বিশ্ব

রুশ ‘হাইব্রিড হামলার’ শঙ্কায় ইউরোপ, সতর্ক করলেন ম্যাক্রোঁ

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। ছবি: সংগৃহীত
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। ছবি: সংগৃহীত

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সতর্ক করে বলেছেন, ইউরোপ ও ফ্রান্সের বিরুদ্ধে রাশিয়ার ‘হাইব্রিড হামলার’ হুমকি সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আরও বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও প্রতিরক্ষা শিল্প-সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো সুরক্ষার জন্য বিশেষ পরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।


এলিসি প্রাসাদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ম্যাক্রোঁ বলেন, গত কয়েক সপ্তাহে ফ্রান্স রাশিয়ার একাধিক হাইব্রিড হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে এবং এসব কর্মকাণ্ড ‘পাল্টা জবাব ছাড়াই’ ছেড়ে দেওয়া হবে না।


হাইব্রিড হামলা বলতে সাধারণত সামরিক আক্রমণের বাইরে সাইবার হামলা, নাশকতা, বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার বা অন্যান্য গোপন কর্মকাণ্ডকে বোঝানো হয়, যার উদ্দেশ্য প্রতিপক্ষকে চাপে রাখা ও অস্থিতিশীল করা।


ইউরোপের বিভিন্ন নেতা সম্প্রতি সতর্ক করে বলেছেন, ইউক্রেনকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর অবস্থান কতটা দৃঢ়, তা পরীক্ষা করতে রাশিয়া বিভিন্ন ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিতে পারে।


ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউরোপীয় দেশগুলো এবং ফ্রান্সের বিরুদ্ধে রাশিয়ার হাইব্রিড হুমকি বেড়েছে। এর উদ্দেশ্য আমাদের ভয় দেখানো এবং ইউক্রেনকে সমর্থনের প্রচেষ্টা দুর্বল করা। কিন্তু এর ফল হবে ঠিক উল্টো। আমরা ভীত নই, কারণ আমরা জানি ইউক্রেনের ভবিষ্যতের সঙ্গে আমাদের নিজেদের নিরাপত্তাও জড়িত।’


তিনি গত মাসে জার্মানির লাইপজিগ বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার ঘটনা উল্লেখ করেন, যার জন্য জার্মান কর্তৃপক্ষ রাশিয়াকে দায়ী করেছে। পাশাপাশি পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্কের বক্তব্যও তুলে ধরেন, যেখানে তিনি দাবি করেছিলেন রাশিয়া ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় সদস্য দেশগুলোর বিরুদ্ধে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরিকল্পনা করছে।


টাস্কের ভাষ্য অনুযায়ী, রাশিয়া ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর ভূখণ্ডে হামলা চালিয়ে পরে সেটিকে ‘দুর্ঘটনা’ বলে দাবি করতে পারে, যাতে জোটের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি হয়।


গত সপ্তাহে ইউক্রেন-পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে একটি যাত্রীবাহী ট্রেনে রুশ ড্রোন হামলার ঘটনাও আলোচনায় আসে। ইউক্রেন জানিয়েছে, হামলার কয়েক মিনিট আগে ট্রেনের যাত্রীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।


এ ছাড়া ইতালি থেকে এস্তোনিয়া পর্যন্ত বিভিন্ন প্রতিরক্ষা স্থাপনায় রহস্যজনক আগুনের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার জন্য কয়েকটি দেশ রাশিয়াকে দায়ী করেছে।    


তবে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বারবার দাবি করেছেন, ইউরোপে হামলার কোনো পরিকল্পনা রাশিয়ার নেই। অন্যদিকে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ সতর্ক করে বলেছেন, ইউরোপীয় দেশগুলো যদি ইউক্রেনে সেনা পাঠায়, তবে মস্কো সেটিকে যুদ্ধ ঘোষণার সমতুল্য হিসেবে বিবেচনা করবে।


তিনি বলেন, ‘ইউরোপ যদি রাশিয়ার বিরুদ্ধে হামলা চালায়, তবে সেটি হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের যুদ্ধ এবং তা খুব সংক্ষিপ্ত সময়ের হবে।’


