দেশে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় বাড়ছে অস্থিরতা ও সহিংসতা। চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) বিভিন্ন ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন কমপক্ষে ১৭০ জন। এসব ঘটনায় নিহত হয়েছেন অন্তত ৬৫ জন। অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা, মাদক ও জমি দখলবাজি, চাঁদাবাজি এবং প্রভাব বিস্তারের লড়াইয়ে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, এ সময়ের মধ্যে ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, গাজীপুর, বরিশাল ও সিলেট অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি অস্ত্রধারী গোষ্ঠীর তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। তাদের অধিকাংশই পুরোনো অপরাধচক্র, যারা স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়ে থেকে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
রাজধানীতেই গত তিন মাসে সংঘটিত ছয়টি বড় ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনায় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ। এর মধ্যে কয়েকটি ঘটনায় প্রকাশ্যে গুলি ছোড়া হয়েছে। একাধিক মাদক চক্র ও ভূমিদস্যু দল নিজেদের প্রভাব বিস্তারে অস্ত্র ব্যবহার করছে বলে নিশ্চিত করেছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, অস্ত্র উদ্ধারের অভিযান জোরদার করা হলেও সীমান্তপথে অবৈধ অস্ত্র আসা ঠেকানো যাচ্ছে না। বিশেষ করে মিয়ানমার সীমান্ত ও দক্ষিণাঞ্চলের নদীপথকে অস্ত্র চোরাচালানের প্রধান রুট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। গত নয় মাসে সীমান্ত এলাকায় অন্তত ২৭টি অভিযানে বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র ও বিপুল গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
অপরাধ বিশ্লেষক অধ্যাপক তৌহিদুল হক বলেন, “অবৈধ অস্ত্র এখন শুধু অপরাধ জগতেই নয়, সাধারণ বিরোধ-সংঘাতেও ব্যবহৃত হচ্ছে। এর ফলে সহিংসতা বেড়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে পড়ছে।”
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, অস্ত্রের সহজলভ্যতা ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি সহিংসতার মাত্রা বাড়াচ্ছে। তারা মনে করেন, সীমান্ত ও অভ্যন্তরীণ বাজারে অস্ত্র প্রবাহ রোধে সমন্বিত অভিযান এবং কঠোর নজরদারি না চালালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
এদিকে পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, দেশে চলতি বছর এখন পর্যন্ত ৪১২টি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে এবং অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে ৩০৯টি। তবে আটক অস্ত্রের সংখ্যা মোট প্রচলিত অস্ত্রের তুলনায় খুবই কম—যা ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আর মাত্র ১১ দিন বাকি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হবে। তবে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রচারণা শেষ করতে হবে তার দুই দিন আগেই—১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টার মধ্যে। সে হিসাবে হাতে আছে মাত্র নয় দিনের প্রচারকাল। এই স্বল্প সময়েই বিরামহীন প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। পাশাপাশি নিজেদের ও প্রতিপক্ষ দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘাত-সহিংসতাও সামাল দিতে হচ্ছে। ভোটের মাঠে শীর্ষ নেতারাও নেমেছেন সর্বশক্তি দিয়ে। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান গতকাল শনিবার উত্তরবঙ্গ সফর শেষে ঢাকায় ফেরেন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান শুক্রবার ফেনীতে জনসভার মাধ্যমে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাদের নিয়ে চট্টগ্রাম বিভাগে নির্বাচনী সফর শুরু করেন। শনিবার তিনি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে জনসভা করেন। এর আগে নির্বাচনী প্রচার শুরুর প্রথম দিন নিজ নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১৫ আসনে সমাবেশে বক্তব্য দেন ডা. শফিকুর রহমান। পরে ২৩ ও ২৪ জানুয়ারি উত্তরবঙ্গের আটটি জেলায় এবং ২৫ জানুয়ারি ঢাকার ৫, ৬ ও ৭ আসনে জনসমাবেশে অংশ নেন তিনি। জামায়াতে ইসলামীর এসব জনসমাবেশে ব্যাপক জনসমাগম লক্ষ্য করা গেছে, যা দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। অন্যদিকে বগুড়া জেলা বিএনপি নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে গতকাল সিরাজগঞ্জের জনসভার উদ্দেশে রওনা হন তারেক রহমান। এ সময় বগুড়া শহরের মেডিক্যাল মোড় থেকে শেরপুরের চান্দাইকোনা পর্যন্ত তাঁকে একনজর দেখতে হাজার হাজার মানুষ ভিড় করেন। ঢাকা–রংপুর মহাসড়ক পরিণত হয় জনসমুদ্রে। পরে তিনি সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলে দুটি বড় জনসভা এবং কয়েকটি পথসভায় অংশ নেন। এর আগে নির্বাচনী প্রচারণার প্রথম দিন ২২ জানুয়ারি টানা ১৬ ঘণ্টায় সাতটি সমাবেশ শেষ করে ২৩ জানুয়ারি ভোরে গুলশানের বাসায় ফেরেন তারেক রহমান। তারও আগে রাত সাড়ে ৪টার দিকে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার রূপগঞ্জের গাউছিয়ায় নির্বাচনী সমাবেশ করেন তিনি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগামীকাল সোমবার খুলনা এবং বুধবার বরিশাল বিভাগে নির্বাচনী সফরে যেতে পারেন বিএনপি চেয়ারম্যান। ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বাক্যবাণ ততই শাণিত হচ্ছে। একই সঙ্গে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন প্রার্থীরা। গতকাল বিকেলে সিরাজগঞ্জের বিসিক শিল্প পার্কে এক জনসভায় তারেক রহমান বলেন, ‘যারা বিভ্রান্তিমূলক কথা ছড়ায়, তাদের একটিই নাম—গুপ্ত। গত ১৬ বছর ধরে আমরা তাদের দেখিনি। তারা সব সময় তলে তলে ছিল।’ এদিকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আখচা ইউনিয়নের বলদাপুকুর গ্রামে এক নির্বাচনী সভায় হিন্দু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনাদের নিরাপত্তার জন্য যদি শহীদ হতে হয়, তবে প্রথম শহীদ হব আমি ও আমার দলের কর্মীরা। নির্ভয়ে ভোট দিতে যান।’ অন্যদিকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বিএনপির উদ্দেশে বলেন, ‘জাতিকে আর কষ্ট দিয়েন না। আপনারাও একসময় মজলুম ছিলেন, তাহলে এখন কেন জালিম হলেন।’ একই দিনে চাঁদপুরে এক সমাবেশে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, ক্ষমতায় গেলে একটি দল মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দিতে পারবে না। বাকযুদ্ধের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে। কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জগন্নাথদীঘি ইউনিয়নের হাটবাইর গ্রামে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হন। ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলাতেও একই ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও যৌথ বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এদিকে প্রার্থীদের জনপ্রিয়তার চিত্রও ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বরিশাল বিভাগে বিএনপি তুলনামূলকভাবে এগিয়ে থাকলেও অন্তত নয়টি আসনে ফল শেষ মুহূর্তের সমীকরণের ওপর নির্ভর করছে। ময়মনসিংহ বিভাগে বহু আসনে বিএনপি, জামায়াত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস মিলছে। রাজশাহী বিভাগে ৩৯টি আসনের মধ্যে অন্তত ২৩টিতে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে মূল লড়াই হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফেনী, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ বিভিন্ন জেলায় দলীয় কোন্দল, বিদ্রোহী প্রার্থী ও নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ নির্বাচনী মাঠকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বাড়তি ভোটার সচেতনতা, তরুণ ও প্রবাসী ভোটারদের ভূমিকা এবং দলীয় অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব—সব মিলিয়ে এবারের নির্বাচন হতে যাচ্ছে অনিশ্চয়তা ও উত্তেজনায় ভরা এক কঠিন রাজনৈতিক লড়াই।
এপেক্স কাপ গলফ টুর্নামেন্ট-২০২৬ দেশের গলফ অঙ্গনের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) ৪ দিনব্যাপী এ টুর্নামেন্টের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান এ আশা ব্যক্ত করেন। ঢাকা সেনানিবাসের আর্মি গলফ ক্লাবে এ পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার রাতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। আইএসপিআর জানায়, সেনাপ্রধান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে টুর্নামেন্টে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। এরপর প্রধান অতিথি উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে তাঁর বক্তব্য প্রদান করেন। এ ধরনের প্রতিযোগিতার আয়োজন দেশের গলফ অঙ্গনের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সেনাপ্রধান এবং এই আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান তিনি। এই টুর্নামেন্টে সর্বমোট ৮১৩ জন গলফার অংশ নেন। টুর্নামেন্টে কর্নেল ইমতিয়াজ মাহমুদ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। এ ছাড়াও ভেটারান বিভাগে কর্নেল মোহাম্মদ মহিউদ্দিন (অব.), সিনিয়র বিভাগে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহ-আল-আজহার (অব.), লেডিস বিভাগে মিসেস শারমিন জাহাঙ্গীর এবং জুনিয়র বিভাগে মাস্টার সৈয়দ মাহদী মাহবীর বিজয়ী হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেন। সমাপনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা, আর্মি গলফ ক্লাবের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তি, খেলোয়াড় এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, গত ১৪ জানুয়ারি শুরু হওয়া এই টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন আর্মি গলফ ক্লাবের প্রেসিডেন্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল খান ফিরোজ আহমেদ।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) অনুযায়ী নগদ ক্রয় চুক্তি নম্বর জি-টু-জি-০২ এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৫৮ হাজার ৩৫৯ মেট্রিক টন গম নিয়ে এমভি ডব্লিউএফ আর্টেমিস জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহিঃনোঙরে পৌঁছেছে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে সরকারের (জি-টু-জি) ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম আমদানি কার্যক্রম শুরু করেছে। জি-টু-জি-০২ চুক্তির আওতায় মোট ২ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন গম আমদানি করা হবে। এর তৃতীয় চালান হিসেবে ৫৮ হাজার ৩৫৯ মেট্রিক টন গম নিয়ে এমভি ডব্লিউএফ আর্টেমিস বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের বহিঃনোঙরে অবস্থান করছে। এর আগে প্রথম ও দ্বিতীয় চালানে মোট ১ লাখ ১৪ হাজার ৯৩ মেট্রিক টন গম দেশে এসেছে। উল্লেখ্য, জি-টু-জি-০১ চুক্তির আওতায় ইতোমধ্যে মোট ২ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন গম আমদানি সম্পন্ন হয়েছে। জাহাজে থাকা গমের নমুনা পরীক্ষার কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার ফলাফল শেষে দ্রুত গম খালাসের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।