অন্যান্য

রংপুর অভিমুখে লং মার্চ, উদ্বোধনী সমাবেশে জড়ো হচ্ছেন নেতাকর্মীরা

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
রংপুর অভিমুখী ১১ দলীয় ঐক্যের লং মার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি। ছবি: সংগৃহীত
রংপুর অভিমুখী ১১ দলীয় ঐক্যের লং মার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি। ছবি: সংগৃহীত

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লং মার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ শুরু হয়েছে।

 

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ঢাকা-রংপুর লং মার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ শুরু হয়।

 

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদের উদ্বোধনী বক্তব্যের মাধ্যমে সমাবেশ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।

 

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন- বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি।

 

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন- বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি, এলডিপির চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির আমির মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম ছোবহানী, আমার বাংলাদেশ পার্টির সভাপতি মুজিবুর রহমান মঞ্জু, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলামসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা।

 

উল্লেখ্য, সমাবেশ শেষে রংপুরের উদ্দেশ্যে লং মার্চটি শুরু হবে বলে জানা গেছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

অন্যান্য

আরও দেখুন
যে কোনো সময় আসতে পারে এক দফা দাবিজামায়াত আমির
এক দফার আন্দোলনের ইঙ্গিত দিলেন জামায়াত আমির

বিভিন্ন দাবি জাতির প্রয়োজনে যে কোনো সময় এক দফায় পরিণত হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াত আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।   শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লং মার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে এ হুঁশিয়ারি দেন তিনি।   জামায়াত আমির বলেন, এর আগে চট্টগ্রামের লং মার্চ সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে অনেকের মাথা গরম হয়ে গেছে। গত দুই দিন ধরে রাজধানীতে আমরা মাথা গরমের কিছু লক্ষণ দেখতে পাচ্ছি। আমরা অনুরোধ করব, হতাশ হয়ে মাথা গরম করবেন না। বরং জনতার দাবি মেনে নেওয়ার চেষ্টা করুন।   তিনি বলেন, আজকে আট দফা, মনে রাখবেন—এটা ৯ দফা হতে পারে, ১০ দফা হতে পারে। আবার জাতির প্রয়োজনে যেকোনো সময় এটা এক দফায় পরিণত হতে পারে। এক দফায় যখন পরিণত হবে, তখন কিন্তু পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ হবে। সেই পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার আগে সাম্প্রতিক অতীত থেকে শিক্ষা নিন। শিক্ষা নিয়ে জনগণের দাবি মেনে নিন। যদি দাবি মানতে ব্যর্থ হন, তাহলে পরিষ্কার বলে দিচ্ছি—কোনো চোখ রাঙানিতে কাজ হবে না। আমরা কোনো কিছুকে পরোয়া করব না।   শফিকুর রহমান বলেন, আমরা ১৮ কোটি মানুষের দাবি নিয়ে মাঠে নেমেছি। ১৮ কোটি মানুষ ১১ দলের সঙ্গে আছে। সেই দাবি আদায় করে আমরা ঘরে ফিরব।   গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে এ লং মার্চ করছে ১১ দলীয় জোট।   জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় সমাবেশে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি এবং ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।   সমাবেশ আরও বক্তব্য দেন- বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জনাব নাহিদ ইসলাম এমপি; এলডিপির চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম; বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক; জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার; বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির আমীর মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম ছোবহানী; আমার বাংলাদেশ পার্টির সভাপতি জনাব মুজিবুর রহমান মঞ্জু, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান; বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান; বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান এডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান; বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলামসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
রংপুর অভিমুখী ১১ দলীয় ঐক্যের লং মার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি। ছবি: সংগৃহীত

রংপুর অভিমুখে লং মার্চ, উদ্বোধনী সমাবেশে জড়ো হচ্ছেন নেতাকর্মীরা

সংগৃহীত ছবি

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী চূড়ান্ত, অপেক্ষা শুধু ঘোষণার

