এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দিনের প্রথম ম্যাচে আজ গ্রুপ পর্বের খেলায় রোমাঞ্চ, উত্তেজনা, উষ্ণতা সবই ছিল আকাশচুম্বী। মূল ম্যাচ টাই হয়ে গেছে সুপার ওভারে। তবে এক সুপার ওভারেও ম্যাচের নিষ্পত্তি ঘটেনি। লেগেছে দুই সুপার ওভার। তাতেই বুঝা যায় ম্যাচের আবহ। শেষমেশ দ্বিতীয় সুপারে আফগানিস্তানকে হারিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। বলা চলে দুই সুপার ওভারের ‘পাগলাটে’ এক জয়ের অবিস্বরণীয় কীর্তি গড়ল ডি কক-রিকেলটন-মিলাররা। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে টসে জিতে আগে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় আফগানিস্তান। আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খেয়েছে প্রোটিয়ারা। আগের ম্যাচের জয়ের নায়ক অধিনায়ক এইডেন মারক্রাম ৮ বলে ৫ রান করে বিদায় নেন। ওপেনিং জুটি থেমেছে ১২ রানেই। এরপর কুইন্টন ডি কক এবং রায়ান রিকেলটন মিলে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন। দুজন এগিয়েছেন দেখেশুনে। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে মারক্রামকে হারিয়ে ৪৩ রান তুলেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। পাওয়ারপ্লে শেষে ধীরে ধীরে খোলস ছেড়ে বের হয়ে এসেছেন ডি কক এবং রিকেলটন। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে দলের রান বাড়িয়েছেন। ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিংয়ে ছুটেছে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস। দুজনই চলে যান ফিফটির খুব কাছে। ফিফটি ছুঁয়েছেনও তারা। আফগান বোলারদের পিটিয়ে তক্তা বানিয়ে এগিয়েছেন রিকেলটন এবং ডি কক। দলের ১২৮ রানের মাথাতে থেমেছেন ডি কক। ৪১ বলে ৫৯ রানের ইনিংস খেলে বিদায় নেন তিনি। রিকেলটনও একই ওভারে ফিরেছেন। আগ্রাসনের পাঠ দিয়ে ২৮ বলে ৬১ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলে সাজঘরে ফিরে গেছেন রায়ান রিকেলটন। দুই সেট ব্যাটারকে হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। ১৯ বলে ২৩ রান করে বিদায় নিয়েছেন ডেওয়াল্ড ব্রেভিস। ১৫ বলে ২০ রানের ক্যামিও খেলে টিকে ছিলেন ডেভিড মিলার। শেষ দিকে ৭ বলে ১৬ রানের ইনিংস খেলেছেন মার্কো ইয়ানসেন। নির্ধারিত ২০ ওভারের খেলা শেষে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৮৭ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় দক্ষিণ আফ্রিকা। আফগানিস্তানের হয়ে ৩ উইকেট শিকার করেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই। ২ উইকেট নেন রশিদ খান। ১ উইকেট তোলেন ফজলহক ফারুকী। জবাব দিতে নেমে আফগানিস্তানকে উড়ন্ত শুরু এনে দেন রহমানউল্লাহ গুরবাজ। ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিংয়ে প্রোটিয়া বোলারদের তুলোধুনো করেছেন গুরবাজ। বাউন্ডারির ফুলঝুরি ছুটিয়ে বের করেছেন রান। ওপেনিং জুটিতে এসেছে ৫১ রান। গুরবাজের সঙ্গী ইবরাহিম জাদরান ১০ বলে ১২ রান করে সাজঘরে ফিরে যান। দ্রুত আরও ২ উইকেট হারিয়ে ফেলে আফগানরা। গুলবাদিন নাইব এবং সেদিকউল্লাহ আতাল সাজঘরে ফিরে যান। ২ বলে ০ রান করেছেন নাইব, আতাল করেন ৩ বলে ০ রান।
