জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্দেশ্যে বলেছেন, আপনারা বেনজির-হারুনের কথা ভুলে যাইয়েন না, আপনারা ওসি প্রদীপের ঘটনার কথা ভুলে যাইয়েন না। মানুষের যে অনাস্থা আপনাদের বিরুদ্ধে তৈরি হয়েছে, তা পুনরুদ্ধারের সবচেয়ে বড় সুযোগ হচ্ছে আসন্ন নির্বাচন। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়েই জনগণের প্রকৃত বন্ধু হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করতে পারেন। আপনারা কোনো দলের নন, আপনারা বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষের।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে কুমিল্লা মহানগরীর টাউন হল মাঠে এক নির্বাচনী জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, আপনাদের বিএনপি হওয়ার দরকার নেই, জামায়াত হওয়ার দরকার নেই, গুলশানে লাইন দেওয়ার দরকার নেই, ধানমন্ডিতে যাওয়ার দরকার নেই, এমনকি মগবাজারেও যাওয়ার দরকার নেই। আপনাদের একমাত্র বৈধতা হচ্ছে জনতা। প্রিয় পুলিশ ভাই, প্রিয় মিলিটারি ভাই, প্রিয় সেনাবাহিনী—আপনাদের কাঁধে আজ এক মহান দায়িত্ব এসে পড়েছে। কতটা স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন জাতিকে উপহার দিতে পারেন, সেটার মধ্যেই আপনাদের ওপর আস্থা ফিরে আসবে।
তিনি বলেন, আপনারা কোনো দলের গোলামী করবেন না। জাতি আপনাদের দিকে তাকিয়ে আছে। যেভাবে ৫ আগস্ট আপনারা জনতার কাতারে নেমে এসেছিলেন, ঠিক সেভাবেই ১২ ফেব্রুয়ারি জনতার পক্ষ হয়ে জাতিকে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেবেন।
বিএনপির উদ্দেশ্যে বক্তব্যে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, তারেক রহমানের বক্তব্য আমরা শুনছি, কিন্তু হ্যাঁ ভোট ও না ভোট নিয়ে তাকে স্পষ্ট কথা বলতে দেখি না। তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে রাষ্ট্রব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে বিএনপি-জামায়াতের বহু নেতাকর্মী গুম ও খুন হয়েছেন। আজ যখন সংস্কারের সুবর্ণ সুযোগ এসেছে, তখন কেউ কেউ হাসিনার ব্যবস্থাই রেখে দিতে চায়। যারা এই ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখতে চায়, তাদের তরুণ প্রজন্মের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ আজ স্পষ্টভাবে দুই ভাগে বিভক্ত। এক পক্ষ গোলামীকে বরণ করতে প্রস্তুত, অন্য পক্ষ আজাদির পক্ষে। এক পক্ষ ভারতীয় আধিপত্যের কাছে মাথা নত করেছে, আরেক পক্ষ তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছে। আমাদের পথ লম্বা, লড়াই দীর্ঘ। সুপ্ত ও গুপ্ত ভাষা ব্যবহার করে আবার হত্যাযজ্ঞের ষড়যন্ত্র চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের সভাপতি কাজী দ্বীন মোহাম্মদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির মুখপাত্র আল রাশেদ প্রধান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের ভিপি সাদিক কায়েমসহ কুমিল্লার ১১টি আসনের জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীরা ও জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্দেশ্যে বলেছেন, আপনারা বেনজির-হারুনের কথা ভুলে যাইয়েন না, আপনারা ওসি প্রদীপের ঘটনার কথা ভুলে যাইয়েন না। মানুষের যে অনাস্থা আপনাদের বিরুদ্ধে তৈরি হয়েছে, তা পুনরুদ্ধারের সবচেয়ে বড় সুযোগ হচ্ছে আসন্ন নির্বাচন। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়েই জনগণের প্রকৃত বন্ধু হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করতে পারেন। আপনারা কোনো দলের নন, আপনারা বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষের। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে কুমিল্লা মহানগরীর টাউন হল মাঠে এক নির্বাচনী জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, আপনাদের বিএনপি হওয়ার দরকার নেই, জামায়াত হওয়ার দরকার নেই, গুলশানে লাইন দেওয়ার দরকার নেই, ধানমন্ডিতে যাওয়ার দরকার নেই, এমনকি মগবাজারেও যাওয়ার দরকার নেই। আপনাদের একমাত্র বৈধতা হচ্ছে জনতা। প্রিয় পুলিশ ভাই, প্রিয় মিলিটারি ভাই, প্রিয় সেনাবাহিনী—আপনাদের কাঁধে আজ এক মহান দায়িত্ব এসে পড়েছে। কতটা স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন জাতিকে উপহার দিতে পারেন, সেটার মধ্যেই আপনাদের ওপর আস্থা ফিরে আসবে। তিনি বলেন, আপনারা কোনো দলের গোলামী করবেন না। জাতি আপনাদের দিকে তাকিয়ে আছে। যেভাবে ৫ আগস্ট আপনারা জনতার কাতারে নেমে এসেছিলেন, ঠিক সেভাবেই ১২ ফেব্রুয়ারি জনতার পক্ষ হয়ে জাতিকে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেবেন। বিএনপির উদ্দেশ্যে বক্তব্যে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, তারেক রহমানের বক্তব্য আমরা শুনছি, কিন্তু হ্যাঁ ভোট ও না ভোট নিয়ে তাকে স্পষ্ট কথা বলতে দেখি না। তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে রাষ্ট্রব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে বিএনপি-জামায়াতের বহু নেতাকর্মী গুম ও খুন হয়েছেন। আজ যখন সংস্কারের সুবর্ণ সুযোগ এসেছে, তখন কেউ কেউ হাসিনার ব্যবস্থাই রেখে দিতে চায়। যারা এই ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখতে চায়, তাদের তরুণ প্রজন্মের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ আজ স্পষ্টভাবে দুই ভাগে বিভক্ত। এক পক্ষ গোলামীকে বরণ করতে প্রস্তুত, অন্য পক্ষ আজাদির পক্ষে। এক পক্ষ ভারতীয় আধিপত্যের কাছে মাথা নত করেছে, আরেক পক্ষ তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছে। আমাদের পথ লম্বা, লড়াই দীর্ঘ। সুপ্ত ও গুপ্ত ভাষা ব্যবহার করে আবার হত্যাযজ্ঞের ষড়যন্ত্র চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের সভাপতি কাজী দ্বীন মোহাম্মদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির মুখপাত্র আল রাশেদ প্রধান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের ভিপি সাদিক কায়েমসহ কুমিল্লার ১১টি আসনের জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীরা ও জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, কুমিল্লা নামেই বিভাগ হবে। তিনি বলেন, যেহেতু ঘোষণা দিয়েছি, এটা পবিত্র দায়িত্ব। অন্য কেউ যদি সরকার গঠনও করে, আমরা এটি করাতে বাধ্য থাকব। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টায় কুমিল্লা নগরীর টাউন হল মাঠে ১১দলীয় জোটের নির্বাচনি সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশে প্রথমে চারটি বিভাগ ছিল, পরে সংখ্যা বেড়ে আটটি হয়েছে। আগামীতে দশ বা বারো বিভাগ হবে—কিন্তু কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়ন হবে। তিনি বলেন, কুমিল্লা বিমানবন্দর চালুর দাবি আছে এবং এখানে একটি ইপিজেড রয়েছে। ইপিজেডকে আন্তর্জাতিক মানের করা গেলে বিমানবন্দর সচল রাখা সম্ভব হবে। কুমিল্লার সব দাবি যুক্তিসঙ্গত এবং কোনো এলাকাকে অযৌক্তিকভাবে বঞ্চিত করা হবে না। তিনি বলেন, আগের একটি সরকার প্রতিশোধের রাজনীতি করেছে, কিন্তু আমরা তা করব না। রাজনীতি হবে নীতির রাজ। যে যায় লঙ্কায়, সেই হয় রাবণ। আমরা কথা দিয়ে কথা রাখব। জামায়াত সবচেয়ে মজলুম দল এবং এ দলের বিরুদ্ধে অন্য কোন দলকে যেভাবে প্রহসন বা নির্যাতন করা হয়েছে, তা হয়নি। ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর শহীদ পরিবারগুলোকে আমরা সমর্থন করেছি। আগামীতে অপরাধ করলে প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্টও দায়মুক্ত থাকবে না। প্রশাসনের প্রতি তিনি বলেন, কোনো দলের আনুকূল্য করবেন না, দেশের মানুষের পক্ষে থাকুন। গণমাধ্যমের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, মিডিয়া জাতির চোখ, দর্পণ এবং বিবেক। অন্যায়কে সমর্থন করবেন না, ন্যায়ের পক্ষে থাকুন। জামায়াত সরকার গঠিত হলে সরকারি খরচে মেয়েরা মাস্টার্স পর্যন্ত শিক্ষালাভ করবে। বক্তব্য শেষে তিনি কুমিল্লার ১১টি সংসদীয় আসনে ১১দলীয় জোটের প্রার্থীদের হাতে প্রতীক তুলে দেন। এর আগে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ার, নায়েবে আমির ডা. আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, এনসিপির মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েমসহ ১১দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজেদের রাজনৈতিক রূপরেখা ও অঙ্গীকার তুলে ধরে ৩৬ দফার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের অন্যতম প্রধান শরিক দলটি তাদের এই ইশতেহারের নাম দিয়েছে ‘তারুণ্য ও মর্যাদার ইশতেহার’। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে লেকশোর গ্র্যান্ড হোটেলের ‘লা ভিতা’ হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ইশতেহারটি আনুষ্ঠানিকভাবে জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়। ইশতেহারে রাষ্ট্র সংস্কার, মানবাধিকার, অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, শিক্ষা-স্বাস্থ্য, নারী ও তরুণদের ক্ষমতায়ন, পরিবেশ, কৃষি এবং জাতীয় নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে সুস্পষ্ট অঙ্গীকার তুলে ধরা হয়েছে। এনসিপির ঘোষিত ৩৬ দফা নির্বাচনী ইশতেহার— ১. জুলাই সনদের আইন ও আদেশনির্ভর দফা বাস্তবায়নে সময়সীমা ও দায়বদ্ধ কাঠামো নির্ধারণে স্বাধীন কমিশন গঠন। ২. জুলাই গণহত্যা, শাপলা গণহত্যা, বিডিআর হত্যাকাণ্ড, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাসহ সব মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার এবং ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন গঠন। ৩. সাম্প্রদায়িকতা, সংখ্যালঘু নিপীড়ন ও বৈষম্য প্রতিরোধে স্বাধীন মানবাধিকার কমিশনের বিশেষ সেল গঠন। ৪. মন্ত্রী, এমপি ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের আয়-সম্পদের হিসাব ‘হিসাব দাও’ পোর্টালে প্রকাশ ও হালনাগাদ। ৫. পারফরম্যান্সভিত্তিক পদোন্নতি, ল্যাটেরাল এন্ট্রি বৃদ্ধি এবং তিন বছর পরপর পে-স্কেল হালনাগাদ। ৬. এনআইডি কার্ডকে সব সেবার একক পরিচয়পত্র হিসেবে ব্যবহার। ৭. ঘণ্টায় ১০০ টাকা জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ও বাধ্যতামূলক কর্ম-সুরক্ষা বিমা। ৮. টিসিবির স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড নিবন্ধিত মুদি দোকানে ব্যবহারযোগ্য করা। ৯. সুনির্দিষ্ট বাড়িভাড়া কাঠামো ও সামাজিক আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন। ১০. গরিব ও মধ্যবিত্তের করের বোঝা কমিয়ে কর-জিডিপি ১২%-এ উন্নীত করা। ১১. LDC উত্তরণে আগাম FTA-CEPA, রপ্তানি বৈচিত্র্য এবং ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা। ১২. চাঁদাবাজি বন্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ও হটলাইন চালু। ১৩. মুদ্রাস্ফীতি ৬%-এ নামানো ও আর্থিক শিক্ষার প্রসার। ১৪. ভোটাধিকার বয়স ১৬ বছর নির্ধারণ এবং Youth Civic Council গঠন। ১৫. পাঁচ বছরে এক কোটি সম্মানজনক কর্মসংস্থান সৃষ্টি। ১৬. বছরে ১৫ লাখ দক্ষ ও নিরাপদ প্রবাসী কর্মী তৈরি। ১৭. শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠন ও ৭৫% এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ। ১৮. স্নাতক পর্যায়ে ৬ মাসের বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপ বা গবেষণা। ১৯. রিভার্স ব্রেন ড্রেইনের উদ্যোগ ও ন্যাশনাল কম্পিউটিং সার্ভার স্থাপন। ২০. উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলে বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা জোন (SHZ) গঠন। ২১. জিপিএস-ট্র্যাকড জাতীয় অ্যাম্বুলেন্স ও আধুনিক ইমার্জেন্সি বিভাগ। ২২. এনআইডি-ভিত্তিক ডিজিটাল হেলথ রেকর্ড ও ন্যাশনাল হেলথ ইনস্যুরেন্স। ২৩. নিম্নকক্ষে ১০০ নারী আসনে সরাসরি নির্বাচন। ২৪. ৬ মাস মাতৃত্বকালীন ও ১ মাস পিতৃত্বকালীন ছুটি বাধ্যতামূলক। ২৫. উপজেলা পর্যায়ে নারীবান্ধব স্বাস্থ্যসামগ্রী সরবরাহ। ২৬. প্রবাসীদের জন্য ‘ডায়াস্পোরা ডিজিটাল পোর্টাল’ চালু। ২৭. রেমিট্যান্সের বিপরীতে বিনিয়োগ, পেনশন ও RemitMiles সুবিধা। ২৮. প্রতিবন্ধী ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সার্বিক অধিকার নিশ্চিত। ২৯. ঢাকা ও চট্টগ্রামে সমন্বিত গণপরিবহন ব্যবস্থা। ৩০. দূষণকারী ইটভাটা বন্ধ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি। ৩১. সব শিল্পকারখানায় ETP বাধ্যতামূলক ও পরিবেশ সুরক্ষা। ৩২. কৃষকদের জন্য এনআইডি-ভিত্তিক সরাসরি ভর্তুকি। ৩৩. দেশীয় বীজ গবেষণা ও খাদ্যে সার্বভৌমত্ব নিশ্চিতকরণ। ৩৪. সীমান্ত হত্যা ও নদীর পানির ন্যায্য হিস্যায় কঠোর কূটনীতি। ৩৫. রোহিঙ্গা সংকটের মানবিক সমাধান ও আসিয়ানমুখী কূটনীতি। ৩৬. শক্তিশালী রিজার্ভ ফোর্স, UAV ব্রিগেড ও আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গঠন।