বিশ্ব

ছবি: সংগৃহীত
ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের ওপর নির্ভর করছে ইরান সংকটের ভবিষ্যৎ সমাধান

সম্ভবত স্নায়ুযুদ্ধের সমাপ্তির পর থেকে এখন সবচেয়ে বিপজ্জনক সময়ে। বর্তমানে দুটি বড় ২৯ চলছে-একটি ইউরোপের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছে, অন্যটি বিশ্ব জুড়ে জ্বালানি সরবরাহকে। পূর্ব এশিয়ায় চীন ক্রমাগত তাইওয়ানকে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। রাশিয়ার সহায়তায় উত্তর কোরিয়া তাদের সামরিক প্রযুক্তির আধুনিকায়ন করছে। সহজ কথায়, আগ্রাসী শক্তিগুলো এখন সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা নিজেদের শাসনব্যবস্থা টিকিয়ে রাখা, ক্ষতিকর অভ্যন্তরীণ এজেন্ডা বাস্তবায়ন এবং যতটা সম্ভব আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে লড়াই করছে।       ইউক্রেন ও ইরান কেন্দ্রিক যুদ্ধ দুটি এখন পর্যন্ত আলাদাভাবেই চলছে। তবু সম্প্রতি এদের মধ্যে কিন্তু সংযোগ বা পারস্পরিক প্রভাব লক্ষ করা গেছে। সেসঙ্গে একটি গভীর আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে, এই সংঘাতগুলো হয়তো শেষ পর্যন্ত বৈশ্বিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। যদিও সেই ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্ভাবন' এখনো ক্ষীণ, তবু প্রকৃত বিপদ বিদাম'ন; কারণ এই দুটি যুদ্ধে লিপ্ত পক্ষগুলোর মধ্যে পারস্পরিক যোগসত্র রয়েছে। তবে আশার কথাও শোনা যাচ্ছে। জানা যাচ্ছে, রাশিয়াও ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসতে চায়। আবার যুক্তরাষ্ট্র ইরান যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছে। তবে কেউই তার নিজস্ব শর্তে ছাড় দিচ্ছে না। তাই বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হলে ইরান যুদ্ধের সমাপ্তিতে ভূমিকা রাখতে পারে।       ইউক্রেন ও ইরান যুদ্ধের সংযোগ ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে ইউক্রেন্থণর প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনন্সি এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর বৈঠকের মধ্য দিয়ে সেই সংযোগটি আরো স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। ইউক্রেনের ড্রোন বিশেষজ্ঞরা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে গিয়ে তাদের অর্জিত অভিজ্ঞতা ও কৌশল বিনিময় করেছেন-যা এই সম্পর্কেরই অরেকটি প্রমাণ। এছাড়া কাস্পিয়ান সাগরে রাশিয়া ও ইরানের মধ্যকর একটি সমরিক চালান ধ্বংস করার ঘটনাটিও এই সংগ্রহণকে সামনে নিয়ে এসেছে। ইরান হয়তো পালটা আঘাত করতে চেয়েছিল। কিন্তু তাদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে কারণ ইউক্রেনে হামলা চালাতে হলে সম্ভবত তুরস্কের আকাশসীমা অতিক্রম করতে হবে; আর তুরস্ক এর কঠোর জবাব দেবে মৃত্যু ও ধ্বংসযজ্ঞের বাইরেও ইরান কেন্দ্রিক সংঘাতের তীব্রতা আরো একটি বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ থাকলে তা বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মম্পর ঝুঁকি তৈরি করবে ক্রমবর্ধমান এসব সংকটের মধ্যে একমাত্র ভালো খবর হলো, উল্লান ও ইউক্রেনের যুদ্ধ দুটি একে অন্যের সঙ্গে মিশে যায়নি এবং আমেরিকর মনোযে অন্যদিকে নিবন্ধ থাকার সুযোগ নিয়ে চীন তাইওয়ানে অক্রমণ চালায়নি। চলমান এসব উত্তপ্ত যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে অবশ্য এটুকু স্বস্তি খুব একটা বড় কিছু নয়।     যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসতে চায় সবাই সাড়ে চার বছরের বেশি সময় ধরে চলছে ইউক্রেন যুদ্ধ। যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথা অনুযায়ী, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত রাশিয়ার প্রায় ৫ লক্ষ সেনা নিহত এবং মোট হতাহতের সংখ্যা ১৫ লাখের কাছাকাছি। যদিও মস্কো এই তথ্য স্বীকার করছে না। তেল শোধনাগার ও জ্বালানি অবকাঠামোতে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় রাশিয়ার জ্বালানি খাত ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। এর ফলে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মন্থর হয়ে পড়েছে। তাছাড়া পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির বাণিজ্য ও বিনিয়োগ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হাজার হাজার টাংক ও বর্মযুক্ত সামরিক যান ধ্বংসে রাশিয়ার সামরিক আধুনিকায়ন দীর্ঘ পেছনের দিকে চলে গেছে। ইউক্রেনের অন্তত ৫ লাখ ২৫ হাজার থেকে ৬ লাখ ২৫ হাজার সেনা হতাহত বা নিখোঁজ হয়েছেন। এর মধ্যে নিহতের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার থেকে দেড় লাখের মতো রুশ হামলায় হয়রেনের শহরগুলো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, চিকিৎসাকেন্দ্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লাখ লাখ ইউক্রেনীয় নাগরিক দেশত্যাগী হয়ে শরণার্থী জীবন কাটাচ্ছে, যা দেশটির জনমিতি ও সামগ্রিক সক্ষমতার ওপর অপূরণীয় ক্ষতি ডেকে এনেছে।       যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতে চারটি পক্ষ সামরিক, অর্থনৈতিক মানবিকভাবে তীব্র ক্ষতির মুখে পড়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয় বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে থাকা অন্তত ১৭টি মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মার্কিন সেনাসদস্যরা নিহত ও আহত হয়েছেন। হরমুজ প্রণালিতে তেল ট্যাংকার হামলা ও আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার করণে বৈশ্বিক কাণিজ্যে ও স্বর্কিন প্রভাবের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে।       যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিমান হামলায় ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব, বিপ্লবী গার্ডের কমান্ডার এবং পরমাণু ও সামরিক স্থাপনাগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশটিতে হাজারো মানুষ নিহত, আহত ও কস্তুচ্যুত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় অর্থনীতি চরম বিপর্যয়ের মধ্যে। ইরানের ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্তের আঘাতে ইসরাইলের একাধিক সামরিক ও গোয়েন্দা স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লেবানন, ইরাক, পারস্য উপসাগরীয় দেশ এবং জর্ডান পর্যন্ত এই যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ায় পুরো মধ্যপ্রাচ্যে প্রাণহানি ও অবকাঠামোখাত ধ্বংস হয়েছে হরমুজ প্রণালি ও তেলবাহী জাজে হামলার কারণে বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে গেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতি অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে।       ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের প্রভাব ইরানে! রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় দেশই যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসতে চায়। মস্কো হয়তো মনে করেছিল, অল্প দিনের মধ্যেই কিয়োত পরা ক্ষয় স্বীকার করবে। প্রেসিডেন্ট পুতিন এখনো তার দেশে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বঙ্গয় রেখেছেন এবং আশঙ্কা করছেন, সমঝোতা বা আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটলে তিনি হয়তো ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবেন না। ইউক্রেন যেহেতু তাদের কোনো ভূখণ্ডই (যা এখনো রাশিয়ার দখলে যায়নি) ছেড়ে দিতে রাজি নয়, তাই সম্ভাব্য সমঝোতা হলে পুতিনের হাতে দেখানোর মতো তেমন কোনো অর্জনই থাকবে না আবার ইউক্রেনের প্রেসিটে জেলেনস্কিও জানেন, রাশিয়াকে ভূখণ্ড ছেড়ে দিয়ে সমঝোতা হলে তার ক্ষমতাও টিকে থাকবে না। কারণ তিনি দিন দিন দেশে অজনপ্রিয় হয়ে উঠছেন। কেবল ইউক্রেন নয়, রাশিয়ার সঙ্গে এ ধরনের সমঝোতা হলে তা ইউরোপের জন্য পর জয় স্বীকার করা হবে।     এদিকে যুক্তরাষ্ট্র আটকে গেছে ইরান যুদ্ধে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশাসন হয়তো মনে করেছিল যে, প্রথম হামলাতেই ইরানে সরকার পরিবর্তন হবে। কিন্তু সেটা হয়নি, বরং মার্কিন ও ইসরাইলি হামলায় বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ায় সাধারণ জনগণ এখন সরকারের পাশে দাঁড়িয়েছে। আবার তেহরানের হামলায় ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে বিশ্বের পর শক্তি যুক্তরাষ্ট্রের। তাই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চান দ্রুত যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসতে এই সুযোগই নিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন তার পরামর্শ, যুক্তরাষ্ট্র যদি তার মিত্র এবং তার ওপর নির্ভরশীল ইউক্রেনকে বাগে এনে যুদ্ধ থামাতে পারে, তাহলে তিনিও ইরানকে চাপ দিয়ে যুদ্ধ থামাতে জোর প্রচেষ্টা চালাবেন।       ইরানও রাশিয়ার অন্যতম মিত্র এবং সামরিক সহায়তার মুখাপেক্ষী। যুদ্ধ থামাতে প্রথম বার ব্যর্থ যুক্তরাষ্ট্র এবার দ্বিতীয় বারের মতো চেষ্টা চালাচ্ছে। মার্কিন প্রতিনিধিদল রাশিয়া ও ইউক্রেন সফর করেছে এবং দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তবে এখনো আশার বাণী তারা শেনতে পারেননি। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, দ্রুত যুদ্ধ শেষ হবে। আবার ইউক্রেনেও রুশ হামলার মাত্রা বাড়ছে। প্রেসিডেন্ট জেলেনন্সি এখন প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে বৈঠকেরও প্রস্তাব দিয়েছেন তাই পুতিনের আহ্বান শেষ ট্রাম্প কস্তবায়ন করতে পারবেন কিনা তার ওপরই নির্ভর করছে বিশ্বের আরেকটি ভয়াবহ যুদ্ধ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন
আন্তর্জাতিক যুব উৎসবে ন্যায়সংগত বিশ্ব গড়ার আহ্বান পুতিনের

