টেলিকম ও প্রযুক্তি

একাধিক ভাষা ও বক্তার কথাকে লাইভ টেক্সটে রূপান্তর করবে মেটার নতুন এআই

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

 একটি দীর্ঘ বৈঠক বা আলোচনায় একাধিক ব্যক্তি একসঙ্গে কথা বললে এবং কথোপকথনের মধ্যে বিভিন্ন ভাষা ব্যবহার করা হলে পরে অডিও রেকর্ডিং থেকে কে কী বলেছেন, তা আলাদা করে শনাক্ত করা বেশ জটিল হয়ে উঠতে পারে। এমন জটিল ও বহুভাষী কথোপকথনের সময় রিয়েলটাইমে বক্তব্য লিখিত আকারে রূপান্তরের পাশাপাশি প্রতিটি বক্তাকে আলাদাভাবে শনাক্ত করার সক্ষমতা নিয়ে সম্প্রতি নতুন এআই মডেল ‘মিউজ ভয়েস ট্রান্সক্রাইব’ উন্মোচন করেছে মেটা।

 

মেটার সুপারইন্টেলিজেন্স ল্যাবস গত ১ সেপ্টেম্বর ‘মিউজ ভয়েস ট্রান্সক্রাইব’ লঞ্চ করে। এটি প্রতিষ্ঠানটির প্রথম রিয়েলটাইম অডিও পারসেপশন মডেল। একই সঙ্গে কথাকে লেখায় রূপান্তর, বক্তা শনাক্তকরণ এবং বক্তার কথা শেষ হওয়ার সময় নির্ধারণের মতো জটিল কাজ করতে পারে এটি। মেটার দাবি, ২০ জনের বেশি বক্তার দীর্ঘ কথোপকথনও মডেলটি অনায়াসে প্রক্রিয়া করতে সক্ষম।

 

বর্তমানে প্রচলিত অডিও ট্রান্সক্রাইবারগুলো একটি ভিডিও বা অডিও ফাইল থেকে বক্তব্য বা কথোপকথন একাধারে টেক্সটে রূপান্তর করতে পারে। তবে একাধিক বক্তা বা বহুভাষী কথোপকথনের ক্ষেত্রে আলাদাভাবে বক্তা শনাক্ত করা সম্ভব হয় না এবং রূপান্তর প্রক্রিয়াতেও অনেক ভুল হয়ে থাকে। মেটার নতুন এই মডেলটি প্রচলিত ট্রান্সক্রাইবারের এসব সীমাবদ্ধতা দূর করতে সক্ষম।

 

মডেলটির অবকাঠামোগত প্রযুক্তিগুলোর অন্যতম হলো স্ট্রিমিং অটোমেটিক স্পিচ রিকগনিশন বা এএসআর। প্রচলিত ট্রান্সক্রিপশন ব্যবস্থায় সাধারণত পুরো অডিও রেকর্ড হওয়ার পর তা বিশ্লেষণ করা হয়। অন্যদিকে, স্ট্রিমিং এএসআর কথোপকথন চলার সময়ই ধাপে ধাপে বক্তব্যকে টেক্সটে রূপান্তর করে। ফলে বৈঠক, সাক্ষাৎকার বা বক্তৃতার লাইভ ট্রান্সক্রিপশন তৈরি করা সম্ভব হয়।

 

কোনো শব্দ স্পষ্ট ও সহজে শনাক্ত করা গেলে এআই দ্রুত সেটিকে লিখিত রূপে দেখায়। তবে উচ্চারণ অস্পষ্ট হলে বা পরের শব্দগুলো না শুনে সঠিক অর্থ ও শব্দ নির্ধারণ করা কঠিন হলে মডেলটি কিছুটা বেশি সময় নিয়ে অতিরিক্ত অডিও বিশ্লেষণ করে। ফলে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিক্রিয়ার সময় পরিবর্তন করে দ্রুত ট্রান্সক্রিপশন এবং শব্দ শনাক্তকরণের নির্ভুলতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করে প্রযুক্তিটি।

 

মডেলটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো স্পিকার ডায়ারাইজেশন। এই প্রযুক্তি একটি কথোপকথনে একাধিক বক্তার কথার মধ্যে কোন অংশটি কোন বক্তার, সেটিও আলাদাভাবে চিহ্নিত করতে পারে। এতে দীর্ঘ বৈঠক, সাক্ষাৎকার বা প্যানেল আলোচনার ট্রান্সক্রিপ্ট পড়ার সময় সহজেই বোঝা যাবে কে কোন বক্তব্য দিয়েছেন।

 

একই সঙ্গে একাধিক ভাষা ব্যবহারের ক্ষেত্রেও কাজ করতে পারে মিউজ ভয়েস ট্রান্সক্রাইব। মেটার তথ্যমতে, মডেলটি ৭০টির বেশি ভাষার তথ্য ব্যবহার করে প্রশিক্ষিত হয়েছে এবং ২৫টির বেশি ভাষায় এর সক্ষমতা সফলভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে। এতে কোড-সুইচিং শনাক্ত করার সুবিধা রয়েছে। অর্থাৎ, একজন বক্তা কথা বলার সময় এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায় চলে গেলে বা একই কথোপকথনে একাধিক ভাষা ব্যবহার করলে সেটিও শনাক্ত করবে মডেলটি। এ ছাড়া এন্ডপয়েন্টিং প্রযুক্তির মাধ্যমে এআই বুঝতে পারে কখন একজন বক্তার বক্তব্য শেষ হয়েছে বা কখন নতুন বক্তব্য শুরু হচ্ছে।

 

মিউজ ভয়েস ট্রান্সক্রাইব বর্তমানে মেটার মডেল এপিআইয়ের মাধ্যমে ব্যবহার করা যাচ্ছে। এটি ম্যাকের জন্য মেটা এআইয়ের ডিকটেশন সুবিধা এবং মিউজ কোডেও ব্যবহার করা যায়। মেটার নির্ধারিত এপিআই মূল্য প্রতি এক হাজার মিনিট অডিওর জন্য ৩ ডলার।

 

অনলাইন বৈঠক, সংবাদ সাক্ষাৎকার, শিক্ষা, গ্রাহকসেবা ও ভয়েসভিত্তিক এআই ব্যবস্থায় এ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়তে পারে। বিশেষ করে একাধিক বক্তা ও ভাষার দীর্ঘ কথোপকথন দ্রুত লিখিত রূপে সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে মডেলটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

