আন্তর্জাতিক

লোহিত সাগরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে হুতিদের বড় অগ্রগতি, চাপে সৌদি আরব

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা সে দেশের লোহিত সাগর উপকূলের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দেবের প্রবেশদ্বার পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে ইরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠী।

 

বৃহস্পতিবার হুতিরা বন্দরনগরী মোখা দখল করে নেয়। তাদের দ্রুতগতির এ অভিযান শুক্রবারও অব্যাহত ছিল।

 

ওই দিন সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চলে বৃহস্পতিবার কয়েক দফা হামলার পর দেশটির গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

 

হুতিদের অব্যাহত অভিযান ও সৌদি আরবে হামলার ঘটনা ইয়েমেন সরকারের ওপর বড় ধরনের আঘাত এসেছে।

 

ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে প্রতিবেশী সৌদি আরব।

 

বিশ্লেষকরা বলছেন, ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর পর হুতিদের এই সাফল্য পশ্চিম এশিয়ায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক পরিবর্তনগুলোর একটি।

 

এ অভিযান সৌদি আরব ও দেশটির তেল রপ্তানির ওপর বিশেষভাবে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

 

বছরের শুরুতে লোহিত সাগরে সৌদি পতাকাবাহী জাহাজ চলাচলে অবরোধ ঘোষণা করেছিল হুতিরা। এখন বাব আল-মান্দেব বন্দর ও নৌপথের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত হয়েছে।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, উপসাগরের প্রবেশমুখে হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ হওয়ার পর সৌদি আরব তেল রপ্তানির জন্য বাব আল-মান্দেবের ওপর ক্রমেই বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।

 

কিন্তু হুতিরা লোহিত সাগর নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে?

 

ইয়েমেনে কী ঘটছে?

২০১৪ সাল থেকে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ চলছে। ওই বছর হুতি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানা এবং বন্দরনগরী হুদাইদা দখল করে সরকারকে সরে যেতে বাধ্য করে।

 

ইরানের সমর্থন নিয়ে হুতিরা এরপর সৌদি আরব-সমর্থিত পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর সামরিক জোটের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে আসছে। ওই জোট আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তাদের সদর দপ্তর এডেনে।

 

ইরানের প্রভাব বাড়তে থাকায় তা ঠেকানো এবং ইয়েমেন সরকারকে পুনর্বহালের লক্ষ্যে ২০১৫ সালে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে সৌদি আরব।

 

২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতিতে লড়াই থামলেও এরপর থেকে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ চলছে।

 

গত সপ্তাহে নতুন করে লড়াই শুরু হয়, যা কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে তীব্র সংঘাতগুলোর একটি।

 

লোহিত সাগর উপকূল দখলের লক্ষ্য ধরে হুতিরা বিভিন্ন অবস্থানে হামলা চালায়। জবাবে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীও পাল্টা আক্রমণ চালায়।

 

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ চলার মধ্যে জুলাইয়ে সৌদি আরবের ওপর পূর্ণাঙ্গ নৌ অবরোধ ঘোষণা করে হুতিরা। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী সৌদি-সংশ্লিষ্ট জাহাজে হামলা শুরু করে তারা।

 

সরু এই প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। এটি সুয়েজ খাল ও লোহিত সাগরের সঙ্গে এডেন উপসাগরকে যুক্ত করেছে। প্রতিদিন বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রায় ১২ শতাংশ এ পথ দিয়ে চলাচল করে।

 

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মিলে ইরানের ওপর হামলা শুরুর আগে বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে হতো, ইরান সেটি বন্ধ করে দেওয়ার পর বাব আল-মান্দেব দিয়ে জাহাজ চলাচলের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

 

সৌদির জন্য হুতিদের অগ্রগতির কী প্রভাব

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, বাব আল-মান্দেব করিডরের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট আরও তীব্র করতে পারে। এতে জ্বালানির দাম ও সরবরাহ—দুই ক্ষেত্রেই চাপ বাড়তে পারে।

 

সৌদি আরবের জন্য এর অর্থ হতে পারে তেল রপ্তানিতে আরও বড় ধাক্কা।

 

ইরান হরমুজ প্রণালি অবরোধ করার পর সৌদি আরব দেশটির ইস্ট-ওয়েস্ট অপরিশোধিত তেল পাইপলাইন আরও বেশি ব্যবহার করছে। আবকাইক তেলক্ষেত্র থেকে বিশাল আরব উপদ্বীপ পেরিয়ে এই পাইপলাইন লোহিত সাগরের পশ্চিম উপকূলের ইয়ানবু বন্দরে গিয়ে শেষ হয়েছে। ফলে উপসাগর দিয়ে না পাঠিয়ে লোহিত সাগর হয়ে তেল রপ্তানি করা সম্ভব।

