বিশ্ব

ছবি : সংগৃহীত
নিউইয়র্কে নির্বাচনী ভূমিকম্প: ইসরায়েলপন্থীদের হারিয়ে ফিলিস্তিনপন্থী অধিকারকর্মীদের ঐতিহাসিক জয়

কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভকারীরা দুই বছর ধরে কঠোর নিরাপত্তার নামে দমন–পীড়ন, একাডেমিক নিষেধাজ্ঞা, দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতাদের সমালোচনা এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের মতো অভিযানের শিকার হয়েছেন।   এখন নিউইয়র্কের এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বড় অংশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন এমন এক অধিকারকর্মী, যিনি গাজায় ইসরায়েলের চালানো গণহত্যার বিরুদ্ধে বিক্ষোভের অন্যতম সংগঠক ছিলেন।   গত বছরের নভেম্বরে ডারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ার যখন নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন, তখন খুব কাছের বন্ধুরা ছাড়া কম মানুষই তাঁর নাম জানত।   তবে শুরু থেকেই আভিলা শেভালিয়ার অবস্থান ছিল স্পষ্ট। তিনি অভিবাসনব্যবস্থার কারণে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া পরিবারকে এক করতে কাজ করা একজন সংগঠক হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করেছেন। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনে চলা ‘গণহত্যার’ বিরুদ্ধেও সরব ছিলেন।   গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ডারিয়ালিজা দীর্ঘদিনের কংগ্রেস সদস্য আদ্রিয়ানো এসপাইলাতকে হারিয়ে ডেমোক্রেটিক পার্টির মনোনয়ন নিশ্চিত করেন, যা ছিল এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে বড় চমকগুলোর একটি। নিউইয়র্ক নগরের মেয়র জোহরান মামদানি ডারিয়ালিজাকে সমর্থন দিয়েছিলেন।   রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ের এবং ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট মেয়র জোহরান মামদানির সমর্থনপুষ্ট অন্যান্য প্রার্থীর জয় ডেমোক্রেটিক পার্টির অভ্যন্তরে ইসরায়েলপন্থী রাজনীতির জনপ্রিয়তা কমার ইঙ্গিত দিচ্ছে।   ইহুদিদের অধিকার রক্ষার সংগঠন জিউইশ ভয়েস ফর পিস (জেভিপি) অ্যাকশনের রাজনৈতিক পরিচালক বেথ মিলার বলেছেন, ‘গত রাতের ফলাফল নিউইয়র্ক নগরের রাজনীতিতে বড় ধরনের ভূমিকম্পের মতো, যা ডেমোক্রেটিক পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বকে সতর্ক বার্তা দিয়েছে।’   বেথ মিলার বলেন, ‘আমরা প্রমাণ করেছি, ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার পক্ষে আপসহীন অবস্থান নেওয়াটা শুধু নৈতিকভাবে সঠিক নয়, প্রগতিশীল প্রার্থীদের জেতার মোক্ষম উপায়ও বটে।’   প্রাথমিক নির্বাচনে তিন জয় গত মঙ্গলবার মার্কিন কংগ্রেস নির্বাচনের মনোনয়ন নিশ্চিতের লড়াইয়ে মামদানির সমর্থনপুষ্ট আরও দুজন প্রার্থী জয়লাভ করেছেন।   ইসরায়েলে সামরিক সহায়তা দেওয়ার ঘোর বিরোধী এবং সাবেক সিটি কমপট্রোলার ব্র্যাড ল্যান্ডার কট্টর ইসরায়েলপন্থী বর্তমান প্রতিনিধি ড্যান গোল্ডম্যানকে পরাজিত করেছেন। অন্যদিকে, ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট পার্টির রাজ্য আইনপ্রণেতা ক্লেয়ার ভালদেস একটি শূন্য আসনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন।   বিজয়ী এই দুই প্রার্থীই ডেমোক্রেটিক পার্টির নিরাপদ আসনগুলো থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ফলে আগামী নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে তাঁরা অনায়াসেই জয়ী হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।   স্থানীয় পর্যায়েও ভোটাররা ইসরায়েলের বেশ কয়েকজন সোচ্চার সমালোচককে নির্বাচিত করেছেন। তাঁদেরই একজন আবের কাওয়াস। তিনি নিউইয়র্কের প্রথম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত সিনেটর হওয়ার পথে বেশ ভালোভাবেই এগিয়ে আছেন।   সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কের (সিইউএনআই) সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক হেবা গাওয়ায়েদ বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে কোন বিষয়টি গ্রহণযোগ্য আর কোনটি কাঙ্ক্ষিত, তার একটি সত্যিকারের রূপান্তর আমরা দেখতে পাচ্ছি।’   গাওয়ায়েদ আল–জাজিরাকে বলেন, ডেমোক্রেটিক পার্টির মঙ্গলবারের প্রাথমিক বাছাইয়ের এই ফলাফল—বিশেষ করে প্রভাবশালী ও সুপরিচিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে আভিলা শেভালিয়ারের জয়—সেই সুবিধাবাদী ও প্রতিষ্ঠিত রাজনীতির জন্য বড় এক পরাজয়, যাঁরা ইসরায়েলের সমালোচনাকে শুরুতেই নস্যাৎ করে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।   গাওয়ায়েদ আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকেরা ভোটকেন্দ্রে গিয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আমরা এই আজেবাজে জিনিস আর দেখতে চাই না।’   এই অধ্যাপক জোর দিয়ে বলেন, মামদানির মতোই নিউইয়র্কে যেসব প্রগতিশীল প্রার্থী জয়ী হয়েছেন, তাঁরা ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে কথা বলার কারণেই জিতেছেন।   ‘ইউএস ক্যাম্পেইন ফর প্যালেস্টাইন রাইটস অ্যাকশন’–এর রাজনৈতিক পরিচালক ইমান আবিদও আভিলা শেভালিয়ার এবং ভালদেসের এই জয়কে স্বাগত জানিয়েছেন।   এক বিবৃতিতে আবিদ বলেন, ‘আজ (মঙ্গলবার) রাতে নিউইয়র্কে ফিলিস্তিনবিরোধী রাজনৈতিক বলয় আমাদের চোখের সামনে ভেঙে পড়ছে। ন্যায়বিচার, শ্রমিকদের অধিকার, সাশ্রয়ী ভাড়া, অভিবাসীদের অধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনের জন্য লড়াই করা সাহসী প্রগতিশীলেরা তাঁদের প্রাথমিক নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন।’   নিউইয়র্কের বাইরে বিভিন্ন জনমত জরিপ থেকে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে—বিশেষ করে ডেমোক্র্যাট সমর্থকদের মধ্যে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন দ্রুত কমছে।   ফলে ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষা আন্দোলনের কর্মীরা আত্মবিশ্বাসী, নিউইয়র্কের এই ফলাফল যুক্তরাষ্ট্রজুড়েই ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনের আরও বড় বিজয়ে ভূমিকা রাখবে। তাঁরা এই নির্বাচনী মৌসুমে ফিলিস্তিনপন্থী অন্য প্রার্থীদের সাফল্যের কথা উল্লেখ করেন, যাঁদের মধ্যে পেনসিলভানিয়ার ক্রিস রাব এবং নিউজার্সির অ্যাডাম হামাওয়ি অন্যতম।   গত মঙ্গলবার আভিলা শেভালিয়ার এবং ভালদেসের এই জয়কে অভিনন্দন জানিয়েছেন ক্রিস রাব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) তিনি লিখেছেন, ‘আভিলা শেভালিয়ার খুব ভালো করেই জানেন, আমাদের বোমার পেছনে নয়, শিশুদের পেছনে বিনিয়োগ করা দরকার। অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ সংস্থার চেয়ে অভিবাসীদের এবং রিয়েল এস্টেট ডেভেলপারদের চেয়ে ভাড়াটেদের গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।’   ক্রিস রাব আরও লিখেছেন, ‘কংগ্রেসে একসঙ্গে কাজ করে আমরা ওয়াশিংটনের প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক শক্তিকে মোকাবিলা করব এবং দেশের শ্রমজীবী মানুষের অধিকার নিশ্চিত করব।’ আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি যা আইপ্যাক নামে পরিচিত এবং অন্যান্য ইসরায়েলপন্থী গোষ্ঠী এসব প্রগতিশীল প্রার্থীকে পরাজিত করতে কোটি কোটি ডলার খরচ করে আসছে।   তবে জেভিপি অ্যাকশনের রাজনৈতিক পরিচালক বেথ মিলার বলেন, আইপ্যাকের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো, ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার দাবিকে সমর্থন করা এবং ইসরায়েলের বর্ণবাদ, গণহত্যা ও যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদারত্বের সম্পূর্ণ অবসান ঘটানোর ডাক দেওয়াই ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাথমিক নির্বাচনে জয়ের মূল চাবিকাঠি হিসেবে প্রমাণিত হচ্ছে।   বেথ মিলার বলছেন, ২০২৭ সালের শুরুতে যখন ফিলিস্তিনপন্থী বিজয়ী প্রার্থীরা পরবর্তী কংগ্রেসে যোগ দেবেন, তখন তাঁরা ইসরায়েলের প্রতি নিঃশর্ত সমর্থনের ব্যাপারে ক্যাপিটল হিলে উভয় দলের মধ্যকার গড়ে ওঠা ফাটলটিকে আরও বড় করে তুলবেন।

