ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার পশ্চিম তীরে বসতি দখল সংক্রান্ত নতুন আইন অনুমোদন করেছে ইসরায়েল। এর ফলে অধিকৃত এই ভূখণ্ডে ইসরায়েলি ইহুদিদের জন্য সম্পত্তি কেনা সহজ হবে। এতে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার ইসরায়েলি মন্ত্রিসভা এ সংক্রান্ত আইনের অনুমোদন দিয়েছে। এর ফলে ১৯৬৭ সাল থেকে আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করে ইসরায়েলের দখলে থাকা পশ্চিম তীরে এখন থেকে ইহুদিরা আরও সহজে জমি কিনতে পারবেন। পাশাপাশি ভূমি নিবন্ধন নথি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইসরায়েলের এ আইনের ফলে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের আশঙ্কা, এতে জমির মালিকদের পরিচয় সহজে জানা যাবে এবং ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা চাপ ও হয়রানির মাধ্যমে জমি দখলের পথ সুগম করবে। এছাড়া হেবরনের অবৈধ ইহুদি বসতিতে নির্মাণ অনুমোদনের ক্ষমতা এবং ইব্রাহিমি মসজিদ প্রাঙ্গণের প্রশাসনিক কর্তৃত্ব ফিলিস্তিনি হেবরন পৌরসভার কাছ থেকে নিয়ে ইসরায়েলের হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
হেবরনের ইব্রাহিমি মসজিদের পরিচালক মোয়াতাজ আবু স্নেইনা বলেন, এই সিদ্ধান্ত ১৯৬৭ সালের পর সবচেয়ে গুরুতর পদক্ষেপ। ইব্রাহিমি মসজিদ মুসলমানদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থান। এটি ইহুদিদের কাছে ‘টম্ব অব দ্য প্যাট্রিয়ার্কস’ নামে পরিচিত।
১৯৯৪ সালে এক ইসরায়েলি উগ্রপন্থি বসতি স্থাপনকারী মসজিদে গুলি চালিয়ে ২৯ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করে। পরে স্থানটি মুসলিম ও ইহুদি প্রার্থনার জন্য ভাগ করে দেয় ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে কয়েকশ’ বসতি স্থাপনকারী ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সুরক্ষায় হেবরনের কেন্দ্রস্থলের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে।
আবু স্নেইনা বলেন, ইসরায়েল ধারাবাহিকভাবে হেবরন ও মসজিদে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ জোরদার করছে। উপাসনায় বাধা, প্রবেশ ও প্রস্থান নিয়ন্ত্রণ, আজানের ওপর নিষেধাজ্ঞা সবই পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অংশ।
হেবরন রিহ্যাবিলিটেশন কমিটির পরিচালক মোহান্নাদ আল-জাবারি বলেন, পুরোনো শহরে পৌরসভার দোকান জব্দ, নতুন বসতি ইউনিট নির্মাণ এবং পানি সরবরাহ ইসরায়েলি নেটওয়ার্কে যুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে একটি বিশাল বর্ণবাদী ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। এর চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো ফিলিস্তিনি পাড়াগুলো খালি করে বসতিগুলোকে ইব্রাহিমি মসজিদের সঙ্গে যুক্ত করে একটি ইহুদি কোয়ার্টার প্রতিষ্ঠা করা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক নাবিল ফারাজ বলেন, ইসরায়েল ভৌগোলিক বাস্তবতা পুনর্গঠন করছে এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ খর্ব করার চেষ্টা করছে। এটি শান্তি প্রক্রিয়ার কফিনে শেষ পেরেক।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে হওয়া প্রাথমিক সমঝোতা চুক্তিকে ‘গেম চেঞ্জার’ বা পরিস্থিতি বদলে দেওয়া উদ্যোগ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। বুধবার (১৭ জুন) ফ্রান্সে জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, চুক্তির একটি নথি আমি দেখেছি এবং এটি আমার প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে গেছে। কার্নি বলেন, চুক্তিটি নিয়ে আমরা খুবই সন্তুষ্ট। এটি ইরান যেন কখনো পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, সেই ভিত্তি তৈরি করেছে। যদিও চুক্তির পূর্ণাঙ্গ শর্ত এখনো প্রকাশ করা হয়নি, তবে কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ৬০ দিনের আলোচনার পথ তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, সমঝোতার আওতায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়ও