 

হরমুজ প্রণালিতে বিঘ্ন সৃষ্টি হলে যাতে বিকল্প পথে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখা যায় সে জন্য ১৯৮০-এর দশকে পাইপলাইনটি তৈরি করা হয়েছিল। ২০১৯ সালে হুতিদের ড্রোন হামলার সময় এটি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

 

ফেব্রুয়ারিতে ইরান যুদ্ধ শুরুর পর সৌদি আরব পাইপলাইনটির সক্ষমতা বাড়িয়ে পূর্ণমাত্রায় ব্যবহার শুরু করেছে। এর ফলে আগে যেখানে প্রতিদিন ৫০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা যেত, এখন সেখানে দেশের ভেতর দিয়ে লোহিত সাগর উপকূলে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৭০ লাখ ব্যারেল তেল পাঠানো সম্ভব।

 

এর ফলে যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের তুলনায় বাব আল-মান্দেব দিয়ে সৌদি তেল পরিবহন ২১ শতাংশ বেড়েছে।

 

এর পাল্টায় লোহিত সাগরে সৌদি তেলবাহী ট্যাংকারকে নিশানা করেছে। এখন পুরো ইয়েমেন উপকূল এবং বাব আল-মান্দেব তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসায় সৌদি তেল রপ্তানিতে আরও বড় ধাক্কা আসতে পারে।

 

ইরানের কী লাভ?

বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধে নতুন একটি বড় ফ্রন্ট খুলতে চাইছে হুতিরা। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের সঙ্গে চলমান অচলাবস্থায় তেহরানের হাতে তারা গুরুত্বপূর্ণ একটি কৌশলগত সুবিধা তুলে দিচ্ছে।

 

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র—দুই দেশই হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে থাকার দাবি করছে। তবে ওই পথে জাহাজ চলাচল অনেক কমে যাওয়ায় পর্যবেক্ষকদের ধারণা, সেখানে ইরানই সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।

 

হুতিদের মাধ্যমে বাব আল-মান্দেবের নিয়ন্ত্রণ সেই অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করছে।

 

অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক আলম সালেহ বলেন, “এর অর্থ কার্যত ইরানের হাতে এখন হরমুজ প্রণালি এবং ‘হরমুজ প্রণালী প্লাস’—দুই পথেরই নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।”

 

এতে ওয়াশিংটনের ওপর চাপও বাড়ছে। জ্বালানি ও খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় ইরান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রে এরই মধ্যে ব্যাপক অজনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটাররা রিপাবলিকানদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ দেখাতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

চলতি সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পও স্বীকার করেছেন, ওই সময়ের আগে যুদ্ধ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা কম।

 

অধ্যাপক সালেহ বলেন, তেহরানকে চাপ দিতে হামলার পাশাপাশি কঠোর অর্থনৈতিক চাপের কৌশল নিয়েছে ওয়াশিংটন। কিন্তু পরিস্থিতি নিজেদের পক্ষে আনতে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে সময় ক্রমেই কমে আসছে।

 

তার মতে, “হুতিদের এই বিজয় শুধু ইরানের পক্ষে শক্তির ভারসাম্যকে উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে দেয়নি, চীন ও রাশিয়ার মতো অন্য শক্তিগুলোকেও বার্তা দিচ্ছে যে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির প্রভাব কমছে।

 

“ইরান এখন বৈশ্বিক তেলের দাম ও জ্বালানি নিরাপত্তার কার্ড খেলেছে। তাই হুতিদের হাতে বাব আল-মান্দেবের নিয়ন্ত্রণ চলে যাওয়া ইরানের জন্য বড় ধরনের সুবিধা।”

 

লোহিত সাগর নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হুতিরা?

