অন্যান্য

দুইশর অধিক আসনে বিজয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে বিএনপি

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬

রাত পোহালেই শুরু হবে বহুল আলোচিত ও প্রত্যাশিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। তপশিল অনুযায়ী, এরই মধ্যে ধাপে ধাপে সম্পন্ন হয়েছে ভোটের মাঠের প্রচার ও প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতির কাজ। এবারের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দুইশর বেশি আসনে জয়ের প্রত্যাশা দলটির নীতিনির্ধারকদের।


নির্বাচনী বিভিন্ন সমীকরণ বিশ্লেষণ করে বিএনপির হাইকমান্ড মনে করছে—সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট হলে অন্তত দুইশর বেশি আসনে জয় পাবে দলটি। তাদের মতে, সারা দেশে আসনভিত্তিক প্রার্থী যাচাই-বাছাই এবং জনমত জরিপের ভিত্তিতে দেখা গেছে, অন্তত ২২০ থেকে ২৩৩টি আসনে বিএনপি এককভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।


গত সোমবার এমিনেন্স অ্যাসোসিয়েটস ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট (ইএএসডি) তাদের জরিপে জানিয়েছে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট জিততে পারে ২০৮টি আসন, যা নির্বাচনে দলটির শক্ত অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়। অন্যদিকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট প্রায় ৪৬টি আসনে জয়ের সম্ভাবনা দেখাচ্ছে। রয়টার্সসহ দেশি-বিদেশি গণমাধ্যম ও প্রতিষ্ঠানের জরিপেও বিএনপির বিপুল ব্যবধানে জয়ের সম্ভাবনার আভাস মিলেছে।
বিএনপি নেতারা মনে করছেন, সাধারণ ভোটার এবং নতুন প্রজন্মের বিপুল সমর্থন এবার তাদের ক্ষমতায় ফেরাবে। বিশেষ করে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সরাসরি তদারকি ও কৌশলী নেতৃত্বে এই আত্মবিশ্বাস আরও তুঙ্গে। দীর্ঘ দেড় যুগ পর দেশে ফিরে তারেক রহমান তার ভিন্নধর্মী গণসংযোগ দিয়ে ভোটের মাঠে বড় ধরনের আলোড়ন তুলতে সক্ষম হয়েছেন। দেশজুড়ে যেন বইছে ‘তারেক বসন্ত’।


দলের দায়িত্বশীল নেতারা ভোটে জয় সম্পর্কে দৃঢ় প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেছেন, সরকার গঠন করলে তারা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, দুর্নীতিমুক্ত ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিনিধিত্ব করতে সক্ষম হবেন।


রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন দেশে গণতান্ত্রিক প্রশান্তি ফেরাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শেখ হাসিনার ১৭ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের নেতিবাচক প্রভাবে বর্তমান জনমতের যথাযথ প্রতিফলন ঘটলে বিএনপির জয় সুনিশ্চিত। দলটি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে সক্ষম হবে। এজন্য সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সবচেয়ে বেশি জরুরি বলে তারা মনে করেন।


বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘সার্বিকভাবে মনে হচ্ছে এবারের নির্বাচন ভালো হবে। কারণ এবারের নির্বাচনে চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স ও কাউন্টার ব্যালেন্স সঠিকভাবে থাকায় তথাকথিত ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের আশঙ্কা নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘অনেক দিন ধরে নির্বাচন না হওয়ায় সবার মধ্যে উদ্বেগ ছিল। তবে এখন পর্যন্ত নির্বাচনের পরিবেশ ভালো। প্রথম দিকে কিছু ঘটনা ঘটলেও পরে সবাই সংযত হয়েছে।


ফলাফলের বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ফলাফল যা-ই হোক, আমরা সবসময় স্বাগত জানিয়েছি। ২০০৮ সালে যখন আমরা ৩০টি আসন পেয়েছিলাম, তখনও আমরা সংসদে গিয়েছিলাম। আমরা সব নির্বাচনকেই গুরুত্ব দিয়ে নিই। প্রতিটি প্রতিদ্বন্দ্বী দলকে সিরিয়াসলি নিচ্ছি এবং সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমরা আশাবাদী যে, এবার বিএনপি ল্যান্ডস্লাইড জয় পাবে।


