বিশ্ব

ছবি : সংগৃহীত
ইরানে সামরিক হামলার দ্বারপ্রান্তে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। একদিকে মার্কিন নৌবহর ইরানের জলসীমার একদম কাছে অবস্থান নিয়েছে, অন্যদিকে ইরানও সম্ভাব্য সংঘাত মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এখন শুধু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি নির্দেশের অপেক্ষা—আর তাতেই মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হতে পারে ভয়াবহ যুদ্ধ।   যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে সামরিক হামলার সম্ভাব্য বেশ কয়েকটি পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে আছে ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনায় হামলা, সামরিক ঘাঁটিতে অভিযান এবং সেনা কমান্ডারদের লক্ষ্য করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ। গত মাসে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর দমনপীড়নের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ‘মানবাধিকার রক্ষার’ যুক্তি দেখিয়ে সামরিক হস্তক্ষেপের পরিকল্পনা করছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এক বক্তব্যে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট যে কোনো সিদ্ধান্ত নিলেই সামরিক বাহিনী তা বাস্তবায়নে প্রস্তুত। তার দাবি, ইরান পরমাণু বোমা অর্জনের পথে এগোচ্ছে, যা পুরো অঞ্চলের জন্য হুমকি। তবে ইরান এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের ভাষ্য, পরমাণু কর্মসূচি শুধু শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে এবং প্রতিটি দেশেরই এটি চালানোর অধিকার আছে। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির উপদেষ্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, হামলা হলে ইরান শুধু যুক্তরাষ্ট্রকেই নয়, ইসরায়েলকেও জবাব দেবে। ইরানের সামরিক বাহিনী এরই মধ্যে বড় ধরনের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার সেনাবাহিনী ঘোষণা করে, তারা ১ হাজার নতুন ড্রোন যুক্ত করেছে, যার মধ্যে রয়েছে আত্মঘাতী, নজরদারি ও সাইবার সক্ষমতাসম্পন্ন ড্রোন। সেনাপ্রধান আমির হামাতি বলেন, ‘বিদ্যমান হুমকির ভিত্তিতে আমাদের যুদ্ধ সক্ষমতা কৌশলগতভাবে বাড়ানো হয়েছে।’ গত জুনে ইসরায়েল-ইরান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়েছিল। ইরানের সেনা মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মাদ আকরামিনিয়া বলেন, সেই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে আংশিক জবাব দেওয়া হয়েছিল, তবে এবার হামলা হলে ‘তাৎক্ষণিক ও পূর্ণাঙ্গ জবাব’ দেবে তেহরান। এদিকে, তেহরানের সাধারণ মানুষ দ্বিধান্বিত অবস্থানে রয়েছে। কেউ বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র কিছুই করতে পারবে না, আবার কেউ আশঙ্কা করছেন, যুদ্ধ হলে তার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে সাধারণ মানুষের ওপর। এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘দ্বিতীয়বারের মতো বড় সংঘাত শুরু হলে তার মাশুল গুনতে হবে আমাদেরই।’ ইরান সরকারও বেসামরিক প্রস্তুতির উদ্যোগ নিয়েছে। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সীমান্তবর্তী প্রদেশগুলোতে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির ক্ষমতা দিয়েছেন গভর্নরদের। তেহরানের মেয়র আলিরেজা জাকানি জানিয়েছেন, ভূগর্ভস্থ পার্কিং শেল্টার নির্মাণ পরিকল্পনায় রয়েছে, তবে তা বাস্তবায়নে সময় লাগবে। তবে এই উত্তেজনার মধ্যেও কূটনৈতিক সমাধানের আশা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। কাতারের আমির ও ইরানের প্রেসিডেন্ট ফোনে আলোচনা করেছেন। তুরস্ক সফরে যাচ্ছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি, যেখানে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও দুপক্ষকে আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন। অবশ্য ট্রাম্প বলেছেন, ‘ইরানে হামলার প্রয়োজন হয়তো পড়বে না।’ যদিও এক দিন আগেই তিনি হুঁশিয়ারি দেন, ‘তেহরানের সময় ফুরিয়ে আসছে।’ তার এই দ্বৈত বার্তার মধ্যে পরিষ্কার যে, চাপের কূটনীতির পাশাপাশি সামরিক হুমকিকেও কৌশল হিসেবে ব্যবহার করছেন তিনি। বিশ্লেষকরা বলছেন, পরিস্থিতি এখন এমন জায়গায় এসে ঠেকেছে, যেখানে সামান্য ভুল বোঝাবুঝিও গড়াতে পারে বড় সংঘাতে। আর সেই সংঘাত যদি শুরু হয়, তার প্রভাব শুধু ইরান বা যুক্তরাষ্ট্রে নয়—বিপর্যস্ত করবে পুরো বিশ্বকে।

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ৩১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ইরানের দিকে বিশাল সামরিক বহর মোতায়েন করছে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে ওয়াশিংটন একটি সময়সীমা নির্ধারণ করেছে, যা শুধুমাত্র তেহরানই জানে।   শুক্রবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেন যে, আলোচনার মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে সমঝোতা সম্ভব। তবে তিনি সতর্কও করেন, চুক্তি না হলে পরিস্থিতি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। ট্রাম্প আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দিকে বড় আকারের নৌবাহিনী মোতায়েন করছে, যা আগের কোনো অভিযানের তুলনায় বেশি শক্তিশালী। একই সময়ে বিভিন্ন সূত্র জানাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তারা মধ্যপ্রাচ্যের এক মিত্র দেশকে সতর্ক করেছেন। প্রয়োজনে ট্রাম্প খুব শিগগিরই ইরানের বিরুদ্ধে হামলার অনুমোদন দিতে পারেন। সাবেক এক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তার মতে, সম্ভাব্য পরিকল্পনা কেবল ইরানের পারমাণবিক বা ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে লক্ষ্য করছে না, বরং দেশটির শাসনব্যবস্থা দুর্বল করার দিকে লক্ষ্য রাখতে পারে। অন্যদিকে, ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আক্রমিনিয়া জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল যদি হামলা চালায়, ইরানও তার জবাব দেবে। উল্লেখ্য, ২৮ ডিসেম্বর ইরানের মুদ্রার মূল্যপতনকে কেন্দ্র করে দেশটিতে বিক্ষোভ শুরু হয়। এরপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ জানিয়েছে, এসব ঘটনায় অন্তত ৬ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যদিও ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রায় ৩ হাজার মৃত্যুর কথা স্বীকার করেছে।

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ৩১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
নির্বাচন উপলক্ষে নেপালকে দ্বিতীয় দফায় ২৫০ গাড়ি দিল ভারত

নেপালের সাধারণ নির্বাচন (৫ মার্চ) প্রস্তুতির জন্য ভারত সরকার দ্বিতীয় দফায় নির্বাচন-সংক্রান্ত সহায়তা হিসেবে ২৫০টিরও বেশি এসইউভি ও ডাবল-ক্যাব পিকআপ গাড়ি নেপাল সরকারের হাতে তুলে দিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার কাঠমান্ডুতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নেপালে নিযুক্ত ভারতের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত (চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স আ.ই.) এই যানবাহনগুলি নেপাল সরকারের হাতে হস্তান্তর করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নেপালের অর্থমন্ত্রী রমেশোর প্রসাদ খানাল ও নির্বাচন কমিশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান রাম প্রসাদ ভান্ডারী। নেপাল সরকারের অনুরোধের ভিত্তিতে ভারত এই গাড়ি ও অন্যান্য সামগ্রী প্রদান করেছে, যা নির্বাচনের লজিস্টিক সহায়তায় ব্যবহার হবে। এর আগে প্রথম দফার সহায়তা ২০ জানুয়ারি ২০২৬-এ হস্তান্তর করা হয়েছিল এবং আগামী সপ্তাহগুলোতে আরও চালান আসার কথা রয়েছে। অর্থমন্ত্রী রমেশোর প্রসাদ খানাল ভারত-নেপালের দীর্ঘদিনের সহযোগিতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, এই সহায়তা আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নেপালে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এই সহায়তা দুই দেশের মধ্যে বহুমুখী উন্নয়ন অংশীদারিত্ব, পারস্পরিক বিশ্বাস ও গভীর বন্ধুত্বের প্রতীক।

