অন্যান্য

যেসব পানীয় নীরবে দুর্বল করে দিচ্ছে আমাদের হাড়

মো: দেলোয়ার হোসাইন ডিসেম্বর ২০, ২০২৫

শীতের মৌসুমে অনেকের দিন শুরু বা শেষ হয় এক কাপ ফেনাযুক্ত কফি, হট চকলেট, এগনগ, বা দুধ চা দিয়ে। শীতের ছুটিতে রিসোর্ট বা হোটেলে গেলে হট চকলেট আর কফি খাওয়াও প্রায় বাধ্যতামূলক। যদিও এসব পানীয় অনেক মজাদার, তবে বিশেষজ্ঞরা বলেন যে, এগুলো আমাদের হাড়ের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। শীতকালীন এসব জনপ্রিয় পানীয়তে সাধারণত অতিরিক্ত চিনি থাকে, যা দীর্ঘমেয়াদে হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত চিনি খেলে শরীর থেকে ক্যালসিয়ামের ক্ষয় হতে পারে, যেটি হাড়ের শক্তির জন্য প্রয়োজনীয়। এর ফলে হাড়ের ঘনত্ব কমে যায় এবং হাড় দুর্বল হতে পারে, যা অস্টিওপোরোসিস বা হাড় ভাঙার মতো সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়। এছাড়া নিয়মিত বেশি চিনি খেলে ভিটামিন ডি-এর কার্যকারিতা কমে যায়, যা ক্যালসিয়াম শোষণের জন্য জরুরি।

এছাড়া, বিভিন্ন পানীয়ের ক্ষতির পরিমাণ আলাদা আলাদা—

  • হট চকলেট: দুধে কিছু ক্যালসিয়াম থাকে, তবে বাজারের হট চকলেটে ২০-৩০ গ্রাম চিনি থাকতে পারে।
  • এগনগ: এতে ক্যালসিয়াম ও প্রোটিন থাকে, তবে এক কাপেই ৩০০ ক্যালোরি এবং ২০ গ্রাম চিনি থাকে।
  • মাল্ড ওয়াইন ও সাইডার: মসলা থেকে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পাওয়া গেলেও, অ্যালকোহল ক্যালসিয়াম শোষণে বাধা দেয়।
  • পেপারমিন্ট মোকা বা জিঞ্জারব্রেড লাতে: বড় সাইজে ৫০ গ্রাম বা তারও বেশি চিনি থাকে, পুষ্টিগুণ প্রায় থাকে না।

এক্ষেত্রে, কতটা চিনি খাওয়া নিরাপদ—

  • আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের মতে, দৈনিক ক্যালোরির সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ যোগ করা চিনি থেকে আসা উচিত।
  • পুরুষদের জন্য এটি প্রায় ৩৬ গ্রাম এবং নারীদের জন্য ২৫ গ্রাম।

স্বাস্থ্যকর বিকল্প:

শীতের দিনে হট চকলেট, এগনগ বা কফির লোভ সামলানো কঠিন, তবে পরিমিত পরিমাণে খাওয়া বা স্বাস্থ্যকর বিকল্প বেছে নেওয়া ভালো। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, হট চকলেট তৈরির সময় সুইটেনার হিসেবে মধু বা স্টিভিয়া ব্যবহার করা, অথবা কম চিনিযুক্ত মিক্স বেছে নেওয়া। এছাড়া, চকলেট ফ্লেভারড বোন ব্রথ বা কোলাজেন পাউডারও ব্যবহার করা যেতে পারে, এতে প্রোটিন বেশি থাকে কিন্তু চিনি কম।

এছাড়া, দারুচিনি, লবঙ্গ ও আপেল সাইডার ভিনেগারের মতো মসলায় তৈরি চিনি ছাড়া সুস্বাদু পানীয়ও করা যেতে পারে। কফি অর্ডার দেয়ার সময় মিষ্টতার পরিমাণ কমিয়ে, নন-ফ্যাট বা লো-ফ্যাট দুধ ব্যবহার করা ভালো।

