ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোটাধিকার প্রয়োগের লক্ষ্যে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ৪ লাখ ৮৫ হাজার ১৮৪ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাশাপাশি নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত ও নিজ ভোটার এলাকার বাইরে অবস্থানরত সরকারি চাকরিজীবীরাও ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করছেন।
আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত পোস্টাল ভোটিং আপডেট থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত মোট ৪ লাখ ৮৫ হাজার ১৮৪ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন। তাদের মধ্যে ৪ লাখ ৫৫ হাজার ৫৪৫ জন পুরুষ ভোটার ও ২৯ হাজার ৬৩৭ জন নারী ভোটার রয়েছেন।
প্রবাসীদের মধ্যে সৌদি আরব থেকে সর্বোচ্চ ১ লাখ ২২ হাজার ৪০১ জন। এছাড়া কাতারে ৪৪ হাজার ৫৪৩ জন, ওমানে ৩২ হাজার ৭৪১ জন, মালয়েশিয়ায় ৩১ হাজার ৪৯৭ জন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২৪ হাজার ২৮৬ জন, যুক্তরাষ্ট্রে ২৩ হাজার ৩২ জন, যুক্তরাজ্যে ১৭ হাজার ৭৮ জন, সিঙ্গাপুরে ১৬ হাজার ৮৫৭ জন, কুয়েতে ১৬ হাজার ১০৯ জন, ইতালিতে ১২ হাজার ৯১৫ জন ও কানাডায় ১০ হাজার ৮২১ জন নিবন্ধন করেছেন।
অপরদিকে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’অ্যাপের মাধ্যমে আজ বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত দেশে অবস্থানরত ৫২ হাজার ৯৯৪ জন বাংলাদেশি ভোটার ইন কান্ট্রি পোস্টাল ভোট, এই ক্যাটাগরিতে নিবন্ধন করেছেন।
জেলা অনুযায়ী নিবন্ধন: পোস্টাল ভোট বিডি’অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধনকারীদের মধ্যে সর্বোচ্চ কুমিল্লা জেলায় ৫০ হাজার ৯৩৬ জন। এছাড়া ঢাকা জেলায় ৪৩ হাজার ৮৮১জন, চট্টগ্রামে ৪২ হাজার ৬৬ জন, নোয়াখালীতে ২৯ হাজার ৫২৩ জন ও সিলেটে ২১ হাজার ৫৭৩ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন।
নির্বাচনী আসন অনুযায়ী নিবন্ধন: অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধনকারীদের মধ্যে সর্বোচ্চ ফেনী-৩ আসনে ৭ হাজার ৯১৭ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন। এছাড়া চট্টগ্রাম-১৫ আসনে ৭ হাজার ৩৩৩ জন, নোয়াখালী-১ আসনে ৭ হাজার ১৩১ জন, কুমিল্লা-১০ আসনে ৬ হাজার ৮৩০ জন ও নোয়াখালী-৩ আসনে ৬ হাজার ৫৭৬ জন ভোটার পোস্টাল ভোট দিতে নিবন্ধন করেছেন।
প্রবাসী ভোটার নিবন্ধনের বিষয়ে আউট অব কান্ট্রি ভোটিং সিস্টেম অ্যান্ড ইমপ্লিমেন্টেশন (ওসিভি-এসডিআই) প্রকল্পের ‘টিম লিডার’ সালীম আহমাদ খান বাসসকে বলেন, ‘প্রবাসী বাংলাদেশি ভোটারদের নিবন্ধন এখন যেভাবে চলছে, আমরা আশাবাদী পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপে নিবন্ধনের সংখ্যা কমপক্ষে ৫ লাখ হবে। এছাড়া দেশের মধ্যে ইন কান্ট্রি পোস্টাল ভোট (আইসিপিভি) অন্তত ১০ লাখ হওয়া উচিত।’
তিনি বলেন, সাইবার চ্যালেঞ্জসহ সব ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই আমরা সামনে অগ্রসর হচ্ছি।
তিনি আরো বলেন, যতদ্রুত সম্ভব প্রবাসীদের কাছে ব্যালট পৌছানোর কার্যক্রম শুরু করব।
তিনি আরো জানান, ইন কান্ট্রি পোস্টাল ভোটিংয়ে খরচ পড়বে মাত্র ২২ টাকা। যেখানে প্রবাসীদের জন্য এই খরচ হবে গড়ে ৭০০ টাকা।
নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিতদের নিবন্ধন ১৮ থেকে ২৫ ডিসেম্বর: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ ১৮ থেকে ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে 'পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে নিবন্ধন করতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) এক বার্তায় বলা হয়েছে, 'ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ ১৮ থেকে ২৫ ডিসেম্বরে মধ্যে পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে মাধ্যমে নিবন্ধন করুন।'
আইনি হেফাজতে থাকা ভোটারদের নিবন্ধন ২১ থেকে ২৪ ডিসেম্বর: পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে আইনি হেফাজতে থাকা ভোটারদের ২১ থেকে ২৪ ডিসেম্বর করতে বলেছে নির্বাচন কমিশন।
এ বিষয়ে ইসি বার্তায় বলা হয়েছে, ''ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনি হেফাজতে থাকা ভোটারগণ ২১ থেকে ২৪ ডিসেম্বরের মধ্যে পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করুন।'
ইসির অপর এক বার্তায় বলা হয়েছে, 'পোস্টাল ব্যালট পেতে হলে পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপে নিবন্ধনের সময় আপনার অবস্থানকালীন দেশের প্রচলিত নিয়মানুযায়ী সঠিক ঠিকানা প্রদান করুন। প্রয়োজনে কর্মস্থল অথবা পরিচিতজনের ঠিকানা প্রদান করুন। সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা প্রদান ব্যতিরেকে পোস্টাল ব্যালট পেপার ভোটারগণের নিকট প্রেরণ করা সম্ভব হবে না।
সরকারি চাকরিজীবীদের নিবন্ধন ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত: নিজ ভোটার এলাকার বাইরে অবস্থানরত সরকারি চাকরিজীবীরা তফসিল ঘোষণার পর থেকে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করতে পারবেন।
এ বিষয়ে ইসি’র এক বার্তায় বলা হয়, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষ্যে নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ, নিজ নির্বাচনী এলাকার বাইরে কর্মরত সরকারি চাকরিজীবী ও আইনি হেফাজতে থাকা ভোটারগণকে ইন কান্ট্রি পোস্টাল ভোট (আইসিপিভি)-এর মাধ্যমে আগামী ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপ এ সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন।
গত ১৮ নভেম্বর প্রধান নির্বাচন কমিশনার ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপ উদ্বোধন করেন এবং ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের জন্য ১৪৮টি নির্দিষ্ট দেশে ভোটার নিবন্ধনের সময়সূচি ঘোষণা করেন।
পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে প্রবাসী ভোটারকে অবশ্যই যেখান থেকে ভোট দেবেন, সে দেশের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করতে হবে।
নিবন্ধনের জন্য প্রথমে গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপ স্টোর থেকে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপটি ডাউনলোড ও ইনস্টল করতে হবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর চাঁদপুর সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার এই সফরকে ঘিরে ইলিশের বাড়ি খ্যাত চাঁদপুরজুড়ে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। শনিবার (১৬ মে) সকাল সাড়ে ৮টায় ঢাকা থেকে সড়কপথে চাঁদপুরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করার কথা রয়েছে তারেক রহমানের। পথে বেলা সাড়ে ১১টায় কুমিল্লার বরুড়া এলাকায় একটি পথসভায় তিনি বক্তব্য দেবেন। এরপর দুপুরে চাঁদপুরের শাহরাস্তি ও সদর উপজেলায় পৃথক খাল পুনঃখনন