মারিয়া রহমান জুন ২৬, ২০২৬
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
‘ইরানের পক্ষে রাশিয়া, চীন ও তুরস্কের যুদ্ধ ঠেকাতে পেরেছি’: ট্রাম্পের দাবি

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ বাহিনীর বিরুদ্ধে ইরানের হয়ে রাশিয়া, চীন ও তুরস্কের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকলেও আমি তা থামিয়েছি বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।   তিনি পরাশক্তি রাশিয়া, চীন ও তুরস্কের নিরপেক্ষ থাকার সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বলেও জানান। এই শক্তিশালী তিন দেশের যুদ্ধ থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকার বিষয়টিকে তিনি অবিশ্বাস্য ও চমকপ্রদ এক কূটনৈতিক ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।   যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সময় বিশ্বের প্রভাবশালী তিন রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে নিজের ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও সফল কূটনীতির কথা জনসমক্ষে তুলে ধরেন।    তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বলেন যে ইরান সংকটের সময় এই শক্তিশালী তিন দেশের নিরপেক্ষ অবস্থান মূলত বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষা করেছে। এই দেশগুলোর অসামরিক ও দূরদর্শী মনোভাবের কারণে তিনি তাদের নেতৃত্বের প্রতি বিশেষ মূল্যায়ন জ্ঞাপন করেন।   প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রথমে তুরস্কের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, ‘তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এই যুদ্ধ থেকে নিজেকে পুরোপুরি দূরে রেখেছিলেন। তিনি এই যুদ্ধে ইরানের পক্ষে সরাসরি অংশ নেওয়ার জন্য সবচেয়ে বড় বা প্রধান দাবিদার ছিলেন, কারণ আপনারা সবাই জানেন যে তিনি ইসরায়েলকে খুব একটা পছন্দ করেন না। আমি তাকে এই সংঘাত থেকে দূরে থাকার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করেছিলাম এবং তিনি আমার সেই অনুরোধ রেখেছেন।’ তিনি এরদোয়ানকে একজন অত্যন্ত শক্তিশালী ও চমৎকার সামরিক দূরদর্শিতাসম্পন্ন বিশ্ব নেতা হিসেবেও অভিহিত করেন।     এর পাশাপাশি চীন ও রাশিয়ার রাষ্ট্রপ্রধানদের প্রতিও নিজের সন্তোষ প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। চিনের প্রসঙ্গে ট্রাম্প সরাসরি বলেন যে, ‘আপনারা কি জানেন এই সময়ে আর কে সবচেয়ে দুর্দান্ত ভূমিকা পালন করেছেন, তিনি হলেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তিনি চাইলে খুব সহজেই এই যুদ্ধে অংশ নিতে পারতেন কারণ তার দেশের ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের প্রায় অর্ধেক অংশই আসে মধ্যপ্রাচ্যের ওই অঞ্চল থেকে। আমি তার অর্থনৈতিক স্বার্থের কথা চিন্তা করে তাকে এই যুদ্ধ থেকে দূরে থাকার জন্য বিনীত অনুরোধ জানিয়েছিলাম এবং তিনিও সেই অনুরোধ রক্ষা করেছেন।’     রুশ ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও এই বড় সংঘাত থেকে নিজের সামরিক বাহিনীকে পুরোপুরি সরিয়ে রেখেছিলেন বলে জানান ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি মস্কোর রাজনৈতিক অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, ‘আসলে পুতিনও এই যুদ্ধ থেকে দূরে ছিলেন। তবে যদি আপনারা বাস্তবিকভাবে পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেন, তাহলে বলতেই হবে যে ভ্লাদিমির পুতিনের এই মুহূর্তে মনোযোগ দেওয়ার মতো আরও কিছু নিজস্ব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বা অন্য কাজ রয়েছে। তবে মূল কথা হলো তারা সবাই এই যুদ্ধ থেকে পুরোপুরি বাইরে ছিলেন যা সত্যিই বেশ দারুণ এবং একটি বেশ আশ্চর্যজনক বিষয়।’   সূত্র: তাস

মারিয়া রহমান জুন ২৬, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
বিশ্বের প্রথম ইনডোর মাছ ধরার পুকুর হচ্ছে মস্কোর শপিং সেন্টারে

ঐতিহ্যগতভাবে মাছ ধরাকে আউটডোর বা উন্মুক্ত জায়গার কর্মকাণ্ড হিসেবে গণ্য করা হলেও, এবার সেই অভিজ্ঞতাকে চার দেয়ালের ভেতরে নিয়ে আসছে রাশিয়ার একটি শপিং সেন্টার।    মস্কোর ‘গাগারিনস্কি শপিং সেন্টার’ বিশ্বের প্রথম ইনডোর বা অভ্যন্তরীণ মাছ ধরার পুকুর চালুর ঘোষণা দিয়েছে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ দর্শনার্থীদের জন্য সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী এই বিনোদন কেন্দ্রটি উন্মুক্ত করা হতে পারে।    কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী, শপিং সেন্টারের ভেতরে ১০ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ৩ মিটার প্রস্থের একটি কৃত্রিম পুকুর তৈরি করা হবে। পুকুরটিতে কার্প, ক্রুশিয়ান কার্প, টেঞ্চ, ব্রিম, পার্চ এবং ক্যাটফিশসহ বেশ কয়েক প্রজাতির মাছ ছাড়া হবে। যেখানে একসঙ্গে সর্বোচ্চ ১৬ জন মানুষ মাছ ধরার সুযোগ পাবেন।    মাছ ধরার জন্য প্রয়োজনীয় ছিপ এবং টোপ শপিং সেন্টার থেকেই সরবরাহ করা হবে। এছাড়া, পুকুরের পানির নিচে বিশেষ ক্যামেরা বসানো থাকবে, যার মাধ্যমে সরাসরি বড় পর্দায় মাছের আনাগোনা দেখতে পাবেন দর্শনার্থীরা।    উদ্যোক্তাদের দাবি, এই ইনডোর পুকুরটি শপিং সেন্টারের ভেতরে একটি ‘প্রাকৃতিক দ্বীপ’ হিসেবে কাজ করবে। কেনাকাটার কোলাহলের মাঝেও এখানে এক শান্ত, মনোরম ও প্রাকৃতিক পরিবেশ তৈরি করতে কৃত্রিমভাবে পাখির ডাক এবং ব্যাঙের ডাকের আবহ তৈরি করা হবে।    তবে এই প্রকল্প কতটুকু সফল হবে, তা নিয়ে কিছুটা সংশয় রয়েছে। এটি কি আসলেই পেশাদার মাছ শিকারীদের আকৃষ্ট করতে পারবে, নাকি কেনাকাটা করতে আসা স্ত্রীদের জন্য অপেক্ষারত স্বামীদের সময় কাটানোর মাধ্যম হবে—তা নিয়ে আলোচনা চলছে।    ইনডোর পুকুরটির উদ্বোধনের সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ এবং এখানে অংশ নেওয়ার খরচ কেমন তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তবে কিছু সূত্রের ধারণা, এই সুবিধাটি দর্শনার্থীদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে হতে পারে। কারণ, এখান থেকে শিকার করা কোনো মাছ বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না। ধরার পর সব মাছ আবার পুকুরেই ছেড়ে দিতে হবে (ক্যাচ অ্যান্ড রিলিজ)।    তবে মাছ শিকারের সফলতার ওপর ভিত্তি করে দর্শনার্থীরা নির্দিষ্ট পয়েন্ট পাবেন, যা দিয়ে শপিং সেন্টারের বিভিন্ন দোকান থেকে আকর্ষণীয় উপহার বা ছাড়ের সুবিধা নেওয়া যাবে। 

