জাতীয়

রাষ্ট্রপতি ইস্যুতে বিএনপিতে নতুন আলোচনা, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব পদে আলোচনায় রিজভী

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পেতে পারেন—এমন জোরালো আলোচনা ঘিরে দলটির ভেতরে সম্ভাব্য সাংগঠনিক পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে তিনি রাষ্ট্রপতি হলে মহাসচিব পদ, স্থায়ী কমিটির একটি আসন, মন্ত্রিসভার একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় এবং তার সংসদীয় আসন শূন্য হতে পারে—এমন সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

 

বিএনপির একাধিক স্থায়ী কমিটির সদস্যের মতে, মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে আপাতত পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব নয়, একজন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করলে তিনি দলীয় পদ ছাড়বেন বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে, ফলে বিএনপির স্থায়ী কমিটিতেও একটি নতুন শূন্য পদ তৈরি হবে।

 

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব পদের আলোচনায় সবচেয়ে এগিয়ে আছেন। দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা এবং তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের কারণে তার নাম গুরুত্ব পাচ্ছে বলে জানা গেছে।

 

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, “তুলনামূলক তরুণ ও কর্মীবান্ধব কাউকে মহাসচিব পদে আনার সম্ভাবনাও রয়েছে। শেষ পর্যন্ত দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিদ্ধান্তই এখানে মুখ্য হবে।”

 

অন্যদিকে রুহুল কবির রিজভী বলেন, “আমি দলের প্রতি শতভাগ আনুগত্য নিয়েই কাজ করছি। দল আমাকে যেভাবে দায়িত্ব দেবে, সেই সিদ্ধান্ত নেবেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও দলের নীতিনির্ধারকেরা।” তিনি জানান, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব পদ নিয়ে এখনো তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

 

দলীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, স্থায়ী কমিটির সম্ভাব্য নতুন সদস্য হিসেবে আব্দুল আউয়াল মিন্টু, মোহাম্মদ শাহজাহান, শামসুজ্জামান দুদু, জয়নুল আবদীন ফারুক এবং রুহুল কবির রিজভীর নামও আলোচনায় রয়েছে।

 

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুস সালাম আজাদ বলেন, “গত ১৭ বছর ধরে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে রুহুল কবির রিজভীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সে কারণে তার সম্ভাবনা বেশি বলে আলোচনা রয়েছে। তবে দলের চেয়ারম্যান গঠনতান্ত্রিক ক্ষমতাবলে যে কাউকে দায়িত্ব দিতে পারেন।”

 

এদিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়েও পরিবর্তন আসতে পারে। সম্ভাব্য নতুন মন্ত্রী হিসেবে বর্তমান প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নাম আলোচনায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি।

 

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মির্জা ফখরুলের সংসদীয় আসন শূন্য হওয়া। সে ক্ষেত্রে উপ-নির্বাচনে বিএনপি কাকে প্রার্থী করবে, তা নিয়েও দলের ভেতরে আলোচনা শুরু হয়েছে। তার পরিবারের কেউ প্রার্থী হবেন, নাকি দলীয়ভাবে নতুন কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হবে—এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

 

বিএনপির একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, নভেম্বরের শেষ বা ডিসেম্বরে জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। সে কারণে স্থায়ী কমিটির শূন্য পদগুলোতে তাৎক্ষণিক নিয়োগ না দিয়ে কাউন্সিল পর্যন্ত অপেক্ষা করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

 

তবে পুরো বিষয়টির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটাই প্রশ্ন—মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সত্যিই রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন কি না। সেই সিদ্ধান্ত স্পষ্ট হওয়ার পরই বিএনপির সাংগঠনিক ও সরকারি পর্যায়ের সম্ভাব্য পরিবর্তনের চিত্র পরিষ্কার হবে বলে দলীয় নেতারা মনে করছেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
নয়া দিল্লিতে বাংলাদেশি ইলিশ ঘিরে জমকালো আয়োজন

বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ইলিশকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশেষ ‘ইলিশ ফেস্ট’। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনের মৈত্রী মিলনায়তনে এ আয়োজন করা হয়।   উৎসবে ভারতীয় রাজনীতিবিদ, কূটনীতিক, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।   অনুষ্ঠানে ঢাকা থেকে প্রকাশিত ‘অ্যা ফিশ কল্ড ইলিশ’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। ভারতের বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট নাগরিকরা বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন।   ইলিশকে ঘিরে বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও খাদ্যসংস্কৃতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয় উৎসবে। অতিথিদের জন্য ইলিশের নানা পদ পরিবেশনের পাশাপাশি বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী খাবার ও রন্ধনশৈলীর বৈচিত্র্যও উপস্থাপন করা হয়।   আয়োজনে অংশ নেওয়া অতিথিরা বাংলাদেশের ইলিশের স্বাদ গ্রহণ করেন এবং ইলিশকে ঘিরে বাঙালির আবেগ, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানার সুযোগ পান।   অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও সাংবাদিক এম. জে. আকবর, সাবেক কূটনীতিক ও রাজনীতিবিদ মণি শংকর আইয়ার, মানবাধিকারকর্মী ও সমাজচিন্তক সাইদা হামদি, ভারতের সাবেক রাষ্ট্রদূত রনেন সেন, সমাজবিজ্ঞানী আশিস নন্দীসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।   অতিথিরা আয়োজন ও বাংলাদেশের ইলিশের প্রশংসা করেন। তাদের মতে, এ ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজন দুই দেশের মানুষের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও গভীর করতে ভূমিকা রাখতে পারে।   বইটির মোড়ক উন্মোচন শেষে বাংলাদেশ হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ বলেন, ইলিশ বাংলাদেশের পরিচয়ের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। দেশের সমাজ ও অর্থনীতির সঙ্গেও মাছটির গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে।   তিনি জানান, বাংলাদেশে ইলিশের প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে পাঁচটি অভয়াশ্রম রয়েছে। ইলিশ সংরক্ষণ ও উৎপাদন বাড়াতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে এর সংরক্ষণ ও উৎপাদন ক্রমেই বাড়ছে।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

‘ডিসেম্বর নয়, এখনই আসুন’—শেখ হাসিনাকে তথ্য প্রতিমন্ত্রী

সংগৃহীত ছবি

ডেঙ্গুমুক্ত নগর গড়তে নগরবাসীর সহযোগিতা জরুরি : ডিএনসিসি প্রশাসক

ছবি: সংগৃহীত

গণহত্যায় জড়িত প্রত্যেকের বিচার হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
পারমাণবিক সহযোগিতায় বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি স্বাক্ষর

পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক ব্যবহারে সহযোগিতার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পর স্থানীয় সময় ২৫ সেপ্টেম্বর চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।   শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিএনপি মিডিয়া সেল এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। এতে বলা হয়, বাংলাদেশের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসাদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জ্বালানি ও পরিবেশ বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেকব হেলবার্গ চুক্তিতে সই করেন।   বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৯৮১ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারে সহযোগিতার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, নতুন এই চুক্তি তারই ধারাবাহিকতা।   এর আগে গত ২৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে এক ব্রিফিংয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি বেথানি পৌলোস মরিসন বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের সাম্প্রতিক অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, সফরকালে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। পাশাপাশি বিমান প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে একটি বড় বাণিজ্যিক চুক্তিও হয়েছে, যা নিয়ে ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন।   ওই ব্রিফিংয়ে মরিসন জানিয়েছিলেন, দুই দেশের মধ্যে পরমাণু শক্তির বেসামরিক ব্যবহার নিয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার নিয়ে চুক্তির খবরের মধ্যেই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের ইউরেনিয়াম জ্বালানি পৌঁছানো নিয়ে সাময়িক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী গত বৃহস্পতিবার নতুন চালানটি ঢাকায় পৌঁছানোর কথা ছিল।   বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শেখ মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম জানান, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন থাকলেও আকাশপথের ছাড়পত্র না পাওয়ায় চালানটি পাঠানো সম্ভব হয়নি।   তিনি বলেন, ‘আমরা বিমানবন্দরে পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে অপেক্ষা করছিলাম। কিন্তু রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থা রসাটমের লিয়াজোঁ অফিসার আমাদের নিশ্চিত করেন যে সংশ্লিষ্ট এলাকার আকাশপথ উন্মুক্ত ছিল না। ফলে ফ্লাইটটি বাতিল করতে হয়েছে এবং পরবর্তী সময়সূচি পরে পুনর্নির্ধারণ করা হবে।’   তবে কোন দেশের আকাশপথ ব্যবহার না করা বা কী ধরনের বাধার কারণে ফ্লাইটটি বিলম্বিত হয়েছে, সে বিষয়ে সরকারি পর্যায়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।   রূপপুর প্রকল্পের অগ্রগতি পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নে পদ্মা নদীর তীরে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প। রাশিয়ার প্রযুক্তিগত সহায়তায় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটির কাজ এগিয়ে চলছে।   কেন্দ্রটির দুটি ইউনিটে তৃতীয় প্রজন্মের ‘ভিভিইআর-১২০০’ রিঅ্যাক্টর ব্যবহার করা হচ্ছে। দুই ইউনিট থেকে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।   ২০২৩ সালের অক্টোবরে প্রথম ইউনিটের জন্য ১৬৪টি ফ্রেশ ফুয়েল অ্যাসেম্বলি রাশিয়ার রসাটমের নোভোসিবির্স্ক কারখানা থেকে বিশেষ কার্গো বিমানে ঢাকায় আনা হয়। পরে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নজরদারিতে বিমানবন্দর থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার সুরক্ষিত ‘গ্রিন করিডর’ দিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাহারায় তা রূপপুর প্রকল্পে পৌঁছানো হয়।   যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন সমঝোতা স্মারক এবং রাশিয়ার প্রযুক্তিগত সহায়তায় নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র—দুই উদ্যোগই বাংলাদেশের পরমাণু প্রযুক্তি, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে বাদ পড়াদের পুনর্বিবেচনাসহ ৫ দফা দাবি

ছবি: সংগৃহীত

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ডিএসসিসির ৭৫ ওয়ার্ডে একযোগে ‘ক্লিনিং ডে’

ছবি: সংগৃহীত

আইন পেশাকে মর্যাদা ধরে রেখে কাজ করতে হবে: ভূমি প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
রাঙ্গুনিয়ায় খালে ডুবে মাদরাসাছাত্রের মৃত্যু

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় রাজখালী খালে পড়ে মুহাম্মদ মিনহাজ (১২) নামে এক মাদরাসাছাত্রের মৃত্যু হয়েছে।   শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের খতিবনগর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।   নিহত মিনহাজ খতিবনগর এলাকার মুহাম্মদ ইব্রাহিমের ছেলে। সে ইসলামপুর তৈয়্যবিয়া তাহেরিয়া ছত্তারিয়া সুন্নিয়া মাদরাসার হিফজ বিভাগের শিক্ষার্থী ছিল।   পরিবার ও স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা যায়, অসুস্থতার কারণে তিন দিন আগে মিনহাজকে মাদরাসা থেকে ছুটি দিয়ে বাড়িতে নিয়ে যান তার মা। শনিবার বেলা ১১টার দিকে তাকে আবার মাদরাসায় নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল।   এর আগে সকাল ৯টার দিকে মিনহাজ বাড়িতে সাইকেল রেখে এক বন্ধুর সঙ্গে বাইরে বের হয়। পরে দুজন রাজখালী খালের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় মিনহাজ পানিতে পড়ে যায়।   তার সঙ্গে থাকা বন্ধু ঘটনাটি দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে তারা খাল থেকে মিনহাজকে উদ্ধার করে রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।   মাদরাসার সুপার মাওলানা নুরুল আলম বলেন, মিনহাজ মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল। অল্প সময়ের মধ্যে সে পবিত্র কোরআনের চার পারা হিফজ করেছিল। তার আকস্মিক মৃত্যুতে মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা শোকাহত।   রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ জহির উদ্দিন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

১৭ বছরের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সময় লাগবে: পানিসম্পদ মন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

মানুষ-হাতি সংঘাত ঠেকাতে করিডোর সংরক্ষণে গুরুত্ব সরকারের

ছবি: সংগৃহীত

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পর সারা দেশে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা

0 Comments