জাতীয়

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ভোটই কি এবারের নির্বাচনে ‘গেম চেঞ্জার’?

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬ 0
সংগৃহীত ছবি
সংগৃহীত ছবি

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন কারাগারে মারা যান গত শনিবার সকালে। এই খবর জানার পরই ঠাকুরগাঁওয়ে তার বাসায় ছুটে যান জেলার সদর আসনে বিএনপির প্রার্থী ও দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কিছুক্ষণ পরই রমেশ চন্দ্র সেনের বাসভবনে সমবেদনা জানাতে দেখা যায় জামায়াতের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনকেও।

আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে বিএনপি ও জামায়াত—দুই দলের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর ছুটে যাওয়ার এই ঘটনা রাজনৈতিকভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ।


কারণ বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে দুই দলই টার্গেট করছে আওয়ামী লীগের ভোট।
শুধু ঠাকুরগাঁও জেলায় নয়, বরং সারা দেশেই দুই দলের নেতারা আওয়ামী লীগের ভোট টানার চেষ্টা করছেন। যদিও আওয়ামী লীগ বলছে, ভোট বর্জনের কথা। কিন্তু এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সাধারণ ভোটাররা কতটা অংশ নেবেন, অংশ নিলে তাদের সমর্থন কোন দলের দিকে যাবে—এমন নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সবখানে।

আবার আওয়ামী লীগের ভোটাররা আদৌ ভোট দিতে যাবেন কি না, সেটাও একটা বড় প্রশ্ন।
নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভোটাররা ভোট দিতে গেলে সেটা যেমন ভোটার অংশগ্রহণের হার বাড়াবে, তেমনই আবার ভোট দিতে না গেলে ভোটের হার কমেও যেতে পারে বলে অনেকে মনে করেন।

আওয়ামী লীগের ভোট কত?

আওয়ামী লীগের এখন কার্যক্রম নিষিদ্ধ। দলটির নেতারা ছত্রভঙ্গ।


যদিও দলটির বড় সমর্থকগোষ্ঠী আছে বলেই সব সময় মনে করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন এবং দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর দলটির ‘বড় সমর্থকগোষ্ঠী’ কতটা অবশিষ্ট আছে তা স্পষ্ট নয়। 
ভোটারদের মধ্যেও দলটির সমর্থন কতটা আছে সেটাও একটা প্রশ্ন। এর সুনির্দিষ্ট কোনো উত্তর নেই, কারণ তথ্য নেই। তবে এখানে একটু ইতিহাসের দিকে তাকানো যায়।


নির্বাচন কমিশনের হিসেবে আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ ভোট ছিল ১৯৭৩ সালে ৭৩ শতাংশ। কিন্তু এর পরের নির্বাচনেই, ১৯৭৯ সালে দলটির ভোট সর্বনিম্ন পর্যায়ে চলে যায়। সেটা হচ্ছে ২৪ শতাংশ। এরপর ১৯৮৬ সালে ২৬ শতাংশ, ১৯৯১ সালে ৩০ শতাংশ, ১৯৯৬ সালে ৩৭ শতাংশ, ২০০১ সালে ৪০ শতাংশ এবং ২০০৮ সালে ৪৮ শতাংশ ভোট পায় আওয়ামী লীগ। অর্থাৎ একবার পড়ে যাওয়ার পর দলটির ভোট ক্রমান্বয়ে আবার বেড়েছে।

তবে ২০২৬ সালে এসে বির্পযস্ত আওয়ামী লীগের ভোটের হার কেমন হতে পারে সেটা বুঝতে ১৯৭৯ সালের নির্বাচন একটা গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক হতে পারে। সেই নির্বাচনের চার বছর আগেই আওয়ামী লীগের প্রধান নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। তখনো দলটি বির্পযস্ত অবস্থার মোকাবিলা করছিল। তবে দলটির নেতারা দেশেই ছিলেন।

১৯৭৯ সালের সেই নির্বাচনে বিপর্যস্ত অবস্থায় আওয়ামী লীগ ভোট পায় দলটির ইতিহাসের সর্বনিম্ন ২৪ শতাংশ। তবে এবারো যে আওয়ামী লীগের সমর্থন ২৪ বা ২৫ শতাংশই হবে তেমনটা নাও হতে পারে।

বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করেন, আওয়ামী লীগের ভোট ২০ শতাংশ থেকে ৩০ শতাংশের মধ্যেই থাকতে পারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও রাজনীতি বিশ্লেষক জোবাইদা নাসরীন বলেন, ‘আওয়ামী লীগের জনসমর্থন কমেছে নাকি বেড়েছে তা নিয়ে নানা জরিপ হয়েছে। কিন্তু এই সংখ্যাটা জরিপের ওপর নির্ভর করছে না। আমার কাছে মনে হয়, এটা দেখতে গেলে আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সুযোগ দিতে হতো। আমি যদি তাদের ভোট ৩০ শতাংশও ধরি, তাহলে এই সংখ্যক ভোটারকে নির্বাচনের বাইরে রাখলে সেটা অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে না।’

ভোট নিয়ে আওয়ামী লীগ এবং ভোটাররা কী বলছেন?

সারা দেশে যখন নির্বাচনের আমেজ, রাজনৈতিক দলগুলো ইতোমধ্যে ভোটের প্রচারণা শেষ করে ফেলেছে, তখন নির্বাচনের বাইরে থাকা কাযক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ মূলত সামাজিক মাধ্যমে ভোট বর্জনের প্রচারণা করছে। দলীয় পেজগুলোয় এবং সমর্থকদের আইডিগুলোতে লেখা হচ্ছে, ‘নো বোট, নো ভোট’ অর্থাৎ ‘নৌকা নেই, ভোটও নেই’।

এর মধ্যেই তিন দিন আগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় তার ফেসবুক পেজে এক বক্তব্যে জানিয়েছেন, তার ভাষায়, এটি ‘একটি সাজানো নির্বাচন’ যেখানে আওয়ামী লীগকে বাইরে রাখা হয়েছে। এই নির্বাচনে ‘ভোট দিয়ে কোনো লাভ নেই’ মন্তব্য করে তিনি ভোট বর্জনের আহ্বান জানান।

তবে ভোট দিতে যাওয়া না যাওয়া নিয়ে আওয়ামী লীগ করেন বা সাধারণ ভোটারদের মধ্যে নানা প্রতিক্রিয়া আছে।

ঢাকার বাইরে আওয়ামী লীগের একটি জেলার উপজেলা কমিটিতে আছেন, এমন একজন ব্যক্তি আহসান হাবিব (এটা তার ছদ্মনাম)। তিনি নাম-পরিচয় গোপন রাখার শর্তে কথা বলেন বিবিসি বাংলার সঙ্গে।

তিনি বলেন, “আমি তো ভোট দিতে যাবই না। আমার পরিবারের কেউই যাবে না। অনেকে মনে করতে পারেন যে, গিয়ে হয়তো ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিতে পারি। আসলে সেটাও দেব না।”

কিন্তু ভোট না দিলে কী লাভ—এমন প্রশ্নে পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক সেই নেতা জানান, এতে ভোটের হার কমে যাবে। ‘এখানে লাভ হলো, প্রথমত, এটা নেত্রীর নির্দেশ। দ্বিতীয় হচ্ছে, আমরা যদি ভোট দিতে না যাই, তাহলে ভোটের হার কম হবে। ভোটের হার যদি কম হয়, তাহলে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না, বিশ্বাসযোগ্য হবে না।’ এই ব্যক্তির কথায় দুটি বিষয় স্পষ্ট— 

এক. নির্বাচন যে হচ্ছে, দলটির তৃণমূল সেটা মেনে নিয়েছে। এর আগে অনেকেই বিশ্বাস করতেন, নির্বাচন হবে না।

দুই. যেহেতু নির্বাচন হয়ে যাবে বলেই মনে করছে, সেহেতু এখন চেষ্টা হচ্ছে ভোট বর্জন করে ভোটার উপস্থিতি কম রাখা।

বিভিন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভোটের হার 

তবে আওয়ামী লীগ ভোট বর্জনের আহ্বান করলেও দলটির জন্য মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বেশ কঠিন। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের কমিটিতে নেই কিন্তু দলটির সাধারণ সমর্থক এমন ভোটারদের কেউ কেউ বলছেন, তারা ভোট দিতে যাবেন। এরকমই একজনের সঙ্গে কথা হয় বিবিসি বাংলার। তিনিও পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি।

‘পরিবার থেকে ওই আতঙ্কটা সবসময় বিরাজ করে যে, আমরা তো আওয়ামী পরিবার। এখন আমরা যদি ভোট দিতে না যাই, তাহলে আক্রান্ত হবো। আমাদেরকে চিহ্নিত করে রাখা হবে। আসলে ভোট দিতে যেতে হবে ভয়ে। ভয়টাই মূল কারণ। আমাকে তো বাঁচতে হবে। আমার তো দুর্নীতির টাকা নেই যে অন্য নেতাদের মতো দেশ থেকে পালিয়ে যেতে পারবো।’

