খেলাধুলা

বিশ্বকাপ মাতাতে প্রস্তুত সাদিও মানে

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ১৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বছরের পর বছর উন্নতির পথ ধরে ছুটেছেন সাদিও মানে। বিশ্বের বিভিন্ন লিগে পেয়েছেন সাফল‍্য। দৃঢ় প্রতিজ্ঞা, তুমুল গতি আর গোল করার সামর্থ‍্যে তিনি হয়ে উঠেছেন সময়ের সেরাদের একজন। কয়েক বছর আগে সেনেগালকে জিতিয়েছেন আফ্রিকা কাপ অব নেশন্স, সবশেষ আসরেও খেলেছেন ফাইনালে। এবার বিশ্বকাপে নিজের ছাপ ফেলার হাতছানি মানের সামনে।

 

২০২৬ বিশ্বকাপে নিজ দেশের স্বপ্নের সারথীদের নিয়ে ফিফার আয়োজন ২৬ সুপারস্টার। এই পর্বে আছেন সেনেগালের উইঙ্গার সাদিও মানে।

ফুটবলের আঙিনায় মানের অর্জন

পেশাদার ফুটবলে মানের যাত্রা শুরু ২০১১ সালে, ফ্রান্সের ক্লাব মেস দিয়ে। সেখান থেকে সালসবুর্কে গিয়ে আরও পরিণত হন সেনেগালের এই ফরোয়ার্ড। সাউথ‍্যাম্পটনের হয়ে আলো ছড়ান ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ।

তার তারকা হয়ে ওঠা মূলত লিভারপুলে। ২০১৬ সালে প্রিমিয়ার লিগের এই দলে যোগ দেওয়ার পর নিজেকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যান তিনি। ইয়ুর্গেন ক্লপের দলে আক্রমণভাগে তিনি ছিলেন নিয়মিত এবং এখানেই তিনি নিজেকে সময়ের সেরা ফরোয়ার্ডদের তালিকায় নিয়ে যান।

মোহামেদ সালাহ ও রবের্তো ফিরমিনোর সঙ্গে গড়েন ভয়ঙ্কর এক ত্রিফলা আক্রমণভাগ। বিশ্ব ফুটবলের চূড়ায় লিভারপুলের ফেরায় তাদের ছিল অনেক বড় অবদান।

লিভারপুলের হয়ে চ‍্যাম্পিয়ন্স লিগ, উয়েফা সুপার কাপ, প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জেতেন মানে। ২০২২ সালে জেতেন এফএ কাপ ও লিগ কাপ। এখন যে শিরোপা ফিফা ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ নামে পরিচিত, সেটিও জিতেন ২০১৯ সালে।

লিভারপুলের হয়ে ২৬৯ ম‍্যাচে ১২০ গোল করেন মানে, আরও অবদান রাখেন ৪৬ গোলে।

২০২২-২৩ মৌসুমে বায়ার্ন মিউনিখে খেলে বুন্ডেসলিগা ও সুপার কাপ জয়ের স্বাদ পান মানে। ২০২৩ সালে খুঁজে নেন নতুন চ‍্যালেঞ্জ। যোগ দেন মহাতারকা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর দল আল নাসরে। সেখানেও নিজের শীর্ষ মান ধরে রেখেছেন তিনি।

সেনেগাল জাতীয় দলে মানের প্রভাব বিশাল। ২০২১ সালে আফ্রিকা কাপ নেশন্স জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। মহাদেশীয় প্রতিযোগিতায় সেটা সেনেগালের প্রথম শিরোপা। তুমুল বিতর্কিতভাবে শেষ হওয়া সবশেষ আসরে দলকে তিনি নিয়ে যান ফাইনালে। এবার তাদের সামনে ২০২৬ বিশ্বকাপ।

