জাতীয়

রয়টার্সের প্রতিবেদন

নির্বাচনে যেভাবে চ্যালেঞ্জিং প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠলেন জামায়াত আমির

আক্তারুজ্জামান ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬

একদিন বাদে (১২ ফেব্রুয়ারি) দেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। এবারের নির্বাচনে মূল লড়াইটা হবে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে ১১ দলীয় জোটের মধ্যে। তবে বলাই বাহুল্য, আসন্ন নির্বাচনে দেশের রাজনীতিতে বেশ সরব দীর্ঘদিন প্রান্তিক অবস্থানে থাকা জামায়াতে ইসলামী ও দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান।

 

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় পোস্টার-বিলবোর্ডে এখন চোখে পড়ছে সাদা দাড়িওয়ালা এই নেতার (জামায়াতের আমির) চেহারা, যেখানে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে, দেশের ‘প্রথম ইসলামপন্থী সরকারকে’ ক্ষমতায় আনার জন্য। 

 

৬৭ বছর বয়সী এই নেতা এতোদিন মূলত ইসলামপন্থী মহলের বাইরে খুব বেশি পরিচিত ছিলেন না। কিন্তু দলের প্রধান হিসেবে তিনি এখন আসন্ন নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে দাঁড়িয়েছেন।

 

এবারের নির্বাচনে জামায়াত ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ও একসময়ের জোটশরিক বিএনপির বিরুদ্ধে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই গড়ে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে জেন-জি নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানের মুখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এটিই বাংলাদেশের প্রথম সংসদ নির্বাচন হতে যাচ্ছে।

 

রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের ১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষের প্রায় ৯১ শতাংশই মুসলিম, যা দেশটিকে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম মুসলিম-অধ্যুষিত দেশ হিসেবে পরিচিত করেছে। ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম হলেও দেশটির সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতার নীতিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। দেশটিতে জনসংখ্যার বড় অংশ হলো সুন্নি মুসলিম।

 

বিভিন্ন জনমত জরিপে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, একসময় নিষিদ্ধ ঘোষিত জামায়াত, যারা ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, এবার তারা ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী ফলাফল পেতে পারে।  বিষয়টি মধ্যপন্থী মহল ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

 

শেখ হাসিনার শাসনামলে ইসলামপন্থী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর দমন-পীড়ন চালানো হয়। জামায়াতের অনেক শীর্ষ নেতা কারাবন্দি হন ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ এনে দলটির বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। শেষমেষ দলটিকে নিষিদ্ধ করা হয় এবং তাদের কার্যত আন্ডারগ্রাউন্ডে ঠেলে দেওয়া হয়।

 

২০২২ সালে দলটির বর্তমান আমির ডা. শফিকুর রহমানকেও একটি নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনকে সহযোগিতার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় এবং ১৫ মাস কারাভোগ করেন তিনি।

 

তবে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান জামায়াত ও শফিকুর রহমানের রাজনৈতিক অবস্থানে বড় পরিবর্তন এনে দেয়। ওই বছরের আগস্টে শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই শান্তিতে নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জামায়াতের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে। পরে ২০২৫ সালে আদালত দলটির নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। এর ফলে বহু বছর গোপনে কার্যক্রম চালানো জামায়াত আবার প্রকাশ্যে কাজ করার সুযোগ পায়।

 

নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর দ্রুত সংগঠিত হয় জামায়াত। দলটি মানবিক সহায়তা কার্যক্রম, বন্যা-ত্রাণসহ বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে মাঠে নামে। সাদা পোশাক ও সাদা দাড়ি শোভিত শফিকুর রহমান এসব কর্মকাণ্ডে অত্যন্ত দৃশ্যমান হয়ে ওঠেন।

 

গত বছরের ডিসেম্বরে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শফিকুর রহমান বলেন– আমরা আমাদের কথা বলার চেষ্টা করেছি কিন্তু বারবার আমাদের দমন করা হয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের পর আমরা আবার উঠে আসার সুযোগ পেয়েছি।

 

রাজনৈতিক শূন্যতা ও উত্থান:

বিশ্লেষকদের মতে, গণঅভ্যুত্থানের পর সৃষ্ট রাজনৈতিক শূন্যতা দক্ষতার সঙ্গে কাজে লাগাতে সক্ষম হয়েছেন জামায়াত আমির। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বিশ্ব ধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শফি মোহাম্মদ মোস্তফার ভাষায়, অভ্যুত্থানের পর প্রথম এক মাস দেশে তেমন কোনো দৃশ্যমান নেতা ছিল না। বিএনপির বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমান ওই সময় তারেক রহমান বিদেশে অবস্থান করছিলেন, আর শফিকুর রহমান দেশজুড়ে সফর করে দ্রুত গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

