আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (ডব্লিউটিসি) কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করতে যাচ্ছে। আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিতব্য আইসিসির প্রধান নির্বাহীদের কমিটি (সিইসি) ও বোর্ড সভায় এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফো জানিয়েছে, আগামী ২১ মে ভার্চুয়াল সভায় বসবে সিইসি। এরপর ৩০ ও ৩১ মে আহমেদাবাদ-এ অনুষ্ঠিত হবে আইসিসির বোর্ড সভা।
বর্তমানে ডব্লিউটিসির চতুর্থ চক্র চলছে। তবে ২০২৭-২৯ চক্র থেকে নতুন কাঠামো চালুর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ লক্ষ্যে গত বছর সাবেক নিউজিল্যান্ড ব্যাটার রজার টোস-এর নেতৃত্বে একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করেছিল আইসিসি।
ওয়ার্কিং গ্রুপের অন্যতম বড় প্রস্তাব হচ্ছে, বর্তমান ৯ দলের পরিবর্তে ডব্লিউটিসিকে ১২ দলের টুর্নামেন্টে রূপ দেওয়া। এতে জিম্বাবুয়ে, আয়ারল্যান্ড এবং আফগানিস্তান-কেও অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।
এর আগে এপ্রিল মাসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ইএসপিএনক্রিকইনফো জানিয়েছিল, নতুন প্রস্তাবে এক ম্যাচের টেস্ট সিরিজকেও ডব্লিউটিসির অংশ করার চিন্তাভাবনা চলছে। বর্তমানে অংশগ্রহণকারী দলগুলো দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার ভিত্তিতে সিরিজ আয়োজন করে এবং প্রতিটি দলকে দুই বছরের চক্রে তিনটি হোম ও তিনটি অ্যাওয়ে সিরিজ খেলতে হয়।
বর্তমান ফিউচার ট্যুরস প্রোগ্রাম (এফটিপি) শেষ হবে আগামী বছরের মার্চে। এরপর ২০২৭ সালের জুনে ইংল্যান্ড-এ অনুষ্ঠিত হবে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল।
তবে মে মাসের বৈঠকেই নতুন কাঠামো চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে জানা গেছে। আইসিসি আশা করছে, আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হবে এবং আগামী জুলাইয়ে এডিনবার্গ-এ অনুষ্ঠিত বার্ষিক সাধারণ সভায় এ বিষয়ে বড় সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
এদিকে বোর্ড সভা আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিত হওয়ায় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)-এর অংশগ্রহণ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সাধারণত পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি সরাসরি সভায় অংশ নেন। তবে ভারত-পাকিস্তানের রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে তিনি সরাসরি যোগ দেবেন নাকি ভার্চুয়ালি অংশ নেবেন, তা এখনো নিশ্চিত হয়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
