ইরানের মদতপুষ্ট ইয়েমেনি হুথি গোষ্ঠী মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। আজ শুক্রবার লোহিত সাগরের দ্বীপ ময়উন ওরফে পেরিম দ্বীপ দখলের মধ্যে দিয়ে এ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেয় হুথি গোষ্ঠী।
পেরিম বা ময়উন দ্বীপটি কৌশলগতভাবে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দ্বীপটির ভৌগলিক অবস্থান বাব এল-মান্দেব প্রণালির একদম মাঝখানে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইয়েমেনের এক সরকারি কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, ময়উন দ্বীপ (পেরিম নামেও পরিচিত) থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী প্রত্যাহার করার পর সশস্ত্র হুথি যোদ্ধাদের বহনকারী বেশ কয়েকটি নৌযান সেই দ্বীপে পৌঁছে দ্বীপটি দখল করে।
একজন প্রত্যক্ষদর্শী এএফপিকে জানান, সশস্ত্র হুথি যোদ্ধারা বাব আল-মানদেব উপকূলজুড়ে মোতায়েন রয়েছেন এবং সামরিক যানবাহনে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ বাব আল-মান্দেব প্রণালিটির অবস্থান ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে। সংকীর্ণ এই জলপথটি একদিকে লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে, অপরদিকে সুয়েজ খালে নৌযানের চলাচলও অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করে।
জ্বালানি পণ্যের বৈশ্বিক বাণিজ্যেও এই প্রণালি খুব গুরুত্বপূর্ণ। মধ্যপ্রাচ্যে সমুদ্র উপকূলে যেসব তেলখনি আছে, সেসব থেকে উৎপদিত তেলের ১২ শতাংশ বাব আল-মান্দেব দিয়ে পরিবহন করা হয়।
ইরান-সমর্থিত হুথি যোদ্ধারা গত সপ্তাহে বাব আল-মানদেব এলাকায় সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে আক্রমণ শুরুর পর থেকে কয়েকশ মানুষ নিহত হয়েছে। বাস্তুচ্যুত হয়েছে হাজারো পরিবার।
ইরানে মার্কিন–ইসরায়েলি হামলার পর বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয় তেহরান। ফলে বাব আল–মানদেব প্রণালি নৌ চলাচলের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। হুতিরা এর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল ও তাদের মিত্রদের জাহাজ এই পথ দিয়ে চলাচলের ঝুঁকি আরও বাড়ল।
সূত্র : এএফপি
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ইরান যুদ্ধে নিজেদের গ্যাস সরবরাহ সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ঝুঁকছে কাতার। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ এই এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) রপ্তানিকারক দেশ এখন মার্কিন সরবরাহকারীদের কাছ থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে এলএনজি কেনার আলোচনা করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, কাতারের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জি যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে চালু থাকা এবং নির্মাণাধীন– উভয় প্রকল্প থেকে এলএনজি কেনার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। এ-সংক্রান্ত বেশ কিছু গোপন আলোচনা ও দরকষাকষি বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর এই প্রথম স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া গেল, কাতার পশ্চিম এশিয়ার বাইরে থেকে বিকল্প এলএনজি সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মূলত নিজেদের পোর্টফোলিও সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক গ্রাহকদের কাছে করা অঙ্গীকার রক্ষায় এই উদ্যোগ নিয়েছে দেশটি। ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বজুড়ে মোট এলএনজি রপ্তানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহ করত কাতার। তবে যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় দেশটির এলএনজি রপ্তানি প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে কাতারের পরিকল্পনা ছিল, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তাদের আধিপত্য আরও শক্তিশালী করা। ২০৩০ সালের মধ্যে রাস লাফান এলএনজি কমপ্লেক্সের উৎপাদন প্রায় দ্বিগুণ করার একটি মেগা প্রকল্প নিয়ে এগোচ্ছিল দোহা। তবে বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত রাস লাফান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই হামলার জন্য সেই সময় ইরানকে দায়ী করা হয়েছিল। কেন্দ্রটির পূর্ণাঙ্গ মেরামত ও পুনর্নির্মাণ সম্পন্ন করতে অন্তত তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লেগে যেতে পারে। উপসাগরীয় অঞ্চলের বাইরে থেকে সরবরাহ নিশ্চিতের কৌশল যেহেতু চলমান যুদ্ধ শিগগিরই বন্ধ হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না, তাই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের প্রভাব মোকাবিলায় নতুন কৌশলে হাঁটছে কাতার। দোহা এখন তাদের এলএনজি বাণিজ্য শক্তিশালী করার পাশাপাশি পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের বাইরে থেকে বিকল্প জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতে জোর দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে গোল্ডেন পাস এলএনজি টার্মিনালের মালিকানায় কাতারের অংশীদারিত্ব রয়েছে। ফলে আগে থেকেই মার্কিন গ্যাস ব্যবহারের সুযোগ তাদের হাতে ছিল। গত এপ্রিলে টেক্সাসের এই টার্মিনালটি থেকে বাণিজ্যিক রপ্তানি শুরু হয়েছে এবং বর্তমানে ধাপে ধাপে উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে। পাশাপাশি কাতারএনার্জির বাণিজ্যিক শাখা যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত এলএনজি বাজারজাত ও পরিবহনের সক্ষমতা বাড়িয়েছে। এতদিন স্বল্পমেয়াদি স্পট মার্কেটের চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত গ্যাস সংগ্রহ করত কাতার। তবে বর্তমান বৈশ্বিক সংকটে গ্রাহক ধরে রাখতে দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী চুক্তির দিকেই এগোচ্ছে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ এই এলএনজি রপ্তানিকারক দেশ।
ফিলিপাইনে আগুনে পুড়ে যাওয়া একটি ফেরি থেকে ৩০টি মরদেহ উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকর্মীরা। শুক্রবার ফেরিটির ভেতরে প্রবেশ করে মরদেহগুলো উদ্ধারের পর দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫ জনে। তবে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বহু যাত্রী ও ক্রু। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বুধবার রাতে ফেরিটিতে আগুন লাগার পর তীব্র তাপ ও ঘন ধোঁয়ার কারণে উদ্ধারকারীরা ভেতরে ঢুকতে পারেননি। আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার পর শুক্রবার প্রথমবারের মতো ফেরিটির ভেতরে প্রবেশের সুযোগ পান তারা। কর্তৃপক্ষের বরাতে রয়টার্স জানায়, সুরক্ষা পোশাক পরা উদ্ধারকর্মীরা ছোট নৌকা থেকে কালো ব্যাগে করে মরদেহগুলো কোস্ট গার্ডের জাহাজে নিয়ে যান। ফেরিটিতে ১৩০ জনের বেশি যাত্রী ও ক্রু ছিলেন। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ৪৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছিল। এর আগে কর্তৃপক্ষ ৮৪ জন নিখোঁজ থাকার কথা জানিয়েছিল। তবে ৩০টি মরদেহ উদ্ধারের পর বর্তমানে কতজন নিখোঁজ রয়েছেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট করেনি কর্তৃপক্ষ। আগুনে পুড়ে ধ্বংস ফেরির ভেতর ফিলিপাইন কোস্ট গার্ডের প্রকাশিত ছবিতে ফেরিটির ভেতরে আগুনের ভয়াবহতা স্পষ্ট হয়েছে। যাত্রীদের থাকার বার্থগুলোর বেশির ভাগই পুড়ে গেছে। কোথাও কোথাও শুধু বাঁকাচোরা ধাতব কাঠামো ও ছাই পড়ে থাকতে দেখা গেছে। একটি ছবিতে পোড়া ধ্বংসস্তূপের মধ্যে কঙ্কালের মতো অবশেষও দেখা যায়। অন্য একটি ছবিতে দেখা