 

নির্বাচনী প্রচারণায় জামায়াত আমিরের বক্তব্য অনেক ভোটারের মধ্যে সাড়া ফেলছে, যেখানে জামায়াত নিজেদের পরিচয় দিচ্ছে ইসলামি মূল্যবোধভিত্তিক বিকল্প শক্তি হিসেবে। গত ডিসেম্বরেই দলটি জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) সঙ্গে জোট গঠন করে, যা তরুণ ও অপেক্ষাকৃত কম রক্ষণশীল ভোটারদের কাছে তাদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়েছে।

 

এদিকে, শফিকুর রহমানকে নিয়ে 'গেম অব থ্রোনস' থেকে অনুপ্রাণিত প্রচারণা পোস্টারও দেখা যাচ্ছে, যেখানে লেখা ‘দাদু ইজ কামিং’। অনেকের কাছে শফিকুর রহমান জামায়াতের তুলনামূলক মধ্যপন্থী মুখ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। তিনি সুশাসন, সামাজিক ন্যায়বিচার ও দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের ওপর জোর দিচ্ছেন এবং সব ধর্মের মানুষের জন্য সমান আচরণের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।

 

তবে নারীদের ভূমিকা নিয়ে তার বক্তব্য বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। জামায়াত এবারের নির্বাচনে কোনো নারী প্রার্থী দেয়নি। শফিকুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, নারীদের দিনে পাঁচ ঘণ্টার বেশি কাজ করা উচিত নয়, যাতে তারা পারিবারিক দায়িত্বে বেশি সময় দিতে পারেন।

 

সম্প্রতি তার নামে একটি সামাজিক মাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকে নারীদের বিষয়ে আপত্তিকর মন্তব্য ছড়ালে ব্যাপক সমালোচনা হয় এবং দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবাদ হয়। জামায়াতের দাবি, ওই অ্যাকাউন্টটি হ্যাক করা হয়েছিল।

 

নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, তারা যুক্তিসঙ্গত ও নমনীয় নীতিতে বিশ্বাসী। তার ভাষায়, ইসলামি মূল্যবোধ শুধু মুসলমানদের জন্য নয় বরং সমগ্র মানবজাতির জন্য প্রযোজ্য।

 

সূত্র: রয়টার্স

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ছবি: সংগৃহীত
মাতারবাড়ী-চট্টগ্রামে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল গড়ছে সরকার - মন্ত্রিপরিষদ সচিব

দেশে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি আনতে প্রথমবারের মতো ‘মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বুধবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় ও অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি।   তিনি জানান, প্রস্তাবিত এই অঞ্চলে প্রচলিত কাস্টমসের কঠোর নিয়মকানুন থাকবে না এবং এটি সম্পূর্ণ শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। প্রাথমিকভাবে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ও চট্টগ্রাম বন্দরের নিকটবর্তী প্রায় ৬০০ একর জমিতে এই মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল গড়ে তোলা হবে।   সরকারের ধারণা, এই উদ্যোগ দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমকে আরও সহজ করবে এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।   এ ছাড়া চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ‘চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন’ (সিইআইজেড) স্থাপনের জন্য স্পেশাল পারপাস কোম্পানির সঙ্গে উন্নয়ন চুক্তি ও ভূমি লিজ চুক্তির নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।   মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এই শিল্পাঞ্চল বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনীতিতে নতুন বিনিয়োগ আসবে, উৎপাদন ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম সম্প্রসারিত হবে।   তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতির অস্থিরতার কারণে এলএনজি ও তেল আমদানিতে কিছু জটিলতা তৈরি হলেও সরকার বিকল্প বাজার থেকে জ্বালানি সংগ্রহ অব্যাহত রেখেছে।   এ ছাড়া রাশিয়া থেকে ৩০ হাজার টন ইউরিয়া সার কেনার অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

আক্তারুজ্জামান জুন ১৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা-মানিকগঞ্জ কমিউটার ট্রেন চালুর নীতিগত সিদ্ধান্ত, স্বস্তিতে স্থানীয়রা

ছবি: সংগৃহীত

জমি-ফ্ল্যাট কেনাবেচায় করের বোঝা বাড়ছে, নতুন মূলধনি মুনাফা করের প্রস্তাব

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের রাজনীতিতে ৩ প্রধান সমস্যা চিহ্নিত বিদেশি গবেষকের, রাষ্ট্রীয় অর্থায়নের সুপারিশ

