পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে পরলোকে পাড়ি জমালেন ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মাইক স্মিথ। ৯২ বছর বয়সে স্মিথের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছে ওয়ারউইকশায়ার কাউন্টি ক্রিকেট ক্লাব। ১৯৩৩ সালে লেস্টারশায়ারে জন্ম নেন স্মিথ।
ইংল্যান্ডের হয়ে ১৯৫৮ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত ৫০ টেস্ট খেলেছেন স্মিথ। এরমধ্যে ২৫টি টেস্টে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। স্মিথের অধীনে ৫টিতে জয়, তিনটিতে হার ও ১৭টিতে ড্র করেছে ইংল্যান্ড।
দেশের হয়ে ব্যাট হাতে ৩ সেঞ্চুরি ও ১১টি হাফ-সেঞ্চুরিতে ৩১.৬৩ গড়ে ২,২৭৮ রান করেছেন স্মিথ।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত রেকর্ড আছে টপ অর্ডার ব্যাটার স্মিথের। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১৯৫১ সালে অভিষেক হয় তার। এরপর ১৯৫৬ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত ওয়ারউইকশায়ারের হয়ে খেলেছেন তিনি। এরমধ্যে ১৯৫৭ থেকে ১৯৬৭ সালে ওয়ারউইকশায়ারের অধিনায়কত্ব করেন স্মিথ।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৬৯টি শতক ও ২৪১টি অর্ধশতকে ৩৯,৮৩২ রান করেছেন স্মিথ। ১৯৫৯ সালের কাউন্টিতে ২,৪১৭ রান করেন স্মিথ। যা ওয়ারউইকশায়ারের কোন ব্যাটারের এক আসরে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। পরের বছর উইজডেনের বর্ষসেরা ক্রিকেটারের পুরস্কার জেতেন তিনি।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহের তালিকায় ১৮তম স্থানে আছেন স্মিথ।
লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ১৪০ ম্যাচে ১৫টি হাফ-সেঞ্চুরিতে ৩,১০৬ রান করেছেন তিনি।
২৪ বছরের বণার্ঢ্য ক্যারিয়ার শেষে ওয়ারউইকশায়ারের চেয়ারম্যান হন স্মিথ। এরপর আইসিসির ম্যাচ রেফারি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৪টি টেস্ট ও ১৭টি ওয়ানডে পরিচালনা করেন স্মিথ।
এছাড়া ইংল্যান্ডের ম্যানেজার ছিলেন স্মিথ। এরমধ্যে ১৯৯৪-৯৫ সালের অ্যাশেজ সিরিজও রয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
সিলেট টেস্টে হাসান মাহমুদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে প্রথম ইনিংসে ৩৫৬ রানে থেমেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই দুই ওপেনারকে হারিয়ে চাপে পড়েছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে চোট পেয়ে স্ট্রেচারে মাঠ ছাড়েন ওপেনার সাদমান ইসলাম। সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিনে শুক্রবার প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৩৫৬ রানে অলআউট করেছে বাংলাদেশ। স্বাগতিকদের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন হাসান মাহমুদ। দেশের মাটিতে প্রথমবারের মতো এক ইনিংসে ছয় উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েছেন এই পেসার। দিনের শুরুতে ৪ উইকেটে ২৪৫ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামে সফরকারীরা। আগের দিন সেঞ্চুরি করা আমির জাঙ্গু ও জাস্টিন গ্রিভসের ব্যাটে আরও বড় সংগ্রহের পথে এগোচ্ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পঞ্চম উইকেটে দুজনের শতরানের জুটিও গড়ে ওঠে। তবে নতুন বলে আক্রমণে এসে ম্যাচের গতিপথ বদলে দেন হাসান। পরপর দুই বলে জাঙ্গু ও অধিনায়ক রোস্টন চেজকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা তৈরি করেন তিনি। আগের দিন হাসানের হাত থেকে জীবন পাওয়া জাঙ্গুকে এবার বোল্ড করেন এই পেসার। ২১২ বলে ১৩ চার ও ২ ছক্কায় ১৩৩ রান করেন জাঙ্গু। পরের বলে গোল্ডেন ডাকের