বিশ্ব

ইসরাইলকে গাজায় এনজিওর উপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জাতিসংঘ মহাসচিবের

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জানুয়ারী ০৩, ২০২৬ 0

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস গতকাল শুক্রবার গাজায় সাহায্য সরবরাহকারী মানবিক সংস্থাগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য ইসরাইলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, তিনি এই নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘটনায় ‘গভীরভাবে উদ্বিগ্ন’।খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। 

জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক এক বিবৃতিতে বলেন, গুতেরেস ‘এই পদক্ষেপটি প্রত্যাহারের জন্য ইসরাইলের প্রতি আহ্বান জানান এবং জোর দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থাগুলো জীবনরক্ষাকারী মানবিক কাজের জন্য অপরিহার্য এবং এই স্থগিতাদেশটি যুদ্ধবিরতির সময়ে অর্জিত ভঙ্গুর অগ্রগতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই সাম্প্রতিক পদক্ষেপটি ফিলিস্তিনিদের মানবিক সংকট আরও বাড়াবে।

সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে তাদের ফিলিস্তিনি কর্মীদের তালিকা ভাগাভাগি করতে অস্বীকৃতি জানানোর পর বৃহস্পতিবার ৩৭টি বিদেশী মানবিক সংস্থাকে গাজা উপত্যকায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ইসরাইল।

নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছে ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্স (এমএসএফ), যার ফিলিস্তিনি অঞ্চলে ১ হাজার ২শ’ কর্মী রয়েছে। এদের অধিকাংশই গাজায় অবস্থান করছে।

নিষেধাজ্ঞার মধ্যে থাকা এনজিওগুলোকে ১ মার্চের মধ্যে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কিছু এনজিও বলেছে, এই শর্তাবলী আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ।

ইসরাইল বলেছে, নতুন এই নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্য হল ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করার অভিযোগে অভিযুক্ত সংস্থাগুলোকে তাদের কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা।

গত বৃহস্পতিবার, ১৮টি ইসরাইল-ভিত্তিক বামপন্থী এনজিও তাদের আন্তর্জাতিক সহযোগীদের নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়ে বলেছে, ‘নতুন নিবন্ধন কাঠামো স্বাধীন এবং নিরপেক্ষতার মূল মানবিক নীতি লঙ্ঘন করছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলের ওপর হামাসের আক্রমণের জবাবে ইসরাইল কর্তৃক পরিচালিত এক মারাত্মক যুদ্ধের পর গত অক্টোবর মাস থেকে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে।

গাজার কর্তৃপক্ষ নভেম্বরে জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে গাজায় ৭০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজার প্রায় ৮০ শতাংশ ভবন যুদ্ধের কারণে ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

