পাকা’ বলে থাকি। এটি শিশুদের একটি পরিচিত স্বাস্থ্যসমস্যা। এর পেছনে থাকতে পারে মধ্যকর্ণের সংক্রমণ, কানের পর্দায় ছিদ্র, দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ কিংবা নাক ও গলার কোনো সমস্যার প্রভাব।
যেকোনো বয়সেই কানের সংক্রমণ হতে পারে। তবে শিশুদের মধ্যে এটি তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। বিশেষ করে বারবার সর্দি-কাশি হওয়া, নাকের সমস্যা এবং এডেনয়েড বড় হয়ে যাওয়ার সঙ্গে শিশুর মধ্যকর্ণের সমস্যার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।
কেন শিশুদের কান পাকে?
শিশুদের কানের সমস্যার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো ইউস্টেশিয়ান টিউব (Eustachian tube)।
এটি মধ্যকর্ণকে নাকের পেছনের অংশের সঙ্গে যুক্ত করে। এর প্রধান কাজ হলো মধ্যকর্ণে বাতাসের চাপের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং মধ্যকর্ণে জমে থাকা তরল নিষ্কাশনে সহায়তা করা।
শিশুদের ইউস্টেশিয়ান টিউব প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় অপেক্ষাকৃত ছোট, সরল ও অনুভূমিক অবস্থানে থাকে। ফলে নাক ও গলার সংক্রমণ বা ফোলাভাবের কারণে এর স্বাভাবিক কার্যক্রম সহজেই ব্যাহত হতে পারে।
ঘন ঘন সর্দি-কাশি কেন কানের সমস্যা বাড়ায়?
শিশুদের ঘন ঘন সর্দি-কাশি হলে শুধু নাক ও গলাতেই সমস্যা হয় না, এর প্রভাব মধ্যকর্ণেও পড়তে পারে। সর্দি-কাশির সময় নাক ও নাকের পেছনের অংশের শ্লেষ্মা ঝিল্লি ফুলে যায়। এতে ইউস্টেশিয়ান টিউবের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে।
ইউস্টেশিয়ান টিউব মধ্যকর্ণে বাতাস চলাচল ও চাপের ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং মধ্যকর্ণে জমে থাকা তরল নিষ্কাশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই নালির কার্যকারিতা ব্যাহত হলে মধ্যকর্ণে তরল জমে যেতে পারে। পরবর্তীতে সেই তরলে জীবাণুর সংক্রমণ হলে মধ্যকর্ণের প্রদাহ বা ‘Otitis Media’ হতে পারে।
এ কারণেই অনেক শিশুর সর্দি-কাশির কয়েক দিন পর কান ব্যথা, জ্বর, কান বন্ধ লাগা বা শুনতে কম পাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কানের পর্দায় ছিদ্র তৈরি হলে কান দিয়ে পানি বা পুঁজও বের হতে পারে।
তাই শিশুর ঘন ঘন সর্দি-কাশির সঙ্গে যদি বারবার কানের সমস্যা দেখা দেয়, বিষয়টি শুধু সাময়িক সর্দি-কাশি হিসেবে না দেখে নাক, কান ও গলার সামগ্রিক সমস্যা হিসেবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
শিশুদের কান পাকা প্রতিরোধে বুকের দুধ খাওয়ানোর ভঙ্গিও গুরুত্বপূর্ণ
এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার হওয়া জরুরি—বুকের দুধ শিশুর কানের সংক্রমণের কারণ নয়; বরং বুকের দুধ শিশুর বিভিন্ন সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক।
তবে শিশুকে সম্পূর্ণ চিৎ করে বা সমতল অবস্থায় শুইয়ে দুধ খাওয়ানোর অভ্যাস এড়িয়ে চলা ভালো। খাওয়ানোর সময় দুধ বা তরল নাক-গলার পেছনের দিকে উঠে গেলে ইউস্টেশিয়ান টিউবের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা বাড়তে পারে।
তাই শিশুকে কোলে নিয়ে মাথা ও শরীর কিছুটা উঁচু রেখে সঠিক ভঙ্গিতে বুকের দুধ খাওয়ানো ভালো অভ্যাস।
কান পাকা সমস্যার পেছনে এডেনয়েড বড় হয়ে যাওয়ার ভূমিকা
শিশুর নাকের পেছনে থাকা এডেনয়েড (Adenoid) হলো রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার একটি স্বাভাবিক লিম্ফয়েড টিস্যু। তবে কোনো কোনো শিশুর এডেনয়েড অতিরিক্ত বড় হয়ে গেলে নাক দিয়ে শ্বাস নিতে সমস্যা, মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া, নাক ডাকা এবং ঘন ঘন নাক বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি ইউস্টেশিয়ান টিউবের মুখের আশপাশে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
