শক্তিশালী টাইফুন ডলফিনের আঘাতে চীনের পূর্বাঞ্চলে ১০ লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সাংহাইয়ের বাসিন্দারাও রয়েছেন। খবর বিবিসির। রোববার সন্ধ্যায় ঝেজিয়াং প্রদেশের ইউহুয়ানে আঘাত হানে টাইফুনটি। তখন এর বাতাসের সর্বোচ্চ গতি ছিল ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার। প্রায় এক ঘণ্টা পর ওয়েনঝৌ শহরের কাছেও আঘাত হানে ঝড়টি। টাইফুনের কারণে পূর্ব চীনের যোগাযোগব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। শুধু সাংহাইয়েই প্রায় ১ হাজার ৪০০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। ঝড়ের কারণে চীনা কর্তৃপক্ষ এর আগে সর্বোচ্চ মাত্রার রেড অ্যালার্ট জারি করেছিল। তবে সোমবার সকালে টাইফুনটি দুর্বল হয়ে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড়ে পরিণত হয়। তবে ঝড়টি এখনো স্থলভাগের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বুধবার পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টি, ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে। সোমবার শানডং, হেনান, হুবেই, আনহুই, জিয়াংসু ও ঝেজিয়াং প্রদেশ এবং সাংহাইয়ে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ঝুঁকি এড়াতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ মানুষকে বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। বন্ধ রাখা হয়েছে বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রও। সাংহাইয়ের ডিজনিল্যান্ড ও লেগোল্যান্ডের কিছু অংশ এবং দ্য বান্ড এলাকার কয়েকটি পর্যবেক্ষণ প্ল্যাটফর্মও বন্ধ রয়েছে।
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের কারণে এখন পর্যন্ত ৫৫টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। খবর শাফাক নিউজের। সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, ৯ আগস্ট পর্যন্ত দুটি জাহাজ অচল করে দেওয়া হয়েছে এবং আরও দুটি জাহাজে মার্কিন বাহিনী উঠে তল্লাশি চালিয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ কার্যকর করতে বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ২০টিরও বেশি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে। এসব জাহাজ বিভিন্ন সামরিক অভিযানের পাশাপাশি অবরোধ কার্যকর করার কাজেও অংশ নিচ্ছে। তবে এর মধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর বদলে অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আপাতত ইরানের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং দেশটির অর্থনৈতিক সংকট ও মূল্যস্ফীতির ওপর নজর রাখছে। এদিকে হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ওমানের মধ্যে একটি সমঝোতার চেষ্টা চলছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচলে ইরানকে আংশিক নিয়ন্ত্রণ দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেওয়ার আগে কয়েকটি শর্ত দিয়েছে ইরান। এর মধ্যে রয়েছে মার্কিন নৌ অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ইরানের আশপাশ থেকে মার্কিন বাহিনী সরিয়ে নেওয়া, ইরান ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধ করা, জব্দ করা ইরানি অর্থ ছাড় করা এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দেওয়া।
গ্রিনল্যান্ডের পূর্ব উপকূলে সরকারি অনুমতি ছাড়া তেল অনুসন্ধানের সরঞ্জাম নিয়ে যাওয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি তেল কোম্পানিকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে গ্রিনল্যান্ড কর্তৃপক্ষ। খবর আনাদোলু এজেন্সির। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মাসে তেল অনুসন্ধানের জন্য গ্রিনল্যান্ডের পূর্ব উপকূলে কিছু ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে যায় কোম্পানিটি। তবে এ ধরনের সরঞ্জাম নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন তাদের ছিল না। গ্রিনল্যান্ডের শিল্প ও খনিজ বিভাগ জানিয়েছে, কোম্পানিটিকে এ বিষয়ে ‘কঠোর সতর্কবার্তা’ দেওয়া হবে। কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া সেখানে তেল অনুসন্ধানের জন্য খননকাজ শুরু করা যাবে না। প্রকল্পটির অর্থায়ন করছে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসভিত্তিক কোম্পানি গ্রিনল্যান্ড এনার্জি। গত বছর প্রতিষ্ঠিত এই কোম্পানির দাবি, গ্রিনল্যান্ডের জেমসন ল্যান্ড এলাকায় মাটির নিচে প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অপরিশোধিত তেল থাকতে পারে। অর্থায়নের বিনিময়ে তারা প্রকল্পটির অধিকাংশ মালিকানা নিয়েছে। তবে সরঞ্জাম নিয়ে যাওয়ার ঘটনা নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে কোম্পানিটির সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গ্রিনল্যান্ডের বাসিন্দারা সরঞ্জাম আনার বিষয়টি জানানোর কয়েক দিন পর ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে গ্রিনল্যান্ডের একটি গ্রামে নিজের ছবি যুক্ত করে ‘হ্যালো, গ্রিনল্যান্ড!’ লিখে পোস্ট করেন। গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের আগ্রহ অবশ্য নতুন নয়। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তিনি গ্রিনল্যান্ড নিয়ন্ত্রণে নিতে প্রয়োজনে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা নাকচ করেননি। তখন তিনি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য দ্বীপটি প্রয়োজন। পরে ট্রাম্পের বক্তব্যের সুর কিছুটা নরম হলেও তিনি তার প্রস্তাবিত ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য গ্রিনল্যান্ডকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড। ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই ন্যাটোর সদস্য। এদিকে গ্রিনল্যান্ড এনার্জির চেয়ারম্যান ল্যারি সুয়েটস স্বীকার করেছেন, কোম্পানির এক প্রতিনিধি স্থানীয় বাসিন্দাদের ভুলভাবে জানিয়েছিলেন যে সরঞ্জাম নিয়ে আসার অনুমতি ইতোমধ্যে পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, প্রকল্পটি নিয়ে কোম্পানির অতিরিক্ত উৎসাহের কারণে এমন বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। তবে কোম্পানিটি জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে এবং তেল অনুসন্ধানের প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়ার বিষয়ে তারা আশাবাদী।
দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন মহানগর এলাকায় পৃথক তিনটি বন্দুক হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় আরও দুজন আহত হয়েছেন। খবর আনাদোলু এজেন্সির। রোববার দেশটির পুলিশ জানায়, কায়েলিতশা, লাঙ্গা ও গুগুলেথু এলাকায় হামলাগুলো ঘটে। ঘটনাগুলোর তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, কায়েলিতশার লিঙ্গেলেথু ওয়েস্ট এলাকায় হামলায় ২৫, ৩১ ও ৩৫ বছর বয়সী তিন ব্যক্তি নিহত হন। লাঙ্গার কোয়ালাঙ্গা এলাকায় উইনি ম্যান্ডেলা স্ট্রিটে দ্বিতীয় হামলায় চার পুরুষ ও এক নারী নিহত হন। গুগুলেথুর বার্সেলোনা এলাকায় তৃতীয় হামলায় দুই পুরুষ ও এক নারী নিহত হন। এ ঘটনায় আরও দুজন আহত হয়েছেন। হামলার কারণ এখনো জানা যায়নি। তবে পশ্চিম কেপ প্রদেশে গ্যাং সহিংসতা ও অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রকে বড় নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে দেখছে পুলিশ। হামলার পর ঘটনাস্থলসহ কেপটাউনের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পশ্চিম কেপ প্রদেশের পুলিশ কমিশনার লেফটেন্যান্ট জেনারেল সিজাকেলে দিয়ান্তি হামলার বিষয়ে তথ্য দিতে সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে সহায়ক তথ্যের জন্য পুরস্কার ঘোষণা করেছেন তিনি।
দক্ষিণ লেবাননের কিছু এলাকা ইসরায়েলের সীমানার মধ্যে দেখানো একটি বিতর্কিত মানচিত্র সরিয়ে নিয়েছে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। খবর শাফাক নিউজের। রোববার শিশুদের মধ্যে গাজায় তীব্র অপুষ্টির হার নিয়ে একটি পোস্ট প্রকাশের সময় মানচিত্রটি ব্যবহার করা হয়েছিল। এতে দক্ষিণ লেবাননের কিছু অংশকে ইসরায়েলের ভূখণ্ডের মধ্যে দেখানো হয়। বিষয়টি নিয়ে লেবাননে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। পরে লেবাননের কূটনৈতিক তৎপরতার পর ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইংরেজি ভাষার এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে মানচিত্রটি মুছে ফেলে। তবে ইসরায়েলের আরবি ভাষার অ্যাকাউন্টে মানচিত্রটি রাখা হয়েছে। এ নিয়ে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এর আগে ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধের পর গত এপ্রিলে ইসরায়েলের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছিল, দেশটির সেনাবাহিনী দক্ষিণ লেবাননের ভেতরে একটি নির্দিষ্ট সামরিক এলাকা তৈরি করেছে। ওই এলাকায় দক্ষিণ লেবাননের ৫৫টি গ্রামের বাসিন্দাদের ফিরে যেতে নিষেধ করা হয়েছিল।
গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নে স্পষ্ট সময়সূচি নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে হামাস। একই সঙ্গে চুক্তিতে সম্মত ১৫টি শর্ত দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে ফিলিস্তিনি এই গোষ্ঠী। রোববার এক বিবৃতিতে হামাস জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে হওয়া গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্তগুলো বাস্তবায়নই এখন সবচেয়ে জরুরি। এর মধ্যে রয়েছে গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, সীমান্ত খুলে দেওয়া, ত্রাণ ও আশ্রয় সামগ্রী প্রবেশের সুযোগ দেওয়া এবং পুনর্গঠন শুরু করা। চুক্তির দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়নের জন্য একটি জাতীয় কমিটি গঠনেরও দাবি জানিয়েছে হামাস। গাজা পরিচালনায় এই কমিটি কাজ করবে বলে জানানো হয়েছে। হামাস বলেছে, গাজার মানুষের দুর্ভোগ বন্ধ এবং তাদের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় যেকোনো উদ্যোগে তারা ইতিবাচক ও দায়িত্বশীলভাবে অংশ নিতে প্রস্তুত। তবে যুদ্ধবিরতি চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে হামাসের মতপার্থক্য এখনো রয়ে গেছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এর আগে জানিয়েছেন, হামাস পুরোপুরি নিরস্ত্র না হওয়া এবং তাদের সামরিক অবকাঠামো ভেঙে না দেওয়া পর্যন্ত গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করা হবে না। ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরও প্রস্তাবিত পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছেন। তিনি গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। সূত্র: শাফাক নিউজ
কসোভোর সংসদে বিরোধী দলের এক আইনপ্রণেতা দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী আলবিন কুর্তিকে লক্ষ্য করে একের পর এক ডিম ছুড়ে মেরেছেন। এ ঘটনার পর অধিবেশন স্থগিত করা হয়। শনিবার (৮ আগস্ট) সংসদে কুর্তির বক্তব্যের সময় রক্ষণশীল বিরোধী দল অ্যালায়েন্স ফর দ্য ফিউচার অব কসোভোর (এএকে) আইনপ্রণেতা টাইমা কাদরিজাই তাকে উদ্দেশ করে ‘আপনার জন্য লজ্জা!’ বলে চিৎকার করেন। এরপর তিনি কুর্তির দিকে একাধিক ডিম ছুড়ে মারেন। ঘটনার পর কুর্তি বলেন, সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার মূল্য যদি এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া হয়, তাহলে তিনি সেই মূল্য দিতে প্রস্তুত। কুর্তির নেতৃত্বাধীন বামপন্থী ভেতেভেনদোসজে (ভিভি) দলও অতীতে সংসদে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য আলোচিত হয়েছে। ২০১৮ সালে দলটির সংসদ সদস্যরা অধিবেশন কক্ষে কাঁদানে গ্যাস ছুড়েছিলেন। এর আগে ২০১৫ সালেও একাধিকবার একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। কসোভোর চলমান রাজনৈতিক সংকটের মধ্যেই সংসদে এ ঘটনা ঘটল। নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় বিরোধী দলের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন কুর্তি। এ নিয়ে কয়েক দিন ধরে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা চললেও কোনো সমঝোতা হয়নি।