বিশ্লেষকদের মতে, বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর পরাজয় অনেকটা হুতিদের হাতে সহজেই তুলে দেওয়া হয়েছে।

 

ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীতে আনুমানিক ৩ লাখ সদস্য রয়েছে। বিপরীতে হুতিদের সদস্য সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার।

 

তবে অভ্যন্তরীণ বিভক্তি এবং সৌদি আরবের বাইরের চাপের কারণে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর অবস্থান অত্যন্ত খণ্ডিত।

 

হুতিদের মতো দ্রুতগতির ও কৌশল বদলাতে সক্ষম একটি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য যে সমন্বয় প্রয়োজন, তা তাদের নেই বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

 

দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের অধ্যাপক মোহামাদ এলমাসরি হুতিদের বিষয়ে বলেন, প্রায় এক দশক আগে সৌদি বাহিনী যে শক্তির বিরুদ্ধে লড়েছিল, বর্তমান হুতি বাহিনী তার তুলনায় সম্ভবত আরও উন্নত একটি যুদ্ধশক্তি।

 

গত কয়েক বছরে ইরানের কাছ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা-সহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র পাওয়ায় হুতিরা বড় ধরনের অস্ত্রভাণ্ডার গড়ে তুলেছে, বলেন তিনি।

 

তবে কিংস কলেজ লন্ডনের সহযোগী অধ্যাপক আন্দ্রেয়াস ক্রিগ আল জাজিরাকে বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে সাফল্য পেলেও শাসন পরিচালনায় হুতিরা ‘ভয়াবহ’ এবং বাব আল-মান্দেবে দীর্ঘমেয়াদী অবরোধ ধরে রাখার সম্ভাবনা কম।

 

তার মতে, হুতিদের অগ্রযাত্রার কারণ তাদের অবমূল্যায়ন নয়; বরং সৌদি-সমর্থিত জোটের সক্ষমতাকে অতিরিক্ত মূল্যায়ন করা হয়েছিল।

 

অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক সালেহ বলছেন, নিজেদের লক্ষ্য অর্জনের জন্য হুতিদের পুরো বাব আল-মান্দেব কিংবা পুরো লোহিত সাগরের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার প্রয়োজনও নেই।

 

তার মতে, “সামান্য ঝুঁকির আশঙ্কা তৈরি করাই জাহাজ চলাচলকারী কোম্পানি ও বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য যথেষ্ট।

 

“তারা যদি মনে করে প্রণালিটি দিয়ে জাহাজ চলাচল খুব ঝুঁকিপূর্ণ, তাহলেই হুতিদের উদ্দেশ্য অনেকটা সফল হবে।”

 

এখন প্রশ্ন, নিজেদের বিমান শক্তি ব্যবহার করে সৌদি আরব হুতিদের অগ্রযাত্রা কার্যকরভাবে ঠেকাতে পারবে কি না।

 

গত ২৪ ঘণ্টায় সৌদি বাহিনী মোখাসহ হুতিদের নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন এলাকায় কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। তবে তাতে হুতিদের অভিযান থামার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে সই হওয়া মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিও এখনই কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা কম।

 

কারণ ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চলমান সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ুক—এমন ঝুঁকি নিতে চায় না দেশগুলো।

 

ওয়াশিংটনের সহায়তাও আপাতত অনিশ্চিত। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে দুবার ফোন করে হুতিদের ওপর মার্কিন বিমান হামলার অনুরোধ করেছিলেন। তবে ট্রাম্প সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
জ্বালানি তেলের দাম আরও বেড়েছে। সংগৃহীত ছবি
টানা চার মাস বাড়ছে তেলের দাম, হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন উদ্বেগ

