এখন থেকে ঠিক ২২ বছর আগে ২০০৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনে ওয়ানডে বিশ্বকাপে ১৬১.৩ কিলোমিটার গতিতে বল করে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন পাকিস্তানের সাবেক তারকা ক্রিকেটার শোয়েব আখতার।
শোয়েবের সেই ১৬১.৩ কিলোমিটার গতির রেকর্ড ২২ বছরে অনেকে ভাঙার কাছাকাছি অনেকে গেলেও কেউই সেটা ভাঙতে পারেননি। পার্থে এ বছরের ১৯ অক্টোবর অস্ট্রেলিয়া-ভারত প্রথম ওয়ানডেতে মিচেল স্টার্ক ঘণ্টায় ১৪০.৮ কিলোমিটার গতিতে বল করেন।
রাওয়ালপিন্ডি এক্সপ্রেস খ্যাত শোয়েব আখতারের চাওয়া তার এই রেকর্ডটা যেন বাংলাদেশের গতিময় তারকা তাসকিন আহমেদ ভেঙে দেন।
বিপিএলের আসন্ন আসরে ঢাকা ক্যাপিটালসের মেন্টর হিসেবে কাজ করতে ঢাকায় এসে শোয়েব আখতার তার সেই সর্বোচ্চ গতির বোলিংয়ের রেকর্ড ভাঙার প্রসঙ্গ বলেছেন, ‘তাসকিন আমার সর্বোচ্চ গতির রেকর্ড ভেঙে দিক।’
শোয়েব আখতারের মুখ থেকে এমন প্রশংসায় উচ্ছ্বসিত তাসকিন আহমেদ। বর্তমানে আইএল টি-টোয়েন্টিতে খেলা বাংলাদেশি পেসার বলেছেন, ‘এটা খুবই ভালো লাগার বিষয় শোয়েব আখতারের মতো কিংবদন্তি আমার সম্পর্কে এই কমপ্লিমেন্ট দিয়েছেন (রেকর্ড ভাঙা)। যদিও ওনার এই রেকর্ড ভাঙা খুবই কঠিন। কেননা ঘণ্টায় ১৬১.৩ কিলোমিটার বল করা অনেক বেশি কিছু।’
বাংলাদেশে অনেকবার খেলতে আসলেও এবার ভিন্ন ভূমিকায় আসছেন শোয়েব। ঢাকা ক্যাপিটালসের মেন্টর হিসেবে কাজ করবেন তিনি। তাসকিন গুরু হিসেবেই পাচ্ছেন দলে। তার কাছ থেকে শিখতে তাই মুখিয়ে আছেন ৩০ বছর বয়সী পেসার।
তিনি বলেছেন শোয়েব আখতারকে ধন্যবাদ ঢাকা ক্যাপিটালসের মেন্টর হিসেবে এসেছেন। ওনার থেকে অনেক কিছু শেখার চেষ্টা করব। সেই অভিজ্ঞতায় আমাদের দেশের ফাস্ট বোলাররাও উপকৃত হবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে পরলোকে পাড়ি জমালেন ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মাইক স্মিথ। ৯২ বছর বয়সে স্মিথের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছে ওয়ারউইকশায়ার কাউন্টি ক্রিকেট ক্লাব। ১৯৩৩ সালে লেস্টারশায়ারে জন্ম নেন স্মিথ। ইংল্যান্ডের হয়ে ১৯৫৮ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত ৫০ টেস্ট খেলেছেন স্মিথ। এরমধ্যে ২৫টি টেস্টে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। স্মিথের অধীনে ৫টিতে জয়, তিনটিতে হার ও ১৭টিতে ড্র করেছে ইংল্যান্ড। দেশের হয়ে ব্যাট হাতে ৩ সেঞ্চুরি ও ১১টি হাফ-সেঞ্চুরিতে ৩১.৬৩ গড়ে ২,২৭৮ রান করেছেন স্মিথ। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত রেকর্ড আছে টপ অর্ডার ব্যাটার স্মিথের। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১৯৫১ সালে অভিষেক হয় তার। এরপর ১৯৫৬ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত ওয়ারউইকশায়ারের হয়ে খেলেছেন তিনি। এরমধ্যে ১৯৫৭ থেকে ১৯৬৭ সালে ওয়ারউইকশায়ারের অধিনায়কত্ব করেন স্মিথ। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৬৯টি শতক ও ২৪১টি অর্ধশতকে ৩৯,৮৩২ রান করেছেন স্মিথ। ১৯৫৯ সালের কাউন্টিতে ২,৪১৭ রান করেন স্মিথ। যা ওয়ারউইকশায়ারের কোন ব্যাটারের এক আসরে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। পরের বছর উইজডেনের বর্ষসেরা ক্রিকেটারের পুরস্কার জেতেন তিনি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহের তালিকায় ১৮তম স্থানে আছেন স্মিথ। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ১৪০ ম্যাচে ১৫টি হাফ-সেঞ্চুরিতে ৩,১০৬ রান করেছেন তিনি। ২৪ বছরের বণার্ঢ্য ক্যারিয়ার শেষে ওয়ারউইকশায়ারের চেয়ারম্যান হন স্মিথ। এরপর আইসিসির ম্যাচ রেফারি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৪টি টেস্ট ও ১৭টি ওয়ানডে পরিচালনা করেন স্মিথ। এছাড়া ইংল্যান্ডের ম্যানেজার ছিলেন স্মিথ। এরমধ্যে ১৯৯৪-৯৫ সালের অ্যাশেজ সিরিজও রয়েছে।
বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে কম জনসংখ্যার দেশ কুরাসাও। মঙ্গলবার (১৯ মে) আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছে দেশটি। বিশ্বকাপ দলে জায়গা পেয়েছেন দুই ভাই লিয়েন্দ্রো বাকুনা ও জুনিও বাকুনা। মাত্র দুই লাখের কম জনসংখ্যার দেশ কুসারাও এবারই প্রথম বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। দলটিকে নেতৃত্ব দেবেন অ্যাস্টন ভিলার সাবেক মিডফিল্ডার লিয়েন্দ্রো বাকুনা। তিনি এখন তুরস্কের দ্বিতীয় স্তরের দল ইগদির এফকেতে খেলছেন। তার ছোট ভাই জুনিও বাকুনাও বিশ্বকাপ দলে আছেন। ২৮ বছর বয়সী জুনিও খেলেন ডাচ ক্লাব ভলেনডাকেমে। এছাড়া বিশ্বকাপ দলে আছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক একাডেমি খেলোয়াড় তাহিথ চংও। ২৬ বছর বয়সী চং নেদারল্যান্ডসের বয়সভিত্তিক দলে খেলেছিলেন। গত আগস্টে তিনি কুরাসাওয়ের নাগরিকত্ব নেন। বর্তমানে ক্লাব ফুটবলে খেলেন ইংলিশ ক্লাব শেফিল্ড ইউনাইটেডে। ‘ই’ গ্রুপে থাকা কুরাসাও বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচ খেলবে ১৪ জুন জার্মানির বিপক্ষে। একই গ্রুপে তাদের অপর দুই প্রতিপক্ষ ইকুয়েডর ও আইভরি কোস্ট। কুরাসাওয়ের বিশ্বকাপ স্কোয়াড গোলরক্ষক: টাইরিক বোডাক (এসসি টেলস্টার), ট্রেভর ডুর্নবার্চ (ভিভিভি-ভেনলো), এলোয় রুম (মায়ামি এফসি)। ডিফেন্ডার: রিচেডলি বাজোয়ের (কোনাস্পোর), ইয়োশুয়া বেরনেট (কায়েসারিস্পোর), রোশন ফন এইমা (আরকেসি ওয়ালউইক), শেরেল ফ্লোরানাস (পিইসি জোয়েল), ডেভারসন ফোনভিলে (এনইসি নিমেগেন), জুরিয়েন গারি (আভা ক্লাব), আরমান্দো অবিস্পো (পিএসভি এইন্দোহোভেন), সুরান্দি সাম্বো (স্পার্টা