একই রকম পরিস্থিতির কথা জানান, একটি জেলার উপজেলা কমিটির সদস্য আহসান হাবিব। তিনি অবশ্য দুটি কারণ উল্লেখ করেন।

এক. আওয়ামী লীগ ফিরে আসতে পারবে কি-না তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে অনেকের মধ্যে। ফলে তারা ‘যেকোনো একটা সাইডে (দলে)’ চলে যাচ্ছে।

দুই. ব্যবসা-বাণিজ্যসহ এলাকায় টিকে থাকার চেষ্টায় অনেক সমর্থক কোনো না কোনো দলে ভিড়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।দলগুলো থেকেও ভোট দিতে যাওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে।

আওয়ামী লীগের ভোট ‘গেম চেঞ্জার’?

নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভোট তিনটি কারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এক. আওয়ামী লীগের ভোটাররা অংশ নিচ্ছেন কি-না সেটা ভোটের হার কমে যাওয়া বা বেড়ে যাওয়ার পেছনে ভূমিকা রাখবে।

দুই. আওয়ামী লীগের ভোটাররা নির্দিষ্ট কোনো দলের দিকে ঝুঁকে গেলে সেটা জয়-পরাজয়ে বড় ভূমিকা রাখবে।

তিন. আওয়ামী ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে না যাওয়া সত্ত্বেও যদি ভোটের হার বেশি হয় এবং অংশগ্রহণমূলক হয় তাহলে সেটাও আওয়ামী লীগের জন্য নতুন বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী সাব্বির আহমেদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, আওয়ামী লীগের ভোটাররা কী করেন তার ওপর নির্ভর করছে অনেক কিছু। ‘আমি যদি গড়ে ধরি যে আওয়ামী লীগরে ৩০ শতাংশ ভোট আছে, তাহলে এর বড় অংশটাই ভোট দিতে যাবে না। পাঁচ থেকে ১০ শতাংশ ভোটার হয়তো যেতে পারে। এর বেশি হবে বলে মনে হয় না।’

তবে এই নির্দিষ্ট সংখ্যক ভোটারও যদি নির্দিষ্ট কোনো দলকে ভোট দিয়ে বসে তাহলে সেটা সেই দলের বিজয় নিশ্চিত করবে বলে মনে করেন তিনি।

যদিও এভাবে ‘দলবদ্ধভাবে ভোট দেওয়ার প্রবণতা’ ঘটবে না বলেই তিনি মনে করেন, ‘দলের কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে যদি বলে দেওয়া হয় যে, তোমরা বিএনপিকে ভোট দাও। তাহলে হয়তো দলে দলে সেই ভোট নির্দিষ্ট দলের দিকে যাবে। কিন্তু আমার মনে হয় না এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত আওয়ামী লীগ নিয়েছে বা নেবে। তারা ভোট বর্জনের কথাই বলছে।’

আওয়ামী লীগ বলছে, তাদের ছাড়া নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে না। যদিও অভ্যুত্থানের পক্ষে থাকা বিএনপি-জামায়াতসহ অন্যান্য দলগুলো বলছে, নির্বাচন ভোটাররা অংশ নিতে পারলে সেটাই অংশগ্রহণমূলক ভোট হবে।

এমনকি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও অনেকে অংশগ্রহণমূলক ভোট বলতে ভোটের হার এবং নারী-পুরুষ, ধর্মীয় জনগোষ্ঠীসহ সব ধরনের ভোটারের উপস্থিতির কথা বলেছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, যদি সব ধরনের ভোটার ভোট দিতে না আসেন, অর্থাৎ ভোটের হার যদি সন্তোষজনক না হয় তাহলে কী হবে?

