জাতীয়

বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে অতিরিক্ত চার্জ ও প্রিপেইড মিটার নিয়ে গ্রাহক অসন্তোষ

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
বিদ্যুতের বিল নিয়ে সম্প্রতি গ্রাহকদের বড় ধরনের অসন্তোষ ও ক্ষোভ দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশে। ফাইল ছবি
বিদ্যুতের বিল নিয়ে সম্প্রতি গ্রাহকদের বড় ধরনের অসন্তোষ ও ক্ষোভ দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশে। ফাইল ছবি

বিদ্যুতের বিল নিয়ে সম্প্রতি গ্রাহকদের বড় ধরনের অসন্তোষ ও ক্ষোভ দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশে। জুন মাসে নতুন দাম নির্ধারণের পর শহর-গ্রাম নির্বিশেষে প্রিপেইড ও পোস্টপেইড মিটার ব্যবহারকারীদের অনেকেই ব্যয় অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ করছেন।

 

 

বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যে বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে অতিরিক্ত মিটার ভাড়া, ডিমান্ড চার্জের নামে যে টাকা আদায় করা হচ্ছে সেটি নিয়েও আপত্তি ও প্রশ্ন তুলছেন ভোক্তারা।

 

 

বর্তমানে আবাসিক গ্রাহকদের জন্য সাতটি স্ল্যাব রয়েছে। যতটুকু বিদ্যুৎ ব্যবহার করবে তার উপর স্ল্যাব অনুযায়ী নির্দিষ্ট রেটে বিদ্যুতের বিল হবে।

 

 

বিদ্যুতের নতুন মূল্য অনুযায়ী ৪০০ ইউনিটের পর থেকে প্রতি ইউনিটের মূল্য ১৫.০১ টাকা। আর ৬০০ ইউনিটের বেশি খরচ করলে পরবর্তী প্রতি ইউনিট ১৭ টাকা ৩৫ পয়সা দরে গ্রাহককে পরিশোধ করতে হয়। এই বিলের সঙ্গে যুক্ত হয় ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট। খবর বিবিসি বাংলার। 

 

 

একটি বিদ্যুৎ বিল যখন গ্রাহকের কাছে আসছে সেখানে কত ইউনিট ব্যবহার হচ্ছে সেই হিসাব উল্লেখ থাকে। এছাড়া গ্রাহকের লোড অনুযায়ী কিলোওয়াট প্রতি ৪২ টাকা ডিমান্ড চার্জ।

 

 

মিটার কেনা না থাকলে তার ভাড়াও যোগ হচ্ছে। এছাড়া পূর্ববর্তী মাসের বকেয়া থাকলে সেই বিল এবং তার সাথে বিলম্ব মাশুলও থাকছে নতুন বিলে।

 

 

অর্থাৎ বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে অতিরিক্ত হিসেবে ডিমান্ড চার্জ, ভ্যাট, বিলম্ব মাশুল এবং প্রযোজ্য হলে প্রিপেইড মিটার ভাড়া বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে যুক্ত হয়। 

 


পোস্টপেইড বিলে এসব চার্জ উল্লেখ করে বিল গ্রাহকের কাছে সরবরাহ করে বিতরণ সংস্থাগুলো। আর প্রিপেইড মিটার হলে টাকা ঢোকানোর সময় বিভিন্ন চার্জ কেটে তারপর বাকি টাকা বিদ্যুতের দাম হিসেবে মিটারে প্রদর্শন করা হয়।

 

 

বিদ্যুৎ ব্যবহার না করলেও শুধু কানেকশন থাকলেই প্রতিমাসে ডিমান্ড চার্জ এবং মিটার ভাড়া গুনতে হয় গ্রাহকদের।

 

ডিমান্ড চার্জ

বিদ্যুৎ খাতে ডিমান্ড চার্জ হলো অবকাঠামো, ট্রান্সফরমার, বিতরণ লাইন ও সংযোগ প্রস্তুত রাখার জন্য নির্ধারিত ফি।

 

অন্যদিকে মিটার ভাড়া নেওয়া হয় মিটার পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ।

 

এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন এই চার্জ নির্ধারণ করে দেয়। বর্তমানে আবাসিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে প্রতি কিলোওয়াট লোডের জন্য ডিমান্ড চার্জ হয় ৪২ টাকা।

 

এই হিসেবে এখন যেসব গৃহস্থলিতে দুই কিলোওয়াট ডিমান্ড তাদের বিদ্যুৎ বিলে অতিরিক্ত আসছে ৮৪ টাকা। যেসব বাড়িতে লোড ১০ কিলোয়াট সেখানে প্রতিমাসে ৪২০ টাকা ডিমান্ড চার্জ দিতে হয়।

 

 

এই ডিমান্ড চার্জ নিয়েও গ্রাহকদের কেউ কেউ ভুক্তভোগী হয়েছেন বলে অভিযোগ আছে। কারণ বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়ার সময় কেউ প্রয়োজনের অতিরিক্ত লোড নিয়ে থাকলে সেই অনুযায়ী অতিরিক্ত চার্জ দিতে হচ্ছে প্রতি মাসে।

 

একজন ভুক্তভোগী বলেন, তিনি কারিগরি বিষয়টি বুঝতে পারেননি, তাই ১৫ ওয়াট লোডের বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়েছেন। এখন প্রতিমাসে বিদ্যুৎ বিলে অতিরিক্ত ৬৩০ টাকা শুধু ডিমান্ড চার্জই দিতে হচ্ছে।  

 

 

এই ডিমান্ড চার্জের সঙ্গে যদি মিটার ভাড়া থাকে, তাহলে থ্রি-ফেজ লাইন লাগবে। এর জন্য মিটার ভাড়া হবে আড়াইশ টাকা। অর্থাৎ প্রতিমাসে বিদ্যুৎ বিলে ১৫ ওয়াট লোডের গ্রাহককে অতিরিক্ত ৮৮০ টাকা পর্যন্ত বিল গুনতে হতে পারে।

 

 

মিটার ভাড়া

বাংলাদেশে বিদ্যুৎ বিল আহরণে উন্নত প্রযুক্তি এবং বকেয়া সমস্যা দূর করা এবং রাজস্ব আহরণকে গতিশীল করতে প্রিপেইড মিটার স্থাপন করার উদ্যোগ নেয় সরকার।

 

বর্তমানে দেশে বিতরণ সংস্থাগুলোয় প্রিপেইড মিটার রয়েছে। নতুন সংযোগ এবং মিটার নষ্ট হলে নতুন মিটার স্থাপনের সময় গ্রাহককে বাধ্যতামূলক প্রিপেইড মিটার দেওয়ার নিয়ম করা হয়েছিল।

 

বিতরণ সংস্থার হিসেবে, সিঙ্গেল ফেজ প্রিপেইড মিটারের দাম ধরা হয়েছে ছয় হাজার টাকা। একটি প্রিপেইড মিটারের আয়ুষ্কাল ১০ বছর মেয়াদ ধরে ১২০ মাসের ভাড়া গ্রাহকের কাছ থেকে মাসে ৪০ টাকা করে আদায় করা হয়।

 

অন্যদিকে থ্রি ফেজ ২৫ হাজার টাকা হিসেবে করে এর ভাড়া প্রতিমাসে ২৫০ টাকা। ১০ বছরের মধ্যে মিটার নষ্ট হলে বিতরণ সংস্থাই নতুন মিটার লাগিয়ে দেবে বিনা পয়সায়।

 

প্রিপেইড মিটারে বিল লোড করার পর মিটার ভাড়া এবং ডিমান্ড চার্জ সেই সঙ্গে এনার্জি বিলের উপর পাঁচ শতাংশ ভ্যাট আগেই কেটে ফেলা হয়।

 

এরপর যে টাকা থাকে সেই টাকার বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারেন গ্রাহক। যে কারণে ভোক্তারা অনেকেই বিদ্যুৎ ব্যবহার না করেই টাকা কাটার বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্ত হন।

 

 

বর্তমানে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে এই মিটার ভাড়া, ডিমান্ড চার্জ ও ভ্যাট কাটার কারণে অনেকের আপত্তি করছেন। অগ্রিম বিদ্যুৎ বিল দেওয়ার পরেও লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি গ্রাহকদের আরো অসন্তুষ্ট করতে তুলেছে। 