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ৩১, ২০২৬ 0
রাফাহ ক্রসিং। ফাইল ছবি : রয়টার্স
গাজার রাফাহ ক্রসিং আংশিকভাবে খুলে দিচ্ছে ইসরায়েল

জাতিসংঘ, মানবিক সংস্থা এবং সাধারণ ফিলিস্তিনিদের দীর্ঘদিনের আহ্বানের পর রবিবার ইসরায়েল ঘোষণা দিয়েছে, গাজা ও মিসরের মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ রাফাহ সীমান্ত পারাপার পুনরায় খুলবে, তবে তা কেবল ‘মানুষের সীমিত চলাচল’-এর জন্য। এর আগে শুক্রবার হামাস গাজায় চলমান যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির ‘দ্বিতীয় ধাপে অবিলম্বে অগ্রসর হওয়ার’ আহ্বান জানায়। এতে রাফাহ পুনরায় খোলার পাশাপাশি ভূখণ্ডটি পরিচালনার জন্য একটি প্রযুক্তিবিদ-নির্ভর ফিলিস্তিনি কমিটির প্রবেশের বিধান রয়েছে। এর আগে ইসরায়েল জানিয়ে এসেছিল, গাজায় আটক শেষ জিম্মি র‍্যান গভিলির মরদেহ ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত তারা এই প্রবেশদ্বার খুলতে রাজি নয়। চলতি সপ্তাহের শুরুতে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং বুধবার ইসরায়েলে দাফন সম্পন্ন হয়। এক বিবৃতিতে শুক্রবার দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে বেসামরিক বিষয়াবলি তদারককারী ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংস্থা কোগ্যাট জানায়, ‘আগামী রবিবার রাফাহ ক্রসিং উভয় দিকেই খুলবে, তবে কেবল মানুষের সীমিত চলাচলের জন্য।’ বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘মিসরের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে, ইসরায়েলের পূর্ববর্তী নিরাপত্তা ছাড়পত্রের পর এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মিশনের তত্ত্বাবধানে’ প্রবেশ ও প্রস্থান অনুমোদিত হবে। মিসরের সঙ্গে ভূখণ্ডটির দক্ষিণ সীমান্তে অবস্থিত এই পারাপারটি গাজার একমাত্র প্রবেশ ও প্রস্থানের পথ, যা ইসরায়েলের মধ্য দিয়ে যায় না। যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত অনুযায়ী তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’-এর পেছনে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহার করার পরও এলাকাটি ইসরায়েলি সেনাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ইসরায়েলি সেনারা এখনো গাজার অর্ধেকেরও বেশি এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। রাফাহ পারাপারটি ত্রাণ প্রবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও ২০২৪ সালের মে মাসে ইসরায়েলি বাহিনী এর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে এটি বন্ধ রয়েছে। আগেও এটি পুনরায় খোলার উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেগুলো বাস্তবায়িত হয়নি।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ৩১, ২০২৬ 0
ফাইল ছবি : রয়টার্স
কিউবায় তেল সরবরাহকারী দেশগুলোকে নতুন শুল্ক আরোপের হুমকি ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কিউবায় তেল সরবরাহকারী দেশগুলোর ওপর নতুন শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন। এর মাধ্যমে কমিউনিস্ট-শাসিত দ্বীপটি এবং যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের প্রতিপক্ষ কিউবার বিরুদ্ধে চাপ প্রয়োগের অভিযান আরো জোরদার হলো। জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণার আওতায় একটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে অনুমোদিত এই পদক্ষেপে শুল্কের হার নির্দিষ্ট করা হয়নি কিংবা কোনো দেশকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করা হয়নি। ট্রাম্প বলেন, কিউবা সরকারের ‘ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড ও নীতির’ হাত থেকে ‘মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র নীতি’ রক্ষার জন্য এই ব্যবস্থা প্রয়োজন। এর জবাবে শুক্রবার সকালে কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াস-কানেল ট্রাম্পের যুক্তিকে ভিত্তিহীন বলে আখ্যা দেন। দিয়াস-কানেল বলেন, ‘এই নতুন ব্যবস্থা একটি চক্রের ফ্যাসিবাদী, অপরাধমূলক ও গণহত্যামূলক চরিত্রকে তুলে ধরে, যারা কেবল ব্যক্তিগত স্বার্থে মার্কিন জনগণের স্বার্থ জিম্মি করে রেখেছে।’ কিউবার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সতর্ক করে জানায়, এই আদেশ এমন এক দ্বীপে বিদ্যুৎ উৎপাদন, কৃষি উৎপাদন, পানি সরবরাহ ও স্বাস্থ্যসেবা কার্যত অচল করে দিতে পারে, যা ইতিমধ্যে তীব্র অর্থনৈতিক সংকটে ভুগছে। রাতের টেলিভিশন সংবাদে দেওয়া এক বিবৃতিতে কিউবা সরকার জানায়, ‘মার্কিন সরকার জীবনের সব ক্ষেত্রকে শ্বাসরুদ্ধ করে দেবে। ’ চলতি মাসের শুরুতে এক অভিযানে ক্ষমতাচ্যুত ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন সেনাবাহিনীর আটক করার ঘটনায় উৎসাহিত হয়ে ট্রাম্প কিউবার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া ও দেশটির নেতৃত্বের ওপর চাপ বাড়ানোর কথা বারবার বলে আসছেন। ট্রাম্প এ সপ্তাহে বলেন, ‘কিউবা খুব শিগগিরই ভেঙে পড়বে’, এবং যোগ করেন, একসময় দ্বীপটির প্রধান তেল সরবরাহকারী ভেনেজুয়েলা সম্প্রতি কিউবায় আর তেল বা অর্থ পাঠাচ্ছে না। কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের হুমকিকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেন। রদ্রিগেজ বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র কিউবার বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী নিন্দিত অবরোধ নীতিতে অন্য দেশগুলোকে যুক্ত করতে ব্ল্যাকমেইল ও জবরদস্তির আশ্রয় নিচ্ছে।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ৩১, ২০২৬ 0
সংগৃহীত ছবি
ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

যুক্তরাষ্ট্র শুক্রবার সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের পর দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ একাধিক ইরানি কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে।   নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এস্কান্দার মোমেনি। মার্কিন ট্রেজারি দপ্তর এক বিবৃতিতে জানায়, তিনি ‘ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী (এলইএফ)-এর তত্ত্বাবধান করেন, যা হাজার হাজার শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর জন্য দায়ী একটি প্রধান সংস্থা’।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ৩১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
মদিনায় ২১ লাখ বৃক্ষরোপণ করল সৌদি সরকার

