জাতীয়

নারীর ক্ষমতায়নের উজ্জ্বল প্ল্যাটফর্ম জয়িতা

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ১৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

গত এক দশকে বাংলাদেশে নারী উদ্যোক্তাদের অগ্রযাত্রায় এক নতুন মাত্রা পেয়েছে। এই অগ্রগতির পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে সরকারি উদ্যোগ ‘জয়িতা’। আক্ষরিক অর্থে ‘জয়িতা’ মানে সফল নারী বা বিজয়ী নারী। আর বাস্তবেও এটি হয়ে উঠেছে দেশের নারী উদ্যোক্তাদের সাফল্যের প্রতীক। প্রান্তিক পর্যায়ের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের পণ্যকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে আনার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছে।

‘জয়িতা’ মূলত মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের অধীন নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন কর্মসূচির একটি অংশ। শুরুতে এটি সীমিত পরিসরে চালু হলেও বর্তমানে তা বিস্তৃত হয়ে একটি শক্তিশালী বিপণন ও ব্র্যান্ড প্ল্যাটফর্মে রূপ নিয়েছে। রাজধানীর ধানমন্ডির রাপা প্লাজায় প্রতিষ্ঠিত জয়িতা বিপণন কেন্দ্র দেশের নারী উদ্যোক্তাদের তৈরি পণ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার হিসেবে পরিচিত।

জয়িতার মূল শক্তি বাংলাদেশের গ্রামীণ অঞ্চলের হাজার হাজার নারী ছোট আকারে ব্যবসা পরিচালনা করলেও তাদের বড় বাজারে প্রবেশের সুযোগ ছিল না। মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভরশীলতা, বিপণন জ্ঞানের অভাব ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা তাদের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করত। এই বাস্তবতা থেকে উত্তরণের পথ হিসেবে ‘জয়িতা’ আত্মপ্রকাশ করে।

মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে প্রায় ১৬ হাজারেরও বেশি নিবন্ধিত মহিলা সমিতি রয়েছে। এসব সমিতির সদস্যদের মধ্য থেকেই উঠে এসেছে অসংখ্য নারী উদ্যোক্তা। ‘জয়িতা’ তাদের জন্য একটি সরাসরি বিপণন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে, যেখানে তারা নিজেদের পণ্য ন্যায্য মূল্যে বিক্রি করে লাভের পূর্ণ অংশ নিজেরাই ভোগ করতে পারেন।

ধানমন্ডির জয়িতা বিপণন কেন্দ্রটি আধুনিক অবকাঠামোর একটি চমৎকার উদাহরণ। এখানে প্রায় ১৩৯টি স্টল রয়েছে, যা বিভিন্ন নারী সমিতির মধ্যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। স্টলগুলোতে হস্তশিল্প, কৃষিপণ্য এবং দেশীয় খাবারের সমাহার দেখা যায়। এর মধ্যে রয়েছে নকশি কাঁথা, জামদানি, গহনা, মাটির তৈরি পণ্য, মধু, আচারসহ নানা ঐতিহ্যবাহী পণ্য। ভবনটির পঞ্চম তলায় রয়েছে একটি সাংস্কৃতিক মঞ্চ, যেখানে নিয়মিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও উৎসব পালিত হয়। এছাড়া শিশুদের জন্য একটি চিলড্রেন কর্ণার, উদ্যোক্তাদের জন্য নামাজের ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক অফিসও রয়েছে। এসব সুবিধা জয়িতাকে শুধু একটি বাজার নয়, বরং একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করেছে।