 

 


নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার একজন গ্রাহকের প্রশ্ন, এই মিটার ভাড়া এবং ডিমান্ড চার্জ কীসের ভিত্তিতে নেওয়া হচ্ছে এবং কতদিন ধরে চলবে এটা স্পষ্ট নয় তাদের কাছে।

 

ফরাজিকান্দা গ্রামের একজন নারী গ্রাহক বলেন, কারেন্ট পাই না। টাকা খালি বাড়ে আর বাড়ে দিনে দিনে। যদি মিটারে এরকম চাপটা পড়ে তাহলে গরিবের জন্য সমস্যা না। ৫০০ টাকা ভরলে দেড়শ করে কাইট্যা নিতাছে। সাড়ে তিনশ টাকা টিকে।

 

 

বিদ্যুৎ বিভাগ ও বিতরণ সংস্থাগুলো মনে করছে প্রিপেইড মিটারে গেলে বিল নিয়ে ভোগান্তি কমবে। কিন্তু নতুন করে প্রিপেইড মিটার বসাতে গিয়ে অনেক জায়গায় বাধার মুখে পড়ছে বিতরণ সংস্থা।

 

প্রিপেইড মিটার ব্যবহারে অগ্রিম টাকা কেটে নেওয়া, বিল বৃদ্ধি, নানা জটিলতার আশঙ্কা থেকে প্রিপেইড মিটার বিরোধী জনমত গড়ে উঠছে বিভিন্ন জেলায়। নারায়ণগঞ্জে গণ-অনশন, সভা-সমাবেশ হয়েছে। গঠিত হয়েছে নাগরিক অধিকার ফোরাম।

 

 

প্রিপেইড মিটার বিরোধী জনমত এবং আন্দোলনে সক্রিয় আছেন এ ফোরামের প্রধান উপদেষ্টা মাহবুবুর রহমান মাসুম। তিনি বলেন, গ্রাহকরা অগ্রিম টাকা দিতে রাজি নয়। এর জন্য গণশুনানি করে জনগণকে বোঝানো দরকার ছিল সেটিও হয়নি।

 

 

তিনি বলেন, নানা জটিলতার কারণে আমরা এটা গ্রহণ করতে চাচ্ছি না। এই ব্যাপারে আমরা জাতীয় পর্যায়ে ৩০টা জেলার সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। এসব জেলায় আন্দোলন চলছে এবং গ্রাহক অধিকার রক্ষা জাতীয় কমিটি করা হয়েছে।

 

 

নারায়ণগঞ্জে মিটার ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। 

 


ভোক্তা সংগঠন ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা ড. এম শামসুল আলম বলেন, ডিমান্ড চার্জ এবং মিটার ভাড়া আদায় নিয়ে ভোক্তাদের প্রশ্ন ও আপত্তি তোলা যৌক্তিক।

 

 

মিটার একটা উন্নততর প্রযুক্তি এটাকে গ্রাহকের সুযোগ হিসেবে নেওয়ার কথা এবং এটাকে মানুষ সেবা হিসেবে মনে করছে না। যেটাকে দুর্ভোগ হিসেবে মনে করছে। বাড়তি পয়সা আদায়ের অযুহাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটা বিইআরসি বিচারিক পর্যায়ে নিষ্পত্তি করা দরকার।

 

 

মিটার ভাড়া বিতরণ চার্জের সঙ্গে সমন্বয় হতে হবে। মিটার আলাদাভাবে ভাড়া আদায় করার কোনো সুযোগ নাই। জনগণের কাছ থেকে ডিমান্ড চার্জের নামে বাড়তি অর্থ আদায় এটা একধরনের লুটপাটে পরিণত হয়েছে। ডিমান্ড চার্জের রিভিউ হওয়া দরকার।

 

 

শামসুল আলম বলেন, যেহেতু ডিমান্ড অনুযায়ী বিদ্যুৎ দিতে পারে না, সুতরাং ডিমান্ড চার্জ নৈতিক ভিত্তি হারিয়ে ফেলেছে। তার কথায় ডিমান্ড অনুযায়ী বিদ্যুৎ দিতে গিয়ে তার অতিরিক্ত খরচটা কী হচ্ছে সেটাতো বিতরণ ইউটিলিটিগুলোকে পরিষ্কার করতে হবে।