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং মরুভূমিপ্রধান পরিবেশে সবুজায়ন বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছে সৌদি আরব। সৌদি গ্রিন ইনিশিয়েটিভ (এসজিআই) প্রকল্পের আওতায় পবিত্র মদিনা অঞ্চলে এ পর্যন্ত ২১ লাখের বেশি বৃক্ষরোপণ করেছে দেশটির ন্যাশনাল ওয়াটার কোম্পানি (এনডব্লিউসি)। খবর আরব নিউজের। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানায়, এই উদ্যোগ পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি সৌদি আরবের ভবিষ্যৎ সবুজ অর্থনীতির পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এনডব্লিউসি জানিয়েছে, মদিনার এই বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমে শতভাগ পরিশোধিত বর্জ্য পানি ব্যবহার করা হচ্ছে। এর ফলে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমেছে এবং বর্জ্য পানির কার্যকর পুনঃব্যবহার নিশ্চিত হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সাল প্রকল্পটির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় ছিল। শুধু গত বছরেই মদিনার উত্তর-পশ্চিম সেক্টরে ৪ লাখ ৭২ হাজার গাছ রোপণ করা হয়। বর্তমানে মোট রোপণ করা গাছের প্রায় ১০ শতাংশ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেগুলোর জন্য আর নিয়মিত সেচের প্রয়োজন নেই। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ভিশন ২০৩০-এর অংশ হিসেবে ২০২১ সালে সৌদি গ্রিন ইনিশিয়েটিভের যাত্রা শুরু হয়। এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য ২০৬০ সালের মধ্যে নিট শূন্য কার্বন নিঃসরণ অর্জন। মদিনার এই বনায়ন কার্যক্রম সেই লক্ষ্য পূরণের পথে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ন্যাশনাল সেন্টার ফর ভেজিটেশন কভার ডেভেলপমেন্টের সঙ্গে সমন্বয় করে ভবিষ্যতে এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে এনডব্লিউসির। এতে করে ওই অঞ্চলের বায়ুর মান উন্নত হবে, বালুঝড়ের প্রবণতা কমবে এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। আন্তর্জাতিক পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, মদিনার এই উদ্যোগ বিশ্বের অন্যান্য শুষ্ক ও মরু অঞ্চলগুলোর জন্য একটি কার্যকর ও অনুসরণযোগ্য উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ৩১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
রাশিয়া ফেরত পাঠালো ১,০০০ ইউক্রেনীয় সেনার মরদেহ

ইউক্রেন-রাশিয়ার চলমান যুদ্ধে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে হওয়া আলোচনার অংশ হিসেবে নিহত সেনাদের মৃতদেহ নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে দুই দেশ সম্মত হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাশিয়া ও ইউক্রেন তাদের সেনাদের মৃতদেহ এক অপরকে ফিরিয়ে দিয়েছে, যা চলতি বছরে দুই যুদ্ধরত দেশের মধ্যে এ ধরনের প্রথম বিনিময়। খবর জানিয়েছে বিবিসি।   বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়া এক হাজার ইউক্রেনীয় সেনার মৃতদেহ ফেরত দিয়েছে। অন্যদিকে ইউক্রেন ৩৮ রাশিয়ান সেনার মৃতদেহ গ্রহণ করেছে। ক্ষমতাসীন ইউনাইটেড রাশিয়া পার্টির সদস্য শামসাইল সারালিয়েভ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া ইউক্রেনের সদর দপ্তর যুদ্ধবন্দিদের চিকিৎসার জন্য বিনিময় কার্যক্রমও নিশ্চিত করেছে। তারা টেলিগ্রামে জানায়, ‘আজ প্রত্যাবাসনের প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে, যার ফলে এক হাজার মৃতদেহ ইউক্রেনে ফেরত পাঠানো হয়েছে। আইন প্রয়োগকারী তদন্তকারীরা ইউক্রেনীয় ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতায় প্রত্যাবাসিত মৃতদের শনাক্তকরণের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।’ তবে বিনিময়ের স্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে পূর্ণমাত্রার আক্রমণের পর থেকে নিহত সেনাদের ফেরত পাঠানো এবং যুদ্ধবন্দিদের বিনিময় রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সহযোগিতার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রের মধ্যে অন্যতম। এর আগে ২০২৫ সালে মস্কো ও কিয়েভ মোট ১৪ বার মৃতদেহ বিনিময় করেছে, যার মধ্যে ১৪,৪৮০টি মৃতদেহ ইউক্রেনে এবং ৩৯১টি মৃতদেহ রাশিয়ায় ফেরত পাঠানো হয়েছিল।

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ৩০, ২০২৬ 0
দুই দেশের পতাকা। ছবি : সংগৃহীত
ইন্টারনেট সীমাবদ্ধতার জন্য ইরানকে দায়ী করল যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের দাবি, দেশটিতে ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে সেখান থেকে আর্থিক মুনাফা অর্জন করছে ইরান সরকার।   শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানে ইন্টারনেট ব্যবহারে কড়াকড়ি আরোপের ফলে অনলাইন সেবায় প্রবেশ সাধারণ মানুষের জন্য দিন দিন আরও কঠিন ও ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানায়, সীমিত ইন্টারনেট ব্যবহারের কারণে ইরানিদের ভিপিএন কিনতে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। অথচ একই সময়ে বহু পরিবার খাদ্য, বাসাভাড়া ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতেই হিমশিম খাচ্ছে। পোস্টে আরও বলা হয়, ইন্টারনেটের ওপর এই নিয়ন্ত্রণের ফলে তা এখন একটি বিলাসপণ্যে পরিণত হয়েছে, যা কেবল অল্পসংখ্যক মানুষের নাগালের মধ্যে রয়েছে। অথচ দেশটির লাখো মানুষের জন্য ইন্টারনেট বর্তমানে একটি অত্যাবশ্যক যোগাযোগমাধ্যম ও জীবনরেখায় পরিণত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের অভিযোগ, ইরানি কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষের দুর্ভোগকে কাজে লাগিয়ে আর্থিক লাভ করছে। একই সঙ্গে তারা ইরানে অবাধ ও নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানায়। তাদের ভাষায়, বাইরের বিশ্বের সঙ্গে সংযুক্ত থাকার জন্য মানুষকে যেন দৈনন্দিন প্রয়োজন ও যোগাযোগের মধ্যে একটি বেছে নিতে বাধ্য না করা হয়। এর আগে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ইরানজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। দেশটিতে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে চলমান বিক্ষোভ একপর্যায়ে সহিংস আন্দোলনে রূপ নিলে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত ৮ জানুয়ারি অনলাইন পর্যবেক্ষক সংস্থা নেটব্লকস জানায়, ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট পরিলক্ষিত হচ্ছে। সংস্থাটি জানায়, ইন্টারনেট বন্ধের আগে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের ডিজিটাল সেন্সরশিপ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। তাদের মতে, সংকটময় পরিস্থিতিতে ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন করে সাধারণ মানুষের যোগাযোগের মৌলিক অধিকার ব্যাহত করা হচ্ছে।

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ৩০, ২০২৬ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি। ছবি : সংগৃহীত
মার্কিন হামলায় কেন এবার ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখাবে ইরান

