জাতীয়

ফেনী-বিলোনিয়া সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, স্থানীয়দের প্রতিবাদে কাজ বন্ধ

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ফেনী-বিলোনিয়া স্ট্যান্ডার্ড টু লেন সড়ক সম্প্রসারণ ও নির্মাণকাজে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার ও নকশা অনুযায়ী কাজ না করার অভিযোগে স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিবাদের মুখে কাজ বন্ধ হয়ে গেছে।

 

সোমবার (১০ আগস্ট) পরশুরাম উপজেলার সলিয়া থেকে চিথলিয়া পর্যন্ত এলাকায় স্থানীয় কয়েক ডজন বাসিন্দা নির্মাণকাজে বাধা দেন। এতে সড়কের ওই অংশের কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইট, পাথর, রড ও সিমেন্ট ব্যবহার করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও নকশা অনুযায়ী গাইডওয়াল বা গার্ডওয়াল নির্মাণ ছাড়াই কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া পুরোনো সড়কের পিচ সম্পূর্ণ অপসারণ না করা, বৈদ্যুতিক খুঁটি ও গাছপালা সরানো ছাড়া কাজ চালানো এবং একাধিক স্থানে একসঙ্গে খোঁড়াখুঁড়ির কারণে যানজট ও জনদুর্ভোগ তৈরি হয়েছে।

 

সলিয়া গ্রামের বাসিন্দা গাজী ইউসুফ বাপ্পি বলেন, নকশা অনুযায়ী সড়কের দুই পাশে গাইডওয়াল থাকার কথা থাকলেও অনেক স্থানে তা নির্মাণ করা হচ্ছে না। এতে বর্ষা মৌসুমে সড়কের স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

 

আরেক বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী অভিযোগ করেন, নির্মাণসামগ্রীর মান নিয়ে স্থানীয়রা বারবার আপত্তি জানালেও তা গুরুত্ব পায়নি। এ কারণে বাধ্য হয়ে তারা কাজ বন্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছেন।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, মাঠপর্যায়ে সরকারি তদারকি খুব কম দেখা যায়। তাদের দাবি, নিয়মিত নজরদারি না থাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইচ্ছেমতো কাজ করছে।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফেনী সদর থেকে ফুলগাজী হয়ে পরশুরাম-বিলোনিয়া স্থলবন্দর পর্যন্ত প্রায় ২৮ কিলোমিটার সড়ক আধুনিক ও নিরাপদ আঞ্চলিক মহাসড়কে উন্নীত করার কাজ চলছে। বর্তমানে সড়কটির প্রস্থ ১৮ ফুট হলেও সম্প্রসারণ শেষে তা প্রায় ৩৪ ফুট বা ১০ দশমিক ৩০ মিটার করার পরিকল্পনা রয়েছে।

 

প্রকল্পটি তিনটি কার্যাদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মধ্যে পরশুরাম অংশের একটি কার্যাদেশের আওতায় প্রায় ৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং।

 

সড়কটি কাজীরবাগ, মজিদ মিয়ার বাজার, বন্দুয়া, আনন্দপুর, মুন্সীরহাট, ফুলগাজী ও পরশুরামসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বাজার এবং বিলোনিয়া স্থলবন্দরের প্রধান যোগাযোগপথ হওয়ায় দ্রুত মানসম্মত কাজ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

 

অভিযোগের বিষয়ে ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

 

তবে ফেনী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীতি চাকমা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, যেসব ইট নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে সেগুলো মূল নির্মাণকাজে ব্যবহারের জন্য নয়; পানি কিউরিংয়ের কাজে সাময়িকভাবে আনা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।

 

পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অতনু বড়ুয়া বলেন, নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ ও স্থানীয়দের প্রতিবাদের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি তারা দেখছেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সংগৃহীত ছবি
ডেঙ্গুমুক্ত নগর গড়তে নগরবাসীর সহযোগিতা জরুরি : ডিএনসিসি প্রশাসক