 

 

যদি ধরেন আরইবির এক টাকা ৪৩ পয়সা যদি তার বিতরণ চার্জ হয় তাহলে তার বিতরণ ট্যারিফ হয়ে গেল। তাহলে বাইরে যেটা নেওয়া হলো, মিটার ভাড়া, ডিমান্ড চার্জের জন্য তার কী খরচ হচ্ছে। যে চার্জ নিচ্ছে কী কারণে, কী খরচ হচ্ছে এটার এটার বৈধতা নিয়ে, ন্যায্যতা নিয়ে এটার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন আছে। তারপরে আবার ডিমান্ড অনুযায়ী বিদ্যুৎ দেওয়া হচ্ছে না।

 

 

এ ব্যাপারে বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুল হাসিব চৌধুরী বিবিসি বাংলাকে বলেন, ডিমান্ড চার্জ চব্বিশ ঘণ্টার হিসেবে সারামাস জুড়ে বিদ্যুৎ দেওয়ার জন্য পুরো মাসের জন্য দিচ্ছি। অথচ বিদ্যুৎ ব্যবহার করছি কম। এখন গ্রাহক যদি বলে কেন ভাই, আমাকে বিদ্যুৎ দিচ্ছ কম তাহলে ডিমান্ড চার্জ এত নিবা কেন- সেটা তাহলে একট অনাস্থা তৈরি করে, অস্বস্তি-ক্ষোভ তৈরি করে। এসব মিলিয়ে প্রবলেমটা হচ্ছে।

 

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন প্রিপেইড মিটার নিয়ে গ্রাহকদের আন্দোলন ভাবনার বিষয়। মানুষের আস্থায় কেন ঘাটতি হচ্ছে সেটি স্পষ্ট করে জনগণকে বোঝাতে হবে।

 

আব্দুল হাসিব চৌধুরী বলেন, গ্রাহকদের যে ক্ষোভ হচ্ছে এগুলো আসলে ইন্ডিপেন্ডেন্ট কোনো বডিকে দিয়ে অডিট করা, চেক করা, ভেরিফাই করা এই কাজগুলো করানো হলে গ্রাহকদের আস্থা অনেকখানি ফিরবে। আর পয়লা কথা হচ্ছে বিদ্যুৎটা আপনাকে দিতে হবে। 

 

 

বিতরণ সংস্থার পক্ষে বলা হচ্ছে সরকারের পরিকল্পনা বিদ্যুৎ গ্রাহকদের মধ্যে ৮০ শতাংশ প্রিপেইড মিটার প্রতিস্থাপন করা।

 

 

ডিপিডিসির প্রকল্প পরিচালক মো. হানিফ উদ্দিন বলেন, প্রিপেইড মিটার নিয়ে জনগণকে ভুল বোঝানো হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিলে পোস্টপেইড থেকে প্রিপেইড মিটারে গেলে স্বচ্ছতা তৈরি হবে। এখানে প্রিপেইড মিটারে বাড়তি কোনো টাকা কাটা হয় না, পোস্ট পেইডের মতো একই হারে ভ্যাট এবং ডিমান্ড চার্জ কাটা হয়।

 

 

তিনি বলেন, গ্রাহক যদি এককালীন মিটার কিনে না দেয় সেক্ষেত্রে ভাড়া নেওয়া হয়। এছাড়া প্রিপেইড মিটারের গ্রাহকরা এখন ০.৫ শতাংশ হারে বিদ্যুৎ বিলে বিলে রিবেট বা ছাড় পান।

 

 

বিদ্যুতের মিটার, বিভিন্ন চার্জের যৌক্তিকতা নিয়ে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকে আরো তৎপর হতে হবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

 

 

তবে বিইআরসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যাচাই বাছাই করে ডিমান্ড চার্জ নির্ধারণ করা হয়েছে এবং সবশেষ বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি হলেও ডিমান্ড চার্জ বাড়ানো হয়নি।

 