আন্তর্জাতিক যুব উৎসব-২০২৬-এ অংশ নেওয়া তরুণ ও অতিথিদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। রাশিয়ার ইয়েকাতেরিনবুর্গে আয়োজিত এ উৎসবের উদ্বোধনী ভিডিওবার্তায় তিনি প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে বিশ্বের ভবিষ্যৎ কেমন হবে, তা নিয়ে তরুণ নেতাদের ভাবার আহ্বান জানান।     রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দেওয়া শুভেচ্ছাবার্তায় পুতিন বলেন, ইউরোপ ও এশিয়ার সংযোগস্থল উরাল অঞ্চলের শহর ইয়েকাতেরিনবুর্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তরুণ নেতাদের সমবেত হওয়া তাৎপর্যপূর্ণ। উরাল অঞ্চল থেকে এমন অনেক ধারণা ও উদ্ভাবনের জন্ম হয়েছে, যা রাশিয়ার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।       তিনি বলেন, নতুন প্রযুক্তির আগমনে মানুষের জীবন কীভাবে বদলে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে মানুষ কেমন বিশ্ব চায়—এসব বিষয় নিয়ে বিভিন্ন দেশের তরুণ নেতাদের আলোচনা করার জন্য ইয়েকাতেরিনবুর্গ উপযুক্ত স্থান।       রাশিয়ান ভাষার ‘মির’ শব্দটির অর্থ বন্ধুত্ব, শান্তি ও সম্প্রীতি—একই সঙ্গে এর অর্থ বিশ্ব বা পৃথিবী।       পুতিন বলেন, এই অর্থ রাশিয়ার বহুজাতিক জনগোষ্ঠীর চরিত্র, সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ডের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।     রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, বন্ধুত্ব থাকলে তা দৃঢ় ও দীর্ঘস্থায়ী হওয়া উচিত। প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক ন্যায়বিচার ও সম্মান থাকা প্রয়োজন।       তিনি আরো বলেন, মানুষের ভাগ্য যেন তার জাতীয়তা, অর্থসম্পদ, সামাজিক মর্যাদা কিংবা পারিবারিক পরিচয়ের মতো বিষয় দিয়ে নির্ধারিত না হয়—এটাই তাদের প্রত্যাশা।       প্রতিটি দেশের নিজস্ব পথ বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা থাকা উচিত। একই সঙ্গে ওষুধ, খাদ্য, পানি, জ্বালানি, শিক্ষা এবং আধুনিক প্রযুক্তিতে সবার সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। পুতিন বলেন, ‘এটাই আমাদের আকাঙ্ক্ষা, আমাদের লক্ষ্য ও আমাদের স্বপ্ন। আপনারাও যদি এসব আকাঙ্ক্ষা ধারণ করেন, তাহলে আসুন আমরা একসঙ্গে বিশ্বকে বদলে দিই।’     রাশিয়ায় বিভিন্ন প্রকল্পে অংশ নিতে আগ্রহীদের স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, একইভাবে তরুণরা নিজ নিজ দেশেও একটি নতুন, উন্মুক্ত ও ন্যায়সংগত বিশ্ব গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখতে পারেন।     তরুণ প্রজন্মের ওপর আস্থা প্রকাশ করে পুতিন বলেন, ‘আমার কোনো সন্দেহ নেই যে তরুণ প্রজন্ম সফল হবে। সময় এখন তোমাদের।’       বার্তার শেষে তিনি বলেন, ‘রাশিয়ার সঙ্গে তোমাদের স্বপ্ন অনুসরণ করো।’ একই সঙ্গে তিনি উৎসবে অংশ নেওয়া সবাইকে সুস্বাস্থ্য, সৌভাগ্য ও সাফল্যের শুভকামনা জানান।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ইয়েমেন সংঘাতের জেরে সৌদির সীমান্ত শহরে জরুরি সতর্কতা জারি

সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত আসির প্রদেশের খামিস মুশাইত ও আবহা শহরে হঠাৎ সম্ভাব্য বিপদের আশঙ্কায় জরুরি সতর্কতা জারি করে সিভিল ডিফেন্স। তবে কিছুক্ষণ পরই পরিস্থিতি নিরাপদ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে জনসাধারণকে অদরকারি জমায়েত ও ভিডিও করা থেকে দূরে থাকার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়।     প্রতিবেশী দেশ ইয়েমেনে লড়াই হঠাৎ তীব্র আকার ধারণ করায় এই সতর্কবার্তা আসে। ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চল ও কৌশলগত হরমুজ প্রণালি এলাকায় হুথি বাহিনী বড় ধরনের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকেই উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। তাইজ, আল-জাওফ ও আল-বাইদা প্রদেশে ইয়েমেনি সরকারি সেনা এবং হুথিদের মধ্যে তুমুল লড়াই চলছে, আর হুথিদের আস্তানা গুঁড়িয়ে দিতে দফায় দফায় বিমান হামলা চালানো হচ্ছে।       উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে হুথি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানা দখল করার পর থেকেই ইয়েমেন জুড়ে রক্তক্ষয়ী সংঘাত চলছে। সেই সংকটে ইয়েমেনের বৈধ সরকারকে বাঁচাতে ২০১৫ সাল থেকে আসরে নামে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
সৌদির পাইপলাইন বন্ধ, বিশ্ববাজারে ৪% তেল সরবরাহ কমার শঙ্কা

