লোহিত সাগরের তীরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখা দখলের পর ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলের দিকে আরও অগ্রসর হচ্ছে হুথি বিদ্রোহীরা। স্থলপথে তাদের বড় ধরনের প্রতিরোধের মুখে পড়তে না হলেও আকাশপথে হুথিদের অবস্থান ও সরঞ্জাম লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার মোখা দখলের সময় সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনী সেখান থেকে সরে যায়। এরপর হুথিদের নিয়ন্ত্রণে আসা বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা ও সরঞ্জাম লক্ষ্য করে বিমান হামলা শুরু হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমান হামলায় হুথিদের কয়েকটি সাঁজোয়া যান এবং অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংরক্ষণের গুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাইজ এলাকায় হুথিদের অস্ত্রবাহী ট্রাক, ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র পরিবহনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যানবাহনও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
এ ছাড়া হুথিদের একটি বহরেও হামলা চালিয়েছে সরকারি বাহিনী। ওই বহরটি অন্য এলাকায় অবস্থানরত হুথি যোদ্ধাদের জন্য রসদ ও সামরিক সরঞ্জাম নিয়ে যাচ্ছিল বলে জানা গেছে।
তবে বিমান হামলা সত্ত্বেও স্থলভাগে হুথিদের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে। মোখা দখলের পর সেখানে পাওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদের একটি অংশ হুথিরা নিজেদের নিয়ন্ত্রিত অন্য এলাকায় সরিয়ে নিচ্ছে। বিমান হামলা ও অন্যান্য সামরিক আক্রমণের ঝুঁকি কমাতেই তারা এ কৌশল নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে মোখা বন্দরের পাশাপাশি বিমানঘাঁটি ও বিভিন্ন কমান্ড সেন্টারেও বড় ধরনের হামলা হতে পারে—এমন আশঙ্কায় হুথিরা নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, আকাশপথে হুথিদের সামরিক সক্ষমতায় আঘাত করার চেষ্টা থাকলেও স্থলভাগে তাদের প্রতিহত করার মতো কার্যকর প্রতিরোধ এখনো দেখা যাচ্ছে না। ফলে কোনো বড় বাধা ছাড়াই হুথি যোদ্ধারা ইয়েমেনের আরও দক্ষিণাঞ্চলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
সূত্র: আলজাজিরা
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
লোহিত সাগরের তীরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখা দখলের পর ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলের দিকে আরও অগ্রসর হচ্ছে হুথি বিদ্রোহীরা। স্থলপথে তাদের বড় ধরনের প্রতিরোধের মুখে পড়তে না হলেও আকাশপথে হুথিদের অবস্থান ও সরঞ্জাম লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী। আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার মোখা দখলের সময় সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনী সেখান থেকে সরে যায়। এরপর হুথিদের নিয়ন্ত্রণে আসা বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা ও সরঞ্জাম লক্ষ্য করে বিমান হামলা শুরু হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমান হামলায় হুথিদের কয়েকটি সাঁজোয়া যান এবং অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংরক্ষণের গুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাইজ এলাকায় হুথিদের অস্ত্রবাহী ট্রাক, ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র পরিবহনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যানবাহনও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। এ ছাড়া হুথিদের একটি বহরেও হামলা চালিয়েছে সরকারি বাহিনী। ওই বহরটি অন্য এলাকায় অবস্থানরত হুথি যোদ্ধাদের জন্য রসদ ও সামরিক সরঞ্জাম নিয়ে যাচ্ছিল বলে জানা গেছে। তবে বিমান হামলা সত্ত্বেও স্থলভাগে হুথিদের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে। মোখা দখলের পর সেখানে পাওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদের একটি অংশ হুথিরা নিজেদের নিয়ন্ত্রিত অন্য এলাকায় সরিয়ে