অর্থনীতি

অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে এক বছরেই ১০ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি তেল আমদানি

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে এক বছরে জ্বালানি তেল আমদানির খরচ ১০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক পেরিয়েছে।

 

৩০ জুন শেষ হওয়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরে (জুলাই-জুন) ১ হাজার ৬৩ কোটি ৫০ লাখ (১০.৬৩ বিলিয়ন) ডলারের জ্বালানি তেল আমদানি হয়েছে, যা আগের আর্থিক বছরের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি।

 

২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ খাতে ৫১৩ কোটি ৭৯ লাখ (৫.১৪ বিলিয়ন) ডলার খরচ হয়েছিল। শতাংশ হিসাবে ব্যয় বেড়েছে ১০৭ শতাংশ।

 

বর্তমান বিনিময় হার (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ৮০ পয়সা) হিসাবে টাকার অঙ্কে গত অর্থবছরে জ্বালানি তেল আমদানিতে ১ লাখ ৩১ হাজার ৬৬১ কোটি টাকা।

 

বাংলাদেশে কখনোই জ্বালানি তেলে এত অর্থ খরচ হয়নি। এর আগে ২০২০-২১ অর্থবছরে ৮৯৮ কোটি ৫০ লাখ (৮.৯৮ বিলিয়ন) ব্যয় হয়েছিল; যা ছিল এতদিন সবচেয়ে বেশি।

 

ওই আর্থিক বছরে কোভিড মহামারীর প্রাথমিক ধাক্কা কেটে যাওয়ার পর বৈশ্বিক অর্থনীতি ও শিল্পকারখানা সচল হতে শুরু করে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল ও অন্যান্য জ্বালানির চাহিদা হঠাৎ বৃদ্ধি পায়; তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমদানির পরিমাণ ও মূল্যও বেড়ে যায়।

 

সে কারণেই ২০২০-২১ আর্থিক বছরে জ্বালানি তেল আমদানিতে খরচ প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলারে উঠেছিল।

 

২০২০ সালের মার্চে দেশে দেশে কোভিড প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়, তখন সবকিছু বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমতে কমতে একেবারে তলানিতে নেমেছিল। মহামারীর ধাক্কা কাটতে শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে দামও বাড়তে থাকে। ২০২১ সালের শেষের দিকে প্রতি ব্যারেল তেলে দাম প্রায় ৯০ ডলারে উঠেছিল।

 

কোভিডের ধকল কাটতে না কাটতেই ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হয় রাশিয়া–ইউক্রেইন যুদ্ধ। তার প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। ওই বছরের মার্চে ১৩৯ ডলার অতিক্রম করে।

 

চাহিদা বৃদ্ধি ও দাম বাড়ার কারণেই ২০২০-২১ ও ২০২১-২২ অর্থবছরে জ্বালানি তেল আমদানি ব্যয় বেড়েছিল বলে জানান জ্বালানি বিশ্লেষকরা।

 

একই কারণে গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে ব্যয় বেড়ে সাড়ে ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।

 

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে শুরু করে; একপর্যায়ে প্রতি ব্যারেল ১২০ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। পরে অবশ্য তা কমে ১০০ ডলারের নিচে নেমে আসে। তার আগে অবশ্য কমতে কমতে ৬৫ ডলারে নেমেছিল।

 

সোমবার (১০ অগাস্ট) বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড (অপরিশোধিত) তেলের দাম ছিল ৮৬ ডলার ৭২ সেন্ট। আর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ছিল ৮১ ডলার।

 

বাংলাদেশ ব্যাংক সোমবার পণ্য আমদানির সবশেষ যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে (২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন) পণ্য আমদানিতে মোট ৭ হাজার ৫২৪ কোটি (৭৫.২৪ বিলিয়ন) ডলার ব্যয় হয়েছে। এর মধ্যে অপরিশোধিত তেল এবং পেট্রোলিয়াম, তেল ও লুব্রিকেন্ট (পিওএল) আমদানিতে ১ হাজার ৬৩ কোটি ৫০ লাখ (১০.৬৩ বিলিয়ন) ডলার ব্যয় হয়েছে বাংলাদেশের।

 

এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, গত অর্থবছরে আমদানি খাতে মোট যত অর্থ ব্যয় হয়েছে, তার ১৪ দশমিক ১৩ শতাংশ খরচ হয়েছে জ্বালানি তেলে।

 