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, নাগরিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষণা অনুযায়ী ডিএনসিসি এলাকাকে এডিস মশামুক্ত এবং ফুটপাত দখলমুক্ত করে তা জনগণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।   শনিবার ডিএনসিসির আয়োজনে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও লার্ভা ধ্বংসে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা সপ্তাহের উদ্বোধনকালে তিনি এ ঘোষণা দেন।   ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন গত তিন মাস ধরে ডেঙ্গুমুক্ত নগর গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। ডেঙ্গু মশার লার্ভা ধ্বংসে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি ১০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।   তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী আগামী তিন মাসের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকাকে ডেঙ্গুমুক্ত করার লক্ষ্যে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বিভিন্ন বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসা-বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থানে ডেঙ্গু মশার লার্ভা শনাক্তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কোথাও লার্ভা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী জরিমানা করা হচ্ছে।   শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ডেঙ্গুমুক্ত নগর গড়ে তুলতে নগরবাসীর সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি। এ লক্ষ্যে ঢাকা উত্তরের নগরবাসীর উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের মাধ্যমে চিঠিটি জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। নগরবাসী সচেতন হয়ে সিটি কর্পোরেশনের কার্যক্রমে সহযোগিতা করবেন বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।   তিনি বলেন, ডেঙ্গুমুক্ত নগর গড়ে তোলা শুধু সিটি কর্পোরেশনের একার পক্ষে সম্ভব নয়। জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা ও অংশগ্রহণের মাধ্যমেই ঢাকা উত্তরকে ডেঙ্গুমুক্ত করা সম্ভব।   মেট্রোরেলের পিলারে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের পোস্টার-লিফলেট লাগানোর বিষয়ে বিরক্তি প্রকাশ করে প্রশাসক বলেন, নগরের সৌন্দর্য রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মেট্রোরেলের সব পিলার থেকে অবৈধ পোস্টার ও লিফলেট অপসারণের নির্দেশ দেন তিনি।   ফুটপাত দখল প্রসঙ্গে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, ফুটপাত জনগণের অধিকার। নিরাপদে ফুটপাত দিয়ে জনগণের চলাচল নিশ্চিত করাই স্বাভাবিক নিয়ম। কিন্তু সেই নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে যারা ফুটপাত দখল করে ব্যবসা-বাণিজ্য করছেন, তাদের প্রথমে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নোটিশ পাওয়ার পরও তারা কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেননি।   তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এখন আর নোটিশ নয়; যেখানেই ফুটপাত দখল করা হবে, সেখানেই ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হবে। অবৈধভাবে দখল করা ফুটপাত উচ্ছেদ করে জনগণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।   প্রশাসক বলেন, জনগণ সকল ক্ষমতার উৎস। জনগণের ক্ষমতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন। দেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে সরকারকে সহযোগিতা করা এবং কেউ এই অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করতে চাইলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তা মোকাবিলা করার কথাও বলেন তিনি।   তিনি বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ এবং সবার জন্য বাংলাদেশ’-এই নীতিতে প্রধানমন্ত্রীর পাশে থেকে দেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অংশীদার হওয়াই আমাদের অঙ্গীকার। বিশেষ পরিচ্ছন্নতা সপ্তাহের উদ্বোধন শেষে মেট্রোরেলের নিচে ব্যবসা করা দোকানিদের ময়লা-আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার জন্য ডিএনসিসির উদ্যোগে বিশেষ বিন স্থাপন করা হয়। এ সময় দোকানিদের নির্ধারিত বিনে ময়লা ফেলার আহ্বান জানানো হয়।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

গণহত্যায় জড়িত প্রত্যেকের বিচার হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

পারমাণবিক সহযোগিতায় বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি স্বাক্ষর

ছবি: সংগৃহীত

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে বাদ পড়াদের পুনর্বিবেচনাসহ ৫ দফা দাবি

