নদ-নদীর মাছ কিংবা টুথপেস্ট নানা মাধ্যমে খাদ্যচক্রে ঢুকে পড়া মাইক্রোপ্লাস্টিক মানবদেহের জন্য কতটা বিপজ্জনক, সেই জিজ্ঞাসা ক্রমে জোরালো হচ্ছে।
প্লাস্টিকের এ ক্ষুদ্র কণা শরীরে ঢুকলেই কি বিপদ ডেকে আনতে পারে; কিংবা কতটুকু প্রবেশ করলে ক্ষতি হয়, আর কতটুকুতে ক্ষতি হয় না— এমন নানা প্রশ্ন আছে মানুষের।
গবেষকরা বলছেন, খাদ্যচক্রের মাধ্যমে মাইক্রোপ্লাস্টিক শরীরে ঢুকে পড়লেই যে তা বিপদ ঘটাবে, সেটা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে শরীরে এর পরিমাণ বেড়ে গেলে যে নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হবে, সেটা অনেকটা নিশ্চিত হওয়া গেছে।
সম্প্রতি বেসরকারি সংস্থা এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) দাবি করেছে, দেশে বিক্রি হওয়া ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে তারা ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক পেয়েছে।
তিন বছরের গবেষণা শেষে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের একদল গবেষক বলেছে, সাগর ও নদ-নদী মিলিয়ে তারা ১৩ ধরনের মাছে মাইক্রোপ্লাস্টিক পেয়েছে।
এসব গবেষণার মানে দাঁড়াচ্ছে, প্লাস্টিকের এসব ক্ষুদ্র কণা মানবদেহে প্রবেশ করছে। মানবদেহে এসব প্লাস্টিক কণা কী কী বিপদ ঘটাচ্ছে, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত বিস্তর গবেষণা হয়নি।
তবে বাংলাদেশের একদল গবেষকের দাবি, মানবদেহে এর ক্ষতিকর প্রভাব বুঝতে তারা ইঁদুরের ওপর দুই বছর ধরে গবেষণা চালিয়েছেন। তাতে মানবদেহে মাইক্রোপ্লাস্টিকের সাত ধরনের ঝুঁকি তৈরির প্রমাণ পেয়েছেন তারা।
এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ নিয়ে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, হয় প্লাস্টিকের ব্যবহার থেকে ক্রমে সরে আসতে হবে, নয়ত বৈজ্ঞানিক উপায়ে এর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।
মাইক্রোপ্লাস্টিক হলো, ৫ মিলিমিটার বা তার চেয়ে ছোট আকারের ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা, যা সাধারণত খালি চোখে দেখা যায় না।
এই প্লাস্টিক কণার প্রভাব নিয়ে বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞদের তৈরি গবেষণা প্রতিবেদনটি সপ্তাহ দুয়েক আগে ছাপা হয় আন্তর্জাতিক ‘ইমার্জিং কনটামিনেন্টস’ সাময়িকীতে।
চারজন মিলে এ গবেষণা করেছেন, যাদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ ফিরোজ জামানও আছেন।
তিনি বলেন, “মানবশরীরে কী প্রভাব পড়তে পারে, সেটা পরীক্ষা করার জন্য আমরা নমুনা প্রাণী হিসেবে স্তন্যপায়ী ইঁদুরকে নিয়েছি। এর মানে হলো, ইঁদুরের যেভাবে ক্ষতি হচ্ছে, মানবদেহেরও একই রকম ক্ষতি হবে।”
মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণের ফলে স্তন্যপায়ী প্রাণীর দেহে নানা প্রভাব পড়ার তথ্য তুলে ধরেন এ গবেষক।
ফিরোজ জামান বলেন, “অনেক রকমের ক্ষতি আছে। আয়ুষ্কাল কমিয়ে দেয়; কিডনির ক্ষতি করে, লিভারে ক্ষতি করে, কোষ ড্যামেজ করে। ছয় থেকে সাতটা প্রভাব আছে।”
তিনি বলেন, “আমরা দুই বছর কাজ করেছি। মাইক্রোপ্লাস্টিকের ফিড তৈরি করে ওদেরকে খাইয়েছি। তারপরে প্রভাব দেখেছি— কোষে কী প্রভাব পড়ে, কিডনিতে কী প্রভাব পড়ে, ব্লাড সেল ডেভলপমেন্টে কীভাবে প্রভাব পড়ে।”