পাঁচে নেমে যোগ দিয়েছেন ডারউইশ রাসুলি। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে আফগানিস্তান তোলে ৫৬ রান। দ্রুত ৩ উইকেট হারিয়ে রানের গতি কিছুটা কমেছে আফগানদের। তবে এক প্রান্ত ধরে তাণ্ডব চালিয়ে গেছেন গুরবাজ। চালিয়েছেন ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিং। ছুঁয়ে ফেলেন ফিফটি। প্রোটিয়া বোলারদের পিটিয়ে তক্তা বানিয়েছেন গুরবাজ। একের পর এক দারুণ শটে রান বের করেছেন। হাঁকিয়েছেন চার-ছক্কা। ফিফটির পর চলে যান সেঞ্চুরির খুব কাছে। সেঞ্চুরির একদম কাছে গিয়ে হতাশ করেছেন গুরবাজ। ৪২ বলে ৮৪ রানের বিস্ফোরক এক ইনিংস খেলে দলের ১২১ রানের মাথাতে বিদায় নেন তিনি। একই ওভারে বিদায় নেন ১৮ বলে ১৫ রান করে রাসুলিও। এরপর ৬ বলে ৫ রান করে মোহাম্মদ নবীও ফিরে গেছেন সাজঘরে। চাপের মুখে দলের হাল ধরেছেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই এবং রশিদ খান। পরিস্থিতি সামলে রান বের করেছেন। হাঁকিয়েছেন বাউন্ডারিও। শেষ দিকে শেষ ৩ ওভারে আফগানদের দরকার ছিল ৩০ রান। ক্রিজে ছিলেন রশিদ এবং ওমরজাই। টানা দুই ওভারে আউট হয়েছেন ওমরজাই এবং রশিদ। ১৭ বলে ২২ রান করেন ওমরজাই। ১২ বলে ২০ রান করে ফিরেছেন রশিদ। শেষ ওভারে ১৩ রান দরকার ছিল আফগানদের। স্ট্রাইকে ছিলেন নূর আহমেদ। প্রথম বলেই আউট হয়ে যেতে পারতেন নূর। তবে না, সেই বলেই নো বল করে ফেলেন কাগিসো রাবাদা। শেষ ওভারে আরও একটি নো বল করে আফগানদের মুখে ম্যাচটা তুলে দেন রাবাদা। শেষ দিকে সমীকরণ চলে আসে ৩ বলে ২ রানে। রাবাদার বল থেকে ২ রান নিতে যান নূর আহমেদ এবং ফজলহক ফারুকী। তবে রান আউট হয়ে যান ফারুকী, আসে ১ রান। ম্যাচ টাই!! মানে সুপার ওভার। নূর ৯ বলে ১৫ রান করে টিকে ছিলেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ৩ উইকেট নেন লুঙ্গি এনগিডি। ১টি করে উইকেট শিকার করেছেন মার্কো ইয়ানসেন, কাগিসো রাবাদা, কেশব মহারাজ এবং জর্জ লিন্ডে।
সুপার ওভারে আগে ব্যাট করতে নেমেছে আফগানিস্তান। ব্যাট হাতে নামেন রহমানউল্লাহ গুরবাজ এবং আজমতউল্লাহ ওমরজাই। বোলিংয়ে আসেন লুঙ্গি এনগিডি। প্রথম বলেই চার মেরে দেন ওমরজাই। পরের বলে ছক্কা হাঁকান ওমরজাই। পরের বলে ১ রান। স্ট্রাইকে আসেন গুরবাজ। ১ রান নেন গুরবাজও। ৪ বলে ১২ রান তোলে আফগানিস্তান। পরের বলে চার মারেন ওমরজাই। যদিও বলটা ধরে ফেলার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন কাগিসো রাবাদা। শেষ বলে নেন ১ রান। এক ওভারে এসেছে ১৭ রান। দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে দাঁড়ায় ১৮ রানের লক্ষ্য। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে নামেন ডেওয়াল্ড ব্রেভিস এবং ডেভিড মিলার। বোলিংয়ে ছিলেন আফগান পেসার ফজলহক ফারুকী। প্রথম বলে মিলার ১ রান নেন। স্ট্রাইকে আসেন ব্রেভিস। পরের বলে ছক্কা হাঁকান ব্রেভিস। পরের বলেই আউট হয়েছেন তিনি। স্লোয়ার বাউন্সার দিয়েছিলেন ফারুকী। বুঝতে পারেননি ব্রেভিস। বল ব্যাটে লেগে আকাশে উঠে যায়। ক্যাচ ধরে ফেলেন গুরবাজ। ৩ বলে দক্ষিণ আফ্রিকার ৭ রান, হারিয়ে ফেলে ১ উইকেট। এরপর ক্রিজে আসেন ত্রিস্টান স্টাবস। এসেই চার মেরে দেন তিনি। ২ বলে দরকার ৭ রান। তবে পরের বল হয়েছে ডট, মানে ১ বলে দরকার ৭ রান। শেষ বলে দারুণ এক ছক্কায় ম্যাচ আবার টাই করে ফেলেন স্টাবস। আবারও সুপার ওভার!