ছবি: সংগৃহীত
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ডিএসসিসির ৭৫ ওয়ার্ডে একযোগে ‘ক্লিনিং ডে’

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন ৭৫টি ওয়ার্ডে একযোগে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। দেশব্যাপী তিন মাসের বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) এ কার্যক্রম চালানো হয়।   ডিএসসিসির ১০টি অঞ্চলে আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে দিনব্যাপী এ অভিযান পরিচালিত হয়। রাজধানীর মতিঝিলের এজিবি কলোনি এলাকায় কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম।   উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সপ্তাহের সাত দিনই চলমান থাকবে। পাশাপাশি প্রতি শনিবার নাগরিক সমাজ ও বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।   ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, সমাজের সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে ডেঙ্গুর বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। সরকারি আবাসিক এলাকাগুলোতে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। একই সঙ্গে সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সব রাজনৈতিক দলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।   ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব কমাতে ডিএসসিসির প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রতি শনিবার বিশেষ ‘ক্লিনিং ডে’ কর্মসূচি পরিচালনা করা হচ্ছে। এ কার্যক্রমের আওতায় এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল শনাক্ত ও ধ্বংস, মশক নিধন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।   শনিবারের অভিযানে বিভিন্ন ওয়ার্ডের বাসাবাড়ি, সড়ক, অলিগলি, ড্রেন, নির্মাণাধীন ভবন, পার্কিং এলাকা ও পরিত্যক্ত স্থাপনায় তদারকি করা হয়। কোথাও জমে থাকা পানি বা এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলে তা অপসারণ ও ধ্বংস করা হয়।   এ ছাড়া ডাব-নারকেলের খোসা, প্লাস্টিকের বোতল, পুরোনো টায়ার ও ফুলের টবসহ যেসব স্থানে পানি জমতে পারে, সেগুলো সরিয়ে ফেলা হয়। একই সঙ্গে লার্ভিসাইডিং ও অ্যাডাল্টিসাইডিং কার্যক্রমের পাশাপাশি জমে থাকা ময়লা-আবর্জনাও পরিষ্কার করা হয়।   নগরবাসীকে কর্মসূচির সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে ৭৫টি ওয়ার্ডেই সচেতনতামূলক র‍্যালি ও লিফলেট বিতরণ করা হয়। এতে ডিএসসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারী, মশক নিধনকর্মী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন।   ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমাতে নগরবাসীকে নিজ নিজ বাসাবাড়ি, কর্মস্থল ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানিয়েছে ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষ।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

আইন পেশাকে মর্যাদা ধরে রেখে কাজ করতে হবে: ভূমি প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

রাঙ্গুনিয়ায় খালে ডুবে মাদরাসাছাত্রের মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত

১৭ বছরের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সময় লাগবে: পানিসম্পদ মন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
মানুষ-হাতি সংঘাত ঠেকাতে করিডোর সংরক্ষণে গুরুত্ব সরকারের

মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি বন্য হাতি সংরক্ষণে তাদের আবাসস্থল ও চলাচলের পথ সুরক্ষিত করার উদ্যোগ জোরদার করবে সরকার। সংঘাতপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করার পাশাপাশি আগাম সতর্কতা ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থাও শক্তিশালী করার কথা জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।   শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পর্যটন ভবনের শৈলপ্রপাত মিলনায়তনে ‘হাতি সংরক্ষণ : বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।   মন্ত্রী বলেন, বন্য হাতি রক্ষা মানে শুধু হাতির সংখ্যা ধরে রাখা নয়। এর সঙ্গে তাদের আবাসস্থল, চলাচলের করিডোর, পরিবেশের ভারসাম্য এবং হাতির বিচরণ এলাকার মানুষের নিরাপত্তা ও জীবিকার বিষয়ও সম্পৃক্ত।   বাংলাদেশের বন্য হাতি বর্তমানে গুরুতর সংকটের মধ্যে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শেরপুর, জামালপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, সিলেট, চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে হাতির চলাচল বেশি দেখা যায়।   মন্ত্রী জানান, ২০১৬ সালে দেশে আনুমানিক ২৬৮টি হাতি ছিল। বন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত দেশে ১৪৬টি হাতির মৃত্যু হয়েছে।   হাতির আবাসস্থল ও চলাচলের এলাকা সংকুচিত হওয়া, বন উজাড়, খাদ্যের অভাব, সড়ক ও রেলপথ নির্মাণ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং বৈদ্যুতিক ফাঁদের মতো বিভিন্ন কারণে মানুষ ও হাতির মধ্যে সংঘাত বাড়ছে বলে জানান তিনি।   আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, হাতি লোকালয় কিংবা কৃষিজমিতে প্রবেশ করলে মানুষ ও প্রাণী—দুই পক্ষই ঝুঁকিতে পড়ে। তাই সংঘাতের পর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি আগে থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা শনাক্ত করতে হবে। হাতির করিডোর সংরক্ষণ, আগাম সতর্কতা এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।   স্থানীয় জনগণকে হাতি সংরক্ষণ কার্যক্রমের অংশীদার করার কথাও জানান পরিবেশমন্ত্রী। তিনি বলেন, এশীয় হাতির বিচরণের জন্য বড় পরিসরের এলাকা প্রয়োজন। কিন্তু বাংলাদেশের জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি হওয়ায় এখানে হাতি সংরক্ষণ একটি জটিল বিষয়। এজন্য একাধিক সরকারি সংস্থা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন, অবকাঠামো নির্মাণকারী কর্তৃপক্ষ, গবেষক, সংরক্ষণ সংগঠন ও স্থানীয় মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।   পার্বত্য চট্টগ্রামের সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকায় হাতি শিকার ও পাচারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী বন অধিদপ্তর ও বিজিবির মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর জোর দেন। সীমান্ত সড়কসহ নতুন অবকাঠামো নির্মাণের সময় হাতির ঐতিহ্যগত চলাচলের পথ বিবেচনায় রাখার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি হাতিসহ বড় বন্যপ্রাণীর নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থাও রাখার কথা বলেন।   বন্দী হাতির কল্যাণ নিশ্চিতের বিষয়েও গুরুত্ব দেন মন্ত্রী। তার মতে, বন্দী হাতির লাইসেন্স, সংখ্যা ও অবস্থান সম্পর্কে সঠিক তথ্য সংরক্ষণ এবং নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন। প্রশিক্ষণের নামে হাতিকে শিকলে রাখা, প্রহার বা নির্যাতনের অভিযোগ এবং সার্কাসসহ বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের বিষয়গুলো আইন অনুযায়ী পর্যালোচনা করা দরকার।   মানুষের তত্ত্বাবধানে থাকা হাতির জন্য যথাযথ চিকিৎসা ও দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করার আহ্বানও জানান তিনি।   সভায় সভাপতিত্ব করেন সাবেক উপদেষ্টা ও বেলার প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। বিশেষ অতিথি ছিলেন শেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী, পক্ষীবিদ ও বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ মুহাম্মদ আলী রেজা খান এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) শামিমা বেগম।   অনুষ্ঠানে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, বন অধিদপ্তর, দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ, গবেষক, পরিবেশবিদ, সংরক্ষণকর্মী, আইন বিশেষজ্ঞ এবং হাতি সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অংশীজন উপস্থিত ছিলেন।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পর সারা দেশে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা

ছবি: সংগৃহীত

কুষ্টিয়ায় থানায় তদবির করতে গিয়ে জামায়াত নেতা-বিএনপি কর্মীসহ ৮ জন আটক

ছবি: সংগৃহীত

শিশু রামিসা হত্যার ন্যায় বিচার নিশ্চিতে রামিসার বাবাকে অ্যাটর্নি জেনারেলের আশ্বাস

0 Comments