এ গবেষণায় ইঁদুরের খাবারে বিভিন্ন মাত্রায় পিভিসি মাইক্রোপ্লাস্টিক মিশিয়ে এর প্রভাব পরীক্ষা করা হয়। প্রায় ১২৫ মাইক্রোমিটার আকারের এসব মাইক্রোপ্লাস্টিক খাবারের সঙ্গে ৫ শতাংশ, ১০ শতাংশ ও ১৫ শতাংশ হারে মিশিয়ে ১৩ সপ্তাহ ধরে ইঁদুরকে খাওয়ানো হয়।
গবেষণায় দেখা যায়, উচ্চমাত্রার, অর্থাৎ ১০ শতাংশ ও ১৫ শতাংশ মাইক্রোপ্লাস্টিক ইঁদুরের বৃদ্ধি, রক্তকণিকার গঠন এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের নির্দেশকের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। এতে যকৃৎ, অন্ত্র ও কিডনির টিস্যুতেও ক্ষতিকর পরিবর্তন দেখা যায়। তবে মাইক্রোপ্লাস্টিক জমতে দেখা গেছে শুধু অন্ত্রের টিস্যুতে।
উচ্চমাত্রার মাইক্রোপ্লাস্টিক ইঁদুরের বৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়। আবার শরীরের ওজনের তুলনায় যকৃতের ওজন বেড়ে যায়।
মাইক্রোপ্লাস্টিক দেওয়া ইঁদুরগুলোর লোহিত রক্তকণিকার আকৃতি অস্বাভাবিক দেখা গেছে। তবে মোট রক্তকণিকার সংখ্যায় তেমন পার্থক্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক মো. শাহজাহানসহ এক দল গবেষক ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ নিয়ে মাছের উপর গবেষণা চালিয়েছেন।
গবেষণা দলের প্রধান এ অধ্যাপক জানান, সাগরের দুটি মাছে (চট্টগ্রাম ও কুয়াকাটায়) লইট্টা ও ছুরি শুটকিতে; বহ্মপুত্র নদে দুটি, চলনবিলে তিনটি মাছে এবং আড়িয়াল বিলে পাঁচটি দেশি মাছে ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা মিলেছে।
আড়িয়াল বিলের পাঁচ মাছ হলো, কই, বাটা, মেনি, গুলশা টেংরা ও পুঁটি।
এছাড়া চট্টগ্রাম ও কুয়াকাটা থেকে সংগৃহীত বোম্বে ডাক, রিবন ফিশ ও ফাইসা মাছেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে।
গবেষণা দেখা গেছে, মাছের অন্ত্র, ফুলকা ও মাংসে মাইক্রোপ্লাস্টিক কণার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কই মাছে গড়ে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে ১ থেকে ১ দশমিক ৯০টি।
অধিকাংশ মাইক্রোপ্লাস্টিক ছিল ফাইবার আকৃতির, যেগুলোর আকার ১০১ থেকে ৩০০ মাইক্রোমিটারের মধ্যে।
মাইক্রোপ্লাস্টিকের সহনীয় মাত্রার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে অধ্যাপক মো. শাহজাহান বলেন, “নরমালি অন্য টক্সিডেন্টের ক্ষেত্রে ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন বা ফুড অর্গানাইজেশন এর মাত্রা ডিটেক্ট করে। কিন্তু মাইক্রোপ্লাস্টিকের ক্ষেত্রে এরকম কোনো স্ট্যান্ডার্ড এখনো বৈশ্বিকভাবে তৈরি হয়নি।”
তিনি বলেন, মাইক্রোপ্লাস্টিক এখনো কোনো ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে, এরকম প্রতিবেদন নেই। তবে মাইক্রোপ্লাস্টিক যখন ফ্রাগমেন্টেড হয়ে ন্যানোপ্লাস্টিক হয় এবং ন্যানোপ্লাস্টিক আবার ব্লাড স্ট্রিমে বা মাসেলে ডিপোজিট হয়, তখন সেটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
মাইক্রোপ্লাস্টিকের মাত্রা বাড়তে থাকায় উদ্বেগ বাড়েছে বলে মনে করেন এই গবেষক।
তার মতে, “এভাবে চলতে থাকলে ২০৫০ সালে গিয়ে দেখা যাবে, সমুদ্রে যে পরিমাণ মাছ, ওই পরিমাণ মাইক্রোপ্লাস্টিক।”
