সর্বশেষ

যারা ভোটে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করবে, তাদের ‘গুপ্ত’ বলুন : তারেক রহমান

শাহ মোঃ সিজু মিয়া জানুয়ারী ৩১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

সিরাজগঞ্জে শনিবার বিকেলে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচনী জনসভায় বক্তৃতা দিয়েছেন। সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলীর বিসিক শিল্প পার্ক এলাকায় অনুষ্ঠিত এই সভায় তিনি ভোটারদের সতর্ক করে বলেন, “আমাদের সতর্ক থাকতে হবে যেন কোনো ষড়যন্ত্র করে কেউ আবার আপনাদের ভোটের অধিকার কেড়ে নিতে না পারে। অনেকেই আসবে আপনাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করতে। যারা বিভ্রান্ত করবে, দেখামাত্র তাদের বলবেন, গুপ্ত তোমরা। কারণ, তাদের গত ১৬ বছর আমরা দেখিনি, তারা ওদের সঙ্গে মিশে ছিল, যারা ৫ তারিখে পালিয়ে গিয়েছে।


সভায় তারেক রহমান সিরাজগঞ্জ ও পাবনার বিভিন্ন আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের ধানের শীষ প্রতীক তুলে দিয়ে ভোটারদের সঙ্গে পরিচয় করিয়েছেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ এখন জানতে চায়, কোন রাজনৈতিক দল দেশ ও জনগণের জন্য কী পরিকল্পনা গ্রহণ করবে। বিএনপি সেই অভিজ্ঞতা ও পরিকল্পনা জনগণের সামনে রেখেছে। মানুষের ভরসা আসে যে দলের অভিজ্ঞতা রয়েছে, এবং সেই গুণ একমাত্র বিএনপির মধ্যে আছে।
তারেক রহমান বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও সামাজিক উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “সিরাজগঞ্জ ও পাবনায় যেমন কৃষি আছে, তেমন ছোট ছোট মিল-কারখানা আছে। আমাদের লক্ষ্য কৃষিকে এগিয়ে নেয়া এবং কৃষক ভাইদের পাশে দাঁড়ানো। একই সঙ্গে লক্ষ লক্ষ তরুণ-যুবকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে চাই। নতুন নতুন শিল্প পার্ক স্থাপনের মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। উত্তরাঞ্চল কৃষিনির্ভর হওয়ায় আমরা ঠাকুরগাঁও থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত সমগ্র এলাকায় কৃষিনির্ভর শিল্প গড়ে তুলতে চাই।
তিনি দেশের তাঁতশিল্পকে এগিয়ে নেয়ার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে বলেন, “যখন তাঁতের কথা বলি, লুঙ্গির কথা বলি, তখন চোখের সামনে ভেসে ওঠে সিরাজগঞ্জ-পাবনার এই এলাকা। এখানকার বহু মানুষ তাঁতশিল্পের সঙ্গে জড়িত। আমরা চাই, এই শিল্পে উৎপাদিত পণ্য সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হই।
নারী ও মায়েদের স্বাবলম্বী করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারেক বলেন, “খালেদা জিয়ার সময়ে মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা ফ্রি হয়েছিল। আগামী বিএনপি সরকার মায়েদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলবে। এজন্য প্রতিটি মায়ের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।
কৃষকদের জন্য তিনি বলেন, “কৃষকরা হাড়ভাঙা পরিশ্রম করেন। আমরা চাই, প্রয়োজনীয় সার, কীটনাশক, বীজ ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া হোক, যেন কোনো মধ্যস্বত্বভোগী সুবিধা না পায়। এজন্য কৃষক কার্ড প্রদানের উদ্যোগ নেয়া হবে।
তরুণদের জন্য তিনি বলেন, “তরুণদের আইটি ও অন্যান্য ক্ষেত্রের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। সিরাজগঞ্জ ও পাবনায় ট্রেনিং সেন্টার, ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট তৈরি করে বেকার যুবকদের বিদেশে ভালো বেতনে পাঠানো হবে।


ধর্মগুরুদের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ইমাম, খতিব ও মুয়াজ্জিনদের জন্য সরকার থেকে মাসিক সম্মাননার ব্যবস্থা করা হবে।
শেষে ধানের শীষ প্রতীকের প্রতি ভোটের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “১২ তারিখে ধানের শীষকে বিজয়ী করলে ১৩ তারিখ থেকে আমরা রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ ও হাসপাতালের কাজ শুরু করব ইনশা আল্লাহ।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সর্বশেষ

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
মিডিয়ার পক্ষপাত দেখলে মনে হয় আবার হাসিনার আমল : হাসনাত