ইরানের জলসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন নেতৃত্বাধীন নৌবহর। এ বহর যত কাছাকাছি হচ্ছে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সরাসরি সংঘাতের আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। ইরানে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ব্যাপক ও সহিংস সরকারবিরোধী দমন-পীড়নের প্রেক্ষাপটে এই সামরিক মোতায়েন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এখন আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে সরাসরি সংঘর্ষের কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে।   শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানি নেতৃত্ব বর্তমানে দ্বিমুখী চাপে রয়েছে। একদিকে শাসনব্যবস্থার পতনের দাবিতে ক্রমবর্ধমান গণআন্দোলন, অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অস্পষ্ট কিন্তু হুমকিমূলক অবস্থান। এর ফলে শুধু তেহরান নয়, গোটা মধ্যপ্রাচ্যেই উদ্বেগ বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে সামরিক হামলা চালায়, তাহলে তেহরানের প্রতিক্রিয়া আগের মতো ধীর ও হিসেবি নাও হতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরান সাধারণত বিলম্বিত ও সীমিত প্রতিক্রিয়ার কৌশল নিয়েছে। ২০২৫ সালের ২১-২২ জুন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানোর পর কাতারের আল-উদেইদ মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। তখন যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে, হামলার আগাম সতর্কতা দেওয়ায় অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছিল এবং কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এটিকে ইরানের পক্ষ থেকে শক্তি প্রদর্শন করেও বড় যুদ্ধ এড়ানোর চেষ্টা হিসেবে দেখা হয়। একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল ২০২০ সালের জানুয়ারিতে। এ সময়ে বাগদাদে কুদস ফোর্স প্রধান কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার পর ইরান ইরাকে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। সেখানেও আগাম সতর্কতা দেওয়া হয় এবং প্রাণহানি এড়ানো যায়। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি ভিন্ন। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে ইরান এখন অন্যতম গুরুতর অভ্যন্তরীণ সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ডিসেম্বরের শেষ ও জানুয়ারির শুরুতে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভ কঠোরভাবে দমন করা হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা ও দেশটির ভেতরের চিকিৎসাকর্মীদের তথ্যমতে, কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। এছাড়া বহু মানুষ আহত বা আটক হয়েছেন। তবে ইন্টারনেট বন্ধ ও তথ্যপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণের কারণে এসব সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব নয়। ইরানি কর্তৃপক্ষ মৃত্যুর দায় অস্বীকার করে একে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর ষড়যন্ত্র’ বলে দাবি করেছে। দেশটি ইসরায়েলকে অস্থিতিশীলতার জন্য দায়ী করেছে। সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পরিষদের কর্মকর্তারাও এই আন্দোলনকে গত গ্রীষ্মে ইসরায়েলের সঙ্গে হওয়া ১২ দিনের যুদ্ধের ধারাবাহিকতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এসব দমন-পীড়নের যৌক্তিকতা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যদিও বিক্ষোভের মাত্রা কিছুটা কমেছে, তা পুরোপুরি থামেনি। সমাজ ও রাষ্ট্রের মধ্যকার বিভাজন এখনো গভীর আকারে রয়েছে। গত ৮ ও ৯ জানুয়ারি নিরাপত্তা বাহিনী কয়েকটি শহরের অংশবিশেষে সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণ হারায় বলেও খবর পাওয়া যায়। পরে ব্যাপক বলপ্রয়োগে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এই অভিজ্ঞতা ইরানি কর্তৃপক্ষকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র যদি সীমিত হামলা চালায়, তাহলে ওয়াশিংটন সামরিক সাফল্যের দাবি করতে পারলেও ইরানি সরকার তা অভ্যন্তরীণ দমন-পীড়ন আরও বাড়ানোর অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। এতে ব্যাপক গ্রেপ্তার, কঠোর সাজা এমনকি মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকি বাড়বে। অন্যদিকে, যদি যুক্তরাষ্ট্র বড় পরিসরে হামলা চালিয়ে ইরানি রাষ্ট্রব্যবস্থাকে গুরুতরভাবে দুর্বল করে ফেলে, তাহলে ৯ কোটির বেশি জনসংখ্যার এই দেশে বিশৃঙ্খলা ও দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। এর প্রভাব পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।   বিবিসি জানিয়েছে, এই কারণেই তেহরান থেকে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠোর বার্তা আসছে। আইআরজিসি ও সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের যে কোনো ছোট-বড় হামলাকে সরাসরি যুদ্ধ হিসেবে দেখা হবে। এই অবস্থান উপসাগরীয় দেশগুলোকে উদ্বিগ্ন করেছে, বিশেষ করে যেসব দেশে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে। দ্রুত ইরানি প্রতিক্রিয়া ওই দেশগুলো ও ইসরায়েলকে সরাসরি ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ৩০, ২০২৬ 0
সেনাদের সঙ্গে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ছবি : সংগৃহীত
রাশিয়ার বিরুদ্ধে জিততে নতুন পরিকল্পনা ইউক্রেনের

রাশিয়ার বিরুদ্ধে জিততে নতুন লক্ষ্য হাতে নিয়েছে ইউক্রেন। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যুদ্ধের মোড় ঘোরাতে রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও মারাত্মক সামরিক কৌশল গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানান, ইউক্রেনের লক্ষ্য প্রতি মাসে অন্তত ৫০ হাজার রুশ সেনাকে হত্যা বা গুরুতরভাবে আহত করা, যাতে মস্কো নতুন সেনা পাঠিয়ে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে না পারে।   শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গত সোমবার সামরিক সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনীয় বাহিনীর কাজ হলো দখলদারদের এমন মাত্রায় ধ্বংস করা, যাতে তারা পুষিয়ে নিতে না পারে। রাশিয়া এক মাসে যত সেনা পাঠাতে পারে, তার চেয়েও বেশি ক্ষতি করা আমাদের লক্ষ্য। ৫০ হাজার মাসিক ক্ষয়ক্ষতিই সর্বোত্তম মাত্রা। তিনি জানান, ভিডিও বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রায় ৩৫ হাজার রুশ সেনা নিহত বা গুরুতর আহত হয়েছে, যা নভেম্বরের ৩০ হাজার এবং অক্টোবরে ২৬ হাজারের তুলনায় বেশি। পরে তিনি স্পষ্ট করেন, এই সংখ্যার মধ্যে এমন আহতরাও রয়েছেন যারা আর যুদ্ধক্ষেত্রে ফিরতে পারবে না। ইউক্রেনের সেনাপ্রধান ওলেক্সান্দর সিরস্কি জানান, ডিসেম্বর মাসে ৩৩ হাজারের বেশি সেনা নিশ্চিতভাবে নিহত হয়েছে।ইউক্রেনের দাবি, ২০২২ সালে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত রাশিয়ার প্রায় ১২ লাখ সেনা নিহত বা আহত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক থিঙ্কট্যাংক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস) জানিয়েছে, রাশিয়ার মোট হতাহতের সংখ্যা ১২ লাখের কাছাকাছি, যার মধ্যে অন্তত ৩ লাখ ২৫ হাজার নিহত হয়েছেন। ইউক্রেনের হতাহত প্রায় ৬ লাখ, নিহত সর্বোচ্চ ১ লাখ ৪০ হাজার। তবে আল জাজিরা জানিয়েছে, এই সংখ্যাগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি তারা। বর্তমানে যুদ্ধ কার্যত অচলাবস্থায় রয়েছে। রাশিয়া উল্লেখযোগ্য নতুন ভূখণ্ড দখলে ব্যর্থ হচ্ছে। ২০২২ সালের মার্চে যুদ্ধ শুরুর এক মাসের মধ্যে রাশিয়া ইউক্রেনের এক-চতুর্থাংশ নিয়ন্ত্রণে নিলেও, পরবর্তী মাসে কিয়েভ, খারকিভ, সুমি ও চেরনিহিভ থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয়। ২০২২ সালের শেষভাগে ইউক্রেন খারকিভ অঞ্চলে ওস্কিল নদীর পূর্বে রুশ বাহিনীকে হটাতে সক্ষম হয় এবং রাশিয়া খেরসনের পশ্চিম তীর ছেড়ে দেয়। ফলে তখন ইউক্রেনের ১৭ দশমিক ৮ শতাংশ এলাকা রাশিয়ার দখলে ছিল। গত তিন বছরে সেই হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯ দশমিক ৩ শতাংশে। গত ছয় মাস ধরে দোনেৎস্ক অঞ্চলের দুটি শহর দখল করতে ১ লাখ ৫০ হাজার সেনা মোতায়েন করেও ব্যর্থ হচ্ছে রাশিয়া। আলজাজিরা জানিয়েছে, জেলেনস্কির কৌশলের কেন্দ্রে রয়েছে ড্রোন। তিনি জানান, বর্তমানে যুদ্ধক্ষেত্রের ৮০ শতাংশ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে ড্রোন। গত এক বছরেই ৮ লাখ ১৯ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে, প্রতিটি আঘাত আমরা নথিভুক্ত করছি। ড্রোন অপারেটরদের জন্য পয়েন্টভিত্তিক পুরস্কার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালের এপ্রিলে রুশ সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংসের জন্য নগদ পুরস্কার ঘোষণা করা হয়, যেখানে একটি যুদ্ধট্যাংক দখলের জন্য পুরস্কার ছিল ২৩ হাজার ডলার। এই মাসে জেলেনস্কি প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন মিখাইলো ফেদোরভকে। তিনি আগে ডিজিটাল রূপান্তর মন্ত্রী ছিলেন। তার নেতৃত্বে ড্রোন উৎপাদন, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা হচ্ছে। এদিকে রাশিয়া ইউক্রেনের শহর ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা অব্যাহত রেখেছে। গত শনিবার ৩৭৫টি ড্রোন ও ২১টি ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে চালানো হামলায় দেশজুড়ে প্রায় ১২ লাখ বাড়ি বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। কিয়েভে এখনো প্রায় ৭ লাখ মানুষ বিদ্যুৎবিহীন বলে জানিয়েছেন জ্বালানিমন্ত্রী দেনিস শ্মিহাল। পরিস্থিতি সামাল দিতে উষ্ণতা কেন্দ্র ও সহায়তা পয়েন্ট চালু করা হয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ৩০, ২০২৬ 0
ট্রেনে চড়ে যুদ্ধক্ষেত্রে যাচ্ছেন রুশ সেনারা। ছবি : সংগৃহীত
চাকরির প্রত্যাশায় রাশিয়ায় গিয়ে ‘যুদ্ধের ফাঁদে বাংলাদেশিরা’