সংগৃহীত ছবি

রিমান্ডে গাজী তানভীরকে অজ্ঞাত ইনজেকশন দেওয়া হয়েছিল : নাহিদ

সংগৃহীত ছবি
দুদক পুনর্গঠনের আড়ালে এনসিপি ও বিরোধীদের টার্গেট : নাহিদ ইসলাম

সাত মাস পর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পুনর্গঠন করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বিরোধী দলকে টার্গেট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারকে চ্যালেঞ্জ করে তিনি বলেন, সাহস থাকলে ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করা হোক।   জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন পাশ, বিরোধী মত দমন এবং নাগরিকের মৌলিক অধিকার হরণের অভিযোগ তুলে এনসিপি আয়োজিত মানববন্ধনে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। গতকাল শুক্রবার বিকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে এই মানববন্ধন করা হয়। বিএনপি সরকার দুদককে ধ্বংস করেছে এবং শেখ হাসিনার সরকারের মতোই প্রতিষ্ঠানটি ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করেছেন নাহিদ ইসলাম। একই সঙ্গে পুলিশ সংস্কার কমিশন না করা এবং পুলিশকে বিরোধী দল দমনে প্রস্তুত করার অভিযোগও করেন তিনি। নির্বাচন কমিশনকে ‘ভূলুণ্ঠিত’ করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন এনসিপির নেতা।   নাহিদ ইসলাম বলেন, তারেক রহমান শেখ হাসিনার মতো স্বৈরাচারীর পথে হাঁটলে তার আগেই দেশের মানুষ রাজপথে আন্দোলন করে তা প্রতিহত করবে। নাহিদ ইসলাম আরো বলেন, বিএনপি গত ১৬ বছর গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছে; কিন্তু ক্ষমতায় এসে জনগণের রায়কে অবজ্ঞা করছে এবং মানবাধিকার হরণ করছে। গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের অধিকার রক্ষায় দেশের মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান নাহিদ ইসলাম।   নাহিদ ইসলাম বলেন—গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, এসআরবি এবং সামনে যে সাইবার সুরক্ষা আইন আনা হচ্ছে, এসব আইন নিয়ে তাদের উদ্বেগ রয়েছে। তিনি বলেন, গুমের অভিযোগের তদন্ত যদি যে বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, সেই ধরনের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমেই করা হয়, তাহলে স্বাধীন তদন্ত সম্ভব নয়। আবার কোনো অভিযোগ ভুল প্রমাণিত হলে অভিযোগকারীর শাস্তির বিধান রাখায় মানুষ গুমের ঘটনায় অভিযোগ করতেও ভয় পাবে।   ‘মানুষের কথা বলা বন্ধ করতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের প্রয়োগ’ :এনসিপি আহ্বায়কের দাবি, বিএনপি বিরোধী দলে থাকার সময় গুমের ঘটনায় আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি করলেও সরকারে এসে জাতীয় পর্যায়েও স্বাধীন তদন্তের সুযোগ রাখছে না। মানবাধিকার কমিশনকেও সরকারি প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। নাহিদ ইসলাম বলেন, পাঁচ মাস ধরে মিরাজ শেখের (বাগেরহাটের জেলে) কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না, অথচ সরকারের মন্ত্রীরা গত সাত মাসে একটি গুমও হয়নি বলে বক্তব্য দিচ্ছেন। তার অভিযোগ, মিরাজ শেখের পরিবার থানায় মামলা করতে গেলে তা নেওয়া হয়নি; পরে সাধারণ ডায়ারি নেওয়া হলেও সেখানে কোস্ট গার্ডের নাম লিখতে দেওয়া হয়নি।   একইভাবে এনসিপির সাবেক নেতা গাজী সালাউদ্দিন তানভীর ও গাজীপুরের সিফাতের (প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কটূক্তির অভিযোগে গ্রেফতার সিফাত আবদুল্লাহ) বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, সরকার মানুষের কথা বলা বন্ধ করতে এই আইন ব্যবহার করছে। হবিগঞ্জে পুলিশ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে ছাত্রশক্তির কর্মী আলিফের চোখ হারানোর কথাও উল্লেখ করেন তিনি।   জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন নিয়ে আখতার হোসেন বলেন, ‘যে মানবাধিকার কমিশন আইন তারা পাশ করেছে, সেখানে সরকারি দলকে সব ধরনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।’ তিনি এই আইন বাতিল করে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে করা মানবাধিকার কমিশনসংক্রান্ত অধ্যাদেশ ফিরিয়ে এনে একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন কমিশন প্রতিষ্ঠার দাবি জানান। একই সঙ্গে গুম প্রতিরোধসংক্রান্ত আইন বাতিল, র্যাবের মতো বাহিনী যাতে নতুন করে গড়ে উঠতে না পারে, তা নিশ্চিত করা, সাইবার নিরাপত্তা আইনে নাগরিকের বাক্‌স্বাধীনতা হরণ করে, এমন কোনো বিধান না রাখা এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি জানান।   এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, সংস্কার কমিশনসহ বিভিন্ন পক্ষের সুপারিশের পরও সরকার আইনের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে পুরোনো কাঠামো নতুন মোড়কে ফিরিয়ে এনেছে। এ আইন সংশোধনের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে আর কাউকে গুমের শিকার হতে দেওয়া হবে না। গুমসংক্রান্ত আইনে ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের অধিকার যথাযথভাবে নিশ্চিত হয়নি উল্লেখ করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, কাউকে গুম করা হলে সেই ঘটনায় তদন্তের ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছেই রাখা হয়েছে এবং ভুক্তভোগীর পরিবার তদন্তের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছ থেকে জবাবদিহি আদায়ের সুযোগ পাবে না।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