রয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, বিশ্বের অর্থনীতিকে একটি মাত্র কৌশলগত পথের ওপর নির্ভরশীল রাখা উচিত নয়। এ ক্ষেত্রে তেল, গ্যাস ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের সরবরাহে কানাডা সহায়তা করতে পারে। কার্নি আরও জানান, ভবিষ্যতে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল ও আটকে থাকা সম্পদ মুক্ত করার আর্থিক প্রক্রিয়াতেও কানাডা ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত। তবে তিনি চুক্তিতে ইসরায়েল বা হিজবুল্লাহর অংশগ্রহণ না থাকা নিয়ে ওঠা সমালোচনার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। সূত্র : সিবিসি নিউজ
লন্ডনে গত কয়েক বছরে সাইকেল ব্যবহারের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২৪ সালে শহরটিতে সাইকেল ব্যবহার বেড়েছে প্রায় ৪৩ শতাংশ। তবে এত উদ্যোগের পরও ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার প্রায় আগের অবস্থাতেই রয়ে গেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে লন্ডনে গাড়িতে ভ্রমণের হার প্রায় ২০১৮ সালের সমান রয়েছে। অর্থাৎ, সাইকেল ও গণপরিবহনের ব্যবহার বাড়লেও ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর মানুষের নির্ভরতা তেমন কমেনি। পরিবেশবান্ধব নগর গড়তে লন্ডন দীর্ঘদিন ধরে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। শহরটিতে যানজট নিরসনে বিশেষ ফি আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি অনেক এলাকায় ‘কম যানবাহন অঞ্চল’ গড়ে তোলা হয়েছে, যেখানে ব্যক্তিগত গাড়ির চলাচল সীমিত করা হয়েছে। হাঁটা, সাইকেল চালানো ও গণপরিবহন ব্যবহারে মানুষকে উৎসাহিত করতেও নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন পদক্ষেপ। বর্তমানে লন্ডনে মোট যাতায়াতের প্রায় এক-চতুর্থাংশই মানুষ হেঁটে সম্পন্ন করে। শহরের রাস্তায় সাইকেল আরোহীদের উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতো। এছাড়া হাজার হাজার বাস, যেগুলো বেশিরভাগই বৈদ্যুতিক এবং বিস্তৃত রেল নেটওয়ার্ক শহরের পরিবহন ব্যবস্থাকে সমৃদ্ধ করেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমাতে লন্ডনের উদ্যোগ এখনো যথেষ্ট নয়। তাদের মতে, সাইকেল ব্যবহারের হার বাড়লেও এটি এখনো মোট যাতায়াতের মাত্র প্রায় ৫ শতাংশ। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসে প্রায় ২৭ শতাংশ যাতায়াত সাইকেলের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। সূত্র : পেল্টিজেন
শুল্ক’ শব্দটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সবচেয়ে পছন্দের শব্দগুলোর একটি। কিন্তু ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তাঁর মুখে শব্দটি খুব একটা শোনা যায়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধের উত্তেজনা থিতিয়ে আসছে। যুদ্ধবিরতির সমঝোতা সই হবে শুক্রবার, তা সে যতই ভঙ্গুর হোক না কেন। ফলে দীর্ঘ এক মাসের যুদ্ধের অবসানের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় ট্রাম্প আবার শুল্ক ইস্যুতে ফিরেছেন। এতে আবার দ্রুতই নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হতে পারে। ফ্রান্সে চলমান জি–সেভেন শীর্ষ সম্মেলনের আগে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ যদি ৩ শতাংশ ডিজিটাল সেবা কর প্রত্যাহার না করেন, তাহলে ফরাসি ওয়াইনের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। ফ্রান্সের এই ডিজিটাল করের সবচেয়ে বড় চাপ পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতের মহিরুর প্রতিষ্ঠান অ্যামাজন, অ্যালফাবেট, অ্যাপল ও মেটার ওপর। নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মাখোঁকে বলেছিলাম, আমেরিকান কোম্পানিগুলোর ওপর যেন করারোপ না করা হয়। যদি তারা তা-ই করে, তাহলে ফ্রান্স থেকে আসা সব শ্যাম্পেন ও ওয়াইনের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ ছাড়া আমার উপায় থাকবে না।’ ফ্রান্স ২০১৯ সালে এই কর চালু করার পর থেকেই ট্রাম্প এমন হুমকি দিয়ে আসছেন। সর্বশেষ সতর্কবার্তার আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতেও তিনি ফরাসি ওয়াইন ও শ্যাম্পেনের ওপর ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন। মাখোঁ ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে গাজা ইস্যুতে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘শান্তি বোর্ডে’ তিনি যোগ দেবেন না, সেই পরিপ্রেক্ষিতে এমন হুমকি দেন ট্রাম্প। তবে নানা কারণে ট্রাম্প এখনো সেসব হুমকি বাস্তবায়ন করেননি। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে সমঝোতা এবং ফ্রান্সের উদ্দেশ্যে দেওয়া নতুন শুল্ক হুমকির মধ্যে সম্পর্ক নেই। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কুশ দেসাই বলেন, এটি প্রেসিডেন্টের আগের অবস্থানেরই ধারাবাহিকতা। ফরাসি ওয়াইন ও শ্যাম্পেনের বাইরে ট্রাম্প ইউরোপীয় ইউনিয়নের গাড়িতেও শুল্ক বৃদ্ধির কথা বলেছেন। তাঁর অভিযোগ, গত গ্রীষ্মে যে বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন তা লঙ্ঘন করছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর জাপান, চীন ও ভারতের সব পণ্যে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে নতুন শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে। অভিযোগ, এসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি করছে। আগামী মাসে সাময়িক ১০ শতাংশ আমদানি করের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন শুল্ক কার্যকর হতে পারে। আগের শুল্কের ধাক্কা এখনো কাটেনি গত বছরের এপ্রিলে ট্রাম্প পাল্টা শুল্ক আরোপ করেন। এতে ব্যবসায়িক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে, অনেক নিয়োগের সিদ্ধান্ত থমকে যায়। পরে এসবের বেশির ভাগই সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করে দেন। এক বছরের বেশি সময় পর শ্রমবাজারে সেই প্রভাব কিছুটা কমতে শুরু করেছে। অনিশ্চিত বাণিজ্য পরিস্থিতির কারণে যেসব নিয়োগদাতা আগে কর্মী নিয়োগে দ্বিধায় ছিলেন, তাঁরা আবার নিয়োগ দিচ্ছেন। গত তিন মাসে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি মাসে গড়ে ১ লাখ ৮৮ হাজার নতুন চাকরি সৃষ্টি হয়েছে। অথচ গত বছর এই সংখ্যা মাসে ১০ হাজারের কম ছিল। তবে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের আগে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি ছিল ২ দশমিক ৪ শতাংশ। তা গত মাসে বেড়ে হয়েছে ৪ দশমিক ২ শতাংশ, তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ভোক্তা মূল্যসূচক অনুযায়ী, মাসিক ভিত্তিতে দাম বেড়েছে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ। এর ৬০ শতাংশের জন্য দায়ী জ্বালানির উচ্চ মূল্য। এই পরিস্থিতিতে নতুন করে শুল্ক আরোপের সম্ভাবনা অর্থনীতির জন্য আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে অর্থনীতিবিদেরা এখনো খাদ্য ও জ্বালানিবহির্ভূত মূল্যস্ফীতির পরিসংখ্যানে স্বস্তি খুঁজছেন, যাকে বলে কোর ইনফ্লেশন। মে মাসে এই সূচক মাসিক ভিত্তিতে বেড়েছে শূন্য দশমিক ২ শতাংশ এবং বার্ষিক ভিত্তিতে ২ দশমিক ৯ শতাংশ। যদিও ভোক্তা মূল্য সূচক ছিল ৪ দশমিক ২ শতাংশ। এর অর্থ, যুদ্ধের কারণে জ্বালানির বর্ধিত মূল্যের কারণে এখনো অন্য পণ্য ও সেবার ক্ষেত্রে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়নি। যদিও ব্যবসার অন্যতম বড় খরচের জায়গা হলো জ্বালানি; দাম বাড়লে প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত সেই চাপ ভোক্তার ওপর চাপিয়ে দেয়। তবে পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়—হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজ চলাচল যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরলেও কোনো কিছু স্পস্ট করা বলা যাচ্ছে না। ফরাসি ব্যাংক বিএনপি পারিবাসের অর্থনীতিবিদেরা গত সপ্তাহে এক বিশ্লেষণে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও মহামারি–পরবর্তী মূল্যস্ফীতির দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো স্থায়ী মূল্যস্ফীতির ঝুঁকিতে রয়েছে।