টেলিকম ও প্রযুক্তি

আরও দেখুন
একাধিক ভাষা ও বক্তার কথাকে লাইভ টেক্সটে রূপান্তর করবে মেটার নতুন এআই

 একটি দীর্ঘ বৈঠক বা আলোচনায় একাধিক ব্যক্তি একসঙ্গে কথা বললে এবং কথোপকথনের মধ্যে বিভিন্ন ভাষা ব্যবহার করা হলে পরে অডিও রেকর্ডিং থেকে কে কী বলেছেন, তা আলাদা করে শনাক্ত করা বেশ জটিল হয়ে উঠতে পারে। এমন জটিল ও বহুভাষী কথোপকথনের সময় রিয়েলটাইমে বক্তব্য লিখিত আকারে রূপান্তরের পাশাপাশি প্রতিটি বক্তাকে আলাদাভাবে শনাক্ত করার সক্ষমতা নিয়ে সম্প্রতি নতুন এআই মডেল ‘মিউজ ভয়েস ট্রান্সক্রাইব’ উন্মোচন করেছে মেটা।   মেটার সুপারইন্টেলিজেন্স ল্যাবস গত ১ সেপ্টেম্বর ‘মিউজ ভয়েস ট্রান্সক্রাইব’ লঞ্চ করে। এটি প্রতিষ্ঠানটির প্রথম রিয়েলটাইম অডিও পারসেপশন মডেল। একই সঙ্গে কথাকে লেখায় রূপান্তর, বক্তা শনাক্তকরণ এবং বক্তার কথা শেষ হওয়ার সময় নির্ধারণের মতো জটিল কাজ করতে পারে এটি। মেটার দাবি, ২০ জনের বেশি বক্তার দীর্ঘ কথোপকথনও মডেলটি অনায়াসে প্রক্রিয়া করতে সক্ষম।   বর্তমানে প্রচলিত অডিও ট্রান্সক্রাইবারগুলো একটি ভিডিও বা অডিও ফাইল থেকে বক্তব্য বা কথোপকথন একাধারে টেক্সটে রূপান্তর করতে পারে। তবে একাধিক বক্তা বা বহুভাষী কথোপকথনের ক্ষেত্রে আলাদাভাবে বক্তা শনাক্ত করা সম্ভব হয় না এবং রূপান্তর প্রক্রিয়াতেও অনেক ভুল হয়ে থাকে। মেটার নতুন এই মডেলটি প্রচলিত ট্রান্সক্রাইবারের এসব সীমাবদ্ধতা দূর করতে সক্ষম।   মডেলটির অবকাঠামোগত প্রযুক্তিগুলোর অন্যতম হলো স্ট্রিমিং অটোমেটিক স্পিচ রিকগনিশন বা এএসআর। প্রচলিত ট্রান্সক্রিপশন ব্যবস্থায় সাধারণত পুরো অডিও রেকর্ড হওয়ার পর তা বিশ্লেষণ করা হয়। অন্যদিকে, স্ট্রিমিং এএসআর কথোপকথন চলার সময়ই ধাপে ধাপে বক্তব্যকে টেক্সটে রূপান্তর করে। ফলে বৈঠক, সাক্ষাৎকার বা বক্তৃতার লাইভ ট্রান্সক্রিপশন তৈরি করা সম্ভব হয়।   কোনো শব্দ স্পষ্ট ও সহজে শনাক্ত করা গেলে এআই দ্রুত সেটিকে লিখিত রূপে দেখায়। তবে উচ্চারণ অস্পষ্ট হলে বা পরের শব্দগুলো না শুনে সঠিক অর্থ ও শব্দ নির্ধারণ করা কঠিন হলে মডেলটি কিছুটা বেশি সময় নিয়ে অতিরিক্ত অডিও বিশ্লেষণ করে। ফলে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিক্রিয়ার সময় পরিবর্তন করে দ্রুত ট্রান্সক্রিপশন এবং শব্দ শনাক্তকরণের নির্ভুলতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করে প্রযুক্তিটি।   মডেলটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো স্পিকার ডায়ারাইজেশন। এই প্রযুক্তি একটি কথোপকথনে একাধিক বক্তার কথার মধ্যে কোন অংশটি কোন বক্তার, সেটিও আলাদাভাবে চিহ্নিত করতে পারে। এতে দীর্ঘ বৈঠক, সাক্ষাৎকার বা প্যানেল আলোচনার ট্রান্সক্রিপ্ট পড়ার সময় সহজেই বোঝা যাবে কে কোন বক্তব্য দিয়েছেন।   একই সঙ্গে একাধিক ভাষা ব্যবহারের ক্ষেত্রেও কাজ করতে পারে মিউজ ভয়েস ট্রান্সক্রাইব। মেটার তথ্যমতে, মডেলটি ৭০টির বেশি ভাষার তথ্য ব্যবহার করে প্রশিক্ষিত হয়েছে এবং ২৫টির বেশি ভাষায় এর সক্ষমতা সফলভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে। এতে কোড-সুইচিং শনাক্ত করার সুবিধা রয়েছে। অর্থাৎ, একজন বক্তা কথা বলার সময় এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায় চলে গেলে বা একই কথোপকথনে একাধিক ভাষা ব্যবহার করলে সেটিও শনাক্ত করবে মডেলটি। এ ছাড়া এন্ডপয়েন্টিং প্রযুক্তির মাধ্যমে এআই বুঝতে পারে কখন একজন বক্তার বক্তব্য শেষ হয়েছে বা কখন নতুন বক্তব্য শুরু হচ্ছে।   মিউজ ভয়েস ট্রান্সক্রাইব বর্তমানে মেটার মডেল এপিআইয়ের মাধ্যমে ব্যবহার করা যাচ্ছে। এটি ম্যাকের জন্য মেটা এআইয়ের ডিকটেশন সুবিধা এবং মিউজ কোডেও ব্যবহার করা যায়। মেটার নির্ধারিত এপিআই মূল্য প্রতি এক হাজার মিনিট অডিওর জন্য ৩ ডলার।   অনলাইন বৈঠক, সংবাদ সাক্ষাৎকার, শিক্ষা, গ্রাহকসেবা ও ভয়েসভিত্তিক এআই ব্যবস্থায় এ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়তে পারে। বিশেষ করে একাধিক বক্তা ও ভাষার দীর্ঘ কথোপকথন দ্রুত লিখিত রূপে সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে মডেলটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
এআইয়ের সাহায্যে তৈরি প্রতীকী ছবি