মিরপুরে সিরিজের প্রথম টেস্টে টস জিতেছিলেন পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদ। সিলেটে দ্বিতীয় টেস্টেও তিনিই জিতেছেন টসে। আবারও একই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামছে বাংলাদেশ। প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের শক্তির জায়গা ছিল পেস আক্রমণে। নাহিদ রানা সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাসকিন আহমেদও দলে ফিরে দারুণ পারফর্ম করেছেন। ১৪ ওভার বল করে উইকেট পাননি এবাদত হোসেন। তার বদলে শরীফুল ইসলাম এসেছেন দলে। শেষ কয়েক দিন ধরেই সিলেটের উইকেটকে মাঠ থেকে আলাদা করা যাচ্ছিল না, এই পেস আক্রমণের কথা ভেবেই। তার ওপর সিলেটের আকাশে মেঘ আছে বেশ। সব মিলিয়ে পেস স্বর্গ বলা চলে আজকের কন্ডিশনকে। এর কারণেই হয়তো, পাকিস্তান টস জিতে দুবার ভাবেনি। তাজা ঘাস আর মেঘলা আকাশের নিচে পেস বোলিংয়ের সুবিধা নিতে বাংলাদেশকে পাঠিয়েছে ব্যাটিংয়ে। এই সিরিজে বাংলাদেশের অনুপ্রেরণা শেষ তিন ম্যাচ। ২০২৪ সালের পাকিস্তান সফরে রাওয়ালপিন্ডিতে ২ ম্যাচেই জিতেছিল বাংলাদেশ, পাকিস্তানকে দিয়েছিল হোয়াইটওয়াশের তেঁতো স্বাদ। সেই কীর্তির পুনরাবৃত্তি প্রথম টেস্টেও ঘটিয়েছে স্বাগতিকরা। এবার সিলেট টেস্ট জিতে হুবহু পুনরাবৃত্তি ঘটাতে চাইবে বাংলাদেশ।
বছরের পর বছর উন্নতির পথ ধরে ছুটেছেন সাদিও মানে। বিশ্বের বিভিন্ন লিগে পেয়েছেন সাফল্য। দৃঢ় প্রতিজ্ঞা, তুমুল গতি আর গোল করার সামর্থ্যে তিনি হয়ে উঠেছেন সময়ের সেরাদের একজন। কয়েক বছর আগে সেনেগালকে জিতিয়েছেন আফ্রিকা কাপ অব নেশন্স, সবশেষ আসরেও খেলেছেন ফাইনালে। এবার বিশ্বকাপে নিজের ছাপ ফেলার হাতছানি মানের সামনে। ২০২৬ বিশ্বকাপে নিজ দেশের স্বপ্নের সারথীদের নিয়ে ফিফার আয়োজন ২৬ সুপারস্টার। এই পর্বে আছেন সেনেগালের উইঙ্গার সাদিও মানে। ফুটবলের আঙিনায় মানের অর্জন পেশাদার ফুটবলে মানের যাত্রা শুরু ২০১১ সালে, ফ্রান্সের ক্লাব মেস দিয়ে। সেখান থেকে সালসবুর্কে গিয়ে আরও পরিণত হন সেনেগালের এই ফরোয়ার্ড। সাউথ্যাম্পটনের হয়ে আলো ছড়ান ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ। তার তারকা হয়ে ওঠা মূলত লিভারপুলে। ২০১৬ সালে প্রিমিয়ার লিগের এই দলে যোগ দেওয়ার পর নিজেকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যান তিনি। ইয়ুর্গেন ক্লপের দলে আক্রমণভাগে তিনি ছিলেন নিয়মিত এবং এখানেই তিনি নিজেকে সময়ের সেরা ফরোয়ার্ডদের তালিকায় নিয়ে যান। মোহামেদ সালাহ ও রবের্তো ফিরমিনোর সঙ্গে গড়েন ভয়ঙ্কর এক ত্রিফলা আক্রমণভাগ। বিশ্ব ফুটবলের চূড়ায় লিভারপুলের ফেরায় তাদের ছিল অনেক বড় অবদান। লিভারপুলের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, উয়েফা সুপার কাপ, প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জেতেন মানে। ২০২২ সালে জেতেন এফএ কাপ ও লিগ কাপ। এখন যে শিরোপা ফিফা ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ নামে