নিচ্ছে। বিমান হামলা ও অন্যান্য সামরিক আক্রমণের ঝুঁকি কমাতেই তারা এ কৌশল নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মোখা বন্দরের পাশাপাশি বিমানঘাঁটি ও বিভিন্ন কমান্ড সেন্টারেও বড় ধরনের হামলা হতে পারে—এমন আশঙ্কায় হুথিরা নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, আকাশপথে হুথিদের সামরিক সক্ষমতায় আঘাত করার চেষ্টা থাকলেও স্থলভাগে তাদের প্রতিহত করার মতো কার্যকর প্রতিরোধ এখনো দেখা যাচ্ছে না। ফলে কোনো বড় বাধা ছাড়াই হুথি যোদ্ধারা ইয়েমেনের আরও দক্ষিণাঞ্চলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। সূত্র: আলজাজিরা
শিশুদের প্রযুক্তিনির্ভর ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন বিধিনিষেধ চালু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্য। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাজ্যের গভর্নর গ্যাভিন নিউজম দুটি গুরুত্বপূর্ণ আইনসহ মোট ১৩টি বিলে স্বাক্ষর করেছেন। নতুন আইনে ১৬ বছরের কম বয়সি শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আচরণগতভাবে আসক্তি তৈরি করে এমন কিছু ফিচারের সংস্পর্শে আসা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি এআই-চ্যাটবটযুক্ত খেলনা তৈরি ও বিক্রির ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। নিউজমের কার্যালয় জানিয়েছে, তরুণদের প্রযুক্তিজনিত ঝুঁকি কমানো এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের অনলাইন গোপনীয়তা সুরক্ষা জোরদার করতেই এসব আইন করা হয়েছে। নতুন বিধানগুলোর মধ্যে শিশু যৌন নির্যাতনের উপকরণসংক্রান্ত আইনের পরিধিও বাড়ানো হয়েছে। এখন ১৮ বছরের কম বয়সি কাউকে যৌন কর্মকাণ্ডে জড়িত দেখানো যেকোনো এআই-নির্মিত কনটেন্টও ওই আইনের আওতায় পড়বে। আরেকটি আইনে আগামী চার বছর এআই-চ্যাটবটযুক্ত ‘কম্প্যানিয়ন’ খেলনা তৈরি ও বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আরেকটি আইনে চ্যাটবট প্রোগ্রামে অভিভাবকীয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন নিরাপত্তা ও ঝুঁকি মূল্যায়নের বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসংক্রান্ত আইনটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘অ্যাডামস ল’। ১৬ বছর বয়সি অ্যাডাম রেইনের স্মরণে এ নাম রাখা হয়েছে। ২০২৫ সালের এপ্রিলে আত্মহত্যা করেন অ্যাডাম। তার বাবা-মায়ের দাবি, আত্মহত্যার চিন্তা নিয়ে ওপেনএআইয়ের চ্যাটজিপিটির সঙ্গে কয়েক মাসের আলোচনার পর তিনি এমন সিদ্ধান্ত নেন। ওপেনএআই জানিয়েছে, চ্যাটজিপিটির নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহারকারীর সঙ্গে কথোপকথন চললে সুরক্ষা ব্যবস্থা ‘কম নির্ভরযোগ্য’ হয়ে পড়েছিল বলেও প্রতিষ্ঠানটি স্বীকার করেছে। নিউজম বলেন, আমরা চাই আমাদের শিশুরা এবং ক্যালিফোর্নিয়ার প্রতিটি শিশু এমন একটি বিশ্বে বেড়ে উঠুক, যেখানে প্রযুক্তি তাদের কল্যাণে কাজ করবে, তাদের দুর্বলতাকে কাজে লাগাবে না। গুগল, মেটা ও স্ন্যাপের মতো বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের আবাসস্থল ক্যালিফোর্নিয়া এখন শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপকারী যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের সঙ্গে যুক্ত হলো। তবে আইনটির সমালোচনাও হয়েছে। ইলেকট্রনিক ফ্রন্টিয়ার ফাউন্ডেশন এটিকে তরুণদের ইন্টারনেট ব্যবহারে অপ্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছে, এটি গোপনীয়তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি করতে পারে। নতুন আইনে ১৬ বছরের কম বয়সিদের জন্য ‘মনস্তাত্ত্বিকভাবে শোষণমূলক’ ফিচার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অসীম স্ক্রলিং ফিড, অ্যালগরিদমনির্ভর স্বয়ংক্রিয় ভিডিও চালু এবং ভবিষ্যৎ বিধিমালায় নির্ধারিত অন্যান্য ফিচার। ক্যালিফোর্নিয়ার এই পদক্ষেপের আগে ইউটাহসহ আরকানসাস, লুইজিয়ানা, ওহাইও, টেক্সাস, ফ্লোরিডা ও নিউইয়র্কও শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আইন করেছে। তথ্যসূত্র: রয়টার্স