২০২৫ সালে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর মাছে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে অধ্যাপক শাহজাহান বলেন, কর্ণফুলী টানেল তৈরির সময় দেখা যায়, তলদেশ প্রায় দুই-তিন ফুট স্তর হয়ে গেছে প্লাস্টিক মেটেরিয়ালস পলিথিন দিয়ে। এই পলিথিনই তো ভাঙতে ভাঙতে মাইক্রোপ্লাস্টিক হয়।
“ব্রাশ ব্যবহার করি, টুথপেস্ট ব্যবহার করি, প্রসাধনী ব্যবহার করি— এগুলোতেও মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকে। এগুলোই তো পরিবেশে যাচ্ছে।”
খাদ্যচক্রে মাইক্রোপ্লাস্টিক ঢুকে পড়ার তথ্য তুলে ধরে অধ্যাপক ফিরোজ জামান বলেন, “মাইক্রোপ্লাস্টিকগুলো ইকোসিস্টেমে ফুডের সঙ্গে কনটামিনেটেড হয়ে মাছের মাধ্যমে মানুষের দেহে চলে আসছে। মাছের মাধ্যমে অথবা শস্য যখন উৎপাদন হয়, ওই পানিটা যদি কেউ ব্যবহার করে, পানিটা শস্যের কোষের ধ্যে ঢুকে সেখান থেকে শাক-সবজি যা খাচ্ছি, সেগুলোর মাধ্যমেও চলে আসছে মানব শরীরে।
মানুষের শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিক এলেও তা কতটুকু ক্ষতিকর হবে তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ গবেষক বলেন, “মানবদেহে ঢুকলেই যে ক্ষতি হবে, তা নয়। এটা পরিমাণমত আসতে হবে। এখন কোন পরিমাণে এলে ক্ষতি হবে, আর কোন পরিমাণে এলে ক্ষতি হবে না, তা আমাদের গবেষণায় তুলে ধরেছি।
“আমাদের শরীরে ক্রমাগত যদি ঢুকতেই থাকে, তাহলে একসময় মাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। আর মাত্রা ছাড়িয়ে গেলে তো শরীরের ক্ষতি হবেই।”
এক্ষেত্রে ফিরোজ জামানের পরামর্শ হলো, “মাইক্রোপ্লাস্টিকের ব্যবহারটা কমাতে হবে। আর যদি ব্যবহার কমাতে অসুবিধা হয়, তাহলে কোনো প্লাস্টিক যেন কেউ পরিবেশে ছুড়ে ফেলতে না পারে, সেটা নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলতে হবে।”
তার মতে, “প্লাস্টিকের ব্যবহার হয় বন্ধ করতে হবে। আর ব্যবহার বন্ধ না করতে পারলে বৈজ্ঞানিক উপায়ে এর ব্যবস্থাপনা করতে হবে, যেমনটা অন্যান্য দেশ করছে।
“জাপানে দেখেছি, তাদের প্রত্যেকটা জায়গায় ওরা প্লাস্টিক ব্যবহার করে। কিন্তু ইন্টারেস্টিং হলো, কোথাও একটা প্লাস্টিকের টুকরাও পাওয়া যাবে না। ওরা এমনভাবে এগুলোর ব্যবস্থাপনা করে, রিসাইক্লিং করে…সেখানে প্লাস্টিকগুলো পরিষ্কার করে ডাস্টবিনের বিশেষ বিশেষ জায়গায় রাখতে হয়। না রাখলে জরিমান হয়।”
জনস্বাস্থ্য ও রোগতত্ত্ব বিশেষজ্ঞ ড. মুশতাক হোসেন বলেন, “আমাদের এখানে প্লাস্টিকের ব্যবহার একেবারেই অনিয়ন্ত্রিত। কাজেই আমাদের আশঙ্কা যে এখানে বিপজ্জনক মাত্রাতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক আছে।”
কোনো কোনো বিশেষজ্ঞের মতে, মাইক্রোপ্লাস্টিক রক্তের মধ্যে মিশে মস্তিষ্কে চলে যায়। আর দীর্ঘ মেয়াদে সেবা কর্মক্ষমতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে।
মাইক্রোপ্লাস্টিকের দূষণ রোধে করণীয় নির্ধারণে আরও গবেষণায় জোর দেন মুশতাক হোসেন।
রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক এ প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তার পরামর্শ হলো, “আমাদের গবেষণা করতে হবে এর উপরে, এটা কীভাবে কমানো যায়।
“এটা কীভাবে আলাদা করা যায়, সেগুলোর বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি বের করতে হবে। কীভাবে রিমুভ করা যায় খাদ্য শৃঙ্খল, পানীয় শৃঙ্খল, ওষুধপত্র থেকে, তা বের করতে হবে। বিদেশের গবেষণার দিকে তাকিয়ে থাকলে হবে না, আমাদের নিজেদেরও করতে হবে।”