জয়িতা পরিচালিত হয় একটি সাধারণ পর্ষদ এবং পরিচালনা পর্ষদের মাধ্যমে। নিবন্ধিত মহিলা সমিতিগুলোর সদস্যরা সাধারণ পর্ষদের অংশ হয়ে নীতিনির্ধারণে অংশগ্রহণ করেন। পরিচালনা পর্ষদে নির্বাচিত সদস্যদের পাশাপাশি সরকারিভাবে মনোনীত প্রতিনিধিরাও থাকেন, যা প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমে ভারসাম্য ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে। এছাড়া একটি নির্বাহী পর্ষদ রয়েছে, যারা দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তাদের প্রধান লক্ষ্য হলো- জয়িতার ব্র্যান্ড ইমেজ উন্নয়ন এবং ব্যবসায়িক লাভ বৃদ্ধি করা। আধুনিক কর্পোরেট সংস্কৃতি অনুসরণ করে পণ্যের মান, গ্রাহকসেবা এবং মূল্য নির্ধারণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বর্তমানে ‘জয়িতা’ শুধু একটি বিপণন কেন্দ্রেই সীমাবদ্ধ নেই। ডিজিটাল যুগের সাথে তাল মিলিয়ে এটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও সক্রিয় হয়েছে। তাদের ওয়েবসাইট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি এবং প্রচার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ফলে দেশের বাইরে থেকেও ক্রেতারা সহজে পণ্য কিনতে পারছেন। এছাড়া বিভিন্ন জেলায় ‘জয়িতা কর্ণার’ স্থাপন করা হয়েছে, যা স্থানীয় পর্যায়ে নারী উদ্যোক্তাদের পণ্য বিপণনের সুযোগ বাড়িয়েছে। সরকার ভবিষ্যতে আরও জেলা ও উপজেলায় এই উদ্যোগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

জয়িতা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এক মেলায় অংশ নিয়েছিলেন যশোরের নারী উদ্যোক্তা মরিয়ম নার্গিস। তিনি তার ‘টুইঙ্কেল ক্রাফটসে’র মাধ্যমে তুলে ধরেন যশোর অঞ্চলের প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী হেরিটেজ রিসাইকেল নকশি কাঁথা।

এ বিষয়ে মরিয়ম নার্গিস জানান, আবহমান বাংলার আমাদের পূর্বসূরী নারীদের ব্যবহৃত পুরোনো শাড়ির কাপড় পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে রিসাইকেল করে আমরা এসব নকশি কাঁথা তৈরি করেছি। দীর্ঘদিন ব্যবহারযোগ্য এসব কাঁথা যেমন ঐতিহ্যের ধারক, তেমনি পরিবেশ সুরক্ষার বার্তাও বহন করে।

আর এসব পণ্যের প্রসারে জয়িতার মেলা বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখে। নারী উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও পরিচালিত হচ্ছে। ডিজাইন, প্যাকেজিং, ডিজিটাল মার্কেটিং এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনার ওপর এসব প্রশিক্ষণ তাদের ব্যবসাকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলছে। অর্থায়ন ও সহযোগিতা নারী উদ্যোক্তাদের আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাথে জয়িতার সংযোগ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংক নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করছে। এতে উদ্যোক্তারা তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগ পাচ্ছেন।

‘জয়িতা’ শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়নই নয়, সামাজিক পরিবর্তনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এর মাধ্যমে নারীরা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন, পরিবারে তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বাড়ছে এবং সমাজে তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। গ্রামীণ নারীরা এখন আর শুধু গৃহিণী হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই; তারা উদ্যোক্তা, উপার্জনকারী এবং সমাজের সক্রিয় অংশীদার। এই পরিবর্তন নারী-পুরুষ বৈষম্য হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

সমাজের পিছিয়ে পড়া নারীদের স্বাবলম্বী কারার ক্ষেত্রে যদিও জয়িতা উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে, তবুও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। যেমন-পণ্যের মানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ এবং আরও বেশি উদ্যোক্তাকে অন্তর্ভুক্ত করা। তবে সঠিক পরিকল্পনা ও নীতিগত সহায়তা থাকলে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব। ভবিষ্যতে জয়িতাকে একটি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পণ্য বিশ্ববাজারে পৌঁছে দিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ‘জয়িতা’ বাংলাদেশের নারী উদ্যোক্তাদের জন্য একটি আশার আলো। এটি প্রমাণ করেছে যে, সঠিক সুযোগ ও সহায়তা পেলে নারীরা অর্থনৈতিক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে। প্রান্তিক পর্যায়ের নারীদের ক্ষমতায়নের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে জয়িতা ইতোমধ্যেই সফলতার স্বাক্ষর রেখেছে।