দ্বিতীয় সুপার ওভারে আগে ব্যাট করতে নামে দক্ষিণ আফ্রিকা। নেমে প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকান স্টাবস। পরের বলে আসে ১ রান, তার পরের বলে ২ রান। স্ট্রাইকে এবার ডেভিড মিলার। পরের দুই বলে দুই ছক্কায় দলের রান ২১ রানে নিয়ে যান ডেভিড মিলার। শেষ বলে এসেছে ২ রান। এক ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকা তোলে ২৩ রান। আফগানদের হয়ে বোলিংয়ে ছিলেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই। দ্বিতীয় সুপার ওভারে আফগানদের হয়ে ব্যাটিংয়ে নামেন মোহাম্মদ নবী এবং আজমতউল্লাহ ওমরজাই। বোলিংয়ে প্রোটিয়া স্পিনার কেশব মহারাজ। প্রথম বলেই হয়েছে ডট। পরের বলে নবী আউট হয়ে যান। ৪ বলে দরকার ২৪ রান। ম্যাচটা প্রায় সেখানেই জিতে নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। পরে ক্রিজে আসেন গুরবাজ। হাঁকান দারুণ এক ছক্কা। পরের বলেও ছক্কা হাঁকিয়ে দেন গুরবাজ। সমীকরণ চলে আসে ২ বলে ১২ রানে। পরের বলে আবারও ছক্কা হাঁকান গুরবাজ। টানা ৩ ছক্কায় সমীকরণ নেমে আসে ১ বলে ৬ রানে। পরের বলে মহারাজ দেন ওয়াইড। ১ বলে ৫ রান দরকার। তবে এবার আর জাদু দেখাতে পারেননি গুরবাজ। আউট হয়ে গেছেন। দ্বিতীয় সুপার ওভারে আফগানিস্তানকে হারিয়ে দিল দক্ষিণ আফ্রিকা।
তর্কসাপেক্ষে স্মরণকালের সর্বসেরা ম্যাচের দেখাই যেন পাওয়া গেল। দুই সুপার ওভারের রোমাঞ্চে ঠাসা ম্যাচে সমর্থকদের হার্ট অ্যাটাকের দশা করে ম্যাচে শেষ হাসি হাসলো দক্ষিণ আফ্রিকা।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
মহাকিব্যক এক ম্যাচ আজ উপহার দিল দক্ষিণ আফ্রিকা-আফগানিস্তান। যে কারণে ক্রিকেটবোদ্ধারা মনে করছেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসরের সেরা ম্যাচটি হয়তো আজই দেখে ফেলেছেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। ভারতের আহমেদাবাদে প্রথমে ব্যাট করে ১৮৭ রান করে দক্ষিণ আফ্রিকা। জবাবে আফগানিস্তানও করে সমান ১৮৭ রান। ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে। কিন্তু সুপার ওভারেও নিষ্প্রতি হয়নি ম্যাচটি। অবশেষে দ্বিতীয় সুপার ওভারে আফগানদের ৪ রানে হারিয়ে জয় নিশ্চিত করে প্রোটিয়ারা। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটিই প্রথম ডাবল সুপার ওভারের ম্যাচ। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথমবার সুপার ওভার হয় ২০১২ সালে। নিউজিল্যান্ডকে ৬ রানে হারিয়ে প্রথমবার সুপার ওভারে জেতা দল বনে যায় শ্রীলঙ্কা। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সুপার ওভার হয়েছে মোট পাঁচটি ম্যাচে। ২০১২ ও ২০২৪ বিশ্বকাপে দুটি করে এবং ২০২৬ বিশ্বকাপের এক ম্যাচে। টি-টোয়েন্টিতে একবারের বেশি সুপার ওভার হয়েছে মোট তিনটি ম্যাচে। এর মধ্যে দুবারই খেলেছে আফগানিস্তান। দুর্ভাগ্য যে দুটি ম্যাচেই হেরেছে তারা। ২০২৪ সালে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ টাই হওয়ার পর প্রথম সুপারেও জিততে পারেনি কোনো দল। এরপর ভারতের কাছে হার মেনে নেয় আফগানরা। আর এবারের বিশ্বকাপের ডাবল সুপার ওভারের ম্যাচের কাহিনী তো এখন সবার কাছেই তরতাজা। এদিকে একটি মাত্র ম্যাচে সুপার ওভার হয়েছে