সাব্বির আহমেদ বলেন, ‘এটা একটা বৈধতার সংকট হিসেবে সমালোচনা হবে। বৈধতার প্রশ্নটা উঠবে। বৈধতাটা যতটা না আইনি প্রশ্ন তার চেয়ে বেশি নৈতিক।’

কিন্তু যদি আবার সবধরনের ভোটার ভোট দিতে যান এবং ভোটের হারও অন্তত ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ কিংবা তারও বেশি হয় তাহলে সেটা আবার আওয়ামী লীগের জন্য আরেকটি রাজনৈতিক বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে।

কারণ সেক্ষেত্রে আওয়ামী লীগবিহীন নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতাই শুধু নয়, একইসঙ্গে এতে অভ্যুত্থানের প্রতি সমর্থনও নতুন করে স্পষ্ট হবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

ফলে বৃহস্পতিবারের নির্বাচন যে শুধু বিএনপি-জামায়াতের লড়াই তা নয়, একইসঙ্গে এখানে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যতও নির্ভর করছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ছবি : সংগৃহীত
ধোলাইখালে ফুটপাত দখলমুক্তে অভিযান শুরু, অবৈধ স্থাপনা অপসারণের নির্দেশ

রাজধানীর ধোলাইখাল এলাকায় ফুটপাত উদ্ধারে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। সড়কের পাশে গড়ে ওঠা বিভিন্ন দোকান ও প্রতিষ্ঠানের অবৈধ সম্প্রসারণ অপসারণ করা হচ্ছে।   বুধবার (১ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে ধোলাইখাল তিন রাস্তার মোড় থেকে ডিএমপির লালবাগ জোন এ অভিযান শুরু করে। এতে নেতৃত্ব দেন ডিএমপির স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান।   অভিযান চলাকালে দেখা যায়, বিভিন্ন মোটর গ্যারেজের সামনে ত্রিপল টানিয়ে রাখা হয়েছে এবং ফুটপাত দখল করে যন্ত্রাংশ ও সরঞ্জাম রাখা হয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি টের পেয়ে ব্যবসায়ীরা দ্রুত এসব সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে অবৈধভাবে রাখা সামগ্রী অপসারণের নির্দেশ দেন তিনি।   এ সময় একটি গাড়ি সড়কে রেখে মেরামত করার দায়ে সেটি ডাম্পিংয়ের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং অতিরিক্ত মালামাল জব্দের নির্দেশ প্রদান করা হয়।   অভিযানে পুলিশের ফর্কলিফট, পিকআপসহ বিভিন্ন যানবাহন ব্যবহার করা হচ্ছে। এ সময় লালবাগ ট্রাফিক বিভাগের ডিসি মফিজুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।   ডিএমপি জানিয়েছে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সড়ক ও ফুটপাত দখল করে রেস্টুরেন্ট, ওয়ার্কশপ, ওয়েল্ডিং দোকান, পোশাক ও আসবাবপত্রের দোকানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অবৈধভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব কারণে পথচারীদের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে।   কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, ফুটপাত দখল রোধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আক্তারুজ্জামান এপ্রিল ০১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

শিল্পবর্জ্যে দূষিত গজারিয়া খাল, ক্ষতির মুখে ত্রিশালের কৃষক

ছবি : সংগৃহীত

ফার্মগেটে ফুটপাত দখলমুক্তে অভিযান, অবৈধ দোকান উচ্ছেদ

মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রীর সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চাইল বাংলাদেশ