তারা এটাও জানিয়েছে, প্রিপেইড মিটার নিয়ে সরকার গঠিত একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি যাচাই করে কোনো সমস্যা পায়নি, তবে প্রিপেইড মিটার ভাড়ার বিষয়টি সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয়।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

নতুন পে স্কেলে পেনশন বৃদ্ধির হার ১০০ শতাংশ পর্যন্ত নির্ধারিত

নতুন পে স্কেলে অবসরভোগী ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীদের নিট পেনশন বাড়ানোর হারও নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে পেনশন ও গ্রাচুইটির বিদ্যমান হার অপরিবর্তিত থাকবে।     ৩০ জুন ২০২৬-এর নিট পেনশনের ওপর ভিত্তি করে ১ জুলাই থেকে নতুন নিট পেনশন নির্ধারণ করা হবে। ৯ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের জন্য বৃদ্ধির হার ১০০ শতাংশ। ৯ হাজার ১ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৭৫ শতাংশ, ২০ হাজার ১ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৬৫ শতাংশ, ৩০ হাজার ১ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৬০ শতাংশ এবং ৪০ হাজার ১ টাকা বা তার বেশি নিট পেনশনের ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার ৫৫ শতাংশ।     নতুন ব্যবস্থায় সর্বনিম্ন নিট পেনশন ১০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ৭০ হাজার ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে কোনো অবসরভোগী ইতিমধ্যে ৭০ হাজার ২০০ টাকার বেশি নিট পেনশন পেয়ে থাকলে ২০২৭ সালের ১ জুলাইয়ের পরবর্তী বার্ষিক বেতনবৃদ্ধির আগ পর্যন্ত তিনি আগের অঙ্কেই পেনশন পাবেন।     অবসর-উত্তর ছুটির ক্ষেত্রে ১২ মাস পূর্ণ গড় বেতনে ছুটি এবং ১৮ মাস ছুটি নগদায়নের সুবিধা বহাল রাখা হয়েছে।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

নতুন পে-স্কেলে এমপিও শিক্ষকদের বেতন নিয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা নেই

বিদ্যুতের বিল নিয়ে সম্প্রতি গ্রাহকদের বড় ধরনের অসন্তোষ ও ক্ষোভ দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশে। ফাইল ছবি

বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে অতিরিক্ত চার্জ ও প্রিপেইড মিটার নিয়ে গ্রাহক অসন্তোষ

ছবি: সংগৃহীত

ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণে দ্রুত সেবা, মাঠপর্যায়ে চেক হস্তান্তর

ছবি: সংগৃহীত
দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়ব না: শফিকুর রহমান

প্রয়োজনে জীবন দেওয়ার বিনিময়েও দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।   শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লং মার্চের অংশ হিসেবে বগুড়ার মাটিডালি বিমান মোড়ে আয়োজিত পথসভায় তিনি এ কথা বলেন।   শফিকুর রহমান বলেন, তাদের কর্মসূচি জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি বা চাপকে তারা গুরুত্ব দিচ্ছেন না। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকার কথাও জানান তিনি।   এর আগে শনিবার সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লং মার্চ শুরু হয়। কর্মসূচিতে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়েছে।   বগুড়ার পথসভায় শফিকুর রহমান সরকারের বিভিন্ন নীতি ও কার্যক্রমের সমালোচনা করেন। তার দাবি, লং মার্চের দাবিগুলোর মধ্যে সাধারণ মানুষের গ্যাস, বিদ্যুৎ, কৃষকের সার এবং কর্মসংস্থানের বিষয়গুলোও রয়েছে।   তিনি বলেন, তাদের ঘোষিত আট দফা দাবি মেনে নেওয়া হলে নতুন করে কোনো কর্মসূচির প্রয়োজন হবে না। তবে দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন আরও বিস্তৃত করার কথা জানান তিনি। এর আগে ঢাকার উদ্বোধনী সমাবেশেও তিনি বলেছিলেন, পরিস্থিতি অনুযায়ী আট দফা যেকোনো সময় এক দফায় পরিণত হতে পারে।   কর্মসূচির পরবর্তী ধাপ নিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ভবিষ্যতে পঞ্চগড় থেকে ঢাকার দিকে লং মার্চ আয়োজনের প্রস্তুতি নিতে হবে।   এ সময় তিনি দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন। সাম্প্রতিক একটি শিশুর মৃত্যুর ঘটনা উল্লেখ করে তিনি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।   লং মার্চের কর্মসূচি নিয়ে ১১ দলীয় ঐক্য জানিয়েছে, তাদের ঘোষিত দাবিগুলো আদায়ের লক্ষ্যেই ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। শনিবার সকালে রাজধানী থেকে লং মার্চটি রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সড়কের পাশে গাড়ি না রাখার আহ্বান পরিবহন মালিক সমিতির

