গত বছরটি ছিল যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণ ও রৌদ্রোজ্জ্বল বছর। দেশটির জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা মেট অফিস শুক্রবার এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেছে, এটি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের একটি ‘সুস্পষ্ট প্রতিফলন’।
মেট অফিসের এক বিবৃতির বরাত দিয়ে লন্ডন থেকে এএফপি জানায়, ‘২০২৫ সাল এখন ১৮৮৪ সাল থেকে শুরু হওয়া রেকর্ড অনুযায়ী সবচেয়ে উষ্ণ বছরের তালিকায় ২০২২ ও ২০২৩ সালের সঙ্গে শীর্ষ তিনে জায়গা করে নিয়েছে।’
সংস্থাটি জানায়, গত বছর যুক্তরাজ্যের গড় তাপমাত্রা ছিল ১০ দশমিক ০৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘এটি যুক্তরাজ্যের তাপমাত্রার ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের একটি ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে ওঠা প্রমাণ।’
‘এই রেকর্ড সিরিজে এটি মাত্র দ্বিতীয় বছর, যখন যুক্তরাজ্যের বার্ষিক গড় তাপমাত্রা ১০ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়েছে।’
এর আগে ২০২২ সালে ১০ দশমিক ০৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল।
এর ফলে দেখা যাচ্ছে, ১৮৮৪ সালের পর থেকে সবচেয়ে উষ্ণ পাঁচ বছরের তালিকায় যুক্তরাজ্যের সাম্প্রতিক পাঁচ বছরের মধ্যে চারটিই জায়গা করে নিয়েছে। পাশাপাশি, সবচেয়ে উষ্ণ শীর্ষ দশটি বছরই এখন গত দুই দশকের মধ্যে ঘটেছে।
মেট অফিস গত মাসেই ঘোষণা দিয়েছিল, ১৯১০ সাল থেকে রেকর্ড রাখা শুরু হওয়ার পর ২০২৫ সাল ছিল যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে রৌদ্রোজ্জ্বল বছর।
যুক্তরাজ্যে ২০২৫ সালে মোট সূর্যালোকের সময় ছিল ১ হাজার ৬৪৮ দশমিক ৫ ঘণ্টা, যা ২০০৩ সালে গড়া আগের রেকর্ডের চেয়ে ৬১ দশমিক ৪ ঘণ্টা বেশি।
মেট অফিস জানিয়েছে, বসন্তকালে ‘ব্যতিক্রমী’ মাত্রার রোদ এবং গ্রীষ্মকালে দীর্ঘ সময় ধরে পরিষ্কার আকাশ এই রেকর্ড গঠনে সহায়তা করেছে।
সংস্থাটির জলবায়ু অ্যাট্রিবিউশন বিভাগের প্রধান মার্ক ম্যাকার্থি বলেন, ‘এই অত্যন্ত উষ্ণ বছরটি মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের প্রত্যাশিত পরিণতির সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ।’
তিনি বলেন, ‘এর মানে এই নয় যে প্রতি বছরই সবচেয়ে উষ্ণ হবে। তবে আমাদের আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ও জলবায়ু মডেল থেকে স্পষ্ট যে মানবসৃষ্ট বৈশ্বিক উষ্ণায়ন যুক্তরাজ্যের জলবায়ুকে প্রভাবিত করছে।’
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
মেক্সিকোর অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র প্রাচীন পিরামিড নগরী তেওতিহুয়াকানে বন্দুকধারীর গুলিতে এক কানাডিয়ান নারী নিহত হয়েছেন এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। গতকাল সোমবার (২০ এপ্রিল) ঘটনার পর হামলাকারী নিজেই আত্মহত্যা করে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবম এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের প্রতি সংহতি জানিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ‘তেওতিহুয়াকানে আজ যা ঘটেছে, তা আমাদের গভীরভাবে ব্যথিত করেছে।’ কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনিতা আনন্দ নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এ ঘটনায় আরও একজন কানাডীয় নাগরিক আহত হয়েছেন এবং দূতাবাসের কর্মকর্তারা তাদের সহায়তা করছেন। মেক্সিকোর নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র, একটি ধারালো অস্ত্র এবং গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কলম্বিয়া, রাশিয়া ও কানাডার নাগরিক রয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শী এক ব্রিটিশ দম্পতি বিবিসিকে জানান, তারা পিরামিডের কাছে ছবি তুলছিলেন, এমন সময় হঠাৎ গুলির শব্দ শুনে চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দম্পতি বলেন, “মানুষ দৌড়াতে শুরু করে, কেউ চিৎকার করে বলছিল ‘ওরা এদিকে আসছে’— এতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।” তাদের অভিযোগ, ঘটনাস্থলে কোনো সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা বা দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ ছিল না। এমনকি প্রবেশের সময় কোনো নিরাপত্তা তল্লাশিও করা হয়নি। ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্য তেওতিহুয়াকান মেক্সিকোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্রগুলোর একটি। প্রাচীন এই নগরী অ্যাজটেক সভ্যতার আগের এবং এর বিশাল পিরামিডগুলো বিশ্বজুড়ে পর্যটকদের আকর্ষণ করে। ঘটনাটি ফিফা বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র সাত সপ্তাহ আগে ঘটল। আগামী ১১ জুন মেক্সিকো সিটিতে উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। বিশ্বকাপ উপলক্ষে প্রায় ৫৫ লাখ আন্তর্জাতিক পর্যটকের আগমন প্রত্যাশা করছে দেশটি। যদিও প্রাথমিকভাবে এ হামলার সঙ্গে মাদকচক্রের কোনো যোগসূত্র পাওয়া যায়নি, তবুও সাম্প্রতিক সহিংসতার প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশ্বকাপ চলাকালে প্রায় এক লাখ নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের পরিকল্পনা করেছে মেক্সিকো সরকার।
