সারাদেশ

রাকসুর ভিপি থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ২১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কুড়িগ্রামের কৃতি সন্তান অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পাওয়ায় তার জন্মভূমি কুড়িগ্রামে আনন্দ-উল্লাস, মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করেছেন নেতাকর্মীরা। রিজভী আহমেদের দীর্ঘায়ু ও সফলতা কামনা করে শুক্রবার (২১ আগস্ট) জুমার নামাজের পর জেলার বিভিন্ন মসজিদে বিশেষ দোয়া করা হয়। পরে বিকেলে জেলা বিএনপির কার্যালয় থেকে একটি আনন্দ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে কলেজ মোড়ে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।

 

এসময় দলীয় নেতাকর্মীরা বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) ভিপি থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব—দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ত্যাগ, নিষ্ঠা, দলের প্রতি আনুগত্য ও নানা আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে রুহুল কবির রিজভী আহমেদ এ পর্যায়ে পৌঁছেছেন। তার এই অর্জনে কুড়িগ্রামের মানুষ গর্বিত।

 

কুড়িগ্রাম শহরের হিঙ্গণরায় সর্দারপাড়ায় জন্ম রুহুল কবির রিজভী আহমেদের। তার বাবা আব্দুল কুদ্দুস। দুই ভাই ও চার বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়। শৈশবে কুড়িগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। পরে বাবার চাকরির সুবাদে বগুড়ায় গিয়ে সেখান থেকে এসএসসি পাস করেন। এরপর রাজশাহীতে ফুপুর বাসায় থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন এবং ছাত্রজীবনেই রাজনীতিতে যুক্ত হন। রিজভী আহমেদের কুড়িগ্রামের বাসভবনের কেয়ারটেকার বুলবুল মিয়া বলেন, আমি সাড়ে ৩ বছর ধরে এখানে কাজ করছি। তিনি খুব ভালো মানুষ। মাঝেমধ্যে বাড়িতে এলে আমাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করেন এবং খোঁজখবর নেন। ঢাকায় থাকলেও নিয়মিত ফোন করে আমাদের খোঁজখবর নেন।

 

মোস্তফা কামাল লিখন বলেন, রিজভী আহমেদ আমাদের চাচাতো ভাই। তার জন্ম ও পারিবারিক বাড়ি কুড়িগ্রামেই। শৈশবে কুড়িগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। বাবার চাকরির সুবাদে পরে বগুড়ায় গিয়ে সেখান থেকে এসএসসি পাস করেন। এরপর রাজশাহীতে ফুপুর বাসায় থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা ও রাজনীতি করেন। ছোটোবেলা থেকেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

 

তিনি বলেন, রিজভী ভাই কুড়িগ্রামে এলে সুযোগ পেলেই আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে গিয়ে সবার খোঁজখবর নেন। তিনি খুব ভালো মানুষ। তাকে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়ায় আমরা অত্যন্ত খুশি। তিনি রাজনীতির জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন। কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাসিবুর রহমান হাসিব বলেন, অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আমাদের দলের অহংকার। কুড়িগ্রামের মানুষ হিসেবে তাকে নিয়ে গর্ব করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। দলের চেয়ারম্যান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দিয়েছেন। কুড়িগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ হিসেবে আমরা তাকে অভিনন্দন জানাই। প্রত্যন্ত এলাকা থেকে সংগ্রাম করে তিনি আজ দলের শীর্ষ পর্যায়ে পৌঁছেছেন এবং ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পেয়েছেন। এতে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। রিজভী আহমেদ শৈশবে কুড়িগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। কুড়িগ্রামের মানুষের সঙ্গে তার নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। তিনি অত্যন্ত সদালাপী, হাস্যোজ্জ্বল ও নিরহংকার মানুষ। রিজভীর রাজনৈতিক জীবনের প্রসঙ্গ টেনে হাসিবুর রহমান বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় এরশাদবিরোধী আন্দোলনে রিজভী আহমেদ গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে ফিরে এসেছেন। এরপর ছাত্রনেতা থেকে ছাত্রদলের সভাপতি এবং বিএনপির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি দলের জন্য ভূমিকা রেখেছেন। রিজভী আহমেদের মতো যোদ্ধারা যতদিন আমাদের সামনে থাকবেন ততদিন গণতন্ত্র এ দেশে পথ হারাবে না। যখনই ফ্যাসিবাদ বিরোধী কোনো আন্দোলন হবে, গণতান্ত্রিক সংকট তৈরি হবে, স্বৈরাচার যখন বাংলাদেশের জনগণের বুকে চেপে বসবার উপক্রম হবে, তখন রিজভী আহমদের মতো যোদ্ধারা আমাদের পথ দেখাবে। রিজভী আহমেদের নেতৃত্বে কুড়িগ্রামের মানুষের দারিদ্র্য, নদীভাঙন ও চরাঞ্চলের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আমরা আশা করি। আমি তার দীর্ঘায়ু ও সফলতা কামনা করি।