যুক্তরাষ্ট্রে ১৩ বছরের কম বয়সীদের ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট বন্ধ করবে মেটা

শিশু নিরাপত্তায় মেটার সঙ্গে ১৮ বিলিয়ন ডলারের সমঝোতা

ছবি: সংগৃহীত

কিশোরদের জন্য আলাদা চ্যাটজিপিটি চালু, কারণ জানাল ওপেনএআই

ছবি: সংগৃহীত
অন্যান্য টেক জায়ান্টদের চেয়ে ব্যবহারকারীর তথ্য সংগ্রহের শীর্ষে মেটা

ফেসবুক, মেসেঞ্জার ও মেটা এআইয়ের মতো অ্যাপের মাধ্যমে অন্য বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর তুলনায় অনেক বেশি ব্যবহারকারীর তথ্য সংগ্রহ করছে মেটা। নতুন এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। বুধবার (১৯ আগস্ট) ইউরোনিউজ এ খবর প্রকাশ করেছে।     সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান সার্ফশার্কের গবেষণায় গুগল, মাইক্রোসফট, অ্যাপল, অ্যামাজন ও মেটার তৈরি অ্যাপ বিশ্লেষণ করা হয়েছে। অ্যাপলের অ্যাপ স্টোরে থাকা এসব কোম্পানির ১৭১টি অ্যাপ নিয়ে গবেষণাটি করা হয়।     গবেষণায় ব্যবহারকারীর তথ্যের ৩৫টি ধরন বিবেচনা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ব্রাউজিং ইতিহাস, সঠিক অবস্থান, কেনাকাটার তথ্যসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যক্তিগত তথ্য।     গবেষণা অনুযায়ী, মেটার অ্যাপগুলো গড়ে ৩৫ ধরনের তথ্যের মধ্যে ২৫ ধরনের তথ্য সংগ্রহ করে। এই হার অন্য বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর তুলনায় সবচেয়ে বেশি এবং মাইক্রোসফট ও অ্যাপলের তুলনায় গড়ে তিন গুণেরও বেশি।     সবচেয়ে বেশি তথ্য সংগ্রহকারী অ্যাপগুলোর মধ্যে ফেসবুক, মেসেঞ্জার ও মেটা এআই রয়েছে। এ ছাড়া মেটার আরও কয়েকটি অ্যাপ, যেমন মেটা হরাইজন, মেটা অ্যাডস ম্যানেজার, মেটা বিজনেস স্যুট ও ফোরামও তালিকায় রয়েছে।     তুলনায় গুগলের অ্যাপগুলো গড়ে ১৭ ধরনের তথ্য সংগ্রহ করে। অ্যামাজন ১২ ধরনের, মাইক্রোসফট ৮ ধরনের এবং অ্যাপল ৭ ধরনের তথ্য সংগ্রহ করে।     তবে সবচেয়ে বেশি তথ্য সংগ্রহকারী অ্যাপের সংখ্যার দিক থেকে গুগল এগিয়ে। গবেষণায় বিশ্লেষণ করা ৪০টি বেশি তথ্য সংগ্রহকারী অ্যাপের মধ্যে ২৯টিই গুগলের। সেখানে মেটার অ্যাপ রয়েছে ৯টি এবং অ্যামাজনের মাত্র ২টি।     গবেষণায় বলা হয়েছে, গুগলের প্রতিটি অ্যাপ মেটার তুলনায় গড়ে কম ধরনের তথ্য সংগ্রহ করলেও গুগলের বিশাল অ্যাপ ইকোসিস্টেমের কারণে ব্যবহারকারীর তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যায়।     এদিকে অ্যামাজনের অ্যালেক্সা সবচেয়ে বেশি তথ্য সংগ্রহকারী অ্যাপগুলোর মধ্যে মেটার বাইরে শীর্ষে রয়েছে। অ্যাপটি ৩৫টির মধ্যে ২৮ ধরনের তথ্য সংগ্রহ করে।     গবেষণায় আরও দেখা গেছে, বিভিন্ন ধরনের তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে অ্যাপল ও মাইক্রোসফট তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে কম তথ্য সংগ্রহ করে। বিশেষ করে অ্যাপলের ইউটিলিটি অ্যাপগুলো গড়ে মাত্র ৬ ধরনের তথ্য সংগ্রহ করে। একই ধরনের গুগলের অ্যাপগুলো গড়ে ১৭ ধরনের তথ্য সংগ্রহ করে।   সূত্র: ইউরো নিউজ