প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তিনি। তারেক রহমান সর্বশেষ ২০০৪ সালে রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে চাঁদপুর গিয়েছিলেন। জানা গেছে, এই সফরে তিনি জেলার সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নে দুটি গুরুত্বপূর্ণ খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করবেন। পাশাপাশি নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন এবং দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাংগঠনিক মতবিনিময় সভায় যোগ দেবেন। দীর্ঘদিন পর জেলায় তার আগমনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা কয়েক দিন ধরেই ব্যাপক প্রস্তুতি ও শোডাউনের আয়োজন করে আসছে। শহর থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত চলছে সাজসজ্জা ও প্রচারণা। সফরসূচি অনুযায়ী, এদিন বিকেলে চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে তার। এ সময় তিনি ভার্চ্যুয়ালি আরও কয়েকটি জেলার কর্মসূচিও উদ্বোধন করবেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। সফরের শেষ পর্যায়ে চাঁদপুর ক্লাবে জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে একটি সাংগঠনিক সভায় দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখবেন তিনি। দীর্ঘদিন পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এ সফরকে ঘিরে চাঁদপুরজুড়ে এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে।
সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীর সংখ্যা বাড়াতে নগদ প্রণোদনা, টিমে অন্তর্ভুক্তি, হজ পালনের সুযোগ ও পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গত ১১ মে এ বিষয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালকের কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, নিজস্ব ইউজার আইডিতে হজযাত্রী সংগ্রহের ভিত্তিতে নির্বাচিত হজ গাইডদের সৌদি আরব যাওয়ার সময় আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হবে। ৪০ জন বা তার বেশি হজযাত্রী সংগ্রহ করলে এক লাখ ৩০ হাজার টাকা, ৩০ থেকে ৩৯ জন সংগ্রহ করলে এক লাখ ২০ হাজার টাকা, ২০ থেকে ২৯ জন হলে এক লাখ ১০ হাজার টাকা এবং ২০ জনের কম হলে এক লাখ টাকা প্রণোদনা পাবেন। এ ছাড়া ধর্ম মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তর-সংস্থার কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী নিজস্ব আইডিতে ১০০ জনের বেশি হজযাত্রী নিবন্ধন করাতে পারলে হজ টিমে অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন। সরকারি মাধ্যমে সর্বোচ্চ হজযাত্রী নিবন্ধিত ১৫টি জেলা থেকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাঠ পর্যায়ের একজন করে কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে বিভিন্ন টিমের সদস্য হিসেবে সৌদি আরবে পাঠানো হবে। তবে কোনো জেলায় ১০০ জনের কম হজযাত্রী থাকলে এ সুবিধা প্রযোজ্য হবে না। কোনো বিভাগ এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হলে ওই বিভাগের সর্বোচ্চ নিবন্ধিত জেলার একজনকে টিম সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তবে সংশ্লিষ্ট জেলায় কমপক্ষে ৫০ জন হজযাত্রী থাকতে হবে। চিঠিতে আরো বলা হয়, সরকারি বা বেসরকারি পর্যায়ে যারা নিজস্ব ইউজার আইডিতে কমপক্ষে ৩০ জন হজযাত্রী নিবন্ধন করেছেন কিন্তু হজ গাইড বা টিম সদস্য হিসেবে মনোনয়ন