২০২৫-২৬ আর্থিক বছরে অপরিশোধিত পেট্রোলিয়াম আমদানির ব্যয় ৯২ শতাংশ বেড়ে ১১৯ কোটি ৯০ লাখ ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে পিওএল বাবদ ব্যয় ১০৯ দশমিক ১০ শতাংশ বেড়ে ৯৪৩ কোটি ৬০ লাখ (৯.৪৪ বিলিয়ন) ডলারে দাঁড়িয়েছে।

 

২০২৪-২৫ অর্থবছরে অপরিশোধিত তেল এবং পেট্রোলিয়াম, তেল ও লুব্রিকেন্ট (পিওএল) আমদানিতে মোট ৫ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছিল। যার মধ্যে ৬২ কোটি ৪৫ লাখ ডলার ব্যয় হয়েছিল অপরিশোধিত তেল আমদানিতে। আর ৪ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছিল পিওএল আমদানি বাবদ।

 

গত অর্থবছরে জ্বালানি তেল আমদানিতে রেকর্ড ব্যয় কেন হয়েছে—এ প্রশ্নে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম তামিম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মূলত দাম বৃদ্ধি ও চাহিদা বাড়ার কারণে এই ব্যয় বেড়েছে। বিশ্ববাজারে তেলের দাম এখন আবার বাড়তির দিকে; কমবে বলে মনে হচ্ছে না।

 

“সেক্ষেত্রে আগামী মাসগুলোতে এ খাতে ব্যয় আরও বাড়বে বলে মনে হচ্ছে।”

 

কিছু দিন আগে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছিল, পেট্টোল পাম্পগুলোতে লম্বা লাইন—এমন পরিস্থিতি এড়াতে সরকারের কী করা উচিৎ?

 

জবাবে ম তামিম বলেন, “আতঙ্কের কারণে ওই পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছিল। সবাই ভেবেছিল তেল আর পাওয়া যাবে না, সে কারণেই সবাই লাইনে দাঁড়িয়েছিল। অনেকে প্রয়োজনের বেশি কিনে মজুত করেছিল।”

 

এমন পরিস্থিতি যাতে আর না হয়, সেজন্য বিশ্ব পরিস্থিতি ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে কমপক্ষে দেড় মাসের মজুত রাখার পরামর্শ দেন এই জ্বালানি বিশেষজ্ঞ।

 

বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) জ্যেষ্ঠ গবেষণা ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “প্রতি বছরই তেলের চাহিদা বাড়ে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বাজার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে; দাম বেড়ে যায়। সব মিলিয়ে গত অর্থবছরে তেল আমদানিতে অনেক বেশি অর্থ খরচ হয়েছে।”

 

দেশে এখন ভোক্তা পর্যায়ে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১১৫ টাকা; অকটেন ১৪৫, পেট্রোল ১৪০ এবং কেরোসিন ১৩৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

 

গত ১ জুন ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১১৫ টাকা অপরিবর্তিত রেখে অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম লিটারে ৫ টাকা করে বাড়ানো হয়েছিল। পরে জুলাই ও অগাস্টেও সেই দাম অপরিবর্তিত রেখেছে সরকার।

 

কেবল দামে নয়, পরিমাণের দিক দিয়েও জ্বালানি তেল আমদানি ব্যয় বেড়েছে। তবে পরিমাণের দিক দিয়ে গত অর্থবছরের পুরো সময়ে মোট কত জ্বালানি তেল আমদানি হয়েছে তা প্রকাশ করা হয়নি।

 

নয় মাসের (জুলাই-মার্চ) তথ্য পাওয়া গেছে। তাতে দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশ ৫৭ লাখ ৪০ হাজার টন জ্বালানি আমদানি করেছে। ২০২৪-১৫ অর্থবছরের একই সময়ে এই আমদানির পরিমাণ ছিল ৫০ লাখ ৫ হাজার টন।

 

আমদানিকৃত জ্বালানির তালিকায় রয়েছে ডিজেল, ক্রুড তেল, ফার্নেস তেল, পেট্রোল, অকটেন, জেট ফুয়েল ও বেস অয়েল।

 

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) প্রাক্কলন অনুযায়ী, গত অর্থবছরে দেশে জ্বালানি তেলের চাহিদা ছিল ৭৪ লাখ টন।

 

২০২৪-২৫ অর্থবছরে সব মিলিয়ে ৬২ লাখ ১৫ হাজার টন জ্বালানি তেল আমদানি হয়েছিল, যার মধ্যে ২৪ শতাংশ ছিল অপরিশোধিত তেল। বাকি ৭৬ শতাংশই ছিল পরিশোধিত তেল, যা সরাসরি ব্যবহারযোগ্য।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

অর্থনীতি

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যের বাজারে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি

জুলাইয়ে সামান্য কমার পর আগস্টে ঘুরে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি। আগস্টে দেশটিতে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ১০ দশমিক ৫৩ শতাংশ। ফলে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে যুক্তরাজ্যে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে আয় বেড়েছে ৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ।   রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৯১৫ দশমিক ৬৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের। গত অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানি আয় ছিল ৮৮২ দশমিক ৬২ মিলিয়ন ডলার। সে হিসাবে দুই মাসে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৩৩ দশমিক ১ মিলিয়ন ডলার।   উল্লেখ্য, জুলাইয়ে যুক্তরাজ্যে পোশাক রপ্তানি গত বছরের একই মাসের তুলনায় ২ দশমিক ৪৪ শতাংশ কমেছিল। এর পর আগস্টে রপ্তানি ১০ দশমিক ৫৩ শতাংশ বেড়ে জুলাইয়ের দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠে।   চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির মাসিক গড় দাঁড়িয়েছে ৪৫৭ দশমিক ৮২ মিলিয়ন ডলারে। বিপরীতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে যুক্তরাজ্যে পোশাক রপ্তানি থেকে মোট আয় হয়েছিল ৪ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলার, যার মাসিক গড় ছিল ৩৬৫ দশমিক ৭১ মিলিয়ন ডলার।   অর্থাৎ, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির মাসিক গড় গত অর্থবছরের মাসিক গড়ের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি। মাত্র দুই মাসে গত অর্থবছরের পুরো বছরের রপ্তানি আয়ের ২০ দশমিক ৮৬ শতাংশ অর্জিত হয়েছে।   ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, আগস্টের দুই অঙ্কের প্রবৃদ্ধি মূলত অর্থবছরের শুরুতে যুক্তরাজ্যের বাজারে সামগ্রিক রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সহায়তা করেছে।     যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের অন্যতম প্রধান রপ্তানি বাজার। ফলে অর্থবছরের শুরুতেই এই বাজারে রপ্তানি আয় বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকলে তা সামগ্রিক তৈরি পোশাক রপ্তানিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

তেজাবি স্বর্ণের দাম বাড়ায় দেশের বাজারে স্বর্ণের মূল্যবৃদ্ধি

ছবি: সংগৃহীত

তেলের দাম বাড়তেই চড়ল সবজির বাজার, বাড়ল চাল-আটার দামও

সংগৃহীত ছবি

চলতি মাসের ২৩ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ২২০ কোটি ডলার

সংগৃহীত ছবি
হজ নিবন্ধনের অর্থ জমাদানের সুবিধার্থে ব্যাংক খোলার নির্দেশ

২০২৭ সালের হজের নিবন্ধনের অর্থ জমাদানের সুবিধার্থে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) ও ২৬ সেপ্টেম্বর (শনিবার) হজ-সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের শাখাগুলো খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘সুপারভাইজরি ডেটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অ্যানালিটিক্স ডিপার্টমেন্ট (এসডিএডি)’ থেকে এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়।     সার্কুলারটি দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।     সার্কুলারে জানানো হয়, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৭ সালের হজের নিবন্ধনের অর্থ জমাদানের সুবিধার্থে হজ নিবন্ধনের অর্থ গ্রহণকারী ব্যাংকের শাখাগুলো ২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বর স্বাভাবিক সময়সূচি অনুযায়ী খোলা রাখতে হবে।       একই সঙ্গে নির্ধারিত লেনদেনের সময় শেষ হওয়ার পরও যতক্ষণ পর্যন্ত হজ নিবন্ধনের অর্থ জমাদানকারী ব্যক্তি উপস্থিত থাকবেন, ততক্ষণ পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করে অর্থ গ্রহণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।     ব্যাংক কম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে জনস্বার্থে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

দুই মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটে অস্বাভাবিক উত্থান, ব্যাখ্যা চেয়েছে ডিএসই

ছবি: সংগৃহীত

জ্বালানি তেলে ৬ মাসে অতিরিক্ত ব্যয় ২৩ হাজার কোটি টাকা: বিপিসি চেয়ারম্যান

এনবিআর সাবেক চেয়ারম্যান আবু হেনা রহমাতুল মুনীম ও সাবেক সচিব ঈদতাজুল ইসলাম

অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধানে এনবিআরের সাবেক কর্মকর্তার হিসাব অবরুদ্ধ

ছবি: সংগৃহীত
জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও পণ্যের দামে তেমন প্রভাব পড়বে না: বাণিজ্যমন্ত্রী