শিকার হন চেজ। হ্যাটট্রিকের সুযোগ তৈরি হলেও জশুয়া বিশপ রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান। পরে অবশ্য তাকে স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলেন হাসান। এরপর সামার জোসেফকে বোল্ড করে নিজের ষষ্ঠ উইকেট তুলে নেন তিনি। হাসানের পাশাপাশি বাংলাদেশের হয়ে দুটি উইকেট নেন মেহেদী হাসান মিরাজ। জেইডেন সিলসকে ফিরিয়ে শেষ জুটিও ভাঙেন এই স্পিনার। তাসকিন আহমেদ আগের দিন দুটি উইকেট পেলেও দ্বিতীয় দিনে আর কোনো উইকেট পাননি। জাঙ্গুর ১৩৩ রানের ইনিংসের পর জাস্টিন গ্রিভস করেন ৫১ রান। শেষদিকে দশ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে জোমেল ওয়ারিকান অপরাজিত ২৭ রান যোগ করেন। সব মিলিয়ে ৩৫৬ রানে থামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংস। জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। পঞ্চম ওভারে ব্র্যান্ডন কিংয়ের ক্যাচে পরিণত হয়ে ৫ রানেই ফেরেন নাঈম হাসান। তাকে আউট করেন জেইডেন সিলস। এরপর জাস্টিন গ্রিভসের বলে ১৬ রান করে সাজঘরে ফেরেন তানজিদ হাসান তামিম। ফলে ২২ রানেই দুই উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। এর আগে ফিল্ডিংয়ের সময় চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয় সাদমান ইসলামকে। মেহেদী হাসান মিরাজের করা ৭৮তম ওভারের প্রথম বলে লেগ সাইডে ফ্লিক করেন আমির জাঙ্গু। বাউন্ডারির দিকে যাওয়া বল আটকাতে ছুটে যান সাদমান। এ সময় নিচু হয়ে বল থামানোর চেষ্টা করলে তার বাঁ পায়ের গোড়ালি মাটিতে আটকে যায়। সঙ্গে সঙ্গেই তীব্র ব্যথায় মাঠে লুটিয়ে পড়েন এই বাঁহাতি ওপেনার। ফিজিও প্রাথমিক চিকিৎসা দিলেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত স্ট্রেচারে করে তাকে মাঠের বাইরে নেওয়া হয়। বাংলাদেশের ইনিংসে সাদমান ব্যাট করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভুটানের মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ। জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচের প্রথমার্ধে একাধিক গোলের সুযোগ তৈরি করেও জালের দেখা পায়নি স্বাগতিকরা। অন্যদিকে ভুটানও গোল করতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে বিরতিতে দুই দলই মাঠ ছেড়েছে গোলশূন্য সমতায়। ম্যাচে বাংলাদেশের একাদশের অন্যতম আলোচিত বিষয় ছিল ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ ঘোষের স্ট্রাইকার হিসেবে মাঠে নামা। ইনজুরির কারণে আসিয়ান কাপে স্কোয়াডে থাকতে না পারলেও সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আগে অনুশীলনে তাকে ফরোয়ার্ড হিসেবে খেলিয়েছেন কোচ। ভুটানের বিপক্ষে শুরুর একাদশেও তাকে সেই পজিশনে দেখা যায়। প্রথমার্ধে বল দখল ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। অধিকাংশ সময়ই ভুটানের অর্ধে খেলা হলেও আক্রমণগুলো থেকে কাঙ্ক্ষিত গোল আদায় করতে পারেনি স্বাগতিকরা। ডান প্রান্ত দিয়ে রাকিব বেশ কয়েকবার প্রতিপক্ষের পেনাল্টি বক্সে ঢুকে পড়েন। তার একটি ক্রসে বিশ্বনাথ মাথা ছোঁয়ালেও বল লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এ ছাড়া বিশ্বনাথের নেওয়া কয়েকটি শটও লক্ষ্যে থাকেনি। নতুন পজিশনে বিশ্বনাথের খেলায় কিছুটা অনভিজ্ঞতাও চোখে পড়েছে। বল দখলে এগিয়ে থাকলেও বাংলাদেশ প্রথমার্ধে কার্যকর ও পরিকল্পিত আক্রমণ গড়ে তুলতে পারেনি। ম্যাচের আগে নির্ধারিত একাদশে তপু বর্মণকে রাখা হলেও শেষ মুহূর্তে ব্যথা পাওয়ায় তার পরিবর্তে মাঠে নামেন কাজেম শাহ। অন্যদিকে ভুটান ম্যাচের অধিকাংশ সময় রক্ষণাত্মক কৌশলে খেলেছে। তবে ৩০ মিনিটের পর কিছুটা আক্রমণাত্মক হওয়ার চেষ্টা করে দলটি। অধিনায়ক চ্যানচো গ্যালেস্টাইন দ্রুতগতিতে কয়েকবার বাংলাদেশের রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করেন। তার একটি দূরপাল্লার শট দক্ষতার সঙ্গে ঠেকিয়ে দেন বাংলাদেশের গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণ। সব মিলিয়ে প্রথমার্ধে আক্রমণে এগিয়ে থেকেও গোলের দেখা পায়নি বাংলাদেশ। দ্বিতীয়ার্ধে গোলের অপেক্ষা ঘোচানোর চ্যালেঞ্জ নিয়েই মাঠে ফিরতে হবে স্বাগতিকদের।
