কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুল নেওয়ার খবরটিকে গুজব বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
বুধবার (১২ আগস্ট) রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান।
আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হচ্ছে কি না, এ বিষয়ে জানতে চাইলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, এটি গুজবের একটি অংশ। তিনি আরো বলেন, ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কে এমন কোনো জটিলতা নেই, যা সমাধান করা সম্ভব নয়।
মন্ত্রী বলেন, তরুণরাই একটি দেশ ও জাতির মূল শক্তি। তরুণরাই একটি দেশের জন্য আশীর্বাদ।বিভিন্ন ধরনের দুর্যোগ মোকাবেলায় তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাদের সঠিক স্কিল এবং শিক্ষা দিতে পারলে তারা দেশের জন্য অবদান রাখবে।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বর্তমান যুগ তথ্যপ্রযুক্তির যুগ। পৃথিবী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে প্রবেশ করছে।
মন্ত্রী আরো বলেন, তরুণদের শক্তি একটি দেশের উন্নতিতে ইতিবাচক মাত্রা যোগ করে। এরই মধ্যেই বর্তমান সরকার তরুণদের দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করতে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
কুয়েত সরকারকে উপহার দেওয়ার জন্য কেনা মাছের একটি বড় অংশ শেষ পর্যন্ত দেশটিতেই রয়ে গেছে। এসব মাছ বিক্রির জন্য এরই মধ্যে দুবার নিলাম ডেকেও প্রত্যাশিত ক্রেতা পাওয়া যায়নি। এবার অবিক্রীত ১৫ টন মাছ বিক্রিতে তৃতীয় দফায় নিলাম আহ্বান করেছে সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। সরকারের কেনা উপহারের মাছের মধ্যে ছিল ১০ টন গলদা চিংড়ি, ৫ টন রুপচাঁদা ও ৫ টন বাগদা চিংড়ি। আগের একটি নিলামে খুলনার একটি প্রতিষ্ঠান ৫ টন বাগদা চিংড়ি কিনে নেয়। বর্তমানে অবিক্রীত রয়েছে ১০ টন গলদা চিংড়ি ও ৫ টন রুপচাঁদা। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে কুয়েত সরকারকে উপহার হিসেবে চাল, মাছসহ কয়েক ধরনের পণ্য পাঠানোর উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ। নির্ধারিত সময়ে কুয়েতে উপহারসামগ্রী পাঠানোর কথা থাকলেও ফ্লাইট-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে মাছের চালান সেখানে পৌঁছায়নি। মাছগুলো বিক্রির জন্য পাঁচ মাস অপেক্ষার পর গত ১৮ আগস্ট প্রথমবার নিলাম আহ্বান করে টিসিবি। ওই নিলামে ৫ টন বাগদা চিংড়ি বিক্রি হলেও বাকি মাছ অবিক্রীত থেকে যায়। এরপর চলতি মাসে দ্বিতীয় দফায় নিলাম আহ্বান করা হয়। ১৫ সেপ্টেম্বর দরপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা শেষ হলেও এতে প্রত্যাশিত সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে ২৩ সেপ্টেম্বর তৃতীয়বার নিলামের বিজ্ঞপ্তি দেয় টিসিবি। এবার দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ৩০ সেপ্টেম্বর। আগ্রহী ক্রেতারা ২৮ ও ২৯ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত খুলনার বটিয়াঘাটার ভান্ডারকোটে জিটিএস সি-ফুড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রসেসিং প্ল্যান্টে গিয়ে মাছ পরিদর্শন করতে পারবেন। মাছ দেখার পর দর প্রস্তাব জমা দিতে হবে। টিসিবির ঢাকা প্রধান কার্যালয় এবং খুলনা ও চট্টগ্রামের আঞ্চলিক কার্যালয়ে দরপত্র জমা দেওয়া যাবে। একজন ক্রেতাকে কমপক্ষে ৫০০ কেজি মাছের জন্য দর প্রস্তাব করতে হবে। গলদা চিংড়ি ও রুপচাঁদার জন্য পৃথক দর ও জামানত জমা দেওয়ার শর্ত রয়েছে। নিলামে অংশ নিতে টিসিবির অনুকূলে ন্যূনতম ১৫ হাজার টাকা ফেরতযোগ্য জামানত হিসেবে পে-অর্ডার দিতে হবে। প্রস্তাবিত মাছের পরিমাণ ৫০০ কেজির বেশি হলে সেই অনুপাতে জামানতের পরিমাণও বাড়বে। নিলামে সর্বোচ্চ দরদাতাকে চূড়ান্ত ক্রেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হবে। নির্বাচিত ক্রেতাকে উদ্ধৃত মূল্যের ওপর বিধি অনুযায়ী ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ আয়কর সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে। নিলামে বিজয়ী হওয়ার পর তিন কর্মদিবসের মধ্যে সম্পূর্ণ মূল্য পরিশোধ করতে হবে। অর্থ পরিশোধের পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে নিজ খরচে মাছ সংগ্রহ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ে মাছ সংগ্রহ না করলে নিলাম বাতিল হতে পারে এবং সংরক্ষণাগারে মাছ রাখার জন্য অতিরিক্ত খরচও দিতে হবে। টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ জানান, আগের নিলামগুলোতে বেশ কয়েকজন অংশ নিলেও প্রত্যাশিত দর পাওয়া যায়নি। এ কারণে অবিক্রীত মাছ বিক্রি করা সম্ভব হয়নি। কতবার নিলাম আহ্বান করা যাবে, তার নির্দিষ্ট কোনো সীমা নেই বলেও জানান তিনি।
