বিশ্ব

ডেমোক্র্যাটের মুসলিম নারী সদস্যের সম্পদ নিয়ে তদন্তের ঘোষণা ট্রাম্পের

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ২৬, ২০২৬


যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট দলীয় মুসলিম নারী সদস্য ইলহান ওমরের সম্পদের বিষয়ে তদন্ত শুরু করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেশটির মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিস শহরে গুলিতে বিক্ষোভকারী অ্যালেক্স প্রেট্টির প্রাণহানির ঘটনায় মার্কিন প্রশাসন যখন তীব্র সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছে, তখন ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরুর ওই ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সীমান্তবিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা টম হোম্যানকে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে পাঠাচ্ছেন তিনি। দেশটির ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তারা শনিবার সকালের দিকে ৩৭ বছর বয়সী নার্স প্রেট্টিকে গুলি চালিয়ে হত্যা করার পর থেকে সেখানে বিক্ষোভ চলছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেছেন, ‌‌টম কঠোর, তবে ন্যায়বান। তিনি সরাসরি আমাকে রিপোর্ট করবেন। পৃথকভাবে, মিনেসোটায় সংঘটিত ২০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি কল্যাণ তহবিল জালিয়াতি নিয়ে একটি বড় তদন্ত চলছে; যা রাস্তায় চলমান সহিংস ও সংগঠিত বিক্ষোভের জন্য আংশিকভাবে দায়ী।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিখেছেন, এছাড়া কংগ্রেসউইম্যান ইলহান ওমরের বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে বিচার বিভাগ এবং কংগ্রেস। তিনি সোমালিয়া থেকে শূন্য হাতে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন, আর এখন নাকি তার সম্পদের পরিমাণ ৪৪ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি। সময়ই সব বলবে।

গত কয়েক বছরে ইলহান ওমরের সম্পদের পরিমাণ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে; যার পেছনে তার নতুন স্বামীর সম্পদের ভূমিকা রয়েছে। এর আগেও ট্রাম্প প্রকাশ্যে তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করতে অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডির প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন।

গত সপ্তাহে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে আর্থিক ও রাজনৈতিক অপরাধের তদন্ত হওয়া উচিত এবং সেই তদন্ত এখনই শুরু করা দরকার।

সোমালি বংশোদ্ভূত ইলহান ওমর বর্তমানে ট্রাম্পের অন্যতম নিশানা। তাকে আক্রমণ করতে ট্রাম্প প্রায়ই ইসলামবিদ্বেষী ভাষা ব্যবহার করেন। মুসলিম আমেরিকান এই কংগ্রেস সদস্যের নির্বাচনী এলাকা মিনিয়াপোলিস। তিনি ট্রাম্পের নীতি ও বক্তব্যের কড়া সমালোচক। বিশেষ করে সোমালি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে তার আক্রমণাত্মক মন্তব্যের বিষয়ে অতীতে ব্যাপক সমালোচনা করেছিলেন ইলহান ওমর।

গত বছর ইলহান ওমরের তীব্র সমালোচনা করে সোমালি সম্প্রদায়কে আবর্জনা বলে অভিহিত করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
চাঁদের পথে পাকিস্তানের চন্দ্রযান ‘জিন্নাহ-১’