রাশিয়ায় বেসামরিক কাজের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকদের ইউক্রেন যুদ্ধে লড়াই করতে বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।   এপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মাকসুদুর রহমান নামের এক ভুক্তভোগী বলেন, এক দালাল তাকে বাংলাদেশ ছেড়ে রাশিয়ায় যাওয়ার জন্য রাজি করায়। সেখানে তাকে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু মস্কো পৌঁছানোর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তিনি নিজেকে ইউক্রেন যুদ্ধের সম্মুখসারিতে দেখতে পান। এপি তিন বাংলাদেশির সঙ্গে কথা বলেছে। তারা তিনজনই রুশ সেনাবাহিনী থেকে পালিয়ে আসতে পেরেছেন। তারা জানান, রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর তাদের রুশ ভাষায় লেখা কিছু কাগজে সই করতে বাধ্য করা হয়। পরবর্তীতে দেখা যায় সেগুলো ছিল সামরিক চুক্তি। এরপর তাদের একটি সেনা প্রশিক্ষণ শিবিরে নেওয়া হয়; যেখানে ড্রোন যুদ্ধকৌশল, আহত ব্যক্তিদের সরিয়ে নেওয়া এবং ভারী অস্ত্র ব্যবহারের মৌলিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। মাকসুদুর রহমান এ কাজের প্রতিবাদ করলে একটি অনুবাদ অ্যাপের সাহায্যে এক রুশ কমান্ডার তাকে বলেন, তোমার এজেন্ট তোমাকে এখানে পাঠিয়েছে। আমরা তোমাকে কিনে নিয়েছি।

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ৩০, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
‘ভারতীয় প্রক্সি বাহিনীর’ সঙ্গে পাকিস্তানি বাহিনীর তুমুল সংঘর্ষে নিহত ৪১

বেলুচিস্তানে পৃথক দুটি অভিযানে ভারত-সমর্থিত মোট ৪১ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর)। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) জিও নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   বিবৃতিতে আইএসপিআর জানায়, ফিতনা আল-খারিজ ও ফিতনা আল-হিন্দুস্তান নামের ভারতীয় প্রক্সি গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এসব সন্ত্রাসীকে ২৯ জানুয়ারি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে হত্যা করা হয়। প্রথমে হরনাই জেলার উপকণ্ঠে ফিতনা আল-খারিজ-এর উপস্থিতির খবর পেয়ে অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানের সময় নিরাপত্তা বাহিনী সন্ত্রাসীদের আস্তানায় কার্যকর আঘাত হানে এবং তীব্র গোলাগুলির পর ৩০ ভারত-সমর্থিত খারিজিকে হত্যা করে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নিহত সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে, যা ঘটনাস্থলেই ধ্বংস করা হয়। এরপর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পাঞ্জগুর জেলায় পৃথক আরেকটি অভিযান পরিচালিত হয়, যেখানে একটি সন্ত্রাসী আস্তানা ধ্বংস করা হয় এবং ফিতনা আল-হিন্দুস্তান-এর ১১ ভারত-সমর্থিত সন্ত্রাসীকে নিষ্ক্রিয় করা হয়। অস্ত্র ও গোলাবারুদের পাশাপাশি, ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর পাঞ্জগুরে সংঘটিত ব্যাংক ডাকাতির লুট করা অর্থও নিহত সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। আইএসপিআর জানায়, এসব সন্ত্রাসী অতীতে বহু সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল। এই দুই এলাকায় তল্লাশি অভিযান চলমান রয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, নিরাপত্তা বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার যৌথ উদ্যোগে আজম-ই-ইস্তেহকাম ভিশনের অধীনে নিরবচ্ছিন্ন বিদেশি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান পূর্ণ গতিতে অব্যাহত থাকবে। উল্লেখ্য, ২০২১ সালে তালেবান আফগানিস্তানে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে পাকিস্তান সীমান্তে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা বেড়েছে। আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী খাইবার পাখতুনখাওয়া (কেপি) ও বেলুচিস্তান প্রদেশ এসব হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত ৬ জানুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে আইএসপিআরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী জানান, ২০২৫ সালে দেশজুড়ে মোট ৭৫ হাজার ১৭৫টি গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এর মধ্যে খাইবার পাখতুনখোয়ায় ১৪ হাজার ৬৫৮টি, বেলুচিস্তানে ৫৮ হাজার ৭৭৮টি এবং দেশের অন্যান্য এলাকায় ১ হাজার ৭৩৯টি অভিযান পরিচালিত হয়।   তিনি আরও জানান, গত বছর দেশে মোট ৫ হাজার ৩৯৭টি সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে ৩ হাজার ৮১১টি খাইবার পাখতুনখোয়ায়, ১ হাজার ৫৫৭টি বেলুচিস্তানে এবং অন্যান্য এলাকায় ২৯টি ঘটনা ঘটেছে। এসব অভিযানে মোট ২ হাজার ৫৯৭ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ৩০, ২০২৬ 0
সমুদ্রের নিচে অবস্থিত নিজেদের মিসাইল সুড়ঙ্গের ভিডিও প্রকাশ করেছে ইরান। ছবি: সংগৃহীত
ইরান প্রকাশ করল সমুদ্রের নিচে থাকা মিসাইল সুড়ঙ্গ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সমুদ্রের নিচে নির্মিত নিজেদের মিসাইল সুড়ঙ্গের ভিডিও প্রকাশ করেছে ইরান। ধারণা করা হচ্ছে, এসব সুড়ঙ্গে কয়েকশ ক্রুজ মিসাইল মজুত রয়েছে। ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে—তাদের ওপর কোনো হামলা হলে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী আর ‘নিরাপদ’ থাকবে না।   বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সংবাদমাধ্যমের খবরে জানানো হয়, ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে পানির নিচে নির্মিত মিসাইল সুড়ঙ্গের একটি ভিডিও সম্প্রচার করা হয়েছে। ভিডিওতে ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌ শাখার কমান্ডার আলীরেজা তাঙসিরিকে সুড়ঙ্গের ভেতরে অবস্থান করতে দেখা যায়। সেখানে পানির নিচে উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তুত অবস্থায় রাখা একাধিক মিসাইল প্রদর্শন করা হয়। নৌ কমান্ডার আলীরেজা তাঙসিরি জানান, সমুদ্রের নিচে ইরানের মিসাইলের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক রয়েছে। এসব মিসাইল উপসাগরীয় অঞ্চল ও ওমান সাগরে অবস্থানরত মার্কিন নৌজাহাজ লক্ষ্য করে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তার দাবি, এসব সুড়ঙ্গে কয়েকশ মিসাইল মজুত রয়েছে, যা এক হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। তিনি আরও জানান, ইরানের তৈরি ‘কাদের-৩৮০ এল’ মিসাইলে অত্যাধুনিক স্মার্ট প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা আঘাত হানার আগ পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুকে নিরবচ্ছিন্নভাবে ট্র্যাক করতে পারে। এদিকে ইরানের বিরুদ্ধে আগের চেয়ে আরও বড় হামলার হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ইরান যদি হামলা এড়াতে চায়, তবে তাদের অবশ্যই চুক্তিতে আসতে হবে এবং কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, বিশাল একটি যুদ্ধজাহাজ বহর ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। নির্দিষ্ট লক্ষ্য ও বিপুল শক্তি নিয়ে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাওয়া এই বহর যেকোনো সময় অভিযানে যেতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলায় পাঠানো বাহিনীর নেতৃত্ব দেওয়া রণতরী ‘আব্রাহাম লিঙ্কন’-এর বহরের চেয়েও এটি বড়। প্রয়োজন হলে এই বহর আরও দ্রুত ও ভয়াবহ হামলা চালাতে পিছপা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। উল্লেখ্য, গত বছরের জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। সে সময় ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে তীব্র সামরিক সংঘাত চলছিল।