তার মতে, “প্রথমেই তো প্লাস্টিকের বোতলে পানি খাওয়া বন্ধ করতে হবে। একবার ব্যবহারযোগ্য পলিথিন ব্যবহার বন্ধ করা, এগুলো পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য অলরেডি বলা হয়েছে। সেগুলো মেনে চলার জন্য মানুষের মধ্যে একটা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে। সেগুলোতে আবার নজরদারি চালানো উচিত।”
বাংলাদেশে প্রতিদিন আট লাখ টন প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরি হয়। এর মধ্যে শতকরা ৩৬ ভাগ পুনর্চক্রায়ণ, ৩৯ ভাগ ভূমি ভরাট এবং বাকি ২৫ ভাগ সরাসরি পরিবেশে দূষণ ঘটাচ্ছে।
খাবার পানির শতকরা ৮০ ভাগ পানি মাইক্রো ও ন্যানো প্লাস্টিকের কণা দ্বারা দূষিত।
গবেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, পানিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের পরিমাণ একেক ঋতুতে একেক রকম থাকে।
অধ্যাপক শাহজাহান বলেন, “বর্ষাকালে পানিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের ঘনত্ব সর্বাধিক ছিল। গবেষকদের মতে, বৃষ্টির পানির সঙ্গে আশপাশের প্লাস্টিক বর্জ্য বিলের পানিতে প্রবাহিত হয়ে দূষণের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।”
তিনি জানান, এ সময় পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় কণাগুলো পানির স্তরে ভেসে থাকে এবং সরাসরি পানির গুণগত মানকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অন্যদিকে শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় মাইক্রোপ্লাস্টিক কণাগুলো ধীরে ধীরে তলদেশে জমা হয়।
প্লাস্টিক হচ্ছে কৃত্রিমভাবে তৈরি পলিমার, যা মূলত জীবাস্ম জ্বালানি বা প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে রাসায়নিক উপায়ে তৈরি করা হয়।
অ্যাক্রাইলিক, পলিস্টাইরিন, পলিভিনাইল ক্লোরাইড, সিনথেটিক রাবার, পলিইথিলিন (পলিথিন) ইত্যাদি প্লাস্টিকের আবিষ্কারের ফলে জীবনের সব স্তরে প্রয়োজনীয় প্রায় সব দ্রব্য ও দ্রব্যাদির অংশবিশেষ প্লাস্টিক দ্বারা তৈরি হচ্ছে।
পরিবেশে অপচনশীল নানা রকম প্লাস্টিক বর্জ্যরে সঙ্গে অতিবেগুনি রশ্মি এবং পরিবেশের অন্যান্য উপাদানের মিথস্ক্রিয়ার ফলে মাইক্রো ও ন্যানো প্লাস্টিকের কণা এবং নানা রকম ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ নির্গত হয়। এসব মাইক্রো ও ন্যানো কণা এবং নিঃসৃত ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ মানুষ ও অন্যান্য জীবের হরমোনাল সিস্টেম নষ্ট করতে পারে।
প্লাস্টিক দূষণ আমাদের স্বাস্থ্য, প্রাকৃতিক সম্পদ, জীববৈচিত্র্য, উন্নত জীবনযাপন এবং নিরাপদ খাদ্যের জন্য বিরাট হুমকি। সময়োপযোগী আইন তৈরি, আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং প্লাস্টিকদূষণের ক্ষতিকর দিক ও করণীয় নিয়ে সমাজের সব স্তরে সচেতনতা বাড়ানোর দাবি সংশ্লিষ্টদের।
মাছ, প্রাণীসহ খাদ্য চক্রে মাইক্রোপ্লিাস্টিকের বিষয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, “এটা এখন বৈশ্বিক সমস্যা; এটা শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয়। তাই বিষয়টি নিয়ে আরও জানার চেষ্টা করছি। বিদ্যমান সমস্যা নিয়ে পুরো না জেনে কমেন্ট করতে চাই না।”