ভারতের আয়োজনে ২০২৬ সালের ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে একটি স্পষ্ট বার্তা নিয়ে হাজির হচ্ছে স্বাগতিক নয়াদিল্লি। তা হলো, যুক্তরাষ্ট্রের ডলার বর্জনের যে কোনও বড় উদ্যোগে সায় দিচ্ছে না ভারত। চীন ও রাশিয়া যখন কৌশলগত প্রকল্প হিসেবে ডলারের ব্যবহার বন্ধের ওপর জোর দিচ্ছে এবং ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা বিষয়টিকে নিজস্ব লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরছেন, তখন জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি ভারত বিষয়টিকে শুরুতেই না করে দিচ্ছে। তবে ডলারকে পুরোপুরি পাশ কাটিয়ে নতুন কোনও মুদ্রা চালু না করলেও ভারত এক নতুন কারিগরি উদ্যোগের প্রস্তাব রাখছে। ব্রিকস সদস্য দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডিজিটাল মুদ্রা (সিবিডিসি) নিজেদের মধ্যে যুক্ত করার মাধ্যমে বাণিজ্য ও পর্যটন সংক্রান্ত লেনদেন সহজ করার কথা ভাবছে তারা। এটি কোনও মুদ্রার বৈপ্লবিক পরিবর্তন নয়, বরং পেমেন্ট ব্যবস্থার একটি আধুনিকায়ন। সম্প্রতি ওয়াশিংটনে কার্নেগি এনডাওমেন্টে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেন, ডলারকে লক্ষ্যবস্তু বানানো আমাদের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক বা কৌশলগত নীতির অংশ নয়। তিনি জানান, ডলারের ওপর নির্ভরশীলতা নিয়ে ভারতের কিছু উদ্বেগ থাকলেও এটিকে প্রতিস্থাপনের কোনও প্রচারণা ভারত চালাচ্ছে না। ২০২৪ সাল থেকে মিসর, ইথিওপিয়া, ইরান, সৌদি আরব ও আমিরাত জোটে যোগ দিলেও ভারত তার আগের অবস্থানেই অনড় রয়েছে। গ্রান্ট থর্নটন ভারতের পার্টনার এবং ইকোনমিক অ্যাডভাইজরি লিড ঋষি শাহ বলেন, ঐতিহ্যগত অর্থে রাজনৈতিক ও আর্থিক অভিন্নতা ছাড়া কোনও একক মুদ্রা ব্যবস্থা ব্রিকসের মতো বৈচিত্র্যময় একটি জোটের জন্য অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক কোনও দিক দিয়েই যুক্তিযুক্ত নয়। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক (আরবিআই) ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের এজেন্ডায় সদস্য দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডিজিটাল মুদ্রা (সিবিডিসি) সংযোগের একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব রাখার সুপারিশ করেছে। তবে ওয়াশিংটনের ক্ষোভ এড়াতে এবং ব্রিকস ও কোয়াড-এর সম্পর্কের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে ভারত অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এই সিবিডিসি প্রস্তাবটিকে কেবল লেনদেনের দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান কোয়ান্টিভ অ্যাডভাইজরি এলএলপির প্রতিষ্ঠাতা সোহম বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, চলতি ব্রিকস পেমেন্ট সংহতকরণের আলোচনাকে প্রায়ই খুব সংকীর্ণভাবে ডি-ডলারাইজেশনের প্রশ্ন হিসেবে দেখা হয়। প্রকৃত সুযোগটি রয়েছে লেনদেন খরচ, নিষ্পত্তির বিলম্ব এবং সীমিত আন্তর্জাতিক পেমেন্ট চ্যানেলের ওপর নির্ভরতা কমানোর মধ্যে। তিনি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যানের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ব্রিকসের বাকি দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি ২২৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। ভারত জোটের দেশগুলো থেকে যতটুকু বিক্রি করে তারচেয়ে অনেক বেশি কেনে। তাই বড় ধরনের বাণিজ্য ঘাটতি থাকা অবস্থায় ডলারের পরিবর্তে রুপি বা ইউয়ানের ব্যবহারে সমস্যা মেটে না, বরং বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা একই থেকে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত মূলত এক বহুমুখী পদক্ষেপ বজায় রাখছে যেখানে দক্ষতার সুযোগ রয়েছে সেখানে ডলার ব্যবহার চালিয়ে যাওয়া, বাণিজ্যপ্রবাহ সামঞ্জস্যপূর্ণ হলে স্থানীয় মুদ্রায় নিষ্পত্তি বাড়ানো এবং পাইলটভিত্তিতে সিবিডিসি সংযোগ পরীক্ষা করা। এর মধ্য দিয়ে এটি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে বিশ্ববাজারে ডলারকে রাতারাতি সরিয়ে নতুন কোনও ‘ব্রিকস কারেন্সি’ চালু করার ইচ্ছা ভারতের নেই। সূত্র: এনডিটিভি