দ্বিতীয় দফায় বৈঠকে বসছে ইসরায়েল-লেবানন। আগামী বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ওয়াশিংটনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে চলমান উত্তেজনা কমানো ও সংঘাতের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে আলোচনা করবেন তারা। সোমবার (২০ এপ্রিল) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েল-লেবাননের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসতে যাচ্ছে দেশ দুটি। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লেইটার দেশটির প্রতিনিধিত্ব করবেন। বৈঠকে লেবাননের প্রতিনিধিদলে কারা থাকবেন সে বিষয়ে এখনও কিছু জানা যায়নি। এর আগে ১৪ এপ্রিল তিন দশকেরও বেশি সময় পর সরাসরি কূটনৈতিক আলোচনায় বসে লেবানন ও ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে লেবাননের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত নাদা হামাদেহ এবং ইসরায়েলের পক্ষে ছিলেন রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লেইটার। আর মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, লেবাননে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইকেল ইসা, স্টেট ডিপার্টমেন্টের কাউন্সেলর মাইকেল নিধাম এবং জাতিসংঘে মার্কিন দূত মাইক ওয়ালটজ। এরপর ১৬ এপ্রিল ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়। সাম্প্রতিক অন্যান্য ঘোষণার মতো এটিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দিয়েছেন।
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম এক লাফে ৭ শতাংশের বেশি বেড়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হিসেবে পরিচিত এই প্রণালিতে সামরিক উত্তেজনা বাড়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) এশিয়ার বাজারে লেনদেন শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই অপরিশোধিত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৪ দশমিক ৬৯ ডলারে পৌঁছায়। সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার ওমান উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং একটি ইরানি কার্গো জাহাজ জব্দের ঘটনার পর বাজারে উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়। ব্রিটিশ নৌ-সংস্থা ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, প্রণালি অতিক্রমের সময় একটি ট্যাংকারে ইরানি বাহিনী গুলি চালায় এবং আরেকটি জাহাজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়। এর পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, অবরোধ অমান্য করায় মার্কিন নৌবাহিনী একটি ইরানি কার্গো জাহাজ জব্দ করেছে। গত শুক্রবার হরমুজ প্রণালিকে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ঘোষণা করলেও ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে তেহরান অবস্থান পরিবর্তন করে। মার্কিন অবরোধ অব্যাহত থাকায় ইরান আবারও এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বন্ধ করে দেয় বলে জানা যায়। রোববার ট্রাম্প জানান, ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার যুদ্ধবিরতি আলোচনায় অংশ নিতে একটি মার্কিন প্রতিনিধিদল সোমবার পাকিস্তানে যাবে। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা পরে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ, অতিরিক্ত দাবি এবং ‘অবাস্তব প্রত্যাশার’ কারণে তেহরান এ আলোচনায় অংশ নেবে না। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী বুধবার (২২ এপ্রিল) শেষ হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন সমঝোতা না হলে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। চলতি মাসের শুরুতে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছিল। বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই রুট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে পেট্রোল ও গ্যাসের দাম বেড়ে গেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় অনেক দেশ ইতোমধ্যে জরুরি মজুত থেকে তেল ব্যবহার শুরু করেছে। ইউকেএমটিওর তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ১৯টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। যদিও এটি আগের দিনের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ, তবুও ঐতিহাসিক গড়ের তুলনায় তা অনেক কম। তেলের বাজারে অস্থিরতা থাকলেও সোমবার এশিয়ার শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ১ শতাংশের বেশি বেড়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি বেড়েছে ১ দশমিক ৩ শতাংশ। এছাড়া হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক ০.৫ শতাংশ এবং সাংহাই কম্পোজিট সূচক ০.৪ শতাংশের বেশি ঊর্ধ্বমুখী ছিল। বিশ্লেষকদের মতে, বিনিয়োগকারীরা এখনো শেষ মুহূর্তের কূটনৈতিক সমাধানের আশায় রয়েছেন। তবে বুধবারের মধ্যে কোনো সমঝোতা না হলে বৈশ্বিক অর্থনীতি বড় ধরনের ধাক্কার মুখে পড়তে পারে।