ড্রোন হামলার পর সৌদি আরবের প্রধান ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ তেল পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে পাইপলাইনটি চালু করা না গেলে বিশ্ববাজারে দৈনিক তেল সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশ কমে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন সৌদি তেল ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা। খবর রয়টার্সের।   সৌদি আরবের এই পাইপলাইন দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল রেড সি বা লোহিত সাগরের তীরের ইয়ানবু বন্দরে পাঠানো হয়, যা বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশ। পাইপলাইনটি বন্ধ থাকায় ইয়ানবু বন্দরে থাকা মজুত দিয়ে মাত্র পাঁচ থেকে সাত দিন রপ্তানি চালিয়ে যাওয়া সম্ভব বলে সংশ্লিষ্ট তিনটি শিল্প সূত্র জানিয়েছে।   সৌদি আরবের বিকল্প হিসেবে মিসরের লোহিত সাগরের আইন সোখনা ও ভূমধ্যসাগরের সিদি কেরির বন্দর থেকেও কয়েক দিন তেল সরবরাহ করা সম্ভব। তবে এসব বন্দরের মজুতও সীমিত। ফলে ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ পাইপলাইন দ্রুত চালু করা না গেলে সেসব মজুতও শেষ হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।   শিল্পসংশ্লিষ্টদের হিসাবে, ইয়ানবু বন্দরে প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল তেল সংরক্ষণের সক্ষমতা রয়েছে। আইন সোখনা ও সিদি কেরি বন্দরে যথাক্রমে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ ও ২ কোটি ব্যারেল তেল সংরক্ষণ করা যায়। তবে এসব মজুত পুরোপুরি পূর্ণ নয়।   রয়টার্সকে দেওয়া বিভিন্ন সূত্রের তথ্যে পাইপলাইনটি মেরামতের সময় নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন ধারণা পাওয়া গেছে। একটি সূত্র জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতি মেরামতে পাঁচ থেকে ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। অন্য একটি সূত্রের দাবি, এর চেয়েও কম সময়ে এটি মেরামত করা সম্ভব হতে পারে। একই সঙ্গে মেরামতের কাজ চলার সময় আংশিকভাবে পাইপলাইন চালু রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।   আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগর দিয়ে সরবরাহ কমে যাওয়ায় আগস্টে সৌদি আরবের তেল সরবরাহ তিন দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। সৌদি আরব গত সপ্তাহে ওপেককে জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর আগে ফেব্রুয়ারিতে দেশটির দৈনিক তেল উৎপাদন ১ কোটি ৯ লাখ ব্যারেল থাকলেও আগস্টে তা কমে ৬২ লাখ ব্যারেলে নেমেছে।   রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের আগে মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ করা হতো। বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল প্রবাহ কমে দৈনিক ৬০ লাখ থেকে ৯০ লাখ ব্যারেলে নেমে এসেছে বলে শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ভরসা কমছে, নতুন করে ভাবছে বিশ্ব

অর্থ জমা রাখা, অস্ত্র কেনা কিংবা শিক্ষার্থীদের পাঠানোর ক্ষেত্রে বিদেশি সরকার ও মানুষের কাছে দীর্ঘদিনের প্রথম পছন্দ ছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে সেই অবস্থান এখন ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানোর নানা উদ্যোগ নিচ্ছে দেশগুলো।   গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে ৮৬ টন স্বর্ণ সরিয়ে নিয়েছে নেদারল্যান্ডস। দেশটি জানিয়েছে, চরম পদ্ধতিগত ঝুঁকি মোকাবিলায় এটি একটি সুরক্ষামূলক পদক্ষেপ। ফ্রান্স ইতোমধ্যে নিউইয়র্ক থেকে তাদের সব স্বর্ণ সরিয়ে নিয়েছে। একই পথে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে জার্মানিও।   যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ কমানোর পরিকল্পনা জানিয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সার্বভৌম সম্পদ তহবিল নরওয়ের তহবিলও। ট্রেজারি বাজারের অস্থিরতার মধ্যেই এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।   অর্থনীতির বাহিরেও ইউরোপের দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানোর পথ খুঁজছে। অস্ত্রের ক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবে আরও বেশি সরঞ্জাম সংগ্রহ করতে চাইছে ইউরোপ, যেন মার্কিন সামরিক শক্তির ওপর নির্ভরতা কমে। প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর ওপর নির্ভরতা কমাতে উদ্যোগ নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে সাধারণ মানুষও নতুন করে হিসাব-নিকাশ কষছেন। সর্বশেষ ভর্তি মৌসুমে যুক্তরাষ্ট্রের কলেজগুলোতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আবেদন ১০ শতাংশ কমেছে। কঠোর ভিসানীতি ও ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতি এর পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে ধারনা করা হচ্ছে।    যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক পর্যটনও কমেছে। ২০২৫ সালে দেশটিতে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ৫ দশমিক ৫ শতাংশ কমে যায়, যা মহামারির পর সর্বোচ্চ পতন। কানাডীয় পর্যটকদের ভ্রমণ কমেছে ২৫ শতাংশ। যা ২০২৬ সালের শুরুর দিকেও সেই পতন অব্যাহত ছিল। ট্রাম্পের মেয়াদ শুরুর পর জার্মানদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণও ২৫ শতাংশ কমেছে।   পিউ রিসার্চ সেন্টারের সাম্প্রতিক এক জরিপেও পশ্চিমা বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান দুর্বল হওয়ার চিত্র উঠে এসেছে। জরিপে অংশ নেওয়া ১০টি দেশের মধ্যে শুধু হাঙ্গেরি ও পোল্যান্ডের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রকে এখনো নির্ভরযোগ্য অংশীদার মনে করেন।    তবে এর অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন করা নয়। বিশ্ব বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের আধিপত্য এখনো অটুট, মিত্ররা মার্কিন সামরিক শক্তির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র এখনো বিশ্বের প্রধান গন্তব্য। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা স্বর্ণের মজুত ফিরিয়ে আনার দাবি জার্মানি, ইতালি ও স্পেনে নতুন করে জোরালো হচ্ছে।    সূত্র: অ্যাক্সিওস

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
হরমুজ নিয়ে ওমানের সঙ্গে চুক্তি সোমবার: পেজেশকিয়ান

হরমুজ প্রণালিতে ইরান ও ওমানের মধ্যে যৌথ নৌপথ চালুর বিষয়ে সোমবার ওমানের রাজধানী মাসকাটে চুক্তি সই হবে বলে জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। এ চুক্তির বিষয়ে আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনকেও জানানো হবে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারের বরাদ দিয়ে তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু এ খবর জানিয়েছে।    সাক্ষাৎকারের পেজেশকিয়ান বলেন, সোমবার আরব দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা মাসকাটে বৈঠকে বসবেন। সেখানে হরমুজ প্রণালিতে ইরান-ওমানের যৌথ নৌপথ প্রতিষ্ঠার চুক্তি সই হবে। যেসব দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালিয়েছে, সেসব দেশও বৈঠকে অংশ নেবে বলে জানান তিনি।     ইরানের শাহেদ ড্রোন নকল করেছে যুক্তরাষ্ট্র, দাবি আইআরজিসিরইরানের শাহেদ ড্রোন নকল করেছে যুক্তরাষ্ট্র, দাবি আইআরজিসির যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ ও ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপের বিষয়ে পেজেশকিয়ান বলেন, সামরিকভাবে নিজেদের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখন অর্থনৈতিক চাপের পথে গেছে। তবে এতে ইরান থামবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।     ইরানের ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ প্রসঙ্গে পেজেশকিয়ান বলেন, ইরানের টিকে থাকা পুরোপুরি সমুদ্রপথের ওপর নির্ভরশীল নয়। যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ও হামলা বন্ধ হলেই ইরান হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেবে বলেও জানান তিনি।   ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই শুক্রবার জানিয়েছিলেন, সোমবার ওমান আটটি উপসাগরীয় দেশকে নিয়ে একটি আঞ্চলিক মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের আয়োজন করবে। বৈঠকে আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যুর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য নিরাপদ নৌপথ নির্ধারণে ইরান-ওমান আলোচনার ফলাফল নিয়ে আলোচনা হবে।   বাঘাই বলেন, নৌপথটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরান কাজ করছে। তবে মার্কিন নৌ অবরোধ ও সামরিক হস্তক্ষেপ চলতে থাকলে জাহাজগুলোর নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব নয়। সোমবারের বৈঠকের বিষয়ে ওমানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনও বার্তা পাওয়া যায়নি।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
সৌদির পাইপলাইন বন্ধ, বিশ্ববাজারে ৪% তেল সরবরাহ কমার শঙ্কা

