জাতীয়

রাত পোহালেই চাঁদপুর সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

মোঃ ইমরান হোসেন মে ১৫, ২০২৬
জনসভায় ভাষণ দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফাইল ছবি
জনসভায় ভাষণ দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফাইল ছবি

রাত পোহালেই চাঁদপুর সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামীকাল শনিবারের (১৬ মে) এই সফরে প্রধানমন্ত্রী দুটি খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, পথসভা ও জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সভায় যোগ দেবেন।

 

শুক্রবার (১৫ মে) প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং গণমাধ্যমের কাছে তথ্যটি নিশ্চিত করেন।

সফরসূচি অনুযায়ী, শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় নিজ বাসভবন থেকে সড়কপথে চাঁদপুরের উদ্দেশে রওয়ানা হবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বেলা সাড়ে ১১টায় কুমিল্লার বরুড়ার লক্ষ্মীপুর বাজার মাঠে আয়োজিত পথ সভায় অংশ নেবেন তিনি।

এরপর দুপুর সাড়ে ১২টায় চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের ওয়ারুক বাজার এলাকায় খোর্দ্দ খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।

পরে দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে তিনি চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহ মাহমুদপুর ইউনিয়নের কুমারডুগী গ্রামের ঘোষের হাট সংলগ্ন বিশ্ব খাল পুনঃখনন অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন এবং তা উদ্বোধন করবেন।

দুপুর আড়াইটায় চাঁদপুর সার্কিট হাউসে সংক্ষিপ্ত বিরতি নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। বিকেল সাড়ে ৩টায় চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তিনি।

পরে বিকেল ৫টায় তিনি চাঁদপুর ক্লাবে আয়োজিত জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সভায় যোগ দেবেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা হওয়ার মধ্য দিয়ে এ সফর শেষ করবেন প্রধানমন্ত্রী।

সূত্র: বাসস

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন। ছবি : সংগৃহীত
হামের সংক্রমণ ও মৃত্যু রোধে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে সরকার

হামের সংক্রামণ ও মৃত্যু ঠেকাতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা, রোগীদের সেবা নিশ্চিত করাসহ দালালের দৌরাত্ম্য ঠেকাতে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।’ শুক্রবার (১৫ মে) বিকেলে রাজধানীর মহাখালী ডিএনসিসি কোভিড হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন। সরদার মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘এখন হামের চেয়ে বেশি দেখা দিয়েছে নিউমোনিয়া। সংক্রামণ এবং মৃত্যু ঠেকাতে সরকার দ্রুত হামের টিকা দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে টিকার সুফল পেতে সময় লাগছে।’ তিনি বলেন, ‘রুটিন ওয়ার্ক হিসেবে প্রতি সপ্তাহে বিভিন্ন হাসপাতাল পরিদর্শন করছি। হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা, রোগীদের সেবা নিশ্চিত করা এবং দালালের দৌরাত্ম্য ঠেকাতে নিয়মিত তদারকি করছি।’ স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘পরিস্থিতি অবনতি হলে বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো হবে। হাসপাতালের প্রয়োজনে যে কোনো যন্ত্রাংশ সরবরাহ করা হবে। যেসব হাসপাতালে ভেন্টিলেশন সংকট ছিল, সেই জায়গাগুলোতে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি।’  

মোঃ ইমরান হোসেন মে ১৫, ২০২৬
জনসভায় ভাষণ দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফাইল ছবি