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ২৯, ২০২৬ 0
গাজার শাসনভার হস্তান্তরে প্রস্তুত হামাস
গাজার শাসনভার হস্তান্তরে প্রস্তুত হামাস

গাজার শাসনভার একটি ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটিক কমিটির কাছে হস্তান্তর করতে প্রস্তুত বলে বুধবার জানিয়েছে হামাস। তবে একই সঙ্গে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং পুরোপুরি পুনরায় খুলে দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছে তারা। হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম এএফপিকে বলেন, ‘প্রোটোকল প্রস্তুত, নথিপত্র সম্পূর্ণ, এবং গাজা উপত্যকার সব খাতে শাসনভার টেকনোক্র্যাটিক কমিটির কাছে সম্পূর্ণভাবে হস্তান্তরের তদারকির জন্য প্রয়োজনীয় কমিটিগুলো গঠন করা হয়েছে।’ ১৫ সদস্যের ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা (এনসিএজি) যুক্তরাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে গঠিত একটি ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটদের দল। গত ১০ অক্টোবর কার্যকর হওয়া ওই চুক্তির আওতায় যুদ্ধ-পরবর্তী গাজার দৈনন্দিন প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করবে এই কমিটি। এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সভাপতিত্বে গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর তত্ত্বাবধানে কাজ করবে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সাবেক উপমন্ত্রী আলি শাথের নেতৃত্বাধীন এনসিএজির সদস্যরা গাজায় প্রবেশ করবেন মিসরের সঙ্গে সীমান্তবর্তী রাফাহ ক্রসিং পুনরায় চালু হলে। কাসেম বলেন, রাফাহ ক্রসিং ‘উভয় দিকেই খুলে দিতে হবে এবং গাজা উপত্যকায় প্রবেশ ও প্রস্থানের ক্ষেত্রে পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে, কোনো ধরনের ইসরায়েলি বাধা ছাড়া। ’ রাফাহ হলো গাজার একমাত্র বহির্বিশ্বের সংযোগপথ যা ইসরায়েলের দিকে যায় না এবং এটি মানুষ ও পণ্য প্রবেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ। ২০২৪ সালের মে মাসে ইসরায়েলি বাহিনী নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে রাফাহ ক্রসিংটি বন্ধ রয়েছে। ২০২৫ সালের শুরুতে সীমিতভাবে এটি খোলা হয়েছিল, তবে পুনরায় চালুর অন্যান্য উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি। এনসিএজির প্রধান আলি শাথ গত সপ্তাহে ঘোষণা দেন, পরবর্তী সপ্তাহে রাফাহ ক্রসিং উভয় দিকেই খুলে দেওয়া হবে। কাসেম বলেন, ‘স্বাধীন জাতীয় কমিটির রাফাহ ক্রসিং খোলার ঘোষণা গুরুত্বপূর্ণ।’ তিনি যোগ করেন, ‘এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো—এই কমিটি নাগরিকদের যাতায়াত পূর্ণ স্বাধীনতায় পরিচালনা করছে কি না, চুক্তি অনুযায়ী, ইসরায়েলি শর্ত অনুযায়ী নয়—সেটি পর্যবেক্ষণ করা।’ ইসরায়েল জানিয়েছে, শেষ জিম্মি রান গিভিলির মরদেহ উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত তারা তাদের তথাকথিত ‘সীমিত পুনরায় খোলা’র আওতায় কেবল পথচারীদের চলাচলের অনুমতি দেবে। ইসরায়েলি বাহিনী সোমবার গিভিলির মরদেহ উদ্ধার করে এবং বুধবার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মেইতারে তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়। কাসেম বলেন, ‘এতে স্পষ্ট যে গাজা উপত্যকায় যুদ্ধ বন্ধের চুক্তির প্রতি হামাস প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, ‘প্রথম ধাপে যা যা করার প্রয়োজন ছিল, হামাস সবই করেছে এবং দ্বিতীয় ধাপের সব পথে প্রবেশ করতে প্রস্তুত।’ টেকনোক্র্যাটিক কমিটি গঠন এবং গাজায় থাকা শেষ জিম্মির মরদেহ ইসরায়েলে ফেরত দেওয়ার পর যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হবে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং ইসরায়েলের গাজা থেকে প্রত্যাহার। যদিও গিভিলির মরদেহ ফেরত দেওয়াকে হামাস চুক্তির প্রতি তাদের অঙ্গীকারের প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরছে, তবুও তারা এখনো অস্ত্র সমর্পণ করেনি। হামাস বারবার বলেছে, নিরস্ত্রীকরণ তাদের জন্য ‘রেড লাইন’। তবে একই সঙ্গে তারা ইঙ্গিত দিয়েছে, কোনো ফিলিস্তিনি শাসন কর্তৃপক্ষের কাছে অস্ত্র হস্তান্তরের বিষয়ে তারা আলোচনায় বসতে পারে। তবে ইসরায়েল বা হামাস—কেউই এখনো প্রত্যাহার বা নিরস্ত্রীকরণের নির্দিষ্ট সময়সূচি কিংবা কৌশল স্পষ্ট করেনি।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ২৮, ২০২৬ 0
প্রতীকী ছবি
ভিসানীতিতে পরিবর্তন, যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয়দের জন্য বড় ধাক্কা