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, বর্তমান মিডিয়ার আচরণ দেখে মনে হয় আমরা আবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে ফিরে গেছি। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার গনেশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনি উঠান বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন। হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, একসময় সব প্রশংসা প্রধানমন্ত্রী হাসিনার জন্য থাকত, আর সব দোষ বিএনপি ও জামায়াতের দোষারোপ করা হতো। রানা প্লাজা দুর্ঘটনা উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, তখনও সব দোষ বিএনপি–জামায়াতের। তবে বর্তমানে দোষের কাতার থেকে বিএনপি বাদ পড়েছে, কিন্তু জামায়াতের দায় এখনও রয়ে গেছে। তিনি বলেন, মিডিয়ার এমন পক্ষপাত আমরা মনে রাখব এবং আমাদের তরুণ প্রজন্মও এটি মনে রাখবে। মিডিয়ার পক্ষপাতিত্ব বিষয়ে তিনি আরও অভিযোগ আনেন। তিনি বলেন, জুলাইয়ের সময় পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেখানো হয়েছিল, যার কারণে সাধারণ মানুষ এখন আর মিডিয়ার খবর বিশ্বাস করে না। এ অনাস্থার দায়ভার মিডিয়ার ওপরেই পড়েছে। জুলাইয়ে তাদের কার্যক্রমে যখন বাধা দেওয়া হয়েছিল, তখন ডিজিএফআই আমাদের সামনে বসে কিছু টিভি চ্যানেলকে ফোন করেছিল এবং নিউজ পরিবর্তন করানো হতো। এছাড়া, চ্যানেলগুলো এজেন্সির নির্দেশে নিউজ ও হেডলাইন তৈরি করত। ৫ আগস্টের পর এই চ্যানেলগুলো আবারও নাফরমানি শুরু করেছিল। তিনি উদাহরণ হিসেবে বলেন, বিএনপি যখন পল্টনে বড় প্রোগ্রাম করেছিল, তখন একটি চ্যানেল ৫০টির বেশি ক্যামেরা ব্যবহার করে নিউজ করেছিল। হাসনাত আবদুল্লাহ নির্বাচনী উঠান বৈঠকে আরও বলেন, বর্তমান মিডিয়ার আচরণ নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও সাধারণ মানুষের তথ্য গ্রহণের ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলছে। তিনি সাংবাদিক ও মিডিয়ার ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এই পক্ষপাতিত্ব গণমাধ্যমের নিরপেক্ষতা ও সাধারণ জনগণের তথ্য গ্রহণ ক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

শাহ মোঃ সিজু মিয়া জানুয়ারী ৩১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

জামায়াতের নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত

ছবি : সংগৃহীত

যারা ভোটে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করবে, তাদের ‘গুপ্ত’ বলুন : তারেক রহমান

ছবি : সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বন্দরে আন্দোলন: বিএনপিপন্থী ৪ নেতা বদলি

ছবি : সংগৃহীত
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, ১৪ জন আহত

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষটি উপজেলার জগন্নাথদিঘী ইউনিয়নের হাটবাইর গ্রামে সংঘটিত হয়। আহতদের মধ্যে রয়েছেন উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি সোলায়মান চৌধুরী, তার গাড়িচালক মামুন, হাটবাইর গ্রামের মৃত মফিজুর রহমান খাঁনের ছেলে এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মিজান খান, মিজানের মা আমেনা বেগম, বোন নাজমা ও নার্গিস, উপজেলা বিএনপির সদস্য মীর আহমেদ মীরু, আব্দুল হক খান, মনির চৌধুরী, ইয়াকুব আলী, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা ছাত্রশিবির দক্ষিণের সভাপতি রিফাত সানি, বিজয় করা গ্রামের রবিউল হোসেন রকি, নোয়াগ্রামের জাকারিয়া রাসেল ও পায়েরখোলা গ্রামের মিলন। আহত উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি সোলায়মান চৌদুরী অভিযোগ করেন, তিনি জগন্নাথদিঘীর বেতিয়ারা গ্রামে নির্বাচনী সভা করছিলেন। তখন খবর পান, পাশের হাটবাইর গ্রামে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মিজানের বাড়িতে ৫০–৬০ জন জামায়াত নেতা ও কর্মী হামলা চালাচ্ছে। তিনি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সেক্রেটারিকে নিয়ে মিজানের বাড়ির উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে স্থানীয় চৌধুরী বাজারে পৌঁছালে জামায়াতের সংঘবদ্ধ দল তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তার গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। সোলায়মান চৌদুরী বলেন, “চালকের কারণে কোনোরকমে প্রাণে বেঁচে এসেছি। চৌদ্দগ্রাম উপজেলা ছাত্রশিবির দক্ষিণের সভাপতি রিফাতুল ইসলাম সানি জানান, তারা ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভা শেষে হাটবাইর গ্রামে ফেরার পথে বিএনপির নেতাকর্মীরা গুলি ও দেশীয় অস্ত্রসহ হামলা চালায়। অন্যদিকে, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি বেলাল হোসাইন দাবি করেন, তাদের নেতাকর্মীরা আমিরে জামায়াতের সমাবেশ শেষে বাড়ি ফেরার পথে বিএনপি নেতারা হামলা চালায়। এ ঘটনায় অন্তত ৫ জন জামায়াত নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। বেলাল হোসাইন এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, এটি ন্যাক্কারজনক। চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি আবু মাহমুদ কাওসার হোসেন জানিয়েছেন, খবর পেয়ে থানা পুলিশের একটি টিম ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে।

