বগুড়ায় বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমানের নির্বাচনী জনসভাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক জনসমাগমের মধ্যে অর্ধশতাধিক মোবাইল ফোন চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাত ৯টা পর্যন্ত বগুড়া সদর থানায় অন্তত ৫০টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। চুরি যাওয়া ফোনগুলোর মধ্যে রয়েছে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী রেজাউল করিম তালুর ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনও।
জানা গেছে, তারেক রহমানের জনসভাকে ঘিরে বৃহস্পতিবার দুপুরের পর থেকেই জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখো মানুষ বগুড়া শহরে আসতে শুরু করেন। সন্ধ্যার আগেই আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। মাঠে প্রবেশ করতে না পেরে হাজারো মানুষ সাতমাথা মোড়সহ শহরের বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নেন তারেক রহমানকে একনজর দেখার এবং তার বক্তব্য শোনার আশায়।
এই বিপুল জনসমাগম ও ঠাসাঠাসি ভিড়ের সুযোগ নিয়ে সংঘটিত হয় মোবাইল ফোন চুরির মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। অনেক ভুক্তভোগী জানান, ভিড়ের মধ্যে অচেনা স্পর্শ টের পেলেও বুঝে ওঠার আগেই তাদের পকেট বা ব্যাগ থেকে মোবাইল ফোন চুরি হয়ে যায়। অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার সময় অনেকেই লক্ষ্য করেন, তাদের একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম মোবাইল ফোনটি আর নেই।
চুরি হওয়া ফোনগুলোর মালিকদের মধ্যে নারী, বয়স্ক ব্যক্তি, দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ কর্মী-সমর্থকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রয়েছেন। অনেকের ফোনে ছিল গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত ছবি ও জীবিকার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তথ্য, ফলে তারা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। বৃহস্পতিবার রাত থেকেই ভুক্তভোগীরা বগুড়া সদর থানায় অভিযোগ জানাতে শুরু করেন।
বগুড়া সদর থানার ডিউটি অফিসার এসআই জেবুন্নেছা বেগম জানান, শুক্রবার রাত ৯টা পর্যন্ত মোবাইল ফোন হারানোর ঘটনায় ৫০টির বেশি জিডি গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া আরও অনেকে মৌখিক অভিযোগ জানাতে থানায় আসছেন।
তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার রাতে সাতমাথা এলাকা থেকে মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে দুইজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগীদের একজন, ব্যবসায়ী রাজেদুর রহমান রাজু বলেন, “বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে স্টেশন রোডের বিআরটিসি মার্কেটের সামনে হাজারো মানুষের ভিড়ে দাঁড়িয়ে তারেক রহমানকে দেখার চেষ্টা করছিলাম। ঠেলাঠেলির একপর্যায়ে পকেটে থাকা দেড় লাখ টাকা মূল্যের আমার শখের ফোনটি খোয়া যায়।”
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুনিরুল ইসলাম বলেন, “ফোন হারানোর প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। যারা অভিযোগ করেছেন, তাদের ফোন উদ্ধারে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। তথ্যপ্রযুক্তির পাশাপাশি বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করে হারানো ফোনগুলো উদ্ধার করে ভুক্তভোগীদের কাছে ফেরত দেওয়ার চেষ্টা চলছে।”
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বরিশালে গ্রেফতার এড়াতে পালাতে গিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা রাশেদ খান মেননের (৫০) মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২১ জুন) দুপুরে বরিশাল নগরীর ১নং ওয়ার্ডের পশ্চিম কাউনিয়ায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত রাশেদ নগরীর ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এছাড়া সাবেক সিটি মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর অনুসারী ছিলেন বলে জানা গেছে। কাউনিয়া থানা পুলিশ জানায়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা রাশেদ খান মেনন একাধিক রাজনৈতিক মামলার আসামি। এছাড়াও তিনি সরকারবিরোধী বিভিন্ন কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। রোববার দুপুরে গ্রেফতার করতে তার বাসায় যায় কাউনিয়া থানা পুলিশের একটি দল। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর আগেই খবর পেয়ে রাশেদ খান মেনন আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় তাকে গ্রেফতার না করেই ফিরে আসে পুলিশ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুলিশ গ্রেফতার করতে আসছে- এমন খবরে রাশেদ তার ভবনের ছাদে উঠেন। তারপর রাশেদ তার ভবন থেকে প্রতিবেশী আওয়ামী লীগ নেতা আতিকের ভবনের ছাদে লাফ দিয়ে চলে যায়। সেখান থেকে লাফিয়ে নিচে নামে রাশেদ। বাড়ির দেয়াল টপকিয়ে পার্শ্ববর্তী গোরস্থান দিয়ে প্রতিবেশীর বাড়ির কাঁচা সড়ক দিয়ে দৌঁড়ে পালাচ্ছিলেন, তখন পা পিছলে পরে যান তিনি। এরপর তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। পালানোর সময় মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হন তিনি। এছাড়াও তিনি আগে থেকেই হৃদরোগে আক্রান্ত ছিলেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। মৃত রাশেদের বড় ছেলে সাহেল বলেন, ঘটনার সময় আমি বাড়ির বাইরে ছিলাম। বাবা পড়ে গিয়ে অজ্ঞান হয়ে গেছে এমন খবর আমায় জানানোর পর এসে দেখি বাবাকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তোলা হচ্ছে। তারপর তাকে নিয়ে হাসপাতালে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। কাউনিয়া থানার ওসি সনজিত নাথ জানান, পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে বাসায় গিয়েছিল। তাকে বাসায় না পাওয়ায় গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। পরে জানতে পেরেছি তিনি মারা গেছেন।
লোহার তৈরি এক বিশাল ভাসমান খাঁচা, চারপাশে অন্তহীন নীল জলরাশি আর মাথার ওপর প্রতিনিয়ত বয়ে যাওয়া মিসাইল আর যুদ্ধের সাইরেন; এই নিয়েই কেটে গেছে দীর্ঘ সাড়ে তিন মাস। বৈশ্বিক রাজনীতির নির্মম মারপ্যাঁচে পড়ে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় অবরুদ্ধ বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’র ৩১ জন নাবিকের জীবন থেকে যেন স্বাভাবিক সময়টাই হারিয়ে গেছে। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বহুল প্রতীক্ষিত সমঝোতা চুক্তি সই হওয়ার পর তাদের চোখেমুখে স্বস্তির যে আলো উঁকি দিয়েছিল, তা-ও এখন আবার মিলিয়ে যেতে শুরু করেছে হরমুজ প্রণালি ফের বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণায়। তাই চুক্তি হলেও কাটছে না এই সমুদ্র-যোদ্ধাদের বন্দিদশার দুঃসময়। বর্তমানে জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ বন্দরের বহির্নোঙরে দাঁড়িয়ে আছে। সেখান থেকে মাত্র ৮০ নটিক্যাল মাইল দূরে হরমুজ প্রণালি। এই সামান্য পথটুকু পার হতে পারলেই দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্দেশ্যে রওনা হবে জাহাজটি। কিন্তু চুক্তির পর খুলেও হরমুজ প্রণালি ফের বন্ধ ঘোষণা করায় সেই অনিশ্চিত অপেক্ষার প্রহর যেন আরও দীর্ঘ হচ্ছে। জাহাজের ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম রোববার দুপুরে হোয়াটসঅ্যাপে কালবেলাকে বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমরা সবাই সুস্থ আছি। এখন শারজাহ বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থান নিয়ে পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষা করছি। বর্তমানে জাহাজটি যে অবস্থানে রয়েছে, সেখান থেকে হরমুজ প্রণালির দূরত্ব প্রায় ৮০ নটিক্যাল মাইল। স্বাভাবিক গতিতে এই পথ অতিক্রম করতে জাহাজটির আনুমানিক ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।’ হরমুজ প্রণালির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের কাছে সর্বশেষ যে তথ্য রয়েছে, তা অনুযায়ী স্থানীয় নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ প্রণালি একটু খুললেও আবার বন্ধ করে দিয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এবং প্রয়োজনীয় অনুমতি মিললেই জাহাজটি তার পরবর্তী গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হবে। আপাতত আমরা এখানেই আছি।’ গত ২৬ ফেব্রুয়ারি কাতারের মেসাইদ বন্দর থেকে প্রায় ৩৯ হাজার টন স্টিল কয়েল নিয়ে দুবাইয়ের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছেছিল ‘বাংলার জয়যাত্রা’। এর পরদিনই ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আকস্মিক হামলা শুরু হলে পুরো পরিস্থিতি ওলটপালট হয়ে যায়। বন্দরে ভেড়ার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মাথায় জাহাজটি থেকে মাত্র ২০০ মিটার দূরে একটি তেল রিজার্ভারে মিসাইল আঘাত হানে। চোখের সামনে আগুনের সেই লেলিহান শিখা আর মাথার ওপর দিয়ে একের পর এক ড্রোন ও রকেট উড়ে যাওয়ার আতঙ্ক সঙ্গী করেই শুরু হয় এই ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিকের দুঃস্বপ্নের দিনগুলো। এরপর থেকে গত সাড়ে তিন মাসে অন্তত তিনবার সমুদ্রের এই মরণফাঁদ থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেছে জাহাজটি, কিন্তু প্রতিবারই ফিরে এসেছে চরম হতাশা। প্রথম দফায় জেবেল আলী বন্দর থেকে পরবর্তী গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দিলেও