কোচ ও কিংবদন্তিদের চোখে মানে

“সে অসাধারণ একজন খেলোয়াড়। যদি আমাকে জিজ্ঞেস করেন সে কি স্ট্রাইকার- হ‍্যাঁ, কখনও কখনও। সে কি মিডফিল্ডার? হ‍্যাঁ, কখনও কখনও। সে সম্ভবত আরেকটু গভীরেও খেলতে পারে। সে শারীরিকভাবে শক্তিশালী, টেকনিক‍্যালি দৃঢ়, অবিশ্বাস‍্যরকমের ক্ষিপ্র, চিন্তা-ভাবনার ক্ষেত্রেও সে গতিময় এবং সে দুই পায়েই ভালো শট নিতে পারে। সে অসাধারণ একজন মানুষ।”

ইয়ুর্গেন ক্লপ

 

“সে অসাধারণ, তার খেলা দেখাটাই দারুণ ব্যাপার। সেই ওই ধরনের খেলোয়াড় যার খেলা দেখার জন‍্য আপনি প্রতি সপ্তাহে বড় অঙ্কের অর্থ খরচ করবেন। কারণ, তার খেলা দৃষ্টিনন্দন। সে খুবই গতিময়- সে ফল এনে দেয়। তার মতো গতিময়, বলে তার ছোঁয়া এবং যে চমৎকার কৌশল সে দেখায়… সে বিশ্বমানের।”

স্টিভেন জেরার্ড

 

“এই (ক্লপ) যুগে লিভারপুলে আমার প্রিয় খেলোয়াড় সাদিও মানে শেষ পর্যন্ত চলে যাচ্ছে। ‘লো মেইটেনেন্স, হাই পারফরম‍্যান্স’ এবং কখন চোটে না পড়া। প্রচুর ট্রফি ও গোল, সত‍্যিকারের লিভারপুল কিংবদন্তি। ধন‍্যবাদ সাদিও।”

জেমি ক‍্যারাগার

 

“যদিও ২৫ বছর বয়সে যেমন ছিল, সাদিও এখন ততটা চটপটে নয়, তবুও সে এখনও দলকে খুব সাহায‍্য করতে পারে। সে মাঠে থাকলে আমাদের জয়ের সম্ভাবনা ৬০ শতাংশ বেড়ে যায়। কারণ সে মাঠে থাকলে প্রতিপক্ষ উদ্বিগ্ন থাকে। আমরা এখনও সাদিওর শেষ দেখিনি।”

এল হাজি দিয়ুফ

 

পরিসংখ‍্যানের আলোয় মানে

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের রেকর্ড বইয়ে মানে জায়গা করে নেন ২০১৫ সালের ১৬ মে। সেদিন অ‍্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে সাউথ‍্যাম্পটনের হয়ে কেবল ২ মিনিট ৫৬ সেকেন্ডের মধ‍্যে হ‍্যাটট্রিক করেন তিনি। প্রিমিয়ার লিগে যা এখনও দ্রুততম হ‍্যাটট্রিকের রেকর্ড।

 

সেনেগালের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১২৪ ম‍্যাচ খেলেছেন মানে। তার চেয়ে বেশি ম‍্যাচ খেলেছেন কেবল এভারটন মিডফিল্ডার ইদ্রিসা গেয়ি (১২৯)।

 

৩৪ বছর বয়সী মানে আন্তর্জাতিক ফুটবলে করেছেন ৫২ গোল। সেনেগালের হয়ে সর্বোচ্চ গোলের তালিকায় তার ধারে কাছে নেই কেউ। ২০২২ সালের ৪ জুন বেনিনের বিপক্ষে ৩-১ ব‍্যবধানের জয়ে হ‍্যাটট্রিক করে হেনরি কামারার ২৯ গোল ছাড়িয়ে রেকর্ড নিজের করে নেন তিনি।

 