তিনবার। ২০২৫ সালের ত্রিদেশীয় সিরিজের সেই ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নেদারল্যান্ডস ও নেপাল। ম্যাচের শুরুতে ব্যাট করতে নেমে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৫২ রান করে নেদারল্যান্ডস। জবাবে ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে নেপালও করে ১৫২ রান। প্রথম সুপার ওভারের শুরুতে নেমে নেপাল তোলে ১৯ রান। সমান রান করে ডাচরাও। দ্বিতীয় সুপার ওভারের শুরুতে নেমে ১৭ রান করে নেদারল্যান্ডস। এবার নেপালও তাদের সমান স্কোর সংগ্রহ করে। ফলে ম্যাচটি গড়ায় তৃতীয় সুপার ওভারে। সেখানে নেপালকে হারিয়ে জয় তুলে নেয় ডাচরা। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম সুপার ওভার হয়েছিল ২০০৮ সালে। সেই ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ১০ রানে হারিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথমে ব্যাট করতে এক ওভারে ২৫ রান করে ক্যারিবীয়রা। জবাবে কিউইরা তোলে ১৫ রান। ২০০৮ সালে প্রথমবার সুপার ওভারের পর এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি মোট সুপার ওভার অনুষ্ঠিত হয়েছে ২৯টি ম্যাচে। সবচেয়ে বেশি আটবার সুপার ওভার খেলেছে নিউজিল্যান্ড। তারা জিতেছে মাত্র একবার, হেরেছে সাতবারই। এদিকে সুপার ওভারে সর্বোচ্চ ৫বার জয়ের নজীর রয়েছে কেবল ভারতের।
ওয়াশিংটন সুন্দর, হার্ষিত রানা, জাসপ্রীত বুমরাহর পর অভিষেক শর্মাও চোটে পড়েছেন। ফলে চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বড় প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে চোট। আসরের প্রথম ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে রান পাননি অভিষেক। পরে ফিল্ডিং করতেও নামেননি। খেলা শেষ হওয়ার পরও দেখা যায়নি অভিষেককে। গত ম্যাচের পর আজ মঙ্গলবার অনুশীলনও করতে পারেননি এই ওপেনার। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের অন্যতম ভরসা তিনি। কিন্তু তার অসুস্থতা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে গৌতম গম্ভীরদের। ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, অভিষেক কিছু দিন ধরে পেটের সমস্যায় ভুগছেন। কিছুটা দুর্বলও হয়েছে পড়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ম্যাচের দিনও সম্পূর্ণ সুস্থ ছিলেন না। কিছুটা ঝুঁকি নিয়েই তাকে খেলায় ভারত। গত ম্যাচে প্রথম ওভারে আউট হওয়ার পর মাঠে আর দেখা যায়নি অভিষেককে। ম্যাচ শেষে দিল্লিতে কোচ গম্ভীরের বাড়িতে নৈশভোজে যোগ দিলেও অল্প সময় থেকে হোটেলে ফিরে যান। মঙ্গলবারও অনুশীলন করতে পারেননি তিনি। আজ মঙ্গলবার ভারতীয় দলের সহকারী কোচ রায়ান টেনডেশকাট বলেছেন, 'পেটের সমস্যাটা এখনও ভোগাচ্ছে অভিষেককে। ম্যাচের আগে দুই দিন আছে।' ভারতীয় দলের কোচের মন্তব্য থেকেই পরিষ্কার যে, নামিবিয়ার বিপক্ষে অভিষেককে পাওয়ার ব্যাপারে সংশয় থাকছে।
