বিশ্ব

সামাজিক মাধ্যমে তথ্যের ছড়াছড়ি, সংকটে সাংবাদিকতার বিশ্বাসযোগ্যতা

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দ্রুত তথ্যপ্রবাহের কারণে প্রচলিত সাংবাদিকতা ক্রমেই পিছিয়ে পড়ছে। এর ফলে গণমাধ্যমের প্রতি মানুষের বিশ্বাস কমে যেতে পারে—সম্প্রতি এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নেভাল ওয়ার কলেজের গবেষক চার্লস এডওয়ার্ড গেহরকে।

তার মতে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় পশ্চিমা গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ও পরিবর্তিত শিরোনামের একটি ধারা দেখা যায়। কখনো বলা হচ্ছিল ইউক্রেন দ্রুত হারবে, আবার কখনো বলা হচ্ছিল তারা জয়ের পথে। অনেক দর্শকের কাছে এটি পক্ষপাত মনে হলেও, গবেষকের মতে, আসল সমস্যা ছিল তথ্য যাচাইয়ের জন্য পর্যাপ্ত সময় না নেওয়া।

তিনি বলেন, অতীতে সাংবাদিকতার তথ্য ধীরে আসত এবং ঘটনার পর যাচাই করে প্রতিবেদন প্রকাশ করা সম্ভব ছিল। কিন্তু এখন সামাজিক মাধ্যমে ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে ভিডিও, ছবি ও নানা দাবি ছড়িয়ে পড়ে। মানুষ প্রথমে এসব দেখেই নিজেদের মত তৈরি করে ফেলে। এরপর যখন যাচাই করা সংবাদ প্রকাশিত হয়, তখন সেটি দেরিতে আসা বা বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না।

বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্র এখন শুধু মাঠে সীমাবদ্ধ নয়। তথ্যও বড় অস্ত্র হয়ে উঠেছে। ড্রোন ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর ভিডিও ও তাৎক্ষণিক দাবি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু সাংবাদিকদের কাজ হলো তথ্য যাচাই করা, সোর্স নিশ্চিত করা ও প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করা; যা সময়সাপেক্ষ। ফলে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যের সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন প্রকাশের মধ্যে সময়ের ব্যবধান তৈরি হয়।

এই ব্যবধানই মানুষের আস্থা কমিয়ে দিচ্ছে। কারণ মানুষ এখন আগে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ক্লিপ দেখে, পরে সংবাদ পড়ে। দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য থাকলে সংবাদমাধ্যমকেই অনেক সময় বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন মনে হয়।

গেহরকের মতে, সাংবাদিকতা এখন এক ধরনের ‘গতির ফাঁদে’ পড়েছে। দ্রুত খবর দিতে গেলে ভুল হওয়ার ঝুঁকি থাকে। আবার যাচাই করতে সময় নিলে প্রাসঙ্গিকতা হারানোর আশঙ্কা থাকে। তাই সাংবাদিকতার সামনে বড় প্রশ্ন হলো, কীভাবে দ্রুততা ও নির্ভুলতার মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা যায়।

তিনি মনে করেন, ভবিষ্যতে সংবাদমাধ্যমকে শুরুতেই নিশ্চিত উত্তর দেওয়ার বদলে অনিশ্চয়তা স্বীকার করে স্বচ্ছভাবে তথ্য উপস্থাপন করতে হবে। অর্থাৎ খবরটি যে যাচাই করা হয়নি, তা বলতে হবে। নয়তো মানুষের আস্থা আরও কমে যেতে পারে।

তার মতে, দ্রুতগতির তথ্যপ্রবাহের এই যুগে সাংবাদিকতার বিশ্বাসযোগ্যতা টিকিয়ে রাখতে হলে কাজের ধরনে বড় পরিবর্তন আনতে হবে। তথ্যসূত্র : দ্য কনভারসেশন