শাহ মোঃ সিজু মিয়া জানুয়ারী ৩১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় বিক্রি ৩৯৩ কোটি টাকা

ছবি : সংগৃহীত

জানুয়ারিতে মব–গণপিটুনিতে প্রাণহানি দ্বিগুণ, বাড়ছে অজ্ঞাতনামা লাশ

ছবি : সংগৃহীত

নির্বাচনী সময় রেলযাত্রী ও ট্রেন নিরাপত্তায় হাই অ্যালার্ট

ছবি : সংগৃহীত
নির্বাচনে নজর রাখতে আসছেন ৩৩০ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং একই দিনে আয়োজিত জুলাই জাতীয় সনদ বিষয়ক গণভোট পর্যবেক্ষণে এখন পর্যন্ত ৩৩০ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের আগমন নিশ্চিত হয়েছে। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, এবারের নির্বাচনে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের উপস্থিতি আগের যেকোনো জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। তথ্য অনুযায়ী, ইসলামী সহযোগিতা সংস্থাসহ ছয়টি আন্তর্জাতিক সংস্থা সম্মিলিতভাবে অন্তত ৬৩ জন পর্যবেক্ষক পাঠাতে সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ১৬টি দেশ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিত্বকারী আরও ৩২ জন ব্যক্তি পর্যবেক্ষক হিসেবে নির্বাচনী প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবেন। সব মিলিয়ে আসন্ন নির্বাচনে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ৩৩০ জনে। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় এবারের পর্যবেক্ষকের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি। অতীতের নির্বাচনগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৫৮ জন, একাদশ নির্বাচনে ১২৫ জন এবং দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাত্র চারজন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক উপস্থিত ছিলেন। সংস্থাভিত্তিকভাবে পর্যবেক্ষক দলে নেতৃত্ব দেবেন ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার নির্বাচন পর্যবেক্ষণ ইউনিটের প্রধান শাকির মাহমুদ বান্দার। এ ছাড়া এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস থেকে ২৮ জন, কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েট থেকে ২৫ জন, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট থেকে সাতজন এবং ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইনস্টিটিউট থেকে একজন পর্যবেক্ষক নির্বাচনী কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে অংশ নেবেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভয়েস ফর জাস্টিস, ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল, এসএনএএস আফ্রিকা, সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন এবং পোলিশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিত্বকারী ৩২ জন ব্যক্তি পর্যবেক্ষক হিসেবেও মাঠ পর্যায়ে কাজ করবেন। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের সফর ও কার্যক্রম সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা সিনিয়র সচিব ও এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ জানিয়েছেন, আমন্ত্রিত কয়েকটি দেশ এখনো তাদের প্রতিনিধিদের নাম চূড়ান্ত করেনি। ফলে পর্যবেক্ষকের সংখ্যা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যেসব দেশ এখনো প্রতিনিধি চূড়ান্ত করেনি, তাদের মধ্যে রয়েছে ভারত, নেপাল, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, কানাডা, মিসর, ফ্রান্স, কুয়েত, মরক্কো, নাইজেরিয়া ও রোমানিয়া। পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার নির্বাচন ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলোর ফোরাম থেকেও শিগগিরই পর্যবেক্ষকদের নাম ঘোষণা করা হতে পারে। উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে ৫০টির বেশি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে প্রায় দুই হাজার প্রার্থী দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি একই দিনে জুলাই জাতীয় সনদ বিষয়ে একটি গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে, যা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নজরদারির আওতায় থাকবে।

শাহ মোঃ সিজু মিয়া জানুয়ারী ৩১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

১২ হাজার কোটির দাবিতে কেন থামল ৫১২ কোটিতে

ছবি : সংগৃহীত

আরও ৪৪ নেতাকে বহিষ্কার করল বিএনপি

ছবি : সংগৃহীত

টেংরাটিলা বিস্ফোরণ : বাংলাদেশ পাচ্ছে ৪ কোটি ২০ লাখ ডলার

0 Comments