লিভারপুল ও সাউথ‍্যাম্পটনের হয়ে ইংল‍্যান্ডে নিজের আট মৌসুমে মানে সবসময়ই গোলের ক্ষেত্রে দুই অঙ্ক স্পর্শ করেন। ২০১৮-১৯ মৌসুমে লিভারপুল সতীর্থ সালাহ ও আর্সেনালের পিয়ের-এমেরিক অবামেয়াংয়ের সঙ্গে যৌথভাবে জেতেন প্রিমিয়ার লিগের গোল্ডেন বুট। সেবার তারা করেন ২২টি করে গোল।

বিশ্বকাপে মানে

কেবল একটি আসরে খেলেছেন মানে, ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে। সেবার দলের প্রতিটি মিনিট খেলেন মানে।

পোল‍্যান্ডের বিপক্ষে ২-১ ব‍্যবধানের জয়ে আসর শুরু করে সেনেগাল। জাপানের সঙ্গে ড্র করে ২-২ ব‍্যবধানে। পরে কলম্বিয়ার বিপক্ষে হারে ১-০ গোলে।

জাপানের বিপক্ষে জালের দেখা পান মানে। তিন ম‍্যাচেই তিনি ভীতি ছড়ান প্রতিপক্ষের রক্ষণে। তবে গ্রুপ পর্বেই শেষ হয় সেনেগালের বিশ্বকাপ।

২০২২ বিশ্বকাপে চোটের জন‍্য খেলা হয়নি মানের। বিশ্বকাপ দল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় তাকে।

২০২৬ বিশ্বকাপ ঘিরে মানে ও সেনেগালের প্রত‍্যাশা

বড় প্রতিযোগিতায় ভালো করতে পারদর্শী খেলোয়াড়দের উপস্থিতিতে ২০২৬ বিশ্বকাপে বড় লক্ষ‍্য নিয়েই খেলবে সেনেগাল। সোনালী প্রজন্মের খেলোয়াড়রা ২০২১ আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সের শিরোপা জিতেছেন (যেটি মাঠে গড়িয়েছিল ২০২২ সালে)।

মহাদেশীয় প্রতিযোগিতায় ধারাবাহিকভাবে নিজেদের মেলে ধরছে তারা। এবার বিশ্বকাপের বড় মঞ্চে ছাপ ফেলার চ‍্যালেঞ্জ তাদের সামনে। বিশ্বকাপ অভিষেকে ২০০২ সালে ফুটবল বিশ্বকে চমকে দিয়ে খেলেছিল কোয়ার্টার-ফাইনালে। এর পুনরাবৃত্তির স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামবেন মানে ও তার সতীর্থরা।

ফ্রান্সের বিপক্ষে ম‍্যাচ দিয়ে শুরু হবে সেনেগালের বিশ্বকাপ। ‘আই’ গ্রুপের অন্য দুই দল ইরাক ও নরওয়ে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

খেলাধুলা

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
জিম্বাবুয়ের কাছে লজ্জার হারে টেস্ট র‍্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের পতন