সরাসরি রেলপথে এবার ভারতের সঙ্গে জুড়তে চাইছে রাশিয়া। খোদ রাশিয়ার সংবাদ সংস্থা তাসকে এ নিয়ে আশার কথা শুনিয়েছেন রুশ উপ-প্রধানমন্ত্রী মারাত খুশনুলিন। 'তাস'-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে খুশনুলিন বলেছেন, বসফরাস প্রণালি ও হরমুজ প্রণালিতে যাতায়াতের ঝুঁকি কমাতে ভারত মহাসাগর পর্যন্ত সরাসরি রেল সংযোগ স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই করা রাশিয়ার জন্য জরুরি। সম্ভাব্য এই করিডোরের বিষয়টি বিস্তারিত আলোচনা করতে গিয়ে খুশনুলিন বলেন, এই রেলপথ নির্মাণ হলে তা তুর্কমেনিস্তান, ইরান, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্য দিয়ে ভারতে পৌঁছবে। ভারতের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনকারী যে কোনও পথকে কার্যকর হিসেবে বিবেচনা করা হবে। প্রস্তাবিত এই নেটওয়ার্ক বাস্তবায়িত হলে রাশিয়া ও ভারতের মধ্যে সরাসরি স্থলপথে রেল-পণ্য পরিবহনের সুযোগ তৈরি হবে। খুশনুলিন বলেন, “ভারত মহাসাগর পর্যন্ত একটি রেলপথ করা যায় কি না, ভেবে দেখা উচিত। বসফরাস ও হরমুজ প্রণালিতে ঝুঁকির কারণে বিকল্প পথের প্রয়োজন হতে পারে—যেমন তুর্কমেনিস্তান, ইরান, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্য দিয়ে যাওয়া পথ। ভারতের সঙ্গে সংযোগ তৈরি হয় এমন যে কোনও বিকল্পই গ্রহণযোগ্য।" ইরান যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালিতে সামুদ্রিক জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন বাড়ায় বাণিজ্য পথের এই বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছে রাশিয়া। গত ২৮ ফেব্রুয়ারিতে ইরানে একযোগে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসারায়েল। এর জবাবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) ইসরায়েল, বাহরাইন, জর্ডন, ইরাক, কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালিতেও ইরান অবরোধ ঘোষণা করে। জলপথটি দিয়ে বিশ্বের মোট তেল বাণিজ্যের প্রায় ২৫ শতাংশ এবং বিশ্বব্যাপী তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ সম্পন্ন হয়। ব্যস্ততম এই জ্বালানি রুটে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ায় আটে যায় বহু তেলবাহী জাহাজ। যার বড় ফল ভুগতে হয়েছে ভারতকে। রাশিয়া থেকে তেল আমদানির ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়েছে ভারত ও রাশিয়া দুই দেশই। এবার সেই সমস্যার সমাধানেই ওই বড় বিকল্পের কথা ভাবছে রাশিয়া। সূত্র: এনডিটিভি
ইরান হরমুজ প্রণালি থেকে পিছিয়ে যাবে না প্রয়োজনে যে কোনো মূল্যে গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক রুটটির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার কথা জানিয়েছেন দেশটির সাবেক প্রধান বিচারপতি আয়াতুল্লাহ আমোলি লারিজানি। রোববার (৯ আগস্ট) বার্তাসংস্থা আইআরআইবি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। এতে বলা হয়, সাবেক প্রধান বিচারপতি বলেছেন, ইরান যেকোনো মূল্যে গুরুত্বপূর্ণ এ সামুদ্রিক রুটটির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রাখবেন। আয়াতুল্লাহ আমোলি লারিজানি বর্তমানে ইরানের ‘এক্সপেডিয়েন্সি কাউন্সিল’-এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এটি সুপিম লিডারের কর্তৃক সরাসরি গঠিত একটি সংস্থা। যা গুরুত্বপূর্ণ বিরোধ নিষ্পত্তি ও পরামর্শক হিসেবে কাজ করে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও দখলদার ইসরায়েল। এর সঙ্গে সঙ্গেই হরমুজে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয় তেহরান। যা এখন পর্যন্ত স্বাভাবিক হয়নি। এরমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরে নৌ-অবরোধ আরোপ করেছে। এতে করে হরমুজ দিয়ে ইরানে যাওয়া-আসা করা কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারছে না। হরমুজে ইরানের নিয়ন্ত্রণ মেনে নেওয়া ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কোনো পথ নেই হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ মেনে নেওয়া ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দ্বিতীয় কোনো পথ নেই বলে জানিয়েছেন ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র আমির আকরামিনিয়া। তিনি বলেছেন, ইরান হরমুজে নতুন যে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে এটি অপরিবর্তনযোগ্য। যদিও যুক্তরাষ্ট্র এটি পরিবর্তন করতে চায়। কিন্তু এতে কাজ হবে না। তিনি সতর্কতা দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি এ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কিছু করার চেষ্টা করে তাহলে বর্তমানে যে ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে সেটি আরও বাড়বে। হুমকির সুরে এ সেনা কর্মকর্তা বলেছেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি মেনে নেওয়া ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সামনে আর কোনো উপায় নেই; অন্যথায় অতীতে তারা যে ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছিল, এবার মূল্য চুকাতে হবে তার চেয়েও অনেক বেশি।’ সূত্র: আল-জাজিরা