ছবি : সংগৃহীত
হামসহ ছয় টিকার সংকট, উদ্বেগ বাড়ছে জনস্বাস্থ্যে

দেশে প্রতি বছর জন্ম নেয় ৪০ লাখের বেশি শিশু। তাদের সুরক্ষায় ১২টি রোগ প্রতিরোধে দেওয়া হয় ৯ ধরনের টিকা। জন্মের পর থেকে ১৫ মাস বয়স পর্যন্ত এসব টিকা পায় শিশুরা। তবে ফুরিয়েছে ছয় ধরনের টিকার মজুত। এগুলো হলো হাম-রুবেলা, পোলিও, যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া, ডিপথেরিয়া-ধনুষ্টংকার, হেপাটাইটিস-বি। তবে এসব টিকা মাঠপর্যায়ে থাকার দাবি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।   ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অপারেশনার প্ল্যান (ওপি) বাতিল হলে সংকটে পড়ে টিকা কার্যক্রম। দেশের বিভিন্ন এলাকায় টিকা বঞ্চিত হয় অনেক শিশু। কমে যায় টিকাদানের হার। পরে সব ধরনের টিকার জন্য হাজার কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে শুধু শিশুদের টিকায় বরাদ্দ রাখা হয় ৮৪২ কোটি টাকা। সরাসরি কেনার পাশাপাশি টেন্ডারেও টিকা কেনার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সেই প্রক্রিয়া শেষ করা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় কেটে যায় দীর্ঘ সময়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান বলেন, ‘আগে টিকাগুলো সরাসরি ইউনিসেফের কাছ থেকে কেনা হতো। এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে অর্ধেক ইউনিসেফের কাছ থেকে এবং অর্ধেক ওপেন টেন্ডারের মাধ্যমে কেনা হবে বলে জানানো হয়। এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন এবং বাস্তবায়নে রাষ্ট্রীয়ভাবে একটি জটিলতা তৈরি হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং পরবর্তীতে তা বাতিল হয়ে গেছে, এর কোনো বিকল্প হাতে রাখা হয়নি। এর ফল আমরা এখন ভোগ করছি। এখন পরিকল্পনা চলছে আবারও সরাসরি টিকা কেনা যায় কি না। এমনটি হলে বরাদ্দের বাকি অর্ধেক টাকা আমরা সরাসরি ক্রয়ে ব্যয় করতে পারব। এতে দেশে টিকার মজুত থাকবে। যেখানে সংকট আছে সেখানে পাঠানো সম্ভব হবে বলেও জানান তিনি। এদিকে রাজধানীসহ সারা দেশের হাসপাতালে বাড়ছে হামে আক্রান্ত রোগীর ভিড়। কোথাও কোথাও হামে আক্রান্ত শিশুদের সঙ্গে অন্যান্য রোগীদের রাখায় এর সংক্রমণ বাড়ছে। বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আট দিন আগে নিউমোনিয়া আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয় সাত মাস বয়সি ফাতেমা। ফাতেমার নানি জানান, গত ফেব্রুয়ারি থেকেই নিউমোনিয়াতে ভুগছে ফাতেমা। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্বিতীয় দফায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু হাসপাতালে নিউমোনিয়ার চিকিৎসা নিতে এসে হামে আক্রান্ত হয়েছে ফাতেমা। এখন তার অবস্থা বেশ জটিল। এ অবস্থায় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের বিস্তার রোধে আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্ত করে আলাদা রাখা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু সারা দেশের হাসপাতালে শুরুর দিকে হামের রোগীর সঙ্গে ঠান্ডাজনিত বা অন্য রোগের রোগীদের একসঙ্গে রাখায় ছড়িয়েছে সংক্রমণ। তাই সংক্রমণ প্রতিরোধে হামের লক্ষণযুক্ত শিশুদের দ্রুত আইসোলেশনে নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে, যাতে সংক্রমণ অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে না পারে। এজন্য দেশের সব সরকারি হাসপাতালে হামের চিকিৎসার জন্য আলাদা ওয়ার্ড চালু করার নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সংক্রমক ব্যাধি হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. তানজিনা জাহান বলেন, গতকাল এই হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া রাজশাহীতে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে চলতি বছর এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ৪৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। কুমিল্লা : কুমিল্লায় বাড়ছে হামের প্রকোপ। গতকাল সন্ধ্যায় কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. আলী নূর মোহাম্মদ বশির বলেন, গত এক মাসে ৬৯ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৮ জনের পজিটিভ এসেছে। পর্যায়ক্রমে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। এ বিষয়ে আমরা সতর্ক রয়েছি। রাজশাহী : রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছে ১৬ শিশু। গতকাল পর্যন্ত এ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে ৯৮ শিশু। নাটোর : জেলাজুড়ে সোমবার পর্যন্ত ৩৮ জন আক্রান্ত হয়েছে। যার মধ্যে শুধু নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে ১৩ জন ভর্তি হয়েছে। গতকাল জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলায় হামের প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে জনসচেতনতা সভায় এ তথ্য জানানো হয়। রংপুর : বিভাগের ৬ জেলায় ১০ শিশু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। এর মধ্যে ছয়জন হাম এবং চারজন হাম রুবেলায় আক্রান্ত। বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামে মোট আট রোগী শনাক্ত হয়েছে। তাছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে ৫৫ শিশু বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছে। এ ছাড়া হাম সন্দেহে আরও ৯১ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে গতকাল এ তথ্য জানা যায়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া : ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রতন কুমার ঢালী জানান, শিশু ওয়ার্ডে ৭০ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। এর মধ্যে সাতজন সন্দেহভাজন হামের রোগী রয়েছে। রূপগঞ্জ : প্রাথমিক লক্ষণ নিয়ে চার শিশু রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে এ তথ্য জানা যায়। পটুয়াখালী : জেলায় ৩০ মার্চ পর্যন্ত জেলা শহরসহ বিভিন্ন উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি আছে ১৬ শিশু। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আট রোগী ভর্তি হয়েছে বলে জেলা সিভিল সার্জন অফিস রিপোর্টে জানা গেছে। গোপালগঞ্জ : জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে মোট সাত শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে। জেলা সিভিল সার্জন আবু সাঈদ মোহাম্মদ ফারুক এ তথ্য জানান। রাজবাড়ী : রাজবাড়ীতে পাঁচ শিশুর হাম শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে বর্তমানে তিনজন রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে ভর্তি। গতকাল জেলা সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাসুদ এ তথ্য জানান। বাঞ্ছারামপুর : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় গত ৪৮ ঘণ্টায় হামের লক্ষণ নিয়ে দুই শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। হাসপাতালের মুখপাত্র ও প্রধান আবাসিক চিকিৎসক ডা. রঞ্জন বর্মণ এ তথ্য জানান। মুন্সিগঞ্জ : মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে তিনজন হামের রোগী ভর্তি আছে বলে নিশ্চিত করেছে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল ও সিভিল সার্জন কর্তৃপক্ষ। গাজীপুর : গত তিন মাসে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ৪৪ রোগী চিকিৎসা নিয়েছে বলে সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমান জানিয়েছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ : জেলা হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে সেখানে হামে আক্রান্ত হয়ে ৭৭ শিশু ভর্তি আছে। এ ছাড়া ১৩ শিশু চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছে।