বিএনপি এবারের নির্বাচনে এককভাবে এবং জোটগতভাবে উভয় দিক থেকেই লড়ছে। দলটির মূল শক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে তাদের তৃণমূলের সুসংগঠিত বিশাল ভোটব্যাংক। এছাড়া বিএনপি তাদের ৫১ দফার নির্বাচনী ইশতেহারে তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থান এবং রাষ্ট্র সংস্কারের বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দিয়েছে।


সম্প্রতি তারেক রহমানের ক্যারিশম্যাটিক প্রচারণায় বিএনপির হাইকমান্ড বেশ আশাবাদী। দলের চেয়ারম্যান ও নীতিনির্ধারকরা সারা দেশে আসনভিত্তিক প্রার্থী যাচাই-বাছাই ও জনমত জরিপ সম্পন্ন করেছেন। এসব জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ২২০ থেকে ২৩৩টি আসনে বিএনপির প্রার্থীরা জয়ের দৌড়ে প্রতিপক্ষের চেয়ে এগিয়ে আছেন। দেশের সব বিভাগেই বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে বলে বিশ্বাস বিএনপির শীর্ষ নেতাদের। দেশের উত্তরাঞ্চল ও খুলনার কিছু আসনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট শক্তিশালী হলেও ঢাকার, চট্টগ্রামের, বরিশাল, সিলেট ও ময়মনসিংহের সিংহভাগ আসনে বিএনপির অবস্থান অত্যন্ত শক্তিশালী।


বিএনপির গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান বলেন, ‘বিপুল ব্যবধানে জয়ের ব্যাপারে অত্যন্ত আশাবাদী। কারণ আমাদের দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে প্রত্যাবর্তনের পর দিন-রাত নির্বাচনী প্রচারণা ও গণসংযোগ করেছেন। তার নেতৃত্বের প্রতি দেশের মানুষ আস্থাশীল ও আশাবাদী।


দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান ভূঁইয়া মিল্টন বলেন, ‘সাধারণ মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য মুখিয়ে আছে। বিএনপি সারা দেশে ২৮৮টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। তৃণমূলের যে জোয়ার দেখছি, তাতে দুই-তৃতীয়াংশ আসন পাওয়া আমাদের জন্য কঠিন কিছু নয়। তবে মূল লক্ষ্য হলো অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা। গ্রাম থেকে শহর, সর্বত্রই ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। সুষ্ঠু ভোট হলে বিএনপি দুই শতাধিক আসন নিয়ে সরকার গঠন করবে, এটি স্পষ্ট।


মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছর বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদের পতনের পর ২৫ ডিসেম্বর দেশে আসেন। ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে নির্বাচনী তপশিল ঘোষণার পর সারা দেশে ব্যাপক নির্বাচনী গণসংযোগ করেন। এবারের নির্বাচনে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে আগামীর কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ে তুলবেন।


রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামো এখনও শক্তিশালী। নতুন ভোটার এবং তরুণ সমাজের একটি বড় অংশ পরিবর্তনের আশায় বিএনপির দিকে ঝুঁকছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, ‘বিএনপি এবং তাদের জোটের শরিকরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়েই সরকার গঠন করবে। কারণ বিএনপি সবকিছুতে পরীক্ষিত রাজনৈতিক দল, যারা ফ্যাসিবাদী শাসনের সময় নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তারপরও দেশের বাইরে থেকে তারেক রহমান দলকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছেন।


সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. সাহাবুল হক বলেন, ‘বিএনপির রাজনৈতিক আত্মবিশ্বাস, নির্বাচনী গণসংযোগ এবং দেশের মানুষের সমর্থন দেশের ইতিহাসে তাদের ক্ষমতায় ফেরার সম্ভাবনা নির্দেশ করছে। তবে ভোটের চূড়ান্ত ফল ঘোষণার আগে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন।’

