জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদ্য ঘোষিত চট্টগ্রাম মহানগর আহ্বায়ক কমিটি থেকে একযোগে ২২ নেতাকর্মী পদত্যাগ করেছেন। তাদের মধ্যে একাধিক যুগ্ম আহ্বায়ক, যুগ্ম সদস্যসচিব, সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও সদস্য রয়েছেন।
শুক্রবার (১৫ মে) সকালে পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বর্তমান কমিটির দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ রাফসান জানি রিয়াজ। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) মীর মোহাম্মদ শোয়াইবকে আহ্বায়ক এবং আরিফ মঈনুদ্দীনকে সদস্যসচিব করে ১৬৮ সদস্যের এ কমিটি ঘোষণা করা হয়।
পদত্যাগী নেতাদের অভিযোগ, কমিটিতে অযোগ্য ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকজন দায়িত্বশীল নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, টাকার বিনিময়ে পদ বাণিজ্য, নারী কেলেঙ্কারি ও মামলা বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের মতো গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তারা।
পদত্যাগী দপ্তর সম্পাদক রাফসান জানি রিয়াজ বলেন, দলের জন্য যারা নিবেদিতপ্রাণ ও ত্যাগী, তাদের মূল্যায়ন করা হয়নি। আমরা এ কমিটির পুনর্মূল্যায়ন চাই। আমরা কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে বিষয়টি জানাব।
পদত্যাগ করা সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হুজ্জাতুল ইসলাম সাঈদ বলেন, আদর্শ, নৈতিকতা ও স্বচ্ছ রাজনৈতিক চর্চার প্রত্যাশা থেকে আমরা এনসিপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলাম। কিন্তু সাম্প্রতিক কমিটি গঠন ও বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে আমরা হতাশ। রাজনৈতিক সংগঠনে দুর্নীতি ও ব্যক্তিস্বার্থের চর্চা গ্রহণযোগ্য নয়। ভবিষ্যতেও তারা জনস্বার্থ, ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছ রাজনৈতিক সংস্কৃতির পক্ষে কাজ করবেন বলে জানান।
পদত্যাগ করা নেতাকর্মীদের মধ্যে আছেন- সৈয়দ এহছানুল হক (যুগ্ম আহ্বায়ক), কামরুল কায়েস (যুগ্ম আহ্বায়ক), মো. সোহরাব চৌধুরী (যুগ্ম সদস্যসচিব), হামিদুল ইসলাম (যুগ্ম সদস্যসচিব), বদিউল আলম (যুগ্ম সদস্যসচিব), মোহাম্মদ সরোয়ার আলম (যুগ্ম সদস্যসচিব) ও ইকবাল মাসুদ (যুগ্ম সদস্যসচিব), রকিবুল ইসলাম (সিনিয়র সাংগঠনিক সম্পাদক), ডা. মাহতাব উদ্দিন আহমদ (সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক), হুজ্জাতুল ইসলাম সাঈদ (সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক), সাদমানুর রহমান চৌধুরী (সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক), সুফি মোহাম্মদ মিনহাজ (সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক), মোহাম্মদ কারিওল মাওলা (সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক), মোহাম্মদ আকরাম হোসেন (সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক), মোশাররফ হোসেন রবিন (সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক), নুরুল আবছার সাইবান (সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক), মোস্তফা রাশেদ আজগর (সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক), মোহাম্মদ রাফসান জানি রিয়াজ (দফতর সম্পাদক), মো. নুরুদ্দীন (সমাজকল্যাণ সম্পাদক), মোহাম্মদ বেলাল হোসেন (সহ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক), মো. ওমর সাঈদ (সদস্য) ও তাহজীব চৌধুরী (সদস্য)।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