এর ফলে মধ্যকর্ণে চাপের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে সেখানে তরল জমতে পারে এবং ‘Otitis Media with Effusion (OME)’ বা মধ্যকর্ণে পানি জমার সমস্যা হতে পারে।
দীর্ঘদিন মধ্যকর্ণে পানি জমে থাকলে শিশুর শ্রবণশক্তি কমে যেতে পারে। এর প্রভাব শিশুর কথা বলা ও ভাষা শেখার ওপরও পড়তে পারে।
শিশুদের কান পাকা: প্রতিকার ও করণীয়
শিশুর কান দিয়ে পানি বা পুঁজ পড়লে নিজের ইচ্ছায় কানে ড্রপ বা অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার না করে নাক, কান ও গলা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
প্রয়োজনে কানের পর্দায় ছিদ্র আছে কি না, মধ্যকর্ণে পানি বা পুঁজ জমেছে কি না এবং শিশুর শ্রবণশক্তিতে কোনো সমস্যা হয়েছে কি না—এসব পরীক্ষা করা হতে পারে।
শুধু বারবার অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে সংক্রমণ সাময়িকভাবে কমিয়ে দিলেই সব সময় সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয় না। শিশুর ঘন ঘন সর্দি-কাশির কারণ, নাকের অ্যালার্জি, এডেনয়েড বড় হয়ে যাওয়া কিংবা ইউস্টেশিয়ান টিউবের কার্যকারিতার সমস্যাও খুঁজে দেখা প্রয়োজন।
কখন দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
শিশুর—
এসবের কোনোটি থাকলে বিষয়টি অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
মনে রাখবেন
শিশুর কান, নাক ও গলা আলাদা অঙ্গ হলেও তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ শারীরবৃত্তীয় সম্পর্ক রয়েছে। তাই শিশুর বারবার কান পাকার ক্ষেত্রে শুধু কান নয়—নাক, ইউস্টেশিয়ান টিউব ও এডেনয়েডের সমস্যাও গুরুত্ব দিয়ে মূল্যায়ন করা জরুরি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
দেশে থ্যালাসেমিয়া রোগের বিস্তার রোধে শুধু চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন ব্যাপক জনসচেতনতা, বাহক শনাক্তে রক্ত পরীক্ষা এবং বিয়ের আগে বা সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনার সময় প্রয়োজনীয় পরামর্শ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো পরীক্ষা ও সচেতনতার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব। জামালপুরের আবিয়ার সাত বছর বয়সে থ্যালাসেমিয়া শনাক্ত হয়। বিয়ের চার বছর পর অসুস্থতা ও চিকিৎসার ব্যয়কে কেন্দ্র করে স্বামী তাকে ছেড়ে চলে যান। বর্তমানে সন্তানকে নিয়ে মা-বাবার সঙ্গে বসবাস করছেন তিনি। চিকিৎসার জন্য প্রতি মাসে এক থেকে দুবার ঢাকায় আসতে হয় তাকে। যাতায়াত, থাকা-খাওয়া ও চিকিৎসা মিলিয়ে পরিবারের মাসিক ব্যয় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকার বেশি। গত বছর আবিয়ার যকৃতে সমস্যা শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি গত সাত মাস ধরে নিয়মিত রক্তদাতার ব্যবস্থা করতেও সমস্যায় পড়ছেন তিনি। আবিয়ার মতো থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত ৯ হাজারের বেশি রোগীকে চিকিৎসা ও আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছে বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, রোগীদের চিকিৎসার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের মধ্যে রোগটির বিস্তার প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০২৪ সালের জাতীয় থ্যালাসেমিয়া জরিপ অনুযায়ী, দেশের ১১ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ থ্যালাসেমিয়ার বাহক। তাদের মধ্যে ৮১ দশমিক ৬ শতাংশই নিজেদের বাহক হওয়ার বিষয়টি জানেন না। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৯৬ শতাংশ কখনো থ্যালাসেমিয়া শনাক্তের পরীক্ষা করাননি। মোট ৮ হাজার ৬৮০ জনের ওপর এ জরিপ পরিচালিত হয়। বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দা মাসুমা রহমান জানান, থ্যালাসেমিয়া একটি বংশগত রক্তরোগ। বাবা-মা দুজনই এ রোগের বাহক হলে তাদের সন্তানের থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই বিয়ের আগে কিংবা সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনার সময় উভয়ের বাহক শনাক্তকরণ পরীক্ষা করানো গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, থ্যালাসেমিয়া সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্যপুস্তকে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি গণমাধ্যমে নিয়মিত প্রচারের মাধ্যমে রোগটির কারণ, পরীক্ষা ও প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে জানাতে হবে। থ্যালাসেমিয়ার বাহক শনাক্তে হিমোগ্লোবিন ইলেকট্রোফোরেসিসসহ প্রয়োজনীয় রক্ত পরীক্ষা করা হয়। ফাউন্ডেশনে হিমোগ্লোবিন ইলেকট্রোফোরেসিস পরীক্ষার খরচ প্রায় এক হাজার টাকা। তবে সচেতনতার অভাব ও আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে অনেকেই পরীক্ষা করাতে আগ্রহী হন না। বিবিএসের জরিপে দেখা যায়, গ্রামাঞ্চলের ৮৭ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ নিজেদের থ্যালাসেমিয়ার বাহক হওয়ার বিষয়টি জানেন না। শহরাঞ্চলে এ হার ৬৭ দশমিক ২ শতাংশ। ময়মনসিংহ বিভাগে এ বিষয়ে অজ্ঞতার হার ৯৩ দশমিক ৬ শতাংশ। এছাড়া জরিপে অংশ নেওয়া পুরুষদের ৯৫ দশমিক ১ শতাংশ এবং নারীদের ৯৭ দশমিক ৭ শতাংশ কখনো থ্যালাসেমিয়া পরীক্ষা করাননি। ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশন আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা, রক্ত সঞ্চালন, পরীক্ষাগার সুবিধা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহসহ বিভিন্ন সেবা দিয়ে আসছে। প্রতিষ্ঠানটির যাকাত তহবিল থেকে গত বছর ২ হাজার ৮০০ রোগীকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। অমুসলিম দরিদ্র রোগীদের জন্যও পৃথক সহায়তা তহবিল রয়েছে। ঢাকার বাইরে থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের জন্য তিন দিন বিনা মূল্যে থাকার ব্যবস্থাও রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গুরুতর থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত অনেক রোগীর নিয়মিত রক্ত সঞ্চালনের প্রয়োজন হয়। তবে বারবার রক্ত গ্রহণের ফলে শরীরে অতিরিক্ত আয়রন জমে যকৃৎ ও হৃৎপিণ্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ ঝুঁকি কমাতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আয়রন চিলেশন থেরাপি গ্রহণ করতে হয়। রোগের জটিলতা ও চিকিৎসার ধরন অনুযায়ী একজন রোগীর মাসিক ব্যয় প্রায় ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা কিংবা তারও বেশি হতে পারে। নিয়মিত রক্ত, ওষুধ, পরীক্ষা ও যাতায়াতের ব্যয় বহন করা অনেক পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে পড়ছে। অধ্যাপক ডা. সৈয়দা মাসুমা রহমানের মতে, থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধ ও রোগীদের জীবনমান উন্নয়নে সরকারি উদ্যোগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন। বিশেষ করে সাশ্রয়ী মূল্যে পরীক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি, নিরাপদ রক্তের সরবরাহ নিশ্চিত করা, প্রয়োজনীয় ওষুধ সহজলভ্য করা এবং জেলা পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, থ্যালাসেমিয়ার বাহক হওয়া মানেই রোগে আক্রান্ত হওয়া নয়। তবে নিজেদের বাহক হওয়ার অবস্থা সম্পর্কে না জানলে ভবিষ্যৎ সন্তানের জন্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই সচেতনতা বৃদ্ধি, সময়মতো পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় জেনেটিক কাউন্সেলিং থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে ইতোমধ্যে আক্রান্ত রোগীদের নিয়মিত চিকিৎসা ও আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন সংশ্লিষ্টরা।