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

অন্যান্য

আরও দেখুন
সংগৃহীত ছবি
দেশে নতুন রাজনৈতিক দলের যাত্রা, নেতৃত্বে যারা

মহান মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষা এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রেরণায় ‘বাংলাদেশ জনরাষ্ট্র আন্দোলন’ নামে নতুন একটি রাজনৈতিক দল আত্মপ্রকাশ করেছে।   সোমবার (৩ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ও জুলাই অভ্যুত্থানের সামনের সারির যোদ্ধাদের উদ্যোগে দলটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।   অনুষ্ঠানে দলের সম্পাদক হিসেবে মুহাম্মদ উল্লাহ মধু এবং মুখপাত্র হিসেবে ইকবাল হোসেনের (সাম্য শাহ) নাম ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে ৩৭ সদস্যের একটি কেন্দ্রীয় কমিটিও ঘোষণা করা হয়। কমিটিতে ২১ জন সংগঠক এবং ১৪ জন সদস্য রয়েছেন। সংগঠনটির ঘোষণাপত্র পাঠ করেন মুখপাত্র ইকবাল হোসেন।   এতে জানানো হয়, তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থান, ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের ধারাবাহিকতাকে রাজনৈতিক পরিবর্তনের ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করে। একই সঙ্গে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, গণতন্ত্র, মানবাধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা, আইনের শাসন, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং বৈষম্যহীন রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার তুলে ধরা হয়।   সংগঠনটির ভাষ্য, জুলাই-পরবর্তী সময়ে রাজনীতিতে পরিবর্তনের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা পূরণ না হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। সেই জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণের প্ল্যাটফর্ম হতে চায় ‘বাংলাদেশ জনরাষ্ট্র আন্দোলন’। দেশের সব দেশপ্রেমিক নাগরিককে এ উদ্যোগে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।   আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, দেশের সম্ভাবনার কেন্দ্রবিন্দু তারুণ্য। এখনো দেশের মানুষ তরুণদের দিকেই আশা নিয়ে তাকিয়ে আছে। সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটিয়ে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।   প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নূর বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকট এখনো পুরোপুরি কাটেনি। দেশের রাজনীতিতে বিদেশি শক্তির প্রভাব ও হস্তক্ষেপের আশঙ্কা এখনো বিদ্যমান।’   এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলে সবার অংশগ্রহণে গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।   বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘একটি পক্ষ গালাগালি ও বিদ্বেষকে রাজনীতির অংশে পরিণত করতে চায়, যা তরুণদের বিপথগামী করছে। বাংলাদেশ জনরাষ্ট্র আন্দোলনের সংগঠকদের এ ধরনের নেতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে তরুণদের বের করে এনে আলোর পথ দেখাতে হবে এবং ইতিবাচক ধারার রাজনীতি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে হবে।’   অনুষ্ঠানে গণফোরামের সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ মোহসিন রশিদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বিদ্বেষমূলক না হলে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে আইনগত বাধা নেই: চিফ প্রসিকিউটর

ছবি : সংগৃহীত

নাটোরে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে পাটের আবাদ

ছবি : সংগৃহীত

ভারতে যাওয়ার পর প্রথম প্রকাশ্য উপস্থিতি: ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানাবেন শেখ হাসিনা

ছবি: সংগৃহীত
অনুষ্ঠানে বক্তব্যের আগে চোখে ব্যান্ডেজ বেঁধে মঞ্চে উঠলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

