ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা তেহরানে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে লাখ লাখ মানুষের সমাগম হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহত খামেনি এবং তার পরিবারের চার সদস্যের জানাজার নামাজ পরিচালনা করেন ইরানের শীর্ষ ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের একজন আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানি।
এই জানাজায় ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং বিচার বিভাগের প্রধান গোলামহোসেইন মোহসেনি এজেই উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) কুদস ফোর্সের কমান্ডার ইসমাইল কানিও জানাজা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের এই বিশাল শোকানুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে তেহরানে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
চলতি বছরের ১ মার্চ থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত সৌদি আরব, কাতার ও আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ থেকে মোট ২১ হাজার ৯৫১ জন পাকিস্তানিকে বহিষ্কার করা হয়েছে। পাকিস্তানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডন জানিয়েছে, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান, ভিক্ষাবৃত্তি, অবৈধভাবে প্রবেশ, মাদক, আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যান, জাল কাগজপত্র এবং নিরাপত্তাজনিত কারণসহ বিভিন্ন কারণে তাদের বহিষ্কার করা হয়। সর্বাধিক সংখ্যক পাকিস্তানিকে সৌদি আরব থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে- প্রায় ১৫ হাজার ৫০০ জন। এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ৩৮০৩ জন, ওমান থেকে ১৬০৬ জন, বাহরাইন থেকে ৫২১ জন, কাতার থেকে ৪২৯ জন এবং কুয়েত থেকে ৯৭ জন পাকিস্তানিকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কার হওয়াদের মধ্যে ৪৬২৮ জন পলাতক, ১২৯৪ জন কারাবন্দি, ৯৬৮ জন কালো তালিকাভুক্ত, পাসপোর্ট হারানো ১১৫৫ জন, ভিসা লঙ্ঘনের জন্য ৬৮৯ জন রয়েছেন। এ ছাড়া দেশগুলোতে ৩৪২ জনের প্রবেশ আটকে দেওয়া হয়েছে। ‘অন্যান্য’ কারণ দেখিয়ে প্রায় ৬৬৬২ জনকে বহিষ্কার করা হয়। এছাড়া বহিষ্কার হওয়াদের মধ্যে ৪৭২ জন ভিক্ষুক রয়েছেন। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ইন্টারপোলের মাধ্যমে আরব আমিরাত থেকে ৯ জন পাকিস্তানিকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ছাড়া কয়েকজনকে পরবর্তী গন্তব্যে ভ্রমণের অনুমতি না দেওয়া, ভুয়া পরিচয় ব্যবহার, মেয়াদোত্তীর্ণ ইকামা ও পাসপোর্ট, চুরি, যুদ্ধকবলিত এলাকায় যাতায়াত এবং অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের মতো বিভিন্ন কারণে উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া অতিরিক্ত সময় অবস্থান, অবৈধ প্রবেশ বা অবস্থানের মতো অভিযোগে সৌদি আরব ১ হাজার ৯২৪ জন পাকিস্তানিকে বিতাড়িত করেছে। একই কারণে ইউএই ৩৪৭ জন এবং ওমান ২৯৫ জন পাকিস্তানিকে বহিষ্কার করেছে।
এডেন উপসাগর ও সোমালিয়া উপকূলে অন্তত ২২ জন ভারতীয় নাবিকসহ দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ জলদস্যুদের কবলে পড়েছে। শুক্রবার ভারতের নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে বার্তা সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, জলদস্যুরা জাহাজ দুটি ছিনতাই করে নিয়ন্ত্রণে নিলেও এখন পর্যন্ত ভারতীয় ক্রু সদস্যরা নিরাপদ রয়েছেন। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ আগস্ট এডেন উপসাগরে ইয়েমেন উপকূল থেকে প্রায় ৩০ নটিক্যাল মাইল দূরে এমটি সিবু-১ নামের একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার জিম্মি করে জলদস্যুরা। ইরিত্রিয়ার পতাকাযুক্ত এই জাহাজে ১৬ জন ভারতীয়সহ মোট ২০ জন ক্রু ছিলেন। অপর ক্রু সদস্যরা সিরিয়া, সুদান ও ইরাকের নাগরিক। আর একজনের জাতীয়তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ছয়জন সশস্ত্র জলদস্যু জাহাজটিতে উঠে সেটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে জাহাজটির নিয়োগকারী সংস্থা এস কে এস কৃষি মেরিন সার্ভিসেসকে দুর্ঘটনা সংক্রান্ত রিপোর্ট জমা দিতে ও ই-নাভিক ব্যবস্থার মাধ্যমে নিয়মিত তথ্য সরবরাহের নির্দেশ দিয়েছে ভারতের নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। এর আগে ১৭ আগস্ট সোমালিয়ার পুন্টল্যান্ড উপকূলে ক্যামেরুনের পতাকাযুক্ত এম/ভি লুতুফ নামের অপর একটি জাহাজে আটজন সশস্ত্র জলদস্যু হামলা চালায়। এ কে-৪৭ রাইফেলসহ দুটি দ্রুতগামী নৌকায় এসে জলদস্যুরা জাহাজে ওঠে। এই জাহাজের ১০ জন ক্রুর মধ্যে ৬ জন ভারতীয়। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আক্রমণের শুরুতে ক্রু সদস্যরা জাহাজের নিরাপদ কক্ষে আশ্রয় নিলেও পরে দস্যুরা ভেতরে ঢুকে তাদের ব্রিজে নিয়ে যায়। তবে এতে কেউ আহত হননি। জাহাজটি পুন্টল্যান্ডের ইয়েল জেলার মারায়া এলাকা থেকে ছিনতাই করে নুগাল উপকূলের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এটি মোগাদিসুর একটি সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের জন্য তুর্কি অস্ত্র, যোগাযোগ ও স্যাটেলাইট সরঞ্জাম বহন করছিল বলে জানা গেছে। বিআইএমসিও-আইসিএস-এর ২০২৬ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে ৩ লাখ ১১ হাজার ৯৩৬ জন নাবিক সরবরাহ করে ভারত বর্তমানে বিশ্বে দ্বিতীয় শীর্ষ স্থানে রয়েছে (ফিলিপাইনের পরেই)। ফলে এসব আন্তর্জাতিক জলসীমায় ভারতীয় নাবিকেরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়ছেন। সূত্র: উইয়ন নিউজ
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আর্কটিক অঞ্চলের সমুদ্রের বরফ দ্রুত গলে যাওয়ায় পূর্ব গ্রিনল্যান্ডের বরফমুক্ত জলসীমায় বাড়ছে দৈত্যাকার তিমির আনাগোনা। নতুন উন্মুক্ত হওয়া এসব জলভাগ এখন হাম্পব্যাক, ফিন ও মিংক তিমির গুরুত্বপূর্ণ খাদ্যক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। বিজ্ঞানীদের কয়েক দশকের গবেষণায় উঠে এসেছে এমন তথ্য। গবেষণার সময় গ্রীষ্মকালে পূর্ব গ্রিনল্যান্ডের বরফমুক্ত সমুদ্র এলাকায় শত শত বিশাল আকৃতির সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণীর বিচরণ ও শিকারের দৃশ্য ধারণ করা হয়। একসময় পুরু বরফের কারণে এসব অঞ্চলে তিমিদের প্রবেশ প্রায় অসম্ভব ছিল। কিন্তু সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও বরফ গলে যাওয়ায় সেই পরিস্থিতি বদলে গেছে। বিজ্ঞানীরা পূর্ব গ্রিনল্যান্ডের নতুন এই পরিবেশকে ‘খাদ্য উন্মাদনা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাদের মতে, উষ্ণ পানিতে নতুন নতুন প্রজাতির মাছের উপস্থিতি এবং খাবারের সহজলভ্যতা তিমিদের এই অঞ্চলের প্রতি আকৃষ্ট করছে। তথ্য অনুযায়ী, ২০০৬ সাল পর্যন্ত জাহাজভিত্তিক কোনো জরিপে পূর্ব গ্রিনল্যান্ডের এই অঞ্চলে একটি হাম্পব্যাক তিমিও দেখা যায়নি। ২০০৭ সালে প্রথমবার সাতটি হাম্পব্যাক তিমির দেখা মেলে। আর ২০২৪ সালে জাহাজ থেকেই অন্তত ১৫০ বার হাম্পব্যাক তিমি শনাক্ত করা হয়েছে। ২০১৫ ও ২০২৪ সালের গ্রীষ্মে ব্যালিন তিমির উপস্থিতি পর্যবেক্ষণে বায়বীয় জরিপ চালানো হয়। স্যাটেলাইটে ১৫টি তিমির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং স্থানীয় ইনুইট শিকারিদের অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করেও গবেষকেরা এ অঞ্চলে বড় ধরনের পরিবেশগত পরিবর্তনের প্রমাণ পেয়েছেন। গবেষকদের হিসাবে, শুধু ২০২৪ সালের গ্রীষ্মেই গ্রিনল্যান্ড সাগরে খাদ্যের সন্ধানে বিচরণ করেছে প্রায় ৪ হাজার হাম্পব্যাক, ৬ হাজার ফিন ও ৬ হাজার মিংক তিমি। এক গ্রীষ্মে এই তিন প্রজাতির তিমি মিলিয়ে প্রায় ৮ লাখ টন মাছ ও ক্রিল খেতে পারে বলেও ধারণা করছেন গবেষকেরা। গ্রিনল্যান্ড ইনস্টিটিউট অব ন্যাচারাল রিসোর্সেসের প্রধান গবেষক অধ্যাপক ম্যাডস পিটার হাইডে-জারগেনসেন বিবিসিকে বলেন, উপ-মেরু অঞ্চলে এখন পর্যন্ত দেখা পরিবর্তনগুলোর মধ্যে এটি সম্ভবত সবচেয়ে বড়গুলোর একটি। তবে এই বিপুলসংখ্যক তিমির আগমন স্থানীয় তিমির সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে, নাকি অন্য অঞ্চল থেকে তাদের স্থানান্তরের ফল—তা এখনো নিশ্চিত নন বিজ্ঞানীরা। গবেষকদের ধারণা, পশ্চিম গ্রিনল্যান্ড থেকেও কিছু তিমি পূর্বাঞ্চলে চলে আসতে পারে। গ্রিনল্যান্ডে নিয়ন্ত্রিত তিমি শিকারের দীর্ঘ ইতিহাস থাকায় বিষয়টি সংবেদনশীল বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ব্যালিন তিমির মতো সুযোগসন্ধানী প্রজাতি দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নতুন খাদ্যক্ষেত্র কাজে লাগাতে পারছে। কিন্তু একই পরিবর্তন আর্কটিক অঞ্চলের স্থানীয় প্রজাতি নারহোয়াল ও বেলুগার জন্য হুমকি হয়ে উঠছে। অধ্যাপক হাইডে-জারগেনসেনের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন কিছু প্রজাতির জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করলেও এর মূল্য দিতে হচ্ছে অন্যদের। বড় তিমিদের আগমনে স্থানীয় প্রজাতিগুলো তাদের পরিচিত আবাসস্থল হারানোর ঝুঁকিতে পড়ছে। ফলে পূর্ব গ্রিনল্যান্ডে তিমির সংখ্যা বৃদ্ধি একদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে প্রাণীদের অভিযোজনের নজির হলেও, অন্যদিকে আর্কটিকের স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। সূত্র: বিবিসি