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

লন্ডনে সাইকেল ব্যবহার বেড়েছে ৪৩ শতাংশ

লন্ডনে গত কয়েক বছরে সাইকেল ব্যবহারের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২৪ সালে শহরটিতে সাইকেল ব্যবহার বেড়েছে প্রায় ৪৩ শতাংশ। তবে এত উদ্যোগের পরও ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার প্রায় আগের অবস্থাতেই রয়ে গেছে।   সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে লন্ডনে গাড়িতে ভ্রমণের হার প্রায় ২০১৮ সালের সমান রয়েছে। অর্থাৎ, সাইকেল ও গণপরিবহনের ব্যবহার বাড়লেও ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর মানুষের নির্ভরতা তেমন কমেনি।   পরিবেশবান্ধব নগর গড়তে লন্ডন দীর্ঘদিন ধরে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। শহরটিতে যানজট নিরসনে বিশেষ ফি আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি অনেক এলাকায় ‘কম যানবাহন অঞ্চল’ গড়ে তোলা হয়েছে, যেখানে ব্যক্তিগত গাড়ির চলাচল সীমিত করা হয়েছে। হাঁটা, সাইকেল চালানো ও গণপরিবহন ব্যবহারে মানুষকে উৎসাহিত করতেও নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন পদক্ষেপ।   বর্তমানে লন্ডনে মোট যাতায়াতের প্রায় এক-চতুর্থাংশই মানুষ হেঁটে সম্পন্ন করে। শহরের রাস্তায় সাইকেল আরোহীদের উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতো। এছাড়া হাজার হাজার বাস, যেগুলো বেশিরভাগই বৈদ্যুতিক এবং বিস্তৃত রেল নেটওয়ার্ক শহরের পরিবহন ব্যবস্থাকে সমৃদ্ধ করেছে।   তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমাতে লন্ডনের উদ্যোগ এখনো যথেষ্ট নয়। তাদের মতে, সাইকেল ব্যবহারের হার বাড়লেও এটি এখনো মোট যাতায়াতের মাত্র প্রায় ৫ শতাংশ। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসে প্রায় ২৭ শতাংশ যাতায়াত সাইকেলের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।   সূত্র : পেল্টিজেন

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ১৭, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

ড্রোন প্রযুক্তির উন্নতিতেই বাড়ছে ঝুঁকি, নিরাপত্তা নিশ্চিতে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত জাপানের

ছবি : সংগৃহীত

পরীক্ষায় অনিয়ম ও বেকারত্ব ইস্যুতে কোটায় মাঠে নামছেন রাহুল, সরব বিজেপি

ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বে মাছ উৎপাদন রেকর্ড উচ্চতায়, তবে জলবায়ু ঝুঁকি বাড়ছে

ছবি: সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধ থামার আভাস, শুল্ক নিয়ে নতুন পদক্ষেপে ট্রাম্প

