সরকারি কর্মচারীদের জন্য জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬-এর গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার। নতুন এই বেতনস্কেল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হিসেবে গণ্য হবে। তবে গেজেটে নির্ধারিত কয়েকটি শ্রেণির সরকারি কর্মচারী এ বেতনস্কেলের আওতার বাইরে থাকবেন।
সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ১৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে অর্থ মন্ত্রণালয় ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ জারি করেছে। এর মাধ্যমে জাতীয় বেতনস্কেল, ২০১৫-এর পরিবর্তে ২০২৬ সালের নতুন বেতনস্কেল কার্যকর করা হয়েছে।
গেজেট অনুযায়ী, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসে কর্মরত ব্যক্তিরা জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬-এর আওতায় থাকবেন না।
এ ছাড়া প্রতিরক্ষা প্রাক্কলন থেকে বেতন পাওয়া বেসামরিক কর্মচারীদের বাদ দিয়ে প্রতিরক্ষা সার্ভিসে নিয়োজিত কর্মচারীরাও এই আদেশের বাইরে থাকবেন। পুলিশ বাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের ক্ষেত্রেও নতুন বেতনস্কেল প্রযোজ্য হবে না।
রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট শ্রেণির শ্রমিক, শিক্ষানবিশ ও প্রশিক্ষণার্থীদেরও এ বেতনস্কেলের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে।
একইভাবে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তি, দৈনিকভিত্তিক সাময়িক শ্রমিক এবং চুক্তিভিত্তিক বা খণ্ডকালীন কর্মীরাও জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬-এর সুবিধা পাবেন না।
নতুন বেতনস্কেল একবারে পুরোপুরি কার্যকর না করে কয়েকটি ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ৯ম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য আলাদা হারে বেতন সমন্বয় করা হবে।
গেজেট অনুযায়ী, নতুন বেতনস্কেলে নির্ধারিত বেতন এবং ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে প্রাপ্ত বা প্রাপ্য বর্তমান বেতনের পার্থক্যের ৪০ শতাংশ ৯ম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব কর্মচারীদের এবং ৫০ শতাংশ ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত দেওয়া হবে।
দ্বিতীয় ধাপে ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত এই হার যথাক্রমে ৭০ শতাংশ ও ৭৫ শতাংশে উন্নীত হবে। এরপর ১ জুলাই ২০২৭ থেকে বার্ষিক বেতনবৃদ্ধি বা ইনক্রিমেন্টসহ নতুন বেতনস্কেল অনুযায়ী মূল বেতন শতভাগ কার্যকর হবে।
নতুন বেতনস্কেল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হলেও এর গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে ১৯ সেপ্টেম্বর। ফলে ১ জুলাই থেকে গেজেট প্রকাশের আগ পর্যন্ত সময়ের বেতন বকেয়া হিসেবে দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
তবে ওই সময়ের বকেয়া অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে কর্মচারীরা আগে পাওয়া বিশেষ সুবিধার অর্থ নতুন বেতনস্কেলের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।
নতুন বেতনস্কেলের আওতায় পেনশনভোগীদের জন্যও ধাপে ধাপে বর্ধিত সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
২০ হাজার ১ টাকা বা তার বেশি বিদ্যমান নিট পেনশনের ক্ষেত্রে নতুন বেতনস্কেল অনুযায়ী নিট পেনশন বৃদ্ধির ৪০ শতাংশ ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত দেওয়া হবে। আর ১ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিদ্যমান নিট পেনশনের ক্ষেত্রে বৃদ্ধির ৫০ শতাংশ দেওয়া হবে।
পরবর্তী ধাপে, অর্থাৎ ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত এই হার যথাক্রমে ৭০ শতাংশ ও ৭৫ শতাংশ হবে। এরপর ১ জুলাই ২০২৭ থেকে জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬ অনুযায়ী পূর্ণ হারে নিট পেনশন কার্যকর হবে।
অবসরপ্রাপ্ত এবং আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীরাও ১ জুলাই ২০২৬ থেকে গেজেট প্রকাশের তারিখ পর্যন্ত সময়ের নিট পেনশনের বকেয়া অর্থ পাওয়ার বিধান রয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