চোখে ব্যান্ডেজ বেঁধে প্রতীকী প্রতিবাদ জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। হবিগঞ্জে এনসিপির ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির সংগঠক আলিফের ওপর হামলায় চোখ হারানোর প্রতিবাদে তিনি এ অভিনব প্রতিবাদ জানান।   সোমবার (৩ আগস্ট) এক সভায় তাকে চোখে ব্যান্ডেজ বেঁধে বক্তব্য দিতে দেখা যায়। বক্তব্য দেওয়ার জন্য নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নাম ঘোষণার পরেই তিনি পর্দার আড়ালে চলে যান। প্রায় ১ মিনিট পরে তিনি বক্তব্য দেওয়ায় স্থানে আসলে দেখা যায় তার চোখে ব্যান্ডেজ।     মূলত হবিগঞ্জে বিএনপি ও ছাত্রদল নেতাকর্মীদের হামলায় ছাত্রশক্তি নেতা আলিফের চোখ হারানোর ঘটনার প্রতিবাদ জানানোর জন্যই এই ব্যান্ডেজ বেঁধে বক্তব্য দিয়েছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানা গেছে, হবিগঞ্জে এনসিপির কর্মসূচিতে হামলায় এক এইচএসসি শিক্ষার্থী (আলিফ) তার একটি চোখ হারান বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে দেশব্যাপী নতুন কর্মসূচি ঘোষণা ইসলামী আন্দোলনের

ছবি: সংগৃহীত

জুলাই কুস্তিগিরদের আগাম অভিনন্দন, ‘একটাও মাইর মাটিতে পড়বে না’: মাহফুজ আলম

ভ্রমণে সবচেয়ে বেশি যে ভুলগুলো করেন পর্যটকেরা

ছবি: সংগৃহীত
এলপিজির দাম বৃদ্ধি, উদ্বেগ জানাল জামায়াত

দেশে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বৃদ্ধি করায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জামায়াতে ইসলামী। রোববার (২ আগস্ট) এক বিবৃতিতে দলের পক্ষে এ উদ্বেগের বার্তা দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। বিবৃতিতে তিনি বলেন, এমনিতেই দেশে নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বমুখিতায় দিশেহারা সাধারণ মানুষ। এর মধ্যে গৃহস্থালিতে ও গাড়িতে ব্যবহৃত এলপিজি ও অটোগ্যাসের মূল্য নতুন করে বাড়ানোয় ভোক্তাদের উপর বাড়তি ব্যয়ের বোঝা চাপিয়ে দিয়ে জনজীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে সরকার, যা খুবই উদ্বেগজনক। আমি সরকারের এমন জনবিরোধী সিদ্ধান্তের নিন্দা জানাই। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দফায় দফায় দাম বৃদ্ধি করেছে। এতে বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির ফলে দীর্ঘমেয়াদে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্তসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের আয় না বাড়লেও ব্যয় বাড়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। আমি অবিলম্বে গ্যাসের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার করে জনগণকে স্বস্থি দেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, আজ ২ আগস্ট ভোক্তা পর্যায়ে গৃহস্থালিতে বহুল ব্যবহৃত ১২ কেজির তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সিলিন্ডারের দাম ৭০ টাকা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এর ফলে ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৫৯৮ টাকা, যা দাম বাড়ার আগে ছিল ১ হাজার ৫২৮ টাকা। এছাড়া যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের নতুন দাম দাঁড়িয়েছে প্রতি লিটার ৭৩ টাকা ৬৭ পয়সা। তিনি বলেন, গ্যাসের এরূপ মূল্যবৃদ্ধি দেশের উৎপাদন খাতসহ সবক্ষেত্রে প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করছি। এজন্য দেশের চাহিদা পূরণে এলএনজি আমদানি করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। একই সঙ্গে এলপিজির বর্ধিত দাম প্রত্যাহার করে জনজীবন স্বস্তি ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

‘শেখ হাসিনার দেশত্যাগ অনেকেই চাননি’ : নাহিদ ইসলাম

ছবি: সংগৃহীত

জাহাজবাড়ি হত্যাকাণ্ডে অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়েছে

ছবি: সংগৃহীত

আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা: আপিল শুনানি ১১ আগস্ট পর্যন্ত মুলতবি

0 Comments