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে টানা চার মাস ধরে ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম। এর মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকারে নতুন করে হামলার ঘটনায় সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা বেড়েছে। এতে শুক্রবারও বেড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম।   শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় দেড়টার দিকে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের ডিসেম্বরের চুক্তির দাম ব্যারেলপ্রতি ১ ডলার ৭১ সেন্ট বা ১ দশমিক ৪৯ শতাংশ বেড়ে ১১৬ ডলার ৫৯ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে জানুয়ারির চুক্তিতে ব্রেন্টের দাম বেড়ে হয়েছে ১১২ ডলার ৫১ সেন্ট।   অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ব্যারেলপ্রতি ১ ডলার ৪৫ সেন্ট বা ১ দশমিক ৪২ শতাংশ বেড়ে ১০৩ ডলার ৪৫ সেন্টে পৌঁছেছে।   চলতি মাসে ব্রেন্টের দাম প্রায় ১৩ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম প্রায় ১৪ শতাংশ বাড়তে যাচ্ছে। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, শুক্রবার হরমুজ প্রণালিতে একটি ছোট নৌকা থেকে বিস্ফোরক লাগিয়ে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালানো হয়েছে।    তবে কারা এ হামলার পেছনে রয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।   হরমুজ প্রণালি উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। ফলে এ পথে নিরাপত্তাঝুঁকি বাড়লে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।   এ বিষয়ে এমএসটি মার্কির জ্বালানি গবেষণা বিভাগের প্রধান শল কাভোনিক বলেন, হরমুজ প্রণালির আশপাশে সামরিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় আগামী কয়েক সপ্তাহে সংঘাত আরও বাড়তে পারে। এ আশঙ্কায় তেলের দাম চড়া অবস্থানে রয়েছে।   এর আগে বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের একাধিক স্থাপনায় হামলার দাবি করে। এর মধ্যে দেশটির বৃহত্তম তেল শোধনাগার রাস তানুরা, রাবিগ শোধনাগার এবং সৌদি আরামকোর আবকাইক উৎপাদনকেন্দ্র রয়েছে। অন্যদিকে হুথিদের ছোড়া একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানে চিকিৎসাসামগ্রী পাঠানোর বিষয়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দেশটির সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরুর উদ্যোগের অংশ হিসেবে তেহরানে চিঠিও পাঠিয়েছেন ভ্যান্স। তবে ইরান এখনো চিঠির জবাব দেয়নি।   সাক্সো ব্যাংকের পণ্যবাজার কৌশল বিভাগের প্রধান ওলে হ্যানসেনের মতে, ইসরাইলের পার্লামেন্ট নির্বাচন এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচন ঘিরেও আগামী কয়েক সপ্তাহে তেলের বাজারে অস্থিরতা বাড়তে পারে।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ৩০, ২০২৬
বিমানবন্দরের কাছে রবিনসন আর২২ এবং এয়ারবাসের একটি হেলিকপ্টারের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে দুই হেলিকপ্টারের সংঘর্ষ, প্রাণ গেল ৩ জনের

দুর্ঘটনাস্থলে অভিযান চালাচ্ছে উদ্ধারকারী দল। ছবি: সংগৃহীত

তুরস্কে পাহাড়ধসে প্রাণহানি, ক্যাপাডোসিয়ায় নিহত ৩

ছবি: সংগৃহীত

সৌদিতে ন্যূনতম মজুরি ৬ হাজার রিয়াল নির্ধারণের ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত
নেতানিয়াহুর বিদায় চান জনগণ, পদত্যাগের আহ্বান আইজেনকোটের

ইসরায়েলের নির্বাচনে এক্সিট পোলের ফলাফল প্রকাশের পর এক ভাষণে ইয়াশার পার্টির চেয়ারম্যান গাদি আইজেনকোট নতুন রাজনৈতিক পর্বের সূচনা ঘোষণা করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দেশের জনগণ বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বকে প্রত্যাখান করেছে এবং একটি দায়িত্বশীল ও ঐক্যবদ্ধ সরকার গঠনের পক্ষে রায় দিয়েছে।   আইজেনকোট বলেন, জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে ইসরায়েলের জনগণ দেশের ভবিষ্যতের নেতৃত্ব নিয়ে তাদের সুস্পষ্ট মতামত প্রদান করেছে। ফলাফলে দেখা যাচ্ছে যে নেতানিয়াহু বর্তমানে একটি জাতীয় ও ইহুদি সংখ্যাগরিষ্ঠতার মুখোমুখি, যা তার নিজ সমর্থক গোষ্ঠীর চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। দেশের মূল কর্মক্ষম ও সেবা প্রদানকারী জনগণ পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দিয়েছে। এই ব্যর্থ জোট সরকারের ওপর জনগণ তাদের আস্থা হারিয়েছে এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছে। একজন দায়িত্বশীল নেতার উচিত জনগণের এই রায়কে সম্মান জানিয়ে রাজনীতি থেকে বিদায় নেওয়া।   চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করার আহ্বান জানিয়ে আইজেনকোট বলেন, নতুন করে আবার নির্বাচনে যাওয়া এক বিরাট ভুল হবে। জনগণের রায় বাস্তবায়ন করা রাজনৈতিক নেতাদের দায়িত্ব। দেশে বিভাজন, মিথ্যাচার ও ব্যর্থতার যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, সাধারণ মানুষ তা থেকে মুক্তি চায়। ইয়াশার পার্টি শুরু থেকেই একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক বিকল্প তুলে ধরেছে, যা দেশের ধর্মীয়, ধর্মনিরপেক্ষ, ডান, বাম ও মধ্যপন্থী; সকল শ্রেণির মানুষের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।   একই সাথে তিনি দেশটির সকল সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন কোনো ধরনের রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার না করেন। কারণ তারা কোনো বিশেষ ব্যক্তি বা রাজনৈতিক স্বার্থের জন্য নয়, বরং রাষ্ট্র ও জনগণের সেবায় নিয়োজিত। তিনি নেতানিয়াহুকে উদ্দেশ্য করে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিকে নিজ স্বার্থে ব্যবহার করা বা দেশের নিরাপত্তাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার চেষ্টা যেন না করা হয়।   আইজেনকোট প্রতিশ্রুতি দেন, আগামী দিনে যে সরকার গঠিত হবে তা দেশের সার্বিক ঐক্য ও মূল আদর্শকে টিকিয়ে রাখবে। সেখানে প্রতিটি নাগরিকের অধিকার সুরক্ষা পাবে এবং বাধ্যতামূলক সামরিক বা জাতীয় সেবার আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হবে। তিনি বলেন, এটি কেবল কোনো নির্দিষ্ট একটি দলের জয় নয় বরং এটি সমগ্র ইসরায়েলি জনগণের বিজয়। বিভাজন ও বিদ্বেষের দিন শেষ করে দেশ এখন একটি নতুন আশা, দায়িত্ববোধ ও সম্প্রীতির যুগে প্রবেশ করছে। ভাষণ শেষে তিনি দেশের সকল কর্মী, সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।   সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ভয়াবহ হামলা, রেলস্টেশনসহ বিভিন্ন স্থানে নিহত ২০

ছবি: সংগৃহীত

নিষেধাজ্ঞার জাল ভেদ করে মিসাইলের কাঁচামাল সংগ্রহ করছে ইরান

ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি রয়েছে রাশিয়ার: পুতিন

ছবি: সংগৃহীত
বসনিয়ায় ইইউ মিশনে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, ইতালির হেলিকপ্টার বিধ্বস্তে নিহত ৪

সনিয়া ও হার্জেগোভিনায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত ইতালির একটি সামরিক হেলিকপ্টার বৃহস্পতিবার বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে চারজন নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইতালির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।    এক বিবৃতিতে ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হেলিকপ্টারটিতে চালকসহ মোট ১৫ জন ছিলেন এবং তারা সবাই ইতালির নাগরিক। নিহত ৪ জনের মধ্যে ২ জন ইতালির সেনাবাহিনীর সদস্য এবং বাকি ২ জন ইতালীয় রেডক্রসের স্বেচ্ছাসেবী সামরিক বাহিনীর সদস্য।     আহত ১১ জনকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা-সেবা দেওয়া হচ্ছে। তাদের কারোরই অবস্থা আশঙ্কাজনক নয়।   ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রোসেত্তো বলেন, “এই গভীর শোকের মুহূর্তে, আমার প্রথম ভাবনা নিহতদের পরিবারের প্রতি। আমি ব্যক্তিগতভাবে এবং পুরো প্রতিরক্ষা বিভাগের পক্ষ থেকে নিহতদের স্বজনদের গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।"   ইতালীয় সংবাদ সংস্থা আনসা জানিয়েছে, বসনিয়া অ্যান্ড হার্জিগোভিনার ব্রকো জেলার গোরিচে গ্রামে হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, একটি সামরিক পরিবহন হেলিকপ্টার মাটিতে উল্টে পড়ে আছে এবং সেটি টুকরো টুকরো হয়ে গেছে।   হেলিকপ্টারটি ইউরোপীয় ইউনিয়ন ফোর্সের ‘অপারেশন আলথিয়া’ এর অংশ হিসেবে মোতায়েন করা হয়েছিল। এই মিশনটি ডেটন শান্তি চুক্তির বাস্তবায়ন তদারকি করে।   ইতালির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ঠিক কী পরিস্থিতিতে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে।   ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিও শোক প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় তিনি বলেছেন, “আমার ভাবনা নিহত ব্যক্তি, তাদের পরিবার এবং সেই সব মানুষের সঙ্গে রয়েছে, যারা এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার মিশনে যুক্ত থেকে বর্তমানে চরম যন্ত্রণাময় মুহূর্ত পার করছেন।"   সূত্র : রয়টার্স

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ৩০, ২০২৬
আর্মেনিয়ার পার্লামেন্টে সরকারি ও বিরোধী দলের আইনপ্রণেতাদের মধ্যে তুমুল মারামারি। ছবি: সংগৃহীত

বিতর্ক থেকে হাতাহাতি, আর্মেনিয়ার সংসদ ভবনে রণক্ষেত্র পরিস্থিতি

ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গে গরু জবাই নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি শুভেন্দু অধিকারীর

সংগৃহীত ছবি

রাশিয়ার সীমান্তঘেঁষা এস্তোনিয়ায় প্রায় ১৫০টি বাংকার নির্মাণের পরিকল্পনা

0 Comments