অতএব, শীতের সময়ে পানীয় খাওয়ার ক্ষেত্রে সচেতন থাকা জরুরি। এমনকি যেসব পানীয় প্রোটিন ও খনিজ সমৃদ্ধ, কিন্তু চিনি কম, সেগুলো শরীরের পুষ্টির ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং হাড়ের ক্ষয় কমায়।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

অন্যান্য

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
অগ্নিসংযোগ-বোমা হামলা নিয়ে রিজভীর ‘গভীর ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগ

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বাস ও সিএনজি অটোরিকশায় সাম্প্রতিক অগ্নিসংযোগ ও বোমা হামলার ঘটনাগুলো গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ।   তিনি বলেন, যারা আগুন দিচ্ছে ও বোমা ছুড়ছে, তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের শত্রু। সবাইকে সতর্ক ও প্রস্তুত থাকতে হবে। রাজপথ কারো ইজারা নেওয়া নয়।   বৃহস্পতিবার রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তৃতাকালে রিজভী এ মন্তব্য করেন।   পরিকল্পিত সন্ত্রাসবাদের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শাহবাগ পর্যন্ত এক বিশাল প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে।   রুহুল কবির রিজভী বলেন, ছাত্রদলের সমাবেশে তরুণদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশ জাতীয়তাবাদী শক্তির পক্ষে দৃঢ়ভাবে অবস্থান করছে। বাস ও সিএনজি অটোরিকশায় সাম্প্রতিক অগ্নিসংযোগের ঘটনাগুলোকে গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে অভিহিত করে তিনি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করেন।   ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রেফতারকৃত অপরাধীরা স্বীকার করেছে যে, তারা প্রতিবেশি দেশ থেকে ফোনকলের মাধ্যমে বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো, সেসব ঘটনার ছবি তোলা এবং প্রমাণের জন্য তা ফেরত পাঠানোর নির্দেশনা ও অর্থ পেয়েছিল।   রিজভী বলেন, এই পরিকল্পিত সন্ত্রাসবাদ প্রতিবেশি দেশের একটি ফোন নম্বর থেকে পরিচালিত হচ্ছে, যা ষড়যন্ত্রের গভীরতা উন্মোচন করে।   তিনি আরো বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার সর্বদা জাতীয় স্বার্থ ও জনকল্যাণকে অগ্রাধিকার দেয়।   সমাবেশে বক্তৃতাকালে পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, গত ১৭ বছরে জনগণ ফ্যাসিবাদী সরকারের দুর্নীতি ও দুঃশাসন প্রত্যক্ষ করেছে।   তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার একদিকে যেমন দেশের উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে কাজ করছে, তেমনি রাজপথে ষড়যন্ত্রকারীদেরও সক্রিয়ভাবে মোকাবিলা করছে।   বিএনপি’র ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, সরকার যখন অর্থনীতি পুনর্গঠন ও একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছে, তখন ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিবাদী সরকারের সাথে সংশ্লিষ্ট একটি স্বার্থান্বেষী মহল অগ্নিসংযোগ ও ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়নে বাধা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।    ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে ছাত্র সংগঠনটির বিভিন্ন ইউনিটের নেতা-কর্মী অংশ নেন।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬
রুহুল কবির রিজভী। সংগৃহীত ছবি

ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি ঘটলে রাষ্ট্রই টিকবে না: রিজভী

সংগৃহীত ছবি

নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারীর গ্রেফতার চাইলেন যুবদল সভাপতি

ছবি: সংগৃহীত

এমপি মাহবুবা হাকিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে খতিয়ে দেখবে ইসি

সরকার দাবি মানলে ঢাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটবে না: নাসীরুদ্দীন