মারিয়া রহমান আগস্ট ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

৫–৬ হাজার টাকায় মিলবে স্মার্টফোন, উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার

ধনকুবের বাবা বিল গেটসের সঙ্গে ফিবি গেটস। ফাইল ছবি

জালিয়াতির অভিযোগে বিপাকে বিল গেটসের মেয়ে

প্রতীকী ছবি

নিরাপদ ও ইন্টারনেটহীন এআই ব্যবহারের সুবিধায় মেটার ‘মিউজ গ্লিমার’

ফাইল ছবি।
শিশুদের মানসিক ক্ষতির দায়ে মেটাকে ৯৪২ মিলিয়ন ডলার জরিমানা

  শিশুদের মানসিক ক্ষতি ও যৌন শোষণের ঝুঁকি বাড়ানোর অভিযোগে সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্ট মেটাকে আরও ৫৬৭ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করার নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকোর এক বিচারক। এর আগে একই মামলায় ৩৭৫ মিলিয়ন ডলার জরিমানার পর নতুন এই আদেশে প্রতিষ্ঠানটির মোট জরিমানার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৪২ মিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ ১৭ হাজার কোটি টাকার সমান। ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও থ্রেডসের মালিক প্রতিষ্ঠান মেটার বিরুদ্ধে শিশু সুরক্ষা সংক্রান্ত মামলায় নজিরবিহীন এই রায় দিয়েছেন নিউ মেক্সিকোর বিচারক ব্রায়ান বিয়েডশেইড। নতুন আদেশে ৫৬৭ মিলিয়ন ডলার জরিমানা একটি বিশেষ তহবিলে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যার উদ্দেশ্য ভবিষ্যতে সামাজিক ক্ষতি কমানো। রায়ে বিচারক মেটাকে একটি দূষণকারী কারখানার সঙ্গে তুলনা করেন। তার ভাষায়, একটি কারখানার বিষাক্ত দূষণ যেমন জনস্বার্থের ক্ষতি করে, তেমনি মেটার বিজ্ঞাপন ও কনটেন্টের মাধ্যমে শিশুদের মনস্তাত্ত্বিক ক্ষতি এবং যৌন শোষণের ঝুঁকি সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি বলেন, এসব ক্ষতি শুধু অনলাইনেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং পরিবার, বিদ্যালয়, হাসপাতাল এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ওপরও এর প্রভাব পড়ছে। ২০২৩ সালে নিউ মেক্সিকোর কয়েকজন আইনজীবী এই মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, মেটার প্ল্যাটফর্মগুলো শিশুদের যৌন শিকারি ও ক্ষতিকর কনটেন্টের সংস্পর্শে নিয়ে যাচ্ছে। বিচারের প্রথম ধাপে আদালত মত দেন যে, মেটা বারবার নিউ মেক্সিকোর ‘আনফেয়ার প্র্যাকটিসেস অ্যাক্ট’ লঙ্ঘন করেছে। আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে, প্রতিষ্ঠানটির সুপারিশমূলক অ্যালগরিদম কম বয়সী ব্যবহারকারীদের ক্ষতিকর কনটেন্টের দিকে ধাবিত করছে। দ্বিতীয় ধাপের রায়ে বিচারক এই ক্ষতিকে ‘জনদুর্ভোগ’ বা জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার সমস্যা হিসেবে অভিহিত করেন। শিশু সুরক্ষা সংক্রান্ত অভিযোগে কোনো সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিকে জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারী হিসেবে চিহ্নিত করার ঘটনা এটিই প্রথম বলে মনে করা