চলমান তাপপ্রবাহের মধ্যে গ্রিসের বিভিন্ন অঞ্চলে দাবানলের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় সোমবারের জন্য ‘অতি উচ্চ’ সতর্কতা জারি করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। রোববার গ্রিসের জলবায়ু সংকট ও নাগরিক সুরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, অ্যাটিকা, পেলোপনিসের কিছু অংশ, এজিয়ান দ্বীপপুঞ্জ এবং ক্রিটে দাবানলের ঝুঁকি ‘লেভেল ৪’ বা ‘অতি উচ্চ’ পর্যায়ে রয়েছে। এটি সর্বোচ্চ ‘লাল’ জরুরি অবস্থার এক ধাপ নিচের সতর্কতা। খবর আনাদোলু এজেন্সির। দাবানল সৃষ্টি করতে পারে এমন যেকোনো কর্মকাণ্ড থেকে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে শুকনো ঘাস, ডালপালা বা অন্যান্য বর্জ্য পোড়ানো থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। এদিকে রোববার অ্যাটিকার কোরোপি এলাকায় একটি দাবানল ছড়িয়ে পড়ে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের পাশাপাশি বিমান ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। চলমান তাপপ্রবাহের মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন উদ্ধারকর্মীরা। দাবানল প্রতিরোধের বর্তমান মৌসুমে খোলা জায়গায় জমি বা ফসলের অবশিষ্টাংশ পোড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ বলেও জনগণকে মনে করিয়ে দিয়েছে মন্ত্রণালয়। ন্যাশনাল অবজারভেটরি অব অ্যাথেন্সের তথ্য অনুযায়ী, তাপপ্রবাহের মধ্যে ৩১ জুলাই থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত গ্রিসের অ্যাটিকা অঞ্চলে দাবানলে ১ লাখ ১০ হাজার একরের বেশি, অর্থাৎ প্রায় ৪৪ হাজার ৫০০ হেক্টর জমি পুড়ে গেছে। ইউরোপজুড়ে চলমান তাপপ্রবাহের মধ্যেই গ্রিসসহ বিভিন্ন দেশে দাবানল ছড়িয়ে পড়ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে মহাদেশজুড়ে দাবানলে প্রায় ১২ লাখ ৩৭ হাজার ৬৪৫ একর বা ৫ লাখ ৮৫২ হেক্টর জমি পুড়ে গেছে। ইউরোপিয়ান ফরেস্ট ফায়ার্স ইনফরমেশন সিস্টেমের তথ্য বলছে, ৬ আগস্ট পর্যন্ত চলতি বছরে ইউরোপজুড়ে মোট ১ হাজার ৫২৮টি দাবানল শনাক্ত হয়েছে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
পাকিস্তানের কাশ্মীরে সাম্প্রতিক উত্তপ্ত পরিস্থিতি ও শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়নের বিষয়ে জাতিসংঘ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের ডেপুটি মুখপাত্র ফারহান হক স্পষ্ট ভাষায় জানান, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষের ওপর কোনো ধরনের আঘাত বা ক্ষতি করা হলে তার জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ফারহান হক জানান, সব অঞ্চলের কর্তৃপক্ষকেই শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকারকে সম্মান জানাতে হবে। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্কের উত্থাপিত আগের উদ্বেগগুলোর কথা উল্লেখ করে ফারহান হক বলেন, ‘মহাসচিব তার হাইকমিশনারের বক্তব্যকে সমর্থন করেন এবং আমরা অবশ্যই আশা করি যে, মিস্টার তুর্কের আহ্বানগুলো গুরুত্ব সহকারে শোনা হবে।’ শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নেওয়া পদক্ষেপের ওপর জবাবদিহির সুনির্দিষ্ট দাবির প্রেক্ষিতে ফারহান হক জোর দিয়ে বলেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর যেকোনো আঘাত বা ক্ষতির ঘটনা অবশ্যই তদন্ত করতে হবে। ফারহান হক আরো বলেন, ‘সব জায়গার সব কর্তৃপক্ষের জন্যই এটি গুরুত্বপূর্ণ যে তারা যেন শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের সুযোগ দেয় এবং অবশ্যই এই ক্ষেত্রেও সেটি প্রযোজ্য। যদি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার কারণে মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে, তবে তার জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।’ গত ১৭ জুলাই বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে পাকিস্তানের কাশ্মীরে বাড়তে থাকা সহিংসতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক। তিনি পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষকে সংযম প্রদর্শন করতে, মৌলিক অধিকার রক্ষা করতে এবং সহিংসতার জন্য জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। বিবৃতিতে তুর্ক অঞ্চলজুড়ে ক্রমাগত বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান। হাইকমিশনার নথিভুক্ত সমস্ত মৃত্যুর ঘটনায় দ্রুত, পুঙ্খানুপুঙ্খ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, ভুক্তভোগীরা বিক্ষোভকারী কিংবা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য যেই হোক না কেন, এই মৃত্যুর জন্য দায়ীদের অবশ্যই জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় বিক্ষোভ আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী সংগঠন 'জম্মু কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি' (জেকেজেএএসি)-কে নিষিদ্ধ করার পাকিস্তানি সিদ্ধান্তের বিষয়েও তুর্ক উদ্বেগ প্রকাশ করেন। আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের মানদণ্ড মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে হাইকমিশনার বলেন, আটককৃত জেকেজেএএসি নেতাদের অবিলম্বে আইনজীবী এবং তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দিতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, তাদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া এবং ন্যায্য বিচার পাওয়ার অধিকারকে পুরোপুরি সম্মান জানাতে হবে। এদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও পাকিস্তানের কাশ্মিরে চলমান সহিংসতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। গত বুধবার নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বর্তমানে পাকিস্তানের কাশ্মীরে মৌলিক অধিকারের নির্মম দমনপীড়ন প্রত্যক্ষ করছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দেখা গেছে যে, স্থানীয় জনগণের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা শান্তিপূর্ণ অধিকার আন্দোলনকে স্তব্ধ করতে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী মারাত্মক সহিংসতা, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং কঠোর নিষেধাজ্ঞার আশ্রয় নিয়েছে। নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিকদের ওপর রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় চালানো এই সহিংসতা পাকিস্তানি নীতি নির্ধারকদের চরম ভন্ডামিকে প্রকাশ করে দেয়। জয়সওয়াল আরো বলেন, চিরাচরিত কূটনৈতিক নাটক করার পরিবর্তে পাকিস্তানের উচিত হবে কাশ্মিরে রক্তপাত বন্ধ করা। তাদের নিজেদের মাটি থেকে পরিচালিত সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কগুলোর বিরুদ্ধে নির্ভরযোগ্য, যাচাইযোগ্য ও অপরিবর্তনীয় পদক্ষেপ নেওয়া এবং তাদের বেআইনি ও জোরপূর্বক দখলে থাকা সমস্ত ভারতীয় ভূখণ্ড অবিলম্বে খালি করা। বিশ্ববাসী এই সাজানো নাটকে বিভ্রান্ত হচ্ছে না। অরাজনৈতিক সংগঠন জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটির নেতৃত্বে গত ৫ জুন থেকে ৩৮ দফা দাবিতে কাশ্মীরে আন্দোলন হচ্ছে। মূলত মুদ্রাস্ফীতি, লোডশেডিং, আটার ঘাটতি এবং কয়েক দশকের সামরিক দমনপীড়ন, নিপীড়ন, বৈষম্য ও অত্যাচার থেকে সৃষ্ট পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকেই এবারের আন্দোলন। তবে এবার ৩৮ দফার মূল দাবি হলো সংসদে কাশ্মীরের বাইরে থাকা কাশ্মিরি শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি আসন বাতিল। আন্দোলনকারীদের দাবি, এই সংরক্ষিত আসন দিয়েই ইসলামাবাদ বরাবর কাশ্মীরের ওপর নিজের ছড়ি ঘোরানোর সুযোগ পায়। আন্দোলন শুরুর পর থেকেই ইসলামাবাদ আলোচনার বদলে নিষ্ঠুরতাকে হাতিয়ার করে। আন্দোলনকারীদের পিছু হটাতে সরকার নিষ্ঠুর দমননীতির পাশাপাশি অঞ্চলটিতে খাদ্য, জ্বালানি এবং ওষুধসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ও জীবনরক্ষাকারী পণ্যের প্রবেশ সীমিত বা পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে। ইন্টারনেট ও স্যাটেলাইট সেবা বন্ধ করে দেওয়ায় ফলে ব্যাংকিং এবং এটিএম সেবাসমূহ অচল হয়ে পড়েছে। এছাড়া গণমাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ আরোপ, কারফিউ জারি করে সরকার কাশ্মীরকে কার্যত বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। চলমান সহিংসতায় অন্তত ৫০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। অবশ্য আন্দোলনকারীদের দাবি, মৃতের সংখ্যা আরো অনেক বেশি। সূত্র : এএনআই
জেনারেশন জি বা জেন জি’র জন্য বিশ্বের সেরা শহর হিসেবে শীর্ষে উঠে এসেছে জাপানের রাজধানী টোকিও। তালিকায় দ্বিতীয় হয়েছে পর্তুগালের পোর্তো এবং তৃতীয় অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন। টাইম আউটের ২০২৬ সালের বিশ্বের ১৫০টি শহরের ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সী ৪ হাজার মানুষের মতামতের ভিত্তিতে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। জরিপে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের আনন্দ, রেস্তোরাঁর মান ও খরচ, বিনোদন, হাঁটার সুবিধা, সামাজিক পরিবেশ এবং নতুন বন্ধু তৈরির সুযোগের মতো বিষয় বিবেচনা করা হয়েছে। টোকিও শীর্ষে থাকার অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে বাসিন্দাদের সুখ ও শহরটির সমৃদ্ধ বিনোদন ও নাইটলাইফ। তবে জরিপে অংশ নেওয়া মাত্র এক-তৃতীয়াংশ মানুষ মনে করেন, সেখানে রাতের বিনোদন সাশ্রয়ী। দ্বিতীয় স্থানে থাকা পোর্তোর বড় শক্তি এর সামাজিক পরিবেশ ও তুলনামূলক কম খরচ। বাইরে খাওয়া, পানীয়, শিল্প ও সংস্কৃতির নানা আয়োজন উপভোগের সুযোগও তরুণদের কাছে শহরটিকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। জরিপে অংশ নেওয়া সবাই পোর্তোকে সুন্দর শহর হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তৃতীয় স্থানে থাকা মেলবোর্নের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ সাংস্কৃতিক পরিবেশ। জরিপে অংশ নেওয়া ৯৭ শতাংশ তরুণ জানিয়েছেন, শহরটিতে প্রায় প্রতিদিনই স্বাধীন থিয়েটার, লাইভ মিউজিক, কমেডি ও ইম্প্রোভ শোর মতো আয়োজন পাওয়া যায়। তবে শহরটির জীবনযাত্রার খরচ তুলনামূলক বেশি। চতুর্থ স্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্যের এডিনবরো। সবুজ জায়গা, নাইটলাইফ ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের জন্য শহরটি লন্ডনকে পেছনে ফেলেছে। পঞ্চম স্থানে রয়েছে চীনের সাংহাই। জরিপে অংশ নেওয়া ৭৬ শতাংশ তরুণ বলেছেন, সেখানে নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়া ও বন্ধুত্ব করা সহজ। জেন জি’র জন্য শীর্ষ ২০ শহর ১. টোকিও, জাপান ২. পোর্তো, পর্তুগাল ৩. মেলবোর্ন, অস্ট্রেলিয়া ৪. এডিনবরো, যুক্তরাজ্য ৫. সাংহাই, চীন ৬. নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র ৭. কোপেনহেগেন, ডেনমার্ক ৮. বার্লিন, জার্মানি ৯. ভ্যালেন্সিয়া, স্পেন ১০. ব্যাংকক, থাইল্যান্ড ১১. নেপলস, ইতালি ১২. কেপটাউন, দক্ষিণ আফ্রিকা ১৩. ক্রাকোভ, পোল্যান্ড ১৪. সিউল, দক্ষিণ কোরিয়া ১৫. প্যারিস, ফ্রান্স ১৬. এথেন্স, গ্রিস ১৭. মেক্সিকো সিটি, মেক্সিকো ১৮. রিও ডি জেনেইরো, ব্রাজিল ১৯. ভ্যাঙ্কুভার, কানাডা ২০. ভিয়েনা, অস্ট্রিয়া তালিকার শীর্ষ ২০ শহরের মধ্যে ১০টিই ইউরোপের।