পরিচিত, সেটিও জিতেন ২০১৯ সালে। লিভারপুলের হয়ে ২৬৯ ম্যাচে ১২০ গোল করেন মানে, আরও অবদান রাখেন ৪৬ গোলে। ২০২২-২৩ মৌসুমে বায়ার্ন মিউনিখে খেলে বুন্ডেসলিগা ও সুপার কাপ জয়ের স্বাদ পান মানে। ২০২৩ সালে খুঁজে নেন নতুন চ্যালেঞ্জ। যোগ দেন মহাতারকা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর দল আল নাসরে। সেখানেও নিজের শীর্ষ মান ধরে রেখেছেন তিনি। সেনেগাল জাতীয় দলে মানের প্রভাব বিশাল। ২০২১ সালে আফ্রিকা কাপ নেশন্স জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। মহাদেশীয় প্রতিযোগিতায় সেটা সেনেগালের প্রথম শিরোপা। তুমুল বিতর্কিতভাবে শেষ হওয়া সবশেষ আসরে দলকে তিনি নিয়ে যান ফাইনালে। এবার তাদের সামনে ২০২৬ বিশ্বকাপ। কোচ ও কিংবদন্তিদের চোখে মানে “সে অসাধারণ একজন খেলোয়াড়। যদি আমাকে জিজ্ঞেস করেন সে কি স্ট্রাইকার- হ্যাঁ, কখনও কখনও। সে কি মিডফিল্ডার? হ্যাঁ, কখনও কখনও। সে সম্ভবত আরেকটু গভীরেও খেলতে পারে। সে শারীরিকভাবে শক্তিশালী, টেকনিক্যালি দৃঢ়, অবিশ্বাস্যরকমের ক্ষিপ্র, চিন্তা-ভাবনার ক্ষেত্রেও সে গতিময় এবং সে দুই পায়েই ভালো শট নিতে পারে। সে অসাধারণ একজন মানুষ।” ইয়ুর্গেন ক্লপ “সে অসাধারণ, তার খেলা দেখাটাই দারুণ ব্যাপার। সেই ওই ধরনের খেলোয়াড় যার খেলা দেখার জন্য আপনি প্রতি সপ্তাহে বড় অঙ্কের অর্থ খরচ করবেন। কারণ, তার খেলা দৃষ্টিনন্দন। সে খুবই গতিময়- সে ফল এনে দেয়। তার মতো গতিময়, বলে তার ছোঁয়া এবং যে চমৎকার কৌশল সে দেখায়… সে বিশ্বমানের।” স্টিভেন জেরার্ড “এই (ক্লপ) যুগে লিভারপুলে আমার প্রিয় খেলোয়াড় সাদিও মানে শেষ পর্যন্ত চলে যাচ্ছে। ‘লো মেইটেনেন্স, হাই পারফরম্যান্স’ এবং কখন চোটে না পড়া। প্রচুর ট্রফি ও গোল, সত্যিকারের লিভারপুল কিংবদন্তি। ধন্যবাদ সাদিও।” জেমি ক্যারাগার “যদিও ২৫ বছর বয়সে যেমন ছিল, সাদিও এখন ততটা চটপটে নয়, তবুও সে এখনও দলকে খুব সাহায্য করতে পারে। সে মাঠে থাকলে আমাদের জয়ের সম্ভাবনা ৬০ শতাংশ বেড়ে যায়। কারণ সে মাঠে থাকলে প্রতিপক্ষ উদ্বিগ্ন থাকে। আমরা এখনও সাদিওর শেষ দেখিনি।” এল হাজি দিয়ুফ পরিসংখ্যানের আলোয় মানে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের রেকর্ড বইয়ে মানে জায়গা করে নেন ২০১৫ সালের ১৬ মে। সেদিন অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে সাউথ্যাম্পটনের হয়ে কেবল ২ মিনিট ৫৬ সেকেন্ডের মধ্যে হ্যাটট্রিক করেন তিনি। প্রিমিয়ার লিগে যা এখনও দ্রুততম হ্যাটট্রিকের রেকর্ড। সেনেগালের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১২৪ ম্যাচ খেলেছেন মানে। তার চেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছেন কেবল এভারটন মিডফিল্ডার ইদ্রিসা গেয়ি (১২৯)। ৩৪ বছর বয়সী মানে আন্তর্জাতিক ফুটবলে করেছেন ৫২ গোল। সেনেগালের হয়ে সর্বোচ্চ গোলের