যায় আগুনে পুড়ে যাওয়া একটি যানবাহন। কোস্ট গার্ডের মুখপাত্র কমোডর নোয়েমি কায়াবায়াব রয়টার্সকে বলেন, এই মর্মান্তিক ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর শোক ও কষ্ট তারা উপলব্ধি করছেন। নিহতদের এবং তাদের স্বজনদের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান রেখে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া রিচার্ড মার্সেলিয়ানো জানান, প্রথমে ফেরিতে অল্প ধোঁয়া দেখা গিয়েছিল। কিন্তু কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সেটি ভয়াবহ আগুনে রূপ নেয় এবং মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো ফেরিতে ছড়িয়ে পড়ে। পরে তিনি অন্য যাত্রীদের সঙ্গে প্রায় দুই ঘণ্টা সমুদ্রে ভেসে থাকার পর উদ্ধার হন। ৭ হাজার ৬০০টির বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত ফিলিপাইনে এক দ্বীপ বা প্রদেশ থেকে অন্য এলাকায় যাতায়াতে লাখো মানুষ ফেরি ও ছোট নৌযানের ওপর নির্ভরশীল। ফলে দেশটিতে নৌদুর্ঘটনা প্রায়ই বড় ধরনের প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এর আগেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটিতে বেশ কয়েকটি প্রাণঘাতী নৌদুর্ঘটনা ঘটেছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৩০০ জনের বেশি যাত্রী নিয়ে দক্ষিণাঞ্চলীয় সুলু প্রদেশের দিকে যাওয়ার সময় একটি যাত্রীবাহী নৌযান ডুবে যায়। ওই ঘটনায় ৬০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। সূত্র- রয়টার্স।
দক্ষিণ লেবাননে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর একটি বিশাল ভূগর্ভস্থ সামরিক কমপ্লেক্স ও দুটি বড় টানেল হাজার টনেরও বেশি বিস্ফোরক দিয়ে উড়িয়ে দিয়েছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী। আল-তাহের পর্বতশ্রেণীর নিচে প্রায় দুই কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত এই টানেল ধ্বংস করার সময় শক্তিশালী যে বিস্ফোরণ ঘটে, তার তীব্রতায় এলাকাটি ভূকম্পনের মতো কেঁপে ওঠে। মার্কিন ভূগোলোক জরিপ সংস্থা জানায়, এই বিস্ফোরণের ফলে ৪.১ মাত্রার ভূমিকম্পের সমপরিমাণ তীব্রতা অনুভূত হয়েছিল, যার কম্পন প্রায় ৪০ কিলোমিটার উত্তরের উপকূলীয় শহর সাইদাতেও পাওয়া যায়। ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানায়, এই টানেলটি দীর্ঘ দুই দশক ধরে ইরানের অর্থায়ন ও পরিকল্পনায় তৈরি করা হয়েছিল। এখানে হিজবুল্লাহর বদর ইউনিটের একটি প্রধান কমান্ড সেন্টার ছিল, যেখান থেকে বিপুল পরিমাণ রকেট, ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং ট্যাঙ্কবিধ্বংসী অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। ইসরাইল দাবি করেছে, কমপ্লেক্সটি পুরোপুরি ধ্বংস করার মাধ্যমে সীমান্তবর্তী একটি নিরাপত্তাবেষ্টনী গড়ে তোলার কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং এর ভেতরে থাকা সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা নিহত হয়েছে বা পালিয়ে গেছে। তবে এ বিষয়ে হিজবুল্লাহ বা লেবানন সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, বিগত মার্চ মাসে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ার পর হিজবুল্লাহ ইসরাইলে রকেট হামলা চালালে নতুন করে লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে বড় ধরনের সংঘাত শুরু হয়। এতে লেবাননে এ পর্যন্ত চার হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং ইসরাইলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের বিশাল অংশ দখল করে নেয়। যদিও গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতির পর সংঘাত কিছুটা কমেছে, তবুও সীমান্ত এলাকায় ইসরাইলি বাহিনীর এমন বড় ধরনের ধ্বংসাত্মক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সূত্র: বিবিসি।