রটারডাম)। মিডফিল্ডার: জুনিও বাকুনা (এফসি ভলেনডাকেমে) লিয়ান্দ্রো বাকুনা (ইগদির), লিভানো কোমেনেনসিয়া (এফসি জুরিখ), কেভিন ফেলিদা (এফসি ডেন বশ), আর'জ্যানি মার্থা (রথারহ্যাম ইউনাইটেড), টাইরেস নোসলিন (এসসি টেলস্টার), গডফ্রাইড রোমেরাতো (আরকেসি ওয়ালউইক)। ফরোয়ার্ড: জেরেমি আন্তোনিসে (এই কিফিসা), তাহিথ চং (শেফিল্ড ইউনাইটেড), কেঞ্জি গোরে (ম্যাকাবি হেইফা), সোনজে হ্যানসেন (মিডলসব্রো), গ্রেভানে কাস্তানির (তেরেঙ্গানু এফসি), ব্রান্ডলি কুয়াস (এফসি ভলেনডাম), ইয়ুর্গেন লোকাদিয়া (মায়ামি এফসি) ও জার্ল মার্গারিতা (এসকে বেভেরেন)।
অবশেষে অপেক্ষার অবসান ঘটল। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের জন্য ব্রাজিলের চূড়ান্ত ২৬ সদস্যের দল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন কার্লো আনচেলত্তি। এই দল ঘোষণা ঘিরে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিলেন নেইমার। প্রাথমিক দল থেকে চূড়ান্ত স্কোয়াডেও টিকে গেলেন তিনি। রিও ডি জেনিরোর মিউজিয়াম অব টুমরোতে আজ এই ঘোষণা দেওয়া হয়। প্রত্যাশা অনুযায়ী, ঘোষণাটি ছিল নানা আলোচনা, বড় বড় তারকাদের উপস্থিতি এবং কিছু চমকে ভরপুর। ফুটবলের অন্যতম নামী এই কোচের অধীনে, পাঁচবারের বিশ্বকাপ জয়ী এবং একমাত্র দেশ হিসেবে প্রতিটি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী সেলেসাওরা এবার এক ঝাঁক তারকা ও নতুন উদ্যম নিয়ে মাঠে নামবে। দীর্ঘ আড়াই বছর পর নেইমার সফলভাবে ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দলে ফিরেছেন। ২০২৩ সালের পর এই প্রথম এই ফরোয়ার্ড জাতীয় দলে ফিরছেন। এই দলে অভিজ্ঞ ও প্রবীণ খেলোয়াড়দের পাশাপাশি প্রতিভাবান তরুণ খেলোয়াড়দের এক দারুণ সমন্বয় ঘটানো হয়েছে। তবে দলে জায়গা না পাওয়া বড় চমকগুলোর মধ্যে অন্যতম হলেন রদ্রিগো। ইগর থিয়াগো, এন্দ্রিক ও লুইজ হেনরিকের অন্তর্ভুক্তিও চমকপ্রদ। সেলেসাওরা রয়েছে 'সি' গ্রুপে এবং তারা মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে। প্রতিযোগিতার প্রথম ম্যাচে একটি কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে তাদের। পরের দুই ম্যাচ হাইতি ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে। ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্কোয়াড গোলরক্ষক: আলিসন, এদেরসন ও ওয়েভারটন; রক্ষণভাগ: অ্যালেক্স সান্দ্রো, ব্রেমার, দানিলো, ডি. সান্তোস, মাগালিয়ায়েস, ইবানিজ, লিও পেরেইরা, মার্কিনহোস ও ওয়েসলি; মধ্যমাঠ: ব্রুনো গিমারায়েস, কাজেমিরো, দানিলো, ফাবিনহো ও পাকেতা; আক্রমণভাগ: এন্দ্রিক, মার্তিনেল্লি, ইগর থিয়াগো, লুইজ হেনরিকে, মাথেউস কুনহা, নেইমার জুনিয়র, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রাফিনহা ও রায়ান।