ড্রোন হামলার পর সৌদি আরবের প্রধান ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ তেল পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে পাইপলাইনটি চালু করা না গেলে বিশ্ববাজারে দৈনিক তেল সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশ কমে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন সৌদি তেল ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা। খবর রয়টার্সের।   সৌদি আরবের এই পাইপলাইন দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল রেড সি বা লোহিত সাগরের তীরের ইয়ানবু বন্দরে পাঠানো হয়, যা বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশ। পাইপলাইনটি বন্ধ থাকায় ইয়ানবু বন্দরে থাকা মজুত দিয়ে মাত্র পাঁচ থেকে সাত দিন রপ্তানি চালিয়ে যাওয়া সম্ভব বলে সংশ্লিষ্ট তিনটি শিল্প সূত্র জানিয়েছে।   সৌদি আরবের বিকল্প হিসেবে মিসরের লোহিত সাগরের আইন সোখনা ও ভূমধ্যসাগরের সিদি কেরির বন্দর থেকেও কয়েক দিন তেল সরবরাহ করা সম্ভব। তবে এসব বন্দরের মজুতও সীমিত। ফলে ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ পাইপলাইন দ্রুত চালু করা না গেলে সেসব মজুতও শেষ হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।   শিল্পসংশ্লিষ্টদের হিসাবে, ইয়ানবু বন্দরে প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল তেল সংরক্ষণের সক্ষমতা রয়েছে। আইন সোখনা ও সিদি কেরি বন্দরে যথাক্রমে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ ও ২ কোটি ব্যারেল তেল সংরক্ষণ করা যায়। তবে এসব মজুত পুরোপুরি পূর্ণ নয়।   রয়টার্সকে দেওয়া বিভিন্ন সূত্রের তথ্যে পাইপলাইনটি মেরামতের সময় নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন ধারণা পাওয়া গেছে। একটি সূত্র জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতি মেরামতে পাঁচ থেকে ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। অন্য একটি সূত্রের দাবি, এর চেয়েও কম সময়ে এটি মেরামত করা সম্ভব হতে পারে। একই সঙ্গে মেরামতের কাজ চলার সময় আংশিকভাবে পাইপলাইন চালু রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।   আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগর দিয়ে সরবরাহ কমে যাওয়ায় আগস্টে সৌদি আরবের তেল সরবরাহ তিন দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। সৌদি আরব গত সপ্তাহে ওপেককে জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর আগে ফেব্রুয়ারিতে দেশটির দৈনিক তেল উৎপাদন ১ কোটি ৯ লাখ ব্যারেল থাকলেও আগস্টে তা কমে ৬২ লাখ ব্যারেলে নেমেছে।   রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের আগে মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ করা হতো। বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল প্রবাহ কমে দৈনিক ৬০ লাখ থেকে ৯০ লাখ ব্যারেলে নেমে এসেছে বলে শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গে ২৫২ মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ইসলামিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম খতিয়ে দেখার পর ২৫২টি মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার। পাশাপাশি প্রথম ধাপের এই যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় আরও ১০০টি মাদ্রাসাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। রোববার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।   এতে বলা হয়েছে, বন্ধের মুখোমুখি হওয়া ২৫২টি মাদ্রাসার অধিকাংশই কওমি ধারার। এর মধ্যে ৪৪টি মালদহ, ৩৭টি উত্তর দিনাজপুর, ৩২টি দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা এবং নদীয়া ও মুর্শিদাবাদে ২৫টি করে মাদ্রাসা অবস্থিত।   রাজ্যের সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, শোকজ করা মাদ্রাসাগুলোকে বৈধ অনুমোদনের কাগজপত্র দেখাতে হবে। কাগজ দেখাতে ব্যর্থ হলে সেগুলোও বন্ধ করে দেওয়া হবে।   এর আগে, গত জুনে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অনুমোদিত ও অননুমোদিত মাদ্রাসার সঠিক সংখ্যা নির্ধারণে রাজ্যজুড়ে সমীক্ষা চালানোর নির্দেশ দেন।   সেই নির্দেশনার পর সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তর কলকাতা এবং বাকি ২২টি জেলাজুড়ে এক বিশেষ সমীক্ষা পরিচালনা করে। এতে মাদ্রাসাগুলোর পরিচালনা পর্ষদ, শিক্ষার্থী ভর্তি, আয়ের উৎস এবং নিবন্ধনের তথ্য পর্যালোচনা করা হয়।   মন্ত্রী টুডু বলেন, ‘‘প্রথম ধাপে ২৫২টি মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া যেসব মাদ্রাসায় অপেক্ষাকৃত গুরুতর অনিয়ম ধরা পড়েছে, এমন আরও ১০০টি প্রতিষ্ঠানকে শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথিপত্র বা বৈধ অনুমোদন দেখাতে না পারলে সেগুলোও বন্ধ করে দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’   ‘‘বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে ২ হাজার ১৩২টি মাদ্রাসা সরকারি অনুমোদন নিয়ে চালু রয়েছে। অন্যদিকে অনুমোদনহীন মাদ্রাসার সংখ্যা ২ হাজার ৩৯৬টি।’’   মাদ্রাসাগুলোর বিরুদ্ধে নেওয়া এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তীব্র তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় কট্টরপন্থী তৎপরতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত করে সরকারের এই পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমিক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, ‘‘মাদ্রাসা শিক্ষার সুযোগ নিয়ে যেকোনো দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড থামানো সরকারের দায়িত্ব। সরকার সেই কাজটিই করেছে।’’   বিজেপির জ্যেষ্ঠ নেত্রী ও রাজ্য সরকারের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পলও এই প্রশাসনিক পদক্ষেপকে যৌক্তিক বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, এ ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত দেশবিরোধী শিক্ষা উসকে দিতো। বাংলাদেশের বিভিন্ন গোষ্ঠীর সদস্যরা এসব অনুমোদনহীন মাদ্রাসায় আশ্রয় নিতো। আমরা পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকে একটি শৃঙ্খলায় নিয়ে আসতে চাই।   তবে এর বিরোধিতা করে তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, মাদ্রাসা একটি শিক্ষাব্যবস্থা মাত্র এবং মাদ্রাসা শিক্ষার ওপর ঢালাওভাবে জঙ্গি তকমা দেওয়া একেবারেই অনুচিত।   সূত্র: এনডিটিভি।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
নিরাপত্তা পরিষদ অচল হলেও জাতিসংঘ ভেঙে পড়েনি: গুতেরেস