পাননি, তারা বিমানভাড়া পরিশোধ সাপেক্ষে হজ পালনের সুযোগ পাবেন। এছাড়া ২০২৭ সাল থেকে হজ গাইডদের পারফরম্যান্স মূল্যায়নের ভিত্তিতে অন্তত ১০ জনকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা নগদ পুরস্কার ও সম্মাননা স্মারক দেওয়া হবে। একইভাবে যারা ৩০ জন বা তার বেশি হজযাত্রী সংগ্রহ করেও হজ গাইড, টিম সদস্য বা হজ পালনের সুযোগ নিতে চান না, তাদেরও সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার ও সম্মাননা দেওয়ারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।
পবিত্র ঈদুল আজহা এগিয়ে আসায় দেশজুড়ে খামারি ও পশু ব্যবসায়ীরা নতুন আশা নিয়ে কোরবানির হাটে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক চাপ সত্ত্বেও সুস্থ-সবল পশুর চাহিদা বৃদ্ধি এবং ক্রেতাদের ক্রমবর্ধমান আগ্রহের কারণে তারা এবার ভালো মুনাফার আশা করছেন। ঢাকার উপকণ্ঠের বিশাল অ্যাগ্রো ফার্ম থেকে শুরু করে নোয়াখালীসহ বিভিন্ন জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের গোয়ালঘর পর্যন্ত কয়েক মাস ধরেই কোরবানির পশু কেনাবেচার মৌসুমের প্রস্তুতি চলছে। খামারিরা বলছেন, পশুখাদ্য, ওষুধ, শ্রম, জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়লেও পবিত্র ঈদুল আজহার কথা মাথায় রেখে তারা সুস্থ ও মানসম্মত পশু লালন-পালনে কোনোপ্রকার আপস করেননি। ঢাকার হায়দার ডেইরি অ্যান্ড অ্যাগ্রোর মালিক শাদমান হায়দার আমানত এই মৌসুমে বিক্রির জন্য কমপক্ষে ৩০টি গরু প্রস্তুত করেছেন। তিনি বাসস’কে বলেন, ‘এ বছর খরচ অনেক বেড়েছে। তবে ক্রেতারা মানসম্মত পশু চান বলে আমরা সঠিক যতœ ও পুষ্টিকর খাবার দেওয়ার পেছনে বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছি। আশা করছি, খামারিরা এবার ন্যায্যমূল্য পাবেন।’ মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহাকে ঘিরে প্রতি বছর দেশজুড়ে বিপুল পরিমাণ গবাদিপশু বেচাকেনা হয়। এসময় লাখো পরিবার কোরবানির জন্য পশু কেনেন। ব্যবসায়ী ও খামার উদ্যোক্তারা বলছেন, এ বছর বিশেষ করে ঢাকাসহ দেশের শহরাঞ্চলগুলোতে ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা বেশি। মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্রয়ক্ষমতার বিষয়টি এতে বড় ভূমিকা রাখছে। খামারিদের মতে, ২শ’ থেকে ৫শ’ কেজি ওজনের গরুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ৫০ হাজার থেকে আড়াই লাখ টাকা বাজেটের ক্রেতারা বাজারে তাদের পছন্দমতো পশু কিনতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে। আমানত বলেন, ‘সুস্থ ও সচল পশু সৎ খামারির পরিচয় বহন করে। আর অস্বাভাবিক কম দামের পশুর বিষয়ে মানুষের সতর্ক থাকা উচিত। কারণ সেগুলো হয়তো ঠিকমতো পালন করা হয়নি।’ নোয়াখালীর আমানিয়া অ্যাগ্রোর মালিক সাইদুর রহমান সিফাতও ক্রমবর্ধমান উৎপাদন খরচ নিয়ে একই উদ্বেগের কথা জানান। তিনি বলেন, ‘পশুখাদ্য থেকে পরিবহন- সবকিছুর খরচ বেড়েছে। তারপরও আমরা আশাবাদী। কারণ মানসম্মত পশুর চাহিদা এখনও বেশি।’ তার খামারে এ বছর কোরবানির হাটে তোলার জন্য ৫০ থেকে ৬০টি গরু ও ছাগল প্রস্তুত রয়েছে। খামারিরা বলছেন, দেখতে ভালো ও সুস্থ মাঝারি আকারের গরুর দাম কোরবানির মৌসুমজুড়ে ভালোই থাকবে। কারণ ক্রেতারা এখন অতিরিক্ত বড় ও দামি পশুর চেয়ে সাশ্রয়ী, মানসম্পন্ন ও সঠিকভাবে লালন করা পশুর দিকেই বেশি ঝুঁকছেন। আর্থিক চাপ থাকলেও নৈতিক খামার ব্যবস্থাপনা ও পশুর সুস্বাস্থ্যের কল্যাণে নিজেদের অঙ্গীকারে অটল থাকার কথা জানিয়েছেন খামারিরা। সিফাত বলেন, ‘কোরবানির মূল চেতনা হলো আন্তরিকতা ও দায়িত্ববোধ। পরিবারগুলো যেন আস্থা ও স্বস্তির সঙ্গে কোরবানি দিতে পারে, সে জন্য খামারিরা সারা বছর পরিশ্রম করেন।’ খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজারের পরিবেশ এখন ‘তুলনামূলক ইতিবাচক’। ঈদের মূল ব্যস্ততা শুরু হওয়ার আগেই ক্রেতারা খামারে যাচ্ছেন ও খোঁজখবর নিচ্ছেন, এমনকি আগাম বুকিংও দিচ্ছেন। রাজধানীর আব্দুল মালেক অ্যাগ্রোর মালিক সম্রাট মির্জা জানান, তার খামারে এই মৌসুমে ৮০ থেকে ৮৫টি গরু প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে বিশেষ যতেœ লালন করা কয়েকটি বড় আকারের গরুও রয়েছে। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে বাজার পরিস্থিতি বেশ ইতিবাচক মনে হচ্ছে। বিভিন্ন ধরনের ক্রেতার আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।’ সম্রাট মির্জা আরও বলেন, ‘প্রতিটি খামারি সারাবছর এই মুহূর্তটির জন্য পরিশ্রম করেন। আমাদের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য, প্রতিটি পশু যেন কোরবানির জন্য কোনো না পরিবারের কাছে পৌঁছানো। ঈদ যতই ঘনিয়ে আসবে, চাহিদা আরও বাড়বে বলে বিশ্বাস করি।’ অন্যদিকে ছায়াবীথি অ্যাগ্রোর কর্মকর্তা শারমিন জানান, ঈদের এত আগেই ক্রেতাদের উৎসাহব্যঞ্জক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। বিক্রি ও খোঁজখবর নেওয়া দুটোই বাড়ছে। তিনি আরও বলেন, ‘মানুষ নিজ প্রচেষ্টায় কোরবানির উপযুক্ত পশু খুঁজছেন। এতে একদিকে আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ছে, সঙ্গে অনুপ্রেরণাও পাচ্ছি।’ তিনি বলেন, খামারের ছোট ও মাঝারি আকারের অনেক পশু ইতোমধ্যে আগাম বুক হয়ে গেছে। ঈদের আগের সপ্তাহে বাজার আরও সরগরম হবে বলে আশা রাখি। সেই বাড়তি চাহিদা মেটাতেও আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। এদিকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকার কোরবানির পশুর পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করেছে। এবার সম্ভাব্য চাহিদার তুলনায় ২২ লাখের বেশি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এ বছর কোরবানির পশুর আনুমানিক চাহিদা ১ কোটি ১০ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি। আর দেশজুড়ে সরবরাহযোগ্য পশুর সংখ্যা ধরা হয়েছে ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি। সেই হিসেবে প্রায় ২২ লাখ ২৭ হাজার ৫০৬টি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে । মোট পশুর মধ্যে গরু ও মহিষ ৫৬ লাখ ৯৫ হাজার ৮৭৮টি; ছাগল ও ভেড়া ৬৬ লাখ ৩২ হাজার ৩০৭টি এবং অন্যান্য প্রজাতির ৫ হাজার ৬৫৫টি পশু রয়েছে । মন্ত্রী আরও জানান, ঈদ মৌসুমে সারা দেশে ৩ হাজার ৬শ’র বেশি পশুর হাট বসবে। শুধু ঢাকাতেই ২৭টি পশুর হাটের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতায় ১৬টি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতায় ১১টি হাট থাকবে। পাশপাশি পশুর স্বাস্থ্য ও জননিরপত্তা নিশ্চিতে হাটগুলোতে ২০টি ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক সক্রিয় থাকবে। কোরবানির মৌসুম ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতাদের আগ্রহ এবং সারাবছর অক্লান্ত পরিশ্রম করা খামারিদের লাভের প্রত্যাশায় জমে উঠতে যাচ্ছে দেশের অন্যতম বড় ধর্মীয় ও অর্থনৈতিক এই আয়োজন।