মোঃ ইমরান হোসেন এপ্রিল ০১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

‘তন্ত্র-মন্ত্রে নাম ওঠানো অমুক্তিযোদ্ধাদের ধরতে অভিযান

ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে ৩ দিন অনলাইন ক্লাস চালুর নির্দেশ

খেলাধুলাকে তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে হবে : এলজিআরডি মন্ত্রী

ছবি : সংগৃহীত
শহীদ মুগ্ধের বাবার চিকিৎসার খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী

চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদ মীর মুগ্ধের অসুস্থ বাবা মীর মোস্তাফিজুর রহমানের চিকিৎসার খোঁজ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মুগ্ধের বাবা মীর মোস্তাফিজুর রহমান সম্প্রতি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি হন। গতকাল তার জটিল হৃদযন্ত্রের অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বিশিষ্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে অভিজ্ঞ চিকিৎসক দলের মাধ্যমে এই অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। শহীদ মুগ্ধের বাবা মীর মোস্তাফিজুর রহমানের অসুস্থতার খবর জানামাত্র বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার চিকিৎসার খোঁজখবর নিতে এবং পাশে দাঁড়াতে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমনকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহনের নির্দেশ দেন। এরপর আজ প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. মনোয়ারুল কাদির বিটুর নেতৃত্বে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্য সচিব মোকছেদুল মোমিন মিথুনের উপস্থিতিতে একটি প্রতিনিধিদল হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে যায়। তারা মুগ্ধের বাবার সার্বিক চিকিৎসার তদারকি করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর সহমর্মিতার বার্তা পৌঁছে দেন। এসময় মীর মোস্তাফিজুর রহমান প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোয়া করেন এবং মুগ্ধের বড় ভাই দিপ্ত ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন— ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্য মুস্তাকিম বিল্লাহ, জাতীয় হৃদরোগ ইনিস্টিউটের ড্যাব সাধারণ সম্পাদক ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামাল, সহযোগী অধ্যাপক এটিএম নুরুন্নবী শাহ, সহকারী পরিচালক ডা. মেজবাহ উদ্দিন আহমদ, সহকারী অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, সহকারী অধ্যাপক ডা. সরোয়ার হোসেন, সহকারী অধ্যাপক ডা. সাদেকুল ইসলাম, ড্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক ডা. এম আর হাসান, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের আজহারুল ইসলাম হামীম, মো. আমান উল্লাহ, অপু দেবনাথ প্রমুখ। উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমারনে পক্ষে  ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ শহীদ মীর মুগ্ধের বাবার চিকিৎসা প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ। ফাইল ছবি

কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও কৃষক সহায়তায় সরকারের ব্যাপক উদ্যোগ : কৃষিমন্ত্রী

৩০ হাজার ৯ জন শ্রমিককে লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে আইনি সেবা প্রদান

ফাইল ছবি

২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচার: ইউসিবিএলের সাবেক দুই পরিচালক কারাগারে

0 Comments