এইচ-১বি ভিসায় বড় ধাক্কা খেয়েছেন ভারতীয়রা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন নীতিকে সমর্থন করে টেক্সাস রাজ্য সরকার রাজ্যের অধীনস্থ সব সংস্থা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এইচ-১বি ভিসা আবেদন স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তার জারি করা এক সরকারি চিঠিতে বলা হয়েছে, এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচির ফলে এমন বহু চাকরি বিদেশিদের হাতে যাচ্ছে, যেগুলো ‘আমেরিকানদের বিশেষ করে টেক্সানদের দ্বারা পূরণ করা উচিত ছিল। অ্যাবট লেখেন, বিশ্বের সেরা ও মেধাবীদের এনে প্রকৃত বিশেষায়িত ও অপূর্ণ কর্মসংস্থানের চাহিদা পূরণের বদলে এইচ-১বি প্রোগ্রামটি বহু ক্ষেত্রে এমন চাকরি পূরণে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা টেক্সাসের নাগরিকরাই করতে পারতেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির এই গভর্নর জানান, টেক্সাসকে ‘আমেরিকার সবচেয়ে শক্তিশালী অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি’ হিসেবে ধরে রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। হিউস্টন ক্রনিকলের উদ্ধৃত ফেডারেল তথ্যে বলা হয়েছে, টেক্সাসে অধিকাংশ এইচ-১বি ভিসাধারী কাজ করেন বেসরকারি সংস্থায়। তবে সরকারি ক্ষেত্রে এই ভিসাধারীদের বড় অংশই কর্মরত রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল ও অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানে। নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, এই ভিসা স্থগিতাদেশ ৩১ মে ২০২৭ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। ফলে রাজ্যের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল ও বিভিন্ন সংস্থা সরাসরি প্রভাবিত হবে। গভর্নর অ্যাবটের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, আগামী ২৭ মার্চের মধ্যে সব রাজ্য সংস্থাকে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে হবে। সেখানে ভিসা নবায়নের আবেদন সংখ্যা, আবেদনকারীদের দেশ, বর্তমান ভিসার মেয়াদসহ নানা তথ্য উল্লেখ করতে হবে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন ভারতীয়রা। পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ৫ দশমিক ২ মিলিয়ন ভারতীয়ের মধ্যে প্রায় ৫ লাখ ৭০ হাজারই টেক্সাসে থাকেন। এছাড়াও নিউ জার্সিতে প্রায় ৪৪০ হাজার, নিউইয়র্কে ৩৯০ হাজার এবং ইলিনয়ে প্রায় ২৭০ হাজার ভারতীয় বসবাস করেন। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ঘোষিত ট্রাম্পের ভিসা সংক্রান্ত কড়াকড়ি ভারতীয় সম্প্রদায়ের ওপর সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মার্কিন পরিসংখ্যন ব্যুরোর ২০২৩ সালের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের মধ্যে প্রায় ৬৬ শতাংশই ভারতীয়।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ২৮, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে যে নতুন ঘোষণা দিল যুক্তরাষ্ট্র

ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে টানা কয়েক দিনের সামরিক মহড়া শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তাদের বিমানবাহিনীর অংশ নাইন্থ এয়ার ফোর্স (অ্যাফসেন্ট) এই আকাশ মহড়া পরিচালনা করছে। বিবৃতিতে অ্যাফসেন্ট জানায়, এই মহড়ার উদ্দেশ্য হলো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে দ্রুত বিমান ও জনবল মোতায়েন এবং যুদ্ধক্ষমতা বজায় রাখার সক্ষমতা যাচাই করা। একই সঙ্গে আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার এবং যে কোনো পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রতিক্রিয়ার প্রস্তুতিও এর লক্ষ্য। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। মহড়ার অংশ হিসেবে মার্কিন বাহিনী একাধিক জরুরি ঘাঁটিতে ছোট ও দক্ষ সহায়তাকারী দল মোতায়েন করবে। পাশাপাশি এই মহড়ায় দ্রুত বিমান ওঠানামা এবং লজিস্টিক সক্ষমতাও পরীক্ষা করা হবে। সব কার্যক্রমই স্বাগতিক দেশগুলোর অনুমোদন এবং বেসামরিক ও সামরিক বিমান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হবে বলে জানানো হয়েছে। এই মহড়ার এক দিন আগেই মার্কিন নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ও এর সঙ্গে থাকা যুদ্ধজাহাজগুলো মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছায়। এতে করে এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও বাড়বে।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ২৭, ২০২৬ 0
ফাইল ছবি : রয়টার্স
ইরানে সরকার পতন হলে ‘বাফার জোন’ চালু করবে তুরস্ক

সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে যদি তেহরানে সরকার ভেঙে পড়ে, তাহলে ইরান সীমান্তের ওপারে একটি বাফার জোন প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে তুরস্ক। মিডল ইস্ট আই এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা বৃহস্পতিবার পার্লামেন্টে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকে আইন প্রণেতাদের ব্রিফ করেন। বৈঠকে অংশ নেওয়া দুজনের মতে, সেখানে ইরান পরিস্থিতি ঘিরে একাধিক সম্ভাব্য দৃশ্যপটের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানায় আংকারা। ব্রিফিংয়ে উপস্থিত একজন জানান, তুর্কি কর্মকর্তারা ‘বাফার জোন’ শব্দটি ব্যবহার করে বোঝান যে, নতুন করে শরণার্থীর ঢল ঠেকাতে দেশটি সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে চায়। তবে আরেকজন অংশগ্রহণকারী বলেন, কর্মকর্তারা সরাসরি ‘বাফার জোন’ শব্দটি ব্যবহার না করলেও প্রচলিত ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন। দ্বিতীয় সূত্রটি বলেন, ‘মূলত তারা বলেছেন, সম্ভাব্য অভিবাসনের ক্ষেত্রে যারা আসতে পারেন, তাদের যেন ইরান সীমান্তের ভেতরেই রাখা যায়—এ জন্য সবকিছু করা উচিত বলে তারা মনে করেন।’ চলতি মাসের শুরুতে তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ইরানের সঙ্গে ৫৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তজুড়ে প্রযুক্তিনির্ভর উন্নত নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে আংকারা। এই ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে ২০৩টি ইলেক্ট্রো-অপটিক্যাল টাওয়ার, ৪৩টি লিফট সংযুক্ত টাওয়ার, ৩৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ মডুলার কংক্রিট দেয়াল এবং ৫৫৩ কিলোমিটার প্রতিরক্ষামূলক খাল। মন্ত্রণালয় আরো জানায়, ড্রোন ও বিমানসহ নজরদারি ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে সীমান্ত এলাকা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে। একটি তুর্কি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, একই ব্রিফিংয়ে কর্মকর্তারা আইন প্রণেতাদের জানান, চলতি মাসে সরকারের বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী বিক্ষোভে প্রায় চার হাজার ইরানি নিহত এবং ২০ হাজার জন আহত হয়েছে। দ্রুত মূল্যস্ফীতি ও ইরানের মুদ্রার তীব্র অবমূল্যায়নের ফলে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ দ্রুত সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ২৭, ২০২৬ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বর্ডার পেট্রল কমান্ডার গ্রেগরি বোভিনো। ছবি : সংগৃহীত
পিছু হটলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, সরিয়ে নিচ্ছেন গ্রেগরি বোভিনোকে