মারিয়া রহমান জুন ২৬, ২০২৬
এয়ার ইন্ডিয়ার একটি উড়োজাহাজ। ফাইল ছবি: রয়টার্স
পাকিস্তানের আকাশসীমায় ভারতের উড়োজাহাজ, এয়ার ইন্ডিয়ার পাইলট বরখাস্ত

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি থেকে অমৃতসরগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি উড়োজাহাজ সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য পাকিস্তানের আকাশসীমায় ঢুকে পড়েছিল। এ ঘটনায় পাইলটকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।   ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ জানিয়েছে, গত সোমবার (২২ জুন) রাতে এয়ারবাস এ৩২১ উড়োজাহাজটি দিল্লি থেকে অমৃতসরের দিকে যাচ্ছিল। রাত ১০টা ৮ মিনিটের দিকে অমৃতসরে অবতরণের প্রস্তুতিকালে রানওয়ে পরিদর্শনের কারণে উড়োজাহাজটিকে আকাশে অপেক্ষা করতে বলা হয়।   এর আগে একই দিন বিকেল ৪টা ২৯ মিনিটে অমৃতসরে অবতরণের পর ইন্ডিগোর ৬ই ৫০২৮ ফ্লাইটে পাখির আঘাত (বার্ড হিট) লাগার ঘটনা ঘটে। এ কারণে অমৃতসরে আসা পরবর্তী পাঁচটি ফ্লাইটকে অপেক্ষা করতে বলা হয়। এয়ার ইন্ডিয়ার দিল্লি–অমৃতসর ফ্লাইটটি অবতরণের অপেক্ষায় থাকা উড়োজাহাজগুলোর মধ্যে চতুর্থ ছিল।   ডিজিসিএর ভাষ্য অনুযায়ী, রাডারের নির্দেশনায় অবতরণের প্রক্রিয়া শুরু করার পর উড়োজাহাজটি অল্প সময়ের জন্য পাকিস্তানের আকাশসীমায় ঢুকে পড়ে। বিষয়টি পাকিস্তানের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে সামাল দেওয়া হয়।   পরে উড়োজাহাজটি দিল্লিতে ফিরে যায় এবং নিরাপদে অবতরণ করে।   ঘটনার বিষয়ে এয়ার ইন্ডিয়া এক বিবৃতিতে বলেছে, অমৃতসর বিমানবন্দরে ‘গো-অ্যারাউন্ড’ কৌশল প্রয়োগের সময় ফ্লাইট এআই৪৭৯ সামান্য পরিমাণে পাকিস্তানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছিল। বিষয়টি নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং এ নিয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্ত চলছে।   হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উড়োজাহাজটি প্রায় তিন মাইল পাকিস্তানের আকাশসীমার ভেতরে প্রবেশ করেছিল।   ডিজিসিএ আরও জানিয়েছে, ঘটনাটি রিপোর্ট না করায় ফ্লাইটের ক্রুসহ অমৃতসরের এক এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।   বিমানবন্দর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ ঘটনার সময় অমৃতসর বিমানবন্দরে অবতরণরত বিমানগুলোকে রাডারের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনা দেওয়ার সেবা (অ্যাপ্রোচ সার্ভেইল্যান্স) চালু ছিল না।   পরে উড়োজাহাজটি আবার অবতরণের চেষ্টা করলেও তা সম্ভব হয়নি। জ্বালানি কমে আসার কথা জানিয়ে ক্রুরা উড়োজাহাজটিকে দিল্লিতে ফিরিয়ে নিয়ে যান।   এর কিছু সময় পর উড়োজাহাজটি আবার অমৃতসরের উদ্দেশে পাঠানো হয় এবং শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছায়।

মারিয়া রহমান জুন ২৬, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
অ্যান্টার্কটিকার বরফের নিচে মিলল ৩ কোটি ৪০ লাখ বছর প্রাচীন নদী অববাহিকা

কুমেরুর বরফ গলা নিয়ে নানা আলোচনা শোনা গেলেও এখনও সে এক অনন্ত বরফের রাজ্য। সেই অতি পুরু বরফের তলায় এবার খোঁজ পাওয়া গেল ৩ কোটি ৪০ লক্ষ বছর পুরনো নদীর।   কুমেরু হোক বা সুমেরু। পৃথিবীর এই ২ মেরু অঞ্চলের বরফের সাম্রাজ্যের তলায় যে কি লুকিয়ে আছে তা এখনও বিজ্ঞানীদের কাছেও পরিস্কার নয়। কারণ তা এখনও অজানা। তবে নানা গবেষণার মধ্যে দিয়ে কিছু কিছু ক্ষেত্রে বরফের তলার সেই অচেনা অজানা রাজ্যের খবর পাওয়া যায়। এভাবেই কুমেরুর পুরু বরফের তলায় খোঁজ পাওয়া গেছে একটি নদীর। সে নদীর বয়স জানলে হতবাক হয়ে যেতে পারেন অনেকে।   বরফের পুরু চাদরের ২ কিলোমিটার গভীরে এই নদীর খোঁজ পাওয়া গেছে। যা চোখে দেখার সুযোগ না হলেও কানাডার একটি কৃত্রিম উপগ্রহের সাহায্য নিয়ে বিজ্ঞানীরা এই নদীর খবর পেয়েছেন কুমেরুর পূর্ব দিকে। যেখানে বরফের ২ কিলোমিটার তলায় নদী অববাহিকার চিহ্ন স্পষ্ট বিজ্ঞানীদের কাছে।   সেখানে নদী না থাকারও কিছু নেই। কারণ কুমেরুকে এখন যেমন বরফের প্রান্তর বলে দেখতে পাওয়া যায় ২ কোটি বছর আগেও তা ছিলনা। সেখানে তখন জঙ্গল ছিল। নদী বয়ে যেত। এমনকি কিছু প্রাণিও ঘুরে বেড়াত।

মারিয়া রহমান জুন ২৬, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে আজাদ কাশ্মিরে নিত্যপণ্যের প্রবেশ বন্ধ করে দিয়েছে পাকিস্তান সরকার

বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ করতে পাকিস্তান অধিকৃত আজাদ কাশ্মিরে খাবার,জ্বালানি ও ‍ওষুধের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের প্রবেশ বন্ধ করে দিয়েছে দেশটির সরকার। এএফপি, বিবিসি উর্দু, এবং পাকিস্তানি দৈনিক ডনের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে এএফপি।   আজাদ কাশ্মিরের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, স্থানীয় বাজার, মুদি কিংবা ওষুধের দোকান এবং পেট্রোল স্টেশনগুলোতে পণ্য পাওয়া যাচ্ছে না। এক প্রতিবেদনে দৈনিক ডন জানিয়েছে, রাজধানী মুজাফরাবাদের বাসিন্দারা খাবার, ওষুধ ও জ্বালানি কিনতে পার্শ্ববর্তী খাইবার পাখতুনখোয়ায় যাচ্ছেন; আর পুঞ্চ, রাওয়ালাকোট, বাঘ এবং নীলম উপত্যকার বাসিন্দারা এসব পণ্য কিনে আনছেন রাওয়ালপিন্ডি এবং ইসলামাবাদ থেকে।   ব্যাপকভাবে সীমিত করা হয়েছে সাংবাদিকদের প্রবেশ এবং ইন্টারনেটও। আজাদ কাশ্মিরের বেশিরভাগ এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগ মিলছে না। যেসব জায়গায় মিলছে, সেখানেও গতি খুব ধীর।   উল্লেখ্য, ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে স্বাধীনতালাভের পর জম্মু-কাশ্মিরের দু’টি অঞ্চল দখল করে পাকিস্তান— আজাদ কাশ্মির এবং গিলগিট-বাল্টিস্তান। বর্তমানে উভয়েই পাকিস্তানের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং দু’টিতেই প্রাদেশিক আইনসভা বা বিধানসভা রয়েছে। আজাদ কাশ্মিরের বিধানসভায় আসনসংখ্যা ৪৫টি। সেই ৪২টি আসনের মধ্যে আবার ১২টি আসন ভারতের জম্মু-কাশ্মির থেকে আসা উদ্বাস্তুদের জন্য সংরক্ষিত।   বিধানসভায় সংরক্ষণ ব্যবস্থা তুলে দেওয়া এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির দাবিতে গত ৫ জুন থেকে আন্দোলন শুরু করে আজাদ কাশ্মিরভিত্তিক রাজনৈতিক দল জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (জেএএকে)। আন্দোলনের অংশ হিসেবে ৯ জুন হরতালও ডাকে জেএএকে। মূলত সেই হরতাল থেকেই পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘাত শুরু হয় জেএএকে’র।   গত ২০ জুন এএফপির বরাতে জানা গিয়েছিল, আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে গত প্রায় দু’সপ্তাহে নিহত হয়েছেন ২৪ জন, আহত হয়েছেন আরও বহুসংখ্যক। সেইসঙ্গে বিক্ষোভে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে এ পর্যন্ত জেএএকের ৫১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সরকার সংবাদমাধ্যম এবং ইন্টারনেট সংযোগ সীমিত করায় তারপর থেকে এ সংক্রান্ত হালনাগাদ কোনো তথ্য এখনও আসেনি।   তবে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন সরকারের নির্বিচার গ্রেপ্তারের কারণে বর্তমানে বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়লেও পরিস্থিতি এখনও থমথমে। নীলম জেলার বাসিন্দা আলিফ দীন বিবিসি উর্দুকে বলেছেন, “স্থানীয় রেশনের দোকানে আমার টাকা জমা দেওয়া আছে। আমি গত ১৫ দিন ধরে দোকানে যাচ্ছি, কিন্তু আটা পাচ্ছি না। খোলাবাজারে যে আটা পাওয়া যাচ্ছে, তার দাম অস্বাভাবিক বেশি।”   অনেকে খাইবার পাখতুনখোয়া বা রাওয়ালপিন্ডি থেকে পণ্য কিনে আনছেন, কিন্তু সেখানেও সমস্যা দেখা দিয়েছে। পুঞ্চ জেলার বাসিন্দা নাভিদ নামের এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, তিনি রাওয়ালপিন্ডি থেকে বাসার জন্য প্রয়োজনীয় আটা, ডাল, চিনি, লবণ ও প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী কিনে ফিরছিলেন, কিন্তু আজাদ কাশ্মিরে প্রবেশের পর নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা সেসব খাদ্যসামগ্রী জব্দ করে নিয়ে গেছে।   “আমি পুলিশের কাছে হাতজোড় করে অনুরোধ করেছি, ভিক্ষে চেয়েছি যেন খাবারগুলো তারা ফিরিয়ে দেয়। আমি তাদের এও বলেছি যে আমার স্ত্রী সন্তানসম্ভাবা। তবু তারা খাবারগুলো ফেরত দেয়নি।”   সামাজিক যোগাযোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করা বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, আজাদ কাশ্মিরের প্রবেশপথগুলোতে দাঁড়িয়ে আছে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যবাহী ট্রাকের সারি, কিন্তু সেসবকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।   এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল ডন। কেন্দ্রীয় প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ডনকে জানিয়েছেন, তারা রক্তপাতহীনভাবে জেএএকের বিক্ষোভ দমন করতে চান। এ কারণে ইচ্ছাকৃতভাবেই এই কৌশর নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। কারণ, যদি খাদ্য ও জরুরি পণ্যের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে, তাহলে এমনিতেই বিক্ষোভের তেজ স্তিমিত হয়ে যাবে।   এদিকে জেএএকে নেতারা জানিয়েছেন, তারা বিক্ষোভ থেকে পিছু হটবেন না; বরং দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলন কর্মসূচি হিসেবে ১ লাখ মানুষ নিয়ে বিক্ষোভের মূল কেন্দ্র রাওয়ালকোট থেকে রাজধানী মুজাফফরাবাদ লংমার্চের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেএএএক। সেই কর্মসূচির প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।   সূত্র : ইন্ডিয়া টুডে

মারিয়া রহমান জুন ২৬, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নিরাপত্তা ও হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে স্পষ্ট নিশ্চয়তা চায় জিসিসি

উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) দেশগুলো তাদের নিরাপত্তা, আঞ্চলিক রাজনৈতিক প্রভাব এবং হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ও অবাধ বাণিজ্যিক চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে স্পষ্ট নিশ্চয়তা চাইছে।   জিসিসিভুক্ত দেশগুলো মনে করছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের মিত্রতার ভিত্তিতে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা বজায় থাকা জরুরি। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে যেকোনও আলোচনার ক্ষেত্রেও তারা নিজেদের স্বার্থ ও নিরাপত্তা সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করতে চায়।   মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের নির্দিষ্ট কিছু উদ্বেগের কথা যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছে। তারা আঞ্চলিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় অবহিত থাকতে এবং সম্পৃক্ত থাকতে চায়।   রুবিও বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র এমন কোনও সিদ্ধান্ত নেবে না বা এমন কোনও প্রতিশ্রুতি দেবে না, যা উপসাগরীয় অংশীদারদের স্বার্থ, দীর্ঘমেয়াদি সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার সঙ্গে আপস করে।”   জিসিসি দেশগুলোর আরেকটি বড় দাবি হলো, ইরানের পাল্টা হামলার কারণে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা পুনর্গঠনের জন্য অর্থায়ন। তাদের বক্তব্য, এই ক্ষয়ক্ষতি এমন এক যুদ্ধের সময় হয়েছে, যে যুদ্ধ তারা চায়নি এবং শুরু থেকেই বন্ধ করার চেষ্টা করেছে; কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা সেই সংঘাতের মাঝখানে পড়ে গেছে।   বৈঠকে হরমুজ প্রণালীর বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। জিসিসি দেশগুলো জানিয়েছে, উপসাগরীয় জলসীমা ব্যবহারের জন্য কোনও ধরনের ফি বা চার্জ আরোপের পক্ষে তারা নয়।   রুবিও বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর অবস্থান খুব স্পষ্ট- হরমুজ প্রণালীর ব্যবহারের জন্য কোনও ধরনের মূল্য আদায়ের বিষয়ে তাদের কোনও সমর্থন নেই। তার মতে, সংঘাতের আগে এই জলপথ যে অবস্থায় ছিল, সেই স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ফিরে যাওয়া প্রয়োজন।   তিনি বলেন, “আমাদের মনে করিয়ে দিতে হবে যে সংঘাতের আগে হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে চলাচল স্বাভাবিক ছিল। এটি একটি আন্তর্জাতিক জলপথ।”   হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এ অঞ্চলের নিরাপত্তা ও নৌ চলাচলের স্থিতিশীলতা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।   জিসিসির উদ্বেগ মূলত আঞ্চলিক নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহের ধারাবাহিকতা এবং ইরান-সম্পর্কিত যেকোনও ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সমঝোতায় নিজেদের ভূমিকা নিশ্চিত করা নিয়ে।  সূত্র: আল-জাজিরা