পাকিস্তানকে টেস্ট সিরিজে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছিল বাংলাদেশ। সেই সাফল্যের সুবাদে আইসিসির টেস্ট র‍্যাংকিংয়ে প্রথমবারের মতো সপ্তম স্থানে উঠে এসেছিল টাইগাররা। তবে সেই অবস্থান এক মাসও ধরে রাখতে পারল না নাজমুল হোসেন শান্তর দল। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ইনিংস ব্যবধানে হারের পর আবারও এক ধাপ পিছিয়ে অষ্টম স্থানে নেমে গেছে বাংলাদেশ। সুযোগটি কাজে লাগিয়ে সপ্তম স্থানে উঠে এসেছে পাকিস্তান।   হারারেতে একমাত্র টেস্টে পরিষ্কার ফেভারিট হিসেবেই মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ম্যাচের শুরু থেকেই ছন্দ হারিয়ে ফেলে সফরকারীরা। প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৪০ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি চলে যায় জিম্বাবুয়ের হাতে। এরপর স্বাগতিকরা ৪১০ রানের বড় সংগ্রহ গড়ে বাংলাদেশের ওপর বিশাল চাপ তৈরি করে। ২৭০ রানে পিছিয়ে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করেও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি বাংলাদেশ। টপ অর্ডার থেকে মিডল অর্ডার—কেউই দায়িত্বশীল ব্যাটিং করতে পারেননি। একের পর এক উইকেট হারিয়ে শেষ পর্যন্ত ১৮৫ রানে অলআউট হয় টাইগাররা। ফলে ইনিংস ও ৮৫ রানের বড় ব্যবধানে হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় শান্তদের।  বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে ইনিংস ব্যবধানে হার নতুন নয়। তবে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এমন পরাজয় এসেছে মাত্র দ্বিতীয়বার। সবশেষ ২০০১ সালে দুই দলের প্রথম টেস্ট সাক্ষাতে ইনিংস ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। প্রায় ২৫ বছর পর আবারও একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সেই তিক্ত অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি হলো।  এই হারের প্রভাব পড়েছে আইসিসির সর্বশেষ টেস্ট র‍্যাংকিংয়েও। পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করার পর বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট ছিল ৭৮। কিন্তু জিম্বাবুয়ের কাছে পরাজয়ের ফলে ৫ রেটিং পয়েন্ট হারিয়ে এখন তাদের সংগ্রহ ৭৩। ফলে অষ্টম স্থানে নেমে গেছে বাংলাদেশ।  অন্যদিকে ৭৫ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে এক ধাপ এগিয়ে সপ্তম স্থানে উঠে এসেছে পাকিস্তান। ফলে খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে টেস্ট র‍্যাংকিংয়ে নিজেদের অর্জিত অবস্থান হারাতে হলো বাংলাদেশকে।

মারিয়া রহমান জুলাই ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

আর্জেন্টিনাকে হারালে ধরে নেব বিশ্বকাপ জিতে গেছি: কেপ ভার্দের প্রেসিডেন্ট

ছবি: সংগৃহীত

সূর্যবংশী নাকি গিল? বিসিসিআইকে বড় পরামর্শ মাঞ্জরেকারের

ছবি: সংগৃহীত

এমবাপে–ওলিসের দাপটে ইতিহাস গড়ছে ফ্রান্স, বিশ্বকাপে একের পর এক রেকর্ড

ছবি: সংগৃহীত
আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের মধ্যে কে আগে স্বীকৃতি দিয়েছিল বাংলাদেশকে?

ফুটবল মাঠের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। দুই দেশই বাংলাদেশের মানুষের কাছে আবেগের নাম। বিশ্বকাপ এলেই এ দুই দলকে ঘিরে দেশের সর্বত্র দেখা যায় উন্মাদনা। তবে ফুটবলের বাইরেও বাংলাদেশের ইতিহাসে রয়েছে দুই দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দিকের দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা।   ইতিহাস বলছে, ১৯৭২ সালের ১৫ মে স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ব্রাজিল। আর ১০ দিন পর, ২৫ মে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় আর্জেন্টিনা।   তবে দুই দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক শুধু ফুটবলেই সীমাবদ্ধ নয়, অর্থনৈতিক সম্পর্কও ক্রমেই জোরদার হচ্ছে। দক্ষিণ আমেরিকার এই দুই দেশের মধ্যে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার ব্রাজিল। আর্জেন্টিনার তুলনায় ব্রাজিলে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রায় আট গুণ বেশি। আমদানির ক্ষেত্রেও ব্রাজিলই এগিয়ে। উভয় দেশেই বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক।   কূটনৈতিক সম্পর্কেও সাম্প্রতিক সময়ে এসেছে নতুন গতি। গত বছর জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) এক সাইডলাইন বৈঠকে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা।   অন্যদিকে, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ঢাকায় পুনরায় দূতাবাস চালু করেছে আর্জেন্টিনা। দেশটির রাষ্ট্রদূতকেও বিভিন্ন সময় বাংলাদেশি ফুটবলপ্রেমীদের সঙ্গে আর্জেন্টিনার ম্যাচ উপভোগ ও জয় উদযাপনে অংশ নিতে দেখা গেছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

নরওয়ে কি ব্রাজিলের জন্য হুমকি?