দূষণ রোধে ব্যক্তিগত জনসচেতনতার পাশাপাশি সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া দরকার বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, “এই সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করতে হবে। প্লাস্টিক দূষণের বিষয়ে আরো গবেষণার পাশাপাশি সম্পৃক্ত অনেক মন্ত্রণালয় রয়েছে, বাস্তবায়নের বিষয় রয়েছে। যার যার জায়গা থেকে চিন্তা ও কাজের সমন্বয় করাই সঠিক হবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
বয়স বাড়ার সঙ্গে অনেকের মুখ, হাত, কাঁধ ও পিঠের মতো শরীরের খোলা অংশে ছোট ছোট কালচে দাগ দেখা দেয়। এসব দাগকে বয়সের দাগ, সানস্পট বা লিভার স্পট বলা হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এগুলো সোলার লেন্টিজিনেস নামে পরিচিত। সাধারণত দীর্ঘদিন সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শে থাকার কারণে ত্বকে এসব দাগ তৈরি হয়। বয়সের দাগ সাধারণত সমতল ও ডিম্বাকৃতির হয়। এগুলোর রং হালকা বাদামি থেকে গাঢ় বাদামি বা কালচে হতে পারে। আকারে ছোট ফ্রেকলসের মতো দাগ থেকে শুরু করে প্রায় ১৩ মিলিমিটার পর্যন্ত হতে পারে। কখনো একাধিক দাগ একসঙ্গে জমা হয়ে ত্বকে ছোপ ছোপ ভাব তৈরি করে। হাতের উপরিভাগ, পায়ের ওপরের অংশ, মুখ, কাঁধ ও পিঠের ওপরের দিকে এসব দাগ বেশি দেখা যায়। ৫০ বছরের বেশি বয়সি মানুষের মধ্যে বয়সের দাগ বেশি দেখা গেলেও কম বয়সিরাও এতে আক্রান্ত হতে পারেন। বিশেষ করে যাদের ত্বক সহজে রোদে পুড়ে যায় এবং যারা দীর্ঘ সময় সূর্যের আলোতে থাকেন, তাদের ঝুঁকি বেশি। শিশুদের ত্বকে দেখা দেওয়া ফ্রেকলসের মতো এসব দাগ সূর্যের আলো এড়িয়ে চললে সাধারণত মিলিয়ে যায় না। বয়সের দাগ কেন হয় ত্বকের রং নির্ধারণ করে মেলানিন নামের প্রাকৃতিক রঞ্জক পদার্থ। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি মেলানিন উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়। দীর্ঘদিন সূর্যের আলোতে থাকার ফলে ত্বকের নির্দিষ্ট কিছু স্থানে মেলানিন জমা হতে পারে বা অতিরিক্ত উৎপন্ন হতে পারে। এ থেকেই বয়সের দাগ দেখা দেয়। বাণিজ্যিক ট্যানিং ল্যাম্প ও ট্যানিং বেড ব্যবহার করলেও এ ধরনের দাগ তৈরি হতে পারে। বয়সের দাগ সাধারণত ক্ষতিকর নয় এবং চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। তবে দেখতে ত্বকের ক্যানসারের কিছু লক্ষণের মতো হওয়ায় সতর্ক থাকা জরুরি। কোনো দাগ কালো হয়ে গেলে, আকারে বড় হলে, সীমানা অসমান হলে, একাধিক রঙ দেখা দিলে কিংবা রক্তপাত হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। নতুন কোনো দাগ দেখা দিলেও তা পরীক্ষা করানো ভালো। এসব পরিবর্তন মেলানোমা নামের গুরুতর ত্বকের ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে। প্রতিরোধ করবেন যেভাবে বয়সের দাগ প্রতিরোধে সূর্যের আলো থেকে ত্বককে সুরক্ষিত রাখা জরুরি। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি বেশি তীব্র থাকে। তাই সম্ভব হলে এ সময়ে বাইরে যাওয়া এড়িয়ে চলুন। বাইরে যাওয়ার ১৫ থেকে ৩০ মিনিট আগে কমপক্ষে এসপিএফ ৩০ যুক্ত ব্রড-স্পেকট্রাম সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। প্রতি দুই ঘণ্টা পরপর এবং সাঁতার কাটার বা ঘামার পর আবার সানস্ক্রিন লাগান। এ ছাড়া হাত-পা ঢেকে রাখে এমন পোশাক ও চওড়া কিনারার টুপি ব্যবহার করুন। অতিবেগুনি রশ্মি থেকে সুরক্ষা দেয় এমন ইউপিএফ ৪০ থেকে ৫০ মানের পোশাকও বেছে নিতে পারেন। বয়সের দাগ সৌন্দর্যগত কারণে হালকা করা বা অপসারণ করা সম্ভব। তবে আগে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন, দাগটি অন্য কোনো রোগের লক্ষণ নয়। সূত্র: মায়ো ক্লিনিক
