ধীরলয়ে শুরু ম্যাচে সময় গড়ানোর সঙ্গে আক্রমণের ধার বাড়াল আর্সেনাল। পোস্ট বাধা হয়ে দাঁড়ানোয় গোলের অপেক্ষা বাড়ল বটে, তবে তা দীর্ঘ হলো না। কাই হাভার্টজ দলকে এগিয়ে নিলেন প্রথমার্ধে। দ্বিতীয়ার্ধে আবারও পোস্ট দাঁড়াল দেয়াল হয়ে। তাতে ব্যবধান না বাড়লেও, কষ্টের জয়ে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ শিরোপার আরও কাছে পৌঁছে গেল মিকেল আর্তেতার দল।
এমিরেটস স্টেডিয়ামে সোমবার প্রিমিয়ার লিগের ৩৭তম রাউন্ডে টেবিলের নিচের দিকের দল বার্নলির বিপক্ষে প্রত্যাশিত জয় পেয়েছে আর্সেনাল। ১-০ ব্যবধানের জয়ে ৮২ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে তারা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে ব্যবধান বাড়িয়ে ২০০৩-০৪ মৌসুমের পর পাচ্ছে প্রথম লিগ শিরোপার ঘ্রাণ।
৩৬ ম্যাচে ৭৭ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে সিটি। তাদের বাকি আছে দুই ম্যাচ, আর্সেনালের একটি। সিটির সঙ্গে পয়েন্ট ব্যবধান ৫ হলেও, স্বপ্ন পূরণে কাজ এখনও বাকি। শেষ রাউন্ড ‘গানার’ খ্যাত দলটি খেলতে যাবে ক্রিস্টাল প্যালেসের মাঠে।
ঘরের মাঠে উৎসবের আমেজে শুরু হওয়া ম্যাচের ত্রয়োদশ মিনিটে বুকায়ো সাকার শট এক ডিফেন্ডারের মাথায় লেগে দিক পাল্টে পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়। সেই কর্নার থেকে কাই হাভার্টজের বাম পায়ের শটও থাকেনি লক্ষ্যে। এরপরই দুর্ভাগ্য পথ আগলে দাঁড়ায় আর্সেনালের। লেয়ান্ড্রো ট্রসাডের ডান পায়ের জোরাল শট গোলকিপারকে ফাঁকি দিয়ে পোস্টে লাগে।
আর্সেনালের চাপ সামলে ২৭তম মিনিট পাল্টা আক্রমণে ওঠে প্রথম লেগের দেখায় ২-০ গোলে হারা বার্নলি। তবে, সতীর্থের ক্রসে হান্নিবাল মেজেব্রির শট যায় পোস্টের অনেক বাইরে। একটু পর ডান দিকের বাইলাইনের একটু ওপর থেকে সাকার আড়াআড়ি ক্রসে হেড দেওয়ার কেউ ছিল না গোলমুখে।
৩৪তম মিনিটে বক্সে লুকাস পিয়ার্স বল দখলের লড়াইয়ে সাকার পা মাড়িয়ে দিলে পেনাল্টির জোরাল আবেদন করে আর্সেনাল। মেলেনি রেফারির সাড়া। ভিএআরে পা মাড়ানোর দৃশ্য স্পষ্ট দেখা গেলেও রেফারি বদলাননি আগের সিদ্ধান্ত।
তিন মিনিট পরই হতাশ গ্যালারি মেতে ওঠে উল্লাসে। সাকার নিখুঁত কর্নারে অনেকটা লাফিয়ে হাভার্টজের হেডে বল চোখের পলকে জালে জড়ায়। আর্সেনাল সমর্থকদের মধ্যে ফিরে আসে ম্যাচ শুরুর আগের উচ্ছ্বাস। লিগে সবশেষ হোম ম্যাচ হওয়ায় কিক অফের আগেই উৎসবে মেতেছিল তারা। নানা রঙের ফ্লেয়ার আর হর্ষধ্বনিতে তারা মাতিয়ে রাখে স্টেডিয়ামের ভেতর-বাহির।
প্রথমার্ধে ৯ শটের মাত্র দুটি লক্ষ্যে রাখতে পারা আর্সেনাল দ্বিতীয়ার্ধে বার্নলিকে চেপে ধরার চেষ্টা করতে থাকে। ৫৩তম মিনিটে আবারও দূর্ভাগ্যের শিকার তারা। এবার এবেরেচি এজের সাইড ভলি ড্রপ খেয়ে ক্রসবারের উপরের দিকে লেগে বেরিয়ে যায়।
এরপর থেকে আর্সেনালের আক্রমণের ধার কমতে থাকে। ৬৭তম মিনিটে লেসলিকে অহেতুক ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন হাভার্টজ। জার্মান এই ফরোয়ার্ডের ভাগ্য ভালো যে ভিএআর চেক করলেও, কার্ডের রং বদলাননি রেফারি। একটু পরই হাভার্টজকে তুলে নেন আর্তেতা।
সতীর্থের ব্যকপাস ক্লিয়ার করতে গিয়ে ৭৯তম মিনিটে বার্নলি গোলকিপার ম্যাক্স ওয়েসিস একটু সময় নেন। একই সময়ে বলের নিয়ন্ত্রণ নিতে ছুটে যান ভিক্তর ইয়োকেরেশ। তবে ওয়েসিস শট নেওয়ার সময় তার সাথে সংঘর্ষে পড়ে যান ইয়োকেরেশ। তাদের ফাউলের আবেদনে যদিও সাড়া মেলেনি।