রাত পোহালেই চাঁদপুর সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

নারীর ক্ষমতায়নের উজ্জ্বল প্ল্যাটফর্ম জয়িতা

ছবি: সংগৃহীত

চাহিদা বাড়ায় কোরবানির বাজারে ভালো লাভের আশা পশু ব্যবসায়ীদের

ছবি: সংগৃহীত
বিশেষায়িত ইউনিটে জনবল বৃদ্ধি চায় পুলিশ

শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা, সাইবার অপরাধ দমন, মহাসড়ক নিরাপত্তা, পর্যটন খাতের সুরক্ষা এবং ভিআইপি নিরাপত্তাসহ ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিটগুলোতে জনবল বাড়ানোর দাবি উঠেছে। পুলিশ সদর দপ্তরের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শিল্প পুলিশ, নৌ পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ এবং আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)-এর মতো বিশেষায়িত ইউনিটগুলো বর্তমানে সীমিত জনবল নিয়ে কাজ করছে। অথচ এসব ইউনিটের দায়িত্ব ও কাজের পরিধি ক্রমেই বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, কার্যকর পুলিশিং ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত জনবল, প্রশিক্ষণ এবং লজিস্টিক সহায়তা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষজ্ঞরা শিল্প পুলিশকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তারা বলছেন, দেশের ক্রমবর্ধমান শিল্প খাত, রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্প এবং উদীয়মান অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিল্প পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। বর্তমানে শিল্প পুলিশের কার্যক্রম কয়েকটি অঞ্চলে সীমিত আকারে পরিচালিত হচ্ছে। কর্মকর্তারা জানান, শিল্পপ্রধান সব এলাকায় পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত ইউনিট ও জনবল প্রয়োজন। একইভাবে, নৌপথে অপরাধ দমন, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং নদীবন্দরগুলোর নিরাপত্তা জোরদারে নৌ পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানোর দাবিও জোরালো হচ্ছে। পর্যটন খাত দ্রুত সম্প্রসারিত হওয়ায় ট্যুরিস্ট পুলিশে প্রশিক্ষিত জনবল বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাদের মতে, দক্ষ জনবল ও প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক পুলিশিংয়ের মাধ্যমে বিশেষায়িত ইউনিটগুলোকে আরও শক্তিশালী করা গেলে জনসেবা উন্নত হবে এবং দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা কাঠামো আরও দৃঢ় হবে। এদিকে, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) দক্ষতা বাড়ানো ও সারা দেশে কার্যক্রম সম্প্রসারণের জন্য অতিরিক্ত ৫ হাজার জনবল এবং স্থায়ী অফিস ভবন চেয়েছে। পিবিআই প্রধান ও পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মো. মোস্তফা কামাল বাসস’কে জানান, বর্তমানে ইউনিটটির জনবল ২ হাজার ৩১ জন। তারা দেশের ৪২টি জেলায় ভাড়া করা অফিসে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তিনি বলেন, জনবল ও অবকাঠামোগত সুবিধা বাড়ানোর জন্য দু’টি প্রস্তাব ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত পিবিআই প্রশিক্ষিত কর্মকর্তা ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে জটিল অপরাধ, সাইবার অপরাধ, সন্ত্রাসবাদ এবং সংঘবদ্ধ অপরাধের তদন্ত করে থাকে। সম্প্রতি পুলিশের এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদও ট্যুরিস্ট পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।  তিনি বলেন, পর্যটন খাতের উন্নয়ন, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দেশের ভাবমূর্তি ইতিবাচকভাবে তুলে ধরতে এ ইউনিটকে আরও শক্তিশালী করা অত্যন্ত জরুরি। কর্মকর্তারা মনে করছেন, বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিটগুলোকে শক্তিশালী করতে সরকারের উদ্যোগ পুলিশ বাহিনীকে আরও আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ১৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় চিড়িয়াখানায় আকস্মিক পরিদর্শনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

ছবি : সংগৃহীত

আরো একটি সরকারি মেডিক্যাল কলেজের অনুমোদন

ছবি: সংগৃহীত

জবি আইনজীবী সমিতির ২০২৬-২৭ সেশনের নেতৃত্বে তরিকুল-সাজ্জাদ

ছবি: সংগৃহীত
সংকটে খুলনার চামড়া ব্যবসা, স্থায়ী মার্কেটের দাবি ব্যবসায়ীদের

সংরক্ষণের উপযুক্ত ব্যবস্থা না থাকা, বকেয়া অর্থ আদায়ে জটিলতা এবং দীর্ঘদিনের লোকসানের কারণে খুলনার চামড়া ব্যবসা এখন চরম সংকটে। একসময় জমজমাট থাকা শেখপাড়া চামড়াপট্টির ঐতিহ্য প্রায় হারিয়ে গেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত কয়েক বছরে নতুন কোনো চামড়ার মার্কেট গড়ে ওঠেনি, ফলে কোরবানির মৌসুম এলেই চামড়া সংরক্ষণ ও বিক্রি নিয়ে বিপাকে পড়তে হয়।   ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, খুলনা সিটি করপোরেশনের কাছে বহুবার পৃথক চামড়ার মার্কেট নির্মাণের দাবি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। আধুনিক কসাইখানার আশপাশে চামড়ার জন্য আলাদা বাজার তৈরির আশ্বাস মিললেও বাস্তবে তার কোনো অগ্রগতি নেই।   স্থানীয় ব্যবসায়ী বাবর আলী জানান, একসময় শেখপাড়ায় অন্তত ৩০ থেকে ৩৫ জন ব্যবসায়ী নিয়মিত চামড়ার ব্যবসা করতেন। তবে সংরক্ষণের সমস্যা, লোকসান এবং ট্যানারি মালিকদের কাছে বকেয়া অর্থ আটকে থাকায় অধিকাংশ ব্যবসায়ী ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন। বর্তমানে হাতে গোনা কয়েকজন কেবল মৌসুমি ব্যবসা করছেন।   তিনি বলেন, “একটি স্থায়ী মার্কেট ও ন্যায্যমূল্যে চামড়া কেনাবেচার ব্যবস্থা হলে ব্যবসায়ী ও বিক্রেতা—উভয় পক্ষই উপকৃত হবে।”   খুলনা কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক কার্তিক ঘোষ বলেন, সংরক্ষণের জায়গা না থাকায় ব্যবসায়ীরা প্রতিবছর ক্ষতির মুখে পড়ছেন। একসময় মহাজন ও ফড়িয়াদের নিয়ে যে বড় পরিসরের ব্যবসা ছিল, এখন তা অনেকটাই সংকুচিত হয়ে গেছে।   সমিতির সভাপতি আবদুস সালাম ঢালী বলেন, “চামড়া ব্যবসা এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। অনেক ব্যবসায়ী ঋণের বোঝা ও আর্থিক চাপে ব্যবসা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে গেছেন। কেউ কেউ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।”   তিনি আরও জানান, ট্যানারি মালিকদের কাছে বিপুল পরিমাণ অর্থ বকেয়া থাকায় ব্যবসায়ীরা নতুন করে পুঁজি বিনিয়োগ করতে পারছেন না। পাশাপাশি আধুনিক জবাইখানা ও নিরাপদ কেনাবেচার পরিবেশ না থাকাও বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।   এ বিষয়ে খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি জানানো হলে সিটি করপোরেশন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।

আক্তারুজ্জামান মে ১৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

বরিশালে সাংবাদিকদের সঙ্গে বিএমপি কমিশনারের মতবিনিময়

ছবি : সংগৃহীত

প্রতিবন্ধীবান্ধব বাংলাদেশ গড়তে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

ছবি : সংগৃহীত

জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিবের সঙ্গে বৈঠকে শামা ওবায়েদ

0 Comments