উত্তর কোরিয়ার একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা এবং চীনের অত্যাধুনিক সামরিক অস্ত্রাগারের দ্রুত সম্প্রসারণের প্রেক্ষাপটে জাপানের টোকিও স্টেশন সংলগ্ন ভূগর্ভস্থ পার্কিং স্পেসে একটি মিসাইল শেল্টার নির্মাণের পরিকল্পনা উন্মোচন করেছে টোকিও মেট্রোপলিটন সরকার। টোকিওর গভর্নর ইউরিকো কোইকে জানিয়েছেন, টোকিও স্টেশন থেকে বিস্তৃত ইয়েসু দোরি অ্যাভিনিউ-এর নিচের এই পার্কিং গ্যারেজটি মানুষকে সুরক্ষার দেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর হবে। কোইকে বলেন, রাজধানীর প্রবেশদ্বার টোকিও স্টেশনের কাছে হওয়ায় এবং এখানে খোলা জায়গায় প্রচুর মানুষের সমাগম ঘটে বলে এই এলাকাটি বেছে নেওয়া হয়েছে। আর সংস্কার কাজের পর এই সুবিধাটি সুরক্ষার জন্য বেশ কার্যকর হবে বলেই আমরা এটিকে নির্বাচন করেছি। ইয়েসু-দোরি অ্যাভিনিউয়ের নিচে প্রথম ও দ্বিতীয় ভূগর্ভস্থ তলায় অবস্থিত এই পার্কিং স্থানটির মোট আয়তন প্রায় ১৩ হাজার বর্গমিটার। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে সৃষ্ট বিস্ফোরণের তীব্র তরঙ্গ, উড়ন্ত ধ্বংসাবশেষ এবং ভবন ধসে পড়ার বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে ভেতরে থাকা মানুষকে সুরক্ষিত রাখতে বিশেষ ধরনের দরজার ব্যবস্থা করার বিষয়ে আলোচনা করা হবে বলে জানান কোইকে। টোকিও গভর্নর জানান, এই অর্থবছরেই সংস্কার কাজের জন্য বিস্তারিত জরিপ শুরু হবে। সুরক্ষার জন্য আরও শক্তিশালী শেল্টারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরতে গিয়ে তিনি উত্তর কোরিয়া কর্তৃক সম্প্রতি নিক্ষিপ্ত একটি সম্ভাব্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। কোইকে বলেন, উত্তর কোরিয়ার এই ঘন ঘন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ জাপানের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুতর ও চরম হুমকি স্বরূপ। টোকিওবাসীদের নিরাপত্তা ও মানসিক শান্তি নিশ্চিত করতে আমার প্রশাসন যা কিছু সম্ভব তা করে যাবে। উত্তর কোরিয়া ইতোপূর্বে জাপানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে আক্রমণের মহড়া চালিয়েছে। টোকিও পাতাল রেলের আজাবু-জুবান স্টেশনের সঙ্গে সংযুক্ত একটি দুর্যোগকালীন ত্রাণ সামগ্রী সংরক্ষণাগারকে শেল্টারে রূপান্তরের পর এটি হতে যাচ্ছে জাপানের রাজধানী টোকিওতে দ্বিতীয় মিসাইল শেল্টার। সূত্র: উইয়ন নিউজ
পদত্যাগের দুই সপ্তাহ পর নীরবতা ভেঙে সাবেক কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ও সম্বলপুরের বিজেপি এমপি ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেছেন, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ঘিরে আন্দোলনের সময় জেন-জিকে ভুল পথে পরিচালিত করা হয়েছিল। তিনি জানান, আন্দোলনকারীদের উদ্বেগ স্বীকার করে তা সমাধানের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে অনুরোধ করেছিলেন তিনি। সম্বলপুরে পদ্ম পুরস্কারপ্রাপ্তদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রধান বলেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষাগুলো স্বীকার করার অনুমতি চেয়েছিলেন। তার বক্তব্য, তরুণদের অভিযোগ রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের সুযোগ না দেওয়াই ছিল তার উদ্দেশ্য। প্রধান আরও বলেন, জেন-জির আকাঙ্ক্ষার সামনে তিনি নিজের ব্যক্তিগত সম্মানকে বাধা হতে দেননি। একই সঙ্গে নিজেকে ‘জেন-জির শিকার’ বলেও উল্লেখ করেন। তবে তিনি কখনও ঘটনাটিকে ব্যক্তিগত লড়াইয়ে পরিণত করেননি বলে জানান। প্রধান বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে দেখা করেছি এবং তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষাগুলো স্বীকার করার জন্য তার অনুমতি চেয়েছি। তার মতে, তরুণদের অভিযোগ রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের সুযোগ না দিয়ে তাদের আকাঙ্ক্ষার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, বিশ্বশক্তি হিসেবে ভারতের উত্থানের আকাঙ্ক্ষা পূরণে দেশের তরুণ জনগোষ্ঠী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রধানের ভাষায়, প্রতি বছর ভারতে প্রায় দুই কোটি শিশু জন্ম নেয়। ১৫ থেকে ২৫ বছর বয়সীদের দিকে তাকালে, ১০ বছরের মধ্যে নতুন প্রজন্মের ২০ কোটি শিশু তৈরি হবে, যাদের কাঁধে ভর করেই ভারত বিশ্বনেতা হয়ে উঠবে। সূত্র: উইয়ন নিউজ
পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় রাতভর ও রোববার সকালে অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী ও ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, তারা বিভিন্ন বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে, সম্পত্তির ক্ষতি করেছে এবং কয়েকটি এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে। খবর শাফাক নিউজের। নাবলুসের বেইতা, বুরকা, আসিরা আল-কিবলিয়া, উরিফ, আওয়ার্তা, আইনাবুস, বেইত ফুরিক, হাওয়ারা ও কুসরা এলাকায় ইসরায়েলি সেনারা অভিযান চালায়। এ সময় ফিলিস্তিনিদের বাড়িতে তল্লাশি এবং বিভিন্ন স্থানে ছবি ও পতাকা সরানোর ঘটনা ঘটে। অন্যদিকে, বসতি স্থাপনকারীরা বেইত ফুরিকের কয়েকটি গ্রিনহাউস ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং শিলো বসতির কাছে গাড়িতে পাথর ছোড়ে। হেবরন এলাকাতেও অভিযান চালানো হয়েছে। ফিলিস্তিনি গণমাধ্যমের দাবি, ইসরায়েলি সেনারা ফারশ আল-হাওয়ার প্রবেশপথ বন্ধ করে এবং ইদনা এলাকায় অভিযান চালায়। মাসাফের ইয়াত্তার ওয়াদি আল-রাখিম এলাকায় বসতি স্থাপনকারীরা একটি সম্পত্তিতে আগুন ধরিয়ে দেয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। জেনিন ও কালকিলিয়া এলাকাতেও তল্লাশি চালানো হয়। কালকিলিয়ায় ইসরায়েলি বাহিনী কাঁদানে গ্যাস ও শব্দবোমা ব্যবহার করে। জাবা শহরে বসতি স্থাপনকারীরা ঢোকার চেষ্টা করলে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে তাদের বিরোধ হয়। জেরিকো, বেথলেহেম ও রামাল্লার আশপাশের এলাকাতেও অভিযান ও বসতি স্থাপনকারীদের তৎপরতার খবর পাওয়া গেছে। ফিলিস্তিনের কলোনাইজেশন অ্যান্ড ওয়াল রেজিস্ট্যান্স কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে পশ্চিম তীরে ২ হাজার ২৫৬টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৪৫৮টি ঘটনার জন্য ইসরায়েলি বাহিনীকে দায়ী করা হয়েছে। ফিলিস্তিনের কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি হামলায় ১ হাজার ১৬৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ২১০ জন শিশু। এ সময় ২১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনিকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি প্রিজনার্স সোসাইটি।
ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোতে একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে চারজন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে হেলিকপ্টারের পাইলট ও তিনজন যাত্রী ছিলেন। শনিবার জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা ভিস্তা চিনেসার কাছে একটি দুর্গম বনাঞ্চলে হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে আগুন ধরে যায়। আগুন নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অগ্নিনির্বাপণ দল পাঠানো হয়। স্থানীয় দমকল বিভাগ জানিয়েছে, দুর্ঘটনাস্থলটি দুর্গম হওয়ায় নিহতদের মরদেহ উদ্ধার ও পরিচয় শনাক্ত করতে উদ্ধারকারীদের বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। দুইজনের মরদেহ আগুনে পুরোপুরি পুড়ে যাওয়ায় শনাক্তকরণ আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। ব্রাজিলে নিযুক্ত কলম্বিয়ার কনসাল জেনারেল ডায়ানা পায়েজ জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে তিনজন কলম্বিয়ার পর্যটক ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। পর্যটকদের নিয়ে শহরের ওপর দিয়ে দর্শনীয় ফ্লাইট পরিচালনা করা একটি প্রতিষ্ঠান হেলিকপ্টারটি পরিচালনা করত। ভিস্তা চিনেসা রিও ডি জেনিরোর একটি জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান, যেখান থেকে শহর ও সমুদ্রের বিস্তৃত দৃশ্য দেখা যায়। দুর্ঘটনার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রদেশে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া দাবানলের কারণে ২০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। শনিবার প্রদেশটিতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় বেশ কয়েকটি এলাকার বাসিন্দাদের বাড়ি ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। খবর দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ার। ‘বাল্ড রেঞ্জ’ নামে দাবানলটি রাতারাতি প্রায় দ্বিগুণ আকার ধারণ করে। আগুনে প্রায় ৯ হাজার ৫০০ হেক্টর এলাকা পুড়ে গেছে। সামারল্যান্ড, পিচল্যান্ডসহ ওকানাগান লেকের পশ্চিমের বিভিন্ন এলাকায় সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি যে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যাচ্ছে। ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার প্রিমিয়ার ডেভিড এবি বলেন, আগুনের শিখা প্রায় ১০০ ফুট উঁচু গাছে উঠে আরও ২০০ ফুট পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ছে। আগুন নিজস্ব আবহাওয়াও তৈরি করছে, যার ফলে বজ্রপাত হচ্ছে এবং আগুন আরও ছড়িয়ে পড়ছে। দাবানলের কারণে বেশ কিছু বাড়িঘর ও স্থাপনা পুড়ে গেছে। দ্রুত পরিস্থিতি পরিবর্তনের কারণে কিছু মানুষ আটকা পড়লে তাদের উদ্ধার করা হয়েছে। নিরাপদে সরে যাওয়ার সময় অনেক বাসিন্দা দক্ষিণে পেন্টিকটন অথবা উত্তরে কেলোনার দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে পরে কয়েকটি মহাসড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়। প্রদেশজুড়ে বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৫০০ দমকলকর্মী ১০০টির বেশি সক্রিয় দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় ৪০টি এলাকায় বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ এবং আরও ৪৯টি এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। চলতি বছর কানাডাজুড়ে দাবানলে প্রায় ৪০ লাখ হেক্টর এলাকা পুড়ে গেছে। গরম ও শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে দাবানলের ঝুঁকি আরও বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হরমুজ প্রণালি নিয়ে আলোচনা চললেও সেখানে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে এখনও বিধিনিষেধ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, গত ১৪ জুলাই থেকে ইরানকে ঘিরে সামুদ্রিক বিধিনিষেধ পুনর্বহালের পর এখন পর্যন্ত ৫৩টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছে। এ সময় দুটি জাহাজও অচল করা হয়েছে। শনিবার সেন্টকম জানায়, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে এসব জাহাজকে বিকল্প পথে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, হরমুজ প্রণালি নিয়ে আলোচনা চললেও ইরানের ওপর চাপ অব্যাহত রাখবে ওয়াশিংটন। তিনি বলেন, তেহরান প্রণালির মধ্য দিয়ে যতটা সম্ভব বেশি পরিমাণে তেল পরিবহনের সুযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে বিশ্বাস করে না। অন্যদিকে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহাম্মদ বাঘের জোলঘাদর বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের প্রতি নীতি পরিবর্তন না করলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলবে না। ইরানের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘অন্যায্য’ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ক্ষতিপূরণ দেওয়া, বিদেশে আটকে থাকা ইরানের সম্পদ ছেড়ে দেওয়া, যুক্তরাষ্ট্রের সামুদ্রিক অবরোধ প্রত্যাহার এবং ইরানের আশপাশের এলাকা থেকে মার্কিন নৌ ও বিমানবাহিনী প্রত্যাহার।