দেশে ফেরার অধিকার প্রতিটি নাগরিকের, রয়েছে সংবিধানেই: রুমিন ফারহানা

ডাকসু নেতা ফেরদাউস। ফাইল ছবি

পরীক্ষা চলাকালে ফোন হাতে ধরা, ডাকসু নেতার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা

ছবি: সংগৃহীত

পাহাড়ি ঝর্ণায় আনন্দের মুহূর্তে ভয়ংকর চমক, উপর থেকে পড়ল বিশাল সাপ

প্রধানমন্ত্রীর বর্তমান বিশেষ রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খান। ফাইল ছবি
শেখ হাসিনার নির্দেশে ডিএমপিতে টর্চার সেল বানান ইশতিয়াক: রাশেদ খান

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরাসরি নির্দেশনায় ডিএমপির মধ্যে টর্চার সেল গঠন করে ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতাকর্মীদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালিয়েছিলেন তৎকালীন এডিসি ইশতিয়াক আহমেদ— এমন গুরুতর অভিযোগ করেছেন ওই আন্দোলনের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর বর্তমান বিশেষ রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খান।   বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিজের দায়ের করা অভিযোগের তদন্তের অগ্রগতি জানতে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামের সাথে সাক্ষাৎ করে নিজের মামলার বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন তিনি।   রাশেদ খান বলেন, ২০১৮ সালের ১ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার সময় তাকে রাজধানীর ভাষানটেক থেকে তুলে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কটূক্তির একটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে প্রথমে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয় এবং পরে ডিএমপির সাইবার ক্রাইম ইউনিটে নেওয়া হয়। সেখানে নেওয়ার পরপরই এডিসি ইশতিয়াক আহমেদ তার ওপর নৃশংস নির্যাতন চালান।   তিনি বলেন, সাইবার ক্রাইম ইউনিটের ভেতরে আমার হাত, চোখ ও মুখ গামছা দিয়ে শক্ত করে বাঁধা হয়েছিল, যাতে কোনো আওয়াজ করতে না পারি। সেখানে প্রায় ৩০ মিনিট ধরে আমার ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়। পরবর্তীতে ১৫ দিনের রিমান্ডে রেখেও চরম অত্যাচার করা হয়েছে।   এডিসি ইশতিয়াকের কার্যালয়কেই নির্যাতন কেন্দ্র বানানো হয়েছিল উল্লেখ করে রাশেদ খান বলেন, শুধু আমি নই, যুবদল নেতাসহ অসংখ্য মানুষকে তার কার্যালয়ে সবার উপস্থিতিতে নির্যাতন করা হতো। শেখ হাসিনার সরাসরি নির্দেশনা ছাড়া একজন পুলিশ কর্মকর্তার পক্ষে এমন টর্চার সেল চালানো সম্ভব ছিল না।   তিনি আরও অভিযোগ করেন, এডিসি ইশতিয়াক আহমেদ ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ড্রোন দিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ ধারণ করার পর হত্যার প্রমাণ নষ্ট করতে তা ডিলিট করে দেন।   এছাড়া বিতর্কিত বিচারক আবু আহমেদ জমাদারের পুত্র হিসেবে এই কর্মকর্তা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিরোধী মত ও আন্দোলনকারীদের দমন করেছিলেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   রাশেদ খান বলেন, ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে যে গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টি হয়েছিল, সেই আন্দোলনের অংশ হিসেবেই তিনি এই নির্যাতনের ন্যায়বিচার চান। ট্রাইব্যুনাল থেকে তাকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত চলছে এবং দ্রুতই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।   এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানান, এডিসি ইশতিয়াক আহমেদসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ভিন্ন মত দমন ও আন্দোলনকারীদের ওপর একই কায়দায় চালানো এসব নির্যাতন ‘ওয়াইডস্প্রেড অ্যান্ড সিস্টেমেটিক’ অপরাধের অংশ, যা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারভুক্ত। রাশেদ খানের দায়ের করা অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগে ভাইভার তারিখ ঘোষণা, লাগবে যেসব কাগজ

সংগৃহীত ছবি

প্রকৃত গণতন্ত্রের জন্য নিরপেক্ষ নির্বাচনের ধারাবাহিকতা জরুরি: রুহুল কবির রিজভী

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার দুই সিটিতে মেয়র প্রার্থী দিল জামায়াত

0 Comments