চট্টগ্রাম শহরের খুলশী এলাকায় সাংবাদিক পরিচয়ে একটি বাসায় সংঘটিত হয়েছে ডাকাতির ঘটনা। শুক্রবার দুপুরে জাকির হোসেন রোডের একটি বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, দুপুরের দিকে একদল ব্যক্তি নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে ওই বাসায় প্রবেশ করে। পরে তারা পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে ঘরে থাকা স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও নতুন কেনা একটি টয়োটা গাড়ি লুট করে নিয়ে যায়।
খবর পেয়ে খুলশী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনাস্থল থেকে কিছু আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্তে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয়দের ধারণা, সংঘবদ্ধ চক্রটি পূর্বপরিকল্পিতভাবে এই ডাকাতির ঘটনা ঘটিয়েছে। পুলিশ বলছে, দ্রুতই এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধে বাংলাদেশের শ্রমবাজার খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর। তিনি বলেন, ‘বরং আমাদের দেশের চাহিদাও তৈরি হতে পারে।’ মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে শ্রমবাজারের সংকট এবং সম্ভাবনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে যে ধরনের অবকাঠামো ধ্বংস করা হয়েছে, এগুলো তো আবার পুনর্নির্মাণ করতে হবে।’ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের অনেক শ্রমিক বর্তমানে কর্মরত আছে। আমাদের শ্রমবাজারের বড় একটা অংশই মধ্যপ্রাচ্যে। সে ক্ষেত্রে সেখানে যুদ্ধ পরিস্থিতির ফলে আমাদের কী ধরনের সংকট ও সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে, সেগুলো নিয়ে প্রধানমন্ত্রী আলাপ-আলোচনা করেছেন। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে যে ধরনের ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেস্ট্রয় (অবকাঠামো ধ্বংস) হয়েছে, এগুলো আবার রিবিল্ড (পুননির্মাণ) করতে হবে। তা ছাড়া আশা করি আমাদের শ্রমবাজার খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। বরং আমাদের দেশের চাহিদা আরও তৈরি হতে পারে।' তৃতীয় ভাষা শেখার বিষয়ে নুরুল হক নুর বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী থার্ড ল্যাঙ্গুয়েজ বা তৃতীয় ভাষা শেখার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন। আমাদের দেশের মানুষ শুধু ভাষা না জানার কারণে তারা অল্প পয়সার চাকরি করে। ভাষা জানলে তারা ভালো বেতন পেতে পারে।’ জনশক্তি রপ্তানিতে সিন্ডিকেট প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যেটা আমরা অনেক দিন ধরে দেখে আসছি, কিছু জায়গায় কিছু লোক মনোপলি করে কাজ করে। সে ক্ষেত্রে অনেক জায়গায় আমাদের নিয়ন্ত্রণ থাকে না। যেমন সিঙ্গাপুরের ছয়টি কোম্পানি ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে তারা লোক পাঠায়। ছয়টি কোম্পানির ট্রেনিং অথরাইজেশন আছে। এটি কিন্তু সিঙ্গাপুর সরকার তাদের অথরাইজড করেছে। এখন তারা গলাকাটা পয়সা নিচ্ছে ১৪ লাখ, ১৫ লাখ, ১৬ লাখ টাকা। সিঙ্গাপুর সরকার অথরাইজড করায় আমরা কিন্তু কিছু করতে পারছি না।’ ‘তবে জনগণকে একটু স্বস্তি দেওয়ার জন্য কিংবা এই সিন্ডিকেটটা ভাঙার জন্য আমরা সরকারি চ্যানেলে চিঠি দেওয়া, দেখা-সাক্ষাৎ করা, নোট ভারবাল দেওয়ার মাধ্যমে এই সমস্ত সিন্ডিকেটগুলো ভাঙার একটা চেষ্টা করছি। এ জন্যই সরকার অভিভাসন ব্যয়টা নির্ধারণ করে দিচ্ছে’, বলেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মালয়েশিয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে একটা অভিযোগ ছিল। এটার বাস্তবতা হচ্ছে যে, আমাদের দেশের যেমন কিছু লোকের একটা সংশ্লিষ্টতা আছে, ওখানকারও কিছু লোকের সংশ্লিষ্টতা আছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও চেষ্টা করেছিল, তারা কিন্তু ওপেন করতে পারে নাই। এখন যেহেতু মধ্যপ্রাচ্যে শ্রমিক যাওয়া কিছুটা বন্ধ আছে। সে ক্ষেত্রে মালয়েশিয়াসহ যেখানে শর্ত একটু শিথিল করে কিংবা যে কোনো প্রক্রিয়ায় (শ্রমবাজার) খোলা যায়, সেই বিষয়টাতে কিন্তু আমাদের গুরুত্ব দিতে হচ্ছে।’ আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে মালয়েশিয়া ও ভিয়েতনামে শ্রমবাজারের বিষয়ে শিগগির ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের অনুমোদনের ক্ষেত্রে সংবিধান ও জনআকাঙক্ষার সমন্বয় করা হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, অধ্যাদেশগুলো যাচাই-বাছাই শেষে আগামী ২ এপ্রিলের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য জাতীয় সংসদে পাঠানো হবে। রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। বৈঠকটি শুরু হয় বেলা ১১টায়। অধ্যাদেশগুলোর বিষয়ে আইনমন্ত্রী আরও বলেন, সংবিধান ও জনআকাঙ্ক্ষা—উভয় বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েই বিশেষ কমিটি কাজ করছে। ৩০ দিনের মধ্যে অধ্যাদেশগুলো পর্যালোচনা শেষে চলতি অধিবেশনেই তা সংসদে উত্থাপন করা হবে। প্রসঙ্গত, গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ১৩৩টি অধ্যাদেশ উপস্থাপন করেন। পরবর্তীতে তার প্রস্তাবের ভিত্তিতে অধ্যাদেশগুলো বিশেষ কমিটিতে পাঠানো হয়। বিশেষ কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন। কমিটির অন্যান্য সদস্যের মধ্যে রয়েছেন মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, সালাহ উদ্দিন আহমদ, মো. নুরুল ইসলাম, মো. আসাদুজ্জামান, মুহাম্মদ ওসমান ফারুক, এএম মাহবুর উদ্দিন, আব্দুল বারী, মুহাম্মদ নওশাদ জমির, ফারাজানা শারমীন, জামায়াতে ইসলামীর মো. মজিবুর রহমান, রফিকুল ইসলাম খান ও গাজী মো. নজরুল ইসলাম। তবে অসুস্থতার কারণে মির্জা আব্বাস বর্তমানে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন থাকায় বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারেননি। ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম দিনের অধিবেশনেই এই বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। সেদিন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপন করেন। পরে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বরিশাল-৩ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদিনের নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন। কণ্ঠভোটে তা অনুমোদন পায়। সংসদীয় প্রক্রিয়া অনুযায়ী, নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে উত্থাপিত অধ্যাদেশগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাস না হলে সেগুলোর আইনি বৈধতা থাকে না। এ কারণেই এগুলো বিশেষ কমিটিতে পাঠিয়ে যাচাই-বাছাই শেষে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, আগামী ২৯ মার্চ আবার সংসদ বসবে এবং ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসে ১২ মার্চ। ওই দিন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন, রাষ্ট্রপতির ভাষণ, শোক প্রস্তাব এবং ১৩৩টি অধ্যাদেশ উত্থাপনসহ একাধিক কার্যসূচি ছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা এসব অধ্যাদেশের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক সংশোধন, গণভোট, সাইবার সুরক্ষা, পুলিশ কমিশন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন-সংক্রান্ত অধ্যাদেশও।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩ অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই করতে বৈঠকে বসেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি। আজ মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বেলা ১১টার পর জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে এ বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে প্রবেশের আগে সংসদ ভবনের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিগুলো এখনো গঠিত না হওয়ায় কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। বৈঠকে ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে আলোচনা হবে। সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, 'কোন অধ্যাদেশ কীভাবে গ্রহণ করা যায়, কোনটা সংশোধন করে নেওয়া যায়, আর কোনটার ক্ষেত্রে আরও পরিবর্তন লাগবে, সেগুলো নিয়েই আলোচনা হবে।' তিনি আরও জানান, ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে কিছু রয়েছে, যেগুলো সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করা হচ্ছে। আবার কিছু অধ্যাদেশে জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা আমরা ধারণ করব। যেমন কিছু অধ্যাদেশ আছে, যেখানে জুলাই যোদ্ধাদের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, গণঅভ্যুত্থানে যারা নেতৃত্ব দিয়েছে বা অংশগ্রহণ করেছে তাদের বিষয়ে ইনডেমনিটির বিষয় আছে, এগুলো আমরা গ্রহণ করব।' এছাড়া আগের সরকারের আমলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামকরণ সংক্রান্ত কিছু সিদ্ধান্ত বাতিলের বিষয়ও সহজে গ্রহণযোগ্য হবে বলে জানান তিনি। সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, সময় সংক্ষিপ্ত হওয়ায় বিশেষ কমিটিকে দ্রুত সিদ্ধান্তে যেতে হবে। অধিবেশন ১২ তারিখ বসেছে, আবার ২৯ তারিখ বসবে। এর মধ্যে যে সময় আছে, সেই সময়ের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলোর বিষয়ে ফয়সালা করতে হবে। উল্লেখ্য, ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন হয়। এতে বিএনপি ২০৯ আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। বিএনপি সরকার গঠনের পর গত ১২ মার্চ অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে অধ্যাদেশগুলো উত্থাপন করেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান। পরে ১৫ মার্চ অনুষ্ঠিত অধিবেশনে অধ্যাদেশগুলো যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশেষ কমিটিতে পাঠানো হয়। এবং ২ এপ্রিলের মধ্যে সংসদে উত্থাপন করতে বলা হয়। অধ্যাদেশ নিয়ে এই বিশেষ কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নাল আবদিন। কমিটির সদস্যরা হলেন—ঢাকা-৮ আসনের মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, কক্সবাজার-১ আসনের সালাহউদ্দিন আহমদ, বরগুনা-২ আসনের মো. নুরুল ইসলাম, ঝিনাইদহ-১ আসনের মো. আসাদুজ্জামান, কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের ড. ওসমান ফারুক, নোয়াখালী-১ আসনের এ. এম. মাহবুব উদ্দিন, জয়পুরহাট-২ আসনের মো. আব্দুল বারী, পঞ্চগড়-১ আসনের মুহাম্মদ নওশাদ জমির, নাটোর-১ আসনের ফারজানা শারমীন, রাজশাহী-১ আসনের মো. মুজিবুর রহমান, সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের মো. রফিকুল ইসলাম খান এবং সাতক্ষীরা-৪ আসনের জি. এম. নজরুল ইসলাম। সংসদীয় প্রক্রিয়া অনুযায়ী, নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে উত্থাপিত অধ্যাদেশগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাস না হলে সেগুলোর আইনি বৈধতা থাকে না। সে কারণেই এগুলো বিশেষ কমিটিতে পাঠিয়ে যাচাই-বাছাই শেষে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা এসব অধ্যাদেশের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক সংশোধন, গণভোট, সাইবার সুরক্ষা, পুলিশ কমিশন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন-সংক্রান্ত অধ্যাদেশও।