যোগ করা সময়ের শুরুতে উড়ে আসা বলের নিয়ন্ত্রণ পেতে আর্সেনাল গোলকিপার দাভিদ রায়া ও বার্নলির জিয়ান ফ্লেমিং প্রায় একই সময়ে লাফিয়ে ওঠেন। তাতে সংঘর্ষ হলে রেফারি হলুদ কার্ড দেখান ফ্লেমিংকে।
শেষের বাঁশি বেজে ওঠার আগ মুহূর্তে ব্যবধান দ্বিগুণের ভালো সুযোগ পান গাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি। কিন্তু গায়ের সঙ্গে সেঁটে থাকা ডিফেন্ডার কাইল ওয়াকারের চ্যালেঞ্জে শটই নিতে পারেননি তিনি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ক্লাব ফুটবলে বহুদিন ধরেই বিশ্বের সেরা উইঙ্গারদের একজন হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন ব্রাজিলের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। তবে জাতীয় দলের জার্সিতে সেই ধারাবাহিকতা দেখাতে না পারায় দীর্ঘদিন সমালোচনার মুখে ছিলেন তিনি। ২০২৬ বিশ্বকাপে এসে সেই সমালোচনার জবাব দিচ্ছেন দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে। ফ্ল্যামেঙ্গোর একাডেমিতে বেড়ে ওঠা ভিনিসিয়ুস অল্প বয়সেই ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোর নজর কাড়েন। মাত্র ১৬ বছর বয়সে রিয়াল মাদ্রিদ তাকে দলে নেওয়ার উদ্যোগ নেয় এবং ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার পর প্রায় ৩৮ মিলিয়ন পাউন্ডে তার সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করে। সে সময় নেইমারের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলবদল ফিতে ইউরোপে যাওয়া ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার ছিলেন তিনি। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। লা লিগায় দুই শতাধিক ম্যাচ খেলে করেছেন ৭৭ গোল, সঙ্গে রয়েছে ৪১টি অ্যাসিস্ট। ক্লাবটির হয়ে তিনটি লা লিগা, দুটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও দুটি কোপা দেল রে জয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবেও পেয়েছেন একাধিক স্বীকৃতি। বিশেষ করে ২০২২ ও ২০২৪ সালের উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে গুরুত্বপূর্ণ গোল করে দলের শিরোপা জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি। ২০২৪ সালের ব্যালন ডি'অরেও অন্যতম দাবিদার ছিলেন, যদিও শেষ পর্যন্ত পুরস্কারটি জেতেন রদ্রি। কিন্তু জাতীয় দলে গল্পটা ছিল ভিন্ন। ২০২২ বিশ্বকাপ ও পরবর্তী সময়েও প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে না পারায় সমালোচনার মুখে পড়েন ভিনিসিয়ুস। অনেক সাবেক ব্রাজিলিয়ান ফুটবলারও মনে করেন, নেইমারের অনুপস্থিতিতে অতিরিক্ত দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেওয়ার চেষ্টা তার খেলায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। ব্রাজিলের সাবেক ফুটবলার ফাবিও লুসিয়ানোর মতে, ভিনিসিয়ুসকে নিজের স্বাভাবিক খেলায় মনোযোগী হতে হবে, কারণ তিনি একা পুরো দলের দায়িত্ব বহন করতে পারবেন না। জাতীয় দলের হয়ে প্রথম গোল পেতে তাকে অপেক্ষা করতে হয়েছিল ১৯ ম্যাচ। ২০২২ সালে চিলির বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে সেই অপেক্ষার অবসান হয়। এরপরও কোপা আমেরিকা ও বিশ্বকাপ মিলিয়ে বড় টুর্নামেন্টগুলোতে তার গোল ও অ্যাসিস্টের সংখ্যা ছিল প্রত্যাশার তুলনায় কম। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে দৃশ্যপট বদলে গেছে। প্রথম চার ম্যাচেই চার গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। এখন পর্যন্ত কেবল কিলিয়ান এমবাপে, লিওনেল মেসি, আর্লিং হালান্ড এবং হ্যারি কেন তার চেয়ে বেশি গোল করেছেন। ড্রিবল, গতি ও বল ক্যারি করে আক্রমণ তৈরিতে ভিনিসিয়ুসের দক্ষতা আগেই পরিচিত ছিল। এবার বিশ্বকাপেও তিনি প্রতিপক্ষের পেনাল্টি বক্সে সবচেয়ে বেশি বল নিয়ে প্রবেশ করেছেন। বল ক্যারি করার পর সবচেয়ে বেশি শট তৈরির তালিকাতেও তিনি শীর্ষ সারিতে রয়েছেন। একই সঙ্গে এক্সপেক্টেড গোল (xG) তৈরির পরিসংখ্যানেও আছেন সবার ওপরে। পরিসংখ্যান বলছে, এবারের টুর্নামেন্টে তার আক্রমণাত্মক অবদান আগের যেকোনো আন্তর্জাতিক আসরের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর। ফলে ব্রাজিলের আক্রমণভাগে এখন সবচেয়ে বড় ভরসার নাম ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। পরবর্তী নকআউট ম্যাচকে সামনে রেখে বিশ্লেষকদের ধারণা, ভিনিসিয়ুস নিজের বর্তমান ফর্ম ধরে রাখতে পারলে ব্রাজিলের শিরোপা স্বপ্ন আরও শক্তিশালী হবে। বহুদিনের সমালোচনা পেছনে ফেলে এখন তিনি জাতীয় দলের অন্যতম নির্ভরতার প্রতীক হয়ে উঠছেন।
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে নরওয়ের বিপক্ষে নামার আগে সুখবর দিলেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। তিনি জানিয়েছেন, ডান পায়ের কাফ মাসলের চোট থেকে পুরোপুরি সেরে উঠেছেন নেইমার। এখন পুরো নব্বই মিনিট খেলার মতো ফিট আছেন তিনি। নকআউট পর্বের এই ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে আনচেলত্তি বলেন, বেশি সময় মাঠে থাকার ইচ্ছা নেইমারের মধ্যে আছে। এটাকে স্বাভাবিক বলেই মনে করেন তিনি। যেকোনো পেশাদার ফুটবলারের মধ্যেই এমন ইচ্ছা থাকে বলে জানান তিনি। নেইমার শুরুর একাদশে থেকে পুরো ম্যাচ খেলতে পারবেন কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে আনচেলত্তি বলেন, ‘সে পুরোপুরি সক্ষম।’ তিনি আরও বলেন, ‘নেইমারের বিশাল অভিজ্ঞতা তাকে খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা দেয়। প্রয়োজনের মুহূর্তে দল তার ওপর ভরসা করবে।’ মাঠের বাইরের ভূমিকা নিয়েও নেইমারের প্রশংসা করেন আনচেলত্তি। তিনি বলেন, ‘দলের মধ্যে নেইমার একজন সম্মানিত ব্যক্তিত্ব। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে ভালোভাবে অনুশীলন করেছে সে। তার ফুটবল দক্ষতা আর পেশাদারিত্বের কারণেই সে এখনও দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।’ এই বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত মাত্র একবার মাঠে নেমেছেন নেইমার। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে বদলি হিসেবে চৌদ্দ মিনিট খেলেছিলেন তিনি। এত কম সময় খেলার পরও আনচেলত্তি জানিয়েছেন, চৌত্রিশ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড পুরোপুরি সেরে উঠেছেন। প্রয়োজন হলে পুরো ম্যাচ খেলার জন্য প্রস্তুত আছেন তিনি।