নিজেদের দাবিতে অটল থেকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নিলেও বাংলাদেশকে কোনো ধরনের শাস্তি বা জরিমানা করবে না আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। উল্টো ২০৩১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগেই বাংলাদেশকে আরও একটি বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট আয়োজনের দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। আজ সোমবার আইসিসির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্তের পর গতকাল আইসিসির সঙ্গে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরে রাতে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি খেলতে পাকিস্তানকে অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। এর পরপরই বাংলাদেশ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলো প্রকাশ করে আইসিসি। আইসিসির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে পিসিবি ও বিসিবির সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। সেখানে চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপসহ দক্ষিণ এশিয়ায় ক্রিকেটের সামগ্রিক ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অনুপস্থিতিকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ উল্লেখ করে আইসিসি জানায়, নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে নিজেদের ম্যাচগুলো ভারতের পরিবর্তে শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে আইসিসি এতে সম্মতি না দেওয়ায় শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপেই অংশ নেয়নি বাংলাদেশ দল। আইসিসি আরও জানায়, গর্ব করার মতো ক্রিকেট ঐতিহ্য এবং বৈশ্বিক ক্রিকেট বিকাশে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ২০ কোটির বেশি সমর্থক নিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম প্রাণবন্ত ক্রিকেট বাজার। দেশটির ক্রিকেটের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে তারা সহায়তা অব্যাহত রাখবে বলেও উল্লেখ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে আলাদাভাবে জানানো হয়, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার কারণে বিসিবির ওপর কোনো ধরনের আর্থিক, খেলা সংক্রান্ত বা প্রশাসনিক শাস্তি কিংবা জরিমানা আরোপ করা হবে না। একই সঙ্গে বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটির (ডিআরসি) কাছে যাওয়ার অধিকার বিসিবির জন্য বহাল থাকবে। এ ছাড়া আইসিসি, বিসিবি ও পিসিবির মধ্যে সমঝোতার অংশ হিসেবে সিদ্ধান্ত হয়েছে, ২০৩১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগেই বাংলাদেশ একটি আইসিসি ইভেন্ট আয়োজন করবে। এটি আইসিসির প্রচলিত আয়োজক নির্বাচন প্রক্রিয়া, সময়সূচি ও পরিচালনাগত শর্ত অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে। উল্লেখ্য, ২০৩১ সালে ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে ওয়ানডে বিশ্বকাপ আয়োজন করার কথা রয়েছে বাংলাদেশের। আইসিসির প্রধান নির্বাহী সনযোগ গুপ্তা বলেন, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অনুপস্থিতি দুঃখজনক। তবে এটি বাংলাদেশকে একটি প্রধান ক্রিকেট জাতি হিসেবে আইসিসির দীর্ঘস্থায়ী অঙ্গীকারকে পরিবর্তন করবে না। বিসিবিসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে আমরা দেশটির ক্রিকেটের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চাই।