১১ দলীয় জোট আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কোনো মিছিল বা কর্মসূচি পালন করে না—বিএনপির এমন অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।     সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে এনসিপির মিছিল শেষে রাজধানীর নেভিগলিতে দাঁড়িয়ে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।     তিনি বলেন, সংস্কার ও বিচারের প্রধান তিনটি দাবি সরকার মেনে নিলে ঢাকা শহরে আর কোনো ধরনের ককটেল বিস্ফোরণ ঘটবে না।       বিএনপির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানান, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে রাজপথে তাদের কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে এবং গতকালও দুটি মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।       তিনি বলেন, ‘আমরা তো বলছি আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশে বাদ দিতে হলে সংস্কার দরকার। ১১ দলীয় জোট শুরু থেকেই এই অবস্থান নিয়ে কথা বলে আসছে।’       আন্দোলনের মূল ইস্যুগুলো তুলে ধরে এনসিপির এই মুখ্য সংগঠক আরও বলেন, ‘গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জুলাইয়ের ঘটনার বিচারসহ নির্দিষ্ট তিনটি দাবিতে আমরা রাজপথে আছি। কিন্তু সরকার এই দাবিগুলো মানছে না। সরকার আমাদের দাবিগুলো মেনে নিলে ঢাকা শহরে আর ককটেল ফুটবে না।’       বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি মূলত বোঝাতে চেয়েছেন, তাদের তোলা দাবিগুলো বাস্তবায়িত হলে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হবে। আর দলটি নিষিদ্ধ হলে তাদের নেতাকর্মীরাও ঢাকা শহরে নাশকতা বা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানোর কোনো সুযোগ পাবে না।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

অন্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম অনেক কম: রিজভী

ফাইল ছবি

অপ্রতিমের মতো করুণ পরিণতি আর কোনো সন্তানের না হোক: রাশেদ

সংগৃহীত ছবি

আজ থেকে একাদশে ভর্তি, ক্লাস শুরু হবে ২৪ সেপ্টেম্বর

ছবি: সংগৃহীত
‘বাংলাদেশের মানুষের জননিরাপত্তা নেই, শিশুদেরও নিরাপত্তা নেই’: নাহিদ ইসলাম