মারিয়া রহমান জুন ২৫, ২০২৬
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। ছবি : সংগৃহীত
এরদোয়ানের প্রশংসায় ট্রাম্প: ‘আমার অনুরোধে যুদ্ধে জড়াননি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ইরানের পক্ষে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারতেন, কিন্তু তার অনুরোধে তিনি সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। আর এরজন্য এরদোয়ানের প্রশংসা করে তাকে মহান নেতা বলেছেন ট্রাম্প। দিয়েছেন উপহারের প্রতিশ্রুতি।   বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য জেরুজালেম পোস্ট।   হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, এরদোয়ান ইরানের পক্ষে যুদ্ধে নামার অন্যতম সম্ভাব্য প্রার্থী ছিলেন। কারণ তিনি ইসরায়েলের বড় ভক্ত নন। আমি তাকে বাইরে থাকতে বলেছিলাম। তাই তিনি যুদ্ধের বাইরে ছিলেন।   এরদোয়ানের প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেন, তিনি একজন মহান নেতা, অত্যন্ত শক্তিশালী ব্যক্তি। আমি তার কাছে যা চেয়েছি, তিনি সবই করেছেন।   আগামী ন্যাটো সম্মেলনকে সামনে রেখে তুরস্কের জন্য বড় ধরনের অস্ত্র বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, সম্ভবত আমি এমন কিছু করব, যা তাকে খুবই খুশি করবে।   তবে তুরস্ক কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ইঙ্গিত দেয়নি যে তারা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাতে সরাসরি অংশ নিতে যাচ্ছে। বরং যুদ্ধ চলাকালে ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়া দেশগুলোর মধ্যেও তুরস্ক ছিল।   সাম্প্রতিক সময়ে তুরস্ক ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চলতি মাসে জেরুজালেমকে মুক্ত করার আহ্বান জানান। এছাড়া এরদোয়ান অভিযোগ করেন, ইসরায়েলের আগ্রাসন পুরো বিশ্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং লেবানন ও সিরিয়ায় ইসরায়েলি হামলা তুরস্কের নিরাপত্তার জন্যও ঝুঁকি তৈরি করছে।   একসময় মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্ক গত এক দশকে ক্রমেই অবনতি হয়েছে। বিশেষ করে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর শুরু হওয়া গাজা যুদ্ধের পর দুই দেশের সম্পর্ক তলানিতে পৌঁছায়।   এদিকে তুরস্ককে অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির সম্ভাবনা নিয়ে হোয়াইট হাউসে আলোচনা হয়েছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আইনি শর্ত পূরণ হলে বিষয়টি এগোতে পারে।   উল্লেখ্য, রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার কারণে ২০১৯ সালে তুরস্ককে এফ-৩৫ কর্মসূচি থেকে বাদ দেয় যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন আইন অনুযায়ী, এস-৪০০ ব্যবস্থা বজায় রেখে তুরস্ক এফ-৩৫ প্রকল্পে ফিরতে পারবে না।   তবে তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাক বলেছেন, ট্রাম্প ও এরদোয়ানের ব্যক্তিগত সুসম্পর্কের কারণে এফ-৩৫ ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।

মারিয়া রহমান জুন ২৫, ২০২৬
প্রতীকী ছবি
জব্দকৃত সম্পদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মানবে না ইরান

জব্দকৃত ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করার পর তার একটি বড় অংশ মার্কিন কৃষিপণ্য কেনার জন্য ব্যয় করা হবে, যুক্তরাষ্ট্রের এমন শর্ত প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা।   তিনি লেখেন, যুক্তরাষ্ট্র শুধু ভঙ্গ করা প্রতিশ্রুতি এবং ফাঁকা কথাবার্তাই রপ্তানি করে। তারা মিথ্যা দাবি করছে যে, আমাদের অবমুক্ত সম্পদ দিয়ে তাদের কৃষিপণ্য কেনা হবে। সত্যিই হাস্যকর ব্যাপার।   যুক্তরাষ্ট্রের এমন শর্তের সমালোচনা করে গালিবাফ আরও বলেন, আমরা এখন কেবল সেই ফসলই কাটছি, যা আপনারা রোপণ করেছেন। আর তা হলো, দশকের পর দশক ধরে জমে থাকা অবিশ্বাস। এটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক, প্রচুর পরিমাণে উৎপাদিত এবং আমাদের নিজেদের মাটিতে জন্মানো। কিন্তু মনে হয়, যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানিযোগ্য পণ্যের তালিকায় রয়েছে শুধু জিএমও সয়াবিন, ভঙ্গ প্রতিশ্রুতি এবং অর্থহীন বক্তব্য।   এর আগে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেছিলেন, ইরানের অবমুক্ত সম্পদের একটি বড় অংশ মার্কিন খাদ্যপণ্য ও ওষুধ কেনার জন্য ব্যবহার করা হবে।   তবে তেহরান বরাবরই বলে আসছে, অবমুক্ত হওয়া সম্পদ কীভাবে ব্যয় করা হবে, সে সিদ্ধান্ত ইরান নিজেই নেবে এবং এ বিষয়ে অন্য কোনো দেশের শর্ত গ্রহণ করবে না।   উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার অংশ হিসেবে ইরানের কিছু আর্থিক সম্পদ অবমুক্ত করার সম্ভাবনা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। তবে অর্থ ব্যবহারের শর্ত নিয়ে উভয় পক্ষের অবস্থানে এখনও স্পষ্ট মতপার্থক্য দেখা যাচ্ছে। সূত্র : এএফপি

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ২৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ভূমিকম্পের আগেই সতর্কবার্তা, ভেনেজুয়েলায় হাজারো প্রাণ বাঁচাল গুগল

ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে আঘাত হানা ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৬৪ জন নিহত এবং ৯৭১ জন আহত হওয়ার পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে গুগলের ভূমিকম্প সতর্কতা ব্যবস্থা।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বেশ কয়েকজন ব্যবহারকারী দাবি করেছেন, ভূমিকম্প আঘাত হানার কয়েক সেকেন্ড বা মিনিট আগে তারা গুগলের জরুরি সতর্কবার্তা পেয়েছিলেন, যা অনেক মানুষের জীবন বাঁচাতে সাহায্য করেছে।   একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, গুগলের ভূমিকম্প সতর্কতা আজ ভেনেজুয়েলায় অনেক মানুষের জীবন বাঁচিয়েছে। ভূমিকম্পের কয়েক সেকেন্ড আগে আমার স্মার্টফোনে তীব্র অ্যালার্ম বেজে ওঠে। এর ফলে আমি দ্রুত বাগানে বের হয়ে যেতে পেরেছি।   আরেকটি পোস্টে বলা হয়, গুগল খুবই বুদ্ধিমান একটি ব্যবস্থা তৈরি করেছে। তারা হাজার হাজার অ্যান্ড্রয়েড ফোনের অ্যাক্সিলোমিটারকে বৈশ্বিক ভূমিকম্প শনাক্তকারী নেটওয়ার্ক হিসেবে ব্যবহার করছে। সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে সময়মতো সতর্কবার্তা পাঠানো সম্ভব হয়েছে।   গুগলের অ্যান্ড্রয়েড আর্থকোয়েক অ্যালার্টস সিস্টেম বিশ্বের কোটি কোটি অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনকে একটি বিশাল ভূমিকম্প শনাক্তকারী নেটওয়ার্কে পরিণত করেছে।   অ্যান্ড্রয়েড ফোনে থাকা অ্যাক্সিলোমিটার সেন্সর ভূমিকম্পের প্রাথমিক কম্পন বা সিসমিক তরঙ্গ শনাক্ত করতে পারে। কোনো এলাকায় একাধিক ফোন একই ধরনের কম্পন শনাক্ত করলে সেই তথ্য গুগলের সার্ভারে পাঠানো হয়।   এরপর গুগল বিভিন্ন ডিভাইস থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে ভূমিকম্পের অবস্থান ও সম্ভাব্য মাত্রা নির্ধারণ করে। শক্তিশালী কম্পন পৌঁছানোর আগেই আশপাশের ব্যবহারকারীদের কাছে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়।   এই প্রযুক্তির মূল উদ্দেশ্য হলো, এমন দেশ ও অঞ্চলে ভূমিকম্পের আগাম সতর্কতা পৌঁছে দেওয়া; যেখানে ব্যয়বহুল ঐতিহ্যবাহী ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্ক নেই। ২০২১ সালে চালু হওয়ার পর থেকে গুগলের এই সতর্কতা ব্যবস্থা প্রায় ১০০টি দেশে সম্প্রসারিত হয়েছে।   গুগলের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত এই ব্যবস্থা ১৮ হাজারের বেশি ভূমিকম্প শনাক্ত করেছে এবং ২ হাজারের বেশি উল্লেখযোগ্য ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে আগাম সতর্কবার্তা জারি করেছে।   প্রতিষ্ঠানটির দাবি, বিশ্বজুড়ে ইতোমধ্যে প্রায় ৭৯০ মিলিয়ন সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে। এর ফলে ২০১৯ সালে যেখানে মাত্র ২৫ কোটি মানুষের কাছে ভূমিকম্প আগাম সতর্কতা পৌঁছানোর সুযোগ ছিল, বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ২৫০ কোটিতে পৌঁছেছে।   ভেনেজুয়েলার সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের ক্ষেত্রেও অনেক ব্যবহারকারী সময়মতো সতর্কবার্তা পাওয়ার দাবি করলেও, ঠিক কতজন এ সুবিধা পেয়েছেন বা কত প্রাণ রক্ষা পেয়েছে, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। সূত্র : ফার্স্টপোস্ট