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ অচল হয়ে পড়লেও জাতিসংঘ ভেঙে পড়েনি বলে মন্তব্য করেছেন সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। শনিবার নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে ভারতিয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।   গুতেরেস বলেন, বর্তমান বিশ্বে বড় শক্তিধর দেশগুলোর মধ্যে গভীর ভূ-রাজনৈতিক বিভাজন তৈরি হয়েছে। এসব শক্তিধর দেশ নিজেদের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা এখনও উপলব্ধি করেনি। তাদের বিভাজনের কারণে মধ্যম শক্তিধর দেশগুলো কোনও নিয়ম না মেনে যুদ্ধে জড়ানোর ক্ষেত্রে এক ধরনের দায়মুক্তির সুযোগ পাচ্ছে।   তার ভাষায়, বড় শক্তিধর দেশগুলো বিভাজনের কারণে নিরাপত্তা পরিষদ অচল হয়ে পড়েছে এবং এর ফলে বিশ্ব অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে। তবে জাতিসংঘের কাজের কারণে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।   ইয়েমেনের বাব আল-মান্দেব প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে গুতেরেস বলেন, কৃষ্ণসাগর, হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মান্দেবে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা জরুরি। কারও জন্য অনুমতি দিয়ে অন্যদের তা প্রত্যাখ্যান করা উচিত নয়। খাদ্য ও সার পরিবহনে অবরোধ ঠেকাতে জাতিসংঘ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছে।   গুতেরেস জানান, কৃষ্ণসাগর শস্য পরিবহনের উদ্যোগের মতো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। হরমুজ প্রণালিত দিয়ে সার পরিবহনের বিষয়ে ইরানকে একটি প্রস্তাব দেওয়া হলেও তারা তা গ্রহণ করেনি। কৃষ্ণসাগর দিয়ে ইউক্রেন ও রাশিয়ার খাদ্য, সার ও জ্বালানি রপ্তানির বিষয়েও আলোচনা করতে আগ্রহী জাতিসংঘ। তবে এর জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।   ব্রিকস সম্মেলনে ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের নেতারা উপস্থিত থাকায় তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলবেন কি না-এমন প্রশ্নে গুতেরেস বলেন, তিনি সবার সঙ্গেই কথা বলেছেন। তার মতে, বড় শক্তিধর দেশগুলো বিভাজন কাটিয়ে ওঠা এবং নিজেদের ক্ষমতার সীমা সম্পর্কে তাদের উপলব্ধি করা এখন অত্যন্ত জরুরি।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ওমানের সঙ্গে সমঝোতা, তবুও খুলছে না হরমুজ প্রণালি

ওমানের সঙ্গে জাহাজ চলাচলের নতুন পথ নিয়ে চুক্তি হলেও হরমুজ প্রণালি এখনই খুলছে না। ইরানের একটি সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দেওয়া সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত প্রণালিটি বন্ধ রাখবে তেহরান। ইরাকি বার্তাসংস্থা শাফাক নিউজ এ খবর প্রকাশ করেছে।   ইরানের আলোচনাসংশ্লিষ্ট ওই সূত্র শনিবার দেশটির তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে এ তথ্য জানিয়েছে। তবে সাতটি শর্ত কী, তা প্রকাশ করা হয়নি। সূত্রটি বলেছে, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে শর্তগুলো যুক্তরাষ্ট্রকে জানানো হয়েছে।   গত আগস্টের শেষ দিকে ইরান ও ওমান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নতুন পথ নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছায়। এ ব্যবস্থায় উপসাগরে প্রবেশকারী জাহাজের পথ পুরোপুরি ইরানের জলসীমার মধ্য দিয়ে যাবে। উপসাগর থেকে বের হওয়ার পথের একটি অংশও ইরানের জলসীমা দিয়ে যাবে। যুক্তরাষ্ট্র যে দক্ষিণের পথটি পুনরায় চালুর চেষ্টা করেছিল, সেটি বন্ধ থাকবে।   তবে এই চুক্তির মাধ্যমে এখনই জাহাজ চলাচল শুরু করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। বরং ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালি খুললে কোন পথে জাহাজ চলাচল করবে, সে বিষয়ে একটি কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে।   চুক্তিটি শুধু ইরান ও ওমানের মধ্যে হয়েছে। অন্য উপসাগরীয় দেশগুলোকে নতুন পথ সম্পর্কে জানানো হবে। তবে পথ নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় তারা অংশ নেবে না।   এদিকে সোমবার ওমানে ইরান, ওমান, উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশ ও ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে ইরান ও ওমান তাদের আলোচনার ফলাফল তুলে ধরবে।   তবে বাহরাইন শনিবার জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপিত না হওয়া পর্যন্ত তারা ওই বৈঠকে অংশ নেবে না।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে গৃহীত হলো ঐতিহাসিক ‘নয়াদিল্লি ঘোষণা’

  ভারতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে ‘নয়াদিল্লি ঘোষণা’। কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাম উল্লেখ না করে বিশ্বের সব ধরনের আগ্রাসনের নিন্দা জানানো হয়েছে এতে। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক বিরোধ ও সংঘাত নিরসনে সংলাপ এবং কূটনৈতিক উদ্যোগকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জোটের নেতারা।    শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সম্মেলনের সভাপতি ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আনুষ্ঠানিকভাবে যৌথ ঘোষণাটি প্রকাশ করেন। ঘোষণায় বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সামরিক সংঘাতের পরিবর্তে কূটনৈতিক পথে বিরোধ মীমাংসার উদ্যোগ নিতে হবে। একতরফা সামরিক পদক্ষেপেরও বিরোধিতা করা হয়েছে।   মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনা নিয়ে ঘোষণার ভাষা চূড়ান্ত করতে সদস্যদেশগুলোর মধ্যে কিছু মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ও রয়টার্স। বিশেষ করে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের অবস্থানের পার্থক্যের কারণে যৌথ অবস্থান নির্ধারণ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল। তবে কয়েক দিন ধরে ধারাবাহিক কূটনৈতিক আলোচনার পর শেষ পর্যন্ত দুই দেশ অভিন্ন ভাষায় সম্মত হয়। ফলে সম্মেলনে ঐকমত্যের ভিত্তিতে যৌথ ঘোষণা গ্রহণ সম্ভব হয়।   এর আগে মে মাসে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে বিভিন্ন ইস্যুতে মতভেদের কারণে কোনো যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। সেই প্রেক্ষাপটে এবারের শীর্ষ সম্মেলনে সদস্যদেশগুলোকে একটি অভিন্ন অবস্থানে নিয়ে আসা ভারতের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।   নয়াদিল্লি ঘোষণায় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদসহ বৈশ্বিক বহুপক্ষীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়েছে। বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ ও ডব্লিউটিওর মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব ও প্রভাব বাড়ানোর পক্ষেও অবস্থান নিয়েছেন নেতারা। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য চীন ও রাশিয়া পরিষদে আরও বড় ভূমিকা পালনের জন্য ব্রাজিল ও ভারতের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। ঘোষণায় বহুপক্ষীয় আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে আরও প্রতিনিধিত্বশীল, কার্যকর ও ন্যায্য করার ওপর জোর দেওয়া হয়।   যেকোনো ধরনের সন্ত্রাসবাদের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ব্রিকস। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সদস্যদেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে বাণিজ্য নির্বিঘ্ন রাখা এবং নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।   ব্রিকস দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণের পাশাপাশি শুল্ক ও বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা কমানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে ঘোষণায়। বৈশ্বিক অর্থনীতিতে জোটটির ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে নেতারা নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।   এবারের সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানসহ ব্রিকসের শীর্ষ নেতারা অংশ নেন।   বিশ্বের ৪০ শতাংশেরও বেশি জনসংখ্যা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রায় চার ভাগের এক ভাগ নিয়ন্ত্রণ করে ব্রিকস। ফলে আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতে এই জোটের সম্মিলিত প্রভাব ও গুরুত্ব ক্রমেই দৃশ্যমান হয়ে উঠছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ব্রিকসকে ভূমিকা পালনের আহ্বান চীনের