গাজার ফিলিস্তিনি এনজিও নেটওয়ার্কের পরিচালক আমজাদ আল-শাওয়া বলেছেন, গাজার ২০ লাখ বাসিন্দার মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ মানুষ তাদের ঘরবাড়ি হারিয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ভূমিকম্প। প্রতীকী ছবি
শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল পাকিস্তান, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিম কাশ্মীরে শক্তিশালী ভূমিকম্প অনূভুত হয়েছে। এতে একজনের মৃত্য এবং বহু বাড়িঘর ধসে পড়েছে। দেশটির এক কর্মকর্তার বরাতে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিখটার স্কেলে ৬ মাত্রার এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৩৫ কিলোমিটার গভীরে। ইউরোপীয় ভূমধ্যসাগরীয় ভূকম্পন কেন্দ্র (ইএমএসসি) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ২১ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। অঞ্চলের তথ্যমন্ত্রী গোলাম আব্বাস জানান, পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ গিলগিট-বালাচিস্তানে কাঁচা মাটির তৈরি একাধিক বাড়ি ধসে পড়েছে। এতে অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিনি জানান, পাহাড় থেকে বড় বড় পাথর গড়িয়ে পড়ায় বেশ কয়েকটি সংযোগ সড়ক ও একটি প্রধান মহাসড়ক বন্ধ হয়ে গেছে। রাস্তা পরিষ্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে। মন্ত্রী আরও জানান, সড়কে চলাচলের সময় ভূমিকম্পের কারণে পাহাড় থেকে গড়িয়ে পড়া একটি পাথরের আঘাতে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তবে তিনি ওই ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করেননি। উল্লেখ্য, বিশ্বের ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পটি হয়েছে ১৯৬০ সালে চিলির বিওবিও প্রদেশে। এটি ‘ভালদিভিয়া ভূমিকম্প’ বা ‘গ্রেট চিলিয়ান আর্থকোয়াক’ হিসেবে পরিচিত ভূকম্পনের মাত্রা ছিল ৯ দশমিক ৫, যা প্রায় ১০ মিনিট স্থায়ী হয়েছিল। এতে নিহত হয়েছিলেন ১ হাজার ৬৫৫ জন মানুষ এবং বাস্তুচ্যুত হন কমপক্ষে ২০ লাখ মানুষ। ১৯৬৪ সালে ইতিহাসের দ্বিতীয় বিধ্বংসী ভূমিকম্পটি হয়েছিল আলাস্কায়। ৯ দশমিক ২ মাত্রার সেই ভূমিকম্প এবং তার জেরে সৃষ্ট সুনামিতে নিহত হয়েছিলেন ১৩০ জন এবং আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল ২৩০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ। ২৬ ডিসেম্বর সুমাত্রা দ্বীপে আঘাত হেনেছিল তৃতীয় শক্তিশালী ভূমিকম্পটি। ৯ দশমিক ১ মাত্রার ওই ভূমিকম্পটি ১০ মিনিটেরও বেশি স্থায়ী ছিল, যা সবচেয়ে দীর্ঘতম সময়ের ভূমিকম্প। ভূমিকম্প থেকে সৃষ্ট সুনামি বিশ্বের ১৪টি দেশে প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটায়। এটি বক্সিং ডে সুনামি নামেও পরিচিত। কোথাও কোথাও ৩০ মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়ে ঢেউ আছড়ে পড়ে, বাড়িঘর ধ্বংস করে মানুষজনকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। এতে বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন ১১ লাখের বেশি মানুষ। তবে ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির দিক দিয়ে সবচেয়ে বিধ্বংসী ভূমিকম্প ছিল ১৫৫৬ সালের চীনের শানসি প্রদেশে আঘান হানা দুর্যোগটি। এতে প্রাণ হারায় ৮ লাখ ৩০ হাজার মানুষ। দ্বিতীয় বিধ্বংসী ভূমিকম্পটিও চীনে। ১৯৭৬ সালে দেশটির তাংশানে প্রাণ হারায় ২ লাখ ৫৫ হাজার মানুষ। ১১৩৮ সালে সিরিয়ার আলেপ্পোর ভূমিকম্পে নিহত হয় ২ লাখ ৩০ হাজার। ১৯২০ সালে চীনের হাইয়ুহানের ভূমিকম্পে প্রাণ হারায় দুই লাখ। ৮৫৬ সালে ইরানের দামঘানে ভূমিকম্পেও দুই লাখ লোক মারা যায়। ১৯২৭ সালে চীনের তাইওয়ানে ২ লাখ লোকের প্রাণহানি হয়। ৮৯৩ সালে আর্মেনিয়ার বার্শের ভূকিম্পে মারা যায় দেশ লাখ মানুষ। ১৯২৩ সালের ভূমিকম্পে জাপানের কান্তোয় মারা যায় ১ লাখ ৪৩ হাজার। ১৯৪৮ সালের ভূমিকম্পে তুর্কিমেনিস্তানের আশগাবাদে মৃত্যু ঘটে ১ লাখ ১০ লাখের বেশি মানুষের আর ১৯০৮ সালে ইতালির মেসিনায় প্রাণ হারায় লাখখানেক মানুষ।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ১৯, ২০২৬ 0
ভারতীয় পাসপোর্ট। ছবি : সংগৃহীত

ভারতীয়দের ভিসামুক্ত ভ্রমণ সুবিধা প্রত্যাহার দুই দেশের

১৯ জানুয়ারি দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে মিনিবাস-ট্রাকের সংঘর্ষের ঘটনাস্থলে পুলিশ ট্রাকের ওপর মিনিবাসের ধ্বংসাবশেষ। ছবি : রয়টার্স

দক্ষিণ আফ্রিকায় সড়ক দুর্ঘটনায় ১৩ স্কুলশিক্ষার্থী নিহত

আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত দোকান। ছবি : সংগৃহীত

করাচির শপিংমলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ২১

২০১৯ সালে ৮ মে কাবুলে একটি বিস্ফোরণের স্থান থেকে ধোঁয়া উঠছে। পুরোনো ছবি
কাবুলের ভয়াবহ বিস্ফোরণ, বহু হতাহতের আশঙ্কা