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ২৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ইউরোপে এল নিনোর প্রভাব কতটা পড়ছে, জানালেন বিশেষজ্ঞরা

প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে চলতি বছরের জুন থেকে আগস্টের মধ্যে নতুন একটি এল নিনো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ৮০ শতাংশ বলে জানিয়েছে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)। তবে এর প্রভাব ইউরোপে কতটা পড়বে, তা নিয়ে এখনই নিশ্চিত নন বিশেষজ্ঞরা।   ফ্রান্সের আবহাওয়া সংস্থা মেতেও-ফ্রঁসের জলবায়ুবিজ্ঞানী লরিয়ান বাতে বলেছেন, বর্তমানে নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরে এল নিনো গড়ে উঠছে। সাধারণত এর ফলে অস্ট্রেলিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় বৃষ্টিপাত কমে যায়, আর দক্ষিণ আমেরিকার পশ্চিম উপকূলে বৃষ্টিপাত বেড়ে যায়।   তবে ফ্রান্স বা ইউরোপের ক্ষেত্রে এর প্রভাব সম্পর্কে এখনই স্পষ্ট করে কিছু বলা সম্ভব নয়। তার মতে, এল নিনোর কোনো প্রভাব দেখা গেলেও তা চলতি বছরের শেষ দিকে বা আগামী বছরের শুরুতে অনুভূত হতে পারে।   লরিয়ান বাতে বলেন, ইউরোপে শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাব সাধারণত শীতকালে বেশি দেখা যায়। তবে অতীতের অভিজ্ঞতা বলছে, এর প্রভাব সব সময় একই রকম হয় না। তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের ওপর আরও অনেক আবহাওয়াগত উপাদান কাজ করে।   তিনি জানান, বিভিন্ন জলবায়ু মডেল ইঙ্গিত দিচ্ছে যে এবার একটি শক্তিশালী এল নিনো তৈরি হতে পারে এবং বছরের শেষ দিকে এটি সর্বোচ্চ মাত্রায় পৌঁছাতে পারে। এর ফলে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে।   তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক উষ্ণায়নই এখনও উচ্চ তাপমাত্রার প্রধান কারণ। এল নিনো এ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত একটি প্রভাবক হিসেবে কাজ করে।   লরিয়ান বাতে আরও বলেন, এল নিনো মূলত প্রাকৃতিক জলবায়ুগত পরিবর্তনের একটি অংশ। এটি স্থায়ীভাবে জলবায়ু পরিবর্তন ঘটায় না। সাধারণত একটি এল নিনো পর্ব শেষ হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে, কখনও কখনও এর বিপরীত অবস্থা ‘লা নিনাও’ দেখা দেয়।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পৃথিবী উষ্ণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এল নিনোর প্রভাবও আগের তুলনায় ভিন্ন হতে পারে। তাই এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে গবেষণা ও পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রয়েছে। সূত্র : www.20minutes.fr

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
বজ্রপাতে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফ সদস্য নিহত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে টহল দেওয়ার সময় বজ্রপাতে এক বিএসএফ (বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স) সদস্য নিহত হয়েছেন।   নিহত ভিনীত কুমার দুবে (৪৬) বিএসএফের ৭১ ব্যাটালিয়নের একজন হেড কনস্টেবল ছিলেন। তিনি উত্তর প্রদেশের কান্নৌজ জেলার বাসিন্দা এবং মুর্শিদাবাদের বাবুরা ঘাট সীমান্ত চৌকিতে কর্মরত ছিলেন।   মঙ্গলবার রাতে প্রবল বৃষ্টি, ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রপাতের মধ্যে তিনি মিঠিপুর এলাকার অরক্ষিত সীমান্ত অংশে টহল দিচ্ছিলেন। সীমান্তের শূন্যরেখার (জিরো লাইন) কাছে খোলা আকাশের নিচে দায়িত্ব পালন করার সময় বজ্রপাতের আঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন।   সহকর্মীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ক্যাম্পে এবং পরে জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।   এর আগে একই দিন মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ান এলাকায় গঙ্গা নদী পার হওয়ার সময় বজ্রপাতে আরও চারজনের মৃত্যু হয় এবং অন্তত ১৫ জন আহত হন।   সূত্র: টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া

মোঃ নাহিদ হোসেন জুন ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ইরান আলোচনায় উপসাগরীয় মিত্রদের স্বার্থ রক্ষার আশ্বাস যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনায় উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা ও স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।   উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের জন্য বর্তমানে ওই অঞ্চল সফর করছেন রুবিও। কুয়েতে তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে ভবিষ্যৎ যেকোনো চুক্তি বা সিদ্ধান্তের আগে যুক্তরাষ্ট্র তার আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে পরামর্শ করবে।   রুবিওর ভাষায়, উপসাগরীয় অঞ্চলের অংশীদারদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র সম্পূর্ণভাবে একজোট থাকবে এবং আলোচনার প্রতিটি ধাপে তাদের মতামত বিবেচনা করা হবে।   সাম্প্রতিক ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের সময় উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঝুঁকিতে পড়েছিল। এছাড়া হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তেল ও গ্যাস পরিবহনও ব্যাহত হয়েছিল।   তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে প্রাথমিক সমঝোতা হয়েছে, সেখানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলো নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর উদ্বেগের বিষয়গুলো এখনও সমাধান হয়নি।   রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন কোনো পদক্ষেপ নেবে না, যা তার মিত্র দেশগুলোর নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন করতে পারে।   এদিকে হোয়াইট হাউসে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুতের সঙ্গে বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র খুব ভালো অগ্রগতি অর্জন করেছে।

মোঃ নাহিদ হোসেন জুন ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ফ্রান্সে প্রচণ্ড গরম, পানিতে নেমে ৪০ জনের মৃত্যু

ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। নতুন নতুন তাপমাত্রার রেকর্ড তৈরি হচ্ছে, জারি করা হচ্ছে সর্বোচ্চ সতর্কতা। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, ইতালি ও স্পেনে।   ফ্রান্সে মঙ্গলবার দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণ দিন রেকর্ড করা হয়েছে। জাতীয় গড় তাপমাত্রা পৌঁছেছে ২৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। অনেক এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে। প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। তাপপ্রবাহ থেকে বাঁচতে মানুষ বেশি পানিতে নামছে। গত এক সপ্তাহে নদী ও জলাশয়ে ডুবে অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। অধিকাংশই তরুণ।   রাজধানী প্যারিসে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রির কাছাকাছি পৌঁছানোর আশঙ্কায় বিখ্যাত পর্যটনকেন্দ্র আইফেল টাওয়ার ও লুভর জাদুঘরের দর্শন সময় সীমিত করা হয়েছে।   যুক্তরাজ্যে বিরল ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। তীব্র গরমের কারণে শত শত স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, লন্ডনসহ দক্ষিণ ইংল্যান্ডের কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে, যা জুন মাসের নতুন রেকর্ড হতে পারে।   ইতালির ১৬টি শহরে তাপপ্রবাহের সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। রোম, মিলান, তুরিন ও ভেনিসের মতো শহরে মানুষকে দিনের সবচেয়ে গরম সময়ে ঘরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ব্যবহারের কারণে কয়েকটি শহরে বিদ্যুৎ বিভ্রাটও দেখা দিয়েছে।   অন্যদিকে স্পেনে তাপপ্রবাহ কিছুটা কমতে শুরু করেছে। তবে দেশটির উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় এখনও উচ্চমাত্রার সতর্কতা বহাল রয়েছে। এর আগে আন্দালুসিয়া অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছিল।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইউরোপে তাপপ্রবাহ আরও তীব্র ও ঘন ঘন হচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এবারের তাপপ্রবাহ গড়ে ২ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি উষ্ণ হয়েছে।   বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত চার বছরে ইউরোপে তাপজনিত কারণে দুই লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। জাতিসংঘের জলবায়ু বিশেষজ্ঞরাও সতর্ক করেছেন, আগামী বছরগুলোতে আরও নতুন তাপমাত্রার রেকর্ড তৈরি হতে পারে।   সূত্র: ইউরো নিউজ