ছবি: সংগৃহীত

গজারিয়ায় বাস-প্রাইভেটকারের সংঘর্ষে প্রাণ গেল ৪ জনের

ছবি: সংগৃহীত

তারেক রহমানকে নাহিদ ইসলাম: কীভাবে ক্ষমতা ছাড়বেন, সিদ্ধান্ত আপনাকেই নিতে হবে

ছবি: সংগৃহীত
নতুন পে স্কেলে বাড়িভাড়া সর্বোচ্চ ৬০%, চিকিৎসা ভাতা ৬ হাজার টাকা

জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের বিভিন্ন ভাতা ও আর্থিক সুবিধার নতুন কাঠামো নির্ধারণ করেছে সরকার। এতে কর্মচারীদের বাড়িভাড়া ভাতা সর্বোচ্চ মূল বেতনের ৬০ শতাংশ এবং চিকিৎসা ভাতা সর্বোচ্চ মাসে ৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।   নতুন গেজেট অনুযায়ী, বাড়িভাড়া ভাতার সংশোধিত হার ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। তবে ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিদ্যমান নিয়ম ও হারেই এ ভাতা দেওয়া হবে।   চিকিৎসা ভাতা সর্বোচ্চ ৬ হাজার টাকা নতুন কাঠামোয় বয়সভেদে চিকিৎসা ভাতার হার নির্ধারণ করা হয়েছে। ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত সরকারি কর্মচারীরা মাসে ৩ হাজার টাকা এবং ৫০ বছর এক দিন বয়স থেকে অবসরোত্তর ছুটি (পিআরএল) শেষ হওয়া পর্যন্ত ৪ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা পাবেন। অবসরভোগী ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে বয়স অনুযায়ী এ ভাতা বাড়বে। ৫০ বছর পর্যন্ত মাসে ৩ হাজার, ৫০ বছর এক দিন থেকে ৬০ বছর পর্যন্ত ৪ হাজার, ৬০ বছর এক দিন থেকে ৭০ বছর পর্যন্ত ৫ হাজার এবং ৭০ বছরের বেশি বয়সে ৬ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা দেওয়া হবে।   গ্রেড অনুযায়ী বাড়িভাড়া ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে গ্রেড-২০ থেকে গ্রেড-১৬ পর্যন্ত কর্মচারীরা ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় মূল বেতনের ৬০ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া পাবেন। অন্যান্য নির্ধারিত সিটি করপোরেশন, সাভার ও কক্সবাজার পৌর এলাকায় এ হার হবে ৫০ শতাংশ। দেশের অন্যান্য এলাকায় বাড়িভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে মূল বেতনের ৪৫ শতাংশ। গ্রেড-১৫ থেকে গ্রেড-১০ পর্যন্ত কর্মচারীদের জন্য ঢাকা শহরে বাড়িভাড়া হবে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ। অন্যান্য নির্ধারিত শহরে ৪০ শতাংশ এবং অন্যান্য এলাকায় ৩৫ শতাংশ হারে ভাতা দেওয়া হবে। গ্রেড-৯ থেকে গ্রেড-৫ পর্যন্ত কর্মচারীদের ক্ষেত্রে ঢাকা শহর, অন্যান্য নির্ধারিত শহর ও অন্যান্য এলাকার হার যথাক্রমে ৪৫, ৩৫ ও ৩০ শতাংশ।   গ্রেড-৪ থেকে গ্রেড-১ এবং তদূর্ধ্ব পর্যায়ের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে এই হার যথাক্রমে ৪০, ৩০ ও ২৫ শতাংশ। তবে সরকারি বাসভবনে বসবাসকারী কর্মচারীরা বাড়িভাড়া ভাতা পাবেন না। স্বামী-স্ত্রী দুজনই সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বিমা কিংবা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত হলে এবং একই সরকারি বাসভবনে বসবাস করলে, যার নামে বাসাটি বরাদ্দ থাকবে তার বেতন থেকে নির্ধারিত হারে বাড়িভাড়া কেটে নেওয়া হবে। তিনি বাড়িভাড়া ভাতা পাবেন না। অন্যজন প্রচলিত নিয়মে এ ভাতা পাওয়ার যোগ্য হবেন।   