শুল্ক’ শব্দটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সবচেয়ে পছন্দের শব্দগুলোর একটি। কিন্তু ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তাঁর মুখে শব্দটি খুব একটা শোনা যায়নি।   তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধের উত্তেজনা থিতিয়ে আসছে। যুদ্ধবিরতির সমঝোতা সই হবে শুক্রবার, তা সে যতই ভঙ্গুর হোক না কেন। ফলে দীর্ঘ এক মাসের যুদ্ধের অবসানের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় ট্রাম্প আবার শুল্ক ইস্যুতে ফিরেছেন। এতে আবার দ্রুতই নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হতে পারে। ফ্রান্সে চলমান জি–সেভেন শীর্ষ সম্মেলনের আগে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ যদি ৩ শতাংশ ডিজিটাল সেবা কর প্রত্যাহার না করেন, তাহলে ফরাসি ওয়াইনের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। ফ্রান্সের এই ডিজিটাল করের সবচেয়ে বড় চাপ পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতের মহিরুর প্রতিষ্ঠান অ্যামাজন, অ্যালফাবেট, অ্যাপল ও মেটার ওপর। নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মাখোঁকে বলেছিলাম, আমেরিকান কোম্পানিগুলোর ওপর যেন করারোপ না করা হয়। যদি তারা তা-ই করে, তাহলে ফ্রান্স থেকে আসা সব শ্যাম্পেন ও ওয়াইনের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ ছাড়া আমার উপায় থাকবে না।’ ফ্রান্স ২০১৯ সালে এই কর চালু করার পর থেকেই ট্রাম্প এমন হুমকি দিয়ে আসছেন। সর্বশেষ সতর্কবার্তার আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতেও তিনি ফরাসি ওয়াইন ও শ্যাম্পেনের ওপর ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন। মাখোঁ ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে গাজা ইস্যুতে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘শান্তি বোর্ডে’ তিনি যোগ দেবেন না, সেই পরিপ্রেক্ষিতে এমন হুমকি দেন ট্রাম্প। তবে নানা কারণে ট্রাম্প এখনো সেসব হুমকি বাস্তবায়ন করেননি। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে সমঝোতা এবং ফ্রান্সের উদ্দেশ্যে দেওয়া নতুন শুল্ক হুমকির মধ্যে সম্পর্ক নেই। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কুশ দেসাই বলেন, এটি প্রেসিডেন্টের আগের অবস্থানেরই ধারাবাহিকতা। ফরাসি ওয়াইন ও শ্যাম্পেনের বাইরে ট্রাম্প ইউরোপীয় ইউনিয়নের গাড়িতেও শুল্ক বৃদ্ধির কথা বলেছেন। তাঁর অভিযোগ, গত গ্রীষ্মে যে বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন তা লঙ্ঘন করছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর জাপান, চীন ও ভারতের সব পণ্যে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে নতুন শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে। অভিযোগ, এসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি করছে। আগামী মাসে সাময়িক ১০ শতাংশ আমদানি করের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন শুল্ক কার্যকর হতে পারে।   আগের শুল্কের ধাক্কা এখনো কাটেনি গত বছরের এপ্রিলে ট্রাম্প পাল্টা শুল্ক আরোপ করেন। এতে ব্যবসায়িক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে, অনেক নিয়োগের সিদ্ধান্ত থমকে যায়। পরে এসবের বেশির ভাগই সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করে দেন। এক বছরের বেশি সময় পর শ্রমবাজারে সেই প্রভাব কিছুটা কমতে শুরু করেছে। অনিশ্চিত বাণিজ্য পরিস্থিতির কারণে যেসব নিয়োগদাতা আগে কর্মী নিয়োগে দ্বিধায় ছিলেন, তাঁরা আবার নিয়োগ দিচ্ছেন। গত তিন মাসে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি মাসে গড়ে ১ লাখ ৮৮ হাজার নতুন চাকরি সৃষ্টি হয়েছে। অথচ গত বছর এই সংখ্যা মাসে ১০ হাজারের কম ছিল। তবে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের আগে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি ছিল ২ দশমিক ৪ শতাংশ। তা গত মাসে বেড়ে হয়েছে ৪ দশমিক ২ শতাংশ, তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ভোক্তা মূল্যসূচক অনুযায়ী, মাসিক ভিত্তিতে দাম বেড়েছে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ। এর ৬০ শতাংশের জন্য দায়ী জ্বালানির উচ্চ মূল্য। এই পরিস্থিতিতে নতুন করে শুল্ক আরোপের সম্ভাবনা অর্থনীতির জন্য আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে অর্থনীতিবিদেরা এখনো খাদ্য ও জ্বালানিবহির্ভূত মূল্যস্ফীতির পরিসংখ্যানে স্বস্তি খুঁজছেন, যাকে বলে কোর ইনফ্লেশন। মে মাসে এই সূচক মাসিক ভিত্তিতে বেড়েছে শূন্য দশমিক ২ শতাংশ এবং বার্ষিক ভিত্তিতে ২ দশমিক ৯ শতাংশ। যদিও ভোক্তা মূল্য সূচক ছিল ৪ দশমিক ২ শতাংশ। এর অর্থ, যুদ্ধের কারণে জ্বালানির বর্ধিত মূল্যের কারণে এখনো অন্য পণ্য ও সেবার ক্ষেত্রে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়নি। যদিও ব্যবসার অন্যতম বড় খরচের জায়গা হলো জ্বালানি; দাম বাড়লে প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত সেই চাপ ভোক্তার ওপর চাপিয়ে দেয়। তবে পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়—হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজ চলাচল যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরলেও কোনো কিছু স্পস্ট করা বলা যাচ্ছে না। ফরাসি ব্যাংক বিএনপি পারিবাসের অর্থনীতিবিদেরা গত সপ্তাহে এক বিশ্লেষণে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও মহামারি–পরবর্তী মূল্যস্ফীতির দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো স্থায়ী মূল্যস্ফীতির ঝুঁকিতে রয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৭, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে বিমান দুর্ঘটনা: মহাসড়ক বন্ধ, নিহত ১