মোঃ নাহিদ হোসেন জুন ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন ডলারে তেল বিক্রি করতে পারে ইরান : যুক্তরাষ্ট্র

চলমান আলোচনার অংশ হিসেবে ইরান ভবিষ্যতে মার্কিন ডলারে তেল বিক্রি করতে পারে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট।   এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ডলারে তেল বেচাকেনা শুরু হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে মার্কিন মুদ্রার প্রভাব আরও শক্তিশালী হবে। আর বিশ্ববাণিজ্যের কেন্দ্রীয় মুদ্রা হিসেবে ডলারের অবস্থান ধরে রাখা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।   সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অনুষ্ঠিত আলোচনায় দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করা, ইরানের তেল রপ্তানি এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।   এরই ধারাবাহিকতায় গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্র ৬০ দিনের জন্য একটি ছাড় ঘোষণা করে। এর ফলে আগামী ২১ আগস্ট পর্যন্ত ইরান ডলারে অপরিশোধিত তেল, পেট্রোকেমিক্যাল ও অন্যান্য জ্বালানি পণ্য উৎপাদন ও বিক্রি করতে পারবে।   এছাড়া বিদেশে আটকে থাকা ইরানের কিছু অর্থ ছাড়ের বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, এই অর্থের একটি বড় অংশ খাদ্য ও ওষুধ কেনার কাজে ব্যবহৃত হবে।   তবে ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, মুক্ত হওয়া অর্থ কীভাবে ব্যয় করা হবে, সে সিদ্ধান্ত তেহরানই নেবে। খাদ্য বা কৃষিপণ্য কেনার ক্ষেত্রে তারা দাম ও মান বিবেচনা করবে, কোনো দেশের শর্ত নয়।   এদিকে ডলারে তেল বিক্রির সুযোগ পেলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে ইরানের অবস্থান আরও শক্তিশালী হতে পারে এবং দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক চাপ কিছুটা কমতে পারে।

মোঃ নাহিদ হোসেন জুন ২৫, ২০২৬
তীব্র গরমেও ইউরোপে কেন এসি এত বিরল

ইউরোপজুড়ে সম্প্রতি ঘন ঘন তীব্র তাপপ্রবাহ আঘাত হানছে, যার ফলে রেকর্ড ভাঙা গরমে নাকাল হচ্ছেন লাখ লাখ মানুষ। কিন্তু এই তীব্র গরমেও ইউরোপের বাড়িগুলোতে এসি বা এয়ার কন্ডিশনার দেখা যায় খুবই কম। যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৯০ শতাংশ বাড়িতে এসি রয়েছে, সেখানে ইউরোপে এই হার মাত্র ২০ শতাংশের কাছাকাছি। বেশির ভাগ ইউরোপীয় বৈদ্যুতিক ফ্যান, আইস প্যাক কিংবা ঠান্ডা পানিতে গোসল করেই এই অসহ্য গরম পার করছেন।   ধনী ইউরোপীয় দেশগুলোর এসি ব্যবহারে এই অনিহার পেছনে কিছু ঐতিহাসিক ও কাঠামোগত কারণ রয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার কর্মকর্তা ব্রায়ান মাদারওয়ে জানান, ইউরোপে ঐতিহ্যগতভাবেই এসির চল নেই, কারণ এতদিন এর কোনও প্রয়োজনই ছিল না। ফলে এসিকে প্রয়োজনীয় জিনিসের চেয়ে বিলাসিতা হিসেবেই দেখা হতো। তা ছাড়া ইউরোপে জ্বালানি খরচ যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বেশি, কিন্তু গড় আয় কম। ফলে এসির খরচ চালানো অনেকের সাধ্যের বাইরে।   এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে স্থাপত্যশৈলীও। দক্ষিণ ইউরোপের কিছু দেশের বাড়িগুলোর দেয়াল বেশ পুরু এবং জানালা ছোট, যা প্রাকৃতিকভাবে ঘর ঠান্ডা রাখে। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের মতো দেশে অনেক বাড়ি ১৯০০ সালের আগে তৈরি, যেখানে সেন্ট্রাল কুলিং সিস্টেম বসানো বেশ কঠিন।   যুক্তরাজ্যের এয়ার কন্ডিশনার কোম্পানি’র পরিচালক রিচার্ড স্যালমন জানান, ঐতিহ্যবাহী বা সংরক্ষিত ভবনের বাইরের সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার অজুহাতে কর্তৃপক্ষ প্রায়ই এসি বসানোর অনুমতি দেয় না।   এর পেছনে পরিবেশগত নীতিও বড় কারণ। ২০৫০ সালের মধ্যে ইউরোপ ‘জলবায়ু নিরপেক্ষ’ হওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে। এসি প্রচুর বিদ্যুৎ অপচয় করে এবং ঘরের ভেতরের গরম বাতাস বাইরে ছাড়ে।   এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্যারিসে এসির ব্যবহারের কারণে বাইরের তাপমাত্রা ২ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। পরিবেশ সুরক্ষায় ২০২২ সালে স্পেন সরকারি স্থানে এসি ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামানো নিষিদ্ধ করেছিল।   তবে বিশ্ব গড়ের চেয়ে দ্বিগুণ গতিতে উত্তপ্ত হতে থাকা ইউরোপের মানুষের মনোভাব এখন পাল্টাচ্ছে। শেষ ৫ বছরে এসির চাহিদা তিন গুণের বেশি বেড়েছে। ২০৫০ সালের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নে এসির সংখ্যা বেড়ে ২৭৫ মিলিয়নে দাঁড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক রাধিকা খোসলা সতর্ক করেছেন, এসি সাময়িক স্বস্তি দিলেও এর জন্য ব্যবহৃত জীবাশ্ম জ্বালানি বৈশ্বিক উষ্ণতা আরও বাড়িয়ে এক দুষ্টচক্রের সৃষ্টি করছে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো পরিবেশের ক্ষতি না করে কার্যকর কুলিং সিস্টেমের সঠিক নীতিমালা তৈরি করা।   সূত্র: সিএনএন

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ভেনেজুয়েলায় পরপর শক্তিশালী ভূমিকম্প, ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় পরপর দুইটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। প্রথমে ৭ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানার পর ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়।   স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার (২৫ জুন) দেশটির রাজধানী কারাকাসের পশ্চিম এলাকায় পরপর দুইবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়।   ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভেরস (ইউএসজিএস) বরাত দিয়ে আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ২৮৪ কিলোমিটার (১৭৬ মাইল) পশ্চিমে সান ফেলিপের কাছে ৭ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে; এর পরপরই রাজধানী থেকে প্রায় ২৯৩ কিলোমিটার (১৮২ মাইল) পশ্চিমে ইউমারের কাছে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়।   ইউএসজিএস বলছে, এই ভূমিকম্পে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। সংস্থাটি প্রাথমিকভাবে অনুমান করেছে যে মৃতের সংখ্যা সম্ভবত ১০ হাজার থেকে এক লাখের মধ্যে হতে পারে।   বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পের ফলে রাজধানী কারাকাসে বেশ কয়েকটি ভবন ধসে পড়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো কাবেয়ো রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ২৫, ২০২৬
নরেন্দ্র মোদি ও আয়াতুল্লাহ খামেনি। ছবি : সংগৃহীত
খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজায় মোদিকে আমন্ত্রণ ইরানের