দিনদুপুরে এক যুবককে ধাওয়া করছে একদল কিশোর। তাদের হাতে চাপাতিসহ বিভিন্ন ধারালো অস্ত্র, কয়েকজনের কোমরে ছিল ক্ষুদ্র আগ্নেয়াস্ত্র। প্রাণভয়ে ওই যুবক ‘বাঁচাও, বাঁচাও’ বলে চিৎকার করছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রক্ষা পাননি তিনি। কিশোর সন্ত্রাসীরা তাঁকে ধরে প্রকাশ্যেই কুপিয়ে হত্যা করে। গত শুক্রবার পুরান ঢাকার সূত্রাপুর এলাকায় ঘটে যাওয়া এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তথ্য পুলিশের নথিতেও উঠে এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে, তাজিয়া মিছিল থেকে ধাওয়া করে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী জাকির হোসেনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ধরনের প্রকাশ্য সহিংসতা এখন প্রায়ই ঘটছে। জনাকীর্ণ সড়ক, বাজার কিংবা মহল্লায় সংঘটিত এসব অপরাধে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে র্যাবের ১৫টি ব্যাটালিয়ন কিশোর গ্যাংয়ের একটি হালনাগাদ তালিকা তৈরি করেছে। র্যাবের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ৩৩৯টি কিশোর গ্যাং সক্রিয়। এর আগে বিগত সরকারের সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া এক প্রতিবেদনে সারা দেশে ২৩৭টি কিশোর গ্যাংয়ের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। অর্থাৎ নতুন তালিকায় যুক্ত হয়েছে আরও ১০২টি গ্যাং। র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, নতুন-পুরোনো মিলিয়ে সারা দেশে কিশোর গ্যাংয়ের কয়েক হাজার সদস্য রয়েছে। হালনাগাদ তালিকার ভিত্তিতে অভিযান চলছে এবং ইতোমধ্যে অনেক সদস্যকে আটক করা হয়েছে। তবে শুধু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর অভিযান নয়, সামাজিকভাবেও এদের নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ নিতে হবে। রাজধানীতে বেশি তৎপরতা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, একই পাড়া-মহল্লার বখে যাওয়া কিশোর-তরুণরা দলবদ্ধ হয়ে গ্যাং তৈরি করছে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীও এসব দলে জড়িয়ে পড়ছে। বাহারি ও চটকদার নাম ব্যবহার করে তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের প্রচার করে। রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও উত্তরায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা তুলনামূলক বেশি। সাধারণত একটি গ্যাংয়ে ১০ থেকে ১৫ জন সদস্য থাকে। তাদের অনেকেই মাদকাসক্ত এবং ধারালো অস্ত্র, চাপাতি ও আগ্নেয়াস্ত্র বহন করে বলে অভিযোগ রয়েছে। বড় ভাইদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে তারা নিজেদের ক্ষমতাবান মনে করে এবং ধীরে ধীরে ভয়ংকর অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। মোহাম্মদপুরে স্টার বন্ড, লাড়া দে, গ্রুপ টোয়েন্টি, ফিল্ম ঝিরঝির, দেখে ল, চিনে ল, লেভেল হাই ও কোপাইয়া দের মতো গ্যাংয়ের নাম পাওয়া গেছে। ধানমণ্ডিতে নাইন এমএম, একে ৪৭, ফাইভ স্টার, ইলেভেন স্টার ও সেভেন স্টারসহ একাধিক গ্রুপ সক্রিয়। তেজগাঁওয়ে জুম্মন গ্যাং ও পাংকু গ্যাংয়ের নাম রয়েছে। উত্তরায় একসময় বিল বস, নাইন স্টার, পাওয়ার বয়েজ, সুজন ফাইটার, ক্যাসল বয়েজ, ভাইপার, আলতাফ জিরো, ত্রিগোল, তুফান ও নাইন এমএম গ্রুপের দাপট ছিল। বর্তমানে সেখানে নতুন আরও কয়েকটি গ্রুপ সক্রিয় হওয়ার তথ্য মিলেছে। মিরপুরে বিচ্ছু বাহিনী, রিপন গ্যাং ও সুমন গ্যাংয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন নামে নতুন গ্যাং গড়ে উঠছে। পুরান ঢাকায় কোবরা গ্যাং, জুম্মন গ্যাং ও বড় পোলা গ্যাংসহ আরও কয়েকটি গ্রুপের তৎপরতার অভিযোগ রয়েছে। বাড়ছে নৃশংসতা গত শুক্রবার রাতে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি উপজেলায় প্রকাশ্যে সিগারেট খেতে বারণ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে একদল কিশোর ছয়জনকে গুলি করে বলে অভিযোগ ওঠে। গুলিবিদ্ধরা সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর কয়েক দিন আগে পুরান ঢাকায় প্রকাশ্যে মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা এখন ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, হামলা ও হত্যাসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। তাদের