জাপানের উন্নত ও বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা সম্পর্কে বাংলাদেশি রোগীদের তথ্যপ্রাপ্তি এবং চিকিৎসা সমন্বয়ের সুযোগ বাড়াতে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট সংগঠনের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে। এর ফলে জাপানের আধুনিক হৃদ্রোগের চিকিৎসা, রোবোটিক প্রযুক্তি ও অন্যান্য বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা সম্পর্কে জানতে পারবেন বাংলাদেশের রোগীরা। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ঢাকার একটি হোটেলে বাংলাদেশ মেডিক্যাল ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশন (বিএমটিএ) এবং জাপানের ইন্টারন্যাশনাল মেডিক্যাল কোঅর্ডিনেটর কম্পানিজ অ্যাসোসিয়েশনের (জিমকা) মধ্যে এ সমঝোতা স্মারক সই হয়। অনুষ্ঠানে জাপানের কোবে ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের কার্ডিওভাসকুলার মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক হিরোমাসা ওতাকে হৃদ্রোগের আধুনিক চিকিৎসাপদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি হৃদ্রোগ নির্ণয়ে অপটিক্যাল কোহেরেন্স টমোগ্রাফি (ওসিটি) প্রযুক্তি এবং জটিল করোনারি চিকিৎসার অগ্রগতি তুলে ধরেন। কোবে ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের আন্তর্জাতিক চিকিৎসা যোগাযোগ কেন্দ্রের প্রধান অধ্যাপক তোমো ইতো আন্তর্জাতিক রোগীদের চিকিৎসাসেবা এবং বাংলাদেশের সঙ্গে এ খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে জিমকার মহাসচিব কাতসুয়া সাকাগামি, জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) বাংলাদেশ প্রতিনিধি কিয়োশি আমাদা ও জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি ইউকো মরিকাওয়া এবং শিপ ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ফুতাশি কোনো উপস্থিত ছিলেন। বিএমটিএর পক্ষে সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ আরিফ হোসেন, সহসভাপতি এ এম আর মজুমদার লিটন, শাব্বির আহমেদ তামিম ও আবদুর রশিদ এবং সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মুফাসসেরুল হকসহ অন্যরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। বিএমটিএ ২০২১ সাল থেকে চিকিৎসা পর্যটন ও আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যসেবা সহযোগিতা নিয়ে কাজ করছে। অন্যদিকে জিমকা জাপানে চিকিৎসা নিতে আগ্রহী বিদেশি রোগীদের সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় করে থাকে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা করছেন, এই সমঝোতার মাধ্যমে জাপানের বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা সম্পর্কে বাংলাদেশি রোগীদের জানার সুযোগ বাড়বে। পাশাপাশি জাপানে চিকিৎসা নিতে আগ্রহীদের জন্য তথ্য সংগ্রহ ও চিকিৎসাসংক্রান্ত যোগাযোগ সহজ হতে পারে। তবে এই উদ্যোগের আওতায় বাংলাদেশি রোগীদের চিকিৎসা গ্রহণের প্রক্রিয়া, চিকিৎসার ব্যয়, ভিসা-সংক্রান্ত সহায়তা এবং রোগী পাঠানোর নির্দিষ্ট ব্যবস্থা কী হবে, তা সমঝোতার বিস্তারিত শর্ত ও বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করবে।