তালিকায় তার ধারে কাছে নেই কেউ। ২০২২ সালের ৪ জুন বেনিনের বিপক্ষে ৩-১ ব্যবধানের জয়ে হ্যাটট্রিক করে হেনরি কামারার ২৯ গোল ছাড়িয়ে রেকর্ড নিজের করে নেন তিনি। লিভারপুল ও সাউথ্যাম্পটনের হয়ে ইংল্যান্ডে নিজের আট মৌসুমে মানে সবসময়ই গোলের ক্ষেত্রে দুই অঙ্ক স্পর্শ করেন। ২০১৮-১৯ মৌসুমে লিভারপুল সতীর্থ সালাহ ও আর্সেনালের পিয়ের-এমেরিক অবামেয়াংয়ের সঙ্গে যৌথভাবে জেতেন প্রিমিয়ার লিগের গোল্ডেন বুট। সেবার তারা করেন ২২টি করে গোল। বিশ্বকাপে মানে কেবল একটি আসরে খেলেছেন মানে, ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে। সেবার দলের প্রতিটি মিনিট খেলেন মানে। পোল্যান্ডের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানের জয়ে আসর শুরু করে সেনেগাল। জাপানের সঙ্গে ড্র করে ২-২ ব্যবধানে। পরে কলম্বিয়ার বিপক্ষে হারে ১-০ গোলে। জাপানের বিপক্ষে জালের দেখা পান মানে। তিন ম্যাচেই তিনি ভীতি ছড়ান প্রতিপক্ষের রক্ষণে। তবে গ্রুপ পর্বেই শেষ হয় সেনেগালের বিশ্বকাপ। ২০২২ বিশ্বকাপে চোটের জন্য খেলা হয়নি মানের। বিশ্বকাপ দল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় তাকে। ২০২৬ বিশ্বকাপ ঘিরে মানে ও সেনেগালের প্রত্যাশা বড় প্রতিযোগিতায় ভালো করতে পারদর্শী খেলোয়াড়দের উপস্থিতিতে ২০২৬ বিশ্বকাপে বড় লক্ষ্য নিয়েই খেলবে সেনেগাল। সোনালী প্রজন্মের খেলোয়াড়রা ২০২১ আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সের শিরোপা জিতেছেন (যেটি মাঠে গড়িয়েছিল ২০২২ সালে)। মহাদেশীয় প্রতিযোগিতায় ধারাবাহিকভাবে নিজেদের মেলে ধরছে তারা। এবার বিশ্বকাপের বড় মঞ্চে ছাপ ফেলার চ্যালেঞ্জ তাদের সামনে। বিশ্বকাপ অভিষেকে ২০০২ সালে ফুটবল বিশ্বকে চমকে দিয়ে খেলেছিল কোয়ার্টার-ফাইনালে। এর পুনরাবৃত্তির স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামবেন মানে ও তার সতীর্থরা। ফ্রান্সের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে সেনেগালের বিশ্বকাপ। ‘আই’ গ্রুপের অন্য দুই দল ইরাক ও নরওয়ে।
ফিফা বিশ্বকাপের জন্য স্কোয়াড ঘোষণা করতে শুরু করেছে দলগুলো। আজ (শুক্রবার) বেলজিয়াম তাদের ২৬ জনের স্কোয়াড প্রকাশ করেছে। ইনজুরির কারণে চলতি মৌসুমে সব মিলিয়ে মাত্র এক ঘণ্টা খেলেও এই দলে জায়গা পেয়েছেন অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার রোমেলু লুকাকু। দলে তার অর্ন্তভূক্তি নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। বুধবার ৩৩তম জন্মদিন পালন করা লুকাকু এই মৌসুমে নাপোলির কোনো ম্যাচেই শুরুর একাদশে ছিলেন না। সাত ম্যাচে বদলি হয়ে মাঠে নামেন এবং ফেব্রুয়ারিতে ভেরোনার বিপক্ষে একটি গোল করেন। হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে গত দুই মাস ধরে বেলজিয়ামে পুনর্বাসনে ছিলেন তিনি। প্রায় এক বছর