বাংলাদেশ মাজলিসুল মুফাসসিরীনের চট্টগ্রাম বিভাগীয় মুফাসসির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টায় নগরের বহদ্দারহাট এলাকার ইউনাইটেড কনভেনশন হলে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে প্রধান আলোচক ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও ইসলামী বক্তা মাওলানা কামরুল ইসলাম সাঈদ আনসারী। প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা মাওলানা আবু তাহের মুহাম্মদ মাসুম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বিভাগের প্রধান উপদেষ্টা মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান, সংসদ সদস্য আলহাজ শাহজাহান চৌধুরী, বিশিষ্ট পরিবেশবিদ মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম ও ইসলামী চিন্তাবিদ অধ্যক্ষ মাওলানা আমিরুজ্জামান। বিভাগীয় সদস্যসচিব ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম ও চট্টগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারি মাওলানা মোহসেন আল হোসাইনীর সঞ্চালনায় সম্মেলনে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন সম্মেলন বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ড. মাওলানা সাইয়্যেদ মুহাম্মদ আবু নোমান। দারসুল কোরআন পেশ করেন আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রামের দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শফি উদ্দিন মাদানী। প্রধান আলোচকের বক্তব্যে মাওলানা কামরুল ইসলাম সাঈদ আনসারী বলেন, পোশাক ও উপস্থাপনার ক্ষেত্রে আলেমদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন। টুপি, দাড়ি ও নির্দিষ্ট পোশাককে সাধারণ মানুষ ইসলামের প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবে দেখে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওয়াজ বা তাফসির উপস্থাপনের সময় পোশাক ও আচরণে অসঙ্গতি থাকলে বক্তার বড় ডিগ্রি থাকলেও সাধারণ মানুষের কাছে তার বক্তব্য গ্রহণযোগ্যতা হারাতে পারে। তিনি আরও বলেন, অনেক আলেম-ওলামা ভাইরাল হওয়ার নেশায় বিতর্কিত বক্তব্য দিচ্ছেন। মাহফিলের আলোচনায় বিতর্কিত কোনো বিষয় স্থান দেওয়া উচিত নয়। প্রধান অতিথি মাওলানা আবু তাহের মুহাম্মদ মাসুম বলেন, নির্বাচনের পর ক্ষমতায় আসা ব্যক্তিদের গত ছয় মাসের কর্মকাণ্ডে জনগণ হতাশ ও উদ্বিগ্ন। দেশের অগ্রগতির যে অঙ্গীকার করা হয়েছিল, তা থেকে সরে গিয়ে দেশকে আবারও ফ্যাসিবাদের দিকে নেওয়ার আয়োজন চলছে বলে দাবি করেন তিনি। তিনি বলেন, গত ছয় মাসে দেশের জনগণের ওপর একের পর এক আঘাত এসেছে। একইভাবে ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন ও মুসলিম জাতিসত্তার ওপরও আঘাত করা হচ্ছে। দেশের জনগণের মৌলিক প্রয়োজন পূরণেও তারা ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। বিশেষ অতিথি মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, বাংলাদেশে দ্বীন প্রতিষ্ঠার পথে বড় বাধা ওলামায়ে কেরামের মধ্যে ছোটখাটো বিষয়ে মতপার্থক্য ও ঐক্যের অভাব। ইসলামী আন্দোলনের শাহাদাতবরণকারী নেতৃবৃন্দ এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ওলামায়ে কেরামের মধ্যে ঐক্য গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখছেন বলে তিনি দাবি করেন। কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মো. ফখরুদ্দিন আহমাদ বলেন, সামনে তাফসিরুল কোরআন মাহফিল আয়োজনের পরিবেশ মসৃণ হবে—এমনটি মনে করার কারণ নেই। সেক্যুলার, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী ও বামপন্থীরা কোরআনের মাহফিল আয়োজনে বাধা দিতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এসব বাধা মোকাবিলা করেই সামনে এগিয়ে যেতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সংসদ সদস্য আলহাজ শাহজাহান চৌধুরী বলেন, জনগণের সঙ্গে ইসলামের গভীর সম্পর্ক স্থাপন, ঈমানি আবেগ তৈরি এবং সমাজে ইতিবাচক জাগরণ সৃষ্টিতে ওয়াজ মাহফিলের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামের সঠিক প্রচার ও ওয়াজ মাহফিলের ঐতিহ্য রক্ষায় মুফাসসির ও ওলামায়ে কেরামকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। অধ্যক্ষ মাওলানা আমিরুজ্জামান বলেন, আল্লাহর আইনের কথা বললে রাজনীতির কথা মনে করা হয়, অথচ মানব রচিত আইনের কথা বললে মানুষ খুশি হয়। এ ধরনের কুধারণা থেকে মানুষকে বের করে আনার দায়িত্ব আলেম-ওলামাদের নিতে