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘সারাদেশে এখন জনমনে আতঙ্ক যে, বাংলাদেশের মানুষের জননিরাপত্তা নেই। শিশুদের নিরাপত্তা নেই।’   শনিবার (১৯ জুলাই) রাতে রংপুর জেলা স্কুল মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লং মার্চের সমাপনী সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।   নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘সারাদেশে এখন জনমনে আতঙ্ক যে, বাংলাদেশের মানুষের জননিরাপত্তা নেই। শিশুদের নিরাপত্তা নেই।’ আমাদের মা-বোনদের নিরাপত্তা নেই। কেন এই নিরাপত্তা নেই? কেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যর্থ হচ্ছেন? তিনি তার জবাবদিহিতা সংসদে দিচ্ছেন না।’   জবাবদিহি চাওয়া হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘তেলে-বেগুনে জ্বলে ওঠেন’ এবং বিভিন্নভাবে হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, ‘গুম আইন’ করে গুমের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। বিরোধী দল দমনে পুলিশকে আবারও ব্যবহারের চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।   তিনি বলেন, ‘এই চেষ্টা ব্যর্থ হবে। কারণ বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা আর কাউকেই স্বৈরাচারী হতে দেবে না।’ কেউ স্বৈরাচারী হওয়ার চেষ্টা করলে রংপুরের মাটি থেকেই ‘প্রথম বিদ্রোহ, প্রথম বিপ্লবের আহ্বান’ আসবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।   জুলাই গণহত্যার একটি মামলার রায় ঘোষণার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘রায় তাদের জন্যই আসে, মৃত্যুদণ্ড তাদের জন্যই আসে যারা দেশে নেই। যারা দেশে অবস্থান করছে, তাদের মৃত্যুদণ্ডের রায় কেন আসে না? আমরা তাদের মৃত্যুদণ্ডের রায় দেখতে চাই। রায় কার্যকর দেখতে চাই।’   দেশজুড়ে দলীয়করণের অভিযোগ তুলে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘সারা দেশে নজিরবিহীন দলীয়করণ হয়েছে। সকল প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ করা হচ্ছে। চাঁদাবাজি, দখলদারিত্বসহ সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশের ক্যাম্পাস ও বিভিন্ন এলাকা।’   তিনি বলেন, এসব পরিস্থিতি থেকে দেশকে মুক্ত করতে আমরা আট দফা দাবি নিয়ে মাঠে নেমেছি। ২০২৪ সালের মতো জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকলে আট দফা দাবি আদায় করেই ঘরে ফিরবেন বলেও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।   দেশের বিদ্যুৎ, গ্যাস ও সার সংকটের কথাও তুলে ধরেন তিনি। রংপুরের কৃষিনির্ভর মানুষের দুর্ভোগের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘এই রংপুর অঞ্চলের মানুষ বেশিরভাগ কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতে হয়। আজকে তারা সার, গ্যাস, বিদ্যুৎ পাচ্ছে না।’   ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, বিভিন্ন জায়গায় জোটের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করা হচ্ছে। সিরাজগঞ্জে একজন নেতাকর্মীকে হামলা করে আহত করার খবর পেয়েছেন বলেও জানান তিনি।   ঘটনাটি সত্য হলে রাজপথে এর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘এগারো দলের জোটের নেতাকর্মীদের কারো গায়ে যদি হাত তোলা হয়, পাল্টা আঘাতের জন্য আমরা প্রস্তুত আছি। সরকারকেও প্রস্তুত থাকতে হবে।’   রংপুরবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়ে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘এই রংপুরবাসীকে এখন শুনতে হচ্ছে যে, বিরোধী দলে ভোট দেওয়ার কারণে রংপুরবাসী কোনো উন্নয়নের বরাদ্দ পাবে না।’   রংপুরের মানুষের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্য ও অবহেলা করা হচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গের মানুষের জন্য তাদের আট দফার একটি দাবি বিশেষভাবে রাখা হয়েছে। সেটি হলো তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন। তিনি বলেন, ‘এটা শুধু কথার কথা নয়, এটা শুধু দাবির দাবি নয়। আমরা সত্যিকার অর্থে বাস্তবায়ন দেখতে চাই। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে।’   সরকারের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার অভিযোগ, বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ নিশ্চিত করতে সরকার সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন করেন, ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা কেন বাস্তবায়ন হচ্ছে না? কেন দিল্লির সঙ্গে তারা নেগোশিয়েট করতে পারছে না? কেন ভূ-রাজনীতিতে তারা বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ আদায় করতে পারছে না?’   তিনি বলেন, এসব ঘটনা থেকেই তারা মনে করেন, সরকার বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ নয়, বরং নিজেদের দলীয় স্বার্থ আদায়ের জন্য ক্ষমতায় গেছে।   গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে এ লংমার্চের আয়োজন করে ১১-দলীয় ঐক্য। আয়োজকদের পক্ষ থেকে এটিকে জোটের দ্বিতীয় বড় লংমার্চ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা–চট্টগ্রাম লংমার্চ অনুষ্ঠিত হয়।   লংমার্চের বহর রংপুরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে সকাল ৭টায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে উদ্বোধনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পরে সকাল ৮টার দিকে বহরটি রওনা হয়। পথে গাজীপুরের ভোগরা বাইপাস, টাঙ্গাইলের নগর জালপাই, সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল, বগুড়ার মাটিডালি বিমান মোড় ও গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া কয়েকটি স্থানে অনানুষ্ঠানিকভাবে পথসভা শেষে সন্ধ্যায় রংপুর জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।   জামায়াতের নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিরোধীদলীয় নেতা ও দলের আমির ডা শফিকুর রহমান, এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, জামায়াতের নায়েবে আমির মুজিবুর রহমান, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান (ইরান), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডিয়াম সদস্য ওমর ফারুক, এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন প্রমুখ বক্তব্য দেন।   এ ছাড়া এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আবদুল কাইয়ুম সুবহানী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দিন আহমদ, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম এবং ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ সিবগাসহ ১১ দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিগত ছয় মাসের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুললেন হাসনাত আবদুল্লাহ

রাজশাহীতে নেক্সট লিডার্স আয়োজিত ‘ফাউন্ডার্স গেট-টুগেদার অ্যান্ড নেটওয়ার্কিং সেশন’-এ অংশগ্রহণকারীগণ

রাজশাহীতে নেক্সট লিডার্সের ফাউন্ডার্স গেট-টুগেদার অনুষ্ঠিত

সংগৃহীত ছবি

অপ্রতীমের মৃত্যুর ঘটনায় সন্দেহভাজন একজন আটক

0 Comments