আকাশজুড়ে যুদ্ধবিমানের গর্জন আর ড্রোন হামলার আশঙ্কায় আরব আমিরাতের কোস্ট গার্ড জাহাজটিকে মাঝপথ থেকে ফিরে আসার পরামর্শ দেয়। বাধ্য হয়ে আবার নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে আসে ‘জয়যাত্রা’। দ্বিতীয় দফায় গত ৮ এপ্রিল এক সাময়িক যুদ্ধবিরতির সুযোগে সৌদি আরবের রাস আল খাইর বন্দর থেকে নোঙর তুলে হরমুজ প্রণালির দিকে ছুটছিল জাহাজটি। কিন্তু সেবারও মেলেনি পারাপারের সবুজ সংকেত। সবশেষ গত ১৭ এপ্রিল ইরান বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য প্রণালিটি খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিলে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মিনা সাকার বন্দর থেকে বুকভরা আশা নিয়ে ফের যাত্রা শুরু করেছিল ‘বাংলার জয়যাত্রা’। কিন্তু ভাগ্য এবারও সহায় হয়নি। পরদিন হরমুজ প্রণালির দোরগোড়ায় পৌঁছেও অনুমতি না পেয়ে শূন্য হাতে আবার সেই মিনা সাকার বন্দরেই ফিরে আসতে হয় জাহাজটিকে। এভাবে বারবার আশা জাগিয়েও ব্যর্থ হওয়া এই নাবিকদের মনোবলকে এখন অনেকটাই ভেঙে দিয়েছে। সমুদ্র বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই দুঃসময় সহজে কাটার নয়। বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্যাপ্টেন আনাম চৌধুরী জানান, ‘চুক্তি হওয়া মানেই পথ খুলে যাওয়া নয়। যুদ্ধের সময়ে এই সরু চ্যানেলে যে তিন স্তরের মাইন পাতা হয়েছিল, সেগুলো আগে পুরোপুরি অপসারণ করতে হবে। তাছাড়া প্রায় সাড়ে পাঁচ শ জাহাজ সেখানে জট পাকিয়ে আছে। এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও প্রায় এক মাস লাগতে পারে।’ ‘বাংলার জয়যাত্রা’ জাহাজটি সিঙ্গাপুরভিত্তিক একটি কোম্পানির অধীনে ভাড়ায় পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে জাহাজটিতে ৩৭ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন সার রয়েছে। হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিতে পারলে দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্দেশ্যে যাওয়ার কথা রয়েছে ‘বাংলার জয়যাত্রার’। বিএসসি’র এমডি কমডোর মাহমুদুল মালেক কালবেলাকে বলেন, ‘বাংলার জয়যাত্রা হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি এসে অপেক্ষায় আছে। হরমুজ প্রণালি খুললে অতিক্রম করবে বলে আমরা আশা করছি। জাহাজের নাবিকদের সাথে আমরা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। তারা সবাই ভালো আছেন। তাদের খাবার, পানিসহ সবকিছু মজুদ করা আছে।’
দীর্ঘ ১৫ বছর পর মাগুরা-নড়াইল সড়কে সরাসরি বাস চলাচল শুরু হয়েছে। আজ শনিবার দুপুরে মাগুরা শহরের চাউলিয়া বাসস্ট্যান্ডে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। ২০১১ সাল থেকে ট্রিপ ভাগাভাগি নিয়ে দুই জেলা মালিক সমিতির বিরোধের জেরে এই রুটে সরাসরি বাস চলাচল বন্ধ ছিল। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মনোয়ার হোসেন। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা এই রুট আবার সচল করতে তিনি নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টির সমাধান করেছেন বলে মালিক সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ২০১১ সাল থেকে সরাসরি বাস বন্ধ থাকায় মাগুরা থেকে নড়াইলগামী যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হতো। যাত্রীরা মাগুরার বাসে চাউলিয়া থেকে শালিখা উপজেলার গঙ্গারামপুর পর্যন্ত গিয়ে নামতেন এবং সেখান থেকে কিছু দূর গিয়ে আবার নড়াইলের বাসে উঠতে হতো। সরাসরি বাস চালু হওয়ায় এই ভোগান্তি দূর হবে। সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। মাগুরা বাস–মিনিবাস মালিক গ্রুপের সভাপতি মীর আবু সাঈদ বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে এই রুটে সরাসরি গাড়ি চলাচল ছিল না। দুই জেলার মালিক সমিতির মধ্যে হিস্যা নিয়ে অনেক ঝামেলা সৃষ্টি হতো, এটাই মূল কারণ ছিল। আমি মনে করি, এবার যাত্রীদের ভোগান্তি কমবে। সরাসরি যাওয়া আর ভেঙে ভেঙে যাওয়া তো এক না।’ তিনি জানান, এখন থেকে নির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে দুই জেলার মধ্যে বাস চলাচল করবে। শনিবার এই রুটে চালু হওয়া প্রথম বাসের যাত্রীদের একজন আরাফাত হোসেন বলেন, ‘কাজের সূত্রে প্রায়ই নড়াইল যাতায়াত করতে হয়। মাঝে বাস বদল করতে অনেক ভোগান্তি ও খরচ হতো। বিশেষ করে ব্যাগ বা অন্য কোনো জিনিস সঙ্গে থাকলে চিন্তার শেষ ছিল না। এখন একটু স্বস্তি পাচ্ছি।’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মাগুরা বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ইসহাক মল্লিকসহ মালিক সমিতির নেতারা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।