নয়াদিল্লিতে চলমান ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিরসনে জোটভুক্ত দেশগুলোকে শান্তি প্রতিষ্ঠাতার ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। শনিবার ব্রিকসের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে তিনি এই আহ্বান জানান। চীনা সংবাদমাধ্যম সিসিটিভি বরাত দিয়ে রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।   জানা গেছে, বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাধারণ স্বার্থের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। এই সংকট উত্তরণে চীন অন্যান্য ব্রিকস সদস্য দেশের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে শান্তির পক্ষে কাজ করতে প্রস্তুত বলে মন্তব্য করেন চীনা প্রেসিডেন্ট।   ব্রিকস জোটকে উন্নয়নশীল বিশ্বের ‘নেতৃস্থানীয় শক্তি’ হিসেবে অভিহিত করে শি জিনপিং বলেন, উদীয়মান ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর আত্মনির্ভরশীলতার বড় মডেল হতে পারে এই জোট। একই সঙ্গে সদস্য দেশগুলোকে উদ্ভাবনভিত্তিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার ওপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।   পাশাপাশি, আগামী বছর চীন আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিকস-এর সভাপতিত্ব গ্রহণ করবে এবং পরবর্তী ১৯তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন নিজ দেশে আয়োজন করবে বলে ঘোষণা দেন চীনা প্রেসিডেন্ট।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
২৪ ঘণ্টার ভারত সফরে নিরাপত্তার চাদরে মোড়ানো শি জিনপিং

সাত বছর পর এক দিনের সফরে শনিবার নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে আসা শি জিনপিংয়ের নিরাপত্তায় দিল্লিতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তার সফর ঘিরে ১৫ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য ও ২০০ কোম্পানি আধা-সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।   শি জিনপিং নয়াদিল্লির তাজ প্যালেসে অবস্থান করবেন। তার হোটেলকে নো-ফ্লাই জোনের আওতায় রাখা হয়েছে। সেখানে সন্ত্রাসবিরোধী ও বোমা শনাক্তকারী দল মোতায়েন করা হয়েছে। হোটেলের ভেতর ও আশপাশে ব্যাপক নিরাপত্তা তল্লাশি চালানো হচ্ছে। সম্ভাব্য পারমাণবিক, তেজস্ক্রিয়তা ও জৈব-রাসায়নিক হুমকি শনাক্তের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। হোটেলের আশপাশের ভূগর্ভস্থ পাইপলাইন ও অন্যান্য অবকাঠামোও পরীক্ষা করা হচ্ছে।   শির সফরের প্রায় ১০ দিন আগে চীন একটি কার্গো বিমান ভারতে পাঠায়। এতে শির ব্যবহারের জন্য হংছি রাষ্ট্রীয় লিমুজিন, একটি অতিরিক্ত গাড়ি ও যোগাযোগ সরঞ্জাম আনা হয়।   বিদেশি নিরাপত্তা দলগুলোর আনা কিছু সরঞ্জামের ক্ষেত্রে ভারতের নিয়ম মানতে হচ্ছে। স্যাটেলাইট যোগাযোগ সরঞ্জাম ব্যবহারের অনুমতি নেই। পাশাপাশি কিছু অস্ত্র ও নিরাপত্তা সরঞ্জাম ভারতে আনা যায় না, সেগুলো কাস্টমসে জমা দিতে হয়।   শি জিনপিংয়ের সফর প্রায় ২৪ ঘণ্টার হবে। শনিবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক গুরুত্ব পেতে পারে। রবিবার সকাল ১১টার দিকে ভারত ছাড়ার আগে তিনি ভারত মণ্ডপম থেকে বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হবেন।   শি চীনের রাষ্ট্রীয় বিমান হিসেবে ব্যবহৃত এয়ার চায়নার পরিবর্তিত বোয়িং ৭৪৭-৮ বিমানে ভ্রমণ করেন। বিমানটি মূলত বাণিজ্যিক যাত্রীবাহী বিমান ছিল। পরে এতে ভিআইপি অভ্যন্তর, নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বিশেষ নিরাপত্তা সরঞ্জাম যুক্ত করা হয়। এতে এনক্রিপ্টেড স্যাটেলাইট যোগাযোগ, হুমকি শনাক্তকরণ ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থা ও ইলেকট্রোম্যাগনেটিক পালস থেকে সুরক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে।   ব্রিকস সম্মেলন ঘিরে দিল্লির অন্যান্য এলাকাতেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে ব্যারিকেড বসিয়ে যানবাহনে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। বিমানবন্দর থেকে শান্তি পথ পর্যন্ত শির যাতায়াতের রুটে ৭০০টির বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা ও পাঁচটি নিয়ন্ত্রণকক্ষ স্থাপন করা হয়েছে। তুঘলক রোড থানায় আলাদা একটি সিসিটিভি নিয়ন্ত্রণকক্ষ তৈরি করা হয়েছে, যেখানে প্রায় ৫০০ ক্যামেরার ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।   সূত্র: এনডিটিভি

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
ইরাক থেকে হামলার পর যে সতর্কবার্তা দিলো সৌদি

ইরাক থেকে উৎক্ষেপণ করা কয়েকটি ড্রোন হামলার পর সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সৌদি কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।   সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চলে অবস্থিত ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে ইরাক থেকে আসা বেশ কয়েকটি ড্রোন হামলা চালায়। এতে কয়েকজন আহত হওয়ার পাশাপাশি পাইপলাইনের অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।   সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এসপিএ-কে বলেন, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পাইপলাইনের কার্যক্রম বন্ধ করা হয়। হামলায় কয়েকজন আহত হয়েছেন বলেও জানান তিনি।   ওই হামলার পর ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জায়েদির কার্যালয় জানিয়েছে, হামলাটি ইরাকের ভূখণ্ড থেকেই পরিচালিত হয়েছে। হামলার ঘটনায় মাইসান প্রদেশের দায়িত্বপ্রাপ্ত কমান্ডারকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।   ইরাকি সরকার সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ইরাকের ভূখণ্ড থেকে পরিচালিত হামলার নিন্দা জানিয়েছে।   সৌদি আরব জানিয়েছে, ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধে তারা এই পর্যায়ে পাল্টা হামলা না চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং ইরাকি সরকারের সঙ্গে কাজ করে ইরাকের ভূখণ্ড থেকে সৌদি আরব ও প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে হামলা বন্ধের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করবে।   তবে রিয়াদ সতর্ক করে বলেছে, দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও জনগণকে সুরক্ষিত রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেয়ার অধিকার রয়েছে সৌদি আরবের।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
কাঠমান্ডুতে সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ১০ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর থামেল এলাকায় অবৈধভাবে বসবাস ও সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ১০ বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তারকরেছে পুলিশ।   সম্প্রতি তেকুর কাঠমান্ডু ভ্যালি ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন অফিসের একটি দল অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।   বিদেশি নাগরিকেরা বৈধ অনুমতি ছাড়া ওই এলাকায় বসবাস করছেন—এমন তথ্যের ভিত্তিতে থামেলের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। এর মধ্যে ছিল হোটেল ঢাকা এক্সপ্রেস, হোটেল ডি ভেদা ও হোটেল আল রহমান।   আটক ব্যক্তিরা হলেন ফাহিমা আক্তার হাসান (৪৬), মাহমুদ (৪৮), মাহবুব হাসান (৪৫), রিপন মাহমুদ (৪৯), মো. কেরামত আলী খান (৩০), শহিদুর রহমান (৩০), মো. খলিলুর রহমান (৫০), আরিফুর রহমান (২৮), মো. মারুফ মৃধা (৪২) এবং মোহাম্মদ হানিফ মিয়া (৬৪)। তারা কাঠমান্ডু মেট্রোপলিটন সিটির ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের থামেল এলাকায় বসবাস করছিলেন।   বিদেশি নাগরিকদের অবৈধভাবে অবস্থানের বিষয়ে তথ্য পাওয়ার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।   কাঠমান্ডু ভ্যালি ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন অফিস জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ১০ জনকে আরও তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কালিকাস্থানে অবস্থিত ইমিগ্রেশন বিভাগে হস্তান্তর করা হয়েছে।   সূত্র: নেপাল নিউজ