ছবি: সংগৃহীত

জোড়া গোলে মেসির পাশে এমবাপে, শেষ ষোলোতে ফ্রান্স

ছবি: সংগৃহীত

হারারের বড় হার নিয়ে হতাশ শান্ত, দোষ দিলেন ব্যাটিং ব্যর্থতাকে

ছবি: সংগৃহীত
২০২৬ বিশ্বকাপ নিয়ে ২০১৮ সালেই বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন ম্যারাডোনা

উত্তর আমেরিকার তিন দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিত ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব যখন জমে উঠেছে, ঠিক তখনই নতুন করে আলোচনায় এসেছে আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার আট বছর আগের একটি সাক্ষাৎকার।   ২০১৮ সালে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে ম্যারাডোনা ২০২৬ বিশ্বকাপের আয়োজক দেশগুলো নিয়ে বেশ কড়া মন্তব্য করেছিলেন। বিশেষ করে মেক্সিকোকে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্তে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন।   ১৯৮৬ সালে মেক্সিকোর মাটিতেই আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতানো ম্যারাডোনা সে সময় বলেছিলেন, মেক্সিকো এই আয়োজনের যোগ্য নয়। তার দাবি ছিল, শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হলেই মেক্সিকোর বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়ে যায়।   কানাডা সম্পর্কেও সমালোচনামূলক মন্তব্য করেন তিনি। ম্যারাডোনার ভাষ্য ছিল, দেশটিতে ফুটবলের প্রতি ঐতিহ্যগত আবেগ তেমন নেই; বরং কানাডিয়ানরা শীতকালীন খেলাধুলা, বিশেষ করে স্কিইংয়ের প্রতিই বেশি আগ্রহী।   যুক্তরাষ্ট্র প্রসঙ্গে তিনি ফুটবলের বাণিজ্যিকীকরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ম্যারাডোনার দাবি ছিল, ১৯৯৪ বিশ্বকাপের আগে যুক্তরাষ্ট্র নাকি ম্যাচকে ২৫ মিনিটের চারটি ভাগে বিভক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছিল, যাতে বিজ্ঞাপন প্রচারের সুযোগ বাড়ে। যদিও এমন কোনো পরিবর্তন বাস্তবে কার্যকর হয়নি।   তবে চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপে গরম আবহাওয়ার কারণে বেশ কয়েকটি ম্যাচে হাইড্রেশন ব্রেক রাখা হয়েছে। এতে খেলা মাঝেমধ্যে বিরতিতে থামায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই ম্যারাডোনার সেই পুরোনো মন্তব্যের সঙ্গে বর্তমান বাস্তবতার মিল খুঁজে আলোচনা করছেন।   উল্লেখ্য, ম্যারাডোনা ২০২০ সালে মারা গেলেও বিশ্ব ফুটবল নিয়ে তার বিভিন্ন মন্তব্য ও ভবিষ্যদ্বাণী এখনও প্রায়ই আলোচনায় ফিরে আসে।

আক্তারুজ্জামান জুন ৩০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

কঙ্গো ম্যাচে ফেবারিট ইংল্যান্ড, তবু টাইব্রেকার নিয়ে ঝুঁকি নিতে নারাজ

খেলোয়াড়দের ডেকে কৌশল ঠিক করছেন কোচ আনচেলত্তি। ছবি: সংগৃহীত

আনচেলত্তির বার্তায় বিরতির পর বদলে গেল ব্রাজিলের খেলা

ছবি : সংগৃহীত

রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্তে কি বাদ পড়ল জার্মানি?

0 Comments