ছবি: সংগৃহীত
সময় টিভির সাবেক এমডি ও পরিবারের ছয়জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

ব্যাংক জালিয়াতি ও বিশ্বাসভঙ্গের মামলায় আদালতে হাজির না হওয়ায় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল সময় টেলিভিশনের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ জোবায়েরসহ তার পরিবারের চার সদস্য ও দুই সাক্ষীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত।   বুধবার (১৭ জুন) ঢাকার একটি আদালত এ নির্দেশ জারি করে। মামলার সূত্রে জানা যায়, ব্যাংক জালিয়াতি ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আদালতের নির্ধারিত সময়েও উপস্থিত না হওয়ায় মোট ছয়জনের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।   পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে রয়েছেন সময় টেলিভিশনের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ জোবায়ের, তার স্ত্রী শামীমা সুলতানা চৌধুরী, দুই সন্তান সারাফ নাওয়ার জয়ীতা ও আহমেদ রাফিদ কাদের ঋভু, পাশাপাশি দুই সাক্ষী শেখ মাহমুদ ইয়াসিন ও সানি চৌধুরী।   আদালত সূত্র জানায়, এর আগে কলাবাগান থানায় দায়ের করা বিশ্বাসভঙ্গের মামলায় অভিযুক্তদের আদালতে হাজির হয়ে অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। গত ১০ মে সমন জারি করা হয় এবং পরবর্তীতে ১৭ জুন হাজিরার জন্য নির্ধারিত দিন ধার্য করা হয়।   নির্ধারিত দিনে আদালতে হাজির না হওয়ায় বিচারক তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।   সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, পরোয়ানা জারির পর অভিযুক্তরা যেকোনো সময় গ্রেপ্তার হতে পারেন। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান।

আক্তারুজ্জামান জুন ১৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

অসুস্থ খালেদা রাব্বানীর বাসায় প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ

ছবি: সংগৃহীত

পলি অপসারণে মাতারবাড়ী চ্যানেলে চীনা ড্রেজার, বাড়বে নাব্যতা

ছবি: সংগৃহীত

টিআইএন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ, সংসদে পুনর্বিবেচনার দাবি

ছবি: সংগৃহীত
জেবা আমিনার ভাষা ও পোশাক নিয়ে সমালোচনার জবাব দিলেন জামায়াতের মারদিয়া মমতাজ

জাতীয় সংসদে বাংলা ও ইংরেজির মিশ্রণে বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে আলোচনায় থাকা বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য জেবা আমিনা খানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন জামায়াতের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ব্যক্তিগত আক্রমণ ও পোশাক নিয়ে কটাক্ষের সমালোচনা করেন।   বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে মারদিয়া মমতাজ বলেন, কোনো বক্তার বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত থাকতেই পারে, তবে আলোচনা হওয়া উচিত বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে, ব্যক্তির পোশাক বা ভাষা নিয়ে নয়।   তিনি লেখেন, ‘একজন বক্তার বক্তব্যের বিষয়ে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। সে বিষয়ে আলোচনা করুন। কিন্তু তার পোশাক বা ভাষা নিয়ে মন্তব্য করা অপ্রয়োজনীয় এবং তা ব্যক্তিগত রুচি ও মানসিকতারই প্রতিফলন।’   জেবা আমিনার দীর্ঘদিন প্রবাসজীবনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মারদিয়া বলেন, তিনি দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে থাকায় তার কথায় বাংলা ও ইংরেজির মিশ্রণ থাকাটা স্বাভাবিক। বরং তিনি যে বিষয়টি সংসদে তুলে ধরেছেন, সেটিই আলোচনার মূল বিষয় হওয়া উচিত।   তিনি আরও বলেন, দেশের অনেক এলাকায় এখনও শত শত কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা রয়েছে, যা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের পাশাপাশি সরকারি সেবা পৌঁছাতেও বিলম্ব সৃষ্টি করে।   পোস্টের শেষাংশে মারদিয়া মমতাজ জনসমক্ষে নারীদের পোশাক ও কথাবার্তা নিয়ে কটাক্ষকারীদের সমালোচনা করে বলেন, এমন মানসিকতা সমাজে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরিতে সহায়ক নয়। তিনি মন্তব্য করেন, যারা এ ধরনের আচরণ করেন, তাদের পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের জন্য তার মায়া হয়।

আক্তারুজ্জামান জুন ১৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিহিংসা নয়, দেশ গঠনে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ছবি : সংগৃহীত

পুশইন ইস্যুতে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সরকার : আইনমন্ত্রী

ছবি : সংগৃহীত

মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন-ভাতা নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নতুন বার্তা

0 Comments