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পরও পণ্যের বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে না বলে আশা প্রকাশ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব ঠেকাতে পণ্যের সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখা এবং বাজারে নজরদারি জোরদারের ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।   মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সিলেটের লাক্কাতুরা চা বাগানের ফ্যাক্টরি মাঠে চা শ্রমিকদের মধ্যে রেইনকোট বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।   খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। অনেক দেশে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্থানীয় বাজারে জ্বালানির দাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবর্তিত হয়। বাংলাদেশে সরকার দাম নির্ধারণ করায় এখানে মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি মানুষের কাছে সরাসরি দৃশ্যমান হয়।   তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে পরিবহন ও পণ্য সরবরাহের ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা থাকে। সরবরাহব্যবস্থার কোথাও অসংগতি তৈরি হলে তার প্রভাব পণ্যের দামে পড়তে পারে। সরকার এসব জায়গা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছে।   বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এই মূল্যবৃদ্ধির কারণে যেন অন্য পণ্যের ওপর প্রভাব না আসে, মূল্যস্ফীতি না বাড়ে, সে জন্য সরবরাহ শৃঙ্খল যেন নিরবচ্ছিন্ন থাকে, এটির জন্য আমরা কাজ করছি।’   সম্প্রতি আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বৈঠকের কথাও জানান তিনি। সেখানে পণ্য আমদানি, পরিবহন ও বাজারে সরবরাহের ক্ষেত্রে কোথায় সমস্যা রয়েছে, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।   তিনি বলেন, যোগাযোগব্যবস্থা ও সরবরাহ শৃঙ্খলের যেসব জায়গায় অসংগতি রয়েছে, সেগুলো দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলার চেষ্টা চলছে।   গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক, উৎপাদনও বাড়ছে গ্যাস সরবরাহ নিয়ে সাম্প্রতিক যে সংকট তৈরি হয়েছিল, সেটিও কেটে গেছে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। তার ভাষ্য, এফএসআরইউতে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কিছুদিন গ্যাস সরবরাহে সমস্যা হয়েছিল। বর্তমানে সেই সমস্যা নেই।   গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় আমদানি করা কাঁচামাল ও পণ্য প্রক্রিয়াজাতকারী কারখানাগুলোও স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরেছে বলে জানান তিনি।   খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, চিনি ও সয়াবিনসহ আমদানি করা বিভিন্ন পণ্য দেশে প্রক্রিয়াজাত করা হয়। এসব পণ্যের কারখানাগুলো এখন পুরোদমে চলছে। ফলে বাজারে সরবরাহ নিয়ে বড় ধরনের সংকট হওয়ার কথা নয়।   সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা গেলে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে বাজারে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার আশা, পণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকবে এবং মূল্যবৃদ্ধির উল্লেখযোগ্য কোনো অভিঘাত বাজারে দেখা যাবে না।   জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব বিভিন্ন খাতে ছড়িয়ে পড়তে পারে উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাজারে পর্যাপ্ত পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি অসাধু ব্যবসায়ীরা যাতে পরিস্থিতির সুযোগ নিতে না পারে, সেদিকেও নজর রাখা হবে।   সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও জানান তিনি।   চা বাগানের আয় বাড়ানোর উদ্যোগ অনুষ্ঠানে সিলেটের বিভিন্ন চা বাগানের ১ হাজার ৯৮০ জন শ্রমিকের মধ্যে রেইনকোট বিতরণ করা হয়।   চা বাগানের আয় বাড়ানোর জন্য সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাগানগুলোকে লাভজনক করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কয়েক দিন আগেও বৈঠক হয়েছে।   চা গাছের ক্ষতি না করে বাগানের জমিতে কাঠ ও মসলাজাতীয় গাছসহ অন্য কোনো গাছ লাগানোর সুযোগ রয়েছে কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি যেসব বাগানে সুযোগ রয়েছে, সেখানে সৌরবিদ্যুতের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনার কথাও জানান।   বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বাগানের আয় বাড়ানো। আয় বাড়লে চা শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির সুযোগও তৈরি হবে।   চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা, স্কুলবিহীন বাগানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং বাগানের সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।   তিনি বলেন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও মজুরিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে পরিকল্পিতভাবে কাজ করা হচ্ছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬

বহুজাতিক কোম্পানির ৮৫ কোটি টাকার শেয়ার ছাড়লেন বিদেশিরা

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)

শিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার ৩৬ শতাংশ: আইএমএফ

ছবি: সংগৃহীত

সাড়ে ৫ বছরের মধ্যে ডলারের বিপরীতে সবচেয়ে শক্তিশালী টাকার অবস্থান

0 Comments