অনেকের বয়স ১৮ বছরের নিচে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সমাজে নানা ধরনের অপরাধে কিশোর গ্যাংয়ের সম্পৃক্ততা দেখা যাচ্ছে। এদের দমনে পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, অভিভাবক, শিক্ষক ও সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। ধরাছোঁয়ার বাইরে পৃষ্ঠপোষকেরা কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তারের নেপথ্যে বড় ভাই ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ভূমিকার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাঠ পর্যায়ে গ্যাং সদস্যরা গ্রেপ্তার হলেও তাদের পৃষ্ঠপোষক বা গডফাদাররা প্রায়ই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যান। প্রতিবেদনে এসব গ্যাংয়ের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা ও নেপথ্যের শক্তির বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর আগের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কিশোরদের মধ্যে ‘হিরোইজমের’ চিন্তা-ভাবনা থেকেই গ্যাং কালচারের শুরু হয়। রাজধানীতে দেড় শতাধিক গ্যাং ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী থেকেই কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধমূলক তৎপরতা বেশি ছড়িয়েছে। ২০২২ সালের শেষ দিকে তৈরি পুলিশের এক প্রতিবেদনে রাজধানীসহ সারা দেশে ১৭৩টি কিশোর গ্যাংয়ের তথ্য উঠে আসে। এর মধ্যে ঢাকায় ছিল ৬৬টি এবং চট্টগ্রামে ৫৭টি। পুলিশের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে রাজধানীর আটটি ক্রাইম জোনের বিভিন্ন থানা এলাকায় ছোট-বড় মিলিয়ে দেড় শতাধিক কিশোর গ্যাং সক্রিয়। ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের পরবর্তী সময়ে রাজধানীতে সংঘটিত বেশির ভাগ হত্যাকাণ্ডে কিশোর গ্যাং সদস্যদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের হালনাগাদ তালিকা পুলিশের কাছে রয়েছে। তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে অভিযান অব্যাহত আছে। গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এখন বড় চ্যালেঞ্জ। মাদকে আসক্ত হয়ে তারা ছিনতাই ও চাঁদাবাজিতেও জড়িয়ে পড়ছে। তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী তাদের নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। নিয়ন্ত্রণে যেসব সুপারিশ কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সরকারি বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদনে সন্তানদের পড়াশোনার পাশাপাশি সুষ্ঠু বিনোদনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কিশোরদের জন্য ক্ষতিকর অ্যাপ ও অনলাইন কনটেন্ট চিহ্নিত করে নিয়ন্ত্রণের সুপারিশও করা হয়েছে। এ ছাড়া এলাকাভিত্তিক তালিকা তৈরি করে কিশোর গ্যাংয়ের হটস্পট শনাক্ত, নিয়মিত টহল, বিশেষ অভিযান এবং পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পুলিশের মহাপরিদর্শক আলী হোসেন ফকির বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের মাধ্যমে সমাজে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ ঘটছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এসব অপরাধ দমনে নিয়মিত টহল ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল সাইয়্যিদ আলী হুসাইনি খামেনির জানাজা ও রাষ্ট্রীয় শোক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ইরান যাচ্ছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তবে তার সফরসূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এনসিপি সূত্রে জানা গেছে, ঢাকায় অবস্থিত ইরান দূতাবাসে গতকাল মঙ্গলবার (৩০ জুন) ভিসার আবেদন করেন নাসীরুদ্দীন। বুধবার (১ জুলাই) তার আবেদন মঞ্জুর হওয়ার খবর পান তিনি। এখন বিমানের টিকিট করার প্রক্রিয়া চলছে। একই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রতিনিধিদল