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিসে অভিবাসনবিরোধী অভিযানের প্রধান এবং বর্ডার পেট্রল কমান্ডার গ্রেগরি বোভিনো মঙ্গলবার শহরটি ত্যাগ করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন তাদের এই অভিযানের নেতৃত্বে বড় ধরনের রদবদল করছে। মূলত ফেডারেল কর্মকর্তাদের হাতে দ্বিতীয়বারের মতো একজন সাধারণ নাগরিক নিহত হওয়ার পর সেখানে বাহিনীর উপস্থিতি কমিয়ে আনা হচ্ছে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ৫৫ বছর বয়সী বোভিনো মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) তার সঙ্গে থাকা একদল এজেন্ট নিয়ে মিনেসোটা ছাড়ছেন। ডেমোক্র্যাট নেতা ও মানবাধিকারকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরেই বোভিনোর সমালোচনা করছিলেন। অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে, বোভিনোর জন্য বিশেষভাবে তৈরি কমান্ডার অ্যাট লার্জ পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি এখন ক্যালিফোর্নিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে তার আগের পুরোনো চাকরিতে (প্রধান পেট্রল এজেন্ট) ফিরে যাবেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল সোমবার ঘোষণা দিয়েছিলেন, তিনি তার বর্ডার জার টম হোম্যানকে মিনেসোটায় পাঠাচ্ছেন। সেখানে অপারেশন মেট্রো সার্জ নামের চলমান অভিযানের তদারক করবেন হোম্যান। তিনিই সরাসরি প্রেসিডেন্টের কাছে রিপোর্ট করবেন। তবে ৩৭ বছর বয়সী আইসিইউ নার্স অ্যালেক্স প্রেটিকে গুলি করে হত্যার পর হোয়াইট হাউস তাদের কৌশলে এই পরিবর্তন আনল। ট্রাম্প সোমবার মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালৎস এবং মেয়র জ্যাকব ফ্রের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। এর আগে ট্রাম্প এই দুই ডেমোক্র্যাট নেতাকেই রাজ্যে বিশৃঙ্খলার জন্য দায়ী করেছিলেন। তবে এখন তিনি কিছুটা নরম সুরে কথা বলছেন। বোভিনোর পদাবনতির খবরটি প্রথম জানায় দ্য আটলান্টিক। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বোভিনো হয়তো শিগগিরই অবসরে যাবেন। তবে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এই খবর নাকচ করে বলেছে, বোভিনোকে তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়নি। তারা তাকে একজন দেশপ্রেমিক হিসেবে প্রশংসা করেছে। বোভিনোর রাজ্য ছেড়ে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লেও বিক্ষোভকারীরা শান্ত হননি। তিনি যে হোটেলে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, সেটার বাইরে মানুষ জড়ো হয়ে থালাবাসন পিটিয়ে এবং বাঁশি বাজিয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। বোভিনো ট্রাম্পের এই বিতর্কিত অভিযানের একজন উগ্র সমর্থক ছিলেন। তিনি সিনেমার মতো করে এই অভিযানের প্রচারমূলক ভিডিও তৈরি করতেন। তাকে প্রায়ই মাস্ক ছাড়া দাপুটে ভঙ্গিতে দেখা যেত, যেখানে তার চারপাশের অন্য সব এজেন্টের মুখ ঢাকা থাকত। তার পোশাক-আশাক এবং আচরণের জন্য অনেকে তাকে নাৎসি বাহিনীর সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। বোভিনো সব সময় এজেন্টদের পক্ষ নিয়েছেন, যদিও ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে তার দাবি মিথ্যা। গত সপ্তাহান্তে নিহত প্রেটির বিষয়ে তিনি বলেছিলেন, প্রেটি বড় ধরনের কোনো হামলা করতে চেয়েছিলেন। তবে ভিডিওতে দেখা যায়, প্রেটির হাতে কোনো অস্ত্র ছিল না, বরং ছিল একটি মুঠোফোন। এমনকি গত বছরও আদালতকে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার কারণে একজন ফেডারেল বিচারক বোভিনোকে কড়া ভাষায় তিরস্কার করেছিলেন।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ২৭, ২০২৬ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ডেমোক্র্যাট সদস্য ইলহান ওমর। ছবি : সংগৃহীত
ডেমোক্র্যাটের মুসলিম নারী সদস্যের সম্পদ নিয়ে তদন্তের ঘোষণা ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট দলীয় মুসলিম নারী সদস্য ইলহান ওমরের সম্পদের বিষয়ে তদন্ত শুরু করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেশটির মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিস শহরে গুলিতে বিক্ষোভকারী অ্যালেক্স প্রেট্টির প্রাণহানির ঘটনায় মার্কিন প্রশাসন যখন তীব্র সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছে, তখন ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরুর ওই ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সীমান্তবিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা টম হোম্যানকে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে পাঠাচ্ছেন তিনি। দেশটির ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তারা শনিবার সকালের দিকে ৩৭ বছর বয়সী নার্স প্রেট্টিকে গুলি চালিয়ে হত্যা করার পর থেকে সেখানে বিক্ষোভ চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেছেন, ‌‌টম কঠোর, তবে ন্যায়বান। তিনি সরাসরি আমাকে রিপোর্ট করবেন। পৃথকভাবে, মিনেসোটায় সংঘটিত ২০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি কল্যাণ তহবিল জালিয়াতি নিয়ে একটি বড় তদন্ত চলছে; যা রাস্তায় চলমান সহিংস ও সংগঠিত বিক্ষোভের জন্য আংশিকভাবে দায়ী। মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিখেছেন, এছাড়া কংগ্রেসউইম্যান ইলহান ওমরের বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে বিচার বিভাগ এবং কংগ্রেস। তিনি সোমালিয়া থেকে শূন্য হাতে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন, আর এখন নাকি তার সম্পদের পরিমাণ ৪৪ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি। সময়ই সব বলবে। গত কয়েক বছরে ইলহান ওমরের সম্পদের পরিমাণ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে; যার পেছনে তার নতুন স্বামীর সম্পদের ভূমিকা রয়েছে। এর আগেও ট্রাম্প প্রকাশ্যে তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করতে অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডির প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। গত সপ্তাহে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে আর্থিক ও রাজনৈতিক অপরাধের তদন্ত হওয়া উচিত এবং সেই তদন্ত এখনই শুরু করা দরকার। সোমালি বংশোদ্ভূত ইলহান ওমর বর্তমানে ট্রাম্পের অন্যতম নিশানা। তাকে আক্রমণ করতে ট্রাম্প প্রায়ই ইসলামবিদ্বেষী ভাষা ব্যবহার করেন। মুসলিম আমেরিকান এই কংগ্রেস সদস্যের নির্বাচনী এলাকা মিনিয়াপোলিস। তিনি ট্রাম্পের নীতি ও বক্তব্যের কড়া সমালোচক। বিশেষ করে সোমালি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে তার আক্রমণাত্মক মন্তব্যের বিষয়ে অতীতে ব্যাপক সমালোচনা করেছিলেন ইলহান ওমর। গত বছর ইলহান ওমরের তীব্র সমালোচনা করে সোমালি সম্প্রদায়কে আবর্জনা বলে অভিহিত করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ২৬, ২০২৬ 0
ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পতাকা। ছবি : সংগৃহীত
ইরানে হামলায় নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহারের অনুমতি দেবে না আমিরাত

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক হামলায় তাদের ভূখণ্ড, আকাশসীমা বা জলসীমা ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন হামলা নিয়ে উত্তেজনার মধ্যেই সোমবার (২৬ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে এই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। খবর গালফ নিউজের। বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে যে কোনো শত্রুতামূলক সামরিক কার্যক্রমে ইউএই কোনো ধরনের লজিস্টিক সহায়তাও দেবে না। বর্তমান সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা এবং রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষাই সর্বোত্তম পথ বলে উল্লেখ করে দেশটি। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, একটি মার্কিন নৌবহর উপসাগরীয় অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং ইরানের পরিস্থিতির ওপর ওয়াশিংটন ঘনিষ্ঠ নজর রাখছে। যদিও শুরুতে সামরিক হস্তক্ষেপ থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি। উল্লেখ্য, আবুধাবির কাছে আল-ধাফরা বিমানঘাঁটিতে হাজার হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছেন, যা উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা। এদিকে, ইরানে গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে অর্থনৈতিক অসন্তোষ থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দ্রুত সরকারবিরোধী গণআন্দোলনে রূপ নেয়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, সাম্প্রতিক বিক্ষোভে অন্তত ৬ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ২৬, ২০২৬ 0
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

Top week

ছবি : সংগৃহীত
জাতীয়

মেট্রোরেলের পর মনোরেল ঢাকার গণপরিবহনে নতুন ভাবনা

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ২৭, ২০২৬ 0