এদিকে শুক্রবার রাশিয়া আবারও যুক্তরাজ্যকে সতর্ক করে বলেছে, ইউক্রেনে থাকা কোনো ব্রিটিশ সামরিক স্থাপনা যদি রাশিয়ার ভূখণ্ডে হামলার কাজে ব্যবহৃত হয়, তবে তা ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে বিবেচিত হবে।


রাশিয়ার দাবি, ইউক্রেনকে ড্রোন ও অন্যান্য অস্ত্র সরবরাহের মাধ্যমে যুক্তরাজ্য ‘অত্যন্ত সংঘাতমুখী’ অবস্থান নিয়েছে এবং এর জবাবে প্রয়োজনীয় পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার মস্কোর রয়েছে।


সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়েও কথা বলেন ম্যাক্রোঁ। তিনি জানান, ড্রোন ও সাইবার হামলা থেকে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, প্রতিরক্ষা শিল্প এবং প্রযুক্তি খাতের সংবেদনশীল স্থাপনাগুলো সুরক্ষার দায়িত্ব সরকারকে দেওয়া হয়েছে।


একই সঙ্গে জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য জি–৭ দেশগুলোর একটি বৈঠক আহ্বানের ঘোষণা দেন তিনি। সেখানে ইউরোপীয় কমিশনের সঙ্গে গ্যাসের মজুত এবং কৌশলগত জ্বালানি রিজার্ভ ব্যবহারের বিষয়েও আলোচনা হবে বলে জানান ফরাসি প্রেসিডেন্ট।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। ছবি: সংগৃহীত
রুশ ‘হাইব্রিড হামলার’ শঙ্কায় ইউরোপ, সতর্ক করলেন ম্যাক্রোঁ