ধরে জাতীয় দলের জার্সি না পরলেও দেশের শীর্ষ গোলদাতাকে স্কোয়াডে রেখে বেশ বড় ঝুঁকি নিলেন রুডি গার্সিয়া। ২০১৮ সালের বিশ্বকাপ সেমিফাইনালিস্টরা এবার জি গ্রুপে মিশর, ইরান ও নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে খেলবে। লুকাকু শেষবার বেলজিয়ামের জার্সিতে খেলে ওয়েলসের বিপক্ষে জেতেন। গত জুনে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ম্যাচটি তারা ৪-৩ গোলে জেতে। ১২৪ ম্যাচ খেলে লুকাকুর গোল ৮৯টি। গত মার্চ-এপ্র্রিলে বেলজিয়ামের প্রীতি ম্যাচের দলে তাকে রাখা হলেও ফিটনেস নিয়ে শঙ্কার কারণে সরে দাঁড়ান। লুকাকুর বিকল্প হিসেবে গার্সিয়া রেখেছেন সম্ভাবনাময়ী অ্যাটাকার মাতিয়াস ফার্নান্দেজ-পার্দোকে। বিশ্বকাপের অন্যতম কনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামার অপেক্ষায় ছিলেন মিডফিল্ডার নাথান ডি কাট। কিন্তু ১৭ বছর বয়সীর জায়গা হয়নি। মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ৫-২ গোলে জয়ের ম্যাচে অভিষেক হয়েছিল তার। লুকাকুর মতো চতুর্থ বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ পাচ্ছেন কেভিড ডি ব্রুইনা ও থিবো কোর্তোয়া। জাতীয় দলে শেষবার কোর্তোয়া খেলেছিলেন গত অক্টোবরে। ইনজুরির কারণে সবশেষ স্কোয়াড থেকে বাদ পড়লেও চলতি মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ছিলেন তিনি। আর্সেনাল ফরোয়ার্ড লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ড ও ম্যানসিটি উইঙ্গার জেরেমি ডোকু প্রিমিয়ার লিগে খেলার অভিজ্ঞতা কাজে লাগাবেন। বেলজিয়ামের বিশ্বকাপ স্কোয়াড গোলরক্ষক: থিবো কোর্তোয়া (রিয়াল মাদ্রিদ), সেনে ল্যামেন্স (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), মাইক পেন্ডার্স (রেসিং স্ট্রাসবার্গ) রক্ষণভাগ (ডিফেন্ডার): টিমোথি কাস্তাগনে (ফুলহ্যাম), জেনো ডেবাস্ট (স্পোর্টিং লিসবন), ম্যাক্সিম ডি কুইপার (ব্রাইটন অ্যান্ড হোভ অ্যালবিয়ন), কোনি ডি উইন্টার (এসি মিলান), ব্র্যান্ডন মেচেলে (ক্লাব ব্রুগ), থমাস মুনিয়ার (লিল), নাথান এনগোয় (লিল), জোয়াকিন সেস (ক্লাব ব্রুগ), আর্থার থিয়েট (আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্ট)। মধ্যমাঠ (মিডফিল্ডার): কেভিন ডি ব্রুইনা (নাপোলি), আমাদু ওনানা (অ্যাস্টন ভিলা), নিকোলাস রাস্কিন (রেঞ্জার্স), ইউরি টিলেম্যানস (অ্যাস্টন ভিলা), হ্যান্স ভানাকেন (ক্লাব ব্রুগ), অ্যাক্সেল উইটসেল (গিরোনা)। আক্রমণভাগ (ফরোয়ার্ড): চার্লস ডি কেটেলার (আটালান্টা), জেরেমি ডোকু (ম্যানচেস্টার সিটি), মাতিয়াস ফার্নান্দেজ-পার্দো (লিল), রোমেলু লুকাকু (নাপোলি), ডোডি লুকেবাকিও (বেনফিকা), দিয়েগো মোরেরা (রেসিং স্ট্রাসবার্গ), অ্যালেক্সিস সায়েলেমেকার্স (এসি মিলান), লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ড (আর্সেনাল)