যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে থাকা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর গোপন সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরের তথ্য ফাঁস হওয়ায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে আমিরাত। বিষয়টি নিয়ে ইসরায়েলের কাছে কঠোর ভাষায় প্রতিবাদ জানিয়েছে দেশটি।
শুক্রবার (১৫ মে) ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম আই২৪ নিউজ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, নেতানিয়াহুর দপ্তর থেকেই সফরের তথ্য প্রকাশ পাওয়ায় তা ভালোভাবে নেয়নি আমিরাত সরকার।
আই২৪ নিউজকে দেওয়া এক সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, আমিরাতের কর্মকর্তারা এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, গোপন কূটনৈতিক তথ্য ফাঁসের যে প্রবণতা নেতানিয়াহুর দপ্তরে রয়েছে, এটি তারই ধারাবাহিকতা।
সূত্রটি আরও জানায়, গোপন কূটনৈতিক বিষয় প্রকাশ হওয়ার আশঙ্কায় আমিরাত কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নেতানিয়াহুকে সফরের আমন্ত্রণ জানায়নি। যদিও দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার পর থেকে নীরবে যোগাযোগ ও সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।
২০২০ সালে আব্রাহাম চুক্তির মাধ্যমে ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে সংযুক্ত আরব আমিরাত। তবে এরপরও নেতানিয়াহুকে প্রকাশ্যে রাষ্ট্রীয় সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
এর আগে কয়েকটি ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানায়, গত ২৬ মার্চ নেতানিয়াহু আমিরাতের আল-আইন শহর সফর করেন। ওই সময় ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সফরকালে আমিরাত ও ইসরায়েলের মধ্যে নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সহযোগিতা আরও জোরদার করা হয়। এর অংশ হিসেবে ইসরায়েলি গোয়েন্দা কর্মকর্তারাও আমিরাত সফর করেছেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
দক্ষিণ লেবাননে চলমান সংঘাত কমাতে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৪৫ দিন বাড়াতে সম্মত হয়েছে ইসরায়েল ও লেবানন। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনে চলা দুই দিনের আলোচনা শেষে এ সিদ্ধান্তে সম্মত হয়েছে দুই পক্ষ। শুক্রবার রাতে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যকার এর আগের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ রবিবার শেষ হওয়ার কথা ছিল। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র টমি পিগট জানান, গত ১৬ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। দুই দেশের দীর্ঘদিনের সংঘাত নিরসনে আলোচনা খুবই ফলপ্রসূ হয়েছে। এছাড়া আগামী সপ্তাহগুলোতে ইসরায়েল ও লেবাননকে নিয়ে আরও বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান তিনি। এদিকে, আলোচনার পর ইসরায়েল ও লেবানন উভয় পক্ষই ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। এই আলোচনাকে গঠনমূলক বলেছেন ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লিটার। আলোচনায় চ্যালেঞ্জ থাকলেও সফলতার সম্ভাবনা অনেক বেশি বলে মন্তব্য করেন তিনি। আর লেবানন বলছে, তারা এই যুদ্ধবিরতিকে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে রূপান্তর করতে চায়। গত মার্চে ইরানকে সমর্থন জানিয়ে ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় লেবাননের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। এরপর লেবাননে বড় ধরনের বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েল। এরপর দক্ষিণ লেবাননে স্থল অভিযানও চালায় দখলদার সেনারা। এই সংঘাতে লেবানের প্রায় ১২ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। পরে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটনে দুই দেশের রাষ্ট্রদূতদের প্রাথমিক বৈঠকের পর সেই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। যদিও যুদ্ধবিরতি রয়েছে তবুও দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে মাঝে মধ্যেই হামলা পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটছে। বর্তমানে লেবাননের কিছু অঞ্চল দখল করে আছে ইসরায়েল। ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে এই আলোচনার মাধ্যমে দীর্ঘ দশকের সংঘাত মেটানোর চেষ্টা চলছে। আগামী ২৯ মে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দফতর পেন্টাগনে একটি নতুন নিরাপত্তা বিষয়ক আলোচনা শুরু হবে। এছাড়া ২ থেকে ৩ জুন রাজনৈতিক পর্যায়ে আলোচনার জন্য আবারও বৈঠকে বসবে উভয় পক্ষ। ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরোধিতা সত্ত্বেও লেবাননের প্রতিনিধি দল শান্তি প্রতিষ্ঠাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। অন্যদিকে, দখলদার ইসরায়েলের দাবি হলো- যেকোনো স্থায়ী শান্তি চুক্তির আগে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণ করতে হবে। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় চলা এই আলোচনা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বৃহত্তর কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সঙ্গেও সম্পর্কিত। ইরান বলছে, লেবাননে ইসরাইলের সামরিক অভিযান বন্ধ করতে হবে। ওয়াশিংটনের এই বৈঠক কয়েক দশকের মধ্যে লেবানন ও ইসরাইলের সর্বোচ্চ পর্যায়ের যোগাযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আলোচনায় এখন ইসরায়েল ও লেবাননের সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারাও যুক্ত হয়েছেন। এই আলোচনার মাধ্যমে লেবাননে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ফিরে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্র : রয়টার্স