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি : সংগৃহীত

‘আমি না থাকলে ইসরায়েল টিকেই থাকত না’, দাবি ট্রাম্পের

ছবি : সংগৃহীত

টাইমস স্কয়ারে গুলির ঘটনায় আটক অর্ধশতাধিক

ছবি - সংগৃহীত
ইরান চুক্তি নিয়ে সিআইএ প্রধানের সংশয়, হোয়াইট হাউসে ভিন্নমত

ইরানের সঙ্গে হতে যাওয়া সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছেন দেশটির কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-র পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ। বিশেষ করে পারমাণবিক বিষয়ে একের পর এক ছাড় দেওয়ার ক্ষেত্রে তেহরানের সদিচ্ছা কতটুকু রয়েছে, তা নিয়ে গোয়েন্দা সংস্থাটির মনে মারাত্মক সন্দেহ রয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানা গেছে।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফের পাশাপাশি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এই চুক্তিটি নিয়ে তাদের গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।   অন্যদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার চুক্তিটির পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই চুক্তিটি নিয়ে আলোচনার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং তার উপদেষ্টারা বেশ কয়েকটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন।   সূত্র মতে, সেসব বৈঠকে ট্রাম্প এবং তার দল এমন কিছু গোপন গোয়েন্দা তথ্য পর্যালোচনা করেছেন, যা থেকে জানা গেছে, ইরানি কর্মকর্তারা নিজেদের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় চুক্তিটি নিয়ে যেভাবে কথা বলছেন, তা মধ্যস্থতাকারী এবং যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দেওয়া তাদের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে ‘অসংগতিপূর্ণ’।   সিআইএ পরিচালক র‍্যাটক্লিফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও যুক্তি দেখিয়েছেন যে, এই গোয়েন্দা তথ্যগুলো ওয়াশিংটনের চাওয়া অনুযায়ী ইরান শেষ পর্যন্ত পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত পদক্ষেপগুলো মেনে নেবে কি না, তা নিয়ে বড় ধরনের সন্দেহের সৃষ্টি করে।   তবে প্রশাসনের ভেতরের এই মতভেদ নিয়ে হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেকোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে সব ধরনের মতামতই শোনেন, তবে সবাই এটা ভালো করেই বোঝেন যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার মালিক একমাত্র তিনিই।   হোয়াইট হাউসের ওই কর্মকর্তা চুক্তির পক্ষে সাফাই গেয়ে আরও বলেন, এই চুক্তিটি বর্তমান প্রশাসনের দীর্ঘদিনের সব কঠোর শর্তগুলো পূরণ করে। কারণ এটি নিশ্চিত হবে যে ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে পারবে না, তারা তাদের উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিজেদের কাছে রাখতে পারবে না এবং বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহকে আর কখনোই জিম্মি করার সুযোগ পাবে না।   সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১৬, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

কেন জটিল হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তি?

ছবি : সংগৃহীত

নির্বাচনী ফল চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ মমতা

ছবি : সংগৃহীত

শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল জাপান

0 Comments