বাংলা নববর্ষ ভাতা ১৫ শতাংশ সরকারি কর্মচারীরা আহরিত মূল বেতনের ১৫ শতাংশ হারে বাংলা নববর্ষ ভাতা পাবেন। মাসিক নিট পেনশন গ্রহণকারী অবসরভোগী ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রেও নিট পেনশনের ১৫ শতাংশ হারে এ ভাতা দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।   উৎসব ও বিনোদন ভাতা বহাল বার্ষিক উৎসব ভাতা এবং শ্রান্তি ও বিনোদন ভাতা আগের নিয়মেই বহাল রাখা হয়েছে। তবে একবার ভাতা উত্তোলনের পর বেতন পুনর্নির্ধারণের কারণে অতিরিক্ত বা বকেয়া ভাতা দাবি করা যাবে না। অবসরভোগী ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীদের বছরে দুটি উৎসব ভাতাও বহাল থাকবে। প্রতিটি ভাতার পরিমাণ হবে তাদের নিট পেনশনের সমান। ১০০ শতাংশ পেনশন সমর্পণকারীরা পেনশন সমর্পণ না করলে যে পরিমাণ নিট পেনশন পেতেন, সেই পরিমাণ অর্থ বছরে দুইবার উৎসব ভাতা হিসেবে পাবেন।   সন্তানপ্রতি শিক্ষা ভাতা ৫০০ টাকা সরকারি কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য মাসে ৫০০ টাকা করে শিক্ষা সহায়ক ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে। সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য একজন কর্মচারী মাসে মোট ১ হাজার টাকা পাবেন। স্বামী ও স্ত্রী দুজনই সরকারি চাকরিতে থাকলে সন্তান সংখ্যার হিসাব একজনের ক্ষেত্রেই বিবেচনা করা হবে। বয়সের সনদ জমা দেওয়ার শর্তে সন্তানের বয়স ২৩ বছর পর্যন্ত এ ভাতা পাওয়া যাবে।   টিফিন ভাতা ৫০০ টাকা জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ অনুযায়ী ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা মাসে ৫০০ টাকা টিফিন ভাতা পাবেন। তবে নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে লাঞ্চ ভাতা বা বিনামূল্যে দুপুরের খাবার পেলে এই ভাতা প্রযোজ্য হবে না। এ ছাড়া চলতি বা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের জন্য মাসে ১ হাজার ৫০০ টাকা কার্যভার ভাতা দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।   ভ্রমণ ভাতার ক্ষেত্রে আপাতত প্রচলিত নিয়ম বহাল থাকবে। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে ভ্রমণ ভাতার হার পুনর্নির্ধারণ করে আলাদা আদেশ জারি করতে পারবে অর্থ বিভাগ। গেজেট অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নতুন নিয়োগ পাওয়া কর্মচারীদের ভাতার ক্ষেত্রেও বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে। এ সময়ে নিয়োগপ্রাপ্তরা ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে নিয়োগ পেলে যে হারে বা পরিমাণে সংশ্লিষ্ট ভাতা পাওয়ার কথা ছিল, ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সেই হারেই ভাতা পাবেন।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মানিকগঞ্জে ঘর থেকে প্রবাসী, স্ত্রী ও শিশুকন্যার মরদেহ উদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত

নতুন পে স্কেলে থাকছেন না যেসব সরকারি কর্মচারী

বক্তব্য রাখছেন শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। ছবি: সংগৃহীত

বিরোধী দলের কারণেই আওয়ামী লীগ সুযোগ পাচ্ছে: পানিসম্পদমন্ত্রী

0 Comments