এবারের বিশ্বকাপে রাউন্ড অব-৩২ এর ম্যাচে জাপানের বিপক্ষে ব্রাজিল যখন গোলের জন্য সংগ্রাম করছিল, তখন অনেক ভক্ত–সমর্থকের চোখ ছিল বেঞ্চের দিকে। অপেক্ষা, কখন মাঠে নামবেন নেইমার? কিন্তু শেষ মুহূর্তের গোলে জেতা ম্যাচে আর মাঠে নামা হয়নি নেইমারের। তবে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে নরওয়ের বিপক্ষে মাঠে নামার ঠিক আগমুহূর্তে ব্রাজিল শিবিরে এল দারুণ এক সুখবর। সেলেসাওদের প্রধান তারকা নেইমার জুনিয়র এখন পুরোপুরি ফিট এবং ম্যাচটিতে পুরো ৯০ মিনিট খেলার জন্য প্রস্তুত বলে নিশ্চিত করেছেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। ব্রাজিলের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘ফোলিয়া দে সঁ পাওলো’-কে দেয়া সাক্ষাৎকারে আনচেলত্তি নেইমারের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার ভূয়সী প্রশংসা করেন। ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টারের ফিটনেস নিয়ে জানতে চাওয়া হলে আনচেলত্তি সাফ জানিয়ে দেন, ‘হ্যাঁ, ও পুরো ৯০ মিনিট খেলার জন্যই তৈরি।’ বিশ্বকাপের ম্যাচে পুরোটা সময় খেলার জন্য নেইমার নিজে যেমন মরিয়া হয়ে আছেন, তেমনি চোট কাটিয়ে ফেরার পুরো সময়টাতে তার একাগ্রতা ও দলের প্রতি দায়বদ্ধতা ছিল সত্যিই চোখে পড়ার মতো। নেইমারের ভেতরের জেদটা লুকাতে চাননি আনচেলত্তি, তবে তার পেশাদারিত্বের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন এই ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ড। সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ কোচ আরও বলেন, ‘পুরো সময় খেলতে না পেরে ও যে খুব একটা খুশি, তা নয়; কিন্তু ওর আচরণ এক্কেবারে নিখুঁত। মাঠের ভেতরে ওর ফুটবলীয় স্কিল যেমন দুর্দান্ত, মাঠের বাইরে মানুষ হিসেবেও ও তেমনি বিনয়ী। দলের সবার কাছে ভীষণ জনপ্রিয় নেইমার আমাদের জন্য মস্ত বড় এক সম্পদ।’ জাপানের বিপক্ষে জয় দিয়ে ব্রাজিল শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করলেও, গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির সেই জয়সূচক গোলের পর ডাগআউটে আনচেলত্তিকে কেন খুব একটা উল্লাস করতে দেখা যায়নি—সেই রহস্যের জটও এবার খুললেন সেলেসাও বস। কেবল নিজের শারীরিক কন্ডিশনই নয়, ম্যাচ শেষ হওয়ার শেষ সেকেন্ড পর্যন্ত মনোযোগ ধরে রাখতেই তাঁর এই শান্ত থাকা। ৬৬ বছর বয়সী আনচেলত্তি বলেন, ‘আমার কাছে খেলা শেষ বাঁশি বাজার আগে শেষ হয় না। মার্তিনেল্লি গোল করার পরও ম্যাচে কয়েক মিনিট বাকি ছিল। ক্যারিয়ারে এমন অভিজ্ঞতা অনেক আছে, যেখানে জিতে গেছি ভেবে নিশ্চিন্ত ছিলাম কিন্তু শেষ মুহূর্তে ম্যাচ হাত ফসকে গেছে। তাই আমি জয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত শান্ত থাকি।’ নকআউট পর্বে নরওয়ের বিপক্ষে লড়াইকে অগ্নিপরীক্ষা হিসেবে দেখছেন সেলেসাও বস। প্রতিপক্ষ নরওয়ের ভূয়সী প্রশংসা করার পাশাপাশি তাদের তারকা আর্লিং হালান্ডকে নিয়েও শিষ্যদের সতর্ক করেছেন তিনি। আনচেলত্তি বলেন, ‘নরওয়ে ভীষণ গোছানো একটা দল, ওদের বেশ কিছু বিশ্বমানের খেলোয়াড় আছে। বিশেষ করে হালান্ড এই মুহূর্তে বিশ্বসেরাদের একজন। তাই ম্যাচটা যে কঠিন হতে যাচ্ছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তবে আমরা আত্মবিশ্বাসী যে নিজেদের সেরা ফুটবলটা খেলে আমরাই মাঠ ছাড়ব।’ আগামীকাল রোববার (৫ জুলাই) বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ২টায় শেষ ষোলোর এই মহাগুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে ব্রাজিল ও নরওয়ে। এখন দেখার বিষয়, দীর্ঘ সময় পর নেইমারকে পুরো ৯০ মিনিট মাঠে পেয়ে সেলেসাওরা কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে পারে কি না