জয়িতা ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাহিদ মঞ্জুরা আফরোজ বলেন,নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও উদ্যোক্তা বিকাশে জয়িতা ফাউন্ডেশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। নারীরা উদ্যোক্তা হিসেবে এগিয়ে এলে পরিবার ও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে। জয়িতা বিজয় মেলা নারীদের সৃজনশীলতা, পরিশ্রম ও সাফল্যের স্বীকৃতি দেওয়ার একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম। এজন্য নারীদের প্রশিক্ষণ, বাজার সংযোগ ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি জোরদারের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

সবশেষে বলা যায়, ‘জয়িতা’ শুধু একটি বিপণন কেন্দ্র নয়- এটি একটি আন্দোলন, যা নারীর আত্মবিশ্বাস, স্বাধীনতা এবং সাফল্যের প্রতীক হয়ে উঠেছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ফাইল ছবি।
৩২ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিয়োগে বাধা নেই

দেশের ৩২ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আর কোনো আইনি বাধা রইল না। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) প্রধান শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত একটি মামলার বিষয়ে আপিল বিভাগ এই রায় প্রদান করেছেন। এর আগে এ প্রসঙ্গে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের সংকট দূর করতে ৩২ হাজার ৫০০ প্রধান শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে নিয়োগ কার্যক্রম আটকে রয়েছে। এ জটিলতা নিরসনে সরকার কাজ করছে। এদিকে বৃহস্পতিবারের এই রায়ের ফলে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে আর কোনো আইনি জটিলতা থাকছে না।

মারিয়া রহমান জুলাই ০২, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

সরকারি অফিসে টানা ছুটির সুযোগ, বেসরকারিতেও থাকছে সুখবর

ছবি : সংগৃহীত

খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ঢাকা ছাড়লেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ

ছবি : সংগৃহীত

দেশে উদ্ভাবিত হলো ধানের ৩টি নতুন জাত

ছবি : সংগৃহীত
ঢাকা ঘিরে বৃত্তাকার সড়ক ও নৌপথ প্রকল্পের অগ্রগতি জানলেন প্রধানমন্ত্রী

রাজধানীর যানজট নিরসনে বৃত্তাকার সড়ক ও নৌপথ কার্যকরভাবে ব্যবহারের জন্য অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের অগ্রগতি কতটা হল, তা নিয়ে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।   বুধবার বিকালে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সড়ক ব্যবস্থাপনা বিষয়ক বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথ্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু।   তিনি বলেন, “এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজধানীর যানজট নিরসন কীভাবে হবে, তা বৈঠকে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।”   “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানকে রাজধানীর ‘ইনার সার্কুলার রিং রোড’ নির্মাণ প্রকল্পের সর্বশেষ অবস্থা অবহিত করা হয়েছে।”   ঢাকার এই বৃত্তাকার সড়কের একটি অংশ আব্দুল্লাহপুর রেলগেইট থেকে ধউর, বিরুলিয়া, গাবতলী, বছিলা, হাজারীবাগ, সোয়ারীঘাট, কদমতলী, তেঘরিয়া, পোস্তগোলা, ফতুল্লা, চাষাঢ়া ও শিমরাইল হয়ে ডেমরা পর্যন্ত বিস্তৃত। আরেকটি অংশ আব্দুল্লাহপুর রেলগেইট থেকে তেরমুখ, পুর্বাচল ও বেরাইদ হয়ে ডেমরায় যাবে। সবমিলিয়ে প্রায় প্রায় ৮৯ কিলোমিটার।   এর মধ্যে রায়েরবাজার, হাজারীবাগ ও কামরাঙ্গীরচর অংশের নির্মাণ কাজ চলছে। বৈঠকে জানানো হয় এই পথে ৪৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।   বৃত্তাকার এই সড়ক নির্মাণ হলে রাজধানীর ভেতরের সড়ক ব্যবহার না করেই এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে যাওয়া যাবে। সিলেট, মাওয়া ও চট্টগ্রামের যাত্রীরা ঢাকা না ঢুকেও গন্তব্যে যেতে পারবেন। এতে শহরে যানবাহনের চাপ কমবে এবং একই সাথে যানজটও কমে আসবে।   একইভাবে ঢাকা শহরে ঘিরে ১১০ কিলোমিটারের নদী পথ রয়েছে তার চালু করা গেলে রাজধানীর সড়কে যানবাহনের চাপ কমবে এবং রাজধানীর বৃত্তকার নদী পথে মানুষজন এক গন্তব্যে থেকে অন্য গন্তবে যেতে পারবে অনায়াসে।   প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু বলেন, এই বিষয়গুলো বৈঠকে তুলে ধরা হয়।   সেখানে বিশেষজ্ঞরা এর কারিগরি দিক উপস্থাপন করেন। নদী পথ ব্যবহার করলে পরিবেশ দুষণমুক্ত থাকবে, জ্বালানি সাশ্র্রয়ী হবে, সময়ও কম লাগবে বলে বিশেষজ্ঞরা বৈঠকে বলেছেন। কারণ নদী পথের যানবাহনগুলো হবে বিদ্যুচ্চালিত।   বৈঠকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব শহীদুল হাসান, সড়ক পরিবহন সচিব জিয়াউল হক, নৌ পরিবহন সচিব মো. জাকারিয়া, রেল পথ সচিব ফাহমিদুল ইসলাম, বিআইডাব্লিউটিএ এর চেয়ারম্যান মহিদুল ইসলাম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী জহিরুল ইসলাম, প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী মো. বোরহান উদ্দিন, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মিঠুন চন্দ্র শীল, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক খান মাহমুদ আমানত ও অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ০২, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে বিচারের মুখোমুখি করার চেষ্টা চলছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ফাইল ছবি

