দীর্ঘ ৫৩ বছর পর এনবিএ শিরোপা জয়ের আনন্দে মেতে উঠেছিল নিউইয়র্ক। তবে উদযাপনের মধ্যেই টাইমস স্কয়ার এলাকায় গুলির ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গুলির শব্দে শত শত মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটতে শুরু করে। এসময় উল্লসিত ভক্তরা বাস ও পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করে, যার ফলে অর্ধশাতধিক লোককে গ্রেপ্তার করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, নিউইয়র্ক নিক্সের শিরোপা উদযাপনের সময় টাইমস স্কয়ার এলাকায় পরপর কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা যায়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ঘটনায় ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর গুলিবিদ্ধ হয়েছে।
অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে না পারায় তাকে পুলিশের গাড়িতে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। উদযাপন চলাকালে আরও কয়েকজন আহত হন এবং বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, অন্তত চারজন ছুরিকাঘাতের শিকার হয়েছেন।
এদিকে আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, টাইমস স্কয়ারে এক ব্যক্তিকে আটক করে তার কাছ থেকে একটি লোডেড আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করছে পুলিশ।
শিরোপা উদযাপন ঘিরে বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। কিছু উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি বেসবল ব্যাট দিয়ে পুলিশ গাড়িতে হামলা চালায়, গাড়ির কাচ ভাঙচুর করে এবং পাঁচটি স্কুলবাস ও পাঁচটি পুলিশ যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেয়।
এ সময় বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। অনেককে সড়কের বাতিস্তম্ভ ও ট্রাফিক সিগন্যালের ওপর উঠে আতশবাজি ফোটাতে দেখা যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলবাসগুলোর কিছু ব্যবহার করা হচ্ছিল ফুটবল বিশ্বকাপের ম্যাচ উপলক্ষে দর্শকদের পরিবহনের কাজে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, কয়েকজন বাসের ছাদে উঠে পড়ে এবং চালকের আসনেও বসে পড়ে। এর মধ্যে একটি হলুদ স্কুলবাসে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
নিউইয়র্ক পুলিশ জানিয়েছে, সহিংসতার ঘটনায় অন্তত ১০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। ঘটনার পর ৬৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ সদস্যের ওপর হামলা, অস্ত্র রাখার অভিযোগ এবং জনশৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৭৩ সালের পর এই প্রথম এনবিএ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে নিক্স। ১৯৯৯ সালের পর এবারই প্রথম তারা এনবিএ ফাইনালে উঠেছিল। এর আগে ১৯৯৪ ও ১৯৯৯ সালে ফাইনালে উঠলেও শিরোপা জিততে পারেনি। নিকসের শিরোপা উদযাপন উপলক্ষে আগামী বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে বিজয় শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ উপলক্ষে শহরজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সূত্র : এনডিটিভি ও বিবিসি
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়ে বাধ্য করতে কোন কৌশলে ওয়াশিংটনের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে ইরান সামরিক শক্তিতে যা সম্ভব নয়, অর্থনৈতিক চাপ দিয়ে তা আদায় করতে চায় ইরান। ইরানের বিশ্বাস, চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত ছাড় দেবেন ট্রাম্প। বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত করার সক্ষমতাকে সবচেয়ে বড় শক্তি মনে করছে তেহরান। সংঘাত এখন কে বেশি দিন চাপ সহ্য করতে পারে, সেই লড়াইয়ে রূপ নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতের মাশুল ধীরে ধীরে বাড়িয়ে তুলতে মধ্যপ্রাচ্যের বাণিজ্যপথ, নৌপথ ও জ্বালানি অবকাঠামোকে চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার কৌশল নিয়েছে ইরান। উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকজন কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকের মতে, তেহরান মনে করে, এভাবে তারা ওয়াশিংটনের চেয়ে বেশি সময় টিকে থাকতে পারবে। বিশ্লেষক ও কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, দ্রুত ও চূড়ান্ত সামরিক বিজয়ের চেষ্টা না করে ইরান ‘নিয়ন্ত্রিত উত্তেজনা বৃদ্ধির’ কৌশল গ্রহণ করেছে। এর উদ্দেশ্য হলো পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু না করেই সংঘাতের পরিধি বৃদ্ধি করা। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই কৌশলের লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বোঝানো, হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের সঙ্গে সমঝোতা না করলে সংকট আরও বাড়বে। আর সেই সংকট সামাল দিতে তাদেরকেই বেশি মূল্য দিতে হবে। তেহরানের মূল বার্তা হলো হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বড় ভূমিকার দাবি যুক্তরাষ্ট্র মেনে না নিলে সংঘাত শুধু উপসাগরীয় অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকবে না; এটি আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে। চলমান অচলাবস্থা অব্যাহত থাকলে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ও জ্বালানি স্থাপনাকে ঝুঁকির মুখে ফেলে ভবিষ্যতের যেকোনো আলোচনায় নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে চায় ইরান। ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউটের গবেষক মাইকেল নাইটস রয়টার্সকে বলেন, ‘শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ বৃদ্ধি করার চেষ্টা করেছে ইরান। তারা এমনভাবে উত্তেজনা বৃদ্ধির বিকল্পগুলো ছড়িয়ে রেখেছে, যাতে করে নতুন ভৌগোলিক এলাকা, নতুন ধরনের অস্ত্র বা নতুন ধরনের লক্ষ্যবস্তুর মতো বিষয় প্রতি সপ্তাহে সামনে আনতে পারে।’ মাইকেল নাইটস আরও বলেন, ‘তাদের সবচেয়ে বড় সুবিধা এটি নয় যে তারা যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের ক্ষতি করতে পারে। তাদের আসল সুবিধা হলো তারা এই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশ ও বৈশ্বিক অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।’ হরমুজের গণ্ডি পেরিয়ে হুমকি যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। এই প্রণালিতে এরই মধ্যে সফলভাবে নৌযান চলাচল ব্যাহত করার সক্ষমতা দেখিয়েছে ইরান। এখন তেহরান ইঙ্গিত দিচ্ছে, তারা চাইলে ওই অঞ্চলের যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে আঘাত হানতে পারে। লোহিত সাগর ও সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো ঘিরে সম্প্রতি নতুন হুমকি তৈরি হয়েছে। এটা ইরানের বৃহত্তর কৌশলের অংশ। বৈশ্বিক বাণিজ্য সুরক্ষার ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি ওয়াশিংটন কতটা অস্থিরতা মেনে নিতে পারে—এর মধ্য দিয়ে তারা তা যাচাই করে নিতে চায়। চলমান অচলাবস্থা অব্যাহত থাকলে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ও জ্বালানি স্থাপনাকে ঝুঁকির মুখে ফেলে ভবিষ্যতের যেকোনো আলোচনায় নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে চায় ইরান। উপসাগরীয় অঞ্চলের একটি সূত্রের ভাষ্যমতে, ইরানের এই কৌশলের পেছনে দেশটির ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কমান্ডারদের একটি বিশ্বাস কাজ করছে। তাঁরা মনে করেন, এসব কিছুর মাধ্যমে ‘তারা আরও বেশি কিছু আদায় করে নিতে পারে।’ আইআরজিসির কমান্ডারদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রে আগামী নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। গুরুত্বপূর্ণ এ নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে গভীর কোনো সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে আগ্রহী নন। ওই সূত্রটি বলে, ‘ইরানিদের বিশ্বাস, যুদ্ধের পরিধি বিস্তৃত করে চাপ বাড়াতে থাকলে শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প ছাড় দিতে বাধ্য হবেন। ট্রাম্প মনে করেন, ইরানের ওপর কঠোর আঘাত হেনে তাদের আলোচনার টেবিলে আনা যাবে; কিন্তু ইরানিরা নতি স্বীকার করবে না।’ ছাড় আদায়ের লক্ষ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ছাড় আদায়ের জন্য উত্তেজনা বৃদ্ধির কৌশলের ওপর ইরানের আলোচনার হিসাব-নিকাশ দাঁড়িয়ে আছে। স্থানীয় সময় রোববার ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, সোমবার (আজ) ইরানের সঙ্গে আলোচনা হবে। এর আগে তিনি বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার বিষয়ে একটি সমঝোতার আশায় তিনি নির্ধারিত হামলা স্থগিত করেছেন। তবে তেহরান জানিয়েছে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের কোনো আলোচনা চলছে না। "তেহরান মনে করে, পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ এখনো তাদের হাতেই রয়েছে। এর একটি কারণ হলো ট্রাম্প প্রশাসন সামরিকভাবে কত দূর যেতে প্রস্তুত, তা নিয়ে তাদের মধ্যে দোলাচল রয়ে গেছে।" -মাইকেল সিং, জ্যেষ্ঠ ফেলো, ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউট ইরানের একটি জ্যেষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, তেহরানের নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত হলো আগে নমনীয় অবস্থানের কারণে ওয়াশিংটন টানা চাপ বাড়িয়েছে। এখান থেকে তাদের শিক্ষা হলো অর্থবহ আলোচনা শুরুর আগে নিজেদের দর-কষাকষির অবস্থান শক্তিশালী করা প্রয়োজন। ওই সূত্রের ভাষ্যমতে, তেহরানের সার্বিক মূল্যায়ন হলো ট্রাম্প যেকোনো ছাড়কে দুর্বলতা বলে মনে করেন। কেবল চাপ দিলেই তিনি কাবু হন। ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ ফেলো মাইকেল সিংয়ের মতে, তেহরান মনে করে, পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ এখনো তাদের হাতেই রয়েছে। এর একটি কারণ হলো ট্রাম্প প্রশাসন সামরিকভাবে কত দূর যেতে প্রস্তুত, তা নিয়ে তাদের মধ্যে দোলাচল রয়ে গেছে। মাইকেল সিং বলেন, ইরান নিজেদের সুবিধাজনক অবস্থানকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। তারা প্রণালিটির ওপর সার্বভৌম কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে আগ্রহী। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক কূটনীতিক ও ইরান–বিশেষজ্ঞ অ্যালান আইয়ার বলেন, ওয়াশিংটনকে অবরোধ তুলে নিতে ও সামরিক হামলা বন্ধ করতে বাধ্য করার লক্ষ্যে প্রতিরোধমূলক কৌশল অনুসরণ করছে তেহরান। তাঁর ভাষ্যমতে, ‘যুক্তরাষ্ট্র ঘটনাপ্রবাহের গতি নির্ধারণ করুক, তা তারা চায় না।’ ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার বর্তমান বিরোধের মূল কেন্দ্রবিন্দু হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থা। আঞ্চলিক সূত্রগুলোর ভাষ্যমতে, প্রণালিটি পরিচালনার জন্য উপসাগরীয় দেশগুলোর সমর্থিত একটি প্রস্তাব ইরানের কাছে দিয়েছে ওমান। এতে ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে স্বেচ্ছায় ফি নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। তবে তেহরান প্রণালিটির প্রশাসনিক কর্তৃত্ব ও সেখানে চলাচলকারী জাহাজের কাছ থেকে সেবামূল্য আদায়ের ক্ষমতা চায়। অন্যদিকে ওয়াশিংটন যেকোনো ধরনের ফি আরোপের বিরোধী। তারা বলেছে, হরমুজ আন্তর্জাতিক নৌপথ হিসেবেই থাকবে এবং এর ওপর ইরানের কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। দীর্ঘস্থায়ী চাপের কৌশল ইরানের এই কৌশলের ফল দেখা যাচ্ছে, যা তাদের পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বর্তমানে ইরান ও তার প্রক্সি (ছায়া বা সমর্থনপুষ্ট) শক্তির হামলার হুমকি হরমুজ প্রণালির গণ্ডি ছাড়িয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক দেশ ও পশ্চিমা শক্তিগুলো এখন ইরানের ওপর চাপ আরও বাড়ানোর বদলে বাণিজ্যপথ ও জ্বালানি অবকাঠামো সুরক্ষার দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। সৌদি আরবের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা নতুন সামুদ্রিক জোট এই পরিবর্তনের উদাহরণ। উপসাগরীয় সূত্রগুলোর ভাষ্যমতে, এই জোটের লক্ষ্য হলো বাণিজ্যিক জাহাজকে নিরাপত্তা দেওয়া, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করা ও নৌপথ নিরাপদ রাখা। ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়ানো এই জোটের উদ্দেশ্য নয়। মাইকেল নাইটস এই উদ্যোগের সঙ্গে লোহিত সাগরে ইউরোপের ‘অ্যাসপিডেস’ মিশনের তুলনা করেন। ওই মিশনের উদ্দেশ্যও ছিল সামরিক ভারসাম্য বদলে দেওয়া নয়; বরং বাণিজ্যিক নৌযান চলাচল সুরক্ষিত রাখা। তেহরানের দৃষ্টিতে এই পরিস্থিতি একধরনের সাফল্য। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির সঙ্গে সরাসরি পাল্লা দিতে না পারলেও সরকার ও নৌবাহিনীকে প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে যেতে বাধ্য করে ইরান তাদের ওপর ব্যয় বাড়াতে সক্ষম হচ্ছে। হরমুজের পর লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্তকারী বাব আল-মান্দেব প্রণালি বা অন্য যেকোনো স্থানে নতুন করে হুমকি তৈরি হলে বৈশ্বিক বাণিজ্য সচল রাখতে প্রয়োজনীয় সম্পদ ও ব্যয় আরও বেড়ে যাবে। এসব কারণে ইরান সংঘাতে বর্তমানে কোন পক্ষ বেশি দিন চাপের মুখে টিকে থাকতে পারে, সেই লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। ইরানের নেতারা মনে করছেন, এই চাপ যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের চেয়ে ইরানের সহ্য করার ক্ষমতা বেশি। এই কৌশলের একটি কূটনৈতিক দিকও রয়েছে। তেহরান বোঝাতে চায়, প্রয়োজন হলে সংকটের পরিধি আরও বৃদ্ধি করা সম্ভব। এ ধরনের ভয় দেখিয়ে ভবিষ্যতের যেকোনো আলোচনার শর্ত নিজেদের অনুকূলে আনতে চায় তেহরান। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরে ইরানবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা ও কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের রে তাকেই বলেন, আলোচনা হলে ইরানই আধিপত্য বিস্তার করবে। শর্ত তারাই দেবে। উত্তেজনা বাড়লেও কোনো পক্ষই আপাতত পিছু হটতে প্রস্তুত নয়। ওয়াশিংটন ও তেহরান একে অপরের দৃঢ়তা যাচাই করে দেখছে। নিজেদের দর-কষাকষির অবস্থান শক্তিশালী করার এই কৌশল শেষ পর্যন্ত এমন এক সংঘাতে রূপ নিতে পারে, যা উভয় পক্ষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