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।   বুধবার (২৪ জুন) এনডিটিভির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইরান সরকারের এই আমন্ত্রণ একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।   আগামী ৪ জুলাই থেকে কয়েক দিনব্যাপী জানাজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। ৭ জুলাই তেহরানের দক্ষিণে অবস্থিত পবিত্র শহর কোমে বিশেষ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ৯ জুলাই উত্তর-পূর্ব ইরানের পবিত্র শহর এবং খামেনির জন্মস্থান মাশহাদে তার চূড়ান্ত দাফন সম্পন্ন হবে।   আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজার সময়সূচি নিয়ে ফেব্রুয়ারি থেকেই নানা জল্পনা চলছিল। প্রাথমিক কিছু প্রতিবেদনে জুনের শেষ দিকে অনুষ্ঠান হওয়ার কথা বলা হলেও পরে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আনুষ্ঠানিকভাবে জুলাইয়ের তারিখ ঘোষণা করে।   রাষ্ট্রীয় জানাজা উপলক্ষ্যে তেহরান, মাশহাদ ও কোমে প্রায় দুই কোটি মানুষের সমাগম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফসহ বিভিন্ন দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।   প্রত্যাশিত সংখ্যক মানুষ উপস্থিত হলে ১৯৮৯ সালে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির জানাজায় অংশ নেওয়া এক কোটিরও বেশি মানুষের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ২৪, ২০২৬
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি : সংগৃহীত
পারমাণবিক শক্তির ভারসাম্যই শান্তি বজায় রেখেছে : রাশিয়া

বিশ্বজুড়ে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সংঘাতের ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে এবং পারমাণবিক প্রতিরোধই বর্তমানে বড় ধরনের যুদ্ধ ঠেকিয়ে রাখার একমাত্র কার্যকর শক্তি বলে মন্তব্য করেছে রাশিয়া। বুধবার (২৪ জুন) ১২তম আন্তর্জাতিক প্রিমাকভ রিডিংস ফোরামে বক্তব্য দিতে গিয়ে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এ কথা বলেন।   পেসকভ বলেন, বাস্তবে পারমাণবিক প্রতিরোধ ছাড়া এখন পৃথিবীতে আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। এই শক্তিই কেবল বৈশ্বিক যুদ্ধ প্রতিরোধ করছে, যদিও এটি আঞ্চলিক সংঘাত ঠেকানোর নিশ্চয়তা দেয় না।   তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে আঞ্চলিক সংঘাতের সামগ্রিক সম্ভাবনা বাড়ছে এবং বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি ক্রমশ আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে।   পেসকভ আরও বলেন, বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির ফলে ভবিষ্যতে এমন নতুন ধরনের অ-পারমাণবিক অস্ত্রব্যবস্থা তৈরি হতে পারে, যেগুলোর ধ্বংসক্ষমতা পারমাণবিক অস্ত্রের সমতুল্য হবে।   শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ প্রসঙ্গে ক্রেমলিন মুখপাত্র যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (মেমোরেন্ডাম) এবং সংঘাত বন্ধে মধ্যস্থতাকারীদের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, মস্কো এসব উদ্যোগকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।   এর আগে মঙ্গলবার প্রিমাকভ রিডিংস ফোরামের উদ্বোধনী বার্তায় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, রাশিয়া আন্তর্জাতিক আইনের সর্বজনীনভাবে বাধ্যতামূলক নীতিমালা, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অবিসংবাদিত কর্তৃত্ব, রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক সম্মান, সমতা ও নিজস্ব উন্নয়নের পথ বেছে নেওয়ার অধিকারের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখবে। সূত্র : তাস ও সিনহুয়া

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ২৪, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
নিজের ৩ পরকীয়ার কথা জানালেন স্বয়ং বিল গেটস

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে দেওয়া এক সাক্ষ্যে তিন নারীর সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্কের কথা স্বীকার করেছেন বিল গেটস। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন প্রয়াত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন তার ব্যক্তিগত সম্পর্কের তথ্য ব্যবহার করে তাকে ব্ল্যাকমেইল করতেন।   মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের তদন্তের অংশ হিসেবে গত ১০ জুন দীর্ঘ সাক্ষ্য দেন বিল গেটস। সেই সাক্ষ্যে তিনি দুই রুশ নারীর সঙ্গে সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন। তাদের একজন ব্রিজ খেলোয়াড় মিলা আন্তোনোভা এবং অন্যজন পারমাণবিক পদার্থবিজ্ঞানী কারিমা নিগমাতুলিনা। খবর দ্য টেলিগ্রাফের।   কংগ্রেস সদস্যদের প্রশ্নের মুখে পরে তিনি আরও এক নারী বিজ্ঞানীর সঙ্গে সম্পর্কের কথাও স্বীকার করেন।   গেটস আরও জানান, একপর্যায়ে তিনি আশঙ্কা করেছিলেন, তার কোনো সম্পর্কের মাধ্যমে যৌনবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন। এ বিষয়ে তিনি এক বন্ধুর সঙ্গে আলোচনা করে থাকতে পারেন বলেও স্বীকার করেন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, তিনি কখনো যৌনবাহিত রোগে আক্রান্ত হননি এবং কাউকে গোপনে কোনো ওষুধও দেননি।   প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, কংগ্রেস সদস্যরা ২০১৩ সালে এপস্টেইনের কাছে পাঠানো একটি ই-মেইল দেখান, যেখানে অ্যালিস জ্যাকবস নেসেলরডট নামক এক নারীর উল্লেখ ছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে গেটস বলেন, ‘এক সময় ড. জ্যাকবসের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছিল। তাই বিষয়টি সেই প্রসঙ্গের সঙ্গে মিলে যেতে পারে।’   সাক্ষ্যে বিল গেটস জানান, ২০১১ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে তিনি এপস্টেইনের সঙ্গে প্রায় ১২ থেকে ১৪ বার সাক্ষাৎ করেছেন এবং দুবার স্কাইপে কথা বলেছেন।   উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে কারাগারে থাকা অবস্থায় জেফরি এপস্টেইনের মৃত্যু হয়। গত বছর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এপস্টেইনসংক্রান্ত বিভিন্ন নথি প্রকাশ শুরু করার পর তার সঙ্গে বিল গেটসের সম্পর্ক নতুন করে আলোচনায় আসে।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ২৪, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের স্টুডেন্ট ভিসায় বড় পরিবর্তন, যা জানা জরুরি

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) একটি বিধিমালা তৈরি করেছে। এতে দীর্ঘদিনের ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ ব্যবস্থা বাতিল করে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট মেয়াদের অবস্থানের নিয়ম চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন নিয়ম কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অবস্থানের মেয়াদ সর্বোচ্চ চার বছর হতে পারে। এ নিয়ম এফ-১ শিক্ষার্থী ভিসা, জে-১ এক্সচেঞ্জ ভিজিটর ভিসাসহ অন্যান্য কিছু ভিসা শ্রেণির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।   বর্তমানে ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ ব্যবস্থার আওতায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষা কার্যক্রমে নিবন্ধিত থাকা সাপেক্ষে পড়াশোনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে পারেন। ফলে তারা প্রয়োজনে কোর্সের সময় বাড়ানো, বিশ্ববিদ্যালয় পরিবর্তন, বিষয় পরিবর্তন, স্নাতক থেকে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অগ্রসর হওয়া কিংবা অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং (ওপিটি) ও স্টেম ওপিটি সম্পন্ন করার সুযোগ পান।   তবে নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে শিক্ষার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট সময়ের অনুমোদিত অবস্থান নির্ধারণ করা হবে। চার বছরের বেশি সময়ের কোর্সে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে থাকতে হলে মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবার (ইউএসসিআইএস) কাছ থেকে মেয়াদ বাড়ানোর অনুমোদন নিতে হবে।   এ বিষয়ে বিভিন্ন শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকান ইউনিভার্সিটিজ (এএইউ), আমেরিকান কাউন্সিল অন এডুকেশন (এসিই) এবং নাফসা জানিয়েছে, নির্দিষ্ট মেয়াদের ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা ও ডক্টরাল শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করবে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক চাপও বাড়াবে।   তবে আপাতত বর্তমান নিয়মই বহাল রয়েছে। চূড়ান্ত বিধিমালা প্রকাশ ও কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা আগের মতোই ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ ব্যবস্থার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করতে পারবেন।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ২৪, ২০২৬
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সপ্তাহের সেরা

ছবি: সংগৃহীত
জাতীয়

চীন সফরে একাধিক সমঝোতা, ১৭টি চুক্তি সইয়ের সম্ভাবনা

মোঃ নাহিদ হোসেন জুন ২০, ২০২৬