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে বহু হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। তালেবান সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিস্ফোরণে আহতদের অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সোমবার দুপুরে কাবুলের শাহর-ই-নাও এলাকায় এ বিস্ফোরণ ঘটে। এলাকাটি রাজধানীর অন্যতম নিরাপদ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত, যেখানে মূলত বিদেশি নাগরিক, ব্যবসায়ী ও কূটনীতিকরা বসবাস করেন। কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যেও এমন হামলার ঘটনায় কাবুলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। রয়টার্সকে আফগান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আব্দুল মতিন কানি জানান, ‘প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটেছে। এতে কয়েকজন নিহত হয়েছেন এবং অনেকে আহত হয়েছেন।’ তবে নিহতের সঠিক সংখ্যা কিংবা এটি আত্মঘাতী হামলা ছিল কি না—সে বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে বলেও জানান তিনি। এদিকে আফগান টাইমসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, শাহর-ই-নাও এলাকার একটি চীনা রেস্তোরাঁর কাছে বিস্ফোরণটি ঘটে। প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনা কর্মকর্তাদের বহনকারী একটি গাড়িই হামলার মূল লক্ষ্য ছিল। এ ঘটনায় দুইজন চীনা নাগরিক গুরুতর আহত হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে নীল বাতি লাগানো একটি ট্রাকে বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা গেছে। যদিও ভিডিওটির সত্যতা এখনো যাচাই করা হয়নি, তবে দৃশ্য দেখে অনেকেই এটিকে আত্মঘাতী হামলা বলে ধারণা করছেন। ঘটনার পরপরই তালেবান নিরাপত্তা বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে। জোরদার করা হয়েছে উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ১৯, ২০২৬ 0
ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ। ফাইল ছবি : রয়টার্স

গাজা ‘বোর্ড অব পিস’-এর বিরোধিতা ইসরায়েলি কট্টর ডানপন্থীদের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাদো। ছবি : সংগৃহীত

পুরস্কার ভাগাভাগি নিয়ে মাচাদোকে নোবেল ফাউন্ডেশনের বার্তা

ধাপে ধাপে ইন্টারনেট চালুর বিষয়টি বিবেচনা করছে ইরান

ছবি : সংগৃহীত
গাজার ‘শান্তি পর্ষদে’ এরদোয়ান–সিসিকে আমন্ত্রণ ট্রাম্পের

গাজার অন্তর্বর্তী প্রশাসনের কার্যক্রম তদারকির জন্য গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পর্ষদে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ও মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসিকে যুক্ত হওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আংকারা ও কায়রোর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। খবর আলজাজিরার।গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে গাজা সংকট সমাধানে নিজের শান্তি পরিকল্পনা ঘোষণা করেন ট্রাম্প। পরবর্তী মাস অক্টোবরে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাস ওই পরিকল্পনায় সম্মতি দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় গাজার অন্তর্বর্তী প্রশাসনের ওপর নজরদারির দায়িত্ব দেওয়া হয় ‘বোর্ড অব পিস’-কে।গত শুক্রবার হোয়াইট হাউস শান্তি পর্ষদের প্রাথমিক সদস্যদের নাম প্রকাশ করে। এতে রয়েছেন—মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার, ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার, মার্কিন ধনকুবের মার্ক রোয়ান, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা, ট্রাম্পের উপদেষ্টা রবার্ট গ্যাব্রিয়েল এবং জাতিসংঘের সাবেক দূত নিকোলাই ম্লাদেনভ। পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে থাকবেন স্বয়ং ডোনাল্ড ট্রাম্প।তুরস্কের প্রেসিডেন্টের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান শান্তি পর্ষদের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য হওয়ার জন্য ট্রাম্পের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পেয়েছেন। অন্যদিকে, মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি জানান, প্রেসিডেন্ট আল-সিসিকে দেওয়া আমন্ত্রণটি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে।২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় হাজার হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ মানবিক সংকট। গাজার প্রায় পুরো জনগোষ্ঠী বাস্তুচ্যুত হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা ও গবেষকরা এ পরিস্থিতিকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তবে ইসরায়েলের দাবি, হামাসের আক্রমণের জবাব হিসেবেই তারা সামরিক অভিযান চালাচ্ছে।গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই শান্তি পর্ষদ গঠন করা হয়েছে। পর্ষদের তত্ত্বাবধানে গাজার অন্তর্বর্তী প্রশাসন প্রথম পর্যায়ে জরুরি ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করবে। তবে শান্তি পর্ষদ গঠনের ঘোষণা এলেও গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকায় এর কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছেন অনেক

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ 0
ইরানের পতাকা ও মোবাইল হাতে এক ব্যবহারকারী। ছবি : সংগৃহীত

ইরানে আংশিকভাবে ইন্টারনেট চালু

লন্ডনে ইরানের দূতাবাসের ছাদে ওঠা বিক্ষোভকারী গ্রেফতার

অনলাইনে মন্তব্যের জন্য এক ইরানি নারীর বিরুদ্ধে কারাদণ্ডের আবেদন ফরাসি কৌঁসুলির

0 Comments