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় অস্ত্র উৎপাদন বাড়াতে উদ্যোগ নিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর। অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়ানোর পরিকল্পনা জমা দিতে ২১ দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট। প্রতিবেদনটি মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের একটি স্মারকলিপির বরাত দিয়ে জানায়, যুদ্ধের প্রথম এক মাসেই মার্কিন বাহিনী ৮৫০টির বেশি টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, ১ হাজারের বেশি প্যাট্রিয়ট ও থাড প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১ হাজার ৩০০টির বেশি সেনাবাহিনীর কৌশলগত ব্যালিস্টিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে। যুদ্ধের আগে বিশ্বজুড়ে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ছিল প্রায় ২ হাজার ২০০টি। সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, সেই সংখ্যা এখন ৮২৭টির নিচে নেমে এসেছে। একইভাবে থাড ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ৪৫২ থেকে কমে ২৭৮টির নিচে নেমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অস্ত্রের মজুত দ্রুত পূরণ করতে ইতোমধ্যে বড় কয়েকটি মার্কিন অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছে পেন্টাগন। এর মধ্যে লকহিড মার্টিন ও নর্থরপ গ্রুম্যান প্যাট্রিয়ট ও থাড ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন বাড়ানোর কাজ করছে। পাশাপাশি তুলনামূলক কম খরচে অস্ত্র উৎপাদনের জন্য নতুন প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও কাজে লাগানো হচ্ছে। লকহিড মার্টিনকে ২০৩০ সালের মধ্যে পিএসি-৩ প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন তিন গুণ বাড়ানোর জন্য সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৮৬০ কোটি ডলারের একটি চুক্তি দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট। তবে অস্ত্রের মজুত পুনর্গঠনের এই উদ্যোগের বড় অংশই কংগ্রেসের অর্থ বরাদ্দের ওপর নির্ভর করছে। ১ লাখ ১৫ হাজার কোটি ডলারের প্রতিরক্ষা ব্যয় প্যাকেজটি এখনও আটকে রয়েছে। ফলে অস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর জন্য পেন্টাগনের নেওয়া কয়েকটি চুক্তি প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে এগোতে পারছে না। এতে ইরান যুদ্ধে দ্রুত কমে যাওয়া মার্কিন অস্ত্রের মজুত কত দ্রুত পুনরায় পূরণ করা সম্ভব হবে, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বেশ কয়েকটি শর্ত দিয়েছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রকে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, সেনা প্রত্যাহার এবং যুদ্ধে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ইরানের শর্তের মধ্যে আরও রয়েছে দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান ও হুমকি বন্ধ করা এবং জব্দ করা ইরানি সম্পদ ছেড়ে দেওয়া। তেহরান বলেছে, এসব শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলবে না। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ইরানের নেতারা তাদের জানিয়েছেন যে হরমুজ প্রণালিতে টোল আদায়ের কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে ওয়াশিংটন চায়, প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর হামলা বন্ধের বিষয়ে তেহরান স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দিক।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রোস্টেট ক্যানসার শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমানে তিনি তীব্র শারীরিক যন্ত্রণায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন তার ছেলে হান্টার বাইডেন। শুক্রবার বিবিসির ‘নিউজ নাইট’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হান্টার বাইডেন বলেন, তার বাবার ক্যানসার হাড়ে ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি শরীরের অন্যান্য অংশেও ছড়িয়ে পড়েছে। এই রোগ তাকে শারীরিকভাবে অনেকটাই দুর্বল করে দিয়েছে। তবে জো বাইডেনের এক মুখপাত্র হান্টার বাইডেনের এসব বক্তব্যের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। ২০২৫ সালের মে মাসে হোয়াইট হাউস ছাড়ার চার মাসেরও কম সময় পর জো বাইডেন জানান, তিনি ‘আক্রমণাত্মক ধরনের’ প্রোস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন। তখনই তিনি জানিয়েছিলেন, ক্যানসারটি তার হাড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। এরপর একই বছরের অক্টোবরে বাইডেনের একজন মুখপাত্র জানান, তিনি ক্যানসারের চিকিৎসায় রেডিয়েশন থেরাপি ও হরমোন থেরাপি নিচ্ছেন। ২০২০ সালের নির্বাচনে জয়ী হওয়ার সময় জো বাইডেন ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়া সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তি। ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনের সময় তার শারীরিক সক্ষমতা ও মানসিক তীক্ষ্ণতা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। চলতি বছরের জুনে শিকাগোতে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেন বাইডেন। ২০০৯ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তিনি ওবামার ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এদিকে জো বাইডেনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের স্মৃতিকথা আগামী ১৭ নভেম্বর প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।