ইরান যাচ্ছে। জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে এ প্রতিনিধিদলের অপর সদস্যরা হলেন মো. নুরুল আমীন, ড. মো. কেরামত আলী ও এস এম খালিদুজ্জামান। কয়েক দশক ধরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্বে থাকা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ বিমান হামলায় নিহত হন। ৪ থেকে ৯ জুলাই তেহরান, কোম ও খামেনির জন্মস্থান মাশহাদে তার শেষ বিদায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যা সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ জনসমাগম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ৩৬ দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। আগামীকাল ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত দেশজুড়ে এই কর্মসূচি পালন করা হবে। এই দীর্ঘ আয়োজনে কবর জিয়ারত, পদযাত্রা, আলোচনা সভা, সমাবেশ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কফিন মিছিল, ফুটবল টুর্নামেন্ট এবং শহীদ ও আহত পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময়সহ বিভিন্ন কর্মসূচি থাকবে। গতকাল সোমবার রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ এসব কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এ সময় দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য আকরাম হুসাইনসহ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ১ জুলাই রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে কবর জিয়ারতের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হবে। একই দিন ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র সংগঠনগুলোর সংহতি সভা এবং উপজেলা পর্যায়ে ‘বিচার ও গণভোট বাস্তবায়নে’ মাসব্যাপী পদযাত্রার রোডম্যাপ ঘোষণা করা হবে। ২ থেকে ৮ জুলাই দেশব্যাপী গ্রাফিতি, দেয়াল লিখন এবং ব্যানার-ফেস্টুনের মাধ্যমে জুলাই জাগরণ কর্মসূচি পালন করা হবে। ৫ থেকে ৯ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে জুলাই স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট। এ ছাড়া মাসজুড়ে গণঅভ্যুত্থানে নারী, কৃষক, শিক্ষার্থী, চিকিৎসক, শ্রমিক, উদ্যোক্তা, শিক্ষক ও গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং যুব কনভেনশনের আয়োজন করা হয়েছে। আগামী ১৬ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব শহীদের কবর জিয়ারত, দেশব্যাপী দোয়া ও মোনাজাতের কর্মসূচি রয়েছে। ১৭ জুলাই ফ্যাসিবাদের বিচারের দাবিতে কফিন মিছিল এবং ১৮ জুলাই ‘প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি রেজিস্ট্যান্স ডে’ পালন করা হবে। আগস্টের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে– দেশপ্রেমের ইউনিফর্ম, সংবাদে গণঅভ্যুত্থান, জুলাইয়ের দ্রোহযাত্রা, গণঅভ্যুত্থান স্মরণিকা প্রকাশ, জনতার এক দফা, আহত ও শহীদ পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় এবং ৫ আগস্ট বিজয়ের উল্লাস। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, কর্মসূচি বাস্তবায়নে জুলাই পুনর্জাগরণ বাস্তবায়ন কমিটি নামে একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে হাসনাত আবদুল্লাহকে এবং সদস্যসচিব করা হয়েছে যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদকে। দেশের পাশাপাশি এনসিপি ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্সের উদ্যোগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রবাসীদের অংশগ্রহণে পৃথক কর্মসূচি পালন করা হবে। হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘জুলাই পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে করা হয়েছিল। আমরা চেয়েছিলাম সমাজের সব পুরোনো অর্ডার পরিবর্তন হয়ে নতুন একটি অর্ডার প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু এই সরকার গণভোট বাস্তবায়নে বিপরীত অবস্থান নিয়েছে।’