রিজার্ভ চুরি: ৩ সাবেক গভর্নরের নথি তলব দুদকের

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার ৪ বাস টার্মিনাল স্থানান্তরে তৎপরতা, সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শনে উচ্চপর্যায়ের দল

ছবি: সংগৃহীত
‘ম্যাংগো ডিপ্লোমেসি’: শুভেন্দু অধিকারীর জন্য আম পাঠাল বাংলাদেশ

প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক আরো জোরদার করতে শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহার কাছে আম পাঠিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। পৃথকভাবে রাজ্য দুটিতে ১১০০ কেজি আম পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেলে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে আমের চালান দুটি ভারতে যায়। কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন এবং আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের প্রতিনিধিদের কাছে এসব আম হস্তান্তর করা হয়েছে। শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে পাঠানো আমের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের জনপ্রিয় আম্রপালি ও হাঁড়িভাঙ্গা জাতের আম। জানা গেছে, কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের জন্য ১০০টি কার্টনে ৫ কেজি করে মোট ৫০০ কেজি আম পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের জন্য ১২০টি কার্টনে ৫ কেজি করে মোট ৬০০ কেজি আম পাঠানো হয়েছে। সব মিলিয়ে দুই মিশনের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে মোট ১১০০ কেজি আম। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহার জন্য ১০০ কেজি করে আম বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বাকি ৯০০ কেজি আম রাজ্য দুটির বিশিষ্ট ব্যক্তি, কূটনীতিক ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে বিতরণ করা হবে। প্রতিবছরের মতো এবারও বাংলাদেশের এই ‘ম্যাংগো ডিপ্লোমেসি’ পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরো সুদৃঢ় করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মারিয়া রহমান জুলাই ০১, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

এলপিজির নতুন মূল্য নির্ধারণ বৃহস্পতিবার

‘বরকাউ পুলিশ ক্যাম্প’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আইজিপি মো.আলী হোসেন ফকির

পূর্বাচলে ৪ থানা, ৬ তদন্ত কেন্দ্র ও ৪১ পুলিশ বক্স করার ঘোষণা আইজিপির

ডা. শফিকুর রহমানের নির্বাচনি এলাকা পরিদর্শনে এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী।

ঢাকা-১৫ আসনের সমস্যা সমাধানে একসঙ্গে মাঠে সরকারি ও বিরোধী দল

0 Comments