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
চীন-রাশিয়ার সমর্থনেও ভারতের আপত্তিতে ব্রিকসের বাইরে পাকিস্তান

উন্নয়নশীল অর্থনীতির জোট ব্রিকসে যোগ দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। তবে জোটের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণের নিয়মের কারণে ভারতের বিরোধিতায় ইসলামাবাদের সদস্য পাওয়ার প্রচেষ্টা বর্তমানে আটকে রয়েছে। ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ খবর জানিয়েছে। ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকার সমন্বয়ে গঠিত উদীয়মান অর্থনীতির এই জোটে যোগদানের জন্য ২০২৩ সালে আবেদন করে পাকিস্তান। গত বছর এই জোট মিসর, ইথিওপিয়া, ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে নতুন সদস্য হিসেবে গ্রহণ করে ‘ব্রিকস প্লাস’ এ রূপান্তর হলেও নয়াদিল্লির আপত্তির কারণে ইসলামাবাদ বাইরেই রয়ে গেছে। বর্তমানে ব্রিকসের সদস্য হতে আবেদন করা ২৯টি দেশের মধ্যে পাকিস্তানও রয়েছে। মূলত তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের কারণেই জোটটিতে যোগ দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে দেশটি। পাকিস্তান অর্থনৈতিক সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, দেশটির জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৩ দশমিক ৭০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। নিক্কেই এশিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ওপর নির্ভরতা কমাতে এবং অর্থায়নের পথ বহুমুখী করতে ব্রিকস সমর্থিত নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে ৫৮ কোটি ডলারের অংশীদারত্ব কিনেছে পাকিস্তান। এর আগে ২০২৩ সালের নভেম্বরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, পাকিস্তান এই শীর্ষ বৈশ্বিক দক্ষিণ জোটে যোগ দিতে চায়। সে সময় তিনি উল্লেখ করেন, ‘অধিকাংশ’ ব্রিকস সদস্য দেশের সঙ্গেই পাকিস্তানের উষ্ণ সম্পর্ক রয়েছে। এদিকে রাশিয়ার সংবাদ সংস্থা তাস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাশিয়ায় নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ খালিদ জামালি জানান, পাকিস্তানের সদস্যপদের পক্ষে সমর্থন আদায়ের জন্য সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে এবং বিশেষ করে রাশিয়ার সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে। মস্কো ও বেইজিংয়ের সমর্থন থাকা সত্ত্বেও পাকিস্তানের ব্রিকস সদস্যপদ ঝুলে রয়েছে। কারণ জোটের নিয়মানুযায়ী যেকোনও সদস্য বা অংশীদার দেশ হতে হলে বিদ্যমান সব সদস্য রাষ্ট্রের সর্বসম্মত অনুমোদনের প্রয়োজন হয়, যেখানে ভারতের বিরোধিতা পাকিস্তানের জন্য একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
ছবি: রয়টার্স
আয়ারল্যান্ড সফরে ট্রাম্প, ডাবলিনে বিক্ষোভের প্রস্তুতি

দুই দিনের অনানুষ্ঠানিক সফরে আয়ারল্যান্ড যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার ডাবলিনে পৌঁছে দেশটির প্রেসিডেন্ট ক্যাথরিন কনোলি ও প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিনের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করবেন তিনি। এরপর কাউন্টি ক্লেয়ারের ডুনবেগে নিজের মালিকানাধীন গলফ ক্লাবে যাবেন ট্রাম্প। সেখানে চলমান ‘অ্যামজেন আইরিশ ওপেন’ গলফ টুর্নামেন্ট দেখবেন তিনি। ডাবলিনে ট্রাম্প আইরিশ নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাতের পাশাপাশি মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সরকারি বাসভবনে যুক্তরাষ্ট্র ও আয়ারল্যান্ডের ব্যবসায়ী নেতাদের উদ্দেশে বক্তব্য দেবেন। এরপর দেশের আটলান্টিক উপকূলে অবস্থিত ডুনবেগের গলফ ক্লাবে যাবেন তিনি। টুর্নামেন্টটি রোববার শেষ হবে। ট্রাম্পের সরকারি দায়িত্বের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক স্বার্থের এই সংমিশ্রণ নিয়ে আয়ারল্যান্ডে সমালোচনাও হচ্ছে। তার সফরকে কেন্দ্র করে ডাবলিনের ফিনিক্স পার্ক ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী মার্টিনের সঙ্গে সরকারি ফার্মলেই স্টেট গেস্টহাউসে বৈঠক, প্রেসিডেন্ট কনোলির সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে যাওয়ার কর্মসূচি রয়েছে। সফরকে কেন্দ্র করে ডাবলিন ও ডুনবেগে বিক্ষোভেরও পরিকল্পনা রয়েছে। বামপন্থী বিরোধী দল, সামরিক-বিরোধী গোষ্ঠী, ফিলিস্তিনপন্থী সংগঠন, পরিবেশবাদীসহ বিভিন্ন সংগঠন বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ট্রাম্পের এই সফরের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ডুনবেগে তার মালিকানাধীন গলফ ক্লাবে অনুষ্ঠিত ‘অ্যামজেন আইরিশ ওপেন’। গলফের প্রতি আগ্রহের কারণে তিনি নিয়মিত নিজের মালিকানাধীন বিভিন্ন ক্লাবে খেলেন। চলতি বছর তার মালিকানাধীন কোনো স্থাপনায় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ইউরোপিয়ান ট্যুর ইভেন্ট এটি। এর আগে গত মাসে স্কটল্যান্ডের অ্যাবারডিনে তাঁর গলফ কোর্সে ‘নেক্সো চ্যাম্পিয়নশিপ’ অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে গত মার্চে সেন্ট প্যাট্রিকস ডে উপলক্ষে ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় তাকে আয়ারল্যান্ড সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিন। দুই দেশের বাণিজ্য ও পররাষ্ট্রনীতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ও তাঁদের আলোচনায় আসতে পারে। ট্রাম্প এর আগে ২০১৯ সালে আয়ারল্যান্ড সফর করেছিলেন।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
ছবি: রয়টার্স
ড্রোন হামলায় বন্ধ সৌদির গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইন

ইরাক থেকে চালানো ড্রোন হামলার পর সৌদি আরব তাদের একটি প্রধান তেল পাইপলাইন বন্ধ করে দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের বিস্তারের মধ্যে শুক্রবার সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ পাইপলাইনটি বন্ধের ঘোষণা দেয় রিয়াদ। ইরাক স্বীকার করেছে, প্রতিবেশী সৌদি আরবের এই পাইপলাইনে চালানো ড্রোন হামলাটি ইরানের সীমান্তবর্তী মায়সান প্রদেশ থেকে শুরু হয়েছিল। এ ঘটনায় ইরাকের একজন সামরিক কমান্ডারকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে। ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার (৭৪৫ মাইল) দীর্ঘ এই পাইপলাইনটি বিশ্বের বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরবকে হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে তেল পরিবহনের সুযোগ দিয়ে আসছিল। জাহাজ ট্র্যাকিংকারী কোম্পানি ও বিশ্লেষকদের উদ্ধৃতি দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহের ৪ থেকে ৫ শতাংশ এই পাইপলাইনের মাধ্যমে পরিবাহিত হতো। ঘটনার আগে ওই পাইপলাইনের কাছাকাছি এলাকায় পুড়ে যাওয়া মাটি ও ধোঁয়ার উপগ্রহ চিত্র প্রকাশ পায়। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলায় কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও নিরূপণ করা হচ্ছে। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে তারা আপাতত কোনো পাল্টা ব্যবস্থা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে ইরাকের ভূখণ্ড থেকে চালানো হামলা প্রতিরোধে ইরাকি সরকারের প্রচেষ্টাকেও সৌদি আরব সমর্থন করবে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষা, স্থাপনাগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত এবং নাগরিক ও বাসিন্দাদের নিরাপত্তা বিধানে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার সৌদি আরব সংরক্ষণ করে। ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পৃথক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরান-সীমান্তবর্তী মায়সান প্রদেশের অপারেশনস কমান্ডারকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ওই অঞ্চল থেকেই ড্রোন হামলাটি চালানো হয়েছিল—এমনটি নিশ্চিত হওয়ার পরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, ওমান, কাতার ও কুয়েতের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত ‘গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল’ (জিসিসি) এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে। সংস্থাটির মহাসচিব জাসেম মোহাম্মদ আল-বুদাইউই বলেছেন, ‘এই হামলা পরিস্থিতিকে বিপজ্জনকভাবে উত্তপ্ত করে তুলেছে এবং সৌদি আরবের নিরাপত্তা, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর জন্য একটি অগ্রহণযোগ্য হুমকি সৃষ্টি করেছে; পাশাপাশি এটি আন্তর্জাতিক আইনের নীতিমালারও চরম লঙ্ঘন।’ এদিকে ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের বড় ধরনের অগ্রগতির মধ্যেই এ ঘটনা ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি সপ্তম মাসে গড়ানোর সময় এ হামলা বিশ্বজুড়ে তেল পরিবহনের রুটগুলোর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন সূত্রের তথ্যমতে, এই সপ্তাহে ইয়েমেনে দ্রুত অভিযানের মাধ্যমে হুথি বিদ্রোহীরা দেশটির উপকূলরেখার বড় একটি অংশের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে নিয়েছে। গোষ্ঠীটি দাবি করেছে, লোহিত সাগর ও সুয়েজ খালের প্রবেশপথ হিসেবে পরিচিত ‘বাব আল-মানদাব প্রণালী’ এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে তারা জানিয়েছে, ‘সৌদি জাহাজ ছাড়া অন্য সব কোম্পানির জন্য’ সমুদ্রপথে চলাচল নিরাপদ। আরব উপদ্বীপের উভয় প্রান্তে উদ্ভূত এই পরিস্থিতির চাপে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে গেছে। জুলাই মাসের পর প্রথমবারের মতো তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
ফাইল ছবি
এক ভিসায় মধ্যপ্রাচ্যের ৬ দেশ, আসছে শেনজেনের আদলে নতুন ব্যবস্থা

ইউরোপের শেনজেন ভিসার আদলে উপসাগরীয় অঞ্চলে চালু হতে যাচ্ছে ‘জিসিসি গ্র্যান্ড ট্যুরিস্ট ভিসা’। এই ভিসা চালু হলে একটি ভিসা নিয়েই উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) ছয় সদস্য দেশ—সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, বাহরাইন, কাতার, ওমান ও কুয়েত—ভ্রমণ করা যাবে।এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের এক দেশ থেকে অন্য দেশে পর্যটকদের যাতায়াত সহজ হবে। খালিজ টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৬ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে জিসিসির মহাসচিব জাসেম মোহামেদ আলবুদাইউই জানান, দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা এই একক পর্যটন ভিসা চালুর প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে। বর্তমানে ছয়টি জিসিসি দেশে ভ্রমণের ক্ষেত্রে অনেক বিদেশি নাগরিককে পৃথক ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হলে সেই জটিলতা অনেকটাই কমে আসবে।একটি অনুমতিপত্রের মাধ্যমে পুরো জিসিসি অঞ্চলে পর্যটনের সুযোগ তৈরি হবে। এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো ছয়টি উপসাগরীয় দেশকে একটি সমন্বিত পর্যটন গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরা। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যটক আকর্ষণ, পর্যটন খাতের আয় বাড়ানো এবং দেশগুলোর মধ্যে ভ্রমণ সহজ করাও এর লক্ষ্য।বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার পর্যটকদের জন্যও প্রস্তাবিত ভিসা ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে ভ্রমণের ক্ষেত্রে আলাদা ভিসা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সময় ব্যবস্থাপনার বিষয়টি পর্যটকদের জন্য বাড়তি জটিলতা তৈরি করে। নতুন ব্যবস্থা চালু হলে একই সফরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আধুনিক নগরজীবন, সৌদি আরবের ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থান, কাতারের পর্যটন আকর্ষণ এবং ওমানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখার সুযোগ সহজ হতে পারে। তবে ‘জিসিসি গ্র্যান্ড ট্যুরিস্ট ভিসা’র আবেদন প্রক্রিয়া, ফি, অবস্থানের মেয়াদ এবং কোন দেশের নাগরিকরা কী শর্তে আবেদন করতে পারবেন—এসব বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে নিয়ম ও নির্দেশনা জানাবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, একক পর্যটন ভিসার পরিকল্পনা কেবল পর্যটন খাতের বিকাশেই সীমাবদ্ধ নয়।এর মাধ্যমে জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতাও আরো জোরদার হতে পারে। তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পর্যটন, ব্যবসা ও বিনোদনসহ বিভিন্ন খাতকে অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে গড়ে তুলতে উপসাগরীয় দেশগুলোর যে উদ্যোগ, এই ভিসা তারই অংশ। শেনজেনের আদলে আঞ্চলিক পর্যটন ভিসা চালু ও সফলভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে জিসিসি অঞ্চল একটি সমন্বিত পর্যটন গন্তব্য হিসেবে আরো আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে। এতে এশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পর্যটকদের মধ্যপ্রাচ্য ভ্রমণের সুযোগ আরো বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
ভূমিকম্পের প্রতীকী ছবি
ইন্দোনেশিয়ার জাভায় আঘাত হানল ৬.৬ মাত্রার ভূমিকম্প

ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের তেলুকনাগা এলাকার কাছে ৬ দশমিক ৬ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।   এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু।   সংস্থাটি জানায়, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩৫৮ কিলোমিটার গভীরে।   তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো হতাহত বা সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
ইউক্রেনের সঙ্গে সাড়ে চার বছর ধরে যুদ্ধ করছে রাশিয়া। ছবি: সংগৃহীত
ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার ৫ লাখ সেনা নিহত: যুক্তরাজ্য

ইউক্রেনের সঙ্গে সাড়ে চার বছর ধরে চলমান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত রাশিয়ার প্রায় ৫ লাখ সেনা নিহত হয়েছে। ইউক্রেনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মিত্র যুক্তরাজ্যের সেনাপ্রধান এয়ার চিফ মার্শাল রিচ নাইটন শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সংবাদমাধ্যমের উদ্দেশে দেওয়া এক ভিডিওবার্তায় এ দাবি করেন। খবর এপির   ভিডিওবার্তায় এয়ার চিফ মার্শাল নাইটন বলেছেন,‘সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ওপর একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। সেই প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ৫ লাখ রুশ প্রাণ।’   শুক্রবারের ভিডিওবার্তায় যুক্তরাজ্যের সেনাপ্রধান বলেন, ‘এসব নিহতেরঘটনার সিংহভাগই ঘটেছে ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে; আর এই বিপুল সংখ্যক প্রাণের বিনিময়ে ইউক্রেনের মোট ভূখণ্ডের মাত্র ২ শতাংশ দখল করতে পেরেছে রাশিয়া।’   তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, প্রেসিডেন্ট পুতিনের একটি অন্যায্য লক্ষ্য অর্জনের জন্য কীভাবে মানুষের জীবন অর্থহীন এবং বৃথাভাবে অপচয় হচ্ছে— নিহতদের এই সংখ্যা তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন।’   তবে এ যুদ্ধে ইউক্রেনের কতজন নিহত হয়েছে সে বিষয়ে জানান নি তিনি।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সপ্তাহের সেরা

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
জাতীয়

বাংলাদেশিদের জন্য ওমানের শ্রমবাজার উন্মুক্ত করতে ঢাকায় বৈঠক

মোঃ নাহিদ হোসেন সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