হবে। মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, যুবসমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করার দায়িত্ব ওলামায়ে কেরামকে নিতে হবে। যথাযথভাবে পড়াশোনা করে সমাজে দাওয়াতের কাজ করার পাশাপাশি বিভিন্ন ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি। সম্মেলনে চট্টগ্রাম বিভাগের সহসভাপতি অধ্যাপক মাওলানা ড. বিএম মফিজুর রহমান আল-আযহারী, চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি মাওলানা আবু হানিফা মোহাম্মদ নোমান, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সভাপতি মাওলানা হাফিজুল হক নিজামী, কক্সবাজার জেলার সভাপতি মাওলানা শফিউল হক জিহাদী, চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ বোরহান উদ্দিন, রাঙামাটি জেলার সভাপতি এবিএম তোফায়েল উদ্দিন, বান্দরবান জেলার সভাপতি মাওলানা মুজিবুল হক ও খাগড়াছড়ি জেলার সভাপতি মাওলানা আবদুল জলিল শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন। সম্মেলনে আগামী তিন বছরের জন্য বাংলাদেশ মাজলিসুল মুফাসসিরীনের চট্টগ্রাম বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের কমিটি ঘোষণা করা হয়। চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটি সভাপতি—ড. সাইয়্যেদ মুহাম্মদ আবু নোমান। সেক্রেটারি—ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম। চট্টগ্রাম মহানগরী সভাপতি—মাওলানা আবু হানিফা মো. নোমান। সেক্রেটারি—মাওলানা মোহসেন আল হোসাইনী। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সভাপতি—মাওলানা হাফিজুল হক নিজামী। সেক্রেটারি—মাওলানা মনিরুল আলম জিহাদী। চট্টগ্রাম উত্তর জেলা সভাপতি—মাওলানা মো. বোরহান উদ্দিন। সেক্রেটারি—মাওলানা এমদাদুল হক নিজামী। কক্সবাজার জেলা সভাপতি—মাওলানা শফিউল হক জিহাদী। সেক্রেটারি—মাওলানা আবুল ফজল (খুটাখালি)। বান্দরবান জেলা সভাপতি—মাওলানা মুজিবুল হক। সেক্রেটারি—মাওলানা মো. রাশেদুল হক। রাঙামাটি জেলা সভাপতি—মাওলানা এবিএম তোফায়েল উদ্দিন। সেক্রেটারি—অধ্যক্ষ মাওলানা ফেরদৌস আলম। খাগড়াছড়ি জেলা সভাপতি—মাওলানা মো. আব্দুল জলিল। সেক্রেটারি—মাওলানা মো. শাহাদাত হোসাইন।
বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ইলিশকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশেষ ‘ইলিশ ফেস্ট’। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনের মৈত্রী মিলনায়তনে এ আয়োজন করা হয়। উৎসবে ভারতীয় রাজনীতিবিদ, কূটনীতিক, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে ঢাকা থেকে প্রকাশিত ‘অ্যা ফিশ কল্ড ইলিশ’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। ভারতের বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট নাগরিকরা বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন। ইলিশকে ঘিরে বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও খাদ্যসংস্কৃতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয় উৎসবে। অতিথিদের জন্য ইলিশের নানা পদ পরিবেশনের পাশাপাশি বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী খাবার ও রন্ধনশৈলীর বৈচিত্র্যও উপস্থাপন করা হয়। আয়োজনে অংশ নেওয়া অতিথিরা বাংলাদেশের ইলিশের স্বাদ গ্রহণ করেন এবং ইলিশকে ঘিরে বাঙালির আবেগ, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানার সুযোগ পান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও সাংবাদিক এম. জে. আকবর, সাবেক কূটনীতিক ও রাজনীতিবিদ মণি শংকর আইয়ার, মানবাধিকারকর্মী ও সমাজচিন্তক সাইদা হামদি, ভারতের সাবেক রাষ্ট্রদূত রনেন সেন, সমাজবিজ্ঞানী আশিস নন্দীসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। অতিথিরা আয়োজন ও বাংলাদেশের ইলিশের প্রশংসা করেন। তাদের মতে, এ ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজন দুই দেশের মানুষের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও গভীর করতে ভূমিকা রাখতে পারে। বইটির মোড়ক উন্মোচন শেষে বাংলাদেশ হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ বলেন, ইলিশ বাংলাদেশের পরিচয়ের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। দেশের সমাজ ও অর্থনীতির সঙ্গেও মাছটির গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। তিনি জানান, বাংলাদেশে ইলিশের প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে পাঁচটি অভয়াশ্রম রয়েছে। ইলিশ সংরক্ষণ ও উৎপাদন বাড়াতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে এর সংরক্ষণ ও উৎপাদন ক্রমেই বাড়ছে।