ইউক্রেন ও রাশিয়ার পাল্টাপাল্টি হামলায় দুই দেশে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ায় ৯ জন এবং রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনে ৫ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। খবর এএফপির। প্রায় সাড়ে চার বছর ধরে চলা যুদ্ধের মধ্যে দুই দেশই সাম্প্রতিক সময়ে একে অপরের ওপর হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে। ইউক্রেন ও রাশিয়া দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালাচ্ছে। রোববার রাশিয়ার সীমান্তবর্তী বেলগোরোদ অঞ্চলে ইউক্রেনের হামলায় চারজন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীও রয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, হামলায় আহত ওই কিশোরীকে বাঁচানোর চেষ্টা করা হলেও তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে রক্ষা করা যায়নি। এ ছাড়া রাশিয়ার রোস্তভ অঞ্চলে পৃথক ড্রোন হামলায় দুইজন এবং উদমুর্তিয়া অঞ্চলে একটি গাড়িতে ড্রোন হামলায় আরও তিনজন নিহত হন। উদমুর্তিয়া অঞ্চলটি যুদ্ধক্ষেত্র থেকে এক হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দূরে। অন্যদিকে, ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলায় পূর্বাঞ্চলীয় দনিপ্রোপেত্রোভস্ক, দক্ষিণাঞ্চলের জাপোরিঝঝিয়া ও খেরসন এলাকায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। খারকিভ অঞ্চলে রুশ হামলায় একটি ডাক পরিবহন টার্মিনাল ধ্বংস হয়। এতে এক ডাককর্মী নিহত হন। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার বাড়িয়েছে, যা ঠেকানো কঠিন। এতে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা বেড়েছে। অন্যদিকে, রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়াতে ইউক্রেনও দেশটির জ্বালানি স্থাপনা, গুদাম ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে। তবে দুই দেশই বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা চললেও তা বর্তমানে কার্যত স্থবির হয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নতুন পরিকল্পনা ঘোষণা করলেও ইসরায়েলি হামলা থামেনি। রোববার গাজার বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বিমান ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১৯ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। হামলায় আবাসিক ভবন, বাস্তুচ্যুত মানুষের তাঁবু এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চিকিৎসা সূত্রের বরাত দিয়ে আলজাজিরা ও আনাদোলু জানায়, গাজা সিটির পশ্চিমাঞ্চলের আল-সৌসি টাওয়ারে একটি আবাসিক ফ্ল্যাটে বিমান হামলায় আবদুল্লাহ আবু তাইফ, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আবির আনান এবং তাদের পাঁচ বছর বয়সী ছেলে আজ্জাম নিহত হন। খান ইউনিসের আল-কারারা এলাকায় আরেকটি হামলায় মাহমুদ আল-হামস, তার স্ত্রী ফাতিমা এবং তাদের ছোট মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন। মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকায় নিজ বাড়িতে হামলায় কামাল আবু মুআইলিক ও তার স্ত্রী হুদা আবু মুআইলিক নিহত হন। একই এলাকায় মোটরসাইকেলে থাকা দুই ভাইও পৃথক হামলায় প্রাণ হারান। উত্তর গাজার জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে একজন এবং খান ইউনিসের আল-মাওয়াসি এলাকায় বাস্তুচ্যুতদের একটি তাঁবুতে হামলায় আরও একজন নিহত হন। এছাড়া গাজা সিটির রেমাল এলাকায় বাস্তুচ্যুতদের তাঁবুতে ড্রোন হামলায় দুইজন এবং একটি গাড়িতে হামলায় আরও চারজন নিহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এটিই একদিনে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা। এর আগে শনিবার দেইর আল-বালাহর আল-আকসা শহীদ হাসপাতালের ওষুধের গুদামে ইসরায়েলি হামলা চালানো হয়। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনির আল-বারশ বলেন, ওষুধের মজুত ধ্বংস করে চিকিৎসাসেবাকেই যুদ্ধের অস্ত্রে পরিণত করা হচ্ছে। হামলায় দুটি ওষুধ সংরক্ষণাগার পুরোপুরি ধ্বংস এবং আরও দুটি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার মাত্র ১৫ মিনিট আগে ওই এলাকার বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এরপর বোমা হামলায় বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়শিবির ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং নতুন করে বহু মানুষ এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য হন।