লবঙ্গ শুধু খাবারের স্বাদ ও ঘ্রাণ বাড়ানোর মসলা নয়, এটি হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখা, যকৃতের কার্যকারিতা সমর্থন করা এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও সম্ভাব্য ভূমিকা রাখতে পারে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানে সমৃদ্ধ এই মসলার স্বাস্থ্যগত উপকারিতা নিয়ে গবেষণার তথ্য তুলে ধরেছে স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথলাইন। লবঙ্গ আস্ত কিংবা গুঁড়া—দুইভাবেই ব্যবহার করা যায়। ভাজা মাংসে স্বাদ বাড়ানো, গরম পানীয়তে সুগন্ধ যোগ করা এবং কেক-বিস্কুট তৈরিতে মসলাটি বহুল ব্যবহৃত। হাড়ের ঘনত্ব বাড়াতে পারে লবঙ্গ প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের লাখো মানুষের হাড়ের ভর বা ঘনত্ব কমে যায়। এর ফলে অস্টিওপোরোসিস বা হাড় ক্ষয়জনিত রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। এ রোগে হাড় দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে পড়ে, ফলে সামান্য আঘাতেও হাড় ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। প্রাণীর ওপর পরিচালিত কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, লবঙ্গ হাড়ের ভর বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। এতে রয়েছে ম্যাঙ্গানিজ, যা হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয় একটি খনিজ উপাদান। পাশাপাশি এতে ভিটামিন কে ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের মতো পুষ্টি উপাদান রয়েছে, যা সুস্থ হাড় বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ। শরীরে এসব পুষ্টি উপাদানের পর্যাপ্ত সরবরাহ হাড়ের গঠন ও রক্ষণাবেক্ষণে সহায়তা করে। একই সঙ্গে এগুলো অস্টিওপোরোসিস ও হাড় ভাঙার ঝুঁকি কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ লবঙ্গ লবঙ্গে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এসব উপাদান শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে। অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের সঙ্গে বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগের সম্পর্ক রয়েছে। লবঙ্গে ইউজেনল নামের একটি যৌগও রয়েছে, যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যের জন্য পরিচিত। সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে লবঙ্গসহ অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ সামগ্রিক সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে। মানুষের ক্ষেত্রে কার্যকারিতা নিশ্চিত নয় তবে লবঙ্গ হাড়ের ঘনত্ব বাড়াতে পারে—এমন সম্ভাব্য উপকারিতার পক্ষে যেসব তথ্য রয়েছে, তার বড় অংশই প্রাণীর ওপর পরিচালিত গবেষণাভিত্তিক। মানুষের শরীরে একই ধরনের প্রভাব দেখা যায় কিনা, তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। তাই হাড় মজবুত করার জন্য শুধু লবঙ্গের ওপর নির্ভর না করে সুষম খাদ্যাভ্যাস ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি গ্রহণের দিকে নজর দেওয়া জরুরি।