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সতর্ক করে বলেছেন, ইউরোপ ও ফ্রান্সের বিরুদ্ধে রাশিয়ার ‘হাইব্রিড হামলার’ হুমকি সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আরও বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও প্রতিরক্ষা শিল্প-সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো সুরক্ষার জন্য বিশেষ পরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এলিসি প্রাসাদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ম্যাক্রোঁ বলেন, গত কয়েক সপ্তাহে ফ্রান্স রাশিয়ার একাধিক হাইব্রিড হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে এবং এসব কর্মকাণ্ড ‘পাল্টা জবাব ছাড়াই’ ছেড়ে দেওয়া হবে না। হাইব্রিড হামলা বলতে সাধারণত সামরিক আক্রমণের বাইরে সাইবার হামলা, নাশকতা, বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার বা অন্যান্য গোপন কর্মকাণ্ডকে বোঝানো হয়, যার উদ্দেশ্য প্রতিপক্ষকে চাপে রাখা ও অস্থিতিশীল করা। ইউরোপের বিভিন্ন নেতা সম্প্রতি সতর্ক করে বলেছেন, ইউক্রেনকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর অবস্থান কতটা দৃঢ়, তা পরীক্ষা করতে রাশিয়া বিভিন্ন ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিতে পারে। ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউরোপীয় দেশগুলো এবং ফ্রান্সের বিরুদ্ধে রাশিয়ার হাইব্রিড হুমকি বেড়েছে। এর উদ্দেশ্য আমাদের ভয় দেখানো এবং ইউক্রেনকে সমর্থনের প্রচেষ্টা দুর্বল করা। কিন্তু এর ফল হবে ঠিক উল্টো। আমরা ভীত নই, কারণ আমরা জানি ইউক্রেনের ভবিষ্যতের সঙ্গে আমাদের নিজেদের নিরাপত্তাও জড়িত।’ তিনি গত মাসে জার্মানির লাইপজিগ বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার ঘটনা উল্লেখ করেন, যার জন্য জার্মান কর্তৃপক্ষ রাশিয়াকে দায়ী করেছে। পাশাপাশি পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্কের বক্তব্যও তুলে ধরেন, যেখানে তিনি দাবি করেছিলেন রাশিয়া ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় সদস্য দেশগুলোর বিরুদ্ধে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরিকল্পনা করছে। টাস্কের ভাষ্য অনুযায়ী, রাশিয়া ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর ভূখণ্ডে হামলা চালিয়ে পরে সেটিকে ‘দুর্ঘটনা’ বলে দাবি করতে পারে, যাতে জোটের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি হয়। গত সপ্তাহে ইউক্রেন-পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে একটি যাত্রীবাহী ট্রেনে রুশ ড্রোন হামলার ঘটনাও আলোচনায় আসে। ইউক্রেন জানিয়েছে, হামলার কয়েক মিনিট আগে ট্রেনের যাত্রীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া ইতালি থেকে এস্তোনিয়া পর্যন্ত বিভিন্ন প্রতিরক্ষা স্থাপনায় রহস্যজনক আগুনের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার জন্য কয়েকটি দেশ রাশিয়াকে দায়ী করেছে।     তবে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বারবার দাবি করেছেন, ইউরোপে হামলার কোনো পরিকল্পনা রাশিয়ার নেই। অন্যদিকে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ সতর্ক করে বলেছেন, ইউরোপীয় দেশগুলো যদি ইউক্রেনে সেনা পাঠায়, তবে মস্কো সেটিকে যুদ্ধ ঘোষণার সমতুল্য হিসেবে বিবেচনা করবে। তিনি বলেন, ‘ইউরোপ যদি রাশিয়ার বিরুদ্ধে হামলা চালায়, তবে সেটি হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের যুদ্ধ এবং তা খুব সংক্ষিপ্ত সময়ের হবে।’ এদিকে শুক্রবার রাশিয়া আবারও যুক্তরাজ্যকে সতর্ক করে বলেছে, ইউক্রেনে থাকা কোনো ব্রিটিশ সামরিক স্থাপনা যদি রাশিয়ার ভূখণ্ডে হামলার কাজে ব্যবহৃত হয়, তবে তা ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে বিবেচিত হবে। রাশিয়ার দাবি, ইউক্রেনকে ড্রোন ও অন্যান্য অস্ত্র সরবরাহের মাধ্যমে যুক্তরাজ্য ‘অত্যন্ত সংঘাতমুখী’ অবস্থান নিয়েছে এবং এর জবাবে প্রয়োজনীয় পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার মস্কোর রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়েও কথা বলেন ম্যাক্রোঁ। তিনি জানান, ড্রোন ও সাইবার হামলা থেকে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, প্রতিরক্ষা শিল্প এবং প্রযুক্তি খাতের সংবেদনশীল স্থাপনাগুলো সুরক্ষার দায়িত্ব সরকারকে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য জি–৭ দেশগুলোর একটি বৈঠক আহ্বানের ঘোষণা দেন তিনি। সেখানে ইউরোপীয় কমিশনের সঙ্গে গ্যাসের মজুত এবং কৌশলগত জ্বালানি রিজার্ভ ব্যবহারের বিষয়েও আলোচনা হবে বলে জানান ফরাসি প্রেসিডেন্ট।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে গোপন প্রস্তুতি আল-শারার

সংগৃহীত ছবি

বলিভিয়ার অরণ্যে নতুন প্রজাতির বন্য বিড়ালের সন্ধান

ছবি: সংগৃহীত

বাব আল-মান্দাবে ইতালির যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন

নাজিবকে গৃহবন্দি রাখার অনুমতি দিলেন মালয়েশিয়ার রাজা

মালয়েশিয়ার কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাককে তার বাকি সাজা গৃহবন্দি অবস্থায় কাটার অনুমতি দিয়েছেন দেশটির রাজা। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সরকারের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়। কয়েক বিলিয়ন ডলারের আর্থিক কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার দায়ে নাজিবের সাজা হওয়ার চার বছর পর এ সিদ্ধান্ত এলো।   ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন নাজিব। ক্ষমতায় থাকাকালে তার প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ তহবিল ওয়ানএমডিবি বা ১এমডিবি থেকে কয়েক বিলিয়ন ডলার আত্মসাতের ঘটনায় দুর্নীতির দায়ে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তবে তিনি ধারাবাহিকভাবে কোনও ধরনের অন্যায় করার কথা অস্বীকার করে আসছেন।   প্রধানমন্ত্রীর আইন বিভাগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রাজা সুলতান ইব্রাহিম নাজিব রাজাককে শর্তসাপেক্ষ ক্ষমা দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন। এর ফলে ২০২৮ সালের ২৩ আগস্ট পর্যন্ত তিনি গৃহবন্দি থেকে বাকি সাজা ভোগ করতে পারবেন।   ১এমডিবি কেলেঙ্কারিতে নাজিবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলোতে এক বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ৭৩ বছর বয়সী নাজিব অবশ্য দাবি করেন, বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত একটি জটিল অর্থ আত্মসাৎ প্রকল্পের দায় তার ওপর চাপানো হয়েছে।   মার্কিন তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, ওই প্রকল্পের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার আত্মসাৎ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬

বিকল্প পথে তেল সরবরাহের প্রত্যাশায় বিশ্ববাজারে কমল জ্বালানি তেলের দাম

সৌদিকে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

সৌদি আরবের পতাকা

হুথিদের একের পর এক হামলায় চরম সামরিক সংকটে সৌদি আরব

যুক্তরাষ্ট্র ও ওমানের রাজধানী মাস্কাটে হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে একটি সরাসরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
মাস্কাটে মার্কিন-হুথি বৈঠক, সৌদিকে সামরিক সাহায্য বন্ধের সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের

যুক্তরাষ্ট্র ও ওমানের রাজধানী মাস্কাটে হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে একটি সরাসরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর পরপরই  হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সৌদি আরবকে সব ধরনের সামরিক সহায়তা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়াশিংটন।       বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান। এরআগে বুধবার একাধিক সংবাদমাধ্যমে হুথি ও মার্কিনিদের বৈঠকের তথ্য জানানো হয়।       এতে বলা হয়েছে, বৈঠকে হুথিরা যুক্তরাষ্ট্রকে আশ্বস্ত করে লোহিত সাগরের বাব এল-মান্দেবে কোনো মার্কিন জাহাজে হামলা চালাবে না তারা। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গত বছর যুদ্ধবিরতির যে চুক্তি তারা করেছিল, সেটিও ভঙ্গ করার কোনো চিন্তা নেই বলে জানায় হুথিরা। আর এরপরই যুক্তরাষ্ট্র সিদ্ধান্ত নেয় সৌদিকে হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিকভাবে কোনো সহায়তা করবে না।       হুথি সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রকে তারা জানিয়েছেন, তারা লোহিত সাগরে শুধুমাত্র সৌদি সংশ্লিষ্ট জাহাজে হামলা চালাবে।     এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র এমনিতেই ইরানের সঙ্গে অত্যন্ত ব্যয়বহুল যুদ্ধে লিপ্ত আছে। তাই তারা আর কোনো নতুন কোনো দ্বন্দ্বে জড়াতে চায় না।       অন্যান্য সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে লড়াই করে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের ভাণ্ডারে টান পড়েছে। এ কারণেও হুথিদের বিরুদ্ধে তারা কোনো লড়াইয়ে আগ্রহী নয়।       ২০২৫ সালের মার্চে হুথিদের যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করে। কিন্তু এরপরও দেশটির কর্মকর্তারা হুথি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এছাড়া ফিলিস্তিনের হামাস, লেবাননের হিজবুল্লাহ ও ইরানের সঙ্গেও সরাসরি বৈঠক করেছে যুক্তরাষ্ট্র।     দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে সহায়তা করতে অস্বীকৃতি জানানোয় সৌদি আরবের সামনে এখন হুথিদের সঙ্গে কূটনৈতিকভাবে সমস্যা সমাধানের চাপ তৈরি হয়েছে। অথবা তারা তুরস্ক ও পাকিস্তানকে নিয়ে হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে।     গত শুক্রবার দ্রুতগতির অভিযান চালিয়ে হুথিরা লোহিত সাগরের বন্দরনগরী মোখা দখল করে। এতে করে বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে তাদের একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হয়েছে। ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এই প্রণালি দিয়ে বহির্বিশ্বে নিজেদের তেল রপ্তানি করছিল সৌদি।   সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

সুইজারল্যান্ডে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে দুই ব্রিটিশসহ নিহত ৩

ডোনাল্ড ট্রাম্প। সংগৃহীত ছবি

আশা করি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের শেষের দিকে আছি: ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে আমরা যুদ্ধের শেষ দিকে পৌঁছেছি: ট্রাম্প

0 Comments