ইংলিশ ফুটবল ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটির ভবিষ্যৎ কী হতে চলেছে? দলটির ওপর কী ধরনের নিষেধাজ্ঞা বা শাস্তি নেমে আসবে? বিশ্ব ফুটবলের এই কোটি টাকার প্রশ্নের উত্তর এখন অনেকটাই নির্ভর করছে ৫ জন মানুষের ওপর। ম্যান সিটির ভাগ্য নির্ধারণ এবং তাদের সম্ভাব্য শাস্তি ঘোষণার ক্ষেত্রে ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগের ৫ সদস্য বিশিষ্ট পরিচালনা পর্ষদ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে যাচ্ছে। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আর্থিক নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে ম্যানচেস্টার সিটি দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর, প্রিমিয়ার লীগের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত শাস্তির সুপারিশমালা তৈরি ও তা পেশ করার মূল দায়িত্ব এখন এই পাঁচজন প্রভাবশালী ব্যক্তির ওপর। এই প্রভাবশালী বোর্ডের সদস্যরা হলেন—প্রিমিয়ার লীগের প্রথম সাবেক নারী চেয়ারম্যান ও 'দ্য কিংস ট্রাস্ট গ্রুপ'-এর চেয়ারম্যান অ্যালিসন ব্রিটেইন, প্রিমিয়ার লিগের প্রধান নির্বাহী রিচার্ড মাস্টার্স, ব্রিটেনের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ম্যাথিউ রাইডার কেসি, অর্থনৈতিনীবিদ মাই ফাইফিল্ড, ব্রিটেনের একজন বিশিষ্ট টেকনোলজি ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট ধর্মেশ মিস্ত্রি। সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা এবং স্বাধীনতা বজায় রাখার স্বার্থে এই বোর্ডে কোনো ফুটবল ক্লাবের প্রতিনিধি রাখা হয় না। বোর্ডটি মূলত লিগের চেয়ারম্যান, প্রধান নির্বাহী (চিফ এক্সিকিউটিভ) এবং তিনজন স্বাধীন অ-নির্বাহী পরিচালকের সমন্বয়ে গঠক করা হয়। গত সেপ্টেম্বর মাসে একটি স্বাধীন কমিশন কর্তৃক ম্যানচেস্টার সিটি আর্থিক নিয়ম ভাঙার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর—ঐ ঐতিহাসিক সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে ক্লাবটিকে কী শাস্তি দেওয়া উচিত, সেই সুপারিশ করার মূল দায়িত্ব এখন এই বোর্ডের ওপর। চূড়ান্ত শাস্তি বা নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তটি শেষ পর্যন্ত ঐ ৩ সদস্যের কমিশন প্যানেলই নেবে। তবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রিমিয়ার লীগের এই বোর্ডের জমা দেওয়া সুপারিশ এবং অবশ্যই ম্যানচেস্টার সিটির নিজস্ব বক্তব্য—উভয়ই বিবেচনা করা হবে। সিটি অবশ্য এখনো নিজেদের নির্দোষ দাবি করছে এবং এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে। শাস্তি নির্ধারণের এই শুনানি ঠিক কবে অনুষ্ঠিত হবে, কিংবা প্রিমিয়ার লীগ ঠিক কী ধরনের শাস্তি চাইতে পারে—তা এখনো জানা যায়নি। তবে সম্ভাব্য শাস্তির তালিকায় বড় অঙ্কের জরিমানা, পয়েন্ট কেটে নেওয়া, লীগ থেকে বহিষ্কার করা বা অতীতের জেতা শিরোপা কেড়ে নেওয়ার মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিভিন্ন দায়িত্ব ও কর্তব্যের পাশাপাশি, প্রিমিয়ার লিগের নিয়মকানুন ভঙ্গের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এবং মামলা পরিচালনার মূল দায়িত্বটি পালন করে এই বোর্ড।