হচ্ছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, জরিমানার অর্থের মধ্যে ৪২০ মিলিয়ন ডলার ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসা ও আচরণগত স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচিতে ব্যয় করা হবে। এছাড়া শিক্ষক, স্বাস্থ্যকর্মী ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের প্রশিক্ষণ এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রমেও অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হবে। রায়ে মেটার জন্য বেশ কয়েকটি বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—১৮ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট কোনো প্রাপ্তবয়স্কের কাছে সুপারিশ না করা, প্রাপ্তবয়স্কদের কাছ থেকে অপ্রাপ্তবয়স্কদের কাছে বার্তা পাঠানো বন্ধ করা, অপ্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে নগ্নতা সংবলিত কনটেন্ট আদান-প্রদান নিষিদ্ধ করা এবং যৌন শোষণে জড়িত প্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে ‘ওয়ান-স্ট্রাইক’ নীতি কার্যকর করা। এছাড়া প্রতিদিন রাত ১০টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ‘লাইক’ সংখ্যা প্রদর্শন বন্ধ রাখা, স্কুল চলাকালে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত পুশ নোটিফিকেশন বন্ধ রাখা এবং মাসে ৯০ ঘণ্টা বা গড়ে প্রতিদিন তিন ঘণ্টার বেশি ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুক ব্যবহারকারীদের জন্য বাধ্যতামূলক ব্যবহারসীমা নির্ধারণের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। রায়ের বিষয়ে প্রতিক্রিয়ায় মেটার এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটি আদালতের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নয় এবং এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে। তিনি দাবি করেন, ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ক্ষতিকর কনটেন্ট শনাক্ত ও অপসারণে মেটা ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। অনলাইনে কিশোর-কিশোরীদের সুরক্ষায় নিজেদের পদক্ষেপের ওপরও প্রতিষ্ঠানটি আস্থা রাখে। শিশু সুরক্ষা ইস্যুতে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে হাজারো মামলার মুখোমুখি রয়েছে মেটা। চলতি বছরের শুরুতে লস অ্যাঞ্জেলেসেও একই ধরনের একটি মামলায় হেরেছিল প্রতিষ্ঠানটি। আগামী সপ্তাহে ক্যালিফোর্নিয়ায় শিশু গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে মেটার বিরুদ্ধে আরও একটি বড় বিচারকার্য শুরু হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের প্রায় তিন ডজন অ্যাটর্নি জেনারেল অংশ নিচ্ছেন।

মারিয়া রহমান আগস্ট ০৭, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

হোটেলের ফ্রি ওয়াই-ফাইয়ে এক ক্লিকেই হতে পারে সাইবার হামলা

ছবি: সংগৃহীত

স্ন্যাপচ্যাটের নতুন ফিচার ‘নাও প্লেয়িং’, জানা যাবে বন্ধুদের গান

ছবি : সংগৃহীত

এআই-এর কারণে ২০৩৬ সালের মধ্যে কমতে পারে টাকার প্রয়োজনীয়তা: ইলন মাস্ক

0 Comments