আয়ুর্বেদে মধুর বহুবিধ উপকারিতা সকলেরই জানা। কেউ কেউ মধুকে সুপারফুডও বলে থাকে। ওজন কমাতে অনেকে সকালে কুসুম গরম পানিতে মধু মিশিয়ে খান। হজমশক্তি বাড়াতেও মধু বেশ কার্যকর। এ ছাড়াও সারাদিনের এনার্জিও থাকে বেশ ভালো। চলুন জেনে নেই সকালে কুসুম গরম পানিতে মধু খেলে শরীরের জন্য কী কী উপকার হতে পারে- হজমশক্তি বাড়ায় কুসুম গরম পানিতে মধু হজম প্রক্রিয়াকে সক্রিয় করে। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে এবং পেট পরিষ্কার রাখতে সহায়ক। তাই যাদের কোষ্ঠকাঠিন্য বা হজমের সমস্যা আছে তারা নিয়মিত কুসুম গরম পানিতে মধু মিশিয়ে খেলে ভালো উপকার মেলে। ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক নিয়মিত সকালে মধু-পানি পান করলে শরীরের অতিরিক্ত চর্বি কমাতে সাহায্য করে। মেটাবলিজম বাড়িয়ে এটি ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভূমিকা রাখে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় মধুতে আছে প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। ত্বক উজ্জ্বল রাখে শরীরের ভেতর থেকে টক্সিন বের করতে সাহায্য করে মধু-পানি। এর ফলে ত্বক থাকে পরিষ্কার, উজ্জ্বল ও সতেজ। সকালে কুসুম গরম পানিতে মধু মিশিয়ে খেলে ত্বক উজ্জ্বল হয়। এনার্জি জোগায় সকালে খালি পেটে মধু-পানি পান করলে তাৎক্ষণিক এনার্জি পাওয়া যায়। সারাদিন কাজে মনোযোগ ও কর্মক্ষমতা বাড়াতে এটি বেশ কার্যকর। যেভাবে খাবেন এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে ১ চা-চামচ খাঁটি মধু মিশিয়ে সকালে খালি পেটে পান করুন। চাইলে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস যোগ করা যেতে পারে। তবে ডায়াবেটিস বা বিশেষ কোনো স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগলে নিয়মিত মধু খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সূত্র : আনন্দবাজার
দেশে হামের সংক্রমণ ও উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে এক হাজার ২১০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। বুলেটিন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় এই পাঁচজনের মৃত্যু হয়। চলতি বছরে মোট মৃত্যু ১১৮৬ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে ১০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন এক হাজার ৮২ জন। সব মিলিয়ে নিশ্চিত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ১৮৬ জনে। সর্বোচ্চ রোগী ঢাকা বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের আট বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। বিভাগটিতে নতুন করে ৪৮০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৭৭ জন ভর্তি হয়েছেন চট্টগ্রাম বিভাগে। এ ছাড়া সিলেট বিভাগে ১৩৬ জন, বরিশালে ১০৮ জন, খুলনায় ১০৭ জন, ময়মনসিংহে ৭০ জন, রাজশাহীতে ২৫ জন এবং রংপুরে সাতজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। হাসপাতালে ভর্তি ছাড়িয়েছে ১ লাখ ৮৭ হাজার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট এক লাখ ৮৭ হাজার ৬১৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছেড়েছেন এক লাখ ৮০ হাজার দুইজন। একই সময়ের হিসাবে দেশে সন্দেহজনক হামের রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ১১ হাজার ৪০ জনে। এর মধ্যে পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ২২ হাজার ৯৭২ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই পরিসংখ্যানে নিশ্চিত হাম এবং হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের তথ্য পৃথকভাবে তুলে ধরা হয়েছে।