নতুন পে স্কেলে অবসরভোগী ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীদের নিট পেনশন বাড়ানোর হারও নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে পেনশন ও গ্রাচুইটির বিদ্যমান হার অপরিবর্তিত থাকবে। ৩০ জুন ২০২৬-এর নিট পেনশনের ওপর ভিত্তি করে ১ জুলাই থেকে নতুন নিট পেনশন নির্ধারণ করা হবে। ৯ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের জন্য বৃদ্ধির হার ১০০ শতাংশ। ৯ হাজার ১ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৭৫ শতাংশ, ২০ হাজার ১ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৬৫ শতাংশ, ৩০ হাজার ১ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৬০ শতাংশ এবং ৪০ হাজার ১ টাকা বা তার বেশি নিট পেনশনের ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার ৫৫ শতাংশ। নতুন ব্যবস্থায় সর্বনিম্ন নিট পেনশন ১০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ৭০ হাজার ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে কোনো অবসরভোগী ইতিমধ্যে ৭০ হাজার ২০০ টাকার বেশি নিট পেনশন পেয়ে থাকলে ২০২৭ সালের ১ জুলাইয়ের পরবর্তী বার্ষিক বেতনবৃদ্ধির আগ পর্যন্ত তিনি আগের অঙ্কেই পেনশন পাবেন। অবসর-উত্তর ছুটির ক্ষেত্রে ১২ মাস পূর্ণ গড় বেতনে ছুটি এবং ১৮ মাস ছুটি নগদায়নের সুবিধা বহাল রাখা হয়েছে।
প্রয়োজনে জীবন দেওয়ার বিনিময়েও দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লং মার্চের অংশ হিসেবে বগুড়ার মাটিডালি বিমান মোড়ে আয়োজিত পথসভায় তিনি এ কথা বলেন। শফিকুর রহমান বলেন, তাদের কর্মসূচি জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি বা চাপকে তারা গুরুত্ব দিচ্ছেন না। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকার কথাও জানান তিনি। এর আগে শনিবার সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লং মার্চ শুরু হয়। কর্মসূচিতে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়েছে। বগুড়ার পথসভায় শফিকুর রহমান সরকারের বিভিন্ন নীতি ও কার্যক্রমের সমালোচনা করেন। তার দাবি, লং মার্চের দাবিগুলোর মধ্যে সাধারণ মানুষের গ্যাস, বিদ্যুৎ, কৃষকের সার এবং কর্মসংস্থানের বিষয়গুলোও রয়েছে। তিনি বলেন, তাদের ঘোষিত আট দফা দাবি মেনে নেওয়া হলে নতুন করে কোনো কর্মসূচির প্রয়োজন হবে না। তবে দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন আরও বিস্তৃত করার কথা জানান তিনি। এর আগে ঢাকার উদ্বোধনী সমাবেশেও তিনি বলেছিলেন, পরিস্থিতি অনুযায়ী আট দফা যেকোনো সময় এক দফায় পরিণত হতে পারে। কর্মসূচির পরবর্তী ধাপ নিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ভবিষ্যতে পঞ্চগড় থেকে ঢাকার দিকে লং মার্চ আয়োজনের প্রস্তুতি নিতে হবে। এ সময় তিনি দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন। সাম্প্রতিক একটি শিশুর মৃত্যুর ঘটনা উল্লেখ করে তিনি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। লং মার্চের কর্মসূচি নিয়ে ১১ দলীয় ঐক্য জানিয়েছে, তাদের ঘোষিত দাবিগুলো আদায়ের লক্ষ্যেই ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। শনিবার সকালে রাজধানী থেকে লং মার্চটি রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।
জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের বিভিন্ন ভাতা ও আর্থিক সুবিধার নতুন কাঠামো নির্ধারণ করেছে সরকার। এতে কর্মচারীদের বাড়িভাড়া ভাতা সর্বোচ্চ মূল বেতনের ৬০ শতাংশ এবং চিকিৎসা ভাতা সর্বোচ্চ মাসে ৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন গেজেট অনুযায়ী, বাড়িভাড়া ভাতার সংশোধিত হার ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। তবে ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিদ্যমান নিয়ম ও হারেই এ ভাতা দেওয়া হবে। চিকিৎসা ভাতা সর্বোচ্চ ৬ হাজার টাকা নতুন কাঠামোয় বয়সভেদে চিকিৎসা ভাতার হার নির্ধারণ করা হয়েছে। ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত সরকারি কর্মচারীরা মাসে ৩ হাজার টাকা এবং ৫০ বছর এক দিন বয়স থেকে অবসরোত্তর ছুটি (পিআরএল) শেষ হওয়া পর্যন্ত ৪ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা পাবেন। অবসরভোগী ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে বয়স অনুযায়ী এ ভাতা বাড়বে। ৫০ বছর পর্যন্ত মাসে ৩ হাজার, ৫০ বছর এক দিন থেকে ৬০ বছর পর্যন্ত ৪ হাজার, ৬০ বছর এক দিন থেকে ৭০ বছর পর্যন্ত ৫ হাজার এবং ৭০ বছরের বেশি বয়সে ৬ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা দেওয়া হবে। গ্রেড অনুযায়ী বাড়িভাড়া ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে গ্রেড-২০ থেকে গ্রেড-১৬ পর্যন্ত কর্মচারীরা ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় মূল বেতনের ৬০ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া পাবেন। অন্যান্য নির্ধারিত সিটি করপোরেশন, সাভার ও কক্সবাজার পৌর এলাকায় এ হার হবে ৫০ শতাংশ। দেশের অন্যান্য এলাকায় বাড়িভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে মূল বেতনের ৪৫ শতাংশ। গ্রেড-১৫ থেকে গ্রেড-১০ পর্যন্ত কর্মচারীদের জন্য ঢাকা শহরে বাড়িভাড়া হবে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ। অন্যান্য নির্ধারিত শহরে ৪০ শতাংশ এবং অন্যান্য এলাকায় ৩৫ শতাংশ হারে ভাতা দেওয়া হবে। গ্রেড-৯ থেকে গ্রেড-৫ পর্যন্ত কর্মচারীদের ক্ষেত্রে ঢাকা শহর, অন্যান্য নির্ধারিত শহর ও অন্যান্য এলাকার হার যথাক্রমে ৪৫, ৩৫ ও ৩০ শতাংশ। গ্রেড-৪ থেকে গ্রেড-১ এবং তদূর্ধ্ব পর্যায়ের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে এই হার যথাক্রমে ৪০, ৩০ ও ২৫ শতাংশ। তবে সরকারি বাসভবনে বসবাসকারী কর্মচারীরা বাড়িভাড়া ভাতা পাবেন না। স্বামী-স্ত্রী দুজনই সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বিমা কিংবা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত হলে এবং একই সরকারি বাসভবনে বসবাস করলে, যার নামে বাসাটি বরাদ্দ থাকবে তার বেতন থেকে নির্ধারিত হারে বাড়িভাড়া কেটে নেওয়া হবে। তিনি বাড়িভাড়া ভাতা পাবেন না। অন্যজন প্রচলিত নিয়মে এ ভাতা পাওয়ার যোগ্য হবেন। বাংলা নববর্ষ ভাতা ১৫ শতাংশ সরকারি কর্মচারীরা আহরিত মূল বেতনের ১৫ শতাংশ হারে বাংলা নববর্ষ ভাতা পাবেন। মাসিক নিট পেনশন গ্রহণকারী অবসরভোগী ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রেও নিট পেনশনের ১৫ শতাংশ হারে এ ভাতা দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। উৎসব ও বিনোদন ভাতা বহাল বার্ষিক উৎসব ভাতা এবং শ্রান্তি ও বিনোদন ভাতা আগের নিয়মেই বহাল রাখা হয়েছে। তবে একবার ভাতা উত্তোলনের পর বেতন পুনর্নির্ধারণের কারণে অতিরিক্ত বা বকেয়া ভাতা দাবি করা যাবে না। অবসরভোগী ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীদের বছরে দুটি উৎসব ভাতাও বহাল থাকবে। প্রতিটি ভাতার পরিমাণ হবে তাদের নিট পেনশনের সমান। ১০০ শতাংশ পেনশন সমর্পণকারীরা পেনশন সমর্পণ না করলে যে পরিমাণ নিট পেনশন পেতেন, সেই পরিমাণ অর্থ বছরে দুইবার উৎসব ভাতা হিসেবে পাবেন। সন্তানপ্রতি শিক্ষা ভাতা ৫০০ টাকা সরকারি কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য মাসে ৫০০ টাকা করে শিক্ষা সহায়ক ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে। সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য একজন কর্মচারী মাসে মোট ১ হাজার টাকা পাবেন। স্বামী ও স্ত্রী দুজনই সরকারি চাকরিতে থাকলে সন্তান সংখ্যার হিসাব একজনের ক্ষেত্রেই বিবেচনা করা হবে। বয়সের সনদ জমা দেওয়ার শর্তে সন্তানের বয়স ২৩ বছর পর্যন্ত এ ভাতা পাওয়া যাবে। টিফিন ভাতা ৫০০ টাকা জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ অনুযায়ী ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা মাসে ৫০০ টাকা টিফিন ভাতা পাবেন। তবে নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে লাঞ্চ ভাতা বা বিনামূল্যে দুপুরের খাবার পেলে এই ভাতা প্রযোজ্য হবে না। এ ছাড়া চলতি বা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের জন্য মাসে ১ হাজার ৫০০ টাকা কার্যভার ভাতা দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। ভ্রমণ ভাতার ক্ষেত্রে আপাতত প্রচলিত নিয়ম বহাল থাকবে। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে ভ্রমণ ভাতার হার পুনর্নির্ধারণ করে আলাদা আদেশ জারি করতে পারবে অর্থ বিভাগ। গেজেট অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নতুন নিয়োগ পাওয়া কর্মচারীদের ভাতার ক্ষেত্রেও বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে। এ সময়ে নিয়োগপ্রাপ্তরা ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে নিয়োগ পেলে যে হারে বা পরিমাণে সংশ্লিষ্ট ভাতা পাওয়ার কথা ছিল, ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সেই হারেই ভাতা পাবেন।