 

জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, রিজভী আহমেদ তিন-চার বছর কুড়িগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। তার শৈশব এখানেই কেটেছে। জন্মস্থান, বাবার কবর ও দাদার স্মৃতির টানে তিনি বারবার কুড়িগ্রামে ছুটে আসেন।

 

তিনি বলেন, কুড়িগ্রাম একটি দুর্যোগপ্রবণ ও দারিদ্র্যপীড়িত এলাকা। বন্যা, খরা, নদীভাঙন কিংবা শীত—যেকোনো দুর্যোগে রিজভী আহমেদ মানুষের পাশে দাঁড়ান। তিনি নিজে চরাঞ্চলে গিয়ে মানুষের দুর্ভোগ দেখেন এবং সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। জাতীয় নেতা হওয়ার পরও শেকড়ের টানে তিনি কুড়িগ্রামে ফিরে আসেন। আমরা আশা করি, ভবিষ্যতেও রিজভী আহমেদ কুড়িগ্রামের মানুষের পাশে থাকবেন এবং জেলার উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন।

 

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ যেন কখনো হার মানেন না। বছর বছর এমন নেতা তৈরি হন না। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তিনি সর্বস্ব বিলিয়ে দিয়েছেন। বুক পেতে গুলি খেয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে আবারও জনতার কাছে ফিরে এসেছেন। এমন একজন নেতা বিএনপির মতো প্রধান রাজনৈতিক দলের মহাসচিবের দায়িত্ব পাওয়ায় সারা দেশের মানুষ খুশি।

 

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নানা চড়াই-ওতরাই পেরিয়েছেন রুহুল কবির রিজভী। ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে জনগণের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে যুক্ত হন তিনি। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়েছেন। ১৯৯০-৯১ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) ভিপি নির্বাচিত হন তিনি। পরে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়ে মূল দল বিএনপির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
সীতাকুণ্ডে গুলিতে যুবক নিহত, আহত আরও ১

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে তারেক হোসেন বাপ্পি (২৬) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তাফসির আলম শাওন (২২) নামে আরেক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন। তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।    শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দিবাগত রাতে উপজেলার বাড়বকুণ্ডের অলিনগরে সাদ্দামের অফিসের সামনে এ ঘটনা ঘটে।   নিহত তারেক হোসেন বাপ্পি সীতাকুণ্ডের মধ্যম মাহদাবাদ এলাকার কুরবান আলীর বাড়ির বাসিন্দা। তার বাবার নাম মৃত আলী আহমদ এবং মায়ের নাম জমিলা খাতুন। আহত তাফসির আলম শাওন একই থানার বাড়বকুণ্ডের অলিনগর এলাকার ইউসুফের নতুন বাড়ির বাসিন্দা। তার বাবার নাম ইউসুফ।    স্বজনদের বরাতে চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) নুরুল আলম আশেক বলেন, উপজেলার অলিনগরে সাদ্দামের অফিসের সামনে এলাকার কয়েকজন দুর্বৃত্ত অতর্কিত হামলা চালালে দুজনেই গুলিবিদ্ধ হন। পরবর্তীতে তাদেরকে চমেক হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তারেক হোসেন বাপ্পিকে মৃত ঘোষণা করেন। অপর আহত তাফসির আলম শাওনকে হাসপাতালের ২ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

পাথরঘাটায় চাঁদাবাজদের ঠাঁই নেই, কঠোর বার্তা চিফ হুইপের

সরকারি মাঠ দখল করে হচ্ছে চাষাবাদ

মাঠ দখল করে চাষাবাদ: উল্লাপাড়ায় জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ

ছবি : সংগৃহীত

সব হাসপাতাল-মেডিক্যাল কলেজের লাইব্রেরিতে জিয়া-খালেদা-তারেকের বই রাখার নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত
ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতাই সবচেয়ে বড় হাতিয়ার : ডিএসসিসি প্রশাসক

ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। তিনি বলেছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধের ৮০ শতাংশই জনসচেতনতার ওপর নির্ভর করে। তবে এ ক্ষেত্রে সরকারের দায়িত্বও অস্বীকার করার সুযোগ নেই।   শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (বিএফডিসি) ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় নিয়ে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।   ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে জাতীয় কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। তিনি নিয়মিত এসব কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছেন। প্রধানমন্ত্রী যেকোনো সময় হাসপাতাল ও আবাসিক এলাকা পরিদর্শনে যেতে পারেন—এমন নির্দেশনার পর পরিচ্ছন্নতা ও ময়লা সংগ্রহ কার্যক্রম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।   নগরবাসীকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যত্রতত্র পলিথিন ফেলার কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।   এসময় ডেঙ্গুবিরোধী অভিযানে আদায় করা জরিমানার অর্থ ডেঙ্গুতে মৃত ব্যক্তিদের পরিবারকে অনুদান হিসেবে দেওয়ার প্রস্তাবকে স্বাগত জানান আবদুস সালাম। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে জানাবেন বলেও আশ্বাস দেন তিনি।   এ ছাড়া ডেঙ্গুর টিকা বৈজ্ঞানিকভাবে গ্রহণযোগ্য হলে তা দ্রুত আমদানির উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান ডিএসসিসি প্রশাসক।   গণতন্ত্র ও রাষ্ট্র পরিচালনায় সম্মিলিত দায়িত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করে আবদুস সালাম বলেন, রাষ্ট্র সবার। গণতন্ত্র রক্ষা ও দেশকে এগিয়ে নিতে সরকার, বিরোধী দল এবং জনগণকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ১৬, ২০২৬

পাহাড়ে ‘ব্ল্যাক রাইস’ চাষে সফলতা তরুণ উদ্যোক্তা এনামুলের

ছবি: সংগৃহীত

রূপগঞ্জে ব্যবসায়ীর বাড়িতে ভয়াবহ আগুন, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

সংগৃহীত

বরিশালে ওসিসহ ৭ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা

ছবি: সংগৃহীত
কুমিল্লায় জামায়াতের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ, ভাঙচুর

কুমিল্লায় মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আসন্ন কমিটি গঠন নিয়ে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছ।   বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাতে মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির একেএম এমদাদুল হক মামুনের সমর্থকরা সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমানের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ সময় দুই নেতার অনুসারীদের মাঝে সংঘর্ষ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।   এদিকে ঘটনার পর দলের সিনিয়র নেতারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। বিষয়টি নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।   দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের নেতৃত্ব ও পদের বিন্যাস নিয়ে দলের নেতাকর্মীদের একটি অংশের মধ্যে মতবিরোধ চলে আসছিল। আসন্ন মহানগর জামায়াতের কমিটিতে নিজেদের পছন্দের নেতৃত্ব আনয়ন বা প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকাশ্য রূপ নেয়। এর জেরে বুধবার রাতে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে মোগলটুলী ফারুকী হাউজে অবস্থিত দলীয় কার্যালয়ের সামনে মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারির গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।   নেতাকর্মীরা জানান, কাজী দ্বীন মোহাম্মদ গত ৩০ বছর যাবত কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের আমিরের দায়িত্ব পালন করছেন। সম্প্রতি নতুন আমির নির্বাচনের জন্য দলীয় প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার সকালে আমির নির্বাচনের ভোট গ্রহণের কথা রয়েছে। এরই মাঝে মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির মোসলেহ উদ্দিন এবং এমদাদুল হক মামুনকে দায়িত্ব পালনের জন্য কেন্দ্রীয় পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এতে তাদের দুজনের আমির হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। যার ফলে বর্তমান সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমান সিনিয়র হিসেবে আলোচনায় চলে আসেন। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ হয় এমদাদুল হক মামুনের সমর্থকরা। তাদের ধারণা মামুনকে কেন্দ্রে পাঠানোর পেছনে সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমানের হাত থাকতে পারে।    সূত্র জানায়, সম্প্রতি এমদাদুল হক মামুনের অনুসারীরা তাকে মহানগরীর আমির হিসেবে দেখতে চায়। কিন্তু সাংগঠনিক সিদ্ধান্তে তাকে কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়াটা মেনে নিচ্ছে না তার অনুসারীরা। এ নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে বুধবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে মহানগর জামায়াতের কার্যালয়ের সামনে মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমানের গাড়িতে ভাঙচুর করা হয়।   যদিও এমদাদুল হক মামুন এবং মাহবুবুর রহমান বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমকে এড়িয়ে গেছেন। দুজনই ফোন রিসিভ করেননি।   এ ঘটনায় মহানগর জামায়াতের আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, বুধবার রাত ৭টার দিকে কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের কার্যালয়ে পূর্বনির্ধারিত একটি সভা চলছিল। এর মধ্যে কিছু যুবক প্রোগ্রামে ঢুকে হইচই শুরু করে। এ সময় তারা হট্টগোল করে চলে যাওয়ার সময় আমাদের একটি গাড়ি ভাঙচুর করে। কারা এ ঘটনায় জড়িত আমরা তা তদন্ত করে দেখছি।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ১৪, ২০২৬

দুর্গাপূজার ছুটিতে কক্সবাজারে ৬ লাখ পর্যটক সমাগমের প্রত্যাশা

ছবি: সংগৃহীত

টঙ্গীর ওষুধ কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে সেনাবাহিনী

ছবি: সংগৃহীত

প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষিকার মারামারি, স্কুলের অফিসকক্ষের ভিডিও ভাইরাল

0 Comments