নতুন স্পিকার নির্বাচনের মধ্য দিয়েই শুরু হলো পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার প্রথম অধিবেশন। তবে অধিবেশনের শুরু থেকেই সরকার ও বিরোধী দলের ‘ভারত মাতা কি জয়’ ও ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বিধানসভা কক্ষ। শুক্রবার (১৫ মে) পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভার প্রথম অধিবেশন শুরু হয়েছে। অধিবেশনের প্রথম দিনেই তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়কেরা ওয়াকআউট করেছেন। নবনির্বাচিত স্পিকার রথীন্দ্রনাথ দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেন। বক্তৃতায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গঠনমূলক বিরোধিতা চাই। বিধানসভা মারামারির জায়গা নয়। সংবিধানের পরিভাষায় House belongs to the Opposition।’ তিনি আরও আশ্বাস দেন, বিধানসভায় সরকার ও বিরোধী পক্ষ সমানভাবে বক্তব্য রাখার সুযোগ পাবে। এরপর বিরোধীদলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় নতুন স্পিকারকে স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য দেন। তার বক্তৃতায় উঠে আসে ভোট-পরবর্তী হিংসার প্রসঙ্গ। তিনি বলেন, ‘ভয় চলে যাবে, ভরসা আসবে এই প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আজ মানুষের মধ্যে ভরসা নেই, বরং ভয় আরও বেড়েছে। বহু মানুষ ঘরছাড়া।’ তিনি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ঘরছাড়া মানুষদের নিরাপদে ঘরে ফেরানোর আবেদন জানান। একই সঙ্গে ভোট প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি অভিযোগ করে জানান, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। বিরোধী দলনেতার বক্তব্যের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘কেউ ঘরছাড়া হয়েছে বলে আমার জানা নেই। যাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই, তারা ঘরছাড়া হয়ে থাকলে পুলিশ তাদের বাড়িতে ফিরিয়ে দেবে। তবে ২০১১ সালের ভোট-পরবর্তী সহিংসতার সঙ্গে যাদের যোগ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এরপর বক্তব্য রাখেন বিজেপি বিধায়ক ও প্রোটেম স্পিকার তাপস রায়, আমজনতা উন্নয়ন পার্টির বিধায়ক হুমায়ুন কবীর এবং আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি। নওশাদ ভোট-পরবর্তী সহিংসতার প্রসঙ্গে বলেন, ‘২০২১ সালে জয়ের পর মনে হয়েছিল, যদি ইস্তফা দিলে কর্মীদের বাঁচানো যায়, তবে সেটাই করব।’ তাপস রায় বলেন, ‘অতীতে বিজেপি প্রার্থীদের হাড়গোড় ভেঙে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। আজ তারাই আবার পোস্ট-পোল ভায়োলেন্সের কথা বলছেন।’ তিনি আরও দাবি করেন, তৃণমূল আবার ক্ষমতায় এলে বিজেপি কর্মীদের বহু প্রাণহানি ঘটত। অধিবেশন শুরুর আগেই বিধানসভা কক্ষে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শাসকদল বিজেপির পক্ষ থেকে ‘ভারত মাতা কি জয়’ স্লোগান দেওয়া হলে বিরোধী তৃণমূল বিধায়কেরা পাল্টা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান তোলেন। পরে বিজেপির সাংসদরা ‘চোর চোর’ ও ‘ফাইল চোর মমতা’ স্লোগান দেওয়া হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পাল্টা তৃণমূল বিধায়কেরা ভোট লুটের অভিযোগ তুলে স্লোগান দিতে থাকেন। এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই স্পিকার নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। তৃণমূল বিধায়কেরা জাতীয় সঙ্গীত সঠিকভাবে গাওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তুলে কক্ষ ত্যাগ করেন। ফলে কিছু সময়ের জন্য বিধানসভা কক্ষ বিরোধীশূন্য হয়ে পড়ে। যদিও কয়েক মিনিট পর তারা আবার অধিবেশনে ফিরে আসেন। সব মিলিয়ে প্রথম দিনেই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় রাজনৈতিক উত্তাপ ছিল তুঙ্গে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান যদি তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি ২০ বছরের জন্য স্থগিত রাখতে রাজি হয়, তবে তিনি সেটি গ্রহণ করবেন। শুক্রবার দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ২০ বছর যথেষ্ট। তবে তাদের পক্ষ থেকে নিশ্চয়তাটা হতে হবে বাস্তব ও বিশ্বাসযোগ্য। এর আগে ট্রাম্প বারবার দাবি করেছিলেন, ইরানকে স্থায়ীভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম বন্ধে সম্মত হতে হবে। তার ভাষায়, তিনি ভবিষ্যতের কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের জন্য এই সংকট রেখে যেতে চান না। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানে কিছুটা নমনীয়তার ইঙ্গিত দিচ্ছে। দুপক্ষ ছাড়া দিলে শান্তিপূর্ণ চুক্তি সম্ভব মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনায় ওয়াশিংটনের গুরুত্বপূর্ণ ও আন্তরিক অবস্থান নিয়ে তেহরানের সন্দেহ রয়েছে। তার মতে, দুই দেশের আলোচনায় সবচেয়ে বড় বাধা হলো যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য নিয়ে ইরানের অবিশ্বাস। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আরাঘচি বলেন, আমরা তাদের (যুক্তরাষ্ট্রের) আন্তরিকতা নিয়ে সন্দিহান। তবে যেই মুহূর্তে আমরা অনুভব করব যে তারা সত্যিই সিরিয়াস এবং একটি ন্যায্য ও ভারসাম্যপূর্ণ চুক্তির জন্য প্রস্তুত, তখন অবশ্যই আমরা আলোচনা এগিয়ে নেব।