মহাকাশ কর্মসূচিতে আরও এক ধাপ এগোচ্ছে পাকিস্তান। দেশটির প্রথম নিজস্ব চন্দ্রযান রোভার ‘জিন্নাহ-১’ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। চীনের চাং’ই-৮ চন্দ্র অভিযানের অংশ হিসেবে রোভারটি চাঁদের পৃষ্ঠে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।   ওয়ার্ল্ড স্পেস উইক পাকিস্তান উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পাকিস্তান স্পেস অ্যান্ড আপার অ্যাটমসফিয়ার রিসার্চ কমিশনের (সুপারকো) চেয়ারম্যান মুহাম্মদ ইউসুফ খান এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, কৃষি, নগর পরিকল্পনা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন খাতে পাকিস্তানের স্যাটেলাইট প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। একই সঙ্গে চীনের সহযোগিতায় চন্দ্র অনুসন্ধান ও মানব মহাকাশযাত্রার প্রস্তুতিও এগিয়ে চলছে।   সুপারকো চেয়ারম্যানের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের প্রথম চন্দ্র রোভার ‘জিন্নাহ-১’ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। চীনের চাং’ই-৮ অভিযানের মাধ্যমে রোভারটি চাঁদে পাঠানো এবং চাঁদের দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে।   সুপারকোর বর্তমান কর্মসূচিতে রোভারটির অভিযান ২০২৮ সালের জন্য নির্ধারিত রয়েছে। সংস্থাটির আগস্টের ঘোষণাতেও বলা হয়েছিল, চাং’ই-৮-এর সঙ্গে জিন্নাহ-১ উৎক্ষেপণ করা হবে।   প্রায় ৩৫ কেজি ওজনের রোভারটি চাঁদের পৃষ্ঠে বৈজ্ঞানিক গবেষণা চালাবে। এর মাধ্যমে চাঁদের মাটি, ভূপ্রকৃতি ও মহাকাশ পরিবেশ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতের চন্দ্র অভিযানে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন প্রযুক্তির পরীক্ষাও চালানো হবে।   পাকিস্তান ইতোমধ্যে স্যাটেলাইট প্রযুক্তির ব্যবহার বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাড়িয়েছে। সুপারকোর চেয়ারম্যান জানান, দেশটির ছয়টি পৃথিবী পর্যবেক্ষণকারী স্যাটেলাইট কৃষি, নগর পরিকল্পনা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করছে।   সুপারকোর তথ্য অনুযায়ী, স্যাটেলাইটনির্ভর দূর অনুধাবন প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষি সম্পদ, দুর্যোগ পরিস্থিতি, পানিসম্পদ ও পরিবেশগত অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।   ২০২৪ সালের মে মাসে চীনের চাং’ই-৬ চন্দ্র অভিযানের অংশ হিসেবে পাকিস্তান ‘আইকিউব-কামার’ নামে একটি চন্দ্র স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করে। এটি ছিল পাকিস্তানের প্রথম চন্দ্রকক্ষপথে পাঠানো স্যাটেলাইট।   এ ছাড়া পৃথিবী পর্যবেক্ষণ কর্মসূচিও সম্প্রসারণ করছে দেশটি। সুপারকোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে উৎক্ষেপণ করা ইও-২ স্যাটেলাইটটি পাকিস্তানের দ্বিতীয় নিজস্ব পৃথিবী পর্যবেক্ষণকারী স্যাটেলাইট এবং জাতীয় পৃথিবী পর্যবেক্ষণ বহরের ষষ্ঠ স্যাটেলাইট।   মহাকাশ অভিযানের প্রশিক্ষণে দুই পাকিস্তানি   চীনের মহাকাশ স্টেশনে পাকিস্তানের প্রথম মহাকাশচারী পাঠানোর প্রস্তুতিও চলছে। এ লক্ষ্যে দুই পাকিস্তানি প্রার্থী বর্তমানে চীনে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। প্রশিক্ষণ শেষে তাদের মধ্য থেকে একজনকে ভবিষ্যৎ মহাকাশ অভিযানের জন্য নির্বাচিত করা হবে।   নির্বাচিত ব্যক্তি চীনের মহাকাশ স্টেশনে বৈজ্ঞানিক গবেষণার দায়িত্ব পালন করবেন এবং বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় অংশ নেবেন।   চীনের মানব মহাকাশ সংস্থার সঙ্গে চুক্তির আওতায় এ কর্মসূচি শুরু করেছে সুপারকো। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, দুই প্রার্থীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পর তাদের মধ্য থেকে একজনকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হবে।   রয়টার্সের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জিশান আলী ও খুররম দাউদ বর্তমানে বেইজিংয়ে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। চলতি অক্টোবরেই তাদের মধ্য থেকে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্বাচনের কথা রয়েছে।   সূত্র: সামা টিভি

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ০৩, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

সুস্থ আছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি: শাশুড়ির দাবি

ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপ জরুরি ভিত্তিতে বাজারে মজুত ডিজেল ছাড়বে: ট্রাম্প

ইসরাইলে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন আরব-ইসরাইলি প্রার্থী

রয়টার্স ছবি
ইরান ঘিরে সামরিক উপস্থিতি ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধের সাত মাস ফুরালেও এখন পর্যন্ত কোনো শান্তির দেখা মিলছে না। বরং ইসলামী প্রজাতন্ত্রের এই দেশটিকে কাবু করতে জলে-স্থলে বিভিন্নভাবে নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক উপস্থিতি আরো জোরদার করছে যুক্তরাষ্ট্র।     ইসলামী প্রজাতন্ত্রের এই দেশটির আশপাশের জলসীমায় ২ হাজার মেরিন সেনা পাঠাচ্ছে ওয়াশিংটন। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যকার সংঘাত আবারও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা বিশ্লেষকদের।     মার্কিন এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এমনই তথ্য দিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। খবরে বলা হয়েছে, ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ গত রবিবার সান দিয়েগো ঘাঁটি ছেড়ে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে রওনা হয়েছে।     আর এর একদিন পর দুই হাজার সেনা নিয়ে ম্যাকিন আইল্যান্ড মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটও যাত্রা করেছে। মার্কিন ওই কর্মকর্তার দাবি, নভেম্বরের শেষ নাগাদ ইরানের আশপাশে থাকবে তিনটি বিমানবাহী রণতরী ও দুটি অ্যাম্ফিবিয়াস ল্যান্ডিং গ্রুপ। সঙ্গে থাকবে এফ- ৩৫ যুদ্ধবিমানও।     তবে পেন্টাগন বলছে, কূটনৈতিক আলোচনা যেদিকেই যাক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য সামরিক বিকল্প খোলা রাখতেই এই শক্তি বৃদ্ধি।   অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধি সামরিক এই প্রস্তুতির পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপও বাড়াচ্ছে ওয়াশিংটন। ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ অভিযানের অধীনে ইরানের বৃহত্তম গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইরান খোদ্রো ও সাইপার পাশাপাশি রেল, উৎপাদন এবং ইস্পাত খাতের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে মার্কিন অর্থমন্ত্রণালয়।     এরইমধ্যে ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় একটি সুপারট্যাঙ্কার। এতে ওই ট্যাঙ্কারে আগুন লেগে যায়। তবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।     হরমুজ প্রণালির এ পরিস্থিতিকে ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’ আখ্যা দিয়েছেন জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক। এ সময় দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে আলোচনার পথ খোলা রাখার আহ্বান জানান তিনি।     দুজারিক বলেন, ‘পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমরা এখন এক প্রকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার মধ্যে আছি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের মধ্যে পরোক্ষ যোগাযোগ হয়েছিল। তবে আশা করি, কাতারের মধ্যস্থতায় এই দফার আলোচনা অব্যাহত থাকবে। সুতরাং যোগাযোগের এই পথগুলো খোলা রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’       এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপ থেকে কখনোই পিছপা হবে না তার দেশ। একই সঙ্গেউপসাগরীয় অঞ্চলে ভেঙে পড়া যুদ্ধবিরতি পুনরুজ্জীবিত করার সর্বশেষ প্রস্তাবের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া বিবেচনা করছে তেহরান।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ০২, ২০২৬

আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছেছে ৪ সদস্যের নভোচারী দল

ছবি: সংগৃহীত

জব্দ করা পশ্চিমা কোম্পানির সম্পদ ফেরত দেওয়া হতে পারে: পুতিন

ডিজেলের দাম বাড়ায় জরুরি বৈঠকে বসছে ইইউ

ছবি : রয়টার্স।
ইরান সংঘাতের আবহে ট্রাম্পের নোবেল জয় নিয়ে সংশয়

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার পাবেন কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্পের পুরস্কার পাওয়ার সম্ভাবনা কম।     একই সঙ্গে নোবেল পুরস্কার নিয়ে তাঁর আগ্রহ এবং নোবেল কমিটির ওপর তাঁর প্রভাব নিয়েও আলোচনা হচ্ছে।   গত বছর ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো নোবেল শান্তি পুরস্কার পান। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার জন্য তাঁকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। এর আগে ট্রাম্পও কয়েকবার নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন।   পরে মাচাদো তাঁর পাওয়া নোবেল পদকটি ট্রাম্পকে দেন।     পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট অসলো (পিআরআইও)-এর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হাকন জেরলো বলেন, গত বছরের ঘটনাগুলো এবার নোবেল কমিটির সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। কমিটি এমন কোনো প্রার্থীকে বেছে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে, যিনি ট্রাম্পের চাপের মুখে পড়লেও পুরস্কারটি গ্রহণ করতে পারবেন।     জেরলো আরও বলেন, কাউকে পুরস্কার দিলে তিনি ট্রাম্পের চাপের মুখে পড়বেন কি না এবং পুরস্কারটি তাঁর জন্য উপকারের বদলে ক্ষতির কারণ হবে কি না—এসব বিষয়ও কমিটি বিবেচনা করতে পারে। এ বছর সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে পোপ লিও, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি), আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) এবং অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ রিপোর্টার ফ্রান্সেসকা আলবানিজের নাম আলোচনায় এসেছে। নোবেল শান্তি পুরস্কারের ঘোষণা ৯ অক্টোবর দেওয়ার কথা।     প্রথম মার্কিন বংশোদ্ভূত পোপ লিও যুদ্ধের বিরুদ্ধে কথা বলে আসছেন। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের সমালোচনা করায় ট্রাম্প এর আগে তাঁকে ‘দুর্বল’ বলে মন্তব্য করেছিলেন।     যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান, শান্তিপূর্ণভাবে বিরোধ মেটানোর পক্ষে অবস্থান এবং অভিবাসীদের প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বানের কারণে পোপ লিওর নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় এসেছে।     কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়েও তিনি একটি বিশ্বপত্র প্রকাশ করেছেন। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালক করিম হাগাগ বলেন, পোপ লিও শুধু একজন ধর্মীয় নেতা নন, তিনি একজন গুরুত্বপূর্ণ চিন্তাবিদ হিসেবেও পরিচিত হয়ে উঠেছেন।     অন্যদিকে, জাতিসংঘের বিশেষ র‍্যাপোর্টার ফ্রান্সেসকা আলবানিজের নামও আলোচনায় রয়েছে। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের দখলদারির সমালোচনা করায় তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমালোচনার মুখে পড়েছেন।     নিরাপদ প্রার্থী বেছে নেওয়ার সম্ভাবনা? গত বছরের ঘটনাগুলোর কারণে এবার নোবেল কমিটি তুলনামূলকভাবে বিতর্কমুক্ত কোনো প্রার্থীকে বেছে নিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এমন প্রার্থী বেছে নেওয়া হতে পারে, যাকে নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা কম।     গত বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার জন্য ট্রাম্প নরওয়েকে দায়ী করেছিলেন। তবে নোবেল শান্তি পুরস্কারের সিদ্ধান্ত নেয় নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি। এবার সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে সুদানের ‘ইমার্জেন্সি রেসপন্স রুমস’-এর নামও রয়েছে। এটি সুদানের বিভিন্ন স্থানীয় সংগঠনের একটি নেটওয়ার্ক, যা দেশটির গৃহযুদ্ধের মধ্যে সাধারণ মানুষকে জরুরি সহায়তা দিয়ে আসছে।     সংঘাতপূর্ণ এলাকায় শিশুদের সহায়তা করার জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘সেভ দ্য চিলড্রেন’-এর নামও আলোচনায় রয়েছে। তবে ইতিহাসবিদ ও নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়ে লেখক ওভেইন্ড স্টেনারসেন মনে করেন, ট্রাম্পের আন্তর্জাতিক নীতির কারণে নোবেল কমিটির ওপরও চাপ তৈরি হয়েছে।     তিনি রয়টার্সকে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে গণতন্ত্র, আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার রক্ষায় অবদানের জন্য শান্তি পুরস্কার দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।     এ কারণে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ও আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে)-এর নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় এসেছে। আইসিসিকে পুরস্কার দিলে আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। আর আইসিজেকে পুরস্কার দেওয়া হলে রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্ব ও শান্তিপূর্ণভাবে বিরোধ মেটানোর নীতির প্রতি সমর্থন জানানো হবে।     এদিকে কম্বোডিয়া, ইসরায়েল ও পাকিস্তানের নেতারা ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট অসলো (পিআরআইও)-এর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হাকন জেরলো মনে করেন, ট্রাম্পের পুরস্কার পাওয়ার সম্ভাবনা বেশ কম।     নোবেল কমিটির ওপর ট্রাম্পের চাপের বিষয়টি নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী মারিয়া রেসাকেও বিস্মিত করেছে। ফিলিপাইন ও যুক্তরাষ্ট্রের এই সাংবাদিক বলেন, গত বছর তিনি বিষয়টি উদ্বেগের সঙ্গে দেখেছেন।     সেপ্টেম্বরে অসলো সফরের সময় রয়টার্সকে মারিয়া রেসা বলেন, ‘গুণ্ডারা বিশ্ব শাসন করে না। আমাদের কিছু নীতি আছে, যা আমাদের মেনে চলতে হবে। শক্তিই সবকিছু ঠিক করে দেয়, এমনটা নয়।’

মারিয়া রহমান অক্টোবর ০১, ২০২৬
জাহাজের আকৃতির ভূতাত্ত্বিক কাঠামো। তুরস্কের আগ্রি দোগুবেয়াজিত জেলায়। ছবি: নোয়াজ আর্ক স্ক্যানস ডটকমের সৌজন্যে

তুরস্কে নূহ (আ.)-এর নৌকার কথিত স্থানে গবেষণার নতুন তথ্য উন্মোচন

মার্কিন অস্ত্র বিক্রির নিষিদ্ধ তালিকা থেকে সিরিয়াকে বাদ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

সিরিয়ার নতুন সরকারের ওপর থেকে সামরিক নিষেধাজ্ঞা তুলল যুক্তরাষ্ট্র

ছবি : রয়টার্স

তাইওয়ানের স্বাধীনতাপন্থী শক্তির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা চীনের

0 Comments